সমতল পৃথিবী ইজমায়ী আকিদা?

- ইসলামে সমতল পৃথিবীর বাস্তবতা কি?
- কোরআন হাদিসের দলিল পৃথিবী সমতল হওয়ার পক্ষে?
- ইসলাম পৃথিবীকে সমতল বলে?
- সমতল পৃথিবী ইজমায়ী আকিদা?
- তাবেঈ ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত সমতল পৃথিবীর বর্ণনার ভুল অনুবাদ
- তাবেঈ ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ (রাহিমাহুল্লাহ) কি পৃথিবীকে সমতল বলেছেন?
- ইমাম কাহতানী আল আন্দালুসি (রাহিমাহুল্লাহ) পৃথিবীকে সমতল বলেছেন!
- কুরআন-সুন্নাহতে কি পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে? – পর্ব ২
- কুরআন-সুন্নাহতে কি পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে? – পর্ব ১
পৃথিবী সমতল মনে করার বিষয়টিকে জোর করে আকিদার মধ্যে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টাকারীদের আর যারা পৃথিবীকে গোলাকার মনে করে তাদের মতকে কুফর বলে অভিহিতকারীদের খণ্ডন।
সারা জীবন বিদয়াতিদের বিরোধিতা করে নিজেই যখন তাদের কিতাব প্রোমোট করে নিজের মতের সমর্থনে বিদ’আতি ইমামের কিতাব থেকে দলিল দেয়।
তাদের পেশকৃত ১ম দলিল
“আল-বাসিত (الباسط) আল্লাহর একটি নাম বলতে বোঝায় তিনি যাকে ইচ্ছা তার রিযিক প্রসারিত করেন এবং তিনি পৃথিবীকে সমতলভাবে সম্প্রসারিত করেছেন, এই কারণেই তিনি তাকে (بساطا) বলেছেন সেই দার্শনিক এবং জ্যোতিষীদের অভিযোগের বিপরীতে যারা বলে যে পৃথিবী গোলাকার এবং সমতল নয়।”
المصدر : أصول الدين – ص 124] [উসুলুদ দ্বীন পৃষ্ঠা. ১২৪]
ইমাম আবু মানসূর আল বাগদাদী (রহঃ) [মৃত: ৪২৯হিজরী] বলেন:
আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, ‘পৃথিবী স্থির ও নিশ্চল। এটি কেবল ভূমিকম্পের সময় নড়ে ওঠে।’ কিন্তু নাস্তিকদের বক্তব্য হলো, ‘পৃথিবী (মহাশূন্যে) ভাসমান।’
তাঁরা (আহলুস সুন্নাহ) এই বিষয়ে ইজমা করেছেন যে, ‘পৃথিবীর চারদিকে প্রান্তসীমা আছে, (অর্থাৎ পৃথিবী গোলাকার তথা বর্তুলাকার নয়,(গোলকের প্রান্তসীমা থাকে না) একইভাবে আসমানেরও ছয় দিক থেকে সীমানা রয়েছে।
তাঁরা আরো ইজমা করেছেন যে, ‘আসমান পৃথিবীর চারপাশে, গোলাকার গঠন নয়।’ কিন্তু অন্যরা দাবী করে, ‘আসমানগুলো গোলাকার গঠন, যা একটি আরেকটির গর্ভে অবস্থিত। আর পৃথিবী হলো এই গোলাকার গঠনের কেন্দ্রস্থল’।”[1]আল ফারকু বাইনাল ফিরাক লিল বাগদাদী
খণ্ডন:
উসুলুদ দ্বীন, ও আল ফারকু বাইনাল ফিরাক লিল বাগদাদী কিতাবের লেখক আব্দুল কাহির আল-বাগদাদী। তার আরেক নামই আবু মানসুর আল-বাগদাদী। তিনি আশআরী ছিলেন।
আব্দুর রহমান বিন সালেহ আল-মাহমুদ “আশআরীদের ব্যাপারে ইবনে তাইমিয়ার অবস্থান” বইয়ের মধ্যে লিখেছেন:
والبغدادي يميزه كتبه خاصة “أصول الدين” إنه ينقل أقوال أصحابه من الكلابية والأِشعرية، ويذكر الخلاف بينهم إن وجد، لذلك فقد يتبادر إلى الناظر أنه مقلد للأشاعرة، وممن رأى هذا الرأي عبد الرحمن بدوي الذي قال: ” لقد كان عبد القاهر البغدادي – بحسب ما لدينا من مؤلفاته – عارضاً لآراء الأشاعرة أكثر من مفكراً أصيلاً، ذا آراء انفرد بها، أو براهين جديدة ساقها” (٥) وهذا الكلام فيه شيء من الحق لكن البغدادي – كما سيأتي – له ترجيحات خاصة تعتبر بمثابة منعطف في تطور المذهب الأشعري، صحيح أنه في غالب المسائل مقلد لشيوخه، لكن ليس فيها كلها.
