মুরতাদ হত্যা কেন?

মুসলিমদের মাঝে কাফেররা বিভ্রান্ত ছড়ানোর জন্য যে বিষয়গুলো বেশি ব্যবহার করে তার একটি হল মুরতাদ হত্যা। এই বিষয়ে আমি মডারেট মুসলিমদের মত এটা বলতে যাবো না যে ইসলামে মুরতাদ হত্যার বিধান নেই, কারণ রিদ্দার শাস্তি হত্যা করা, এর উপর ইজমা রয়েছে।[1]ইবনু আব্দিল বার, আত তামহীদ ৫/৩০৬; ইবনে কুদামা, আল মুগনী ১২/২৬৪; ইবনে রুশদ, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/৩৪৩; ইবনে হাজার মক্কী, আল ইলাম ৪০০; ইলাউস সুনান ১২/৫৯৯; আল মুহীতুল বুরহানী ৭/৪৪৩; আল্লামা শামী, রাসায়েল ১/৩১৬ আর ইজমা হয়েছে কোরআন ও সুন্নাহর দলিলের উপর ভিত্তি করেই। মুরতাদ হত্যার পক্ষে মডার্নিস্টরা যে কয়েকটা হাদিস আছে বলে প্রচার করে বাস্তবে হাদিস হতে দলিল তার চাইতে অনেক বেশি পাওয়া যায়।
মানুষ শুধু এতটুকুই জানে মুরতাদকে হত্যা করা হয় বা এর বিধান রয়েছে, কিন্তু ইসলামিক বা শরিয়াহ ভিত্তিক রাষ্ট্রে এর বিস্তারিত বিধান জানে না বিধায় অনেকেই ভুল বুঝে, সাথে কাফেরদের অপপ্রচারও তাদেরকে অনেকটাই প্রভাবিত করে।
এই আইনের সাথে প্রাসঙ্গিক কিছু নিয়ম কানুন
প্রথমেই বুঝার চেষ্টা করি এই বিধানের সাথে জড়িত আরো কিছু আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি।
- মুরতাদকে তওবার সুযোগ দেওয়া হয়। কারো কারো মতে ৩ দিন, কেউ ৭ দিন, কেউ ১৫ দিনের কথা বলেছেন, হানাফি ও হাম্বলি ওলামাগণের কেউ কেউ ১ মাসের কথাও বলেছেন।[2]আবু দাউদ ৪৩০৫, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদীস ২৯৫৮৮, কানযুল উম্মাল হাদীস ১৪৭৫, মুয়াত্তা মালিক ১৪২০; সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২২৯০; ইবনে হাযম, আল-মুহাল্লা (বৈরুত: দার আল-আফাক আল-জাদিদা), ১১/১৯১; সুনানে সাঈদ ইবন মানসুর, হাবিবুর রহমান আল-আযমী সম্পাদিত (বৈরুত: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যা), খণ্ড ৩, অংশ ২, পৃষ্ঠা ২২৬-২২৭; আবূ বকর আল-বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, সম্পাদনা: মুহাম্মাদ আবদুল কাদির আতা, (বৈরুত: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যা, ১৯৯৯), ৮/৩৩৭-৩৪১, ৮/৩৪৩; আল-মাওসুʿআ আল-ফিকহিয়্যা (কুয়েত: ওয়িযারাত আল-আওকাফ, ১৯৮৩), ৩/১৭৫
- শরিয়া আদালতে মুরতাদ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়, ইবনে কুদামাসহ আরো কিছু ওলামা বলেন ধর্মত্যাগ হয় যদি সংশয়ের কারণে তাহলে তার সকল সংশয়ের সমাধান দিতে হবে, তার সামনে ভালোভাবে ইসলাম পেশ করতে হবে, তারপরও সে ফিরে না আসলে তারপর শাস্তি দেওয়া হবে।[3]ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনি, ৯/১৮; ইবনে হাজম, আল-মুহাল্লা, ১১/১৯১; কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১৪৬৭; মুফতি তারেকুজ্জামান, ইসলামি জীবন ব্যবস্থা, পৃ. ৪০২-৪০৩
এখন কারো সংশয় দুর হওয়ার পরও নিশ্চয়ই সে ইসলামের প্রতি আর খারাপ ধারণা লালন করবে না। যদি তারপরও জাহিল থেকে যায় ও ইসলাম ত্যাগ করতে চায় তাহলেতো নিজের কোপাল নিজেই সেচ্ছায় পুড়ল সে, এখানেতো আর কারো দোষ নেই।
- যদি কাউকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা হয় জোরজবরদস্তির মাধ্যমে এবং সে ইসলাম গ্রহণ করে ভয়ে বা চাপে পরে, তাহলে তার জন্য ইসলামের বিধান প্রতিষ্ঠিত হবে না যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায় যে সে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ সে যদি পরে আবার নিজের ধর্মে ফিরে যায় সে ক্ষেত্রে তার উপর শাস্তির বিধান আরোপিত হবে না।[4]আল-মুগনি ১০/৯৬; ইবনে তাইমিয়া, আল ইস্তিকামাহ ২/৩২০; মুনাযারা বাইনাল ইসলামি ওয়ান-নাসরানিয়্যাহ, সাফহাহ ৩৩৭
- পাগল বা মানসিক ভাবে অসুস্থ, নাবালেগ ও অচেতন অবস্থায় কেউ ধর্মত্যাগ করার মত কিছু করলে তাকেও ইরতিদাদের শাস্তি দেওয়া হয় না।[5]ইবন মাজাহ ২৫৪১; মিশকাত ৩২৮৭-৩২৮৮; সুনানে আবু দাউদ ৪৩৯৮-৪৪০৬, ৪৩৪৬-৫১; তিরমিজি ৪৩৫১; আহমাদ ২৪১৭৩, ২৪১৮২, ২৪৫৯০, দারেমী ২২৯৬, ইরওয়াহ ২৯৭; বায়হাকী ফিস সুনান ৭/২৩৯, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৪/৩৬৫; ওয়াহবা আল-যুহায়লী, মাওসূ‘আত আল-ফিকহ আল-ইসলামী, দামেস্ক: দার আল-ফিকর, ২০১০, ৬/১৭৪-১৮২
- কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে যদি অমুসলিমদের সাথে এই মুরতাদ হওয়া ব্যক্তির বিষয়ে কোন চুক্তি থাকে তাহলে সে ক্ষেত্রেও তাকে সরাসরি শাস্তি দেওয়া হয় না।[6]সহীহ বুখারি, হাদিস ২৭০০
- কোন প্রেরিত দূত (কারো প্রতিনিধি, বার্তাবহ) যদি মুরতাদ হয় তাহলে তাকেও হত্যা করা হয় না, যতক্ষণ যে দূত হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত থাকে।[7]আবু দাউদ ২৭৬১, ২৭৬২; মুসনাদে আহমদ ১৫৯৮৯
- শাস্তি কেবল ধর্মত্যাগের বাহ্যিক প্রকাশের ভিত্তিতে হয়, মানুষের ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলনের দিকে নয়। শরীয়াহ আইন মানুষের হৃদয়ে কী আছে তা জানতে চায় না। শরিয়াহ আইনে বাহ্যিক ঈমানের প্রকাশ অনুযায়ী আচরণ করা হয়, হৃদয়ে ধর্মত্যাগী বা অবিশ্বাসী, কিন্তু প্রকাশ করে নি তাদের উপর শাস্তি প্রয়োগ করা হয় না।[8]সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৬, বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, ৮/৩৪১-৩৪৩; আল-শাফি‘ঈ, কিতাব আল-উম্ম, সম্পাদনা রিফ‘আত ফাওযী ‘আবদ আল-মুত্তালিব (মানসুরা: দার আল-ওয়াফা’, ২০০১), ৭/৪১৬
এছাড়া আরো কিছু বিষয় রয়েছে যেমন,
- শাস্তি দেওয়া যদি তার চাইতে বড় ফিতনার কারণ হয় তাহলে আদালত শাস্তি স্থগিত রাখতে পারে।[9]সহীহ বুখারী ৭৩৫২; সহীহ মুসলিম ১৭১৬; আল-হুকম ফি’ল-সাতওয়াল-ইখতিতাফ ওয়া মুশকিরাত, পৃ. ১৯২-১০৪; আবদুর রাজ্জাক আস-সানʿআনী, আল-মুসান্নাফ, সম্পাদনা: হাবিবুর রহমান আল-আʿযমী, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামী, ১৪০৩/১৯৮৩), ১০/১৭১; আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আন-নরশাখী, তারিখে বুখারা (বুখারার ইতিহাস), সম্পাদনা: আমিন আবদুল মজিদ বাদাওয়ী (কায়রো: দার আল-মাআরিফ, ১৯৬০), পৃ. ৭৩
- হানাফি ও জাফরি ফিকাহর পন্ডিতগণের কেউ কেউ বলেছেন যে ধর্মত্যাগী নারীদের হত্যা করা হবে না। পুরুষ ধর্মত্যাগীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, একজন মহিলা মুরতাদকে নির্জন কারাবাসে রাখা হবে যতক্ষণ না সে তওবা করে এবং ইসলামে ফিরে আসে।[10]শারহ আদ-দুর-এল-মুখতার, ১/৪৮৩; ‘আল হিদায়া ২/৫৮৫ এর আইনুল হিদায়া তাফসীর ; ‘ইসলামী আইনে অপরাধ ও শাস্তি’ পৃষ্ঠা ৬৪ ও ৬৫; ইবন হাজার, আদ-দিরায়া ফী তাখরীজ আহাদীস আল-হিদায়া, সম্পাদনা: আবদুল্লাহ হাশিম আল-ইয়ামানী (বৈরুত: তারিখ নেই), ২/১৩৬-১৩৮; লিসান আল-মীযান, (হায়দরাবাদ: দায়িরাত আল-মাআরিফ আল-উসমানিয়্যা, ১৩৩০/[১৯১২]), ৩/৩২৩ যদিও অধিকাংশ এই মতের বিপক্ষে।
আর কারো যদি তারপরও ধর্মত্যাগ করতে হয় তাহলে সে যেখানে শরিয়া আইন নেই সেখানে চলে গিয়ে তারপর ধর্মত্যাগ করলেই হয়। এরকম কোন আইন নেই যে, তাকে অন্য দেশ থেকে ধরে এনে শাস্তি দিতে হবে। আর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল,
- এই অপরাধের শাস্তি দেওয়ার অধিকার সাধারণ জনগণের হাতে নেই, শাসকবর্গ বা শরিয়াহ আদালতই মুরতাদের শাস্তি প্রয়োগ করার ইখতিয়ার রাখে।[11]বিধিবদ্ধ ইসলামী আইনের ভাষ্য (ই’ফা), খণ্ড ১, ধারা ৭২, পৃষ্ঠা ২৭৮; ইবনে হাজার আল-আসকালানী, রাফʿ আল-ইসর ʿআন কুদত মিসর, সম্পাদনা: আলী মুহাম্মাদ উমর (কায়রো: মাকতাবাত আল-খানজী, ১৯৮৮), পৃ. ২৭৫-৭৬, ২৮৩
- ফুকাহাদের ঐকমত্য যে, শাস্তি কেবল ইমাম (শাসক) বা তার প্রতিনিধি ব্যতীত কেউ কার্যকর করবে না। এটি বান্দাদের জন্য কল্যাণকর—তাদের জীবন, সম্পদ ও সম্মান রক্ষার জন্য। মুসলিম যদি ধর্মত্যাগী হয়, তবে তার রক্ত হালাল হয়ে যায়; কিন্তু তাকে হত্যা করাও শাসক বা তার প্রতিনিধির দায়িত্ব। শাস্তি শুধুমাত্র মুসলিম শাসক বা তার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি কার্যকর করবেন। সাধারণ মুসলিমদের জন্য শাস্তি কার্যকর করা জায়েজ নয়, কারণ তাতে বিশৃঙ্খলা ও ফিতনা সৃষ্টি হয়।[12]
https://www.islamweb.net/ar/fatwa/304624/ এবং
https://www.islamweb.net/ar/fatwa/187635/
এখানে আরেকটি লক্ষণীয় বিষয় হল আমরা শাতিমের বিষয়ে আলাপ করছি না, শুধু মুরতাদের বিষয়ে বলছি। শাতিমের বিষয়ে বিধিবিধান ভিন্ন।
মুরতাদের শাস্তি কেন?
