ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাবকুরআন

মারিয়াম (আঃ)-এর কাছে কতজন ফেরেশতা এসেছিল?

প্রশ্ন—

সূরা আল-ইমরান-এর ৪৫ নং আয়াতে আছে,

স্মরণ কর, যখন ফেরেশতারা বলল, ‘হে মারইয়াম, নিশ্চয় আল্লাহ তোমাকে তাঁর পক্ষ থেকে একটি কালেমার সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম মসীহ ঈসা ইবনে মারইয়াম, যে দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত এবং নৈকট্যপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত’। আর সে মানুষের সাথে কথা বলবে দোলনায় ও পরিণত বয়সে এবং সে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত। মারইয়াম বলল, ‘হে আমার রব, কিভাবে আমার সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি’! আল্লাহ বললেন, ‘এভাবেই’ আল্লাহ যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোন বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাকে শুধু বলেন, ‘হও’। ফলে তা হয়ে যায়।

আবার, সূরা মারইয়ামের ১৬-২১ নং আয়াত পড়লে জানা যায়,

আর স্মরণ কর এই কিতাবে মারইয়ামকে যখন সে তার পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকের কোন এক স্থানে চলে গেল। আর সে তাদের নিকট থেকে (নিজকে) আড়াল করল। তখন আমি তার নিকট আমার রূহ (জিবরীল) কে প্রেরণ করলাম। অতঃপর সে তার সামনে পূর্ণ মানবের রূপ ধারণ করল। মারইয়াম বলল, ‘আমি তোমার থেকে পরম করুণাময়ের আশ্রয় চাচ্ছি, যদি তুমি মুত্তাকী হও’। সে বলল, ‘আমি তো কেবল তোমার রবের বার্তাবাহক, তোমাকে একজন পবিত্র পুত্রসন্তান দান করার জন্য এসেছি’। মারইয়াম বলল, ‘কিভাবে আমার পুত্র সন্তান হবে? অথচ কোন মানুষ আমাকে স্পর্শ করেনি। আর আমি তো ব্যভিচারিণীও নই’। সে বলল, ‘এভাবেই। তোমার রব বলেছেন, এটা আমার জন্য সহজ। আর যেন আমি তাকে করে দেই মানুষের জন্য নিদর্শন এবং আমার পক্ষ থেকে রহমত। আর এটি একটি সিদ্ধান্তকৃত বিষয়’।

১. দুই আয়াতে দুই রকম কথা মনে হচ্ছে। এক আয়াতে ‘ফেরেশতাগণ’ তাঁকে ঈসা (আঃ) এর সংবাদ জানায় আর অন্য আয়াতে শুধু ‘জিব্রাইল’। এটা সমাধান করা যায় কীভাবে? আর মারিয়াম (আঃ) আগে জানতেন না; তাকে জানানোও হয়েছে দুইবার তাহলে!

২. আর শুধু তা-ই নয়, এক আয়াতে আল্লাহ তাঁর উত্তর দিচ্ছে, আরেক আয়াতে জিব্রাইল! ব্যাপারটা কেমন যেন!

উত্তর—

بسم الله الرحمن الرحيم

স্বাভাবিক দৃষ্টিতে বিষয়টি অসংগতি মনে হলেও গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে এর মাঝে কোনো অসংগতি নেই। এই ধরনের প্রশ্ন মূলত খ্রিষ্টান মিশনারিরা করে থাকে। যাহোক বিষয়টি আমরা ধাপে ধাপে জানার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।

১. মারিয়াম (আঃ) –এর কাছে কতজন ফেরেশতা সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল?
২. মারিয়াম (আঃ) –কে আল্লাহ নাকি জিবরাইল (আঃ) উত্তর দিয়েছেন?

মারিয়াম (আঃ) –এর কাছে কতজন ফেরেশতা সুসংবাদ নিয়ে এসেছিল?

