ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাব

দাস-দাসীকে প্রহার করার বিধান

কোনো কোনো মস্তিষ্কহীন ভদ্রলোক দাস-দাসীকে বেদম মারধর করার দলিলই নাকি খুঁজে পান শুধু। বড় বড় লেকচার দেয় এই বিষয়ে, আর্টিকেল লিখে, পডকাস্ট করে যদিও সেগুলোতে ঘুরে ফিরে ২/৩ টে হাদিস আওড়ানো ছাড়া তাদের পক্ষে আর কিছুই করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

মতভেদ ও নির্যাতন হারাম হওয়া

যাইহোক এই বিষয়ে ওলামাগণ মতভেদ করেছেন। যারা বৈধ বলেছেন তারা মূলত শাসনের, শুধরানোর উদ্দেশ্য বৈধ বলেছেন, তাও সেখানেও কিছু শর্ত রয়েছে।

সাধারণ ভাবে দাস দাসীকে প্রহারের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, বেশি আঘাত প্রাপ্ত হয় এমন ভাবে আঘাত বা প্রহার করা সুস্পষ্ট হারাম, আর বিনা অপরাধে হলেতো কথাই নেই।

এমনকি দাস দাসীর মুখে প্রহার ও তার উপর বিনা অপরাধে শাস্তি প্রয়োগ করলে সেটার কাফ্ফারা হিসেবে তাকে মুক্ত করার কথাও এসেছে, যদিও তা জমহুরের মতে ওয়াজিব না। কিন্তু ওয়াজিব হোক বা না হোক দাস দাসীকে অন্যায়ভাবে প্রহার করা, জুলুম করা, তাদের অন্যায় থাকলেও নির্যাতনের পর্যায়ে মারধর করা, মুখে আঘাত করা ইত্যাদি হারাম হওয়ার বিষয়ে মতভেদ আছে বলে আমার জানা নেই।

উদাহরণ মালেকি আইনবিদ আল জুরকানি (রহ), হাম্বলি শায়েখ আল বুহুতি (রহ), আল-রাহিবানী (রহ) নিজেদের কিতাবে আলোচনা করেছেন, মালিকের জন্য তার দাসের উপর জুলুম করা বা তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা, যেমন চামড়া ছিঁড়ে ফেলা, হাঁড় ভেঙ্গে ফেলা, খোজা করা বা মুখে চপেটাঘাত করা জায়েজ নয়। এমনকি মালিকের জন্য তার দাসকে শাস্তি দেওয়ার সময় হত্যা করা, তাকে জখম করা বা তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলা (যেমন নাক বা কান কাটা) জায়েজ নয়। [1]শারহুয যারকানী আলা খলীল ৮/১৩০-১৩১; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২; মাতালিব উলিন নুহা ৫/৬৫৭-৬৫৮

হাম্বলি মাযহাবের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইমাম, আহমদ ইবনে হাম্বল (রহ) বলেন,

দাসকে শুধুমাত্র গুরুতর অপরাধের জন্য প্রহার করা যাবে, কারণ নবী (সাঃ) বলেছেন: “যদি তোমাদের কেউ তার দাসীকে ব্যভিচার করতে দেখে, তবে সে যেন তাকে বেত্রাঘাত করে।”[2]আল-ফুরূ ৫/৬০৬;মাতালিব উলিন নুহা ৫/৬৫৭

ইবনে কুদামাহ (রহ) বলেন,

মালিকের জন্য তার দাস বা দাসীকে অপরাধ করলে তিরস্কার বা মৃদু প্রহার দ্বারা শাসন করা জায়েজ, যেমন সন্তান বা স্ত্রীকে শাসন করা হয়। তবে তার জন্য বিনা অপরাধে প্রহার করা, অত্যন্ত কঠোর প্রহার করা (এমনকি অপরাধ করলেও) বা তার মুখে চপেটাঘাত করা জায়েজ নয়।[3]আল মুগনি, ৮/২০৫

কখন, কেন ও কতটুকু  প্রহার করা বৈধ

দাস-দাসীকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করার উদ্দেশ্যে প্রহার করার ক্ষেত্রে দুটি অবস্থা বিবেচ্য:

প্রথম অবস্থাঃ আল্লাহর হক সংক্রান্ত। হানাফি[4]আল-বাহরুর রায়িক ৫/৫৩; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন ৩/১৮৮-১৮৯, মালিকি [5]আল-ইসতিযকার আল-জামে লি মাযহাবি ফুকাহা আল-আমসার” লি আবি উমর ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল বার ২৪/১০৭; বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/৪৪; আকদুল জাওয়াহির আত-সামিনাহ ৩/৩৫০, শাফিঈ[6]আল-মুহাযযাব ২/৩৪৫; রওদাতুত তালিবীন ১০/১৭৫; মুগনিল মুহতাজ ৪/১৫২; নিহায়াতুল মুহতাজ ৭/৪৩৩, হাম্বলি[7]আল মুগনি ১১/৪৪১; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২, ৬/৮০; মাতালিব উলিন নুহা ৫/৬৫৭; ও জাহিরি [8]আল-মুহাল্লা লি ইবনে হাযম ১১/১৬৪, হাদীস নং ২১৮৫ মাযহাবের আলেমদের মতে মালিক তার দাস-দাসীকে আল্লাহর হক সংক্রান্ত অপরাধে শাসন করতে পারেন। তিনি তাদের আদেশ-নিষেধ ও প্রয়োজনীয় শাস্তি দিতে পারবেন। যেমন- নামাজ, রোজা, ওজু ও অন্যান্য এবাদত ত্যাগ বা অবহেলা করা ও গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে।[9]উক্বদুল জাওয়াহিরুছ ছামিনাহ ৩/৩৫০; আল-বায়ান ওয়াত-তাহসীল ১৮/৩৫৭; সুবুলুস সালাম ৪/৮০

দ্বিতীয় অবস্থাঃ বান্দার হক সংক্রান্ত অপরাধে শাস্তি।

১। মালিকের নিজস্ব অধিকার লঙ্ঘন: যেমন- মালিকের আদেশ অমান্য করা, দায়িত্বে অবহেলা করা, মালিকের ক্ষতি করা, কাজে সৎ না থাকা ইত্যাদি।

২। অন্যদের অধিকার লঙ্ঘন: যেমন- অন্যকে গালি দেওয়া, অন্যায় ভাবে অভিশাপ দেওয়া, অন্যায়ভাবে কাউকে প্রহার করা, ঝগড়া ফাসাদ করা, ক্ষতি করা বা অন্য কোনোভাবে কষ্ট দেওয়া ইত্যাদি।

এই ক্ষেত্রেও হানাফি[10]বাদায়িউস সানায়ে ৭/৫৮; আল-বাহরুর রায়িক ৫/৫৩; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ ২/১৬৭; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন ৩/১৮৮; আল-মাবসূত ১৬/১৩, মালিকি[11]আকদুল জাওয়াহির আত-সামিনাহ ৩/৩৫০, ৩৬৭; আয-যাখিরাহ ১২/৮৬, ১১৯; তাবসিরাতুল হুক্কাম ২/৩৪৯, হাশিয়াতু ফাতহুল আলি আল-মালিকি সহ; আয-যারকানি আলা খলীল ৮/১১৫; মিনহুল জালীল শরহু আলা মুখতাসার সিদি খলীল লি মুহাম্মাদ আলিশ ৯/৩৫৮, শাফিঈ[12]আল-হাবি লিল-মাওয়ার্দি ১৩/২৪৮; রাওদাতুত তালিবীন ১০/১০৩, ১৭৫; আসনাল মাতালিব ৪/১৩৪-১৩৫, ১৬২; মুগনিল মুহতাজ ১৫৩, ১৯৩; নিহায়াতুল মুহতাজ ৭/৪৩৩; হাশিয়াতু ই’আনাতুত তালিবীন ৪/১৯১-১৯২ ও হাম্বলি[13]আল-মুগনি ১১/৪৪১; আল-ইনসাফ ৯/৪১২-৪১৩; আল-মুবদি ৮/২২৬-২২৭, ৯/১০৮ ; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২; মাতালিব উলিন নুহা ৫/৬৫৭; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ৩/২৬০ ফুকাহায়ে কেরামের অভিমত হল উভয় অবস্থাতেই মালিকের জন্য দাস-দাসীকে সংশোধনের উদ্দেশ্যে প্রহার করা জায়েয।[14]নুসুস আল ফুকাহা ফি হাদিহ আল মাসআলাহ ওয়াল আদিলাত আলা জাওজ তাদিবুল সাইদ লি আবদিহ বিদ্দারব ১৪৬-১৫৭ এই ক্ষেত্রে স্বাধীন ব্যক্তিকে প্রহারের যেসব শর্ত প্রযোজ্য (যেমন- মারাত্মক আঘাত না করা, অঙ্গহানি এড়ানো, উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হবে এমনভাবে প্রহার না করা), দাস-দাসীর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।[15]সুরুতুত তাদিব বিদ্দারব ২১৬-২২২, ৪২২-২৭

শাস্তি সর্বোচ্চ কতটুকু হতে পারে তা নিয়েও মতভেদ রয়েছে। একটি মত হল হদের সর্বনিম্ন শাস্তি অর্থাৎ ৪০ বা ২০ দোররার চাইতে কম হতে হবে। এটি হানাফিদের মত, শাফেয়ী, মালেকি ও হাম্বলিদের একটি মত।[16]আল-মু‘আল্লিম বিফাওয়াইদি মুসলিম, ২/২৬০; মুখতাসারু ইখতিলাফিল উলামা ৩/২৮৯, ৯/৭১, ২৪/৩৬; আল-বাহরুর রায়িক ৫/৭১; আল-হাবি আল-কাবির ১৩/৪২৩; রাওদাতুত তালিবিন ১০/১৭৪; মুগনিল মুহতাজ ৪/১৯৩; তাবসিরাতুল হুক্কাম ২/৩০০; আল ফুরু ৬/১০৭ ২য় মতটি হল সর্বোচ্চ ১০ দোররা, এর বেশি বৈধ নয়। এটি জাহেরিদের মত, শাফেয়ী ও হাম্বলিদের একটি মত।[17]আল মুহাল্লা ১১/৪০৩-৪০৪; রওদাতুত তালিবীন ১০/১৭৪; আল মুগনিল মুহতাজ ৪/১৯৩; আল ইনসাফ ১০/২৪৪-২৪৫; আল ফুরু ৬/১০৭-১০৮ আরেকটি মত হল অপরাধের পরিমাণ অনুযায়ী শাস্তি বাড়ানো যায়। এটি মালেকিদের প্রসিদ্ধ মত।[18]আল ফুরুকু লিল কারাফি ৪/১৭৭-১৭৮; শারহুল খারাশি আলা খালিল ৮/১১০

এখানে ২য় মতটি সবচেয়ে প্রাধান্যযোগ্য৷ কারণ ১ম ক্ষেত্রে যে দলিল দেওয়া হয় তার সনদে দুর্বলতা রয়েছে৷ অপর দিকে ২য় মতের পক্ষে শক্তিশালী সনদ থেকে দলিল পাওয়া যায়। ৩য় ক্ষেত্রের দলিল নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য লক্ষ্য করা গেলেও অনেকে বলেছেন দাস বা দাসী খুব গুরুতর অপরাধ করলে তখন শাস্তি বৃদ্ধি করা যেতে পারে। নতুবা সর্বোচ্চ ১০ দোররাই যথেষ্ট। অবশ্য মালিক চাইলে কমও দিতে পারেন।[19]বিস্তারিত দেখুন – https://www.alukah.net/sharia/0/53324/مجال-التأديب-بالضرب-..-ضرب-العبد/

দাস-দাসীকে প্রহারের নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত দলিল সমুহ

