ফারাবী আর্কাইভস্ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাব

অভিজিৎ রায়ের হাদীস বিকৃতির নমুনা, ১ম পর্ব

মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় দীর্ঘদিন ধরে কোরআন হাদীস বিকৃতি করে অনলাইনে প্রচার করছে। যে সব বাক্য হাদীসে বলা নাই তাও অভিজিৎ রায় উনার স্ক্রীনশটে দেয়া হাদীস গুলিতে ব্র্যাকেট আকারে দিয়ে দেয়। আমি এখন আপনাদের সামনে অভিজিৎ রায়ের কিছু হাদীস বিকৃতির নমুনা দেখাব। উম্মুল মুমেনীনদের নিয়ে লেখা অভিজিৎ রায়ের ১ম নোটে অভিজিৎ রায় বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৭ নং হাদীস বর্ননা করেছেন যেখানে নাকি বলা হয়েছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মুল মুমেনীন সাফিয়ার রুপ লাবণ্য দেখে তাকে বিয়ে করতে পাগল হয়ে গেছিল। নাউযুবিল্লাহ। কিন্তু বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৭ নং হাদীসে সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা কে নিয়ে কোন কথাই বলা নেই। বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৭ নং হাদীস টি আমি এখানে হবুহু তুলে ধরছি–

“আবূ মা’মার ‘আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রহঃ) আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে একটা বিচিত্র রঙের পাতলা পর্দার একটা কাপড় ছিল। তিনি তা ঘরের একদিকে পর্দা হিসাবে ব্যাবহার করছিলেন। রাসূল ﷺ বললেনঃ আমার সম্মুখ থেকে এই পর্দা সরিয়ে নাও। কারণ সালাত (নামায) আদায় করার সময় এর ছবিগুলি আমার সামনে ভেসে ওঠে।”

আপনারা দেখেন এই হাদীসে আসছে ঘরের একটি পর্দার কথা কিন্তু অভিজিৎ রায় কি সুন্দর ভাবে ঘরের পর্দার জায়গায় উম্মুল মুমেনীন সাফিয়া কে টেনে নিয়ে আসছেন। হ্যা বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৪ নং হাদীসে সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ৩৬৭ নং হাদিসে নয়। বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৭ নং হাদীসে সাফিয়াকে নিয়ে এই জাতীয় কোন কথাই নাই। তাই আমরা প্রথমেই বুঝলাম যে অভিজিৎ রায় হাদিসের ক্রমিক নাম্বার অনুসারে আমাদের কাছে হাদীস বর্ননা করে নি। তাই এই অভিজিৎ রায় যে একটা ভণ্ড এর প্রথম প্রমান আমরা পেলাম।

উম্মুল মুমেনীনদের নিয়ে লেখা অভিজিৎ রায়ের ১ম নোটে এই কুলাঙ্গার অভিজিৎ রায় বুখারী শরীফের একটি হাদীসে নিজে থেকে কয়েক লাইন লাগিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে চরম মিথ্যাচার করেছে। অভিজিৎ রায়ের ১ম নোটে সে লিখেছে- “৬২৮ সালের মে মাসে খাইবার দখলের পর যেদিন মোহাম্মদের দল সাফিয়ার পিতা, স্বামী, ভাই এদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করে, ঠিক সেদিনই মোহাম্মদ সাফিয়াকে নিয়ে নিজের তাবুতে রাত কাটান। প্রথমে অবশ্য দিহাইয়া নামের এক জিহাদী সৈনিক সাফিয়াকে পছন্দ করেছিলেন উপভোগের জন্য। পরে আরেকজন সাহাবির মুখে নবীজী যখন সাফিয়ার রূপলাবণ্যের কথা শুনলেন, আল্লাহর রাসুল তাকে সামনে নিয়ে আসার জন্যে আদেশ দিলেন। নবীজী ভালভাবে তাকিয়ে দেখলেন এই অপূর্ব সুন্দর দেহবল্লরী তো তারই উপযুক্ত। নবী সেই সাহাবীকে বললেন, ‘একে আমার জন্যে রেখে তুমি অন্য কাউকে নিয়ে যাও’, এরপরই মহানবী সাফিয়াকে নিজের ‘স্ত্রী হিসেবে’ নির্বাচিত করে তার শয্যাসঙ্গি হন। বুখারী শরীফের ১:৮ :৩৬৭”

অভিজিৎ রায়ের হাদীস বিকৃতির নমুনা, ১ম পর্ব

আমি আগেই আপনাদের কে বলছি যে বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৪ নং হাদীসে সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহার কথা বলা হয়েছে, ৩৬৭ নং হাদিসে নয়। এখন দেখি তো বুখারী শরীফের ৩৬৪ নং হাদিসে কি বলা হয়েছে-

দিহাইয়া এসে বললেন- হে নবী , আমাকে বন্দিনী নারীদের মধ্য হতে একজন দাসীকে দিন। নবী বললেন- যাও তোমার যেটা পছন্দ সেটা নিয়ে নাও। উনি তখন সাফিয়া বিনতে হুইকে নিলেন। এক লোক এসে বললেন- হে নবী আপনি দাহিয়াকে সেই নারী দিয়েছেন যে নাকি খায়বারের সর্দারের স্ত্রী এবং সে কেবল আপনারই উপযুক্ত। নবী তখন তাকে সাফিয়াকে তাঁর কাছে আনার জন্য হুকুম করলেন। সাফিয়াকে তার সামনে আনা হলে, তিনি দেখে দিহাইয়াকে অন্য নারী নিতে বললেন ও সাফিয়াকে নিজের কাছে রেখে দিলেন এবং বিয়ে করলেন’ (বুখারী, বই ১, ভলিয়ুম-৮, হাদিস-৩৬৭)।

