কোরআন হাদিসের দলিল পৃথিবী সমতল হওয়ার পক্ষে?
ইসলাম পৃথিবীকে সমতল বলে এই মর্মে দলিলগুলো যাচাই - পর্ব ২

- ইসলামে সমতল পৃথিবীর বাস্তবতা কি?
- কোরআন হাদিসের দলিল পৃথিবী সমতল হওয়ার পক্ষে?
- ইসলাম পৃথিবীকে সমতল বলে?
- সমতল পৃথিবী ইজমায়ী আকিদা?
- তাবেঈ ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত সমতল পৃথিবীর বর্ণনার ভুল অনুবাদ
- তাবেঈ ওয়াহব বিন মুনাব্বিহ (রাহিমাহুল্লাহ) কি পৃথিবীকে সমতল বলেছেন?
- ইমাম কাহতানী আল আন্দালুসি (রাহিমাহুল্লাহ) পৃথিবীকে সমতল বলেছেন!
- কুরআন-সুন্নাহতে কি পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে? – পর্ব ২
- কুরআন-সুন্নাহতে কি পৃথিবীকে সমতল বলা হয়েছে? – পর্ব ১
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম।
সকল প্রশংসা আল্লাহ তা’আলার। সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তার হাবিব মুহাম্মদ ﷺ এর উপর।
ইসলাম পৃথিবীকে সমতল বলে এই মত এর দলিল প্রমাণাদি যাচাই নিয়ে এটি আমাদের ২য় পর্ব। আশা করি পূর্বের পর্বটি পড়েছেন, চলুন তাহলে এই পর্ব শুরু করি।
জান্নাত জাহান্নাম (৫ম দলিল)
সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন ছালাম থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন,
“জান্নাত আকাশের উপরে, আর জাহান্নাম জমিনের নীচে।”
বর্ণনা করেছেন মুহাদ্দিছ হাকিম, নং ৮৬৯৮, হাকিম সনদটিকে সহীহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবী তার সাথে সহমত পোষণ করেছেন।
وروى الحاكم (8698) عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ ، قَالَ: ” إِنَّ الْجَنَّةَ فِي السَّمَاءِ ، وَإِنَّ النَّارَ فِي الْأَرْض ” وصححه الحاكم ووافقه الذهبي
বিশ্বাস করতে হবে যে, জান্নাত এবং জাহান্নাম সত্য
‘বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে যে, জান্নাত সত্য এবং বাস্তব, আর জাহান্নামও সত্য এবং বাস্তব, যা উভয়ই ইতঃপূর্বে সৃষ্টি করা হয়েছে। জান্নাত সাত আসমানের উপর, যার ছাদ আল্লাহ তা’আলার আরশ। আর অন্য দিকে জাহান্নাম সপ্তম পৃথিবীর তলদেশে এবং তার অভ্যন্তরে [নীচে] অবস্থিত। জান্নাত জাহান্নাম উভয়ই সৃষ্টি। সর্বোচ্চ সত্তা আল্লাহ তা’আলা জানেন কত সংখ্যক জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং কারা এর অধিবাসী হবে, আর কত সংখ্যক জাহান্নামে প্রবেশ করবে এবং কারা এর অধিবাসী হবে। এগুলো কখনোই শেষ হয়ে যাবে না, আল্লাহ তা’আলার ইচ্ছায় চিরকাল টিকে থাকবে। আদম (আঃ) সৃষ্ট ও চিরস্থায়ী জান্নাতে ছিলেন, সর্বশক্তিমান আল্লাহর অবাধ্যতার কারণে তাকে এখান থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
(শারহুস সুন্নাহ লি বারবাহারী)
জবাবঃ
আবু আব্দিল্লাহ আল হাকিম বলেছেন,