মস্তিষ্কহীন ভদ্রলোকরা আবার নিষেধাজ্ঞার দলিলগুলো খুঁজে পান না, তাই এগুলোও উল্লেখ করে দিচ্ছি তাদের সুবিধার্থে।

১ম দলিল

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কুরআনে বলেছেন,

وَاعۡبُدُوا اللّٰہَ وَلَا تُشۡرِکُوۡا بِہٖ شَیۡئًا وَّبِالۡوَالِدَیۡنِ اِحۡسَانًا وَّبِذِی الۡقُرۡبٰی وَالۡیَتٰمٰی وَالۡمَسٰکِیۡنِ وَالۡجَارِ ذِی الۡقُرۡبٰی وَالۡجَارِ الۡجُنُبِ وَالصَّاحِبِ بِالۡجَنۡۢبِ وَابۡنِ السَّبِیۡلِ ۙ  وَمَا مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ ؕ  اِنَّ اللّٰہَ لَا یُحِبُّ مَنۡ کَانَ مُخۡتَالًا فَخُوۡرَا

তোমরা ইবাদাত কর আল্লাহর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকট আত্মীয়- প্রতিবেশী, অনাত্মীয়- প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে। নিশ্চয় আল্লাহ পছন্দ করেন না তাদেরকে যারা দাম্ভিক, অহঙ্কারী।[20]সুরা নিসা আয়াত ৩৬

এই আয়াতে দাস-দাসীদের প্রতি সদাচরণের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে, যা তাদের অধিকার পূরণের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ মালিকদেরকে মহান চরিত্রের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাদেরকে সদাচরণ ও বিনয়ের পথে পরিচালিত করেছেন, যাতে তারা নিজেদেরকে তাদের দাসদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে না করে। কারণ সবাই আল্লাহর দাস, এবং সম্পদও আল্লাহর। তবে তিনি কিছু মানুষকে অন্য মানুষের অধীন করেছেন তাঁর অনুগ্রহ পূর্ণ করার জন্য এবং তাঁর হিকমাহ বাস্তবায়নের জন্য।[21]আল জামি লি আহকামুল কুরআন লিল কুরতুবি ৫/১২৪

শাসন ও শুধরানোর উদ্দেশ্যে প্রহার করা বৈধ হলেও রাসুল (ﷺ) এই কাজেও অনুৎসাহ দিয়ে তাদেরকে ক্ষমা করার উপদেশ করেছেন, যেমন

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا رِشْدِينُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِي هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيِّ، عَنْ عَبَّاسٍ الْحَجَرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَمْ أَعْفُو عَنِ الْخَادِمِ فَصَمَتَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَمْ أَعْفُو عَنِ الْخَادِمِ فَقَالَ ‏ “‏ كُلَّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً ‏”‏ ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকটে একজন লোক এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল আমি খাদিমের অপরাধ কতবার ক্ষমা করব? তার কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নীরব থাকলেন। সে আবার বললঃ হে আল্লাহর রাসূল আমি খাদিমের অপরাধ কতবার ক্ষমা করব? তিনি বললেনঃ প্রতিদিন সত্তরবার।[22]তিরমিজি, হাদিস ১৯৪৯

২য় দলিল

ইবনে উমার (রাঃ) বলেন,

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، وَمُسَدَّدٌ، قَالاَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ فِرَاسٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ زَاذَانَ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ‏:‏ مَنْ لَطَمَ عَبْدَهُ أَوْ ضَرَبَهُ حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ، فَكَفَّارَتُهُ عِتْقُهُ‏.‏

আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি নিজ গোলামকে চপেটাঘাত করলো অথবা বিনা অপরাধে হদ্দ-এর শাস্তি দিলো, তার কাফফারা হলো তাকে আযাদ করে দেয়া।[23]আল-আদাব আল-মুফরাদ, হাদিস ১৭৬

মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না ও ইবনু বাশশার (রহঃ) ….. যযান (রহঃ) হতে বর্ণিত যে,

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ – وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى – قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ، بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ فِرَاسٍ، قَالَ سَمِعْتُ ذَكْوَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ زَاذَانَ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، دَعَا بِغُلاَمٍ لَهُ فَرَأَى بِظَهْرِهِ أَثَرًا فَقَالَ لَهُ أَوْجَعْتُكَ قَالَ لاَ ‏.‏ قَالَ فَأَنْتَ عَتِيقٌ ‏.‏ قَالَ ثُمَّ أَخَذَ شَيْئًا مِنَ الأَرْضِ فَقَالَ مَا لِي فِيهِ مِنَ الأَجْرِ مَا يَزِنُ هَذَا إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ “‏ مَنْ ضَرَبَ غُلاَمًا لَهُ حَدًّا لَمْ يَأْتِهِ أَوْ لَطَمَهُ فَإِنَّ كَفَّارَتَهُ أَنْ يُعْتِقَهُ ‏”‏ ‏.‏

ইবনু উমার (রা) তার এক গোলামকে ডাকলেন। এরপর তার পিঠে (প্রহারের) দাগ দেখতে পেলেন। তিনি তাকে বললেন, তুমি কি এতে যন্ত্রণা অনুভব করছ? সে বলল, না। তখন তিনি বললেন, তুমি মুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি মাটি থেকে কোন বস্তু নিয়ে বললেন, তাকে আযাদ করার মধ্যে এতটুকু পুণ্যও মেলেনি। আমি রসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আপন গোলামকে বিনা অপরাধে প্রহার করল কিংবা চপেটাঘাত করল, এর কাফফারাহ হল তাকে মুক্ত করে দেয়া।[24]সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৫৭

৩য় দলিল

হেলাল ইবনে ইয়াসাফ (রহঃ) বলেন,

حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا حُصَيْنٌ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ هِلاَلَ بْنَ يَسَافٍ يَقُولُ‏:‏ كُنَّا نَبِيعُ الْبَزَّ فِي دَارِ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، فَخَرَجَتْ جَارِيَةٌ فَقَالَتْ لِرَجُلٍ شَيْئًا، فَلَطَمَهَا ذَلِكَ الرَّجُلُ، فَقَالَ لَهُ سُوَيْدُ بْنُ مُقَرِّنٍ‏:‏ أَلَطَمْتَ وَجْهَهَا‏؟‏ لَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ وَمَا لَنَا إِلاَّ خَادِمٌ، فَلَطَمَهَا بَعْضُنَا، فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُعْتِقُهَا‏.‏

আমরা সুয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রাঃ)-এর বাড়ির সামনে কাপড় বিক্রি করতাম। এক দাসী বের হয়ে এসে এক ব্যক্তিকে কটু কথা বললো। লোকটি তাকে চপেটাঘাত করলো। সুয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রাঃ) বলেন, তুমি কি তার গালে চপেটাঘাত করছো? আমি ছিলাম সাতজনের মধ্যে একজন। আমাদের সাতজনের একজন মাত্র খাদেম ছিল। আমাদের একজন তাকে চপেটাঘাত করলো। নবী (ﷺ) খাদেমটিকে আযাদ করে দিতে তাকে নির্দেশ দিলেন।[25]আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭৫

মুয়াবিয়া ইবনে সুয়াইদ ইবনে মুকাররিন (রহঃ) বলেন,

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ قَالَ‏:‏ لَطَمْتُ مَوْلًى لَنَا فَفَرَّ، فَدَعَانِي أَبِي فَقَالَ لَهُ‏:‏ اقْتَصَّ، كُنَّا وَلَدَ مُقَرِّنٍ سَبْعَةً، لَنَا خَادِمٌ، فَلَطَمَهَا أَحَدُنَا، فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ‏:‏ مُرْهُمْ فَلْيُعْتِقُوهَا، فَقِيلَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏:‏ لَيْسَ لَهُمْ خَادِمٌ غَيْرَهَا، قَالَ‏:‏ فَلْيَسْتَخْدِمُوهَا فَإِذَا اسْتَغْنَوْا خَلُّوا سَبِيلَهَا‏.‏

আমি আমাদের এক গোলামকে চপেটাঘাত করলে সে পালিয়ে গেলো। আমার পিতা আমাকে ডেকে বলেন, আমি একটা ঘটনা শুনাই। আমরা মুকাররিন (রাঃ)-এর সাত সন্তান ছিলাম। আমাদের একজন মাত্র খাদেম ছিল। আমাদের একজন তাকে চপেটাঘাত করলো। বিষয়টি নবী (ﷺ)-এর নিকট বর্ণনা করা হলে তিনি বলেনঃ তাদেরকে বলো, তারা যেন তাকে আযাদ করে দেয়। নবী (ﷺ)-কে বলা হলো, সে ছাড়া তাদের কোন খাদেম নাই। তিনি বলেনঃ তাহলে আপাতত তারা তাকে তাদের কাজে রাখুক, তারপর তারা আত্মনির্ভরশীল হলে তাকে আযাদ করে দিবে।[26]আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭৭

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ مَرْزُوقٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ قَالَ لِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُنْكَدِرِ‏:‏ مَا اسْمُكَ‏؟‏ فَقُلْتُ‏:‏ شُعْبَةُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي أَبُو شُعْبَةَ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ الْمُزَنِيِّ، وَرَأَى رَجُلاً لَطَمَ غُلاَمَهُ، فَقَالَ‏:‏ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ الصُّورَةَ مُحَرَّمَةٌ‏؟‏ رَأَيْتُنِي وَإِنِّي سَابِعُ سَبْعَةِ إِخْوَةٍ، عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، مَا لَنَا إِلاَّ خَادِمٌ، فَلَطَمَهُ أَحَدُنَا، فَأَمَرَنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ نُعْتِقَهُ‏.

সুয়াইদ ইবনে মুকাররিন আল-মুযানী (রাঃ) এক ব্যক্তিকে তার গোলামকে চপেটাঘাত করতে দেখলেন। তিনি বলেন, তুমি কি জানো না, মুখমণ্ডল সম্মানিত স্থান? রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে আমি ছিলাম সাত ভাইয়ের মধ্যে সপ্তম। আমাদের একজন মাত্র খাদেম ছিল। আমাদের একজন তাকে চপেটাঘাত করলো। নবী (ﷺ) গোলামটিকে আযাদ করে দিতে আমাদের নির্দেশ দিলেন।[27]আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭৭

৪র্থ দলিল

নিম্নোক্ত হাদিসে আমরা মুখমণ্ডলে প্রহার করার নিষেধাজ্ঞা ও শাসনের উদ্দেশ্যে প্রহার করার বৈধতার দলিল পাই:

حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَجْلاَنَ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي أَبِي، وَسَعِيدٌ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ إِذَا ضَرَبَ أَحَدُكُمْ خَادِمَهُ فَلْيَجْتَنِبِ الْوَجْهَ

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ তার খাদেমকে মারধর করলে সে যেন মুখমণ্ডল পরিহার করে।[28]আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭৩

কিন্তু উক্ত হাদিস হতে নির্যাতন, জুলুম হবে সেইরকম প্রহারের দলিল পাই না, এখানে সুস্পষ্ট করে বলা নেই কেমন মারধর। বরং অন্য এক আছারে এই বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، وَقَبِيصَةُ، قَالاَ‏:‏ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ مَيْمُونِ بْنِ أَبِي شَبِيبٍ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ قَالَ‏:‏ لاَ يَضْرِبُ أَحَدٌ عَبْدًا لَهُ وَهُوَ ظَالِمٌ لَهُ إِلاَّ أُقِيدَ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ‏.

