ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাবশরিয়াহ আইন

পশুর সাথে অপকর্মে পশুকে কেন হত্যা করা হবে?

প্রশ্নঃ কোনো ব্যক্তি কোনো জন্তুর সাথে অপকর্ম করলে ওই ব্যক্তিকেও হত্যা করতে হবে, ওই জন্তুকেও। (আবু দাউদ, ৪৪৬৪; তিরমিজি, ১৪৫৫)

জন্তুটিকে কেন হত্যা করতে হবে? তার দোষ কি?

উত্তরঃ

বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য, যিনি আমাদেরকে সর্বোত্তম বিধান দিয়েছেন। দরূদ ও সালাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের উপর।

জন্তুর সাথে যৌনকর্ম করা একটি জঘন্য ও ঘৃণিত কাজ যা মানুষের স্বাভাবিক সহজাত প্রবৃত্তির সম্পূর্ণ বিপরীত। এটি সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাপগুলোর একটি।

এই কাজ হারাম হওয়ার ব্যাপারে সকল আলেম একমত। ইমাম শাওকানী (রহ) বলেছেন:

“জন্তুর সাথে যৌনকর্ম হারাম হওয়ার ব্যাপারে ইজমা রয়েছে।”[1]https://www.islamweb.net/ar/fatwa/126386/.

তবে এই অপরাধের জন্য দুনিয়াবী শাস্তি কী হবে সে বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। এই নিয়ে আমাদের ফ্রমমুসলিমস ওয়েব সাইটের লেখক তাহসিন আরাফাত ভাইয়ের একটি লিখা রয়েছে, সেটি দেখে নিতে পারেন,

Read More...  ইসলামে পশুকামের শাস্তি

এখন মূল প্রশ্ন হলো পশুটিকে হত্যার কথা বলা হয়েছে, এখানে পশুটিকে হত্যার কারণ কী?

প্রথমে একটি বিষয় পরিষ্কার করে দেওয়া প্রয়োজন, জমহুর ওলামাগণ পশুকামে লিপ্ত হওয়া ব্যক্তির শাস্তির কথা বলেছেন কিন্তু প্রাণীটিকে হত্যা না করার মত রেখেছেন, কারণ অনেকেই হাদিসটিকে সহিহ হাদিস হিসেবে গ্রহণ করেন নি, বরং আপত্তি তুলেছেন। যেমন ইমাম ত্বহাবি (রহ)[2]ইমাম ত্বহাবী, শারহু মুশকিলিল আসার ৯/৪৩৯-৪৪০, ইবমে হাজম (রহ)[3]ইবনে হাযম, কিতাবুল মুহাল্লা বিল আসার ১২/৩৯৯, ইমাম বুখারী (রহ)[4]আল-মুসনাদুল মুসান্নাফুল মু‘আল্লাল ১২/৫০৮; আল-‘আযীম আবাদী, শারফুল হক, কিতাবু ‘আউনিল মা‘বুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কাইয়্যিম ১২/১০৩, আবু দাউদ (রহ)[5]আব্দুল মুহসিন আল-‘আববাদ, কিতাবু শারহি সুনানি আবি দাউদ লিল ‘আববাদ, অধ্যায় ৫০২, পৃষ্ঠা ২৯-৩৪, বদ্দরুদ্দিন আইনি (রহ), ইয়াহইয়া বিন মা’ইন (রহ)[6]বদরুদ্দীন আইনি, কিতাবুল বিনায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ, ৬/৩১২, ইমাম আহমদ (রহ)[7]ইবনে আবি উমর, কিতাবুশ শারহিল কাবীর ‘আলাল মুকনি‘ – তাত তুর্কি ২৬/২৭৬ এবং আরো অনেকে।[8]আল রাহিবানি, কিতাবু মাতালিবি উলিন নুহা ফি শারহি গায়াতিল মুনতাহা ৬/১৮২; কিতাবু মাওসু‘আতু মাহাসিনিল ইসলাম ওয়া রাদ্দি শুবুহাতিল লিআম ১০/১২২; ইবনে হাজার, কিতাবু তাহযীবিত তাহযীব ১০/১৭০-১৭১; মুহাম্মাদ শামসুল হক্ব আল-‘আযীম আবাদী, আউনুল মা‘বুদি – আল-‘আযীম আবাদী ১২/১২১; আরশীফু মুলতাকা আহলিল হাদীস – ১, ৬৫/২৮১-২৮২, ৮/২১২-২১৩