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ مُحَمَّدُ بْنُ أَحْمَدَ بْنِ بَالَوَيْهِ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ غَالِبٍ، ثَنَا عَفَّانُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ، قَالَا: ثَنَا مَهْدِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَعْقُوبَ، عَنْ بِشْرِ بْنِ شَغَافٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلَامٍ، قال إِنَّ الْجَنَّةَ فِي السَّمَاءِ، وَإِنَّ النَّارَ فِي الْأَرْضِ،
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বাকর মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনি বালাওয়াইহি, তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনু গালিব, তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আফফান ও মুহাম্মাদ ইবনু কাসির, তারা দুজন বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মাহদি ইবনু মাইমুন, তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনি আবি ইয়াকুব, তিনি বিশর ইবনু শাগাফ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু সালাম থেকে, তিনি বলেছেন, নিশ্চয় জান্নাত রয়েছে আকাশের উপর আর জাহান্নাম রয়েছে জমিনের ভিতরে।[1]মুসতাদরাকুল হাকিম, ৪/৬১২
আবু মুহাম্মাদ হাসান আল বারবাহারি বলেছেন,
والإيمان بأن الجنة حق والنار حق، والجنة والنار مخلوقتان، الجنة في السماء السابعة، وسقفها العرش، والنار تحت الأرض السابعة السفلى،
আর এই ইমান রাখা যে জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য। জান্নাত ও জাহান্নাম দুটিই মাখলুক। জান্নাত সপ্তম আকাশের উপরে আছে এবং জাহান্নাম সপ্তম জমিনের নিচে আছে।[2]শারহুস সুন্নাহ, পৃ ৪৮
এখানে দলিল দিতে গিয়ে আসারটির যে অনুবাদ করা হয়েছে তাতে কোনো সমস্যা নেই। তবে তিনি এখানে বোঝাতে চাচ্ছেন যে পুরো পৃথিবীর নিচে হলো জাহান্নাম। অর্থাৎ তার ধারণা অনুযায়ী এখানে في দ্বারা সপ্তম জমিনের বাইরে ও নিচে জাহান্নাম থাকা বোঝানো হয়েছে। এজন্য তিনি আল বারবাহারির শারহুস সুন্নাহ কিতাব থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছেন যেখানে জাহান্নামকে সপ্তম জমিনের নিচে বোঝাতে تحت ব্যবহার করা হয়েছে। এটা দ্বারা তার উদ্দেশ্য হলো যেহেতু পৃথিবীর নিচেে বলা হয়েছে আর গোলাকার পৃথিবীর কোনো নীচ হয় না তাই এ থেকে বোঝা যায় পৃথিবী সমতল। এরকম দাবি করা অত্যন্ত আশ্চর্যজনক! في শব্দটি দিয়ে কোনো কিছুর ভিতরে বা কখনো উপরে বোঝায়।
জামালুদ্দিন ইবনু হাজিব বলেছেন,
و (في) للظّرفيّة، وبمعنى (على) قليلا.
আর ‘ফি’ ভিতরে অর্থে এবং অল্প ক্ষেত্রে উপরে অর্থে ব্যবহার করা হয়।[3]আল কাফিয়া, পৃ ৫১
অর্থাৎ ফি শব্দটি যখন কোনো শব্দের সাথে যুক্ত হয় তখন ঐ শব্দটি যার সাথে ফি যুক্ত হয়েছে তা দ্বারা আধার বা পাত্র বোঝায়। যেমন আপনি যদি বলেন, في البيت তখন এর অর্থ হবে ‘ঘরের ভিতর’।
ইবনু মালিক বলেছেন,
والظرفيّة استبن ببا وفي،