আম্মার ইবনে ইয়াসার (রাঃ) বলেন, যে কেউ নিজ গোলামকে নির্যাতকরূপে প্রহার করবে, তাকে কিয়ামতের দিন শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হবে।[29]আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮০

সাহাবা রাসুলকে সরাসরি দেখেছেন, বুঝেছেন, জেনেছেন, ইসলামকে উম্মতের সকলের চাইতে বেশি বুঝছেন, মেনেছেন সেহেতু তাদের বর্ণনা হতেই বুঝা যায় এখানে মারধর করার বিষয়ে কতটুকু বৈধতা রয়েছে।

৫ম দলিল

আবু মাসউদ (রা) এর বর্ণনায় সুস্পষ্ট দেখা যায় রাসুলের কঠোর নিষেধাজ্ঞা দাসকে মারধর করার বিষয়ে৷

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ قَالَ‏:‏ كُنْتُ أَضْرِبُ غُلاَمًا لِي، فَسَمِعْتُ مِنْ خَلْفِي صَوْتًا‏:‏ اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ، لَلَّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ، فَالْتَفَتُّ فَإِذَا هُوَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قُلْتُ‏:‏ يَا رَسُولَ اللهِ، فَهُوَ حُرٌّ لِوَجْهِ اللهِ، فَقَالَ‏:‏ أَمَا لَوْ لَمْ تَفْعَلْ لَمَسَّتْكَ النَّارُ أَوْ لَلَفَحَتْكَ النَّارُ‏.‏

আবু মাসউদ (রাঃ) বলেন, আমি আমার এক গোলামকে প্রহার করছিলাম। আমি আমার পিছন থেকে ডাক শুনলামঃ হে আবু মাসউদ! নিশ্চয় আল্লাহ তোমার উপর, গোলামের উপর তোমার ক্ষমতার চেয়ে অধিক ক্ষমতাবান। আমি ফিরে তাকিয়ে দেখি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর ওয়াস্তে সে আজাদ। তিনি বলেনঃ তুমি যদি তা না করতে তবে দোজখ তোমাকে অবশ্যই স্পর্শ করতো অথবা দোজখ তোমাকে অবশ্যই গ্রাস করতো।[30]আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭০

আবূ কামিল জাহদারী (রহঃ) ….. আবূ মাসউদ বাদরী (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন,

حَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ الْجَحْدَرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، – يَعْنِي ابْنَ زِيَادٍ – حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ أَبُو مَسْعُودٍ الْبَدْرِيُّ كُنْتُ أَضْرِبُ غُلاَمًا لِي بِالسَّوْطِ فَسَمِعْتُ صَوْتًا مِنْ خَلْفِي ‏”‏ اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ ‏”‏ ‏.‏ فَلَمْ أَفْهَمِ الصَّوْتَ مِنَ الْغَضَبِ – قَالَ – فَلَمَّا دَنَا مِنِّي إِذَا هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَإِذَا هُوَ يَقُولُ ‏”‏ اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَأَلْقَيْتُ السَّوْطَ مِنْ يَدِي فَقَالَ ‏”‏ اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ أَنَّ اللَّهَ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَى هَذَا الْغُلاَمِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ فَقُلْتُ لاَ أَضْرِبُ مَمْلُوكًا بَعْدَهُ أَبَدًا ‏.‏

একদা আমি আমার এক ক্রীতদাসকে চাবুক দিয়ে প্রহার করছিলাম। হঠাৎ আমার পিছনে থেকে একটি শব্দ শুনলাম, হে আবূ মাসউদ! জেনে রেখো! রাগের কারণে আমি শব্দটি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম না। বর্ণনাকারী বলেন, যখন তিনি আমার কাছাকাছি এলেন তখন দেখতে পেলাম, তিনি রসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং তিনি বলছেনঃ হে আবূ মাসউদ! তুমি জেনে রেখো, হে আবূ মাসউদ! তুমি জেনে রেখো! বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি চাবুকটি আমার হাত থেকে ফেলে দিলাম। এরপর তিনি বললেন, হে আবূ মাসউদ! তুমি জেনে রেখো যে, এ গোলামের উপর তোমার ক্ষমতার চেয়ে তোমার উপর আল্লাহ তা’আলা অধিক ক্ষমতাবান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, এরপর কখনও কোন কৃতদাসকে আমি প্রহার করবো না।[31]সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৫৯

৬ষ্ঠ দলিল

আব্বাস (রা) এর নিকট পছন্দনীয় ছিল খাদেমকে প্রহার করলে তাকে মুক্ত করে দেওয়া।

من طريق عبد الرزاق عن ابن جريج قال : سأل حيان العبدي عطاء بن أبي رباح عمن شج عبده أو كسره ؟ فقال عطاء : ليكسه ثوبا أو ليعطه شيئا ، فقال حيان : هكذا أخبرني جابر بن زيد – وهو أبو الشعثاء – عن ابن عباس فيمن فقأ عين عبده ؟ قال ابن عباس : أحب إلي أن يعتقه ، فهذا ثابت عن ابن عباس

আবদুর রাজ্জাকের সূত্রে ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হাইয়ান আল-আবদী আতা ইবনে আবি রাবাহকে জিজ্ঞাসা করলেন, কেউ যদি তার দাসকে আঘাত করে বা তার হাড় ভাঙে, তাহলে তার কী করণীয়? আতা বললেন, সে যেন তার দাসকে একটি কাপড় দেয় বা কিছু উপহার দেয়। হাইয়ান বললেন, জাবির ইবনে যায়েদ (যিনি আবুশ শা’সা নামে পরিচিত) ইবনে আব্বাস থেকে আমাকে এমনই বলেছেন যে, কেউ যদি তার দাসের চোখ ফুটিয়ে ফেলে, তাহলে ইবনে আব্বাস বলেছেন, আমার নিকট পছন্দনীয় হল সে যেন তার দাসকে মুক্ত করে দেয়। এটি ইবনে আব্বাস থেকে প্রমাণিত।[32]আল মুহালা বি আছার ইবনে হাজম আল আন্দালুসি ৮/২০২

৭ম দলিল

অঙ্গহানির কারণে দায়মুক্তির আরো দলিল রয়েছে। যেমন,

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ السَّلاَمِ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ رَوْحِ بْنِ زِنْبَاعٍ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّهُ قَدِمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ خَصَى غُلاَمًا لَهُ فَأَعْتَقَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِالْمُثْلَةِ ‏.‏

সালামা ইবনে রাওহ্ ইবনে যিনবা (রাঃ) থেকে তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি তার এক গোলামকে নির্বীর্য করে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এলেন। নবী (ﷺ) তাকে এই অঙ্গহানির কারণে দাসত্বমুক্ত করে দিলেন।[33]ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৬৭৯

حَدَّثَنَا رَجَاءُ بْنُ الْمُرَجَّى السَّمَرْقَنْدِيُّ، حَدَّثَنَا النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ، حَدَّثَنَا أَبُو حَمْزَةَ الصَّيْرَفِيُّ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم صَارِخًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ مَا لَكَ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ سَيِّدِي رَآنِي أُقَبِّلُ جَارِيَةً لَهُ فَجَبَّ مَذَاكِيرِي ‏.‏ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ عَلَىَّ بِالرَّجُلِ ‏”‏ ‏.‏ فَطُلِبَ فَلَمْ يُقْدَرْ عَلَيْهِ ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ عَلَى مَنْ نُصْرَتِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ يَقُولُ أَرَأَيْتَ إِنِ اسْتَرَقَّنِي مَوْلاَىَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ أَوْ مُسْلِمٍ ‏”‏ ‏.‏

আমর ইবনে শু’আইব (রহঃ) থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি চিৎকার করতে করতে নবী (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ তোমার কী হয়েছেঃ সে বললো, আমার মনিব আমাকে তার এক দাসীকে চুমা দিতে দেখে আমার পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলেছে। নবী (ﷺ) বলেনঃ লোকটিকে আমার নিকট নিয়ে এসো। কিন্তু তাকে অনুসন্ধান করে পাওয়া গেলো না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যাও, তুমি স্বাধীন। সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! কে আমাকে সাহায্য করবে? রাবী বলেন, সে বলছিল, আপনিকি মনে করেন, আমার মনিব যদি আমাকে ছিনিয়ে নিয়ে আবার গোলাম বানায়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তোমাকে সাহায্য করা প্রত্যেক মুমিন মুসলিমের কর্তব্য।[34]ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৬৮০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحَسَنِ بْنِ تَسْنِيمٍ الْعَتَكِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا سَوَّارٌ أَبُو حَمْزَةَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، قَالَ: جَاءَ رَجُلٌ مُسْتَصْرِخٌ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَقَالَ: جَارِيَةٌ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَقَالَ وَيْحَكَ مَا لَكَ؟ قَالَ: شَرًّا، أَبْصَرَ لِسَيِّدِهِ جَارِيَةً لَهُ فَغَارَ فَجَبَّ مَذَاكِيرَهُ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: عَلَيَّ بِالرَّجُلِ فَطُلِبَ فَلَمْ يُقْدَرْ عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: اذْهَبْ فَأَنْتَ حُرٌّ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ عَلَى مَنْ نُصْرَتِي؟ قَالَ: عَلَى كُلِّ مُؤْمِنٍ أَوْ قَالَ: كُلِّ مُسْلِمٍ قَالَ أَبُو دَاوُدَ: الَّذِي عَتَقَ كَانَ اسْمُهُ رَوْحُ بْنُ دِينَارٍ قَالَ أَبُو دَاوُدَ: الَّذِي جَبَّهُ زِنْبَاعٌ قَالَ أَبُو دَاوُدَ: هَذَا زِنْبَاعٌ أَبُو رَوْحٍ كَانَ مَوْلَى الْعَبْدِ

আমর ইবনু শু’আইব থেকে পর্যায়ক্রমে তার পিতা এবং তার দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা একটি লোক চিৎকার করতে করতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! অমুকের দাসী! তিনি বললেন, দুর্ভাগা! তোমার কি হয়েছে বলো। সে বললো, আমার অনিষ্ট হয়েছে। সে তার মালিকের দাসীর প্রতি তাকানোর কারণে সে তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে তার লিঙ্গ কেটে দিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ লোকটিকে আমার নিকট নিয়ে আসো।

তাকে খুঁজে না পাওয়া গেলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি দাসমুক্ত; তুমি চলে যাও। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কে আমাকে সাহায্য করবে? তিনি বললেন, (তোমায় সাহায্য করা) প্রত্যেক মুসলিম বা মু’মিনের দায়িত্ব। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, দাসমুক্ত ব্যক্তির নাম ছিলো রাওহ ইবনু দীনার। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, তার লিঙ্গ কর্তনকারীর নাম ছিলো যিনবা। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, এই যিনবা আবূ রাওহ ছিল দাসটির মনিব।[35]আবু দাউদ, হাদিস ৪৫১৯

এই ঘটনাটিকে আলবানী (রহ), জুবায়ের আলি যাই (রহ), মুহাম্মদ মুহয়ি আল উদ্দিন আবদুল হামিদ, মুহাম্মদ মওদ আবদুল বাকি প্রমুখ ওলামা ও মুহাদ্দিসগণ ‘হাসান’ হিসেবে সাভ্যস্ত করেছেন৷

৮ম দলিল

দাস-দাসীকে প্রহার করার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে সালমান (রা) এর ঘটনাটি সুস্পষ্ট দলিল হতে পারে।  আবু লায়লা (রহ) বলেন,

حَدَّثَنَا أَبُو عُمَرَ حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي أَبُو جَعْفَرٍ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ أَبَا لَيْلَى قَالَ‏:‏ خَرَجَ سَلْمَانُ فَإِذَا عَلَفُ دَابَّتِهِ يَتَسَاقَطُ مِنَ الْآرِيِّ، فَقَالَ لِخَادِمِهِ‏:‏ لَوْلاَ أَنِّي أَخَافُ الْقِصَاصَ لَأَوْجَعْتُكَ‏.‏

