মহাবিশ্বের ৭টি সমতল পৃথিবী আছে?
▬▬▬▬▬▬▬▬▬●◈●▬▬▬▬▬▬▬▬▬ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ شُرَيْحٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَبْدِ الْكَرِيمِ، حَدَّثَنِي عَبْدُ الصَّمَدِ، قَالَ: سَمِعْتُ وَهْبًا، رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى، وَسُئِلَ عَنِ الْأَرَضِينَ كَيْفَ هِيَ؟ قَالَ: «سَبْعُ أَرَضِينَ مُمَهَّدَةٌ جَزَائِرُ، بَيْنَ كُلِّ أَرَضَيْنِ بَحْرٌ، وَالْبَحْرُ الْأَخْضَرُ مُحِيطٌ بِذَلِكَ كُلِّهِ، وَالْهَيْكَلُ مِنْ وَرَاءِ الْبَحْرِ» – আহমাদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু শুরাইহ আল-ইশাবানী (মৃ. ৩০৬ হিজরী) <– মুহাম্মদ ইবনু রাফি’ আল-নিসাবুরী (মৃ. ২৪৫ হিজরী) <– ইসমাইল ইবনু আবদ আল-করিম আল-ইয়ামানি (মৃ. ২১০ হিজরী) <– আবদ আল-সামাদ ইবনু মাকিল আল-ইয়ামানি (মৃ. ১৮৩ হিজরী): "ওয়াহাবকে দুটি যমীন [পৃথিবী] সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কেমন আছে? তিনি বললেনঃ সাতটি সমতল পৃথিবী যা দ্বীপ, প্রত্যেক দুই পৃথিবীর মাঝখানে একটি সমুদ্র এবং সবুজ সাগর সবগুলোকে ঘিরে আছে। আর সমুদ্রের ওপারে মন্দির।" 📚 أبو الشيخ الأصبهاني
📚 [Kitab Al-Azma by Shaykh Al-Ishabani 4/1399] – https://shamela.ws/book/13043/972#p1
এটি মুলত ইজরায়েলী রেওয়ায়েত, এমন বর্ণনা মুসলিমদের জন্য দলিলযোগ্য নয়৷
"যুল-কারনাইন" আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের বর্ণনাগুলি "ওয়াহব ইবনে মুনাব্বিহ" থেকে এসেছে এবং তিনি ও কাব আল-আহবার অনেক ইসরায়েলি গল্প এবং পৌরাণিক কাহিনী বর্ণনা করার উৎস বা নায়ক ছিলেন যা ইমাম কুরতুবি (রহ) সহ আরো অনেকেই উল্লেখ করেছেন। [১]
শামসুদ্দিন ধাহাবী (রহ) বলেন,
"বরং তার (ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ) জ্ঞানের ভান্ডার ইসরাইলদের মধ্যে এবং আহলে কিতাবের পাতা থেকে।" [২]
হুসাইন আল যাহাবী বলেছেন:
তিনি বিশ্বস্ত ও সৎ ছিলেন এবং ইসরাঈলীয়াতের বই থেকে অনেক কিছু বর্ণনা করেছিলেন। [৩]
তিনি যে ইজরায়েলি রেওয়ায়েত বর্ণনা করতেন তা আরো অনেকেই উল্লেখ করেছেন, যেমন
"ওহাব ইয়েমেনের সান'আ থেকে এসেছিলেন; মারা গেছেন ১১০ বা ১১৪ হিজরি। তিনি ছিলেন ইখবারী (গল্পকার) এবং হাদিস ট্রান্সমিটার নন। কিন্তু তাঁর মূল আগ্রহ ছিল যাকে আমরা বলি 'ইসরা'ইলিয়াত' যা কাব আল-আহবারের (যিনি ৩২-৩৪ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন) মতো লোকদের মাধ্যমে তাঁর কাছে প্রেরণ করেছিলেন।... যা ওহব ইসলামী কাহিনীতে ঢুকিয়ে দিয়েছে। [৪]
ড. মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আবু শাহবাহ বলেন,
"তিনি আহলে কিতাবের কিতাব থেকে প্রচুর পরিমাণে রিপোর্ট করতেন এবং মনে হয় তিনি তাদের কিতাবসমূহ এবং তাদের জ্ঞান ও কাহিনীর উপর খুব আস্থা রাখতেন। কর্মজীবনের শুরুতে ইবনে কাসীর তার কাছ থেকে অনেক জ্ঞানগর্ভ প্রতিবেদন এবং অনেক শিক্ষা ও কাহিনী বর্ণনা করেছেন যা প্রায় বিশটি পার্চমেন্টকে আচ্ছাদিত করবে যা প্রায় আপত্তিকর বিবরণ থেকে বঞ্চিত। তিনি তাঁর কাছ থেকে তাঁর তাফসীরে অনেক বিবরণও বর্ণনা করেছেন, যার অধিকাংশই ইসরাঈলিয়াতের অন্তর্ভুক্ত।
আমরা অস্বীকার করছি না যে, তার (ওহাব) কারণে তাফসীরের কিতাবসমূহে ইসরাঈলিয়াত এবং অনেক মিথ্যা কাহিনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, কিন্তু আমরা যা অস্বীকার করি তা হচ্ছে [অভিযোগ] যে, তিনিই ইচ্ছাকৃতভাবে এগুলো বানিয়েছেন, যদিও আমরা তাকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিচ্ছি না যে তিনি মুসলমানদের কাছে এই কাহিনীগুলি পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং সেগুলি তাফসীরে আটকে রেখেছিলাম অথচ কুরআন তাদের থেকে নির্দোষ এবং আমরা ইচ্ছা করি তিনি তা করেননি।" [৫]