তাই অধিকাংশ হানাফী, মালিকী ও শাফেয়ী ফকিহদের মাযহাব হলো যে জন্তুটিকে হত্যা করা হবে না। কিন্তু এর থেকে উপকার নেওয়া অনেকেই অপছন্দ করেছেন।[9]কিতাবুল মাওসু‘আতিল ফিকহিয়্যাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ, ২৪/৩৩; মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, কিতাবু মাওকি‘উল ইসলামি সুআল ওয়া জাওয়াব ৫/৬৯৩৪

যদি আমরা এই হাদিসটিকে যয়িফ হিসেবে মেনে নেই এবং পশুকে হত্যা না করার মতটিকে গ্রহণ করি তাহলে আর কোনো আপত্তি থাকে না। কিন্তু এখানে ভিন্ন মত-ও রয়েছে। শেখ ইবনে রাসলান আল-শাফেয়ী (রহ) খুব চমৎকার একটি আলোচনা টেনেছেন ভিন্ন মতটি সম্পর্কে, তিনি বলেন,

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহ) থেকে একটি অদ্ভুত বর্ণনা এসেছে যে, তিনি পশু সহবাসকারীকে তাযীর করতে বলেন, আবার পশুটিকে হত্যা করতেও বলেন। এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক! কারণ:

যদি আমরা উক্ত হাদীস অনুযায়ী আমল করি, তাহলে পশু হত্যা করা আবশ্যক।

আর যদি আমরা হাদীসটি ছেড়ে তাযীরের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেই, তাহলে পশু হত্যা করার কোনো কারণ নেই। (কারণ সেই হাদিসে যিনাকারী পুরুষকে তাজির নয় বরং হত্যার কথা এসেছে)

তাই অপরাধীকে তাযীর করা আর পশুকে হত্যা করা — এ দুটি একসঙ্গে করার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই।[10]ইবনু রাসলান, কিতাবু শারহি সুনানি আবি দাউদ লি ইবনি রাসলান ১৭/৪৬৭

অপর দিকে হাদিসটিকে একদল মুহাদ্দিস গ্রহণযোগ্য না বিবেচনা করলেও একটি বিশাল সংখ্যক মুহাদ্দিসিন সহিহ হিসেবে গ্রহণ করেন। আদতে হাদিসটি নিয়ে বিরাট মতানৈক্য রয়েছে, তাই যারা হাদিসটিকে সহিহ হিসেবে গ্রহণ করেছেন উনারা প্রাণীটিকে জবাই করার পক্ষে মত দিয়ে থাকেন। যারা হাদিসটিকে সহিহ হিসেবে নিয়েছেন তাদের পক্ষ হতে বিভিন্ন কারণ বর্ণিত হয়েছে, আজকের আলোচনা সেগুলো নিয়েই, একটি একটি করে সেগুলো সবগুলোই উল্লেখ করছি।

[১]

ইবনে কুদামাহ (রহ) উল্লেখ করেছে, জন্তু হত্যার কারণ সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে। প্রাণীটিকে হত্যা করার পিছনে একটি কারণ হল যাতে অপরাধীকে তা দেখে লজ্জা দেওয়া না হয় এবং তার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া না হয়। কেউ বলেছেন: যেন পশুটি বিকৃত সন্তানের জন্ম না দেয়। (ঘোড়া ও গাধার মিলনে খচ্চরের জন্ম হয়, এই থেকে পুর্বে বিকৃত সন্তান জন্ম দেওয়ার এরকম একটা ধারণা করেছিল কেউ কেউ)[11]ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনী ৯/৬০

[২]

কেউ কেউ বলেছেন, এটা এজন্য যে, পশুটিকে বাঁচিয়ে রাখলে দুনিয়ায় তার মালিকের জন্য তা লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, এবং যখনই সে পশুটিকে দেখবে, তখনই তার সে কুকর্মের কথা মনে পড়বে।[12]সুলাইমান বিন মুহাম্মদ আল-লুহাইমিদ, কিতাবু দুরুস ফিকহিয়্যাহ – আল-লুহাইমিদ, ৫/১১৮; আবু বকর আল-রাজি আল-জাসসাস, কিতাবু শারহি মুখতাসারিত ত্বহাবি লিল জাসসাস ৬/১৭৬