والبغدادي لا يخالف من سبقه من الأشاعرة في مسائل العقيدة والكلام،
(আব্দুল কাহির) আল-বাগদাদীকে তার বই বিশেষ করে “উসুলুদ দ্বীন” দ্বারা আলাদা করা হয়েছে, যাতে তিনি তার সঙ্গী কাল্লাবিয়্যা এবং আশ’আরিদের বাণী উদ্ধৃত করেছেন এবং তাদের মধ্যে থাকা মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছেন অতএব পর্যবেক্ষকের কাছে মনে হতে পারে যে তিনি আশআরী মুকাল্লিদ। যারা এই মত পোষণ করেন তাদের মধ্যে ছিলেন আব্দুর রহমান বাদাভি, যিনি বলেছিলেন:
আবদুল কাহির আল-বাগদাদি- আমরা তার লেখা থেকে যা পেয়েছি – একজন মৌলিক চিন্তাবিদের থেকে আশ’আরিদের মতের উপস্থাপনকারী বেশি। তার একক মতামত বা নতুন প্রমাণ রয়েছে যা তিনি উপস্থাপন করেছেন।[2]মাযহাবুল ইসলামিইন: ১/৬৭৪
এবং এই বক্তব্যে কিছুটা সত্যতা রয়েছে, কিন্তু বাগদাদী- যেমনটা আসবে – তার বিশেষ প্রাধান্য আছে যা আশাআরী মাযহাবের ক্রমবিকাশের টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হয়।
এটি সত্য যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিনি তার শায়খদের মুকাল্লিদ, তবে তাদের সকল ক্ষেত্রে নয়। আল-বাগদাদি আকিদার মাসায়েল ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী আশআরীদের থেকে আলাদা নয়।[3]কিতাবু মাওকিফি ইবনে তাইমিয়া মিনাল আশারিয়্যাহ : খণ্ড ২ পৃষ্ঠা: ৫৭২ পৃষ্ঠা ( তার সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন: https://shamela.ws/book/12766/552).
فقد عقد الدكتور محمد التميمي في كتابه (مقدمات في علم مقالات الفرق) مطلبا عن أشهر الكتب المؤلفة في علم المقالات ومناهج مؤلفيها.
ডক্টর মুহাম্মাদ আত-তামিমি তার বইতে (মুকাদ্দিমাতু ফি ইলমি মাকালাতুল ফিরক) বিজ্ঞানের নিবন্ধের উপর লেখা সবচেয়ে বিখ্যাত বই এবং তাদের লেখকদের মানহায সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
وذكر فيه كتاب (الفرق بين الفرق) لعبد القاهر البغدادي “ت 429 هـ” وقال عن عقيدته: كان أشعري المذهب، ويدل على ذلك عدة أمور منها:
এতে, তিনি আব্দুল কাহির আল-বাগদাদী (মৃত্যু 429 হিজরি) রচিত বই (আল-ফিরক বাইনাল ফিরক ) উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তার আকিদাহ সম্পর্কে বলেছেন: তিনি আশআরী মাযহাবের ছিলেন এবং এটি বিভিন্ন জিনিস দ্বারা প্রমাণিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:
1ـ اتفاق المترجمين له على نسبته إلى هذا المذهب.
(১) জীবনীকাররা তাকে এই মাযহাবের দিকে নিসবত করতে একমত।
2ـ عرضه لعقيدة الأشعرية في كتابه الفرق بين الفرق على أنها عقيدة أهل السنة والجماعة الفرقة الناجية، ولم يصنف الأشعرية على أنها إحدى الطوائف بل جعلهم هم أهل الحق.