সালমান (রা) একদা সফরে বের হলেন। তার পশুর ঘাস হাওদা থেকে নিচে পড়ছিল। তিনি গোলামকে বলেন, যদি আমার কিসাসের (প্রতিশোধ গ্রহণের) ভয় না থাকতো, তবে আমি অবশ্যই তোকে শাস্তি দিতাম।[36]আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮১

রাসূল (ﷺ) নিজেই বলেছেন,

حَدَّثَنَا خَلِيفَةُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو الْعَوَّامِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ‏:‏ مَنْ ضَرَبَ ضَرْبًا ظُلْمًا اقْتُصَّ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ‏.‏

আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি কাউকে অন্যায়ভাবে প্রহার করলে, কিয়ামতের দিন তার থেকে এর প্রতিশোধ গ্রহণ করা হবে।[37]আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮৫; আল-সিলসিলাহ আল-সহীহা ২৩৫২; আল-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হাদিস ৫২৮২

৯ম দলিল

দাস-দাসীকে প্রহার করতে পারার পথ আরো সংকীর্ণ করে দিয়েছেন রাসুল (ﷺ), আলি (রা) বলেন,

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَا: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْفُضَيْلِ، عَنْ مُغِيرَةَ، عَنْ أُمِّ مُوسَى، عَنْ عَلِيٍّ عَلَيْهِ السَّلَام، قَالَ: كَانَ آخِرُ كَلَامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ، اتَّقُوا اللَّهَ فِيمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শেষ উপদেশ ছিলো। সালাত, সালাত এবং দাস-দাসীর সম্পর্কে আল্লাহকে ভয় করো।[38]আবু দাউদ, ৫১৫৬; আল ইরওয়া ২১৭৮

জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন,

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ سُلَيْمَانَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُبَشِّرٍ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ‏:‏ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُوصِي بِالْمَمْلُوكِينَ خَيْرًا وَيَقُولُ‏:‏ أَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ، وَأَلْبِسُوهُمْ مِنْ لَبُوسِكُمْ، وَلاَ تُعَذِّبُوا خَلْقَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ‏.‏

নবী (ﷺ) ক্রীতদাসদের সাথে সদয় ব্যবহার করার উপদেশ দিতেন এবং বলতেনঃ তোমরা যা খাও তাদেরকেও তাই খাওয়াও, তোমরা যা পরিধান করো তাদেরকেও তা পরিধান করাও এবং মহামহিম আল্লাহর সৃষ্টিকে কষ্ট দিও না।[39]আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮৭

মারূর ইবনে সুয়াইদ (রহঃ) বলেন,

حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا وَاصِلٌ الأَحْدَبُ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ الْمَعْرُورَ بْنَ سُوَيْدٍ يَقُولُ‏:‏ رَأَيْتُ أَبَا ذَرٍّ وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ وَعَلَى غُلاَمِهِ حُلَّةٌ، فَسَأَلْنَاهُ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ‏:‏ إِنِّي سَابَبْتُ رَجُلاً فَشَكَانِي إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ لِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‏:‏ أَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ‏؟‏ قُلْتُ‏:‏ نَعَمْ، ثُمَّ قَالَ‏:‏ إِنَّ إِخْوَانَكُمْ خَوَلُكُمْ، جَعَلَهُمُ اللَّهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ، فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدَيْهِ فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ، وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ، وَلاَ تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ، فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ فَأَعِينُوهُمْ‏.‏

আমি আবু যার (রাঃ)-এর পরনে একটি লাল বর্ণের চাদর এবং তার গোলামের পরনেও একই রকম চাদর দেখলাম। আমরা তাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম। সে নবী (ﷺ)-এর নিকট আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে নবী (ﷺ) আমাকে বলেনঃ তুমি কি তার মাকে তুলে গালি দিয়েছো? আমি বললাম, হাঁ। তিনি বলেনঃ তোমাদের দাসগণ তোমাদের ভাই। আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করেছেন। সুতরাং যার অধীনে তার ভাই আছে সে যা খায়, তাকেও যেন তা খাওয়ায়, সে যা পরে তাকেও তাই পরায় এবং তাদের উপর তাদের সাধ্যাতীত কাজ চাপাবে না। এরূপ কোন কাজ তাদের করতে দিলে সে যেন তাদের সেই কাজে সাহায্য করে।[40]আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮৮

যদি তাকে তার সাধ্যের বাহিরে কাজই না দেওয়া হয়, দিলেও নিজেও সাহায্য করে তাহলে তাকে মারধর করতে পারার পথটুকু কি আর অবশিষ্ট থাকে?

ওলামাগণ এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন যে মালিকের জন্য তার দাসকে এমন কাজে বাধ্য করা জায়েজ নয়, যা তার সামর্থ্যের বাইরে এবং তার জন্য কষ্টদায়ক। কারণ এটি দাসের জন্য ক্ষতিকর এবং তাকে কষ্ট দেয়। ইসলামে যে কোনো প্রকার ক্ষতি করা নিষিদ্ধ। দাসকে শাস্তি দেওয়ার সময় মালিকের জন্য তার উপর ওয়াজিব খরচ (যেমন খাদ্য, পোশাক বা বিয়ের ব্যবস্থা) বন্ধ করা হারাম। কারণ দাসের মালিকানা বজায় রাখার সাথে সাথে তার প্রয়োজনীয়তা পূরণ না করা তার জন্য ক্ষতিকর। আর ইসলামে ক্ষতি দূর করা ওয়াজিব, তাই মালিকের জন্য দাসের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা আবশ্যক।[41]হাশিয়াতু ই’আনাতুত তালিবীন লিল-বাকরি ৪/১১৯; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২; আল-মুগনি ১১/৪৩৬-৪৩৯; রাওদাতু ই’আনাতুত তালিবীন ৯/১১৯; আশ-শারহুল কাবীর লিদ-দারদীর, ২/৫২২, হাশিয়াতুদ দাসুকির পাদটীকা সহ

আমরা দাস মুক্তির বহু দলিলই দেখেছি, এছাড়াও আরো অনেক হাদিস আছে, সাহাবি সামুরা ইবনে জুনদুব (রা), আবু হুরাইরা (রা) থেকে, ওমর ইবনে খাত্তাব (রা) এবং আরো বহুজন হতেই। কিন্তু সেগুলো গ্রহণযোগ্য সূত্রে প্রমাণিত নয় তাই সেগুলো আনছি না। তারপরও অনেকগুলো সহিহ হাদিসের সমর্থিত হওয়ায় সেগুলোকেও দলিল হিসেবে নেওয়া যেতে পারে৷

যাইহোক ইমাম শাওকানী (রহ.) এই বিষয়ে নিজের কিতাবে আলাপ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন দাসের সাথে দুর্ব্যবহার (যেমন: অযথা অন্যায় ভাবে প্রহার, অঙ্গচ্ছেদ, আগুনে পোড়ানো, খুব ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন ভাবে আঘাত করা) গোলাম মুক্তির কারণ। তবে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে:

১। ইমাম আলী, ইমাম হাদি, মুয়াইয়্যিদ বিল্লাহ প্রমুখের মতে: শুধু দুর্ব্যবহারে স্বয়ংক্রিয় মুক্তি হয় না; মালিককে আদেশ দেওয়া হবে। যদি অস্বীকার করে, তবে শাসক মুক্ত করবেন।

২। ইমাম মালিক, লায়স, দাউদ ও আওযাঈর মতে দুর্ব্যবহারের সাথে সাথেই গোলাম মুক্ত হয়।

৩। অধিকাংশ আলিমের মতে: অন্য মালিকের গোলামের ক্ষেত্রে দুর্ব্যবহারে মুক্তি হয় না। তবে ইমাম আওযাঈসহ কেউ কেউ বলেছেন: মুক্তি হয়, কিন্তু মালিককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ইমাম নববী (রহ) উল্লেখ করেছেন, “আলিমরা একমত যে, হালকা প্রহারে (যেমন সুওয়াইদ ইবনে মুকাররিনের ঘটনায়) মুক্তি ওয়াজিব নয়; বরং তা মুস্তাহাব (প্রশংসিত)।”

ইমাম কাযি ইয়াদ (রহ) বলেন, “হালকা শাস্তির ক্ষেত্রে মুক্তি ওয়াজিব নয় – এতে ইজমা (ঐকমত্য) আছে। কিন্তু গুরুতর অত্যাচার (যেমন: অঙ্গচ্ছেদ, আগুনে পোড়ানো) নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইমাম মালিক, আওযাঈ ও লায়সের মতে: এতে গোলাম মুক্ত হয়। অন্য আলিমরা বলেন: মুক্তি হয় না।”

ইমাম শাওকানী (রহ) মুক্তির পক্ষে ছিলেন৷ শরিয়ত সম্মত কারণে ১০টি বেত্রাঘাত ব্যতীত বেশি প্রহার অথবা অন্য কারণে প্রহার করলে দাস মুক্ত হয়ে যায় এই মতের পক্ষে ছিলেন তিনি৷[42]ইমাম আশ শাওকানী, নীল আল-আওতার শরহে মুনতাক্বা আল-আখবার ১১/৪০৫-৪০৯, দার ইবনে আল-জাওজি প্রকাশনা

কিছু হাদিস নিয়ে আপত্তি

উম্মু সালামা (রা)-এর ঘটনা

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْجُعْفِيُّ، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنِي دَاوُدُ بْنُ أَبِي عَبْدِ اللهِ مَوْلَى بَنِي هَاشِمٍ قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مُحَمَّدٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَتْنِي جَدَّتِي، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ فِي بَيْتِهَا، فَدَعَا وَصِيفَةً لَهُ أَوْ لَهَا فَأَبْطَأَتْ، فَاسْتَبَانَ الْغَضَبُ فِي وَجْهِهِ، فَقَامَتْ أُمُّ سَلَمَةَ إِلَى الْحِجَابِ، فَوَجَدَتِ الْوَصِيفَةَ تَلْعَبُ، وَمَعَهُ سِوَاكٌ، فَقَالَ‏:‏ لَوْلاَ خَشْيَةُ الْقَوَدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَأَوْجَعْتُكِ بِهَذَا السِّوَاكِ‏.‏

উম্মু সালামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) তার ঘরে ছিলেন। তিনি তাঁর বা উম্মু সালামার দাসীকে ডাকলেন। সে আসতে বিলম্ব করলো। তাতে নবী (ﷺ)-এর মুখমণ্ডলে অসন্তুষ্টির ভাব দেখা গেলো। উম্মু সালামা (রাঃ) উঠে পর্দার ওপাশে গেলেন এবং তাকে খেলায় রত দেখলেন। তাঁর হাতে ছিল মিসওয়াক। তিনি বলেনঃ কিয়ামতের দিন প্রতিশোধ গ্রহণের আশংকা না থাকলে অবশ্যই আমি এই মিসওয়াক দিয়ে তোকে প্রহার করতাম। মুহাম্মাদ ইবনুল হায়সামের বর্ণনায় আরো আছেঃ সে একটি ছাগলের বাচ্চা নিয়ে খেলছিল। উম্মু সালামা (রাঃ) বলেন, আমি তাকে-সহ নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে তো শপথ করে বলছে যে, সে আপনার ডাক শুনতে পায়নি। তিনি আরো বলেন, তার হাতে ছিল একটি মিসওয়াক।[43]আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮৩

এই হাদিস নিয়ে আপত্তি করার মত কিছুই আমার চোখে পড়ছে না, তারপরও কতক মস্তিষ্কহীন ভদ্রলোক আপত্তি করে এই হাদিস নিয়ে। যাইহোক দেখি এই হাদিস কতটা গ্রহণযোগ্য, শাইখ আলবানী (রহ) বলেছেন:

