কোরআন কি রাত ও দিনের কক্ষ পথ আছে বলে? সূর্যের কোন কক্ষ পথ নেই?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: বিজ্ঞানকোরআন কি রাত ও দিনের কক্ষ পথ আছে বলে? সূর্যের কোন কক্ষ পথ নেই?
A Rational Believer Of Islam asked 8 মাস ago
এক ভাই আমাকে একজন ইসলাম বিদ্বেষী ভাইয়ের সূরা আম্বিয়া আয়াত ৩৩ ও সূরা ইয়াসিন আয়াত ৪০ নিয়ে উলটাপালটা কিছু অভিযোগ করা স্ক্রিনসট দেখায় যেখানে যে বলে, কোরআন রাত ও দিনের কক্ষ পথ আছে বলে কিন্তু বিজ্ঞান বলে দিন ও রাতের কক্ষ পথ নেই এগুলা চাঁদ ও সূর্যের কারনে হয় তারপর তার আরো একটা অভিযোগ ছিল কোরআন বলে সূর্য ঘোরে ও সেটার কক্ষ পথ আছে কিন্তু বিজ্ঞান বলে সূর্য ঘুরে না ও তার কোন কক্ষপথও নেই।
2 Answers
Ashraful Nafiz Staff answered 8 মাস ago

(উত্তরটা বহু আগের)

وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ ۖ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ (সূরা আম্বিয়া)

এবং তিনিই সেই সত্তা, যিনি রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টি করেছেন। সবই এক ফলকে সাতার কাটছে।

আল্লাহ্ই সৃষ্টি করেছেন রাত্রি ও দিবস এবং সূর্য ও চন্দ্র ; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করে।

তিনিই সৃষ্টি করেছেন রাত ও দিন, সূর্য আর চন্দ্র। প্রত্যেকেই তার চক্রাকার পথে ভেসে বেড়ায়।

لَا الشَّمۡسُ یَنۡۢبَغِیۡ لَهَاۤ اَنۡ تُدۡرِکَ الۡقَمَرَ وَ لَا الَّیۡلُ سَابِقُ النَّهَارِ ؕ وَ کُلٌّ فِیۡ فَلَکٍ یَّسۡبَحُوۡنَ (সূরা ইয়াসিন)

সূর্যের জন্য সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া, আর রাতের জন্য সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা, আর প্রত্যেকেই কক্ষ পথে ভেসে বেড়ায়।

সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদকে ধরে ফেলা, আর রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে ছাড়িয়ে আগে বেড়ে যাওয়া, প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষ পথে সাঁতার কাটছে।

সূর্যের পক্ষে সম্ভব নয় চাঁদের নাগাল পাওয়া এরং রাতের পক্ষে সম্ভব নয় দিনকে অতিক্রম করা; এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ কক্ষপথে সাতার কাটে।

প্রথমেই কয়েকটা তাফসীরে এই আয়াত নিয়ে কি বলা আছে তা দেখেনিই।

১. কক্ষপথে সাঁতার কাটছে '। কুরআন মাজীদে ব্যবহৃত শব্দ হল فلك যার প্রকৃত অর্থ বৃত্ত। এ আয়াত যখন নাযিল হয়েছে, তখন জ্যোতির্বিজ্ঞানে টলেমিক মতবাদের জয় - জয়কার। টলেমির মতে চন্দ্র, সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ - নক্ষত্র আকাশমণ্ডলের সাথে সংস্থাপিত। ফলে আকাশের ঘুর্ণনের সাথে নক্ষত্ররাজিও অনিবার্যভাবে ঘুরছে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এ আয়াতে যে শব্দমালা ব্যবহার করেছেন, তা টলেমির চিন্তাধারার সাথে পুরােপুরি খাপ খায় না। বরং এ আয়াতের বক্তব্য মতে প্রতিটি নক্ষত্রের নিজস্ব গতিপথ আছে। প্রত্যেকে আপন - আপন গতিপথে সন্তরণ করছে। সন্তরণ করা ’ শব্দটি বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। এর দ্বারা এটাই প্রকাশ যে, তারা শূন্যমণ্ডলে আবর্তন করছে। ‘ গ্রহ - নক্ষত্ররা শূন্যমণ্ডলে আবর্তন করছে'- এই যে তত্ত্ব কুরআন মাজীদ বহু পূর্বেই জানিয়ে রেখেছে, বিজ্ঞানের এখানে পৌছতে অনেক দিন লেগেছে।

