
- ইসলামে সমতল পৃথিবীর বাস্তবতা কি?
- কোরআন হাদিসের দলিল পৃথিবী সমতল হওয়ার পক্ষে?
- ইসলাম পৃথিবীকে সমতল বলে?
- সমতল পৃথিবী ইজমায়ী আকিদা?
- তাবেঈ ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত সমতল পৃথিবীর বর্ণনার ভুল অনুবাদ
- তাবেঈ ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ (রাহিমাহুল্লাহ) কি পৃথিবীকে সমতল বলেছেন?
- ইমাম কাহতানী আল আন্দালুসি (রাহিমাহুল্লাহ) পৃথিবীকে সমতল বলেছেন!
- কুরআন-সুন্নাহতে কি পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে? – পর্ব ২
- কুরআন-সুন্নাহতে কি পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে? – পর্ব ১
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার হাবিব মুহাম্মদ ﷺ এর উপর।
ইসলাম পৃথিবীকে সমতল বলে এই মত এর দলিল প্রমাণাদি যাচাই নিয়ে এটি আমাদের ৩য় পর্ব। আশা করি পূর্বের পর্বগুলো পড়েছেন, চলুন তাহলে এই পর্ব শুরু করি।
পৃথিবীকে ঘিরে রেখেছে জাবালে কাফ? (৯ম দলিল)
حَدَّثَنَا أَبُو يَعْلَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ أَبَانَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ صَالِحِ بْنِ حَيَّانَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، قَالَ: «ق جَبَلٌ مُحِيطٌ بِالْأَرْضِ مِنْ زُمُرِّدَةٍ عَلَيْهَا كَنَفَا السَّمَاءِ»
আব্দিল্লাহ বিন বুরাইদাহ রহিমাহুল্লাহ বলেন: ” মরকত মণি দিয়ে তৈরি পৃথিবীকে ঘিরে রেখেছে জাবালে কাফ (Mount Qaf) যার উপরে আকাশের (আবরণ) ছাউনী রয়েছে।”
[ কিতাবুল আজিমাতি লি আবীশ শাইখ আসবাহানী হাদীস: ১০১০১০ খন্ড ৪, পৃষ্ঠা নাম্বার: ১৪৮৯ ]
জবাবঃ
উক্ত সনদের একজন রাবী রাবী: সলিহ বিন হাইয়ান, তিনি দূর্বল।
أبو أحمد بن عدي الجرجاني : عامة ما يرويه غير محفوظ
أبو بشر الدولابي : ليس بثقةআবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানি: সাধারণভাবে, তিনি যা বর্ণনা করেন তা সংরক্ষিত নয়।
আবু বিশর আল-দুলাবি: তিনি বিশ্বস্ত নন।
أبو حاتم الرازي : ليس بالقوي هو شيخ
أبو حاتم بن حبان البستي : يروي عن الثقات أشياء لا تشبه حديث الأثبات لا يعجبني الاحتجاج به إذا انفرد
أبو دواد السجستاني : ضعيفআবু হাতেম আল-রাজি: তিনি শক্তিশালী নন, তিনি শায়েখ।
আবু হাতিম বিন হিব্বান আল-বুস্তি: তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের কাছ থেকে এমন কিছু বর্ণনা করেন যেগুলি প্রমাণিত হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয় যদি সেগুলি বিচ্ছিন্ন হয় তবে আমি তা প্রমাণ হিসাবে ব্যবহার করতে পছন্দ করি না।
আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি: দুর্বল।
أحمد بن حنبل : انقلب على زهير بن معاوية اسم صالح بن حيان فقال واصل بن حيان
أحمد بن شعيب النسائي : ليس بثقة
أحمد بن صالح الجيلي : جائز الحديث يكتب حديثه، وليس بالقويআহমাদ বিন হাম্বল: জুহাইর বিন মুয়াবিয়ার নাম ছিল সালিহ বিন হাইয়ান, তাই তিনি বলেছেন: ওয়াসিল বিন হাইয়ান।
আহমদ বিন শুয়াইব আল-নাসায়ী: তিনি বিশ্বস্ত নন।
