নূহ আলাইহিস সালামের বন্যা
ভাইরাল চিনা প্রফেসর জিয়াং জুয়েকিন, একটা ভিডিওতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আমি ট্রান্সক্রাইব করে বাংলায় অনুবাদ করে দিলাম। (ভিডিওটার লিংক কমেন্টে দিয়ে রাখলাম)
বিষয়গুলো চিন্তার কিন্তু, যা কোরআনের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যায় অনেকাংশেই। তিনি বলেন,
আমি মনে করি, বাইরে যে গোপন সত্যটা লুকিয়ে আছে, সেটা হলো—আমাদের যে বিবর্তনের ইতিহাস শেখানো হয়েছে, মানবজাতির বিকাশের যে গল্প বলা হয়, সবটাই ভুয়া। আমাদের কাছে মাত্র ১০,০০০ বছরের মানব ইতিহাস আছে; এটাই সব। কিন্তু আমরা জানি, হোমো সেপিয়েন্স আমরা প্রায় ২০০,০০০ থেকে ৩০০,০০০ বছর ধরে এই পৃথিবীতে আছি। এটা একটা আনুমানিক হিসাব। তাহলে বাকি এত হাজার হাজার বছর আমরা কী করছিলাম? এই প্রশ্নের কোনো সত্যিকারের উত্তর বিজ্ঞান কখনো দিতে পারেনি। এটা প্রথম পয়েন্ট।
দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো, আমাদের কাছাকাছি কিছু প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান আছে—তুরস্কের গোবেকলি তেপে (Gobekli Tepe)। সেখানে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫% খনন করা হয়েছে। বাকি ৯৫% এখনো মাটির নিচে। কেন বাকিটা খোঁড়া হয়নি? এটা টাকা-পয়সার ব্যাপার নয়; কারণ সত্যটা যদি বেরিয়ে আসে, তাহলে ঐতিহ্যবাহী ইতিহাসের গল্পটা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।
তারপর দেখো ব্রাজিলের অ্যামাজন জঙ্গল। সেখানে এখন আবিষ্কার হচ্ছে যে, প্রাচীন সভ্যতাগুলো অ্যামাজনে আগে থেকেই ছিল। আরও অবাক করা ব্যাপার হলো—এই প্রাচীন সভ্যতাগুলোই আসলে অ্যামাজন জঙ্গল তৈরি করেছে। অ্যামাজন নিজে থেকে স্বাভাবিকভাবে গড়ে ওঠেনি; এটা মানুষের হাতে তৈরি। যদি তুমি প্রথম নীতি (first principles) থেকে চিন্তা করো, তাহলে বুঝবে যে, আমাদের আগেও অনেক সভ্যতা ছিল, যেগুলো মহাপ্লাবনে (great flood) ধ্বংস হয়ে গেছে। অথবা যাকে টেকনিক্যালি বলা হয় জিওম্যাগনেটিক এক্সকারশন বা ম্যাগনেটিক পোল এক্সকারশন। উত্তর ও দক্ষিণ মেরু প্রতি ৬,০০০ বছর পর পর বদলে যায়। এটা হলে পৃথিবীর ভূগোল, ভূ-প্রকৃতি পুরো বদলে যায়; বিশাল বন্যা হয়, জলবায়ু বদলে যায়। সেই সভ্যতাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই আমরা প্রথম সভ্যতা নই।
আরেকটা ব্যাপার হলো পিরামিড। এগুলো শুধু পিরামিডই নয়। আজকের আমাদের প্রযুক্তি দিয়ে এমন পিরামিড বানানো সম্ভব নয়। আমাদের কাছে সবচেয়ে উন্নত মহাকাশযান আর কম্পিউটার আছে, কিন্তু পিরামিডগুলো পুনরায় তৈরি করতে পারি না—কারণ সেই প্রযুক্তি আমাদের কাছে নেই।
আমার মতে, এটা নিরাপদে বলা যায় যে, আমাদের আগে অন্য সভ্যতা ছিল, যারা খুব উন্নত ছিল—কিন্তু ভিন্ন ধরনের উন্নতি। হয়তো তারা বস্তুগত জিনিসের বদলে আধ্যাত্মিকতার ওপর বেশি জোর দিয়েছিল। ওই দেখো, আমার ছোট্ট ছেলে। চলো, হাই বলি। যাই হোক, আমি মনে করি এটা একটা বিশাল, বিশাল গোপন সত্য—যেটা এলিট শ্রেণি কখনো প্রকাশ করতে দিতে চায় না। এমনকি এপস্টাইনও (Epstein) অনেক সময় এই লণ্ঠন (lantern? সম্ভবত Atlantis বা lost civilization-এর কোনো কোড) খোঁজার জন্য সময় কাটাত। এলিটরা বোঝে যে, আগের সভ্যতা ছিল, আর তারা এগুলো খুঁজতে প্রচুর সময় আর সম্পদ খরচ করেছে। স্টিফেন হকিং কেন এপস্টাইনের দ্বীপে যেতেন? তিনি এই হারানো সভ্যতা খোঁজার অংশ ছিলেন—যাতে আমাদের কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা যায়। কারণ এই সত্য জানা পড়লে সবকিছু উল্টে যাবে—বিবর্তন থেকে শুরু করে মহাবিশ্বের এই বস্তুগত ধারণা পর্যন্ত সবকিছু।