২. আরবীতে فلك হচ্ছে আসমানের এক পরিচিত নাম। ‘সবই এক ফলকে সাতার কাটছে’ - এই বাক্য থেকে দুটি কথা পরিষ্কার বুঝা যায়। প্রথমতঃ এসব তারকা একই আকাশমন্ডলে অবস্তিত নয়, বরং প্রত্যেকের আকাশ বা কক্ষপথ পৃথক। দ্বিতীয়তঃ ‘ফলক’ অর্থাৎ আকাশ মন্ডল এরূপ কোন জিনিস নয় যার সংগে তারাগুলো খুটিতে বাধার ন্যায় আবদ্ধ হয়ে রয়েছে এবং তা তারাগুলিসহ আবর্তন করছে, বরং আকাশ কোন প্রবহমান তরলের ন্যায় বা ফাকা ও শূণ্যবৎ জিনিস যার মধ্যে তারকা সমূহের গতিশীলতা সাঁতার কাটার সংগে সাদৃশ্যমূলক।

৩. তাফসীরে ইবেন কাসীর --وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ অর্থ আর তিনিই তিনি যিনি রাত্রি ও দিন সৃষ্টি করেছেন, মানে একটি তার অন্ধকার এবং নিস্তব্ধতা সঙ্গে, এবং অন্যটি তার আলো এবং মানুষের মিথস্ক্রিয়া সঙ্গে; কখনও কখনও একটি লম্বা হয় যখন অন্যটি ছোট হয়, তারপর তারা পরিবর্তন করে। وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ অর্থ, সূর্য তার নিজস্ব আলো এবং তার নিজস্ব পথ এবং কক্ষপথ এবং বরাদ্দ সময় এবং চাঁদ যেটি একটি ভিন্ন আলোয় আলোকিত হয় এবং একটি ভিন্ন পথে ভ্রমণ করে এবং তার নিজস্ব বরাদ্দ সময় রয়েছে। كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ প্রতিটি একটি কক্ষপথে ভাসমান মানে, ঘূর্ণায়মান। ইবনে আব্বাস বলেন,"তারা একটি বৃত্তের মধ্যে একটি চরকার মত ঘোরে।"

৪. তাফসীরে জাকারিয়াতে বলা হয়েছে প্রত্যেক বৃত্তাকার বস্তুকে فلك বলা হয়। এ কারণেই সূতা কাটার চরকায় লাগানো গোল চামড়াকে فلكة المغزل বলা হয়। [বাগভী; ফাতহুল কাদীর] আর একই কারণে আকাশকেও فلك বলা হয়ে থাকে। এখানে সুর্য ও চন্দ্রের কক্ষপথ বোঝানো হয়েছে। “সবাই এক একটি ফালাকে (কক্ষপথে) সাঁতরে বেড়াচ্ছে”—এ থেকে দুটি কথা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে। এক, প্রত্যেকের ফালাক বা কক্ষপথ আলাদা। দুই, ফালাক এমন কোন জিনিস নয় যেখানে এ গ্রহ-নক্ষত্রগুলো খুঁটির মতো প্রোথিত আছে এবং তারা নিজেরাই এ খুঁটি নিয়ে ঘুরছে। বরং তারা কোন প্রবাহমান অথবা আকাশ ও মহাশূন্য ধরনের কোন বস্তু, যার মধ্যে এই গ্রহ-নক্ষত্রের চলা ও গতিশীলতা সাঁতার কাটার সাথে সামঞ্জস্য রাখে।