আহমাদ বিন সালিহ আল-জিলি: জায়িজুল হাদীস তার হাদীস লিখা রাখা হয় কিন্তু তা শক্তিশালী নয়।
إبراهيم بن إسحاق الحربي : له أحاديث منكرة
ابن حجر العسقلاني : ضعيفইব্রাহিম বিন ইসহাক আল-হারবী: তার হাদীস গুলো মুনকার।
ইবনে হাজার আল-আসকালানী: দুর্বল।
الدارقطني : ليس بالقوي وسماه زهير بن معاوية واصل بن حيان ووهم في ذلك
দারাকুতনী: তিনি শক্তিশালী নন। তিনি তার নাম রাখেন জুহাইর বিন মুয়াবিয়া ওয়াসিল বিন হাইয়ান। তার মধ্যে
বিভ্রম রয়েছে।
সোর্চ[1]https://hadith.islam-db.com/narrators/حبان-بن-علي
যদি উপরোক্ত কওলটিক বিশুদ্ধ ধরেও নিই তবুও এইটা কোন দলিল নয় এবং দলিল হিসেবে ব্যবহার করা জায়েজ নয়। তাবেঈর কওল হুজ্জত নয়। কারণ কুরআন এবং হাদিস এর কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায় না।
القول بأن (ق) جبل يحيط بالأرض قول باطل لا يصح ، وليس في القرآن الكريم ولا في السنة النبوية ما يدل على وجود هذا الجبل ، فلا يجوز أن ينسب ذلك إلى الدين ولا إلى القرآن الكريم ، ولعل هذا القول هو من الإسرائيليات التي توسع بعض الناس في التحدث بها .
বলা হয় যে, পৃথিবীকে ঘিরে রেখেছে জাবালে কাফ , এই কওলটি বাতিল, শুদ্ধ নয়, এবং পবিত্র কুরআনে বা নবীর সুন্নাতে এমন কিছুই নেই যা এই পর্বতের অস্তিত্বের ইঙ্গিত দেয়। এটাকে দ্বীন এবং কুরআনুল কারিমের প্রতি নিসবত করা জায়েজ নয় এবং সম্ভবত এই প্রবাদটি ইসরায়েলি প্রবাদগুলির মধ্যে একটি যা কিছু লোক ব্যাপকভাবে বলেছে।[2]ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব প্রশ্ন ২২২৭৫০ আরবী সংক্ষিপ্ত
যখন বর্ণনাটাই বিশুদ্ধ নয় তখন এখান থেকে পৃথিবীর সমতল হওয়ার বিষয়টা কিভাবে প্রমাণিত হয়? আর এখানে সমতল হওয়া না হওয়া নিয়ে কোন কিছুই উল্লেখ নেই।
জবাব: (সংকলন ও অনুবাদ): ইকরামুজ্জামান রুকন
পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছর? (১০ম দলিল)
ইসলামে পৃথিবী সমতল তা প্রমান করতে নিন্মোক্ত হাদিসটিও পেশ করা হয়, উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছর করে দিয়েছেন। পূর্ব দিকের একশ বছর, সেখানে কোনো জীবই বাস করে না। কোন জ্বীন, কোন মানুষ, কোন পশু এবং কোন গাছ নেই। আর পশ্চিমে একশ বছর একই অবস্থা। এবং তারপর তিনশত (বছর) পূর্ব এবং পশ্চিমের মাঝামাঝি, যেখানে জীবগুলো বাস করে।”[3]Tafsir al-Qur’an al-‘Atheem Musnadan ‘an Rasool Allaah ﷺ wa’l-Sahabahu wa’l-Tabi’een , تفسير القرآن العظيم مسنداً عن رسول الله صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين
জবাবঃ
হাদিসটি হল
١٢١٠١ – حدثنا أبي، ثنا أبو صالح كاتب الليث، حدثني الليث، حدثني خالد بن يزيد عن سعيد بن أبي هلال عن عمر بن عبد الله مولى غفرة أن كعبا قال لعمر بن الخطاب ألا أحدثك عن علو الجبار قال عمر بلى فقال: إن الله جعل مسيرة ما بين المشرق والمغرب خمسمائة سنة، فمائة سنة في المشرق، لا يسكنها شيء من الحيوان، لا جن ولا إنس ولا دابة ولا شجرة ومائة سنة في المغرب بتلك المنزلة، وثلاثمائة فيما بين المشرق والمغرب يسكنها الحيوان.
উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছর করে দিয়েছেন। পূর্ব দিকের একশ বছর, সেখানে কোনো জীবই বাস করে না। কোন জ্বীন, কোন মানুষ, কোন পশু এবং কোন গাছ নেই। আর পশ্চিমে একশ বছর একই অবস্থা। এবং তারপর তিনশত (বছর) পূর্ব এবং পশ্চিমের মাঝামাঝি, যেখানে জীবগুলো বাস করে।”
উক্ত হাদিসটির সনদে আবু সালেহ কাতিবুল লাইস দয়ীফ, দেখুন –
- 16/39 كتاب ديوان السنة – قسم الطهارة
- كتاب التبيان في تخريج وتبويب أحاديث بلوغ المرام 3/263
- كتاب روضة الممتع في تخريج أحاديث الروض المربع 1/367
- كتاب المطالب العالية محققا 4/49
এই সনদে আরেকজন রয়েছে ওমর ইবনে আব্দুল্লাহ মাওলা গাফরা, তিনিও যয়িফ রাবী। দেখুন –
- كتاب الكامل في ضعفاء الرجال6/68
- كتاب موسوعة أقوال الإمام أحمد بن حنبل في رجال الحديث وعلله 3/76
- كتاب الجامع لكتب الضعفاء والمتروكين والكذابين 11/194
- كتاب المطالب العالية محققا 14/64
জবাব দিয়েছেন: আশরাফুল নাফিজ
সূরা গাশিয়া ও তাবেঈর যুক্তি (১১তম দলিল)
কুরআনে পৃথিবীকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সমতল করেছেন বলেছেন
« وَ اِلَی الۡاَرۡضِ كَیۡفَ سُطِحَتۡ »
এবং ভূতলের দিকে যে, কিভাবে ওটাকে সমতল করা হয়েছে? (সূরা নং ৮৮ আয়াত ২০)
তাবেঈ মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহতো সমতলের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, পৃথিবী যদি বলের মতো হতো, তাহলে ভূপৃষ্ঠে কোন পানি থাকতো না।
জবাবঃ
কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,
তবে কি তারা উটের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না, কীভাবে তা সৃষ্টি করা হয়েছে?
আর আকাশের দিকে, কীভাবে তা ঊর্ধ্বে স্থাপন করা হয়েছে?
আর পর্বতমালার দিকে, কীভাবে তা স্থাপন করা হয়েছে?
আর যমীনের দিকে, কীভাবে তা বিস্তৃত করা হয়েছে?
– সুরা গাশিয়া আয়াত ১৭-২০
আল্লাহ দৃষ্টিপাত করার কথা উল্লেখ করেই এই টপিক শুরু করেছেন। কাদের সাপেক্ষে দৃষ্টিপাত? অবশ্যই মানুষের।
মানুষ খালি চোখে উটও দেখতে পারে, পর্বতও দেখতে পারে, আকাশ যে উপরে তাও দেখতে পারে, কিন্তু সম্পূর্ণ পৃথিবীকে দেখতে পারে? না তো!
তাহলে এই আয়াতে আর্দ দ্বারা কি উদ্দেশ্য? আমরা খালি চোখে যা দেখি তাই না? তাহলে আমরাতো খালি চোখে আমাদের সর্বোচ্চ দৃষ্টি সীমা পর্যন্ত খণ্ডিত ভূমির অংশকে সমতলই দেখি!