ইসলামে শাস্তিগুলোর বিস্তারিত আলাপ আলোচনা ফকিহগণ করে গিয়েছেন। কখন কোন কন্ডিশনে, কার কারণে কোন প্রেক্ষাপটে, কি হতে পারে না পারে, কমবে না বাড়বে, কাকে দিবে, কেন হবে ইত্যাদি সব বিষয়ে। এই আইন নিয়ে আপত্তি তোলা কোন জ্ঞানী সেজে বসে থাকা নাস্তিকের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ মনে হয় না। কারণ এই শাস্তি রাখা প্রয়োজন, মূলত এই শাস্তি রাখার পিছনে মূল কারণ হল দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও ধর্মীয় স্থিতিশীলতা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা, এই ক্ষেত্রে এই আইনের ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে।[13]ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/৮৪; এম. ই. আসাদ সুবহানী, ইসলামে ধর্মত্যাগ (প্রথম সংস্করণ, নিউ দিল্লি: গ্লোবাল মিডিয়া, ২০০৫), পৃ. ৬৫; মাহমুদ শালতুত, আল-ইসলাম: আকিদা ও শরীয়া (১৮তম সংস্করণ, কায়রো: দার আল-শুরুক, ২০০১), পৃ. ২৮১; ইউসুফ আল-কারাদাউয়ী, আল-হুররিয়্যা আদ-দীনিয়্যা (ধর্মীয় স্বাধীনতা), পৃ. ৩৬-৩৭, ৪৬-৫৩
এখন কেউ একজন উঠে প্রশ্ন করতে পারে, কোন একটা মত লালন করতে অসুবিধা কি? এর উত্তর হবে এমন যে, এখানে মত ও আকিদাকে আলাদা করতে হবে, এ দুটো জিনিস এক নয়। আর নিশ্চয়ই, যদি আমরা এই ধরনের মত ধারণ করি যা অন্য ব্যক্তির ক্ষতি করছে, যেমন আমি এমন এক মত লালন করছি ও প্রচার করছি যার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে একজন মানুষ হত্যা করা শুরু করলো তাহলে কি আমার এই মত লালন ও প্রচার গ্রহণযোগ্য হয়ে যাবে? অবশ্যই হবে না। বরং এই মতকে দমন করা হবে যেন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, কারো ক্ষতি না হয়। একই ভাবে কেউ যদি ইসলাম ত্যাগ করে এবং তা প্রচার করে তখন বিপুল সংখ্যক মানুষ এর দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে এবং কেউ সংশয়বাদী হয়ে যেতে পারে, কেউ দ্বীন ত্যাগ করে ফেলতে পারে এবং তাদের শাস্তি সর্বদা জাহান্নামে ভোগ করতে হবে।
তাহলে একটি মত প্রদর্শনের কারণে যদি কেউ হত্যার শিকার হয়, তা এত বড় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় ও এই ধরনের মত প্রচার বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেখানে এমন মত ব্যক্ত করা যার দ্বারা হাজার হাজার মানুষ প্রভাবিত হয় ও জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হয় তাতো হত্যার চাইতেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হয় দ্বীন ইসলামে! সেহেতু এর বিরুদ্ধেতো অবশ্যই আইন করা হবে, এসব মতবাদকে দমন করা হবে! কারণ ইসলাম কোন থিউরি নয়, এটা একমাত্র সত্য দ্বীন যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা দ্বারা মনোনীত।
ইসলামে দ্বীনহীনতা বা দ্বীনত্যাগই সবচেয়ে বড় ফিতনা। একজনকে জাহান্নামে পাঠানোর উসিলা হওয়ার চাইতে বড় অপরাধ হয়তোবা কোনটা থাকতে পারে। কেউ একজন মুসলিমকে মুরতাদ বানিয়ে জাহান্নামে পাঠানোর উসিলা হতে পারলে ইসলাম সেই উসিলা হওয়া জাহান্নামিদেরকে কবরে পাঠানোর বিধান রেখেছে। মানুষ খুব সহজেই প্রভাবিত হয়, বিশেষ করে ইসলামি বিধিবিধানের বিষয়ে অজ্ঞ সাধারণ আওয়াম। কাজেই, কারো ইরতিদাদ ও সেসব প্রচার প্রচারণা, ইসলামের বিরুদ্ধে বা নতুন মত বা ধর্মের পক্ষে তার বক্তব্য দেওয়া, খুব সহজেই আরো লোককে প্রভাবিত করবে, যদি না তাকে অকুস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই প্রভাবের পিছনে বহু সাইকলজিক্যাল কারণ রয়েছে। যেমন একই মিথ্যা বারবার পুনরাবৃত্তি করা, বিভিন্ন ভাবে প্রচার করা, খুব বেশি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলা, যারা জানে না তাদের সামনে বলা, গুছিয়ে সুন্দর করে উপস্থান করা ইত্যাদি মানুষের মাঝে সেই মিথ্যাকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে খুব ভালোভাবে কাজ করতে পারে।
তারপর একজন মুরতাদ হওয়ার মাধ্যমে সে শরিয়াহ রাষ্ট্রে ইসলামের সকল প্রকারের আইন, নিয়ম, কানুন, বিধি নিষেধকে অস্বীকার করে, সে সেসব মানতে বাধ্য নয় বলে আত্মপ্রকাশ করে। আর ইসলামের বিরোধিতা, বিরুদ্ধাচারণ, ইসলামের বিরুদ্ধে প্রচার প্রচারণা, অপপ্রচার, মিথ্যাচার, উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া ইত্যাদি কর্মকাণ্ড করা মানেই শরিয়াহ রাষ্ট্র ও তার আইনের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনা করা, কারণ শরিয়া রাষ্ট্রের সকল আইন কানুনই ইসলাম অর্থাৎ কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস নির্ভর। আর একটি দেশ ও দেশের আইন অনুসারে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা শাসকদের বিরোধিতাও একটি অপরাধ বলেই বিবেচিত হয়। আর আইন ও সরকার বিরোধী প্রচার প্রচারণাও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হয়। দেশের শাসনব্যবস্থা নিয়ে জনমনে সন্দেহের বীজ বপন করা, এই পদ্ধতিতে অভ্যন্তরীণ শত্রুদের পক্ষালম্বন করার সমতুল্য, এগুলো সবই অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। উদাহরণ সরূপ বাংলাদেশের আইনের কথাই আসতে পারে। দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ৬ষ্ঠ অধ্যায়ের ১২৩ ও ১২৪ ক তে বলা হয়েছে,
যে ব্যক্তি, বাংলাদেশের মধ্যে বা বাইরে, কোনো ব্যক্তি বা জনসাধারণের সমগ্র বা কোনো অংশকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে, বা এটা জেনে যে তার কাজ সম্ভবত প্রভাবিত করবে, এমনভাবে কাজ করে যা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বা বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে অবস্থিত সমস্ত বা কোনো অঞ্চলের সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে পারে, সে ব্যক্তি মৌখিক বা লিখিত শব্দ, চিহ্ন বা দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে, বাংলাদেশের সৃষ্টিকে নিন্দা করবে [১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার ভিত্তিতে], অথবা বাংলাদেশের সীমানার মধ্যে অবস্থিত সমস্ত বা কোনো অঞ্চলের সার্বভৌমত্বের সংকোচন বা বিলোপের পক্ষে সমর্থন করবে, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রগুলোর অঞ্চলের সাথে একীভূতকরণ বা অন্য কোনো উপায়ে, সে ব্যক্তি সর্বোচ্চ দশ বছর পর্যন্ত কঠোর কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে এবং জরিমানার জন্যও দায়ী হবে।[14]The Penal Code, 1860, ACT NO. XLV OF 1860, Chapter VI OF OFFENCES AGAINST THE STATE, 123A