উত্তর হল, মারিয়াম (আঃ) –কে ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে জিব্রাইল (আঃ) এর মাধ্যমে সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। কোরআনের বর্ননা অনুযায়ী আল্লাহ মোট তিন ব্যক্তিকে ফিরিশতার মাধ্যমে সন্তানের সুসংবাদ দেন। যথা—

১. ইবরাহিম (আঃ)
২. জাকারিয়া (আঃ)
৩. মারিয়াম (আঃ)

চমৎকার বিষয় হচ্ছে ,কোরআনে এই প্রত্যেকের কাছে সুসংবাদ পৌঁছে দেনেওয়ালার জন্য আল্লাহ তায়ালা বহু বাচন শব্দ ব্যবহার করেছেন। যেমন ইবরাহিম (আঃ) সম্পর্কে বলা হয়েছে—

وَلَقَدۡ جَآءَتۡ رُسُلُنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ بِالۡبُشۡرٰی

অর্থাৎ— আর আমার ফিরিশতাগণ (মানুষের বেশে) ইবরাহীমের কাছে সুসংবাদ নিয়ে আসল (যে, তার পুত্র সন্তান জন্ম নেবে)।[1]সুরা হুদ, আয়াত নং ৬৯
https://muslimbangla.com/sura/11/tafsir/69 .

وَلَمَّا جَآءَتۡ رُسُلُنَاۤ اِبۡرٰہِیۡمَ بِالۡبُشۡرٰی

অর্থাৎ— যখন আমার প্রেরিত ফিরিশতাগণ ইবরাহীমের কাছে (তার পুত্র জন্ম নেওয়ার) সুসংবাদ নিয়ে পৌঁছল।[2]সুরা আনকাবুত, আয়াত নং ৩১
https://muslimbangla.com/sura/29/tafsir/31 .

قَالُوۡا لَا تَوۡجَلۡ اِنَّا نُبَشِّرُکَ بِغُلٰمٍ عَلِیۡمٍ

অর্থাৎ— তারা বলল, ভয় পাবেন না, আমরা আপনাকে এক জ্ঞানী পুত্র (-এর জন্মগ্রহণ) এর সুসংবাদ দিচ্ছি।[3]সুরা হিজর, আয়াত নং ৫৩
https://muslimbangla.com/sura/15/tafsir/53 .

জাকারিয়া (আঃ) সম্পর্কে—

فَنَادَتۡہُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَہُوَ قَآئِمٌ یُّصَلِّیۡ فِی الۡمِحۡرَابِ ۙ اَنَّ اللّٰہَ یُبَشِّرُکَ بِیَحۡیٰی

অর্থাৎ— সুতরাং (একদা) যাকারিয়া যখন ইবাদতখানায় সালাত আদায় করছিলেন, তখন ফিরিশতাগণ তাঁকে ডাক দিয়ে বলল, আল্লাহ আপনাকে ইয়াহইয়া (-এর জন্ম) সম্পর্কে সুসংবাদ দিচ্ছেন।[4]সুরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৩৯
https://muslimbangla.com/sura/3/tafsir/39 .

মারিয়াম (আঃ) সম্পর্কে—

اِذۡ قَالَتِ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یٰمَرۡیَمُ اِنَّ اللّٰہَ یُبَشِّرُکِ بِکَلِمَۃٍ مِّنۡہُ ٭ۖ اسۡمُہُ الۡمَسِیۡحُ عِیۡسَی ابۡنُ مَرۡیَمَ

অর্থাৎ— যখন ফিরিশতাগণ বলেছিল, হে মারয়াম! আল্লাহ তোমাকে নিজের এক কালিমার (জন্মগ্রহণের) সুসংবাদ দিচ্ছেন, যার নাম হবে মাসীহ ঈসা ইবনে মারয়াম।[5]সুরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৪৫
https://muslimbangla.com/sura/3/tafsir/45 .

এখানে “ফেরেশতাগণ” বলার মূল কারণ হলো ইবরাহিম, জাকারিয়া ও মারিয়াম (আঃ)-এর কাছে সন্তানের সুসংবাদ দেওয়ার জন্য একজন ফেরেশতা নয় বরং জিব্রাইল (আঃ) সহ একটি বিশেষ দল নিয়োজিত হয়েছিল। কারণ জিব্রাইল (আঃ) বিশেষ বিশেষ সময় ফেরেশতাদের একটি দল নিয়ে হাজির হন। যেমন আল্লাহ বলেন—

یُنَزِّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃَ بِالرُّوۡحِ مِنۡ اَمۡرِہٖ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ

অর্থাৎ— তিনি নিজ বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা নিজ হুকুমে রূহ (অর্থাৎ জিব্রাইল কর্তৃক ওহী ) সহ ফেরেশতাদের অবতীর্ণ করেন।[6]সুরা আন-নাহল, আয়াত নং ২
https://muslimbangla.com/sura/16/tafsir/2 .