তাহলে এটা দ্বারা কি পুরো পৃথিবীর আকার সমতল তা প্রমাণিত হয়?
এটা দেখুন তাহলে আশা করি আরো ভালোভাবে বুঝতে পারবেন ইনশাআল্লাহ – The Quran says that Earth is FLAT? | Arabic101
ইমাম ইবনে মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ [২৪৫-৩২৪ হিজরী] সূরা নূহ এর ১৯ নং আয়াতের তাফসীরে বলেন,
“لو كانت الأرض كروية لما استقر الماء عليها.”
“পৃথিবী যদি বলের মতো (গোলাকার) হতো, তবে ভূপৃষ্ঠে কোন পানি থাকতো না।”[4]https://shamela.ws/book/23632/2622#p1
উক্ত রেওয়ায়েতের সনদটিতে ইবনে আতিয়ার মৃত্যু ৫৪২ আর ইবনে মুজাহিদের মৃত্যু ৩২৪। দুজনের সময়ের মাঝে অনেক বড় গ্যাপ রয়েছে সেহেতু সনদ বিচ্ছিন্ন।
এছাড়া এটা যদি সহিহও হত তাহলেও কিছুই প্রমাণিত হত না কারণ তখন অনেকেই পৃথিবীকে সমতল বিশ্বাস করতেন। বিশেষ করে বিভিন্ন ইজরায়েলি রেওয়ায়েতের কারণে এর প্রভাব আরো অনেক বেশি বেড়ে যায়।
উক্ত যুক্তির কাউন্টারে এই যুক্তিও দেওয়া যায়, সমতলবাদীদের মতে সুর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর উপরে, এখন পৃথিবীর উপরে থাকা সত্ত্বেও যদি চন্দ্র ও সূর্য যদি পৃথিবীতে না পরে যায়, অথবা সূর্য গোল হওয়া সত্ত্বেও তা হতে যদি আগুন নিচে না পড়ে যায় তাহলে পৃথিবী গোল হলে তার থেকে পানি কি কারণে নিচে পরে যেতে হবে?
জবাব দিয়েছেন: আশরাফুল নাফিজ
দাহাহা দিয়ে কি বুঝায়? (দলিল ১২)
সূরা নাযিয়াত আয়াত ৩০ এ (দাহাহা) যে শব্দটা ইউজ হয়েছে বিভিন্ন তাফসীর যেমন তাবারী কুরতুবী ইত্যাদিতে একে (সমতল,চ্যাপ্টা) বলা হয়েছে। এর দ্বারা কি ক্লাসিকাল স্কলারেরা চ্যাপ্টাই মনে করতেন তা প্রমানিত হয়? আর এই আয়াতটায় এইটা বলারো সুযোগ নেই যে এটা মানুষের দৃষ্টি সাপেক্ষ। কারণ এই আয়াতটা মহাবিশ্ব সৃষ্টির একটা স্টেপ হিসাবে ইউজ হইছে। দাহা হা শব্দটার মূল অর্থ কি উট পাখির ডিম? অবশ্যই না, বিভিন্ন তাফসীর সমূহে আমরা دحوا: بسطته দাহাহা অর্থ বাসাতা পাই। বাসাতা অর্থ কোন চাদরকে প্রসারিত করা অর্থাৎ সমতল কোন কিছুকে প্রসারিত করা। এখন যুক্তি হিসাবে কেউ হয়ত বলবে একটা বেলুনও তো প্রসারিত করা যায় (যেহেতু পৃথিবী গোলাকার) । কিন্তু بسط শব্দটা শুধু চ্যাপ্টা (যেমন চাদর বা কাপড়) কোন জিনিসকে প্রসারণ করার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা হয়৷
জবাবঃ