অর্থাৎ প্রাণীটি এমন একটি জঘন্য অপরাধের সাক্ষী ও মাধ্যম হয়ে গেছে, যা তাকে জীবিত রাখলে সেই ঘৃণ্য কাজের স্মৃতি বহন করবে। যখনই কেউ ওই প্রাণীটিকে দেখবে, তখনই সেই জঘন্য ঘটনা মনে পড়বে। এটি অপরাধীর ও প্রাণীর মালিকের পরিবার ও সমাজে অপমান এবং লজ্জার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। মানুষ ওই জন্তু দেখেই ঘটনাটি মনে করিয়ে দেবে।

[৩]

বদরুদ্দিন আল-আইনি (রহ) এক আলেমের ব্যাখ্যায় বলেন,

“এটি (পশু হত্যা) লোকমুখে আলোচনা বন্ধ করার জন্য।” এর অর্থ হলো, উম্মত এই হাদীসটি গ্রহণ করেছে। আর পশু হত্যা করা হয় লোকমুখে আলোচনা বন্ধ করার জন্য। কারণ মানুষ যখন পশুটিকে দেখে, তখন হয়তো বলবে, ‘এই তো সেই পশু যার সাথে অমুক নোংরা কাজ করেছিল।’ ফলে সেই ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং লজ্জিত হয়, আর লোকেরাও তার গিবত (পরনিন্দা) করে। এ জন্য পশুটিকে হত্যা করা হয়, যাতে মানুষের আলোচনা বন্ধ হয়ে যায়।[13]বদরুদ্দিন আল-আইনি, কিতাবুল বিনায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ, ৬/৩১২

[৪]

হাসান ইবনে ইদ্রিস আল-বুহুতি (রহ) বলেন,

আল্লাহর হকের কারণে এর হত্যা ওয়াজিব হয়েছে, তাই এটি আল্লাহর হকের জন্য নিহত অন্যান্য প্রাণীর মতোই।[14]আল বুহুতি, কিতাবু কাশশাফিল কিনা‘আন মাতনিল ইকনা‘ – তাব‘আতু উযারাতিল ‘আদল ১৪/৫৩

অর্থাৎ এটিকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জবাই করা হবে, যেমনটা অন্যান্য প্রাণীকে করা হয়। তাই অন্য কারো পশুর সঙ্গে এরূপ করলে পশুর মালিককে পশুর মূল্য প্রদান করতে হবে।[15]আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহিয়া আল-মাকদিসি, কিতাবু শারহি দলিলিত তালিব – আব্দুল্লাহিল মাকদিসী ৩/৫২৩

[৫]

আবার কারো কারো মতে এর মাংস হারাম, তাই জবাই করে দিবে পশুটিকে।[16]মুহাম্মাদ নাজীব আল-মুতি‘ঈ, কিতাবু তাকমিলাতিল মুতি‘ই আলাল মাজমু‘ই শারহিল মুহাযযাব – তাব‘আতুস সালাফিয়্যাহ, ২০/৩১

তাই একদলের মতে, যে পশু খাওয়া হালাল সে পশুকেই জবাই করতে হবে।[17]ইবনু রাসলান, কিতাবু শারহি সুনানি আবি দাউদ লি ইবনি রাসলান ১৭/৪৬৭

[৬]

এই পয়েন্টটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যদিও এটি নিয়ে প্রাচীন ওলামাগণদের আলোচনা চোখে পড়েনি। কোরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,

“তিনিই যমীনে যা আছে সব তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন।” [সুরা বাকারা আয়াত ২৯]

এই আয়াত হতে বুঝা যায় কুরআন অনুযায়ী পশুপাখি সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হল মানুষের ‘উপকার’ করা বা উপকারে আসা (যেমন: খাদ্য, বস্ত্র, পরিবহন, সৌন্দর্য এবং নিদর্শন)। মানুষের সৃষ্টির সাথেই তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য সম্পর্কিত।

আমাদের ফ্রম মুসলিমস এর একজন লেখক আসিফ মেহেদী (আসল নাম আতিকুর রহমান) ভাই এই নিয়ে সুন্দর একটি মতামত ব্যক্ত করেছেন, তিনি বলেন,