“এই সনদটি দুর্বল, কারণ ইবনে জুদ’আনের দাদী অজানা। ইবনে জুদ’আন হলেন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ; যেমনটি ‘আদাবুল মুফরাদ’-এর বর্ণনায় এসেছে এবং আবু ইয়া’লার বর্ণনায়ও… তিনি হলেন ইবনে যায়েদ ইবনে জুদ’আন। ইমাম নাসাঈ এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, এবং অনেকেই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁর এই দাদী অজানা। বরং ইমাম যাহাবী আব্দুর রহমান সম্পর্কে তাঁর দাদী সম্পর্কে বলেছেন:

‘তাঁরা অজানা, দাউদ একাই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।’

আর দাউদ ইবনে আবি আব্দুল্লাহ; তাঁর অবস্থা অজানা, ইবনে হিব্বান ছাড়া অন্য কেউ তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেননি। আবু নু’আইম বলেছেন যে তিনি একাই এই হাদীস বর্ণনা করেছেন।”[44]“সিলসিলা দা’ইফা”, ৯/৩৫৩

হুসেইন সেলিম আসাদ হাদিসটিকে যয়িফ বলেছেন।[45]কিতাবু মুসনাদি আবি ইয়া’লা – তাহকীক: হুসাইন আসাদ ১২/৩৭৩ ইমাম বুসাইরি বলেছেন: “এই সনদটি দুর্বল, কারণ তাবেয়ী (হাদীস বর্ণনাকারী) অজ্ঞাত এবং ইবনে জুদ’আন দুর্বল।” ইরাকি বলেছেন: “আবু ইয়া’লা এই হাদীসটি উম্মে সালামা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু এর সনদ দুর্বল।”[46]আল-মুগনি মা’আ আল-ইহইয়া”, ৩/১৭৩; কিতাব ফাতহুল ক্বারীব আল-মুজীব আলা আত-তারগীব ওয়া আত-তারহীব, ৯/৭৭২

Read More...  দাসপ্রথা ও ইসলাম: নাস্তিকদের অভিযোগের খণ্ডন
আবু বকর (রা)-এর ঘটনা

দাসদাসীকে প্রহার করার পক্ষে আবু বকর (রা)-এর একটি হাদিস বর্ণনা করা হয়।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ أَبِي رِزْمَةَ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ إِدْرِيسَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ إِسْحَاقَ، عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبَّادِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم حُجَّاجًا حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْعَرْجِ نَزَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَنَزَلْنَا فَجَلَسَتْ عَائِشَةُ – رضى الله عنها – إِلَى جَنْبِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَلَسْتُ إِلَى جَنْبِ أَبِي وَكَانَتْ زِمَالَةُ أَبِي بَكْرٍ وَزِمَالَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَاحِدَةً مَعَ غُلاَمٍ لأَبِي بَكْرٍ فَجَلَسَ أَبُو بَكْرٍ يَنْتَظِرُ أَنْ يَطْلُعَ عَلَيْهِ فَطَلَعَ وَلَيْسَ مَعَهُ بَعِيرُهُ قَالَ أَيْنَ بَعِيرُكَ قَالَ أَضْلَلْتُهُ الْبَارِحَةَ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ بَعِيرٌ وَاحِدٌ تُضِلُّهُ قَالَ فَطَفِقَ يَضْرِبُهُ وَرَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَتَبَسَّمُ وَيَقُولُ ‏”‏ انْظُرُوا إِلَى هَذَا الْمُحْرِمِ مَا يَصْنَعُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ أَبِي رِزْمَةَ فَمَا يَزِيدُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى أَنْ يَقُولَ ‏”‏ انْظُرُوا إِلَى هَذَا الْمُحْرِمِ مَا يَصْنَعُ ‏”‏ ‏.‏ وَيَتَبَسَّمُ ‏.‏

আহমাদ ইবন হাম্বল (রহঃ) …… আসমা বিনত আবূ বকর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা (বিদায় হজ্জের সময়) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে হজ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হলাম। আমরা আরাজ নামক স্থানে উপনীত হলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) তাঁর বাহন থেকে অবতরণ করলেন এবং আমরাও অবতরণ করলাম। আয়েশা (রাঃ) নবী করীম (ﷺ) এর পার্শ্বে উপবেশন করেন এবং আমি আমার পিতা (আবূ বকর) এর পার্শ্বে উপবেশন করি। আবূ বকর (রাঃ) ও রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর খাদ্য পানীয় ও সফরের সরঞ্জাম একই সংগে আবূ বকরের একটি গোলামের নিকট (একটি উষ্ট্রের পৃষ্ঠে) রক্ষিত ছিল।আবূ বকর (রাঃ) গোলামের অপেক্ষায় ছিলেন (যেন খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করা যায়)। কিন্তু সে এমন অবস্থায় উপস্থিত হল যে, সে উট তার সাথে ছিল না। তিনি (আবূ বকর) জিজ্ঞাসা করেন, তোমার সে উটটি কোথায়? জবাবে সে বলল, আমি গতকাল তাকে হারিয়ে ফেলেছি। আবূ বকর (রাঃ) বলেন, মাত্র একটি উট, তুমি তাও হারিয়ে ফেললে? রাবী বলেন, তখন তিনি তাকে মারধর করেন। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) মুচকি হেসে বলেনঃ তোমরা এ মুহরিম ব্যক্তির দিকে দেখ, কী করছে। রাবী ইবন আবূ রিয্মা বলেন, রাসুল (ﷺ) এ উক্তির চাইতে অধিক কিছু বলেননি যে, ’তোমরা এ মুহরিম ব্যক্তির দিকে দেখ কী কাজ করছে, আর তিনি মুচকি হাসছিলেন।[47]আবু দাউদ, হাদিস ১৮১৮

হাদিসটি যয়িফ, উক্ত হাদিসের ক্ষেত্রে ইবনে ইসহাকের তাদলিসের কারণে উক্ত হাদিসটিকে জুবায়ের আলি যাঈ (রহ) যয়িফ বলেছেন। কারণ তিনি আন শব্দে হাদিস বর্ণনা করেছেন।[48]আনোয়ার আল সহিফা, পৃষ্ঠা ৭১-৭২

ইবনে হাজার আসকালানি (রহ) ইবনে ইসহাককে চতুর্থ স্তরের মুদাল্লিস হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কারণ তিনি দুর্বল ও অজ্ঞাত বর্ণনাকারীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন। তিনি কখনো কখনো বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীদের থেকে সাংঘর্ষিক হাদীস বর্ণনা করেছেন যা তার হাদিসের নির্ভরযোগ্যতাকে আরো কমিয়ে দেয়। এছাড়া তিনি বিচ্ছিন্ন ও দুর্বল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি ইসরাঈলি বর্ণনাও বর্ণনা করতেন।

ইমাম যাহাবি (রহ) বলেন:

কাজি আবু ইউসুফ সঠিক বলেছেন: যে ব্যক্তি বিচ্ছিন্ন হাদীস সংগ্রহ করে, তাকে মিথ্যাবাদী বলা হয়। এটি ইবনে ইসহাকের একটি বড় দুর্বলতা। তিনি যেকোনো ব্যক্তি থেকে হাদীস লিখতেন এবং কোনো সংযম দেখাতেন না। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন।

ইয়াকুব ইবনে শাইবাহ বলেন ইবনে নুমায়ের (রহ.)-কে ইবনে ইসহাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:

ইবনে ইসহাক যদি স্বীকৃত বর্ণনাকারীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেন, তবে তার হাদীস গ্রহণযোগ্য ও সত্য। তবে তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের থেকে বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেন বলে তার সমালোচনা করা হয়।

ইসহাক বিন আহমেদ বিন খালাফ আল-বুখারী আল-হাফিজ বলেন: আমি মুহাম্মদ বিন ইসমাইল হতে শুনেছি তিনি বলেন:

ইবনে ইসহাকের এমন এক হাজার হাদীস রয়েছে যা তিনি এককভাবে বর্ণনা করেছেন, অন্য কেউ তা বর্ণনা করেননি।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ) বলেন:

ইবনে ইসহাক বাগদাদে এসে যেকোনো ব্যক্তি (যেমন কালবি) থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন কোনরুপ সতর্কতা ব্যতিত। তিনি হুজ্জাত নন।

ইমাম আবু হাতিম (রহ) বলেন: তার হাদীস লিখে রাখা যায়, তবে তিনি দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নন। ইমাম দারাকুতনি (রহ) বলেন: তার হাদীস দ্বারা দলিল দেওয়া যায় না। ইমাম নাসাঈ বলেন: তিনি শক্তিশালী নন।

ইমাম যাহাবি (রহ) বলেন:

আহকাম সংক্রান্ত হাদীসে তার বর্ণনা সহিহ থেকে হাসান স্তরে নেমে যায়। তবে তিনি যদি সরাসরি শুনেছেন বলে স্পষ্ট উল্লেখ করেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য।

ইবনে হাজার আসকালানি (রহ) বলেন:

তিনি যদি সরাসরি শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন, তবে তার একক বর্ণনা হাসান স্তরের।

অর্থাৎ ইবনে ইসহাকের হাদীস সাধারণত হাসান স্তরের, যদি তিনি সরাসরি শুনেছেন বলে স্পষ্ট করেন। এখানে যদি আরো সুস্পষ্ট করে বলি তাহলে যদি তিনি স্পষ্টভাবে (“حدثني”) বর্ণনা করেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে অস্পষ্ট শব্দে (“عن”) বর্ণনা করলে তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য। তাই তার তাদলিস বা ইসরাঈলিয়াত বর্ণনার কারণে অসংখ্য হাদীস দুর্বল বা মুনকার।[49]মিযানুল ই’তিদাল ৬/৫৮; ফাতহুল বারি ১১/১৬৩; সিয়ারু আলামিন নুবালা ৭/৩৩-৫৫

আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) এর ঘটনা

আরেকটি হাদিস হল

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى، قَالَ‏:‏ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ وَهْبٍ قَالَ‏:‏ أَخْبَرَنِي مَخْرَمَةُ بْنُ بُكَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ‏:‏ سَمِعْتُ يَزِيدَ بْنَ عَبْدِ اللهِ بْنِ قُسَيْطٍ قَالَ‏:‏ أَرْسَلَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ غُلاَمًا لَهُ بِذَهَبٍ أَوْ بِوَرِقٍ، فَصَرَفَهُ، فَأَنْظَرَ بِالصَّرْفِ، فَرَجَعَ إِلَيْهِ فَجَلَدَهُ جَلْدًا وَجِيعًا وَقَالَ‏:‏ اذْهَبْ، فَخُذِ الَّذِي لِي، وَلاَ تَصْرِفْهُ‏.‏

ইয়াযীদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুসাইত (রহঃ) বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) তার এক গোলামকে সোনা বা রূপার মুদ্রাসহ পাঠালেন। সে মুদ্রা বিনিময় করে অপর পক্ষকে (তার মুদ্ৰা আনার জন্য) সময় দেয়। সে ফিরে এলে তিনি তাকে বেদম প্রহার করেন এবং বলেন, যাও আমার মুদ্রা ফেরত নিয়ে এসো, তা বিনিময় করো না।[50]আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৬৯