দাহাহার অর্থ উট পাখির ডিম অর্থ করা আমাদের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ এটা নতুন করে অর্থ করা হয়েছে যা আদৌ গ্রহণযোগ্য না, না সালফে সালেহিনদের বুঝ অনুসারে, না বিজ্ঞান অনুসারে, না প্রাচীন আরবি ভাষা অনুসারে। অর্থাৎ দাহাহা দিয়ে পৃথিবীকে গোল প্রমাণ করার থিওরি সম্পূর্ণ ভুল।
দাহা এর ধাতু “দাহউন” মানে নিছকই আয়তন/অঞ্চল বৃদ্ধি করা বা কোনোকিছুকে সৃষ্টি করা বা কোনোকিছুকে বিন্যস্ত করা। এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো “রকম” এর প্রসারণ উদ্দেশ্য হয় না, বরং যেকোনো রকম এর প্রসারণই উদ্দেশ্য হতে পারে।
প্রাচীন ভাষাবিদরা উট পাখির সাথে সম্পর্কিত একটা অর্থ করেছেন, কিন্তু তা উট পাখির ডিম নয় এবং আপনি দাহাহার যেইরকম প্রসারণের অর্থ করছেন সেরকম কোন আলেম এমনকি কোন ভাষাবিদগণদের কেউই এমন অর্থও করেন নি। মানে এর দ্বারা শুধু চাদর বা কাপড় বা সমতল কিছুকে প্রসারণ করাকে বুঝানোর অর্থ যেটা আপনি করছেন।
দাহউন কে সংজ্ঞায়িত করা হয় “بسط” দ্বারা।
(دَحَوَ) الدَّالُ وَالْحَاءُ وَالْوَاوُ أَصْلٌ وَاحِدٌ يَدُلُّ عَلَى بَسْطٍ وَتَمْهِيدٍ[5]https://shamela.ws/book/21710/841
আর بسط দ্বারা সাধারণভাবে যেকোনো ধরনের বিস্তৃতি অর্থাৎ অঞ্চল বৃদ্ধি উদ্দেশ্য হয়।
(بَسَطَ) الْبَاءُ وَالسِّينُ وَالطَّاءُ أَصْلٌ وَاحِدٌ، وَهُوَ امْتِدَادُ الشَّيْءِ، فِي عِرَضٍ أَوْ غَيْرِ عِرَضٍ[6]https://shamela.ws/book/21710/245
প্রাচীন ব্যাকরণবিদ বা ভাষাবিদগণ ‘দাহউন’ এর একটি অর্থ করেছেন এমন স্থান যেখানে উট পাখি নিজের সুবিধা মত মাটিকে খুরে নরম বা গর্ত বা ডিম পাড়ার পর রাখার মত উপযোগী করে ডিম পাড়ে। অন্য বহু প্রাণীদের ক্ষেত্রেও এই শব্দ ব্যবহার হয় যেখানে তারা তাদের নিজেদের বসবাসের (ভূমির সাথে সংযুক্ত বাসস্থান) স্থানকে নিজের সুবিধামতো থাকার জন্য বানিয়ে সেখানে থাকে। অর্থাৎ এর দ্বারা বসবাসের উপযোগী সম্প্রসারণ বুঝায়। এর জন্য পৃথিবীকে সমতল হওয়া বাধ্যতামূলক নয়।
বিস্তারিত দেখতে পারে –
- كتاب المحكم والمحيط الأعظم 3/488
- كتاب مجمع بحار الأنوار 2/154
- كتاب المحيط في اللغة 3/180
- كتاب أساس البلاغة 1/281
- كتاب الصحاح تاج اللغة وصحاح العربية 6/2334