“মানুষ ছাড়া পশু পাখির কোনো intrinsic (অন্তর্নিহিত) মূল্য নাই। মানুষের intrinsic ভ্যালু আছে আর মানুষের থ্রুতে অন্যান্য প্রাণীর extrinsic কিছু ভ্যালু আছে। প্রাণীদের মূলত ব্যবহার করা হয় আমাদের পরীক্ষা করার জন্য। তাই পরকালে এদের কোনো জান্নাত জাহান্নাম নাই। সুতরাং, আল্লাহ এবং রাসুল থেকে এ বিষয়ে যা আসবে তাই জাস্টিফায়েড। এবং সো কল্ড problem of animal suffering পশু পাখির ক্ষতি কষ্ট পাওয়া এসবের উদ্দেশ্য কি? এই জিনিসও বাতিল হয়ে যায়। কারণ এরা morally relevant sense এ পেইন পায় না।”

আশা করি ভাইয়ের বিশ্লেষণটি সকলের জন্য সন্তুষ্টজনক হবে ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা নিজেই অন্য আয়াতে এর সমর্থনে বলেছেন,

বিধান একমাত্র আল্লাহরই। [সুরা আনআম আয়াত ৫৭; সুরা ইউসুফ আয়াত ৪০, ৬৭]

নিশ্চয় আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন। [সূরা আল-হজ্জ, আয়াত ১৪, ১৮; সুরা বাকারা, আয়াত ২৫৩; আল-বুরুজ, আয়াত ১৬]

তিনি যা করেন সে ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা যাবে না; বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে। [সুরা আম্বিয়া আয়াত ২৩]

আলোচনার সকল দিক পর্যালোচনা করলে যে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে তা হল এটি কোনো অযৌক্তিক বা অমানবিক বিধান নয়।

মুহাদ্দিসিনগণ হাদিসটির সনদ নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও, যারা হাদিসটিকে সহিহ বলে গ্রহণ করেছেন তারা প্রাণীটিকে হত্যার পেছনে একাধিক কার্যকর ও যুক্তিসংগত কারণ উপস্থাপন করেছেন —

প্রথমত, সামাজিক সুরক্ষা — পশুটিকে জীবিত রাখলে তা অপরাধের একটি জীবন্ত স্মারক হয়ে থাকে, যা বারবার লজ্জা, অপমান ও গিবতের দরজা খুলে দেয়।

দ্বিতীয়ত, আল্লাহর হকের বাস্তবায়ন — এটি কোনো প্রতিশোধ নয়, বরং শরিয়তের হুকুম রক্ষার একটি অংশ।

তৃতীয়ত, খাদ্যের বিশুদ্ধতা — এমন পশুর মাংস হালাল থাকে কি না তা নিয়ে আলেমগণ প্রশ্ন তুলেছেন, এবং অনেকেই তা হারাম গণ্য করেছেন।

চতুর্থত, সৃষ্টিতত্ত্বের দৃষ্টিকোণ — পশু মূলত মানুষের কল্যাণে সৃষ্ট। যখন একটি পশু জঘন্য অপরাধের মাধ্যম হয়ে ওঠে, তখন তার অস্তিত্বের উদ্দেশ্যই বিকৃত হয়ে যায়।

আর যারা হাদিসটিকে দুর্বল বলে মনে করেন, তারা প্রাণীটিকে হত্যা না করার মতকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন — এবং সে মতটিও ফিকহের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো — দুটি অবস্থানেই পশুকামের জঘন্যতা এবং তার শাস্তিযোগ্যতা নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। মতভেদ শুধু বিস্তারিত প্রয়োগে।

যে বিধান একজন অজ্ঞের কাছে নিষ্ঠুর মনে হয়, একজন জ্ঞানীর চোখে তাই হয়ে ওঠে সমাজ সুরক্ষার সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা। যদি খাদ্যের প্রয়োজনে পশু জবাই বৈধ বলে বিবেচিত হতে পারে তবে সমাজের মানসিক ও নৈতিক জনস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য একটি পশুকে জবাই করে ফেলা কেন অযৌক্তিক হবে? এটি মূলত একটি বৃহত্তর সামাজিক কল্যানের জন্য ক্ষুদ্রতর বিসর্জন মাত্র। আর ইসলামের প্রতিটি বিধানের গভীরে এই প্রজ্ঞাই লুকিয়ে আছে — যা অনুসন্ধানী মনই কেবল আবিষ্কার করতে পারে। যেমনটা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,