‘বা’ এবং ‘ফি’ দিয়ে ভেতরে অর্থ প্রকাশ পায়।[4]আলফিয়্যাতু ইবনি মালিক, পৃ ৩৫
আবুল আব্বাস আল ফাইয়ুমি বলেছেন,
وَالظَّرْفُ الْوِعَاءُ وَالْجَمْعُ ظُرُوفٌ،
জরফ শব্দের অর্থ হলো পাত্র এবং বহুবচন হলো জুরুফ।[5]আল মিসবাহুল মুনির, ২/৩৮৪
সারকথা হলো ‘ফি’ শব্দ দিয়ে ভিতরে বোঝায়। আপনি যখন কোনো স্থানের আগে ‘ফি’ যুক্ত করবেন তখন অর্থ হবে ভিতরে।
তবে আমরা কিন্তু জমিনের নিচে দিয়ে জমিনের ভিতরেও বোঝাই। যেমন বলা হয়, ‘তাকে জমিনের নিচে দাফন করা হলো।’ এখানে আসলে জমিন দিয়ে আমরা জমিনের উপরিভাগ বুঝিয়েছি।
আবুল আব্বাস আল ফাইয়ুমি বলেছেন,
تَحْتُ نَقِيضُ فَوْقُ وَهُوَ ظَرْفٌ مُبْهَمٌ لَا يَتَبَيَّنُ مَعْنَاهُ إلَّا بِإِضَافَتِهِ،
তাহত হলো ফাওকের বিপরীত। এটা একটি অস্পষ্ট স্থান প্রকাশক শব্দ যাকে অন্য কিছুর সাথে সম্পর্কিত করা ব্যতীত তার অর্থ নির্ধারণ করা যায় না।[6]আল মিসবাহুল মুনির, ১/৭৩
যেমন বলা হয়,
هذا يدخل تحت هذا النوع،
এটা এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আবার বলা হয়,
الأرض تحت السماء،
জমিন আকাশের নিচে।
কখনো বলা হয়েছে,
الميت يدفن تحت الأرض،
মৃতকে জমিনের নিচে দাফন করা হয়।
যদিও ধরে নেই পৃথিবী সমতল তবুও এখানে কখনো এই অর্থ বোঝায় না যে তাকে পুরো পৃথিবীর নিচে দাফন করা হয়। তাহলে জাহান্নামের অবস্থান সম্পর্কে যে আসারগুলো এসেছে সেগুলোতে আসা في কে কেউ تحت দিয়ে অর্থ করলে এর অর্থ পুরো পৃথিবীর নিচে বোঝাবে এমন কথা বলা সুস্পষ্ট ভুল। আপনি যদি সমতল বিশ্বাস করেনও তবুও এই অর্থেই সেটাকে গ্রহণ করতে হবে। মূলত تحت الأرض দিয়ে ভূগর্ভকে বোঝায়।
দ্বিতীয় ছবিটিতে অনুবাদ করা হয়েছে, ‘জাহান্নাম সপ্তম পৃথিবীর তলদেশে এবং তার অভ্যন্তরে (নীচে) অবস্থিত।’
এখানে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো ‘অভ্যন্তরের’ পরে আবার ‘নীচে’ বন্ধনীর মধ্যে উল্লেখ করা।
পরিশেষে একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। আশ শাতিবি বলেছেন,
وَخَرَّجَ ابْنُ الْمُبَارَكِ حَدِيثًا: ” «إِنَّ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ ثَلَاثًا، وَإِحْدَاهُنَّ: ” أَنْ يُلْتَمَسَ الْعِلْمُ عِنْدَ الْأَصَاغِرِ» “.
قِيلَ لِابْنِ الْمُبَارَكِ: مَنِ الْأَصَاغِرُ؟ قَالَ: ” الَّذِينَ يَقُولُونَ بِرَأْيِهِمْ، فَأَمَّا صَغِيرٌ يَرْوِي عَنْ كَبِيرٍ; فَلَيْسَ بِصَغِيرٍ “.
ইবনুল মুবারাক একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যেখানে বলা হয়েছে, তিনটি বিষয় কেয়ামতের আলামতের অন্তর্ভূক্ত। তাদের একটি হলো, ইলমকে ছোটোদের থেকে অন্বেষণ করা। ইবনুল মুবারককে বলা হলো, এই ছোটোরা কারা? তিনি বললেন, যারা তাদের বুঝ অনুযায়ী কথা বলে। অপরদিকে যে ছোটো বড়ো থেকে বর্ণনা করে সে ছোটো নয়।[7]আল ইতিসাম, ১/৩৪
৭টি সমতল পৃথিবী? (৬ষ্ঠ দলিল)
আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু শুরাইহ আল-ইশাবানী (মৃ. ৩০৬ হিজরী) মুহাম্মদ ইবনু রাফি’ আল-নিসাবুরী (মৃ. ২৪৫ হিজরী) <- ইসমাইল ইবনু আবদ আল-করিম আল-ইয়ামানি (মৃ. ২১০ হিজরী) <- আবদ আল-সামাদ ইবনু মাকিল আল-ইয়ামানি (মৃ. ১৮৩ হিজরী):
“ওয়াহাবকে দুটি যমীন [পৃথিবী] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কেমন আছে? তিনি বললেনঃ সাতটি সমতল পৃথিবী যা দ্বীপ, প্রত্যেক দুই পৃথিবীর মাঝখানে একটি সমুদ্র এবং সবুজ সাগর সবগুলোকে ঘিরে আছে। আর সমুদ্রের ওপারে মন্দির।”[8]أبو الشيخ الأصبهاني , Kitab Al-Azma by Shaykh Al-Ishabani 4/1399
জবাবঃ
আসারটি আবুশ শাইখ আসবাহানি তার আল আজামা কিতাবে এবং আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ ইবনি হানবাল তার আস সুন্নাহ কিতাবে বর্ণনা করেছেন।
আবুশ শাইখ আল আসবাহানি বলেছেন,
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ: سَمِعْتُ وَهْبًا، رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، وَسُئِلَ عَنِ الْأَرَضِينَ كَيْفَ هِيَ؟ قَالَ: «سَبْعُ أَرَضِينَ مُمَهَّدَةٌ جَزَائِرُ، بَيْنَ كُلِّ أَرَضَيْنِ بَحْرٌ، وَالْبَحْرُ الْأَخْضَرُ مُحِيطٌ بِذَلِكَ كُلِّهِ، وَالْهَيْكَلُ مِنْ وَرَاءِ الْبَحْرِ» وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ: «إِنَّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَالْبِحَارَ لَفِي الْهَيْكَلِ، وَإِنَّ الْهَيْكَلَ لَفِي الْكُرْسِيِّ، وَإِنَّ قَدَمَيْهِ لَعَلَى الْكُرْسِيِّ، فَهُوَ يَحْمِلُ الْكُرْسِيَّ، وَقَدْ عَادَ عَلَى الْكُرْسِيِّ كَالنَّعْلِ فِي قَدَمِهَا» . وَسُئِلَ وَهْبٌ رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى: مَا الْهَيْكَلُ؟ قَالَ: «شَيْءٌ مِنْ أَطْرَافِ السَّمَاوَاتِ، مُحْدِقٌ بِالْأَرْضِينَ وَالْبِحَارِ كَأَطْنَابِ الْفُسْطَاطِ»
আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনি শুরাইহ, তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মাদ ইবনু রাফি, তিনি বলেছেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইসমাইল ইবনু আব্দিল কারিম, তিনি বলেছেন, আমার কাছে আব্দুস সামাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন, আমি ওয়াহব রাহিমাহুল্লাহু তাআলাকে বলতে শুনেছি, যখন তাকে জমিনসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে তারা কেমন তখন তিনি বললেন, সাতটি দ্বীপ সদৃশ ছড়ানো জমিন। প্রতি দুটি জমিনের মাঝে আছে একটি সাগর। আর সবুজ সাগর এসবগুলোকেই ঘিরে রেখেছে। সমুদ্রটির বাইরের দিকে আছে বিশাল ও উঁচু কাঠামো। তার সনদে এসেছে তিনি বলেছেন, আসমানসমূহ, জমিন ও সাগরসমূহ বিশাল ও উঁচু কাঠামোর মাঝে আছে। আর বিশাল কাঠামোটি কুরসির মাঝে আছে। তার দুই পা কুরসির উপরে। তিনিই কুরসিকে বহন করেন । কুরসি যেন তার দুই পায়ে জুতোর মতো। ওয়াহব রাহিমাহুল্লাহু তাআলাকে জিজ্ঞেস করা হলো বিশাল ও উঁচু কাঠামোটি কি? তিনি বললেন, আকাশসমূহের পার্শ্ব নিয়ে গঠিত একটি জিনিস যা তাঁবুর পার্শ্বের মতো জমিনগুলোকে ও সমুদ্রগুলোকে ঘিরে আছে।[9]আল আজামা, ৪/১৩৯৯
আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ বলেছেন,
كَتَبَ إِلَيَّ عَبَّاسٌ الْعَنْبَرِيُّ، كَتَبْتُ إِلَيْكَ بِخَطِّي، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ مَعْقِلِ بْنِ مُنَبِّهٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مَعْقِلٍ، قَالَ: سَمِعْتُ وَهْبًا يَقُولُ، وَذَكَرَ مِنْ عَظَمَةِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَقَالَ: «إِنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ، وَالْبِحَارَ لَفِي الْهَيْكَلِ وَأَنَّ الْهَيْكَلَ لَفِي الْكُرْسِيِّ، وَإِنَّ قَدَمَيْهِ لَعَلَى الْكُرْسِيِّ، وَهُوَ يَحْمِلُ الْكُرْسِيَّ، وَقَدْ عَادَ الْكُرْسِيُّ كَالنَّعْلِ فِي قَدَمَيْهِ»
وَسُئِلَ وَهْبٌ: مَا الْهَيْكَلُ؟ فَقَالَ: شَيْءٌ مِنْ أَطْرَافِ السَّمَاءِ مُحَدَّقٌ بِالْأَرَضِينَ، وَالْبِحَارُ كَأَطْنَابِ الْفُسْطَاطِ وَسُئِلَ وَهْبٌ عَنِ الْأَرَضِينَ كَيْفَ هِيَ؟ قَالَ: «هِيَ سَبْعُ أَرَضِينَ مُمَهَّدَةٌ بَيْنَ كُلِّ أَرَضِينَ بَحْرٌ وَالْبَحْرُ الْأَخْضَرُ مُحِيطٌ بِذَلِكَ، وَالْهَيْكَلُ مِنْ وَرَاءِ الْبَحْرِ»
[আস সুন্নাহ; ২/৪৭৭]
শামসুদ্দিন আজ জাহাবি এই আসার উল্লেখ করার পর বলেছেন,
كَانَ وهب من أوعية الْعُلُوم لَكِن جلّ علمه عَن أَخْبَار الْأُمَم السالف، كَانَ عِنْده كتب كَثِيرَة إسرائيليات كَانَ ينْقل مِنْهَا
لَعَلَّه أوسع دَائِرَة من كَعْب الْأَحْبَار، وَهَذَا الَّذِي وَصفه من الهيكل وَأَن الْأَرْضين السَّبع يتخللها الْبَحْر وَغير ذَلِك فِيهِ نظر وَالله أعلم، فَلَا نرده وَلَا نتخذه دَلِيلا،ওয়াহব ইলমসমূহের ভাণ্ডার ছিলেন। তবে তার বেশিরভাগ ইলম হলো পূর্ববর্তী উম্মতগুলো সম্পর্কে সংবাদসমূহ। তার কাছে অনেক ইসরাইলি কিতাব ছিলো এবং তিনি তা থেকে বর্ণনা করতেন। সম্ভবত তিনি এই বিষয়ে কাব আল আহবার থেকে বেশি বিচরণকারী ছিলেন। আর এখানে তিনি বিশাল ও উঁচু কাঠামো সম্পর্কে যা বলেছেন এবং সাত জমিনের চারপাশে সমুদ্র আছে ও অন্যান্য যা কিছু উল্লেখ করেছেন এগুলো আপত্তিকর। আল্লাহ ভালো জানেন। আমরা এটাকে প্রত্যাখ্যানও করি না এবং এটাকে দলিল হিসেবেও গ্রহণ করি না।[10]আল উলু ; পৃ ১৩০
তাকিউদ্দিন আহমাদ ইবনু তাইমিয়্যাহ বলেছেন,
وما لم يكن كذلك بل كان مما يؤخذ عن أهل الكتاب كالمنقول عن كعب ووهب ومحمد بن إسحاق وغيرهم ممن يأخذ عن أهل الكتاب فهذا لا يجوز تصديقه ولا تكذيبه إلا بحجة، كما ثبت في الصحيح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ” إذا حدثكم أهل الكتاب فلا تصدقوهم ولا تكذبوهم، فإما أن يحدثوكم بحق فتكذبوه، وإما أن يحدثوكم بباطل فتصدقوه “.