এই হাদিসের সনদে একজন রাবী হলেন মুখারিমাহ ইবনে বুকাইর, তিনি সিকাহ হওয়া নিয়ে কারো দ্বিমত নেই। কিন্তু তিনি নিজের পিতা থেকে উক্ত হাদিস বর্ণনা করেছেন, আর তিনি নিজ পিতা হতে কোন কিছু শুনেন নি এতেও প্রায় সকলেই একমত, যদিও কারো কারো মতে তিনি শুধু বিতিরের বিষয়ে নিজ পিতা হতে হাদিস শুনেছেন, তবুও এই হাদিস শুনেছেন তা প্রমাণ হয় না এতে৷ তিনি মুলত নিজ পিতার লেখা কিতাব থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা “উইজাদাহ” (লিখিত উৎস থেকে বর্ণনা) হিসেবে বিবেচিত। এই কারণে অনেকে বিষয়টি নিয়ে মতভেদ করেছেন যে এই মুখারিমাহ ইবনে বুকাইর হতে এই জাতীয় হাদিস গ্রহণযোগ্য কিনা। ইয়াহিয়া বিন মাঈন, ত্বহাবি, আবু আল আরব মুহাম্মদ বিন আহমেদ, আবু আল-কাসিম আল-বালখি, আল-আকিলি, শাদি আল নামান প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ উনার পিতা হতে বর্ণনা করা হাদিসসমুহকে যয়িফ সাভ্যস্ত করেছেন। কিন্তু বাকিরা সেগুলোকেও গ্রহনযোগ্য বলেছেন।[51] https://shamela.ws/narrator/6025

এই একজন রাবীকে নিয়ে মতভেদ না হয় হাদিসটিকে হাসান পর্যায়ের সাবিত করার জন্য যথেষ্ট হত, কিন্তু সমস্যা হল আরো একজন রাবীকে নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ইয়াজিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কুসাইত নিয়েও ওলামাগণ মতভেদ করেছেন। অনেকে উনাকে শক্তিশালী নন, ভুল করতেন বলেও মন্তব্য করেছেন।[52] https://shamela.ws/narrator/7103

সেহেতু হাদিসটি আমাদের নিকট যয়িফ। তারপরও যদি হাদিসটিকে অন্তত হাসান পর্যায়ের ধরে নি, যেমনটি শেখ আলবানী করেছেন তাহলেও কোন সমস্যা নেই। কারণ এখানে শাসনের উদ্দেশ্যে প্রহার করার দলিল পাওয়া যায়। কিন্তু খুব কঠিন ভাবে মারধর করার দলিল এই হাদিস থেকে নেওয়া যায় না। কারণ আরো শক্তিশালী সনদে দাসদাসীকে এভাবে মারধর করার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকার কথা আমরা পূর্বেই পেয়েছি।

এছাড়া ঘটনাটি অবহেলার জন্য শাস্তির গুরুত্বকে তুলে ধরে এবং শাস্তিটি ছিল শিক্ষামূলক, ক্ষতির উদ্দেশ্যে নয় বরং যাতে শরঈ কল্যাণ অর্জিত হয়। আর সেই সময়ের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই কাজটি গ্রহণযোগ্য ছিল, অর্থাৎ সেই সময়ে দাস বা কর্মচারীদের দায়িত্বে অবহেলার জন্য প্রহার একটি সাধারণ শাস্তি ছিল। কিন্তু আমরা পূর্বেই দেখেছি ওলামাগণ বলেছেন শাস্তি অবশ্যই ভুলের মাত্রার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে এবং তা অতিরঞ্জিত হওয়া যাবে না।

এখানে আরো কিছু লক্ষণীয় যে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) একটি গোলামকে কিছু টাকা (সোনা বা রূপা) বদলানোর জন্য পাঠান। কিন্তু গোলামটি কাজটি সম্পন্ন করতে দেরি করে, এমনকি সম্পন্ন না করেই ফেরত আসে।

এখানে শুধু কাজে অবহেলা, সময়ানুবর্তিতা, নিয়মানুবর্তিতা, আমানতদারিতাই ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে না। এই ঘটনায় ইসলামী শরীয়তের সরফ (মুদ্রা বিনিময়) সংক্রান্ত নিয়মকানুনও জড়িত। উক্ত হাদীসের প্রেক্ষাপটে তাৎক্ষণিক বিনিময় (তাকাবুয)-এর শর্তের গুরুত্ব উঠে এসেছে, যা রিবা (সুদ) প্রতিরোধে ইসলামী শরীয়তের একটি বিধান। ইসলামে স্বর্ণ-স্বর্ণ বা রৌপ্য-রৌপ্য বা সমমূল্যের মুদ্রার বিনিময়ের ক্ষেত্রে সমান পরিমান এবং হাতে হাতে লেনদেন বাধ্যতামূলক। বিলম্ব বা শর্তারোপ করা বা মানে কম বেশি হলে তা রিবা (সুদ) হিসেবে গণ্য হয়, যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দাসটির কিছু অসতর্কতার ফলে লেনদেনটি শরীয়তবিরোধী হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই কারণেই আব্দুল্লাহ ইবনে উমর কঠোরতার প্রদর্শন করেছেন।[53]আদাবুল মুফরাদ” (হাদীস নং ১৭০) – উর্দু শরহ: ফযলুল্লাহ আল-আহাদ; কিতাবুদ দিরায়াহ ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়াহ ২/১৬৩; https://www.hadithbd.com/books/fullbook/?book=27 ; https://islamqa.info/en/answers/49045/ ; https://islamqa.info/en/answers/146931/ ; https://www.aliftaa.jo/research-fatwa-english/3239/ ; https://islamqa.org/hanafi/qibla-hanafi/35393/

আমরা ১ম দলিলে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) হতে রাসূলের হাদিসটি পেয়েছি ভুল করলে দাসকে ক্ষমা করার। আর তিনি ছিলেন সেই সাহাবি যিনি রাসুলের ছোট ছোট বিষয়কেও অনুসরণ করার চেষ্টা করতেন।[54]মুওয়াত্তায়ে মালিক, হা: ৫৭৫; আত-তামহীদ, ১৯/১৯৭; আল-মাসালিক ফি শরহি মুয়াত্তায়ে মালিক, ৩/৪৭৯ এই হতে শাস্তি দেওয়ার কারণের মাঝে সরফের প্রতি অধিক যত্নশীল যেন হয় সেটাও একটি কারণ হতে পারার সম্ভবনা আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সুতরাং সুস্পষ্ট প্রতীয়মান যে সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) অযথাই প্রহার করেন নি, উনার শাস্তি দেওয়ার পিছনে খুব যৌক্তিক ও শক্ত কারণ ছিল।

ক্রীতদাসীর ন্যায় স্ত্রীকে না মারা

আরেকটি দলিল দেওয়া হয় দেওয়া হয়,

وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَمَعَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَجْلِدْ أَحَدُكُمُ امْرَأَتَهُ جَلْدَ الْعَبْدِ ثُمَّ يُجَامِعْهَا فِي آخِرِ الْيَوْمِ»

আব্দুল্লাহ ইবনু যাম্’আহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন ক্রীতদাসীর ন্যায় স্ত্রীকে না মারে (অত্যাচার না করা হয়), অথচ দিনের শেষেই তার সাথে সহবাস করে।[55]মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস ৩২৪২

এই হাদিসটি দাস-দাসীর উপর জুলুম নির্যাতনকে সমর্থন করছে না বরং হাদিসটি স্ত্রীর প্রতি কঠোরতা ও অমর্যাদাকর আচরণের নিন্দা করে। দাসীর প্রহারের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে যে, স্ত্রীর ক্ষেত্রে এমন আচরণ অগ্রহণযোগ্য। উক্ত হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হয় শাসন ও শুধরানোর উদ্দেশ্যে দাস দাসীর ক্ষেত্রে সামাজিক প্রেক্ষাপটে যতটুকু প্রহারের অনুমতি রয়েছে স্ত্রীর ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ প্রহারও নিষিদ্ধ।[56]তাফসির ইবনে কাসির ৪র্থ খণ্ড, সূরা নিসা ১৯; ফাতহুল বারি ৯/৪২৩; শারহু সহিহ মুসলিম, উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যা; ড. কারাদাউয়ির ফিকহুল জিহাদ ২/১১৭৭; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২; আল ফুরু ৫/৬০৬; আল ইনসাফ ৯/৪১২

অন্তিম আলাপ

শেষ করা পূর্বে কিছু বিষয়ে আলাপ না করলেই নয়। আমাদের নিকট সকল ক্ষেত্রে প্রহার করা, শাস্তি দেওয়া অন্যায় কিছু নয়। প্রয়োজনে শাস্তিদানকে আমরা অবৈধই মনে করি না৷ আমাদের পিতা মাতাও এক সময় আমাদেরকে অন্যায় করার কারণে শাস্তি দিয়েছিলেন, ছোট খাটো ভুলত্রুটি ক্ষমা করলেও বড় আকারের ভুল বা অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দেন নি। আজ বড় হওয়ার পর বুঝছি সে সময় যদি শাস্তি না পেতাম তাহলে আজ আমি সঠিক পথে থাকতাম না হয়তো।

আমি ছোটবেলায় চুরি করার কারণে শাস্তি পেয়েছি (প্রথমবার বুঝিয়েছিলেন, দ্বিতীয়বার শাস্তি দিয়েছিলেন), মারামারি করার কারণে শাস্তি পেয়েছি, শিক্ষকদের সাথে খারাপ আচরণ করার কারণে শাস্তি পেয়েছি নিজের মা-বাবার কাছে। এসব শাস্তি আমাকে সেই অপরাধ থেকে ১০ হাত দুরে রেখেছিল পরবর্তীতে যা আমি কখনো অস্বীকার করতে পারব না৷ মা-বাবার শাসনের ঘাটতির কারণে, মা-বাবার সন্তানের প্রতি অবহেলার কারণে সন্তানকে চরম বখাটে ও নেশাগ্রস্ত হওয়ার নজিরও কম নেই।

সৎকাজের আদেশ দেওয়া এবং অন্যায় কাজে বাঁধা প্রধান করা ইসলামের সবচেয়ে সুপ্রতিষ্ঠিত স্তম্ভগুলির মধ্যে একটি। যে ব্যক্তি কোন মন্দ কাজকে এমনভাবে পরিবর্তন করতে সক্ষম যা তাকে সুস্পষ্ট ভুলের দিকে যাওয়া হতে বিরত রাখবে, তার জন্য তা করা বাধ্যতামূলক। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন,

তোমাদের কেউ মন্দ কাজ হতে দেখলে সে যেন স্বহস্তে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে দেয়, যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে। আর যদি সে সাধ্যও না থাকে, তখন অন্তর দ্বারা করবে, তবে এটা ঈমানের দুর্বলতম পরিচায়ক।

ভিন্ন রেওয়ায়েতের এসেছে যে ব্যক্তি তাদের হাত (শক্তি) দ্বারা মুকাবিলা করবে, সে মু’মিন। যে ব্যক্তি জিহ্বা (মুখ) দারা মুকাবিলা করবে সে মু’মিন এবং যে ব্যাক্তি অন্তর দ্বারা মুকাবিলা করবে সেও মু’মিন এরপর আর সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান স্তর নেই।[57]সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪৯, ৫০

আর এই বিধান সকল ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। স্ত্রী, সন্তান, দাস-দাসী, পাড়া, মহল্লা, সমাজ, রাষ্ট্র সকল ক্ষেত্রে সকলের উপরই এই আমর বিল মা‘রূফ নাহী ‘আনিল মুনকার অর্থাৎ সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করার দায়িত্ব রয়েছে। ইসলামে প্রহার বা শাসন শুধু মাত্র দাসদাসীর ও স্ত্রীর ক্ষেত্রেই আসেনি, পিতা তার সন্তানকে প্রহার করতে পারে শরিয়ত সম্মত কারণে। যেমন নাবী (ﷺ) বলেছেনঃ

তোমাদের সন্তানদের বয়স সাত বছর হলে তাদেরকে সালাতের জন্য নির্দেশ দাও। যখন তাদের বয়স দশ বছর হয়ে যাবে তখন (সালাত আদায় না করলে) এজন্য তাদেরকে মারবে এবং তাদের ঘুমের বিছানা আলাদা করে দিবে।[58]আবু দাউদ, হা/৪৯৫; আলবানী হাদীসটিকে ‘ইরওয়াউল গালীল’ গ্রন্থে ১/২৬৬; হা: ২৪৭ এ সহীহ বলেছেন