অন্যত্র বলেন—

تَنَزَّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَالرُّوۡحُ فِیۡہَا بِاِذۡنِ رَبِّہِمۡ ۚ مِّنۡ کُلِّ اَمۡرٍ

অর্থাৎ— সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ ( জিব্রাইল ) প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অবতীর্ণ হয়।[7]সুরা আল-ক্বদর, আয়াত নং ৪
https://muslimbangla.com/sura/97/tafsir/4 .

কিন্তু জিব্রাইল (আঃ) যেহেতু ফেরেশতাদের প্রধান এবং তিনি সংবাদ পৌঁছে দেওয়ার ফেরেশতা, তাই তিনি একাই ইবরাহিম, জাকারিয়া ও মারিয়াম (আঃ) -এর সাথে কথা বলেছেন। তিনি সবার যেহেতু প্রতিনিধি হয়ে কথা বলেছেন, তাই এখানে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন—

মন্ত্রী একাই বক্তব্য দিলেন।
আমরা বলি “সরকার বলেছে..”
সেনাপ্রধান একাই নির্দেশ দিলেন।
আমরা বলি “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বলেছে..” ইত্যাদি।

এই জন্য জাকারিয়া (আঃ) -এর ঘটনা বলতে গিয়ে ইমাম মুফাদ্দাল বিন সুলাইমান (রহি.) ( মৃ: ২৯০ হি. ) বলেন—

إذا كان القائل رئيسًا، فيجوز الإخبار عنه بالجمع؛ لاجتماع أصحابه معه، فلما كان جبريل عليه السلام رئيس الملائكة، وقل ما يُبعث إلَّا ومعه جمع منهم؛ فجرى على هذا.

অর্থাৎ— যদি বক্তা একজন দলনেতা হয়, তাহলে তার সম্পর্কে বহু বাচন শব্দে সংবাদ দেওয়া বৈধ— কারণ তার দলীয় সদস্যরা তার সাথেই সমবেত থাকে। যেহেতু জিব্রাইল (আ) ফেরেশতাদের দলনেতা, এবং খুব কম সময় তিনি একক ভাবে প্রেরিত হন; আর অধিকাংশ সময় তার সাথে ফেরেশতাদের একটি দল থাকে। তাই এখানে বহুবচন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।[8]তাফসিরে আস-সালাবী ৪/২৮৫
https://shamela.ws/book/18686/4010 .

ইমাম আবু হাফস আন-নাফাসি (রহি.) ( ৪৬১-৫৩৭ হি. ) বলেন—

وفي كلِّ الروايات أنَّ النداءَ كان مِن جبريل وحده، وإنَّما ذكَره جميعًا؛ لأنَّ جبريلَ عليه السلام إذا نزل لأمرٍ كان معه جماعةٌ مِن الملائكة صلوات اللَّه عليهم، فإذا أَخبر بخبرٍ يجوز أنْ يقال : أَخبر الملائكة، على معنى أنَّه أَخبر وهو معهم وهم جاؤوا لهذا،

অর্থাৎ— সকল বর্ণনায় বলা হয়েছে ( জাকারিয়া আঃ কে ) ডাকটি শুধুমাত্র জিব্রাইল (আঃ) -এর পক্ষ থেকে ছিল। কিন্তু অন্যান্য ফেরেশতাদের কথা উল্লেখযোগ্য করা হয়েছে এই জন্য যে, যখন জিব্রাইল আঃ কোনো কাজের জন্য অবতীর্ণ হতেন তখন সাধারণত তার সাথে ফেরেশতাদের একটি দল থাকতো। তাই জিব্রাইল (আঃ) যখন একা সংবাদ দিতেন, তখন বলা হয় “ফেরেশতারা বলেছেন”। এর মানে হচ্ছে কথা জিব্রাইল আঃ বলতেন, আর অন্যান্য ফেরেশতারা তার সাথে সেই কাজের জন্য উপস্থিত থাকতেন।[9]তাফসির আন-নাফাসি, ৪/২৫
https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftystfser%2Ftystfs4.pdf#page=25 .

