আমরা কেন ইসলামী ইতিহাসে বিশ্বাস করব?
আসসালামু 'আলাইকুম। আমরা কীভাবে বুঝবো ইসলামিক হিস্ট্রি বায়াসড্ না, এবং আসলে সঠিক কথাই বলছে আসলে কী ঘটেছিলো।
পূর্বে দেওয়া উত্তরে আমার লিখাটির লিংক দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি ইসলামিক যে সনদ নির্ভর ইতিহাস সংগ্রহের পদ্ধতি রয়েছে সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। আশা করি এই সনদ নির্ভর ইতিহাসের পদ্ধতির সত্যতা ও বিশ্বস্ততা কতটা বেশি নিয়ে মোটামুটি ধারনা পেয়েছেন যদি পড়ে থাকেন।
ইসলামে মোটামুটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সনদ নির্ভর পদ্ধতির মাধ্যমেই ইতিহাস সংগ্রহ করা হয়েছে। রাসূলের, সাহাগণের, তাবেঈ ও তাবেতাবেঈগণের, তারপর তাদের পরবর্তি ওলামাদের সব কিছুই ইসনাদ পদ্ধতির মাধ্যমেই সংগ্রহ করা হয়েছিল মুসলিমদের দ্বারা। আর অমুসলিমরা যা যা সংগ্রহ করেছে তা তাদের নিজস্ব যে পদ্ধতি রয়েছে তার উপর ভিত্তি করেই করেছিল।
আর উনাদের পরবর্তি প্রজন্মের ক্ষেত্রে যেয়ে ইসলামিক হিস্ট্রি কালেকশনে পরবর্তিতে কেউ পক্ষপাতিত্ব যদি করে থাকে তাহলে কিছু করার নেই ও কিছু যায় আসেও না, কারন পরবর্তি প্রজন্মগুলো আমাদের জন্য দলিল বা আদর্শ নয়। এছাড়া কখনো ভেবে দেখেছেন যে ইসলামে যারা ভিলেন তারা ওরিয়েন্টালিস ও কাফেরদের কাছে হিরো কেন? রিসেন্ট ইস্যুর উদাহরণ দিয়েও যদি বলি তাহলে আজ ফিলিস্তিনের পরিবর্তে ইজরাইল সমর্থন কাফের মহলে বেশি কেন কখনো চিন্তা করেছেন? হয়তো ভালো করেই জানেন কেন, আর হিস্ট্রি সংগ্রহ ও সেগুলোর বিষয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে অমুসলিমদের করা পক্ষপাতের কথা নতুন করে বলছিই না।
কাফেররা ইতিহাস রচনায় কি পরিমান পক্ষপাতিত্বের পরিচয় দিয়েছে! হিসাব আছে! কিসের ভিত্তিতে তাদের থেকে পাওয়া ইতিহাস বিশ্বাস করবে! যদি মুসলিমদের সংগ্রহ করা ইতিহাস গ্রহন করতে এত দ্বিধা ও সমস্যা কাজ করে তাহলেতো অমুসলিমদের থেকে পাওয়া ইতিহাস গ্রহনতো দূরের কথা তা সম্পর্কে চিন্তা করাও আমার মতে বৈধ হওয়ার কথা না!
যাইহোক, আর আমি আমার লিখায় বহু বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা করেছি, আশা করি এই বিষয়ে প্রশ্ন প্রশ্নতোলার মত কোন স্কোপ আছে বলে আমার মনে হচ্ছে না আপাতত। তারপরও কিছু না বললেই নয়।
এই ভাইয়ের কাছ থেকে জানতে পেরেছি এই বিষয়ে মুশফিকুর মিনার ভাই চমৎকার একটা জবাব দিছিলেন, সেটা হল, ‘যারা ইতিহাস লিখছে মানে উলামারা যারা ইতিহাস লিখছেন তারা যদি biased হত তাহলে satanic verse আর সূরা নাজমের সিজদার controvorsial কাহিনী ইসলামের কোন ইতিহাসের পাতাতেই থাকত না। যদিও কাহিনীটি সত্য নয় তা প্রমানিত।’ ঠিক একই ভাবে আরো বহু প্রমানই দেওয়া যায়, যেমন ইসলামিক লেখকগণ অমুসলিমদের বহু অভিযোগের জবাব দিয়ে থাকেন, অনেক যয়িফ ও জাল হাদিস দেখিয়ে অমুসলিমরা বিভিন্ন অভিযোগ করে থাকে অমুসলিমরা। যদি ইতিহাস সংগ্রহে পক্ষপাতিত্ব করা হত তাহলে এইসব একটাও হাদিস যেগুলো নিয়ে অমুসলিমরা অভিযোগ করে সেগুলোর অস্তিত্ব পাওয়া যেত না। ইসনাদ নির্ভর ইতিহাসের ক্ষেত্রে সনদের মান গ্রহনযোগ্য নাকি গ্রহণযোগ না তা নির্ধারণ বা নির্ণয়ের ক্ষেত্রেও যে পক্ষপাতিত্ব করা হয় নি তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা আমার লিখায় করেছি।