হাদিসসীরাত ও ইতিহাসইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাব

উসমান (রা) সম্পর্কে রাসুল (ﷺ) এর ভবিষ্যদ্বাণী ও নির্দেশনা

রাসুলের ভবিষ্যদ্বাণী, যা সত্য হয়েছিল পর্ব ১

উসমান ইবনু আফফান, ইসলামের তৃতীয় খলিফা, আমিরুল মুমিনিন, এক মজলুম জননেতা।

সহিহ মুসলিমের এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) পরপর আবু বকর (রা), ওমর (রা), উসমান (রা)-কে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। কিন্তু খালি উসমান (রা) সম্পর্কেই একটি ব্যতিক্রম কথা তিনি বলেছেন। হাদিসে এসেছে,

একজন এসে দরজা নাড়লো। আমি (এক সাহাবি) বললাম, কে? তিনি বললেন, উসমান ইবনু আফফান। বললাম, একটু অপেক্ষা করুন! আমি রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে খবর দিলাম। তিনি বললেনঃ

ائْذَنْ لَهُ وَبَشِّرْهُ بِالْجَنَّةِ عَلَى بَلْوَى تُصِيبُهُ

“তাকে অনুমতি দাও এবং জান্নাতের সুসংবাদ দাও — এমন এক বিপদের বিনিময়ে যা তার উপর আসবে।”[1]সহিহ মুসলিম, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৪০৩

আরেক সনদে এসেছে,

আর একজন এসে প্রবেশের অনুমতি চাইলেন। নবী (ﷺ) কিছুক্ষণ চুপ করে বললেন, তাঁকেও প্রবেশের অনুমতি দাও এবং শীঘ্রই তার উপর বিপদ আসবে এ কথা বলে জান্নাতের সু-সংবাদ দাও।[2]সহিহ বুখারী ৩৬৯৫

এই বিপদ, যা নবী (ﷺ) জানিয়েছিলেন, তা হলো উসমান (রা.)-কে তাঁর খিলাফতের শেষভাগে ‘ইয়াওমুদ দার’-এর দিন শহীদ হওয়া এবং মুনাফিকদের বিদ্রোহ।

ইবনে উমার (রা.) থেকে একটি সহীহ হাদিসে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি ফিতনার কথা উল্লেখ করলেন, তখন এক ব্যক্তি পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি (ﷺ) বললেন:

يقتل فيها هذا المقنع يومئذ مظلوما قال-ابن عمر-: “فنظرت فإذا هو عثمان  بن عفان

“এই ব্যক্তিকে সেই দিন জুলুমের মাধ্যমে হত্যা করা হবে।” ইবনে উমার বলেন: “আমি লক্ষ্য করলাম, তিনি উসমান (রা.)।”[3]আহমাদ: ৫৯৫৩; ‘শু‘আইব আল-আরনাউতের মন্তব্য: এটি সহীহ লি গায়রিহি এবং এই সনদ হাসান হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। ইবনে হাজার বলেছেন: ‘এর সনদ সহীহ

এই ফিতনা আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা নামক ইহুদি উসকে দিয়েছিল। সে বিভিন্ন শহরে ঘুরে মানুষকে উসমান (রা.)-এর বিরুদ্ধে উসকানি দিত, দুর্বল, অজ্ঞ ও মুনাফিকদের উত্তেজিত করত। তারা বলত: “সে কুরআন পুড়িয়েছে আর নিজের কপি রেখেছে! সে নিজের আত্মীয়দের নিয়োগ দিয়েছে! সে এটা করেছে, ওটা করেছে!”