আলক্বামী তদীয় ‘শারহুল জামিইস সগীর’ গ্রন্থে বলেছেন,

“দশবছর বয়সে প্রহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ বয়সে উপনীত হলে প্রহার সহ্য করার উপযুক্ত হয়ে যায়। প্রহার বলতে এমন প্রহার উদ্দিষ্ট, যা নির্যাতনের পর্যায়ভুক্ত নয়; আর সে প্রহারে চেহারায় মারা থেকে বিরত থাকা হয়।”[59]আযীমাবাদী প্রণীত আওনুল মাবুদ ২/১১৪

আরেকটি রেওয়ায়েতে আমরা দেখি এক সফরে আয়শা (রা) একটি ‘হার’ হারিয়ে ফেলায় আল্লাহর রাসুল সেখানে কাফেলা থামান সেটি খুঁজতে, ফলে সকলেই নেমে পড়ে, যাক কারণে উনারা সেখানে আটকা পড়ে যান।। সেই মুহূর্তে তারা পানির নিকট ছিলেন না, উনাদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণ পানিও ছিল না যে তা দিয়ে ওজু করে সালাত আদায় করার করবেন। এতে সকলের কষ্ট দেখে আবু বকর (রা) নিজ কন্যা আয়শা (রা)-এর এই অসতর্কতার প্রতি চরম অসন্তুষ্ট হন ও আয়শা (রা)-কে বকাঝকা করেন, এক পর্যায়ে প্রহারও করেন।[60]সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৩৪

রাসুল (ﷺ) এর ঈলার ঘটনাতো খুব প্রসিদ্ধ। সেখানেও দেখা যায় আফসা (রা) ও আয়শা (রা)-এর আবদারের কথা শুনে তাদের প্রতি চরম অসন্তুষ্ট হন তাদের পিতা হজরত ওমর (রা) ও আবু বকর (রা), এবং তারা নিজ কন্যাদেরকে প্রহারও করেন শাসন করতে গিয়ে।[61]সহিহ বুখারী হাদিস ৫১৯১; সহিহ মুসলিম ১৪৭৮

এগুলো প্রমাণ করে পিতা তার সন্তানকে শাসন করে প্রহার করারও অধিকার রাখে। ধর্মীয় হুকুম আহকাম ব্যতীত-ও আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটা স্বাভাবিক ভাবেই গৃহীত একটি বিষয় ছিল। আমাদের বেশির ভাগই নিজের পিতা মাতার শাসনের স্বীকার হয়েছি। কিন্তু সব কিছুরই একটি সীমানা রয়েছে, সেটা অতিক্রম করলে কোন কিছুই ভালো ফল দেয় না। শাসনের ক্ষেত্রেও একই রকম বিষয়টি। অপ্রয়োজনীয় এবং অতিরিক্ত শাসন, শাস্তিদানের কুফল নিয়েও ওলামাগণ বিস্তর পরিসরে আলাপ আলোচনা করেছেন, বিভিন্ন শর্তও আরোপ করেছেন, কিন্তু আজকের বিষয় ভিন্ন তাই হাকীমুল উম্মাহর একটি বক্তব্যই উদ্ধৃত করে ইতি টানছি।

হযরত থানভী (রহ) বলেন,

‘রাগান্বিত অবস্থায় কখনও শিশুকে প্রহার করবে না (পিতা ও উস্তাদ উভয়ের জন্যই এই কথা)। রাগ প্রশমিত হওয়ার পর চিন্তা-ভাবনা করে শাস্তি দিবে। উত্তম শাস্তি হল ছুটি মওকুফ করে দেওয়া। শিশুর উপর এর খুব প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকে। মিয়াজী ছাত্র প্রহারে এজন্য স্বাধীন হয়ে যান যে, তাকে প্রশ্ন করার কেউ থাকে না। শিশুর তো প্রশ্ন করার যোগ্যতাই নেই আর অভিভাবক মিয়াজীকে পূর্ণ স্বাধীন করে দিয়েছেন এই বলে যে, ‘হাড্ডি আমাদের, আর চামড়া মিয়াজীর’!

মনে রাখবে, যার অধিকার সম্পর্কে প্রশ্ন করার কেউ থাকে না তার সম্পর্কে প্রশ্নকারী স্বয়ং আল্লাহ। এমনকি কোনো যিম্মী (মুসলিম দেশের অমুসলিম নাগরিক, যার নিরাপত্তা মুসলিম শাসকের যিম্মায়) কাফিরের উপর যদি কোনো শাসক জুলুম করে তাহলে হাদীস শরীফে এসেছে যে, আল্লাহ ও তার রাসূলের কাছে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।[62]আনফাসে ঈসা পৃ. ১৭৩

ইসলাম পশ্চিমা লিবারেলদের মত ধরাও যাবে না, ছোঁয়াও যাবে না এই নীতিতে কখনো বিশ্বাসীই ছিল না। যাদের সন্তানেরা মা-বাবাকে উপযুক্ত সম্মান দিতে জানে না, মর্যাদা দিতে শিখে নি, কিভাবে তাদের সাথে ভদ্রতা দেখাতে হয় তাই আয়ত্ত করতে পারে নি, আদব কায়দা জানে না তাদের থেকে আমরা আখলাক, আচার-আচরণ শিখতে যাব! এটা কল্পনা করাওতো মূর্খতা। যাদের নিকট পিতা-মাতার আদেশ, নিষেধ, উপদেশের দুই পয়সার মূল্য নেই তারা নিশ্চই উপলব্ধি করতে পারবে না পিতা-মাতার শাসনের গুরুত্ব।

কাফেররা প্রহার করা দ্বারা কল্পনা করতে পারে শুধু রক্তাক্ত করে দেওয়া, দাঁত-হাঁড় ভেঙে দেওয়া, জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া, ছিঁড়ে ফেলা, কেটে ফেলা, অঙ্গহানি করা ইত্যাদি ইত্যাদি। অথচ আমাদের ওলামাগণ কি বুঝেছেন?

ইসলামে মালিকের জন্য দাসকে গালি দেওয়া, অপমান করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা বা অভিশাপ দেওয়া জায়েজ নয়।[63]আল-ইনসাফ ৯/৪১২; শরহে মুনতাহা আল-ইরাদাহ ৩/২৬১ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন:

তুমি বলো না, আল্লাহ তোমার চেহারা এবং তোমার সদৃশ ব্যক্তির চেহারা বিকৃত করুন।”[64]আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭২; মুসনাদে আহমদ ২/২৫১, ৪৩৪; সিলসিলাতুল আহাদীসুস সহীহাহ, হাদিস ৮৬২

কারণ কাউকে গালি দেওয়া বা অভিশাপ দেওয়া তাকে আরও অবাধ্য করে তুলতে পারে বা তাকে তাওবা থেকে নিরাশ করে তুলতে পারে।[65]ফাতহুল বারী ১২/৭৭; আউনুল মা’বুদ শরহু সুনানি আবি দাউদ ১২/১৬৯ অযথা অভিশাপ দেওয়া বা গালি দেওয়া নিষিদ্ধ এবং তা কবিরা গুনাহ। এর প্রমাণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণী: “মুসলিমকে গালি দেওয়া ফাসেকি এবং তাকে হত্যা করা কুফরি।”[66]সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৪৪ তিনি আরও বলেছেন: “মুমিনকে অভিশাপ দেওয়া তাকে হত্যা করার সমতুল্য, তাকে কাফের বলাও তাকে হত্যা করার সমতুল্য।”[67]সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৪৭

সমস্ত দলিলাদি ও হুকুম আহকাম জেনে আমাদের ওলামাগণ বুঝেছেন যে প্রহার আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করবে, ইসলামের আরো কাছে যেতে সাহায্য করবে, হক বুঝতে সাহায্য করবে, অন্যায় হবে বিরত থাকতে সাহায্য করবে সেরকম প্রহার করতে হবে। শাইখ ইবনে বায (রহ.) বলেছেন:

পরিবারের সদস্যদের প্রতি যত্নশীল হও, হে আল্লাহর বান্দা, তাদের ব্যাপারে অবহেলা করো না। তোমার উচিত তাদের সংশোধনের জন্য চেষ্টা করা এবং তোমার ছেলে-মেয়েদের সাত বছর বয়সে নামাজের নির্দেশ দেওয়া। দশ বছর বয়সে নামাজ না পড়লে তাদের হালকা প্রহার করো, এমন প্রহার যা তাদের আল্লাহর আনুগত্যে সাহায্য করে এবং সময়মতো নামাজ আদায়ের অভ্যাস গড়ে তোলে। এভাবে তারা আল্লাহর দ্বীনের উপর সঠিকভাবে চলবে ও সত্যকে জানতে পারবে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত।[68]মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায ৬/৪৬

শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.) বলেছেন:

এ আদেশটি বাধ্যতামূলক (ওয়াজিব), তবে তা তখনই প্রযোজ্য যখন প্রহার উপকারী হয়। কারণ কখনও কখনও আপনি শিশুকে প্রহার করেন, কিন্তু তা থেকে কোনো উপকার হয় না; বরং তারা কেবল চিৎকার ও কান্নাকাটি করে এবং কোনো উপকার পায় না। এখানে প্রহার বলতে হালকা প্রহার বোঝানো হয়েছে, যা সংশোধনমূলক এবং ক্ষতিকর নয়।[69]লিকাউল বাব আল-মাফতুহ ৯৫/১৮

শাইখ ইবনে উসাইমিন (রহ.) আরও বলেছেন:

প্রহার যেন কঠোর না হয়, মুখে প্রহার করা যাবে না, বা এমন স্থানে প্রহার করা যাবে না যা মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বরং পিঠ বা কাঁধে হালকা প্রহার করা যেতে পারে, যা তার ক্ষতির কারণ হবে না। মুখে প্রহার করা বিপজ্জনক, কারণ মুখ হলো মানুষের সবচেয়ে সম্মানিত অংশ। মুখে প্রহার করলে তা অপমান ও লাঞ্ছনার কারণ হয়, যা পিঠে প্রহারের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। এ কারণেই মুখে প্রহার করতে নিষেধ করা হয়েছে।[70]ফাতাওয়া নূর আলা আদ-দারব ১৩/২

শাইখ ফাওজান (হাফি) বলেছেন:

প্রহার হলো শিক্ষার একটি মাধ্যম। শিক্ষক প্রহার করতে পারেন, অভিভাবক প্রহার করতে পারেন, কর্তৃপক্ষ শাসন ও শাস্তির জন্য প্রহার করতে পারেন, এবং স্বামী স্ত্রীকে নাশুকর (অবাধ্যতা) এর জন্য প্রহার করতে পারেন। তবে তা সীমার মধ্যে থাকতে হবে, যেন তা কঠোর না হয়, যা চামড়া ফাটিয়ে দেবে বা হাড় ভাঙবে। বরং তা প্রয়োজন অনুযায়ী হতে হবে।[71]ইগাসাতুল মুসতাফিদ বি শারহি কিতাব আত-তাওহিদ ২৮২-২৮৪

সমস্ত আলোচনার সারমর্ম এই যে দাস-দাসীকে সাধারণত অন্যায় ভাবে প্রহার, মারধর, জুলুম, নির্যাতন, কষ্ট দেওয়া হারাম। কিন্তু আল্লাহ ও বান্দার হকের ক্ষেত্রে সংশোধনের উদ্দেশ্যে শাসন করা বৈধ। কিন্তু সেই শাসন জুলুম, নির্যাতন ও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কারণ হতে পারবে না বরং এর পরিমাণ তেমন বেশি নয় যেমনটা কাফেররা প্রচার করে থাকে। মালিককে উপদেশ দেওয়া হয়েছে ক্ষমা করে দেওয়ার, সাধ্যের বাহিরে কাজ না দেওয়ার, এইগুলোর কারণে এমনিতেই প্রহার করার কারণ কারো সংকীর্ণ হয়ে যায়।