আর যা এরকম নয় বরং আহলে কিতাব থেকে যা গ্রহণ করা হয়েছে তার অন্তর্ভুক্ত হবে যেমন কাব, ওয়াহব, মুহাম্মাদ ইবনু ইসহাক ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত সংবাদ যারা আহলে কিতাব থেকে এগুলো গ্রহণ করে তা দলিল ছাড়া সত্যায়ন বা মিথ্যারোপ করা জায়েজ নয়। যেমন সহিহ বুখারিতে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে তিনি বলেছেন, আহলে কিতাব যদি তোমাদেরকে কিছু বলে তাহলে তাকে সত্যায়ন বা মিথ্যারোপ করবে না। হতে পারে তোমাদের কাছে সঠিকভাবে বর্ণনা করছে আর তোমরা তাকে মিথ্যা সাব্যস্ত করছো বা তোমাদের কাছে ভুল তথ্য বর্ণনা করছে আর তোমরা তাকে সত্য মনে করছো।[11]মুকাদ্দিমাতুন ফি উসুলিত তাফসির, পৃ ২১
এখানে ইবনু তাইমিয়্যাহ ওয়াহব বলতে ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহকে বুঝিয়েছেন।
আবুল ফিদা ইবনু কাসির বলেছেন,
وإنما أباح الشارع الرواية عنهم في قوله:
«وحدثوا عن بني إسرائيل ولا حرج» فيما قد يجوزه العقل، فأما فيما تحيله العقول ويحكم عليه بالبطلان ويغلب على الظنون كذبه فليس من هذا القبيل، والله أعلم.
শরিয়ত প্রণেতা তার এই বক্তব্যে , ‘আর তোমরা বনি ইসরাইলের থেকে বর্ণনা করো কোনো সমস্যা নেই’ শুধু তাই বর্ণনা করা জায়েজ করেছেন যা আকল সম্ভব মনে করে। অপরদিকে আকলসমূহ যাকে অসম্ভব মনে করে, যাকে বাতিল বলে ফায়সালা দেয় এবং প্রবল ধারণা অনুযায়ী যা মিথ্যা মনে হয় তা এটার অন্তর্ভূক্ত হবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।[12]তাফসির ইবনি কাসির, ৭/৩৬৮
তবে এখানে ওয়াহব ইবনু মুনাব্বিহ জমিনকে যে ছড়ানো বলেছেন সেটা অবশ্যই সত্য। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেন,
والله الذي مَدَّ الأرض،
আর আল্লাহ যিনি জমিনকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। [সুরা রাদ; আয়াত ৩]
একইভাবে কুরসি আল্লাহর দুই পা রাখার স্থান এটাও ইবনু আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহুমা থেকে প্রমাণিত। তবে এর ধরণ আমাদের জানা নেই।
নিচের ছবিতে আসারটির ভুল অনুবাদ করা হয়েছে। এখানে লেখা আছে, ‘ওয়াহাবকে দুটি জমিন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো’। এখানে দুটি জমিন কোথা থেকে আসলো? আসল শব্দ হচ্ছে الْأَرَضِينَ যা الأرض শব্দের বহুবচন। অর্থাৎ এর অর্থ হবে জমিনগুলো।
তারপরে শেষে বলা হয়েছে, ‘আর সমুদ্রের ওপারে মন্দির।’ এখানে الهيكل অর্থ মন্দির নয়। বরং এর অর্থ হলো বিশাল আকারের ও উঁচু কাঠামো। আবু মানসুর আল আজহারি বলেছেন,
الهَيْكل وَهُوَ الْبناء الْمُرْتَفع تُشبَّهُ بِهِ الفرسُ الطَّوِيل،
আল হাইকাল অর্থ হলো উঁচু স্থাপনা যা দিয়ে লম্বা ঘোড়ার উদাহরণ দেওয়া হয়।[13]তাহজিবুল লুগা; ৬/১২
ইবনু ফারিস বলেছেন,
(هَكَلَ) الْهَاءُ وَالْكَافُ وَاللَّامُ يَدُلُّ عَلَى إِشْرَافٍ وَعُلُوٍّ
হা, কাফ এবং লাম সম্মান ও উঁচু হওয়ার দিকে ইঙ্গিত করে।[14]মাকায়িসুল লুগা; ৬/৫৯
মুরতাদা আজ জাবিদি বলেছেন,
الهَيْكَل: (البِناءُ المُشْرِفُ)