এসব মুনাফিক একত্রিত হয়, মদিনায় আসে, অস্ত্র ধারণ করে, শহরে প্রবেশ করে এবং সেখানে ফাসাদ সৃষ্টি করে। তারা উসমান (রা.)-এর ঘরের দেয়াল টপকে তার ওপর হামলা করতে চায়। সাহাবাগণ উসমানের ঘর পাহারা দিচ্ছিলেন, কিন্তু উসমান (রা.) সাহাবাদের নির্দেশ দিলেন যে, তারা যেন তাকে পাহারা না দেয় এবং তার পক্ষে যুদ্ধ না করে; বরং তারা যেন চলে যায়।

Read More...  মেরাজের স্থান নিয়ে বিতর্ক: ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.)-এর উক্তি নিয়ে নাস্তিকদের অপপ্রচার

উসমান (রা.) চেয়েছিলেন নিজের রক্তের বিনিময়ে ফিতনা নিরসন করতে, যাতে সাহাবা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে যুদ্ধ না হয়। তিনি যখন নির্দেশ দিলেন—আর তিনি ছিলেন খলিফা, আর তাদের জন্য তার নির্দেশ মানা আবশ্যক—তখন বিদ্রোহীরা তার ঘরে ঢুকে পড়ে।

উসমান (রা.) তখন তার কুরআনের কপি খুলে পড়ছিলেন। তারা তাকে তরবারি দিয়ে আঘাত করে। এভাবে উসমান (রা.) জুলুমের মাধ্যমে নিহত হন এবং শহীদ হয়ে তাঁর রবের কাছে পৌঁছেন।

যদি কেউ প্রশ্ন করে: “যখন তারা তাকে উচ্ছেদ করতে চেয়েছিল, তখন উসমান (রা.) কেন খিলাফত ছাড়েননি?”

তার উত্তর হলো: নবী (ﷺ) উসমান (রা.)-কে একটি ওসিয়তও করেছিলেন:

يا عثمان  إن الله مقمصك قميصا، فإن أرادك المنافقون على خلعه، فلا تخلعه

“হে উসমান! আল্লাহ তোমাকে একটি জামা পরাবেন। যদি মুনাফিকরা তোমার থেকে তা খুলতে চায়, তবে তা খুলো না।”[4]আহমাদ: ২৪৫১০; আলবানী ‘যিলালুল জান্নাহ’-তে (১১৭৯) সহীহ বলেছেন

এটি ছিল নবী (ﷺ) এর উসমান (রা.)-এর প্রতি ওসিয়ত, যা তিনি মৃত্যুর আগে দিয়েছিলেন। সুতরাং উসমান (রা.) নবী (ﷺ) এর এই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেছিলেনন।

তিনি যদি ক্ষমতা ছেড়ে দিতেন তাহলে ইতিহাসের পাতায় উনার নাম কলঙ্কিত হয়ে যেত, তিনি মুনাফিকদের হাতে পরাজয় শিকার করলে মুনাফিকরা জয়ী হয়ে যেত। ক্ষমতা নিয়ে আরো বড় ফিতনার সৃষ্টি হতে পারতো। হয়তো সব জেনেই আমাদের রাসুল (ﷺ) এই ওসিয়ত করেছিলেন। যেহেতু হাদিসগুলো প্রমাণ করে তিনি উসমান (রা.) এর ক্ষমতায় আরোহন, মুনাফিকদের ষড়যন্ত্র ও উনার শাহাদাত সম্পর্কে অবগত ছিলেন।

আল্লাহু আলাম

ইনশাআল্লাহ এই সিরিজ চলমান থাকবে এবং গ্রহনেযোগ্য হাদিস দিয়েই লিখাগুলোকে সাজানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো
Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 সহিহ মুসলিম, আন্তর্জাতিক নাম্বারঃ ২৪০৩
2 সহিহ বুখারী ৩৬৯৫
3 আহমাদ: ৫৯৫৩; ‘শু‘আইব আল-আরনাউতের মন্তব্য: এটি সহীহ লি গায়রিহি এবং এই সনদ হাসান হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। ইবনে হাজার বলেছেন: ‘এর সনদ সহীহ
4 আহমাদ: ২৪৫১০; আলবানী ‘যিলালুল জান্নাহ’-তে (১১৭৯) সহীহ বলেছেন
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button