রাষ্ট্রীয় ভাবে জোর করে পর্দা করানোর বিধান আছে?
❝শরীয়তের মাসয়ালা হল, বৈধ বিষয়ে রাষ্ট্রের আনুগত্য করা ওয়াজিব। এর জন্য রাষ্ট্র ইসলামী হওয়া জরুরী নয়। এছাড়া দেশের প্রতিটি নাগরিকই বক্তব্য বা কর্মে একথার স্বীকারোক্তি দিয়েছে যে, সে বৈধ বিষয়ে সরকারের আইন মানবে।❞ — মুসলিম বাংলা ফাতওয়া বিভাগ (হানাফী), প্রশ্ন ১০৩৫৪, ৫ নভেম্বর, ২০২৩আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন:
على المرءِ المسلمِ السمْعُ والطاعةُ . فيما أحبّ وكَرِهَ . إلا أن يُؤْمَرَ بمعصيةٍ . فإن أُمِرَ بمعصيةٍ ، فلا سَمْع ولا طاعَةَ
‘‘মুসলিমের দায়িত্ব রাষ্ট্রের আনুগত্য করা, তার পছন্দনীয়-অপছন্দনীয় সকল বিষয়ে, যতক্ষণ না কোনো পাপের নির্দেশ দেওয়া হয়। যদি কোনো পাপের নির্দেশ দেওয়া হয় তবে সে বিষয়ে কোনো আনুগত্য নেই।’’
— মুসলিম, আস-সহীহ ৩/১৪৬৯
আপনার ফিকহে যদিও বলা থাকে মুখ ঢাকা বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু শাসক আপনাকে বললে আপনি মানতে বাধ্য, যদি না আপনি প্রমাণ করতে পারেন মুখ ঢাকা হারাম/গুনাহের কাজ।
কোরআন ও সুন্নায় এমন কাজ করার নির্দেশ নেই। কিন্তু নিষেধাজ্ঞাও নেই।
কিন্তু শাসকের আনুগত্য যেহেতু ওয়াজিব সেহেতু শাসক যদি কল্যানের বিষয়ে চিন্তা করে এমন আইন দেয় তখন তা অনুসরণ করতে বাধ্য থাকবে নাগরিক।
আর এটা বর্তমানে বেশির ভাগ সেকুলার লিভারেল দেশেই হয়ে আসছে। কোথাও একের অধিক বিবাহ নিষিদ্ধ কিন্তু একাধিক প্রেমিক প্রেমিকা থাকা বৈধ, কোথাও হিজাব পড়া নিষিদ্ধ কিন্তু উলঙ্গ চলা বৈধ, কোথাও ট্রেডিশনাল ইসলাম ফলো করা নিষিদ্ধ কিন্তু সেকুদের শিখানো ইসলাম ফলো করা গোড মোজলেমের লক্ষ্যণ, কোথাও গনতন্ত্রের বিরোধিতা করা নিষিদ্ধ, কোথাও ২১ এর আগে বিবাহ করা নিষিদ্ধ, কিন্তু সেক্স করা বৈধ, কোথাও সেই দেশের সংস্কৃতির বিরোধীতা করা নিষিদ্ধ, কোথাও পাশের দেশের নিরিহ মানুষের পক্ষে কথা বলা নিষিদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধাদেরকে সমর্থন করা নিষিদ্ধ, বাহিরের দেশের কাউকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ, অনুমতি ব্যতিত দেশ ত্যাগ ও প্রবেশ নিষিদ্ধ, ব্যক্তি মালিকানায় সম্পদ থাকতে পারবে না, সব কিছু সরকারের নামে থাকবে, বাহিরের স্যাোশাল মিডিয়া ব্যবহার করা যাবে না। এমনও আরো আজব আজব নিয়ম কানুন রয়েছে, কিন্তু সেই দেশে থাকলে না থাকতে চাইলে তা মানতে বাধ্য থাকে মানুষ।
বাস্তবতা এটাই যে আইন মানুষ বেছে নিতে পারে না, আইন চাপানো হয়, মানতে বাধ্য করা হয়, অনুসরণ করতে বাধ্য করা হয়। কারণ সুশৃঙ্খল জীবন উপহার দিতে এটা করতেই হয়।
সেকুলার রাষ্ট্র কিভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা হরন করে? তাদের দাবি মোতাবেক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ধর্ম পালনের স্বাধীনতার বাস্তবতা কি?
এটাও একটু জানার চেষ্টা করবেন আশা করি, তাহলে বিষয়টা আরো ভালো ভাবে বুঝতে পারবেন