বল, ‘যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?’ বিবেকবান লোকেরাই কেবল উপদেশ গ্রহণ করে। [সুরা আয যুমার আয়াত ৯]

অতঃপর তারা যদি তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহলে জেনে রাখ, তারা তো নিজেদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করে। আর আল্লাহর দিকনির্দেশনা ছাড়া যে নিজের খেয়াল খুশির অনুসরণ করে তার চেয়ে অধিক পথভ্রষ্ট আর কে? নিশ্চয় আল্লাহ জালিম কওমকে হিদায়াত করেন না। [সুরা কাসাস আয়াত ৫০]

আল্লাহু আলাম

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 https://www.islamweb.net/ar/fatwa/126386/.
2 ইমাম ত্বহাবী, শারহু মুশকিলিল আসার ৯/৪৩৯-৪৪০
3 ইবনে হাযম, কিতাবুল মুহাল্লা বিল আসার ১২/৩৯৯
4 আল-মুসনাদুল মুসান্নাফুল মু‘আল্লাল ১২/৫০৮; আল-‘আযীম আবাদী, শারফুল হক, কিতাবু ‘আউনিল মা‘বুদ ওয়া হাশিয়াতু ইবনিল কাইয়্যিম ১২/১০৩
5 আব্দুল মুহসিন আল-‘আববাদ, কিতাবু শারহি সুনানি আবি দাউদ লিল ‘আববাদ, অধ্যায় ৫০২, পৃষ্ঠা ২৯-৩৪
6 বদরুদ্দীন আইনি, কিতাবুল বিনায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ, ৬/৩১২
7 ইবনে আবি উমর, কিতাবুশ শারহিল কাবীর ‘আলাল মুকনি‘ – তাত তুর্কি ২৬/২৭৬
8 আল রাহিবানি, কিতাবু মাতালিবি উলিন নুহা ফি শারহি গায়াতিল মুনতাহা ৬/১৮২; কিতাবু মাওসু‘আতু মাহাসিনিল ইসলাম ওয়া রাদ্দি শুবুহাতিল লিআম ১০/১২২; ইবনে হাজার, কিতাবু তাহযীবিত তাহযীব ১০/১৭০-১৭১; মুহাম্মাদ শামসুল হক্ব আল-‘আযীম আবাদী, আউনুল মা‘বুদি – আল-‘আযীম আবাদী ১২/১২১; আরশীফু মুলতাকা আহলিল হাদীস – ১, ৬৫/২৮১-২৮২, ৮/২১২-২১৩
9 কিতাবুল মাওসু‘আতিল ফিকহিয়্যাতিল কুওয়াইতিয়্যাহ, ২৪/৩৩; মুহাম্মাদ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ, কিতাবু মাওকি‘উল ইসলামি সুআল ওয়া জাওয়াব ৫/৬৯৩৪
10, 17 ইবনু রাসলান, কিতাবু শারহি সুনানি আবি দাউদ লি ইবনি রাসলান ১৭/৪৬৭
11 ইবনে কুদামাহ, আল-মুগনী ৯/৬০
12 সুলাইমান বিন মুহাম্মদ আল-লুহাইমিদ, কিতাবু দুরুস ফিকহিয়্যাহ – আল-লুহাইমিদ, ৫/১১৮; আবু বকর আল-রাজি আল-জাসসাস, কিতাবু শারহি মুখতাসারিত ত্বহাবি লিল জাসসাস ৬/১৭৬
13 বদরুদ্দিন আল-আইনি, কিতাবুল বিনায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ, ৬/৩১২
14 আল বুহুতি, কিতাবু কাশশাফিল কিনা‘আন মাতনিল ইকনা‘ – তাব‘আতু উযারাতিল ‘আদল ১৪/৫৩
15 আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে ইয়াহিয়া আল-মাকদিসি, কিতাবু শারহি দলিলিত তালিব – আব্দুল্লাহিল মাকদিসী ৩/৫২৩
16 মুহাম্মাদ নাজীব আল-মুতি‘ঈ, কিতাবু তাকমিলাতিল মুতি‘ই আলাল মাজমু‘ই শারহিল মুহাযযাব – তাব‘আতুস সালাফিয়্যাহ, ২০/৩১
4 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button