আল হাইকাল অর্থ হলো উঁচু স্থাপনা।[15]তাজুল আরুস; ৩১/১৪৪
এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো যে, এখানে যে সবুজ সাগরের কথা বলা হয়েছে তা পৃথিবীতে যে সবুজ সাগর আছে সেটা বুঝিয়েছেন কিনা আল্লাহ ভালো জানেন। তবে বোঝা যাচ্ছে যে তা পৃথিবীর সবুজ সাগর নয়। শামসুদ্দিন আজ জাহাবির বক্তব্য থেকেও তাই বোঝা যায়।
এখানে কিতাবের নাম আল আজামার জায়গায় আল আজমা লেখা হয়েছে। একইভাবে লেখকের নাম হলো আবুশ শাইখ আল আসবাহানি। কিন্তু এখানে লেখা হয়েছে আশ শাইখ আল ইসহাবানি।
পরিশেষে বলবো এসব আসার শুধু বর্ণনা করে এভাবে মানুষের মাঝে প্রচার করার দ্বারা ক্ষতি হতে পারে। এগুলোর ব্যাপারে সতর্ক করা উচিত। আর পৃথিবীকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এটা পৃথিবী গোলাকার হওয়ার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। কোনো অত্যধিক বড়ো জিনিস ছড়িয়ে থেকেও গোল হতে পারে। তাই এখানে শুধু ছড়ানোর কথা আছে। বাকি পৃথিবীর আকার কেমন সেটা আপনার বুঝ হতে পারে। সেটা এখানে স্পষ্ট নয়।
দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের দিক থেকে পৃথিবীকে বিস্তৃত? (৭ম দলিল)
আল্লাহ তায়ালা বলেন:
وَهُوَ الَّذِي مَدَّ الْأَرْضِ
“তিনিই পৃথিবীকে বিছিয়ে দিয়েছেন।” (বা সম্প্রসারিত করেছেন) [সূরা রাদ: ৩]
আসুন, দেখে নিই এই আয়াতের ব্যাখ্যায় পূর্ববর্তী আলিমগণ কি বলেছেন… তাফসিরে তাবারি: (৩১০ হিজরি)
“আল্লাহ তাআলা পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করেছেন” এর অর্থ হলো, তিনি দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের দিক থেকে পৃথিবীকে বিস্তৃত করেছেন।”
(গোলাকার বস্তুর কোন দৈর্ঘ্য-প্রস্থ থাকে না)
জবাবঃ
আবু জাফর ইবনু জারির আত তাবারি বলেছেন,
يقول تعالى ذكره: والله الذي مَدَّ الأرض، فبسطها طولا وعرضًا، ١٦/٢٨
আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আর আল্লাহ যিনি জমিনকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ তিনি দৈর্ঘ্যে ও প্রস্থে তাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন।[16]তাফসিরুত তাবারি; ১৬/২৮
নিচের ছবিতে বলা হয়েছে, গোলাকার বস্তুর কোনো দৈর্ঘ্য-প্রস্থ থাকে না। আবুল ফিদা ইবনু কাসির বলেছেন,
والشيء المقبب والمستدير عرضه كطوله،
আর কোনো গম্বুজের মতো বস্তু ও গোলাকার বস্তুর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ সমান।[17]তাফসির ইবনি কাসির; ২/১০২
অতএব এসব দাবির কোনো ভিত্তি নেই। গোলাকার বস্তুরও দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ আছে এবং তা সমান। এখান থেকে স্পষ্ট যে সবদিক থেকেই জমিনকে বিস্তৃত করা হয়েছে।
জেনে রাখুন, আরবরা তাদের ভাষায় কোনো কিছুর প্রশস্ততা বোঝানোর জন্য عرض শব্দটি ব্যবহার করতো। আবু আব্দিল্লাহ আল কুরতুবি বলেছেন,
وَمِنْ عَادَةِ الْعَرَبِ أَنَّهَا تُعَبِّرُ عَنْ سَعَةِ الشَّيْءِ بِعَرْضِهِ دُونَ طُولِهِ. قَالَ:
كَأَنَّ بِلَادَ اللَّهِ وَهْيَ عَرِيضَةٌ … عَلَى الْخَائِفِ الْمَطْلُوبِ كِفَّةُ حَابِلِ