যে কেউ মৌখিক বা লিখিত শব্দ, চিহ্ন, দৃশ্যমান উপস্থাপনা বা অন্য কোনো উপায়ে, আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা বা অবজ্ঞা সৃষ্টি করে বা সৃষ্টির চেষ্টা করে, অথবা সরকারের প্রতি অসন্তোষ উত্তেজিত করে বা উত্তেজিত করার চেষ্টা করে, সে ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা…[15]The Penal Code, 1860, ACT NO. XLV OF 1860, Chapter VI OF OFFENCES AGAINST THE STATE, 124A
যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণও দেওয়া যেতে পারে,
যে কেউ, যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সরকারকে উৎখাত বা ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে, কোনো লিখিত বা মুদ্রিত উপাদান মুদ্রণ, প্রকাশ, সম্পাদনা, জারি, প্রচার, বিক্রয়, বিতরণ বা জনসমক্ষে প্রদর্শন করে, যা বলপ্রয়োগ বা হিংসার মাধ্যমে কোনো সরকারকে উৎখাত বা ধ্বংস করার দায়িত্ব, প্রয়োজনীয়তা, কাম্যতা বা যথাযথতার পক্ষে সমর্থন, পরামর্শ বা শিক্ষা দেয়, অথবা তা করার চেষ্টা করে; যে কেউ এমন কোনো সমাজ, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিদের সমাবেশ গঠন বা সাহায্য করে বা গঠনের চেষ্টা করে, যারা বলপ্রয়োগ বা হিংসার মাধ্যমে এই ধরনের কোনো সরকারকে উৎখাত বা ধ্বংস করার শিক্ষা দেয়, সমর্থন করে বা উৎসাহিত করে; অথবা জেনেশুনে এমন কোনো সমাজ, গোষ্ঠী বা ব্যক্তিদের সমাবেশের সদস্য হয় বা তাদের সাথে যুক্ত হয়— তাকে এই শিরোনামের অধীনে জরিমানা করা হবে বা সর্বোচ্চ বিশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে, অথবা উভয়ই, এবং তার দণ্ডের পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র বা এর কোনো বিভাগ বা সংস্থার অধীনে কর্মসংস্থানের জন্য অযোগ্য হবেন।[16]FindLaw.com – 18 U.S.C. § 2385 – U.S. Code – Unannotated Title 18. Crimes and Criminal Procedure § 2385. Advocating overthrow of Government
কোন কোন দেশে রাষ্ট্রীয় বিধি বিধান, নিয়ম কানুনের উপহাস বা সেগুলোর প্রতি অশ্রদ্ধাশীল আচরণ করলেও শাস্তি রয়েছে। যেমন,
ভারতে, উদাহরণস্বরূপ, “জাতীয় সম্মান অবমাননা প্রতিরোধ আইন” এর অধীনে নাগরিকদের জাতীয় সংগীতের সময় ব্যাঘাত ঘটানোর জন্য শাস্তির বিষয়ে একটি চলমান বিতর্ক রয়েছে। অপরাধীরা এই ব্যাঘাতের জন্য তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের সম্মুখীন হতে পারে। রাশিয়ায় জাতীয় সংগীতের উপহাস করার অপরাধে নাগরিকদের জরিমানা করা হয়, এবং তাদের সরকার “রাশিয়ান ফেডারেশনের জাতীয় সংগীতের সঙ্গীত বিন্যাস বা গানের কথার ইচ্ছাকৃত বিকৃতি”র জন্য এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা কঠোর শ্রমের ফৌজদারি অভিযোগ যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।[17]Does the United States or other countries compel National Anthem etiquette? (n.d.). National Constitution Center – constitutioncenter.org.
সৈয়দ আমীর আলী, ইউসুফ আল-কারাদাউয়ী ইরতিদাদকে এসব কারণেই একপ্রকার আধুনিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিশ্বাসঘাতকতার মতো হিসেবে বিবেচনা করেছেন। রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিশ্বাসঘাতকতা কাকে বলে সেটা বিভিন্ন রাষ্ট্রের বিভিন্ন মানদণ্ড থাকে। রাষ্ট্রদ্রোহিতা, বিশ্বাসঘাতকতা কাকে বলে দেশের সরকার সেই সংজ্ঞা বানিয়ে নিতে পারে। কাজেই দারুল ইসলামের সংবিধানে ইরতিদাদ একটি বড় অপরাধ। কোন অপরাধকে গুরু, আর কোন অপরাধ লঘু সেটা সংজ্ঞায়িত করার অধিকার ইসলামী রাষ্ট্রের থাকে। আর সেই অপরাধের সাজা কি হবে সেটাও রাষ্ট্রের এখতিয়ার ভুক্ত। উদাহরণসরুপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে বলা হয়েছে,
The Congress shall have Power To …define and punish Piracies and Felonies committed on the high Seas, and Offences against the Law of Nations.[18]Article I, Section 8, Clause 10 of the US Constitution
বাংলাদেশের সংবিধানের [৭ ক][19]সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪নং আইন)-এর ৭ ধারাবলে ৭ক এবং ৭খ অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত বলছে,
কোন ব্যক্তি শক্তি প্রদর্শন বা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে বা অন্য কোন অসাংবিধানিক [যেমনঃ মৌখিক আক্রমণ] পন্থায় –
(ক) এই সংবিধান বা ইহার কোন অনুচ্ছেদ রদ, রহিত বা বাতিল বা স্থগিত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে ; কিংবা
(খ) এই সংবিধান বা ইহার কোন বিধানের প্রতি নাগরিকের আস্থা, বিশ্বাস বা প্রত্যয় পরাহত করিলে কিংবা উহা করিবার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ বা ষড়যন্ত্র করিলে-
তাহার এই কার্য রাষ্ট্রদ্রোহিতা হইবে এবং ঐ ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে দোষী হইবে।
(২) কোন ব্যক্তি (১) দফায় বর্ণিত-
(ক) কোন কার্য করিতে সহযোগিতা বা উসকানি প্রদান করিলে; কিংবা
(খ) কার্য অনুমোদন, মার্জনা, সমর্থন বা অনুসমর্থন করিলে-
তাহার এইরূপ কার্যও একই অপরাধ হইবে।
(৩) এই অনুচ্ছেদে বর্ণিত অপরাধে দোষী ব্যক্তি প্রচলিত আইনে অন্যান্য অপরাধের জন্য নির্ধারিত দণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ দণ্ডে দণ্ডিত হইবে।
সেক্যুলার, লিভারেল কান্ট্রির আইন দ্বারাই এই শাস্তির বৈধতা প্রমাণ করা সম্ভব হচ্ছে। সেখানে এই শাস্তির বিরোধিতা করতে করতে মুখে ফেনা তুলে কি লাভ! ‘ইরতিদাদের শাস্তি নিয়ে মুরতাদের দুশ্চিন্তা’ শিরোনামে একটি আর্টিকেলে মাহির নামের এক ভাই এই নিয়ে খুব সুন্দর কিছু বলেছেন, সেগুলোই এখানে উদ্ধৃতি করছি,
আমার বাসায় চাউল [লিবারেল মূলনীতি] আছে, লিবারেলের বাসাতেও আছে। এখন লিবারেলরা ফ্রাইড রাইস রান্না করলে, এটা তার ইচ্ছা। আমি ভাত [হত্যা করব] খাব, এতে কার যায় আসে? একই মূলনীতি থেকে উৎসারিত সিদ্ধান্তসমূহের যেকোনটি গ্রহণের অধিকার রয়েছে। লিবারেলদের কোন অধিকার নেই, আমার সমালোচনা করার। কিন্তু তবুও তারা জবরদস্তি করে, আমাকেও ফ্রাইড রাইস খেতে বাধ্য করতে চায়। এটা কি যৌক্তিক? তুমি হত্যা না করলে, তোমার ব্যাপার। কিন্তু কাজটাকে অনৈতিক বলার অধিকার তোমার নেই। কারণ তোমার ধর্ম অনুসারেই মুরতাদ হত্যা বৈধ।
মুসলিম পরিবারের কেউ মুরতাদ হলে, তাকে হত্যা করা হবে কেন?