(২) তিনি তার গ্রন্থে (আল-ফিরকু বাইনাল ফিরাক) আশআরী আকিদাকে আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। তবে তিনি আশআরীদেরকে একটি দল হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেননি বরং তাদেরকে আহলুল হক নির্ধারণ করেছেন।
3ـ كتابه “أصول الدين” أكبر دليل على انتسابه إلى هذا المذهب، فقد ألفه على طريقة المتكلمين في تقسيمه لأبوابه، وتقريره لمسائل الاعتقاد على منهج الأشاعرة في مختلف الأبواب. اهـ.
(৩) তাঁর “উসুলুদ-দ্বীন” বইটি এই মাযহাবের সাথে তাঁর সম্পৃক্ততার সবচেয়ে বড় দলিল, তিনি এর অধ্যায়গুলিকে বিভক্ত করে এবং বিভিন্ন অধ্যায়ে আশআরী মানহাযের আকিদার মাসায়েলগুলো সাব্যস্তকরনের জন্য মুতাকাল্লিমিনদের পদ্ধতিতে এটি রচনা করেছেন।
আরো বিস্তারিত দেখুন: https://www.islamweb.net/ar/fatwa/313675/عقيدة-عبد-القاهر-البغدادي-ومنهجه-في-كتابه-الفرق-بين-الفرق
সুতরাং যেসব কিতাবে আশআরি আকিদাকে আহলে সুন্নাহর আকিদা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে, সে কিতাব থেকে কীভাবে আকিদা গ্রহণ করা যেতে পারে?
আজকাল আপনারা দুনিয়াবী বিষয়কে জোর করে আকিদার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করানোর জন্য আশআরী ইমামের থেকে দলিল নিচ্ছেন? আহহা।
২য় দলিল
আল-কাহতানি তার বিখ্যাত কবিতা আল-নুনিয়া থেকে মহান খ্যাতি অর্জন করেছেন, যার নামকরণ করা হয়েছিল তার নামানুসারে, যেখানে তিনি উসূলুদ-দ্বীন সম্পর্কে অনেক মৌলিক বিষয় সংগ্রহ করেছেন।
তিনি সে কবিতায় বলেন:
246- الأرض عند كليهما كروية ***وهما بهذا القول مقترنان
247- والأرض عند أولي النهى لَسطيحة *** بدليل صدق واضح القرآن
248- والله صيرها فراشا للورى *** وبنى السماء بأحسن البنيان
249- والله أخبر أنها مسطوحة *** وأبان ذلك أيما تبيان
‘আর বিচক্ষণ লোকদের নিকট কুরআনের নির্ভুল ও স্পষ্ট দলিল দ্বারা প্রমাণিত পৃথিবী সমতল।
সৃষ্টিকুলের জন্য আল্লাহ পৃথিবীকে বিছানা স্বরূপ বানিয়েছেন।
সর্বোত্তম গঠনে বানিয়েছেন আসমান, কত স্পষ্ট ভাষায় আল্লাহ জানিয়ে দিলেন পৃথিবী সমতল।”[4]আন নুনিয়া আল-কাহতানী: পৃষ্ঠা ৩২-৩৩
জবাব:
আন-নুনিয়া কিতাবকে তো মুতাকাদ্দিমিনদের মধ্যে কেউই গুরুত্ব আরোপ করেনি। সর্বপ্রথম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ সেখান থেকে কবিতার কিছু লাইন উদ্ধৃত করেন। আর মুয়াসসিরিনরা ( সমসাময়িকরা) ইদানীং ব্যাখ্যা করছেন।
এটা এমন কোন কিতাবই না সেখান থেকে আমাদের আকিদা গ্রহণ করতে হবে! যদি তাই হয় তাহলে আপনি ৬৯০ লাইনের কবিতার প্রতিটি লাইনের উপর আকিদা পোষণ করবেন তো? কবিতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অনেক শারঈ বিষয়, যার মধ্যে রয়েছে মৌলিক বিশ্বাস থেকে শুরু করে বিতর্কিত বিষয়, শিষ্টাচার, নৈতিকতা, উপদেশ ইত্যাদি।
তো আপনি এটার সব বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করবেন তো? নাকি নিজের মতের পক্ষে দলিল দেওয়ার জন্য জোর করে আকিদার মধ্যে প্রবেশ করাতে হবে? আর বিপরীত মতকে কুফরি বলতে হবে। এইগুলো জাহালাত নয়তো কি?