আরবদের একটা অভ্যাস হলো যে তারা কোনো কিছুর প্রশস্ততা প্রস্থ দিয়ে বোঝায় দৈর্ঘ্য দিয়ে নয়।
সে বলেছে, যাকে খোঁজা হচ্ছে সেই ভয়ে ভীত লোকের কাছে আল্লাহর জমিন প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও শিকারির জালের মতো।[18]তাফসিরুল কুরতুবি, ১৭/২৫৬
তাহলে আল্লাহ তাআলার এই কথা,
وَسَارِعُوا إِلَىٰ مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ،
আর তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের রবের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যার প্রশস্ততা আকাশসমূহ ও জমিনের ন্যায় যাকে মুত্তাকিদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। [সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৩৩]
থেকে এই দাবি করা যে গোলাকার বস্তুর আবার প্রস্থ আছে নাকি তা সঠিক নয়।
পৃথিবীকে বিছিয়ে সমতল করেছেন? (৮ম দলিল)
ওয়াহহাব ইবনে মুনাব্বিহ বলেন: তিনি বলেছেন আল্লাহ পৃথিবীকে বিছিয়েছেন এবং এটিকে সমতল করেছেন এবং তাতে তার পর্বতমালা স্থাপন করেছেন এবং তাতে তার নদীগুলিকে বিভক্ত করেছেন এবং এটিকে তার সমুদ্র দ্বারা পরিবেষ্টন করেছেন। (তাফসির ইবনে হাতিম ১৬৫৫১)
জবাবঃ
নিম্নোক্ত হাদিসটির কথা বলছেন হয়তো
أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللهِ الطَّهْرَانِي، فِيمَا كَتَبَ إِلَيَّ، أَنْبَأَ إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الكَرِيمِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ مَعْقِل، قَالَ: سَمِعْتُ وَهُبَبْنَ مُنَبِّهِ ، قَالَ : قَالَ : جُرْجَيْسُ : هُوَ الَّذِي وَضَعَ الْأَرْضِ فَسَطَحَهَا، وَنَصَبَ فِيهَا جِبَاهَا ، وَفَتَقَ فِيهَا أَنْهَارَهَا وَنَطَقَهَا بِبِحَارِهَا، وَأَنْبَتَ فِيهَا أَشْجَارَهَا، وَأَجْرَى فِيهَا لَيْلَهَا وَنَهَارَهَا وَلَهُ سَبَّحَتْ بِمَنْ عَلَيْهَا وَاسْتَقَامَتْ عَلَى قَرَارِهَا. [Tafsir Ibn Abi Hatim 16551]
এই সনদেও ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ ইজরায়েলি রেওয়ায়েত বর্ণনা করার জন্য বিখ্যাত। আমরা পূবেই আলোচনা করেছি এই বিষয়ে তাই আর বাড়তি কিছু বলছি না।
লেখা: জুবায়ের হাসান
ফেইসবুক: Jobayer Hasan
Footnotes
| ⇧1 | মুসতাদরাকুল হাকিম, ৪/৬১২ |
|---|---|
| ⇧2 | শারহুস সুন্নাহ, পৃ ৪৮ |
| ⇧3 | আল কাফিয়া, পৃ ৫১ |
| ⇧4 | আলফিয়্যাতু ইবনি মালিক, পৃ ৩৫ |
| ⇧5 | আল মিসবাহুল মুনির, ২/৩৮৪ |
| ⇧6 | আল মিসবাহুল মুনির, ১/৭৩ |
| ⇧7 | আল ইতিসাম, ১/৩৪ |
| ⇧8 | أبو الشيخ الأصبهاني , Kitab Al-Azma by Shaykh Al-Ishabani 4/1399 |
| ⇧9 | আল আজামা, ৪/১৩৯৯ |
| ⇧10 | আল উলু ; পৃ ১৩০ |
| ⇧11 | মুকাদ্দিমাতুন ফি উসুলিত তাফসির, পৃ ২১ |
| ⇧12 | তাফসির ইবনি কাসির, ৭/৩৬৮ |
| ⇧13 | তাহজিবুল লুগা; ৬/১২ |
| ⇧14 | মাকায়িসুল লুগা; ৬/৫৯ |
| ⇧15 | তাজুল আরুস; ৩১/১৪৪ |
| ⇧16 | তাফসিরুত তাবারি; ১৬/২৮ |
| ⇧17 | তাফসির ইবনি কাসির; ২/১০২ |
| ⇧18 | তাফসিরুল কুরতুবি, ১৭/২৫৬ |