জবাব- দেশের আইনের কারণে। আইন সব সময় জোর করে চাপিয়ে দেয়া হয়। যেমনঃ আমার সেক্যুলার আইনের অধীনে থাকার ইচ্ছা ছিল না, কিন্তু আমি এদেশে জন্ম নিয়ে কোণঠাসা হয়ে গিয়েছি। এখন আমাকে সেক্যুলার আইন আমাকে মানতে বাধ্য করা হচ্ছে। অথচ জন্মের সময় আমাকে কেউ এই ব্যাপারে জিজ্ঞাসাও করে নি। [লিবারেলদের কাছে এই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তারা রূপকথা শোনায় যে, আমার পূর্বপুরুষ নাকি সরকারের কাছে চুক্তি করেছিল, তাদের বংশধররা এই আইন মেনে চলবে।] একইভাবে, খিলাফাতের অধীনে জন্ম নিলে, সেই ব্যক্তির উপরে খলীফা হুদুদ প্রয়োগ করতে পারবে। আইন প্রয়োগের এই একচ্ছত্র ক্ষমতাই এক হিসাবে সার্বভৌমত্ব।[20]ইরতিদাদের শাস্তি নিয়ে মুরতাদের দুশ্চিন্তা
নতুন নতুন ইসলামকে সংস্কার করতে আসা অনেকেই আবার মুরতাদের শাস্তির পক্ষে নন। কিন্তু তারা মুরতাদ হত্যার পক্ষে না থাকলেও এটা ঠিকই বলেন যে, ইসলামের বিরুদ্ধে কোন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকলে মুরতাদকে হত্যা করা যেতে পারে। যেমন, মুসলিমদের সাথে যুদ্ধ করা, তাদের উপর আক্রমণ করা এবং তাদেরকে তাদের ধর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন করার কোন রূপ চেষ্টা করা।[21]মাহমুদ শালতুত, আল-ইসলাম: আকীদা ও শরীয়া (কায়রো: দার আল-শুরুক), পৃ. ২৮১ ; ইব্রাহিম হাসান, `সমসাময়িক ইসলামিক চিন্তাধারার ব্ল্যাকওয়েল সঙ্গী’, পৃষ্ঠা ১৬৭-৬৯ ; Mirza Tahir Ahmad (2005). The Truth about the Alleged Punishment for Apostasy in Islam. Islam International. pp. 139–142; Kamali, Mohammad Hashim (1998). “Punishment in Islamic Law: a Critique of The Hudud Bill of Kelantan, Malaysia”. Arab Law Quarterly. 13 (3): 203–234.;
আর ধর্মত্যাগ করার পর তেমন কেউ ইসলাম বিরোধিতা কিছু না করে থাকবে এমন সাধারণত ঘটে না, যেমন একটা উদাহরণ দিই। মামলুক যুগে (১২৬০-১৫১৭) ধর্মত্যাগ বা অন্যান্য ধরনের ধর্মদ্রোহিতার জন্য ষাটটি মামলায় মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার বিষয়ে জানা গিয়েছে। যারা তাদের ধর্মত্যাগ ঘোষণার জন্য মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছিল, তারা প্রধানত খ্রিষ্টান ছিল যারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল এবং তারপর জনসমক্ষে তা ত্যাগ করার প্রকাশ্য প্রদর্শনী করেছিল, পরবর্তী ক্ষেত্রে, তাদের শাস্তি দেওয়ার আগে ধর্মত্যাগ প্রত্যাহার করার জন্য বহুবার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। একবার অটোমান সাম্রাজ্যে, একজন মুসলিম যিনি খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে সন্ন্যাসী হয়েছিলেন, তাকে একজন বিচারকের সামনে তওবা করার জন্য আদালতে আনা হয়েছিল। বিচারক যখন তাকে কফি (সম্ভবত তুর্কি) অফার করেন, তিনি তা বিচারকের মুখে ছুঁড়ে ফেলেন এবং ইসলামের প্রতি অপমান জনক কথাবার্তা বলা শুরু করেন। বিচারক তারপরও, তাকে আরো তিনবার তওবা করার আহবান করেন, জনসমক্ষে ইসলামের অপমান করার পরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।[22]আমালিয়া লেভাননি, “মামলুক যুগে মিশর ও সিরিয়ায় তাকফীর,” ইসলামে অবিশ্বাসের অভিযোগ (সম্পাদনা: ক্যামিলা আদাং, হাসান আনসারি, মারিবেল ফিয়েরো ও সাবিনে স্মিটকে), (লেইডেন: ব্রিল, ২০১৫), পৃ. ১৫৬, ১৬৩-৬৫, ১৭০
দেখা যায় ১০০ জনে ৯৯ জনই ইসলামবিরোধী, ইসলাম বিদ্বেষী কর্মকাণ্ড ও প্রচারণা শুরু করে, বুঝে না বুঝে অসংখ্য প্রোপাগান্ডা, অপব্যাখ্যা ও মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়। যা কারণ হয় আরো বহুজনের গোমরাহির দিকে চলে যাওয়ার। একজন মুসলিমকে অপব্যাখ্যা, প্রোপাগান্ডা, মিথ্যাচার ও বাতিল মতবাদের মাধ্যমে চিরস্থায়ী জাহান্নামি বানানোর চেষ্টা করার চাইতে বড় অপরাধ আর কিই বা হতে পারে! প্রকাশ্যে এই আইনের কারণে দেখা যাবে কয়েকজনকে শাস্তি দিলে যারা এসবের সাথে লিপ্ত তাদের অধিকাংশ প্রকাশ্যে তাদের মিথ্যাচার ও প্রোপাগান্ডা ছেড়ে দিবে। যারা গোপনে করছে তাদের কয়েকজনকে এই শাস্তি দিলে দেখা যাবে যারা গোপনে করছে তাদেরও অধিকাংশ এসব ইসলাম বিদ্বেষী, বিরোধী কর্মকাণ্ড গোপনে করাও ছেড়ে দিবে।
ইবনে তাইমিয়া (রহ) বলেন,
ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ (মুহারাবাহ) দুই প্রকার: শারীরিক এবং মৌখিক। ইসলামের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে যুদ্ধ করা শারীরিকভাবে যুদ্ধ করার চেয়ে কখনো কখনো বেশি ক্ষতিকর হতে পারে—যেমনটি উপরে উল্লেখ করা হয়েছে। সে কারণে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইসলামের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে যুদ্ধকারীদের হত্যা করতেন, যদিও শারীরিকভাবে যুদ্ধকারীদের মধ্যে কাউকে কাউকে তিনি ক্ষমা করতেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর এই বিধান আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করা উচিত। দুষ্কৃতি শারীরিক কাজ বা কথার মাধ্যমে সংঘটিত হতে পারে, কিন্তু কথার মাধ্যমে সৃষ্ট ক্ষতি শারীরিক কাজের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। একইভাবে, কথার মাধ্যমে সংস্কারে অর্জিত কল্যাণ শারীরিক কাজের মাধ্যমে অর্জিত কল্যাণের তুলনায় অনেক গুণ বেশি হতে পারে। এটি প্রমাণিত যে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে যুদ্ধ করা বেশি গুরুতর, এবং পৃথিবীতে মৌখিকভাবে ধর্মকে ক্ষুণ্ন করার প্রচেষ্টা আরও কার্যকর।[23]আস-সারিম আল-মাসলুল, ৩/৭৩৫
হানাফি আইনবিদ আল-সারাখসী (রহ) ব্যাখ্যা করেন, ‘যে ব্যক্তি বারবার এবং জোরালোভাবে ইসলাম থেকে ধর্মত্যাগ ঘোষণা করে, সে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী একজন হিংস্র অপরাধীর সমতুল্য। ধর্মত্যাগ যে সাধারণ কল্যাণকে হুমকির মুখে ফেলেছিল তা ছিল শরীয়াহ সিয়াসা নিজেই এবং এটি তার সকল প্রজার জন্য, মুসলিম বা অমুসলিম, যে অধিকারগুলো রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল: শারীরিক অখণ্ডতা, সম্পত্তি, ধর্ম, যুক্তি, পরিবার এবং সম্মান।’[24]শামসুদ্দীন আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, (বৈরুত: দার আল-মাʿরিফা), ১০/১১০
অন্য ধর্মে এই শাস্তির ব্যবস্থা করলে!