৫. তাফসিরে হাসানুল বায়ানে বলা হয়েছে অর্থাৎ, সূর্যের জন্য সম্ভব নয় যে, সে চাঁদের কাছাকাছি হবে এবং তার ফলে তার আলো শেষ হয়ে যাবে। বরং উভয়ের নিজ নিজ কক্ষপথ ও আলাদা আলাদা গন্ডিসীমা আছে। সূর্য দিনে ও চাঁদ রাতেই উদিত হয়, কখনও এর ব্যতিক্রম না ঘটা এ কথারই প্রমাণ যে, এ সবের নিয়ন্তা ও পরিচালক একজন আছেন। বরং এরাও এক নিয়ম-সূত্রে আবদ্ধ হয়ে আছে এবং এক অপরের পরে আসতে থাকে। كُلٌّ বলতে সূর্য, চন্দ্র, অথবা তার সাথে অন্য নক্ষত্রকেও বুঝানো হয়েছে। সব কিছু নিজ নিজ কক্ষপথে পরিক্রমণ করে, তাদের কারো একে অপরের সাথে সংঘর্ষ হয় না।

এগুলা ছিল তাফসির যেখানে তার অভিযোগ করা প্রায় প্রশ্নের উত্তর চলে এসেছে তারপরও এখন আপনাকে বিজ্ঞানের কথা বলি। প্রথমেই বলে নি, যে ব্যাক্তি কোরআনের এই আয়াতগুলো নিয়ে আপনাকে উলটাপালটা তথ্য দিয়েছে তার অর্ধেক কথা সত্য আর অর্থেক মিথ্যা। আমার মনে হয় সে ৭ম/৮ম শ্রেণির বইগুলা পড়ে এসব লিখেছে।

এই আয়াতে সেই ব্যাক্তির বেশিরভাগ অভিযোগ কক্ষপথ ও সূর্য নিয়ে। কোরআনে বলা হয়েছে গ্রহ, নক্ষত্র, উপগ্রহ ইত্যাদি নির্দিষ্ট কক্ষপথে বা বৃত্তাকার পথে ঘোরে এবং বিজ্ঞানও একই কথা বলে আর এটা জানতে আপনাকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহন করতে হবে না অন্তত মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা গ্রহন করলেই জানার কথা।

কোরআনে কোথাও বলা হয়নি যে গ্রহ, নক্ষত্র, উপগ্রহ ইত্যাদি কাউকে কেন্দ্র করে ঘুরে বা ঘুরেনা বরং কোরআনে বলা হয়েছে গ্রহ, নক্ষত্র, উপগ্রহ ইত্যাদি নিজস্ব কক্ষপথে আবর্তন করে মানে এদের নিজের কক্ষপথ আছে যেখানে তারা ভেসে বেড়ায় ও তারা এর বাইরে যায় না। আবার প্রথম আয়াতে রাত-দিন চাঁদ-সূর্য সৃষ্টি করেছেন ও তারা নিজ কক্ষ পথে আবর্তন করে বলা হয়েছে। ভাইটি প্রশ্ন করলেন রাতদিন কিভাবে কক্ষপথে আবর্তন করে। সেই আয়াতের দিকে খেয়াল করলেই দেখা যায় তা ২টি অংশে বিভক্ত। যদি দুটি অংশে বিভক্ত না হয়ে একসাথে থাকত তাহলে আপনি বলতে পারতেন যে আল্লাহ রাত-দিনকেও নিজ কক্ষপথে ঘুরছে বলেছেন। তারপর আল্লাহ বলেছেনই তিনি সূর্য ও চাঁদ সৃষ্টিকরেছেন আর এগুলার কারনেই যে রাত দিন হয় সেটা সবাই যানে, তাফসিরে নির্দিষ্ট কক্ষপথে বিচরন বলতে চক্রাকার পথে বিচরন করা বুঝানো হয়েছে, সেই ক্ষেত্রে কথাটি আল্লাহ চাঁদ ও সূর্যে জন্য বলে থাকতে পারেন আবার রাত-দিনে, চাঁদ-সূর্য সবগুলার ক্ষেত্রেও বলে থাকতে পারেন। কারন চাঁদ ও সূর্যের কারনেই রাত ও দিন হয়, আবার রাত ও দিন নির্দিষ্ট সময় পরপর হয় ও ধারাবাহির ভাবে হয় সেটার কারনেও সেদিক থেকে রাতদিনের নির্দিষ্ট কক্ষপথে (চক্রাকারে) বিচরন অযৌক্তিক বলা যায় না। পৃথিবী নিজ কক্ষপথে ঘূর্ণণের কারণেই (আবর্তন বা চক্রাকার)-দিন রাত্রি সৃষ্টি। পৃথিবীর ঘূর্ণণের সাথে রাত্র দিনও ক্রমহারে ঘুরে। অতএব রাত দিন ঘুরে (চক্রাকারে) বা বিচরণ করে।