ইউসুফ কারদাওয়ী (রহ) উল্লেখ করেছেন,
"যে বিষয়টি আমাদের সাহিত্যিক ঐতিহ্যকে বিকৃত করেছে, বিশেষ করে কুরআনের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে (তাফসির) তা হলো ইসরাইলী রেওয়ায়েত ভেতরে ঢুকে পড়া এবং এর সনদের বিচ্ছিন্নতা। দুঃখজনকভাবে এর সূচনা হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি, অর্থাৎ কা'ব আল-আহবার ও ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ এবং অন্যান্য সাহাবীদের সময় থেকে যারা আহলে কিতাব [অর্থাৎ ইহুদী ও খৃষ্টানদের] হতে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করেছিল তাদের সময় থেকেই ইস্রায়েলিয়াতের অনুপ্রবেশ। শুরুতে ছোট ছিল, তারপর অনিচ্ছাকৃতভাবে তা বাড়তে শুরু করে। [৬]
সুতরাং এটাতো পরিষ্কার প্রমানিত হল যে উক্ত রেওয়াতেটি ইজরায়েলী তথ্য ভান্ডার হতে নেওয়া, এগুলো কোরআন ও সুন্নাহ হতে আসে নি। সেগুলো এসব বর্ণনা সাহাবাগণ বা তাবেঈ বা তাবেতাবেঈন গণ বর্ণনা করলেও তা দলিলযোগ্য নয়, আকিদার জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
প্রসঙ্গক্রমে যেহেতু এসেছে সেহেতু বলে ফেলি। ইমাম হারব ইবনে ইসমাঈল আল-কারমানি রহিমাহুল্লাহ (মৃত: ২৮০ হিজরী) তাঁর গ্রন্থে সালাফদের ইজমা বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
"এবং আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সাতটি আসমান একটি অপরটির ওপরে এবং (সৃষ্টি করেছেন) সাতটি পৃথিবী একটি অপরটির নীচে..." [৭]
কেউ কেউ বলে এটা শুধু সমতলে সম্ভব। কিন্তু এই মন্তব্যতো সে তাওবীল করে করেছে। ইজমায় যা বলেছেন সেটাতে আমরাও একমত, কিন্তু এটাকে সমতলের পক্ষে দলিল দেওয়া গোমরাহি ছাড়া কিছু নয়। এটা গায়েবী বিষয়, কিভাবে একটার উপর আরেকটা আছে আল্লাহ ভালো জানেন। গায়েবী বিষযয়ে ব্যাখা আমি কেন দিবো, যে বিষয়ে আমাদের বেশি জানানোই হয়নি। এটা গায়েবী এই কারনে যে ৭ জমিন সম্পর্কে আমাদের যেমন জ্ঞান নেই তেমনই ৭ আসমান নিয়েও নেই। কোনটা কোথায় কিভাবে রয়েছে, সেগুলো কেমন, কত বড়, কি আছে সেখানে সেই বিষয়েও আমাদেরকে জানানো হয় নি। একেক আসমান কত বড়, তাতে কি রয়েছে না রয়েছে সেই বিষয়ে সুস্পষ্ট আমাদেরকে জানানো হয় নি। আমরা শুধু প্রথম আসমান এবং বর্তমানে যে জমিনের উপর বসবাস করছি এই দুটো সম্পর্কেই অবগত, বাকিগুলো সম্পর্কে নয়। তাই সকল কিছুকে ব্যাখ্যা দিয়ে, লজিক দিয়ে ইস্তেম্বাত করতে পারবেন না, তাই আপনাকে কেন ৭ জমিনকে সমতল হিসেবে ব্যাখ্যা করে উপসংহারে আসতে হবে!?
তথ্যসুত্রঃ
[১] আল কুরতুবি, আল জামি লি আহকামুল কুরআন ১১/৪৫-৪৬; ইবনে হিসাম, সীরাত আল নাবাবিয়্যাহ ১/৩০৭; কিতাব মাওসুয়াল আল তাফসির আল মাসুত ১৩/৬৫০; কিতাবুত তিজাহাতুল তাফসির ফি আল কারনিল রাবী এহসার, ২/৭৫৭-৭৬০
[২] সিয়ারুল আলম নুবালা ৪/৫৪৫-৫৪৬
[৩] Muhammad Husayn al-Dhahabi, Al-Tafsir wa 'l-Mufassirun, Dar al-Qalam, Beirut, Volume I, pp. 199.
[৪] Muhammad Abd el-Ghani Hasan from his book, Attarikh 'end al-Musleman as found in Ketaboka no. 32, p.12
[৫] Al-Isra'iliyyat wal Mawdu'at fi Kutub al-Tafsir by Dr. Muhammad Ibn Muhammad Abu Shahbah, Professor of Qur'anic Sciences and Hadith at the University of al-Azhar and University of Umm al-Qura, 4th edition, Maktabat as-Sunnah, Cairo 1408 A.H., pp. 105.
[৬] Dr. Yusuf Qaradawi Thaqafat al-Da'iah, Mu'saasat al-Resalah (Beirut, 1979), p. 41
[৭] كتاب إجماع السلف في الاعتقاد كما حكاه حرب الكرماني https://shamela.ws/book/121/44#p1