হয়তো এসব কারণেই পর্যটক Eldon Rutter নেগেটিভলি বললেও, তা খুব বোঝার দাবি রাখে-

[এতে] কোনো সন্দেহ নেই, দাসপ্রথার ‘মুহাম্মাদীয় সহজ ধরন’ তৈরি করে তোলে ‘সন্তুষ্ট দাস’। এবং ঠিক এ কারণেই আমি একে দাসপ্রথার আর সব ধরন থেকে বেশি খারাপ মনে করি, যা দাসদেরকেও নিজেদের অধীনতার ব্যাপারে সন্তুষ্ট করে তোলে।[72]Eldon Rutter (1933) Slavery in Arabia, Journal of The Royal Central Asian Society, 20: 3, 315-332

ইতিহাসবিদ Gustave le Bon ও অনেকটা এই জাতীয় কথাই লেখে তার Arab Civilization বইয়ে-

আমি আন্তরিকভাবে মনে করি যে, অপরাপর যেকোনো জাতির দাসপ্রথার চেয়ে ভালো ছিল মুসলিমদের দাসপ্রথা। পূর্বের দাসরা পশ্চিমের দাসদের চেয়ে অনেক ভালো অবস্থায় ছিল। পূর্বের দাসেরা ছিল পরিবারের অংশ। যারা মুক্ত হতে চাইত, তারা মুক্তির ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারত, কিন্তু সেটা (মুক্ত হতে) তারা (দাসরা) চাইতোও না।[73]Gustave le Bon, Arab Civilization, page: 459-460

আল্লাহু আলিম।

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 শারহুয যারকানী আলা খলীল ৮/১৩০-১৩১; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২; মাতালিব উলিন নুহা ৫/৬৫৭-৬৫৮
2 আল-ফুরূ ৫/৬০৬;মাতালিব উলিন নুহা ৫/৬৫৭
3 আল মুগনি, ৮/২০৫
4 আল-বাহরুর রায়িক ৫/৫৩; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন ৩/১৮৮-১৮৯
5 আল-ইসতিযকার আল-জামে লি মাযহাবি ফুকাহা আল-আমসার” লি আবি উমর ইউসুফ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আবদিল বার ২৪/১০৭; বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/৪৪; আকদুল জাওয়াহির আত-সামিনাহ ৩/৩৫০
6 আল-মুহাযযাব ২/৩৪৫; রওদাতুত তালিবীন ১০/১৭৫; মুগনিল মুহতাজ ৪/১৫২; নিহায়াতুল মুহতাজ ৭/৪৩৩
7 আল মুগনি ১১/৪৪১; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২, ৬/৮০; মাতালিব উলিন নুহা ৫/৬৫৭;
8 আল-মুহাল্লা লি ইবনে হাযম ১১/১৬৪, হাদীস নং ২১৮৫
9 উক্বদুল জাওয়াহিরুছ ছামিনাহ ৩/৩৫০; আল-বায়ান ওয়াত-তাহসীল ১৮/৩৫৭; সুবুলুস সালাম ৪/৮০
10 বাদায়িউস সানায়ে ৭/৫৮; আল-বাহরুর রায়িক ৫/৫৩; আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ ২/১৬৭; হাশিয়াতু ইবনে আবিদীন ৩/১৮৮; আল-মাবসূত ১৬/১৩
11 আকদুল জাওয়াহির আত-সামিনাহ ৩/৩৫০, ৩৬৭; আয-যাখিরাহ ১২/৮৬, ১১৯; তাবসিরাতুল হুক্কাম ২/৩৪৯, হাশিয়াতু ফাতহুল আলি আল-মালিকি সহ; আয-যারকানি আলা খলীল ৮/১১৫; মিনহুল জালীল শরহু আলা মুখতাসার সিদি খলীল লি মুহাম্মাদ আলিশ ৯/৩৫৮
12 আল-হাবি লিল-মাওয়ার্দি ১৩/২৪৮; রাওদাতুত তালিবীন ১০/১০৩, ১৭৫; আসনাল মাতালিব ৪/১৩৪-১৩৫, ১৬২; মুগনিল মুহতাজ ১৫৩, ১৯৩; নিহায়াতুল মুহতাজ ৭/৪৩৩; হাশিয়াতু ই’আনাতুত তালিবীন ৪/১৯১-১৯২
13 আল-মুগনি ১১/৪৪১; আল-ইনসাফ ৯/৪১২-৪১৩; আল-মুবদি ৮/২২৬-২২৭, ৯/১০৮ ; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২; মাতালিব উলিন নুহা ৫/৬৫৭; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত ৩/২৬০
14 নুসুস আল ফুকাহা ফি হাদিহ আল মাসআলাহ ওয়াল আদিলাত আলা জাওজ তাদিবুল সাইদ লি আবদিহ বিদ্দারব ১৪৬-১৫৭
15 সুরুতুত তাদিব বিদ্দারব ২১৬-২২২, ৪২২-২৭
16 আল-মু‘আল্লিম বিফাওয়াইদি মুসলিম, ২/২৬০; মুখতাসারু ইখতিলাফিল উলামা ৩/২৮৯, ৯/৭১, ২৪/৩৬; আল-বাহরুর রায়িক ৫/৭১; আল-হাবি আল-কাবির ১৩/৪২৩; রাওদাতুত তালিবিন ১০/১৭৪; মুগনিল মুহতাজ ৪/১৯৩; তাবসিরাতুল হুক্কাম ২/৩০০; আল ফুরু ৬/১০৭
17 আল মুহাল্লা ১১/৪০৩-৪০৪; রওদাতুত তালিবীন ১০/১৭৪; আল মুগনিল মুহতাজ ৪/১৯৩; আল ইনসাফ ১০/২৪৪-২৪৫; আল ফুরু ৬/১০৭-১০৮
18 আল ফুরুকু লিল কারাফি ৪/১৭৭-১৭৮; শারহুল খারাশি আলা খালিল ৮/১১০
19 বিস্তারিত দেখুন – https://www.alukah.net/sharia/0/53324/مجال-التأديب-بالضرب-..-ضرب-العبد/
20 সুরা নিসা আয়াত ৩৬
21 আল জামি লি আহকামুল কুরআন লিল কুরতুবি ৫/১২৪
22 তিরমিজি, হাদিস ১৯৪৯
23 আল-আদাব আল-মুফরাদ, হাদিস ১৭৬
24 সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৫৭
25 আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭৫
26, 27 আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭৭
28 আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭৩
29 আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮০
30 আল আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭০
31 সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৬৫৯
32 আল মুহালা বি আছার ইবনে হাজম আল আন্দালুসি ৮/২০২
33 ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৬৭৯
34 ইবনে মাজাহ, হাদিস ২৬৮০
35 আবু দাউদ, হাদিস ৪৫১৯
36 আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮১
37 আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮৫; আল-সিলসিলাহ আল-সহীহা ২৩৫২; আল-তারগীব ওয়াত-তারহীব, হাদিস ৫২৮২
38 আবু দাউদ, ৫১৫৬; আল ইরওয়া ২১৭৮
39 আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮৭
40 আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮৮
41 হাশিয়াতু ই’আনাতুত তালিবীন লিল-বাকরি ৪/১১৯; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২; আল-মুগনি ১১/৪৩৬-৪৩৯; রাওদাতু ই’আনাতুত তালিবীন ৯/১১৯; আশ-শারহুল কাবীর লিদ-দারদীর, ২/৫২২, হাশিয়াতুদ দাসুকির পাদটীকা সহ
42 ইমাম আশ শাওকানী, নীল আল-আওতার শরহে মুনতাক্বা আল-আখবার ১১/৪০৫-৪০৯, দার ইবনে আল-জাওজি প্রকাশনা
43 আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৮৩
44 “সিলসিলা দা’ইফা”, ৯/৩৫৩
45 কিতাবু মুসনাদি আবি ইয়া’লা – তাহকীক: হুসাইন আসাদ ১২/৩৭৩
46 আল-মুগনি মা’আ আল-ইহইয়া”, ৩/১৭৩; কিতাব ফাতহুল ক্বারীব আল-মুজীব আলা আত-তারগীব ওয়া আত-তারহীব, ৯/৭৭২
47 আবু দাউদ, হাদিস ১৮১৮
48 আনোয়ার আল সহিফা, পৃষ্ঠা ৭১-৭২
49 মিযানুল ই’তিদাল ৬/৫৮; ফাতহুল বারি ১১/১৬৩; সিয়ারু আলামিন নুবালা ৭/৩৩-৫৫
50 আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৬৯
51 https://shamela.ws/narrator/6025
52 https://shamela.ws/narrator/7103
53 আদাবুল মুফরাদ” (হাদীস নং ১৭০) – উর্দু শরহ: ফযলুল্লাহ আল-আহাদ; কিতাবুদ দিরায়াহ ফী তাখরীজি আহাদীসিল হিদায়াহ ২/১৬৩; https://www.hadithbd.com/books/fullbook/?book=27 ; https://islamqa.info/en/answers/49045/ ; https://islamqa.info/en/answers/146931/ ; https://www.aliftaa.jo/research-fatwa-english/3239/ ; https://islamqa.org/hanafi/qibla-hanafi/35393/
54 মুওয়াত্তায়ে মালিক, হা: ৫৭৫; আত-তামহীদ, ১৯/১৯৭; আল-মাসালিক ফি শরহি মুয়াত্তায়ে মালিক, ৩/৪৭৯
55 মিশকাতুল মাসাবিহ, হাদিস ৩২৪২
56 তাফসির ইবনে কাসির ৪র্থ খণ্ড, সূরা নিসা ১৯; ফাতহুল বারি ৯/৪২৩; শারহু সহিহ মুসলিম, উক্ত হাদিসের ব্যাখ্যা; ড. কারাদাউয়ির ফিকহুল জিহাদ ২/১১৭৭; কাশশাফুল কিনা ৫/৪৯২; আল ফুরু ৫/৬০৬; আল ইনসাফ ৯/৪১২
57 সহিহ মুসলিম, হাদিস ৪৯, ৫০
58 আবু দাউদ, হা/৪৯৫; আলবানী হাদীসটিকে ‘ইরওয়াউল গালীল’ গ্রন্থে ১/২৬৬; হা: ২৪৭ এ সহীহ বলেছেন
59 আযীমাবাদী প্রণীত আওনুল মাবুদ ২/১১৪
60 সহিহ বুখারী, হাদিস ৩৩৪
61 সহিহ বুখারী হাদিস ৫১৯১; সহিহ মুসলিম ১৪৭৮
62 আনফাসে ঈসা পৃ. ১৭৩
63 আল-ইনসাফ ৯/৪১২; শরহে মুনতাহা আল-ইরাদাহ ৩/২৬১
64 আল-আদাবুল মুফরাদ, হাদিস ১৭২; মুসনাদে আহমদ ২/২৫১, ৪৩৪; সিলসিলাতুল আহাদীসুস সহীহাহ, হাদিস ৮৬২
65 ফাতহুল বারী ১২/৭৭; আউনুল মা’বুদ শরহু সুনানি আবি দাউদ ১২/১৬৯
66 সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৪৪
67 সহিহ বুখারি, হাদিস ৬০৪৭
68 মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বায ৬/৪৬
69 লিকাউল বাব আল-মাফতুহ ৯৫/১৮
70 ফাতাওয়া নূর আলা আদ-দারব ১৩/২
71 ইগাসাতুল মুসতাফিদ বি শারহি কিতাব আত-তাওহিদ ২৮২-২৮৪
72 Eldon Rutter (1933) Slavery in Arabia, Journal of The Royal Central Asian Society, 20: 3, 315-332
73 Gustave le Bon, Arab Civilization, page: 459-460
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button