এই কথা যদি একজন নামকরা বিজ্ঞানী বা মনিষি বলত তাহলে কেউ এই প্রশ্ন করতনা কারন তারা যানে যে এই কথা দিয়ে কাকে মিন করা হয়েছে বা এই কথার হারারো ব্যখ্যা থাকতে পারে। ২য় আয়াতেই আল্লাহ বলেছেন প্রত্যেক জিনিস নিজ নিজ কক্ষপথে ভেসে বেড়ায়, এই আয়াতেকি মানুষ, প্রাণী, গাছ, পাথর, পানি, আগুন, আলো, শক্তি, বায়ু ইত্যাদিকেও বুঝিয়েছে? না, এই আয়াতে শুধু সেগুলোকেই বুঝিয়েছে সেগুলা মহাবিশ্বে অবস্থান করে ও যারা প্রদক্ষিণ করার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু আমার এই ইসলাম বিদ্বেষী ভাইটি কোরআনের এই আয়াতের মূল অর্থ বুঝেও না বুঝার ভান করছে, ইসলাম থেকে মানুষকে বিমুখ করার চেষ্টা করছে, জেনেশুনে কোরআনের অপব্যখ্যা করছে ও আপনাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। যাইহোক, কোরআনে এই বৃত্তাকার পথ কত বড় বা কত ছোট বা কেমন তা উল্লেখ নেই তাই অনায়েশে বলা যায় সূর্যও নিজের যায়গায় ঘোরে বৃত্তাকার পথে যা বিজ্ঞানও আবিষ্কার করেছে। প্রমান- রেফারেন্স ১

আর আপনি যেনে অবাক হবেন যে মহাবিশ্বে প্রায় প্রতিটা জিনিস কোননা কোন জিনিসের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। আসলে সৌরজগতের গ্রহরা যেমন সূর্যের চারদিকে ঘুরে থাকে তেমনি সূর্য নিজের চারিদিকে ঘোরার পাশাপাশি আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের ভেতর দিয়ে নিজস্ব কক্ষপথে গ্যালাক্টিক সেন্টার এর চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। এখানেও কোরআনে যা বলা হয়েছে তা সঠিক প্রমানিত হয়। প্রমান- রেফারেন্স ২

আশা করি উত্তর পেয়ে গেছেন। আমি জানি সে এই উত্তর পেয়েও মানতে চাইবে না কারন সে নিজের সংশয় দুর করার জন্য নয় বরং ইসলামের জন্য বিদ্বেষ ছড়ানোর জন্য কথাগুলো বা প্রশ্নগুলো করেছে।

anil answered 8 মাস ago

তাফসির

والمعنى: أن الكفار معرضون عما خلق في السماء من الشمس والقمر والاستيضاء بنوريهما، والنجوم والاهتداء بها، وحياة الأرض بأمطارها، وعن كونها آية بينة على وجود الصانع ووحدانيته لا يتفكرون فيها ولا يعتبرون بها.
আর অর্থ হলো: যে কাফিররা আসমানে যা সৃষ্টি করা হয়েছে—সূর্য ও চন্দ্র এবং তাদের আলো থেকে উপকৃত হওয়া, আর নক্ষত্রসমূহ ও সেগুলো দ্বারা পথনির্দেশ পাওয়া, আর বৃষ্টি দ্বারা জমিনের জীবিত হওয়া—এসব থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকে; এবং এগুলো যে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্ব ও তাঁর একত্বের সুস্পষ্ট নিদর্শন—এ বিষয়ে তারা চিন্তা করে না এবং শিক্ষা গ্রহণও করে না।