আমাদের মুতাকাদ্দিমিন সালাফগণ অনেক আকিদার কিতাব লিখেছেন, কিন্তু তারা পৃথিবী গোলাকার নাকি সমতল এইগুলা বিষয়কে আকিদার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেননি। আমাদের কি আকিদার ইমাম ও কিতাবের অভাব পড়েছে যে এই কিতাব থেকেই আকিদা নিতে হবে?
তাইলে কবিতার এই লাইনগুলো সম্পর্কে কি বলবেন:
٦٥٩- قد عشت مسرورا ومت مخفرا … ولقيت ربي سرني ورعاني
٦٦٠- وأباحني جنات عدن آمنا … ومن الجحيم بفضله عافاني
٦٦١- ولقيت أحمد في الجنان وصحبه … والكل عند لقائهم أدناني
٦٦٢- لم أدخر عملا لربي صالحا … لكن بإسخاطي لكم أرضاني
এইগুলো অনুবাদ পড়ে নিয়েন, সময় নষ্ট করে আমি আর অনুবাদ করলাম না। শুধু একটাই প্রশ্ন: জীবিত ব্যক্তি কেমন এইগুলা দেখে?
এখন আপনি জবাবে বলবেন: আপনি কি ইবনে হাজার ইবনে হাজম ইমাম নববী, ইবনে তাইমিয়া থেকে সবকিছু নেন! যখন আপনি নেন না তখন আমি কেন নেব?
তাহলে উত্তরে বলব: সবকিছু নিই না, তাহলে আপনি বলবেন আমিও তাহলে কাহতানী থেকে সবকিছু কেন নেব?
তাহলে আমি আবার জবাবে বলবো: আপনি এমন একটা বিষয় কাহতানী থেকে আকিদা হিসেবে গ্রহণ করছেন যেটা মুতাকাদ্দিমিনদের মধ্যে কেউই তার আকিদার কিতাবে উল্লেখ করে নি। এটাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হিসেবে উল্লেখ করেনি।
যাই হোক কাহতানীর মুতাকাদ্দিমিনদের থেকে তাওসীক পেশ করবেন ইনশাআল্লাহ বা এমন কিছু বিষয় পেশ কইরেন যে, কাহতানী এবং তার নুনিয়া কবিতা কে নিয়ে মুতাকাদ্দিমিনগণ প্রশংসা করেছেন।
আমি কখনোই কাহতানীর কবিতাকে বাতিল বলছি না বরং আপনি পৃথিবীকে সমতল মনে করা আকিদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে করছেন তাই সেটার খণ্ডন করলাম।
আন নুনিয়্যাতুল-কাহতানী সম্পর্কে “ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব” থেকে:
خاصة أن أبواب العقيدة لا بد أن تكون بتقرير السلف الصالحين ، ولذلك سمعنا عن بعض أهل العلم المعاصرين كالشيخ صالح آل الشيخ عدم الاحتفال بالقصيدة كثيرا في تقرير عقيدة أهل السنة ، وإن كان ذلك لا يعني أن ينصرف طالب العلم عنها بالكلية ، لما سبق من مزاياها.
বিশেষ করে যেহেতু এই আকিদার অধ্যায়গুলি অবশ্যই সালাফে সালিহীনদের থেকে সাব্যস্তকরণ হতে হবে এবং এই কারণে আমরা কিছু (মুয়াসসিরিন) সমসাময়িক আহলুল ইলমদের কাছ থেকে শুনেছি, যেমন শাইখ সালিহ আলুশ-শাইখ,
কবিতাটি আহলুল সুন্নাহর আকিদা সাব্যস্তকরনের জন্য খুব বেশি উদযাপিত বা সম্পাদিত হয় না। যদিও এর অর্থ এই নয় যে, উপরে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যের কারণে তালিবুল ইলমকে এটি সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করতে হবে।
এই কবিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে: https://islamqa.info/ar/answers/161853/نبذة-عن-نونية-القحطاني
৩য় দলিল
الارض مسطحة بالاجماع
مسلمة بن القاسم الأندلسي (ت353هـــ) : يقول في كتابه الرد على أهل البدع وبيان أصول السنة الذي طبع حديثا ( دار التوحيد للنشر ) ناقلا لإجماع أهل السنة : ( وإن السموات طباقا بعضها فوق بعض والأرض طباق بعضها فوق بعض سطحية ) اهـــ
পৃথিবী ইজমায়ী হিসেবে সমতল। মাসলামা বিন আল-কাসিম আল-আন্দালুসি (মৃত্যু 353 হিঃ): তিনি “আর-রদ্দু আলা আহলিল বিদায়ি ওয়া বায়ানী উসুলুস-সুন্নাতি” তার বইয়ে বলেছেন যা সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে (দারুল- তাওহিদ পাবলিশিং হাউস), আহলুল সুন্নাহ ইজমা প্রকাশ করেছে: আসমান সমূহ একে অপরের উপরে স্তরযুক্ত, এবং পৃথিবী একে অপরের উপরে স্তরযুক্ত, সমতল।
জবাব:
মাসলামা ইবনুল কাসিম আন্দালুসী তিনি দ্বয়ীফ এবং মুশাব্বিহ।
তার সম্পর্কে হাফিজ যাহাবী রহিমাহুল্লাহ বলেন:
8528 – مسلمة بن القاسم القرطبي. كان في أيام المستنصر الأموي. ضعيف. وقيل: كان من المشبهة. (2 [يروى عن أبي جعفر الطحاوي، وأحمد ابن خالد بن الحباب] 2).