এখন প্রশ্ন হল, সুরা ইমরানে ৪৫ নং আয়াতে আল্লাহ তাআলা “ফেরেশতাগণ” অর্থাৎ বহুবচন শব্দ ব্যবহার করলেও সূরা মারিয়ামের ১৭-১৯ আয়াতে কেন একবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন? যেমন তিনি বলেন—

فَاتَّخَذَتۡ مِنۡ دُوۡنِہِمۡ حِجَابًا ۪۟ فَاَرۡسَلۡنَاۤ اِلَیۡہَا رُوۡحَنَا فَتَمَثَّلَ لَہَا بَشَرًا سَوِیًّا

অর্থাৎ— তারপর সে তাদের ও নিজের মাঝখানে একটি পর্দা ফেলে দিল। এ সময় আমি তার কাছে আমার রূহ (অর্থাৎ একজন ফেরেশতা) পাঠালাম, যে তার সামনে এক পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল।[10]সুরা মারিয়াম, আয়াত নং ১৭
https://muslimbangla.com/sura/19/tafsir/17

আবার—

قَالَ اِنَّمَاۤ اَنَا رَسُوۡلُ رَبِّکِ ٭ۖ لِاَہَبَ لَکِ غُلٰمًا زَکِیًّا

অর্থাৎ— ফিরিশতা বলল, আমি তো তোমার প্রতিপালকের প্রেরিত (ফেরেশতা আর আমি এসেছি) তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করার জন্য।[11]সুরা মারিয়াম, আয়াত নং ১৯
https://muslimbangla.com/sura/19/tafsir/19 .

এর উত্তর হলো, সুরা আলে ইমরানে ৪৫ নং আয়াতে আল্লাহ শুধুমাত্র বলেছেন “اِذۡ قَالَتِ الۡمَلٰٓئِکَۃُ یٰمَرۡیَمُ ” অর্থাৎ— যখন ফেরেশতাগণ বলেছিল, হে মারয়াম! এখানে শুধুমাত্র ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। যেমনটি আমরা পূর্বে আলোচনা করে এসেছি। কিন্তু সুরা ইমরানের আয়াতে মারিয়াম (আঃ) -এর সাথে কে সশরীরে কথা বলেছেন তা উল্লেখ নেই। সেখানে বিষয়টি উল্লেখ না থাকার কারণ হলো, সেটা ছিল ফেরেশতাদের পক্ষ হতে বার্তা। কিন্তু সুরা মারিয়ামে আল্লাহ উল্লেখ করে দিয়েছেন যে, একজন ফিরিশতা ( অর্থাৎ— জিব্রাইল ) মারিয়াম (আঃ) -এর নিকট সশরীরে উপস্থিত হয়ে তার সাথে কথোপকথন করেছিল। এইজন্য এখানে বহুবচন শব্দ ব্যবহার না করে একবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন। বিষয়টি এরকম যে—

Read More...  দাসপ্রথা ও ইসলাম: নাস্তিকদের অভিযোগের খণ্ডন “

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব গিয়ে সৌদির পার্লামেন্টে বাদশা কে বলল “এই বছর সৌদির সাথে ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে”। উত্তরে বদশা বলল “আমরা এ প্রস্তাব কয়েকটি শর্তে গ্রহণ করলাম”।

এদিকে সৌদির সরকারি সংবাদ মাধ্যম থেকে বলা হয়েছে— বাংলাদেশ সরকার বলেছে “এই বছর সৌদির সাথে ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হবে”।

মারিয়াম (আঃ) –কে আল্লাহ না কি জিবরাইল (আ) উত্তর দিয়েছেন?

এর উত্তর হলো আল্লাহ জিব্রাইল (আঃ) -এর মাধ্যমে সন্তানের সুসংবাদ মারিয়াম (আঃ) -এর কাছে পৌঁছিয়েছেন। যেমন সূরা ইমরানের ৪৭ নং আয়াতের বর্ননা হলো—

قَالَتۡ رَبِّ اَنّٰی یَکُوۡنُ لِیۡ وَلَدٌ وَّلَمۡ یَمۡسَسۡنِیۡ بَشَرٌ ؕ قَالَ کَذٰلِکِ اللّٰہُ یَخۡلُقُ مَا یَشَآءُ ؕ اِذَا قَضٰۤی اَمۡرًا فَاِنَّمَا یَقُوۡلُ لَہٗ کُنۡ فَیَکُوۡنُ

অর্থাৎ— মারয়াম বলল, হে আমার প্রতিপালক! আমার কিভাবে পুত্র জন্ম নেবে, যখন কোন পুরুষ আমাকে স্পর্শ পর্যন্ত করেনি? আল্লাহ বললেন, এভাবেই আল্লাহ যা চান সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কোন কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তার জন্য কেবল বলেন, ‘হয়ে যাও’। ফলে তা হয়ে যায়।[12]সুরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৪৭
https://muslimbangla.com/sura/3/tafsir/47 .