অন্য ধর্মে এই শাস্তি নেই যে এমন নয়, কিছু কিছু ধর্মে এই বিধান দেখা যায়। যেমন হিন্দু শাস্ত্রে স্বধর্ম ত্যাগ করলে মৃত্যুদণ্ডের কথা উল্লেখ আছে।[25]ভগবদ্গীতা, ৭:১৫; অথর্ববেদ ১২/৫/৬২, ২০/৯৩/৯; শ্রীমদ্ভগবত গীতা ৪/৪/১৭ আর ইহুদি ও খ্রিষ্ট ধর্মে এক স্রষ্টার সাথে কুফুরি করলে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।[26]দ্বিতীয় বিবরণ ১৩:৮-৯; ১৭:২-৭; লেবীয় ২৪ঃ ১৬; 2 chronicles 15: 12-13 এমনকি ইহুদিরা এই শাস্তির প্রয়োগও করেছিল। যেসব ইহুদি স্বীয় ধর্ম ত্যাগ করে মুশরিকদের সাথে গিয়ে মিলিত হয়েছিল তাদেরকে রাষ্ট্রদ্রোহী ও বিদ্রোহী আক্ষ্যায়িত করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।[27]A Letter concerning Toleration and Other Writings, edited and with an Introduction by Mark Goldie (Indianapolis: Liberty Fund, 2010). ; Brown, Jonathan (5 July 2017). “The Issue of Apostasy in Islam“. yaqeen institute.
এখানে উল্লেখ্য যে আমার মানি, স্বীকার করি ও ঘোষণা করি যে ইসলাম ছাড়া সব বাতিল, সকল ধর্ম, সকল ইসলাম বিরোধী বা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক মতবাদ সবই বাতিল। আর ইসলাম ত্যাগ করে কোন ধর্ম গ্রহণ করবে? দেখানতো একটু! কোরআন ও সুন্নাহ দ্বারা এটা প্রতিষ্ঠিত বিষয় যে ইসলামত্যাগী ব্যক্তি চিরস্থায়ী জাহান্নামী।
অপর দিকে নাস্তিক্যবাদী ধর্মে মানুষ মাটির সাথে মিশে যাবে। হিন্দু, ইহুদি ও আরো বহু ধর্ম গ্রহণ করার কোন শাস্ত্রীয় বিধান নেই তাদের। খ্রিষ্টান ধর্ম গ্রহণ করার উৎসাহ যিশু দেন নি, অধিকাংশ লোকসংস্কৃতি কোন ধর্মই না, বহু ধর্ম পূর্বের নবীদের যা সমসাময়িক ছিল। প্রকৃতির উপাসনা করা ধর্মের বেশির ভাগের কোন নির্দিষ্ট বিধিবিধান, আইন, শাস্ত্র নেই। অসংখ্য ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বহু ধর্ম ইসলামের অপব্যাখ্যা করে তৈরি হয়েছে যার কোন ভিত্তি নেই।
তাহলে এসব ধর্ম কীসের ভিত্তিতে গ্রহণ করবে এবং কীসের ভিত্তিতে তার এই কাজকে (অন্য ধর্ম গ্রহণ) বৈধতা দেওয়া সম্ভব!
ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। ইসলামের সম্পূর্ণ আলাদা অর্থনীতি আছে, সম্পূর্ণ আলাদা সমরনীতি আছে, বিচার, শাসনব্যবস্থা, শিক্ষাব্যবস্থা আছে। কোনো মুসলিম চাইলেই নাস্তিক হিন্দু খ্রিষ্টান হয়ে যেতে পারে, ইসলাম না মানতে পারে কিন্তু সেটা মনে মনে, পার্সোনাল স্পেইস এ, ইসলাম বাধা দিবে না। কিন্তু ইসলামিক রাষ্ট্রে অবস্থান করে যখন প্রকাশ্যে ইসলাম ত্যাগ করে মুরতাদ হবে এর মানে সে দেশের বিরুদ্ধেই যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। দেশের অর্থনীতি, সমরনীতি, বিচারব্যবস্থা, শাসনব্যবস্থা সবকিছুই অস্বীকার করেছে। সেক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের আইন দেশদ্রোহীকে যেমন শাস্তি দেয়, এখানেও তাকে তাই শাস্তি দেয়া হবে।
আপনি হয়তো স্বাধীনতার কথা বলবেন, বিষয়টা বুঝার রয়েছে। বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতার ও জনগণের জন্য হুমকিস্বরূপ কোন কর্মকাণ্ড ও তার সাথে জড়িত, দেশের মানুষকে অন্যায়, অবিচার, ধ্বংসের দিকে পরিচালনা করা ব্যক্তিকে রাষ্ট্র দমন করার অধিকার রাখে, এই ক্ষেত্রে বলা হয় না স্বাধীনতার কথা। কারণ এইসব ক্ষেত্রে স্বাধীনতার বুলি আনা অজ্ঞতা ছাড়া আর কিছুই না। তেমনই শরিয়া আইনে মুসলিম জাতীয়তাবাদ, সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা, গোমরাহিরোধ, দ্বীনহীনতা ও ষড়যন্ত্র রোধে এসবের বিরুদ্ধে এই আইন রাখারও অধিকার রাখে। এই ক্ষেত্রেও স্বাধীনতার কথা বলাটা বোকামি ছাড়া আর কিছুই নয়।
এখন কেউ কেউ বলতে পারেন, ‘কোন হিন্দু বা খ্রিষ্টান যদি তার ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করার কারণে তাকে হত্যা করা হয় বা তারাও এই বিধান কার্যকর করে তখন কি বলবেন? এইটা ওই ধর্মের সার্বভৌমত্ব, জাতীয়তাবাদ, স্থিতিশীলতা ইত্যাদি বিবেচনা করে এই আইন রাখার অধিকার রাখে!’