اميزان الاعتدال – الذهبي – ج ٤ – الصفحة ١١٢
মাসলামা ইবনুল কাসিম আল-কুরতুবী। তিনি ছিলেন উমাইয়াদের আল-মুস্তানসিরের আমলের। সে দূর্বল।এবং বলা হয়েছিল: তিনি মুশাব্বিহ ( সাদৃশ্যস্থাপনকারী) ছিলেন।[5]কিতাবু মিজানুল ইতিদাল: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১২
মুশাব্বিহ তথা সাদৃশ্যস্থাপনকারী ব্যক্তি বলে: আমি আল্লাহ তা‘আলার অবতরণ, আল্লাহ তা‘আলার হাত ইত্যাদির দ্বারা তা-ই বুঝি যা সৃষ্টিজীবের রয়েছে ইত্যাদি। (নাউযুবিল্লাহ)
তাহলে এমন ব্যক্তির আকিদার থেকে কীভাবে দলিল গ্রহণ করা যেতে পারে? প্রথমত তিনি দূর্বল তার উপর মুশাব্বিহ, আহহা।
নিজেদের মতকে জোর করে আকীদার মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়ার জন্য আপনাদের আজকাল এ ধরনের ব্যক্তির থেকেও দলিল নিতে হচ্ছে?
পরিশেষে: যারা পৃথিবী সমতল এ বিষয়টিকে জোর করে ইজমায়ী আকিদার মধ্যে প্রবেশ করানোর অপচেষ্টা করেছিলেন, বা আকিদার কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে উল্লেখ করেছিলেন তাদের খণ্ডন উপরে সুস্পষ্ট। আলহামদুলিল্লাহ।
বিষয়টা দুনিয়াবি বিষয়, যার কাছে যে ইমামের দলিলটা শক্তিশালী মনে হবে সে সেটা মানবে, মানবজাতিকে দিক নির্দেশনার জন্য কুরআন নাজিল হয়েছে, আমাদেরকে Geography, Astronomy শেখাতে নয়। যেগুলো আয়াত দিয়ে তারা সমতল প্রমাণ করার চেষ্টা করছে সেগুলো আয়াতগুলোতে ‘Shape’ ও ‘Flat’ শব্দ দুটির কোনটিই ব্যবহার করা হয়নি। কোন আয়াতের মধ্যেই ( شكل ) শব্দ আসেনি যদি আসতো তাহলে পৃথিবীর Shape নিয়ে মুতাআখখিরিনরা গোলাকার হওয়ার ইজমা দাবি করতো না। তারা কি আপনাদের চাইতে সালাফদের কম চিনতো?