قوله: {وهو الذي خلق الليل والنهار والشمس والقمر كل في فلك يسبحون}
তিনি বলেন: {আর তিনিই রাত ও দিন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে সৃষ্টি করেছেন; প্রত্যেকেই নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটছে}

أي: كل منهما من الشمس والقمر أو منها أي من اليل والنهار والشمس والقمر.
অর্থাৎ: “প্রত্যেক” বলতে সূর্য ও চন্দ্র উভয়কেই বোঝানো হতে পারে, অথবা রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্র—এই চারটিকেই বোঝানো হতে পারে।

و «يسبحون» يجوز أن يكون خبر «كل» على المعنى، و «في فلك» متعلق به.
আর ‘يسبحون’ (সাঁতার কাটে)—এটি ‘كل’ (প্রত্যেক)-এর খবর হতে পারে অর্থের দিক থেকে; এবং ‘في فلك’ (কক্ষপথে) এটিকে সম্পূরকভাবে সংশ্লিষ্ট হতে পারে।

ويجوز أن يكون حالا والخبر «في فلك».
এটিও হতে পারে যে ‘يسبحون’ হলো অবস্থাবাচক (হাল) এবং খবর হলো ‘في فلك’ (কক্ষপথে)।

وكون المضاف إليه يجوز أن يقدر بالأربعة الأشياء المذكورة ذكره أبو البقاء ولم يذكر غيره،
আর মুদাফ-ইলাহি (যার প্রতি ‘كل’ সংযোজিত) চারটি জিনিস (রাত, দিন, সূর্য, চন্দ্র)—এইগুলো হিসেবে নির্ধারণ করা যেতে পারে—এ কথা আবু আল-বাকাআ উল্লেখ করেছেন এবং অন্য কিছু বলেননি।

إلا أن المضاف إليه (الشمس والقمر) وهو الظاهر،
কিন্তু মুদাফ-ইলাহি (যাকে ‘كل’ বোঝায়) হলো সূর্য ও চন্দ্র, এটিই অধিক স্পষ্ট।

لأن السباحة من صفتهما دون (الليل والنهار).
কারণ সাঁতার কাটা (চলমান থাকা) তাদের (সূর্য ও চন্দ্র)-এর গুণ, রাত ও দিনের নয়।

وعلى هذا فيتعذر عن الإتيان بضمير الجمع، وعن كونه جمع من يعقل،
এবং এভাবে ধরলে জমা (বহুবচন) সর্বনাম আনা কঠিন হয়ে পড়ে, এবং আবার এমন বহুবচন আনা (যা বুদ্ধিসম্পন্নদের জন্য ব্যবহৃত হয়) কঠিন হয়।

أما الأول فقيل:প্রথম সমস্যার উত্তরে বলা হয়েছে
:إنما جمع، لأن ثم معطوفا محذوفا تقديره: والنجوم كما دلت عليه آيات أخر،
বহুবচন আনা হয়েছে কারণ এখানে একটি মাহযুফ (লুপ্ত) মুতাআতফ (সংযুক্ত উপাদান) আছে, যার অর্থ এভাবে: “এবং নক্ষত্রসমূহ”, যেমন অন্য আয়াতগুলোর দ্বারা প্রমাণিত।

فصارت النجوم وإن لم تكن مذكورة يعود هذا الضمير إليها.
তাই নক্ষত্রসমূহ—যদিও উল্লেখ করা হয়নি—এই সর্বনামের (يسبحون) প্রত্যাবর্তনস্থল হয়েছে।