এর উত্তরে একটা উদাহরণ টেনে বলি। পূর্বেরকার সময়ে বা এখনও গুপ্তচরবৃত্তি অনেক প্রচলন দেখা যায়, এসব একটি দেশের স্বাধীনতার ও সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সরূপ। এক রাষ্ট্র যখন কোন গুপ্তচর চিহ্নিত করে তখন সে তার মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত কার্যকর করে। যে দেশ থেকে গুপ্তচর পাঠানো হয়েছে তারা এতে ক্ষুব্ধ হয় কিন্তু তারা নিজেদের দেশেও বাহিরের গুপ্তচরদের সাথে একই কাজ করে৷ এই দৃশ্য সকল দেশেই মোটামুটি একই রকম দেখা যেত এক সময়।
এই যে দেখছেন তারা ক্ষুব্ধ হচ্ছে, তাতে তাদের রাগ প্রকাশিত হচ্ছে, কিন্তু তারা এটাও জানে ও স্বীকার করে যে সেই দেশের আইন অনুযায়ী এটি বেআইনি ও শাস্তি দেওয়ার তাদের অধিকার রয়েছে তাদের দেশের প্রেক্ষাপটে। অনেক সময় গুপ্তচরকে ফেরত চাইলে তাকে ফেরত না দেওয়া হলে যুদ্ধও লেগে যেত। এমন ইতিহাসও পাওয়া যায়। কিন্তু তারপরও তাদের দৃষ্টিতে বৃহত্তর স্বার্থের জন্য তারা এই কাজগুলো করে থাকে, এবং তারা এটাও মেনে নিতে পারে না তাদের গুপ্তচর নিহত হোক।
একই রকম আইনের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, আজো বিশ্বে এক দেশ আরেক দেশের ভিন্ন রকমের কিছু আইনকে অপছন্দ করে থাকে। বিভিন্ন ভাবে সমালোচনা করে, চাপ প্রয়োগ করার চেষ্টা করে এটি পরিবর্তনের। কিন্তু তারাও জানে সেই দেশ নিজেদের জন্য এমন আইন করার অধিকার রাখে। কারণ তাদের আইডিওলজি, উদ্দেশ্য, চিন্তা চেতনা, সংস্কৃতি ভিন্ন।
ঠিক একই ভাবে যদি তাদের রাষ্ট্র একটি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়—অর্থাৎ, যেখানে ধর্ম শাসনের চূড়ান্ত ভিত্তি হয়ে ওঠে—তাহলে তাদের পক্ষে এমন আইন বা নিয়ম পাস করা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য। আসলে, ইহুদি ধর্ম, খ্রিষ্টান ধর্ম এবং হিন্দু ধর্মের কিছু অংশে ইতিমধ্যেই তাদের ধর্মীয় মতবাদ এবং গ্রন্থে এমন নীতি রয়েছে। যদি তারা মুসলিমদের মতো একই যুক্তি প্রয়োগ করে, যেমন ধর্মত্যাগের জন্য মৃত্যুদণ্ডের ক্ষেত্রে, তাহলে তাদের প্রথমে পূর্বে উল্লিখিত শর্ত পূরণ করতে হবে—যা তাদের অধিকাংশই পূরণ করে না, করতে চায়ও না। প্রত্যেকেই চায় তাদের নিজ নিজ আদর্শ টিকে থাকুক, এবং এতে কোনো ভুল নেই, এটাই মানুষের প্রাকৃতিক আচরণ।
কিন্তু তাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তাদের অধিকার থাকলেও আমরা এটা মেনে নিতে পারি না, কারণ আমাদের দ্বীন আমাদেরকে এটা মানার অধিকার দেয় না। তেমনই আমাদেরও অধিকার আছে এই আইন করার, কিন্তু অন্যরা তা মেনে নাই নিতে পারে তাদের আদর্শ অনুসারে, মেনে না নিতে পারাটা স্বাভাবিক৷ কারণ সকলের, আদর্শ ও নীতিনৈতিকতা এক নয়। আদর্শের এই দ্বন্দ্ব চিরকালই থাকবে।
আশা করি এই বিষয়ে মোটামুটি সকল কিছুই পরিষ্কার করে আলোচনা করতে পেরেছি। এত বিস্তারিত আলোচনার পর আশা করি এই নিয়ে আর কোন সমস্যা থাকার কথা নয়।
আইন আইনই, নিজের রবের দেওয়া রাষ্ট্রিয় আইন নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগা আত্মপরিচয়হীনতা, ধর্মীয় পরিচয় ও অস্তিত্ব সংকটে ভুগার লক্ষণ। এই দ্বীন ও এর বিধান নিয়েতো আমাদের আরো গর্ববোধ করার কথা ছিল! কারণ আমাদের রব সরাসরি এই বিধানের প্রতিষ্ঠাতা, এসব বিধান উনারই, আর আমরা উনার জমিনের উনার আইন প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিয়োজিত খলিফা। আমাদের উপর এই মহান দায়িত্ব রয়েছে যা যথাযথ পূরণ করা আমাদের কর্তব্য। কিন্তু আমরা কি তা করছি?
আল্লাহু আলাম
Footnotes
| ⇧1 | ইবনু আব্দিল বার, আত তামহীদ ৫/৩০৬; ইবনে কুদামা, আল মুগনী ১২/২৬৪; ইবনে রুশদ, বিদায়াতুল মুজতাহিদ ২/৩৪৩; ইবনে হাজার মক্কী, আল ইলাম ৪০০; ইলাউস সুনান ১২/৫৯৯; আল মুহীতুল বুরহানী ৭/৪৪৩; আল্লামা শামী, রাসায়েল ১/৩১৬ |
|---|---|
| ⇧2 | আবু দাউদ ৪৩০৫, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা, হাদীস ২৯৫৮৮, কানযুল উম্মাল হাদীস ১৪৭৫, মুয়াত্তা মালিক ১৪২০; সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২২৯০; ইবনে হাযম, আল-মুহাল্লা (বৈরুত: দার আল-আফাক আল-জাদিদা), ১১/১৯১; সুনানে সাঈদ ইবন মানসুর, হাবিবুর রহমান আল-আযমী সম্পাদিত (বৈরুত: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যা), খণ্ড ৩, অংশ ২, পৃষ্ঠা ২২৬-২২৭; আবূ বকর আল-বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, সম্পাদনা: মুহাম্মাদ আবদুল কাদির আতা, (বৈরুত: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যা, ১৯৯৯), ৮/৩৩৭-৩৪১, ৮/৩৪৩; আল-মাওসুʿআ আল-ফিকহিয়্যা (কুয়েত: ওয়িযারাত আল-আওকাফ, ১৯৮৩), ৩/১৭৫ |
| ⇧3 | ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনি, ৯/১৮; ইবনে হাজম, আল-মুহাল্লা, ১১/১৯১; কানযুল উম্মাল ফি সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল, হাদীস নং-১৪৬৭; মুফতি তারেকুজ্জামান, ইসলামি জীবন ব্যবস্থা, পৃ. ৪০২-৪০৩ |