যাই হোক যদি আপনার কাছে যদি মনে হয় মুতাকাদ্দিমিন সালাফরাই এক্ষেত্রে সঠিক তাহলে তাদেরটা মানুন। আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এর বিপরীতে গোলাকার মত পোষণকারীদের কুফরে লিপ্ত বা কালামী এইগুলা বলা থেকে বিরত থাকবেন।
দুনিয়াবি অনেক বিষয়ে সালাফরা সবসময় হুজ্জত নয় এটাও মাথায় রাখতে হবে। আর এখন আসি কুরআনের ঐ আয়াত গুলোর তাফসীরের বিষয়ে, যেগুলো মুতাকাদ্দিমিন মুতাআখখিরিনরা তাদের তাফসিরের কিতাবে উল্লেখ করেছেন। সেগুলোতে দুই ধরনের মতই পাওয়া যায়। যাদের মত ভালো লাগে তাদেরটা মানুন।
যে আয়াতে আল্লাহ বলেছেন আমি জমিনকে বিছিয়ে দিয়েছি বা পৃথিবীকে সমতল করেছি। এই আয়াত গুলো যদি পৃথিবীর আকারই বুঝাইতো তাহলে একটা ইমামও এইটার বিরোধীতা করতো না, নতুন করে তারা অন্যান্য আয়াতের মাধ্যমে পৃথিবী গোলাকার প্রমাণ করার চেষ্টা করতো না। ইবনে তাইমিয়া ইবনে হাযম ইজমার দাবি করতো না।
আমি আগেও বলেছিলাম যে, আল্লাহ জমিনকে বিছিয়ে দিয়েছে এর মানে যে পৃথিবীর আকার গোলাকার হতে পারবে না এমনটা কিন্তু নয়। আপনি আমার ভাইবেন না আমি পৃথিবীকে ফুটবলের মতো গোলাকার ভাবি। এগুলো ভাবার প্রয়োজনও মনে করি না। শুধু বোঝানোর জন্য বললাম।
যাই হোক আপনার যেটা ভালো লাগে মানুন। বিজ্ঞান পৃথিবী মহাকাশ নিয়ে কি বললো না বললো এইগুলা জেনে আমার কোন লাভ নেই আবার পৃথিবী গোলাকার নাকি সমতল এইগুলা জেনে আমার কোন ফায়দাও নেই। এগুলো নিয়ে ভাবা মানে সময় নষ্ট।
আমার মূল খণ্ডন তাদের জন্য ছিল যারা এটাকে জোর করে আকিদার অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করছে। মূলতঃ আশআরিরাই এইটাকে আকিদার অন্তর্ভুক্ত করেছে যেটা আমরা উপরে দেখতে পেলাম।
تفسير ابن عرفة (2)800 وأجيب بأن ذكرها بالمطابقة أولى من ذكرها بالتضمن والالتزام، لأنها مشاهدة مرئية ومذهب المتقدمين أنها بسيطة ومذهب المتأخرين أنها كروية . قال الغزالي في النهاية ولا ينبني على ذلك الكفر ولا إيمان.
আমি উত্তর দিচ্ছি যে এটিকে শামিল করা এবং বাধ্যবাধকতা দিয়ে উল্লেখ করার চেয়ে সামঞ্জস্যের সাথে উল্লেখ করা উত্তম। কারণ এটি একটি দৃষ্টিগোচর পর্যবেক্ষণ, মুতাকাদ্দিমিনদের মাযহাব হলো এটি সমতল, এবং মুতাআখখিরিনদের মাযহাব হলো এটি গোলাকার। ইমাম গাজ্জালি শেষে বলেছেন: এই বিশ্বাসের অর্থাৎ পৃথিবীর গোলাকার নাকি সমতল এই বিশ্বাসের উপর ঈমান বা কুফর নির্ভর করে না।[6]তাফসিরে ইবনে আরাফাহ, ২/৮০০
কারণ এইগুলা আকিদার কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। দুনিয়াবি বিষয়।
ওয়া মা আলাইনা ইল্লাল-বালাগ।
Footnotes
| ⇧1 | আল ফারকু বাইনাল ফিরাক লিল বাগদাদী |
|---|---|
| ⇧2 | মাযহাবুল ইসলামিইন: ১/৬৭৪ |
| ⇧3 | কিতাবু মাওকিফি ইবনে তাইমিয়া মিনাল আশারিয়্যাহ : খণ্ড ২ পৃষ্ঠা: ৫৭২ পৃষ্ঠা ( তার সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন: https://shamela.ws/book/12766/552). |
| ⇧4 | আন নুনিয়া আল-কাহতানী: পৃষ্ঠা ৩২-৩৩ |
| ⇧5 | কিতাবু মিজানুল ইতিদাল: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১২ |
| ⇧6 | তাফসিরে ইবনে আরাফাহ, ২/৮০০ |