কিছু কথা না বললেই নয়, কোরআন পৃথিবীর আকার সম্পর্কে সুস্পষ্ট ভাবে কিছু বলে না, কুরআন এই ক্ষেত্রে নিউট্রাল পয়েন্টে রয়েছে বলে আমার ব্যক্তিগত ভাবে মনে হয়। কিন্তু কোরআন যে সুস্পষ্ট করে গোল বা সমতল বলে না এতে কম বেশি প্রায় ভাষাবিদ ও মুফাসসিরগণ আশা করি সহমত পোষণ করতে পারেন। কিন্তু কেন আল্লাহ সুস্পষ্ট করে কুরআনে পৃথিবীর আকার সম্পর্কে কিছু বলেন নি সেটা একমাত্র আল্লাহই ভালো জানেন। হয়ত এটা নিয়ে বহু বিতর্ক রয়েছে তাই, হয়ত পৃথিবী প্রকৃত অর্থে সম্পূর্ণ গোলাকৃতির নয় তাই, সেটা আল্লাহই ভালো জানেন।
আল্লাহ যদি পৃথিবীকে গোল বলে দিতেন তাহলে হয়ত এখন অনেকে ভুল বের করে দাবি করতো যে বিজ্ঞান বলে পৃথিবী বাস্তবে সম্পূর্ণ গোল নয়, আমরা ভূ-পৃষ্ঠ ও সমুদ্রের তলদেশের জমিকে বিবেচনায় আনলে পৃথিবী আসলেই সম্পূর্ণ গোল নয়, পৃথিবীর কিছু অংশ গোল, কিছু অংশ চাপা, কিছু উচুতো আবার কিছু নিচু, সাগরে যেমন গভির গভির খাঁদ রয়েছে তেমনই ভুপৃষ্ঠে অনেক উচু উচু পাহাড় রয়েছে, সেহেতু কোরআনে ভুল রয়েছে। মস্তিষ্কহীনগণ এই অভিযোগও আনতে পারতো। তাদের কাছে কুরআন যাই বলুক না কেন সেটাতেই সমস্যা, যদিও তারা তাদের বার বার পরিবর্তন হওয়া বিজ্ঞান দিয়েও আজ পর্যন্ত কুরআনকে ভুল প্রমাণিত করতে পারে নি।
যাইহোক অনেকে বিভিন্ন ভাবে ব্যাখ্যা করে কুরআন পৃথিবীকে অনেকটা গোলাকৃতির ইঙ্গিত করে বলে মতামত দিয়েছেন, যেমন পাগড়ির ব্যখ্যাটা ইবনে তাইমিয়া (রহ) প্রথম করেছিলেন সম্ভবত, তারপর ইবনে হাজম (রহ) কিছু আয়াতের ভিত্তিতে পৃথিবী গোল এই মত দিয়েছিলেন। তারপর ইমাম আহমদের অনুসারীদের ২য় প্রজন্ম, আলবানী (রহ), ইবনুল কায়্যিম (রহ), উসাইমীন (রহ), আত-তাহির বিন আশুর (রহ), ইবনুল খাতিব (রহ), আবু আল-ফারাজ ইবনে আল-জাওজি (রহ), আবু মুহাম্মদ ইবনে হাজিম (রহ), শেখ আল-শানকীতি (রহ), ইমাম আবু ইয়ালা (রহ), ইমাম ফখরুদ্দীন রাযি (রহ), শেইখ বিন বায (রহ) সহ আরো বহুজনই পৃথিবী গোল হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
জবাব দিয়েছেন: আশরাফুল নাফিজ
Footnotes
| ⇧1 | https://hadith.islam-db.com/narrators/حبان-بن-علي |
|---|---|
| ⇧2 | ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব প্রশ্ন ২২২৭৫০ আরবী সংক্ষিপ্ত |
| ⇧3 | Tafsir al-Qur’an al-‘Atheem Musnadan ‘an Rasool Allaah ﷺ wa’l-Sahabahu wa’l-Tabi’een , تفسير القرآن العظيم مسنداً عن رسول الله صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين |
| ⇧4 | https://shamela.ws/book/23632/2622#p1 |
| ⇧5 | https://shamela.ws/book/21710/841 |
| ⇧6 | https://shamela.ws/book/21710/245 |