| ⇧4 | আল-মুগনি ১০/৯৬; ইবনে তাইমিয়া, আল ইস্তিকামাহ ২/৩২০; মুনাযারা বাইনাল ইসলামি ওয়ান-নাসরানিয়্যাহ, সাফহাহ ৩৩৭ |
| ⇧5 | ইবন মাজাহ ২৫৪১; মিশকাত ৩২৮৭-৩২৮৮; সুনানে আবু দাউদ ৪৩৯৮-৪৪০৬, ৪৩৪৬-৫১; তিরমিজি ৪৩৫১; আহমাদ ২৪১৭৩, ২৪১৮২, ২৪৫৯০, দারেমী ২২৯৬, ইরওয়াহ ২৯৭; বায়হাকী ফিস সুনান ৭/২৩৯, আল-হাকিম ফিল মুসতাদরাক ৪/৩৬৫; ওয়াহবা আল-যুহায়লী, মাওসূ‘আত আল-ফিকহ আল-ইসলামী, দামেস্ক: দার আল-ফিকর, ২০১০, ৬/১৭৪-১৮২ |
| ⇧6 | সহীহ বুখারি, হাদিস ২৭০০ |
| ⇧7 | আবু দাউদ ২৭৬১, ২৭৬২; মুসনাদে আহমদ ১৫৯৮৯ |
| ⇧8 | সহিহ মুসলিম, হাদিস ৯৬, বায়হাকী, আস-সুনান আল-কুবরা, ৮/৩৪১-৩৪৩; আল-শাফি‘ঈ, কিতাব আল-উম্ম, সম্পাদনা রিফ‘আত ফাওযী ‘আবদ আল-মুত্তালিব (মানসুরা: দার আল-ওয়াফা’, ২০০১), ৭/৪১৬ |
| ⇧9 | সহীহ বুখারী ৭৩৫২; সহীহ মুসলিম ১৭১৬; আল-হুকম ফি’ল-সাতওয়াল-ইখতিতাফ ওয়া মুশকিরাত, পৃ. ১৯২-১০৪; আবদুর রাজ্জাক আস-সানʿআনী, আল-মুসান্নাফ, সম্পাদনা: হাবিবুর রহমান আল-আʿযমী, (বৈরুত: আল-মাকতাব আল-ইসলামী, ১৪০৩/১৯৮৩), ১০/১৭১; আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে জাফর আন-নরশাখী, তারিখে বুখারা (বুখারার ইতিহাস), সম্পাদনা: আমিন আবদুল মজিদ বাদাওয়ী (কায়রো: দার আল-মাআরিফ, ১৯৬০), পৃ. ৭৩ |
| ⇧10 | শারহ আদ-দুর-এল-মুখতার, ১/৪৮৩; ‘আল হিদায়া ২/৫৮৫ এর আইনুল হিদায়া তাফসীর ; ‘ইসলামী আইনে অপরাধ ও শাস্তি’ পৃষ্ঠা ৬৪ ও ৬৫; ইবন হাজার, আদ-দিরায়া ফী তাখরীজ আহাদীস আল-হিদায়া, সম্পাদনা: আবদুল্লাহ হাশিম আল-ইয়ামানী (বৈরুত: তারিখ নেই), ২/১৩৬-১৩৮; লিসান আল-মীযান, (হায়দরাবাদ: দায়িরাত আল-মাআরিফ আল-উসমানিয়্যা, ১৩৩০/[১৯১২]), ৩/৩২৩ |
| ⇧11 | বিধিবদ্ধ ইসলামী আইনের ভাষ্য (ই’ফা), খণ্ড ১, ধারা ৭২, পৃষ্ঠা ২৭৮; ইবনে হাজার আল-আসকালানী, রাফʿ আল-ইসর ʿআন কুদত মিসর, সম্পাদনা: আলী মুহাম্মাদ উমর (কায়রো: মাকতাবাত আল-খানজী, ১৯৮৮), পৃ. ২৭৫-৭৬, ২৮৩ |
| ⇧12 |
https://www.islamweb.net/ar/fatwa/304624/ এবং |
| ⇧13 | ইলামুল মুওয়াক্কিঈন ২/৮৪; এম. ই. আসাদ সুবহানী, ইসলামে ধর্মত্যাগ (প্রথম সংস্করণ, নিউ দিল্লি: গ্লোবাল মিডিয়া, ২০০৫), পৃ. ৬৫; মাহমুদ শালতুত, আল-ইসলাম: আকিদা ও শরীয়া (১৮তম সংস্করণ, কায়রো: দার আল-শুরুক, ২০০১), পৃ. ২৮১; ইউসুফ আল-কারাদাউয়ী, আল-হুররিয়্যা আদ-দীনিয়্যা (ধর্মীয় স্বাধীনতা), পৃ. ৩৬-৩৭, ৪৬-৫৩ |
| ⇧14 | The Penal Code, 1860, ACT NO. XLV OF 1860, Chapter VI OF OFFENCES AGAINST THE STATE, 123A |
| ⇧15 | The Penal Code, 1860, ACT NO. XLV OF 1860, Chapter VI OF OFFENCES AGAINST THE STATE, 124A |
| ⇧16 | FindLaw.com – 18 U.S.C. § 2385 – U.S. Code – Unannotated Title 18. Crimes and Criminal Procedure § 2385. Advocating overthrow of Government |
| ⇧17 | Does the United States or other countries compel National Anthem etiquette? (n.d.). National Constitution Center – constitutioncenter.org. |
| ⇧18 | Article I, Section 8, Clause 10 of the US Constitution |
| ⇧19 | সংবিধান (পঞ্চদশ সংশোধন) আইন, ২০১১ (২০১১ সনের ১৪নং আইন)-এর ৭ ধারাবলে ৭ক এবং ৭খ অনুচ্ছেদ সন্নিবেশিত |
| ⇧20 | ইরতিদাদের শাস্তি নিয়ে মুরতাদের দুশ্চিন্তা |
| ⇧21 | মাহমুদ শালতুত, আল-ইসলাম: আকীদা ও শরীয়া (কায়রো: দার আল-শুরুক), পৃ. ২৮১ ; ইব্রাহিম হাসান, `সমসাময়িক ইসলামিক চিন্তাধারার ব্ল্যাকওয়েল সঙ্গী’, পৃষ্ঠা ১৬৭-৬৯ ; Mirza Tahir Ahmad (2005). The Truth about the Alleged Punishment for Apostasy in Islam. Islam International. pp. 139–142; Kamali, Mohammad Hashim (1998). “Punishment in Islamic Law: a Critique of The Hudud Bill of Kelantan, Malaysia”. Arab Law Quarterly. 13 (3): 203–234.; |
| ⇧22 | আমালিয়া লেভাননি, “মামলুক যুগে মিশর ও সিরিয়ায় তাকফীর,” ইসলামে অবিশ্বাসের অভিযোগ (সম্পাদনা: ক্যামিলা আদাং, হাসান আনসারি, মারিবেল ফিয়েরো ও সাবিনে স্মিটকে), (লেইডেন: ব্রিল, ২০১৫), পৃ. ১৫৬, ১৬৩-৬৫, ১৭০ |
| ⇧23 | আস-সারিম আল-মাসলুল, ৩/৭৩৫ |
| ⇧24 | শামসুদ্দীন আস-সারাখসী, আল-মাবসূত, (বৈরুত: দার আল-মাʿরিফা), ১০/১১০ |
| ⇧25 | ভগবদ্গীতা, ৭:১৫; অথর্ববেদ ১২/৫/৬২, ২০/৯৩/৯; শ্রীমদ্ভগবত গীতা ৪/৪/১৭ |
| ⇧26 | দ্বিতীয় বিবরণ ১৩:৮-৯; ১৭:২-৭; লেবীয় ২৪ঃ ১৬; 2 chronicles 15: 12-13 |
| ⇧27 | A Letter concerning Toleration and Other Writings, edited and with an Introduction by Mark Goldie (Indianapolis: Liberty Fund, 2010). ; Brown, Jonathan (5 July 2017). “The Issue of Apostasy in Islam“. yaqeen institute. |