এখানে “আল্লাহ বললেন” মানে এই নয় যে, আল্লাহ মারিয়াম (আঃ) এর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। বরং মারিয়াম (আঃ) যেই প্রশ্ন করেছেন সেই প্রশ্নের উত্তর আল্লাহ দিয়েছেন। আর আল্লাহ যে উত্তর দিয়েছেন সেটা জিব্রাইল (আঃ) নকল করে মারিয়াম (আঃ) কে জানিয়েছেন। আপনি যদি একটু মনোযোগ সহকারে দেখেন তাহলে দেখবেন যে, এর উত্তরটা সেই আয়াতেই আছে, যেখানে আপনি আল্লাহর উত্তরটি ফিরিশতার বলে ভেবেছেন। যেমন মারিয়ামের আয়াতে আছে—

قَالَ کَذٰلِکِ ۚ قَالَ رَبُّکِ ہُوَ عَلَیَّ ہَیِّنٌ ۚ وَلِنَجۡعَلَہٗۤ اٰیَۃً لِّلنَّاسِ وَرَحۡمَۃً مِّنَّا ۚ وَکَانَ اَمۡرًا مَّقۡضِیًّا

অর্থাৎ— ফিরিশতা বলল, এভাবেই হবে। তোমার রব বলেছেন, আমার পক্ষে এটা একটা মামুলি কাজ। আমি এটা করব এজন্য যে, তাকে বানাব মানুষের জন্য (আমার কুদরতের) এক নিদর্শন ও আমার নিকট হতে রহমত। এটা সম্পূর্ণরূপে স্থিরীকৃত হয়ে গেছে।[13]সুরা মারিয়াম, আয়াত নং ২১
https://muslimbangla.com/sura/19/tafsir/21 .

এখানে স্পষ্ট বলা আছে, ফেরেশতা নিজেই মারিয়াম (আঃ) বলছেন, “قَالَ رَبُّکِ ” অর্থাৎ তোমার বর বলেছেন। তাই এই বক্তব্য থেকে বুঝা যায়, উত্তরটা ফেরেশতা নয় বরং আল্লাহতায়ালা দিয়েছেন আর ফেরেশতা তা মারিয়াম (আঃ)-এর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।

الله اعلم

শারঈ সম্পাদক: মুফতি সালিম উদ্দিন

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 সুরা হুদ, আয়াত নং ৬৯
https://muslimbangla.com/sura/11/tafsir/69 .
2 সুরা আনকাবুত, আয়াত নং ৩১
https://muslimbangla.com/sura/29/tafsir/31 .
3 সুরা হিজর, আয়াত নং ৫৩
https://muslimbangla.com/sura/15/tafsir/53 .
4 সুরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৩৯
https://muslimbangla.com/sura/3/tafsir/39 .
5 সুরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৪৫
https://muslimbangla.com/sura/3/tafsir/45 .
6 সুরা আন-নাহল, আয়াত নং ২
https://muslimbangla.com/sura/16/tafsir/2 .
7 সুরা আল-ক্বদর, আয়াত নং ৪
https://muslimbangla.com/sura/97/tafsir/4 .
8 তাফসিরে আস-সালাবী ৪/২৮৫
https://shamela.ws/book/18686/4010 .
9 তাফসির আন-নাফাসি, ৪/২৫
https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftystfser%2Ftystfs4.pdf#page=25 .
10 সুরা মারিয়াম, আয়াত নং ১৭
https://muslimbangla.com/sura/19/tafsir/17
11 সুরা মারিয়াম, আয়াত নং ১৯
https://muslimbangla.com/sura/19/tafsir/19 .
12 সুরা আল-ইমরান, আয়াত নং ৪৭
https://muslimbangla.com/sura/3/tafsir/47 .
13 সুরা মারিয়াম, আয়াত নং ২১
https://muslimbangla.com/sura/19/tafsir/21 .
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button