وقال الزمخشري :যমাখশারী বলেন:

الضمير للشمس والقمر، والمراد بهما جنس الطوالع مل يوم وليلة جعلوها متكاثرة لتكاثر مطالعها، وهو السبب في جمعها بالشموس والأقمار. انتهى.
সর্বনামটি সূর্য ও চন্দ্রের দিকে ফিরে যায়; এবং এ দুটির দ্বারা প্রতিদিনের উদয় হওয়া বিভিন্ন উদীয়মান পিণ্ডের প্রকার বোঝানো হয়েছে—যা তাদের উদয়ের বহুত্বের কারণে বহু হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। তাই তাদেরকে “সূর্যসমূহ” ও “চন্দ্রসমূহ” বলে বহুবচনে আনা হয়েছে। সমাপ্ত।

والذي حسن ذلك كوته رأس آية.
এটিকে সুন্দর করেছে—এটি একটি আয়াতের শেষাংশ হওয়া।

وقال أبو البقاء :আবু আল-বাকাআ বলেন:

و «يسبحون» على هذا الوجه حال، والخبر «في فلك».এ
অবস্থায় ‘يسبحون’ হলো হাল (অবস্থা) এবং খবর হলো ‘في فلك’।

وقيل: التقدير: وكلها، والخبر «يسبحون» وأتى بضمير الجمع على معنى «كل»
.আরও বলা হয়েছে: تقدير এভাবে: “ও প্রত্যেকটি (كلها)”, এবং খবর হলো ‘يسبحون’, আর ‘كل’ এর অর্থের কারণে বহুবচন সর্বনাম এসেছে।

وفي هذا الكلام نظر من حيث أنه لما جوز أن يكون المضاف إليه شيئين جعل الخبر الجار و «يسبحون» حالا فرارا من عدم مطابقة الخبر للمبتدأ، فوقع في تخالف الحال وصاحبها.
কিন্তু এ কথার মধ্যে ভাবনার জায়গা আছে: কারণ তিনি যখন মুদাফ-ইলাহি দুটি জিনিস (শুধু সূর্য ও চন্দ্র) হওয়ার অনুমতি দিলেন, তখন খবরকে جار-مجـرور (في فلك) বানিয়ে ‘يسبحون’-কে হাল বানালেন—যাতে খবর ও مبتدأ-এর অমিল না হয়—ফলে হাল ও তার অধিকারীর মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হয়ে গেল।

وأما الثاني فلأنه لما أسند إليها السباحة التي هي من أفعال العقلاء جمعها جمع
আর দ্বিতীয় আপত্তির ক্ষেত্রে: কারণ তিনি সাঁতার কাটাকে (যা বুদ্ধিসম্পন্নদের কাজ) তাদের দিকে আরোপ করায়, তাদেরকে আক্লাওয়ান (বুদ্ধিসম্পন্নদের) বহুবচন হিসেবে এনেছে।

https://shamela.ws/book/9108/8228#p1

العقلاء كقوله: {رأيتهم لي ساجدين} [يوسف: ٤] و {أتينا طآئعين} [فصلت: ١١]
বুদ্ধিসম্পন্নদের (অর্থে বহুবচন আনার) মতো—যেমন তাঁর বাণী: {আমি তাদেরকে আমার জন্য সাজ্দাহকারী দেখলাম} [ইউসুফ: ৪] এবং {আমরা আনুগত্যশীল হয়ে এসেছি} [ফুস্সিলাত: ১১]।

قال الزمخشري: যমাখশারী বলেন

:والتنوين في «كل» عوض عن المضاف إليه أي: كلهم.
“كل”-এর তানউইন মুদাফ-ইলাহির পরিবর্তে এসেছে—অর্থাৎ: “তাদের প্রত্যেকেই”।

{في فلك يسبحون} وهذه الجملة يجوز أن يكون محلها النصب على الحال من «الشمس والقمر».
{কক্ষপথে সাঁতার কাটে}—এই বাক্যাংশটি “সূর্য ও চন্দ্র”-এর হাল (অবস্থাবাচক) হিসেবে নস্যবে (নসবে) ধারণ করা যেতে পারে।

فإن قلنا: إن السباحة تنسب إلى الليل والنهار كما نقل عن أبي البقاء في أحد الوجهين يكون حالا من الجميع،
যদি আমরা বলি—যেমন আবু আল-বাকাআ তাঁর এক দৃষ্টিতে বলেছেন—সাঁতার কাটা (অবিরত গমন) রাত ও দিনের প্রতিও আরোপিত হয়, তবে এটি সবগুলোর (রাত, দিন, সূর্য, চন্দ্র) হাল হবে।

وإن كان لا يصح نسبتها إليهما كانت حالا من «الشمس والقمر» وتأويل الجمع قد تقدم.
কিন্তু যদি রাত ও দিনের দিকে তা আরোপ সঠিক না হয়, তবে এটি কেবল “সূর্য ও চন্দ্র”-এর হাল হবে; এবং বহুবচনের ব্যাখ্যা পূর্বেই উল্লেখ হয়েছে।

قال أبو حيان:আবু হাইয়ান বলেন

:أو محلها النصب على الحال من «الشمس والقمر» لأن الليل والنهار لا يصفان بأنهما يجريان في فلك فهو كقولك: رأيت هندا وزيدا (متبرجة).
অথবা এর স্থান নসবে হবে সূর্য ও চন্দ্রের হাল হিসেবে, কারণ রাত ও দিনকে “কক্ষপথে সঞ্চালিত” বলে বর্ণনা করা হয় না।এটি এরূপ: “আমি হিন্দ ও যায়েদকে দেখলাম (সাজসজ্জিত)”—(এখানে হাল কেবল হিন্দের জন্য, দু’জনের জন্য নয়)।

انتهى. وسبقه إلى هذا الزمخشري، يعني أنه قد دل على أن الحال من بعض ما تقدم كما في المثال المذكور،
সমাপ্ত। এবং এ বক্তব্যে তাঁকে পূর্ব করেছেন যমাখশারী—অর্থাৎ, তিনি দেখিয়েছেন যে হাল পূর্বোক্তদের কেবল কিছু অংশের জন্য হতে পারে—যেমন উল্লিখিত উদাহরণে।

قال الزمخشري:যমাখশারী বলেন:

فإن قلت: لكل واحد من القمرين فلك على حدة فكيف قال: {في فلك يسبحون}.
আপনি যদি বলেন: প্রতিটি চাঁদের (অর্থাৎ সূর্য ও চন্দ্রের) আলাদা কক্ষপথ আছে, তাহলে কীভাবে বলা হলো: {কক্ষপথে তারা সাঁতার কাটে}—(একবচন ‘فلك’)?

قلت: هذا كقولهم: كساهم الأمير حلة وقلدهم سيفا أي: كل واحد منهم.
আমি বলব: এটি এর মতো: “আমির তাদেরকে একটি পোশাক পরালেন এবং তাদেরকে একটি তলোয়ার পরালেন”—অর্থাৎ প্রত্যেককে আলাদাভাবে।

والسباحة العوم في الماء، وقد يعبر عن مطلق الذهاب وقد تقدم اشتقاقه في «سبحانك»
.সাঁতার কাটা (السباحة) হলো পানিতে ভেসে চলা; এবং এটি সাধারণ গতিচলন বোঝাতেও ব্যবহার হয়। “سبحانك”-এর স্থানে এর শব্দমূল পূর্বেই উল্লেখ হয়েছে।

ومعنى «يسبحون» يسيرون بسرعة كالسابح في الماء.
আর “يسبحون”-এর অর্থ হলো: তারা দ্রুত গতিতে চলতে থাকে—যেন পানিতে সাঁতার কাটছে।
https://shamela.ws/book/9108/8229#p1

Back to top button