এবার খেয়াল করুন- বুখারী শরীফের এই হাদিসে সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা কে বিবাহের কারন কি বর্ণিত আছে? এই হাদিসে এটা স্পষ্ট যে, গোত্রের সবচাইতে সম্মানিত ও সম্ভ্রান্ত মহিলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিজের জন্য গ্রহন করার সুপারিশ করা হয়, এখানে রুপযৌবনের কোনও কথা বলে সুপারিশ করা হয় নি। অথচ মালাউন অভিজিৎ রায় লিখলঃ ‘‘আরেকজন সাহাবির মুখে নবীজি যখন সাফিয়ার রূপলাবণ্যের কথা শুনলেন, আল্লাহর রাসুল তাকে সামনে নিয়ে আসার জন্যে আদেশ দিলেন। নবীজী ভালভাবে তাকিয়ে দেখলেন এই অপূর্ব সুন্দর দেহবল্লরী তো তারই উপযুক্ত। নবী সেই সাহাবীকে বললেন, ‘একে আমার জন্যে রেখে তুমি অন্য কাউকে নিয়ে যাও’’। (নাউজুবিল্লাহ)

দেখেন আপনারা হাদীসে কোথাও বলা নাই যে সাফিয়ার রুপ লাবণ্য দেখে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আকৃষ্ট হয়েছিলেন কিন্তু এই মালাউন অভিজিৎ রায় বুখারী শরীফের হাদীস বিকৃতি করে বলল যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নাকি সাফিয়ার রুপ দেখে পাগল হয়ে গেছিল। নাউযুবিল্লাহ। শুধু তাই নয় এই অভিজিৎ রায় তার নোটে ও ব্লগে এই কথাও বলেছে যে সাফিয়া নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রক্ষিতা ছিল। নাউযুবিল্লাহ। কিন্তু বুখারী শরীফের ১ম খন্ডের সালাত অধ্যায়ের ৩৬৪ নং হাদীসেই বলা আছে যে সাফিয়া কে ঐদিনই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিয়ে করেছেন। আমি হাদিস থেকে আপনাদের কে লেখাটা দিচ্ছি-

রাবী বলেনঃ নাবী ﷺ সাফিয়্যা (রাঃ)-কে আযাদ করে দিলেন এবং তাঁকে বিয়ে করলেন। রাবী সাবিত (রহঃ) আবূ হামযা (আনাস) (রাঃ)-কে জিজ্ঞেসা করলেনঃ নাবী ﷺ তাঁকে কি মোহর দিলেন? আনাস (রাঃ) জওয়াব দিলেন তাঁকে আযাদ করাই তাঁর মাহর। এর বিনিময়ে তিনি তাঁকে বিয়ে করেছেন। এরপর পথে উম্মে সুলায়ম (রাঃ) সাফিয়্যা (রাঃ)-কে সাজিয়ে রাতে রাসূল ﷺ –এর খিদমতে পেশ করলেন। নবী ﷺ বাসর রাত যাপন করে ভোরে উঠলেন। তিনি ঘোষণা দিলেনঃ যার কাছে খানার কিছু আছে সে যেন তা নিয়ে আসে। এ বলে তিনি একটা চামড়ার দস্তরখান বিছালেন। কেউ খেজুর নিয়ে আসলো, কেউ ঘি আনলো। ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ) বলেনঃ আমার মনে হয় আনাস (রাঃ) ছাতুর কথাও উল্লেখ করেছেন। তারপর তাঁরা এসব মিশিয়ে খাবার তৈরি করলেন। এ-ই ছিল রাসূল ﷺ এর ওয়ালীমা। ”

শুধু তাই নয় বুখারী শরীফের ৫৪ অধ্যায় বিয়ে-শাদী অধায়্যের ৪৭৮২ নং হাদিসে বলা হয়েছে-

“মুহাম্মদ ইবনু সালাম (রহঃ) হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী ﷺ তিনদিন পর্যন্ত মদিনা এবং খায়বরের মধ্যবর্তী কোন এক স্থানে অবস্থান করেন। সেখানে তিনি সাফিয়া বিনতে হুয়ায়া (রাঃ)-এর সাথে শাদী বন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর আমি মুসলমানদেরকে ওয়ালীমার জন্য দাওয়াত করি, তাতে রুটি ও গোশত ছিল না। নাবী ﷺ চামড়ার দসত্মরখানা বিছাবার জন্য আদেশ করলেন এবং তাতে খেজুর, পনির এবং মাখন রাখা হল। এটাই রাসুলুল্লাহ ﷺ -এর ওয়ালীমা।”

আবার সহীহ বুখারি শরীফের ৫১ অধ্যায় মাগাযী (যুদ্ধাভিযান) অধ্যায়ের ৪০৫৯ হাদিস টা আপনার একটু পড়ুন-

“হযরত আবূল ইয়ামান (রহঃ) হযরত রাসূল ﷺ এর সহধর্মিনী হযরত আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসূল ﷺ সহধর্মিনী হুয়াই এর কন্যা হযরত সাফিয়া (রাঃ) বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) সময় ঋতুবতী হয়ে পড়েন। তখন রাসূল ﷺ বললেন, সে কি আমাদের (মদিনার পথে প্রত্যাবর্তনে) বাঁধ সাধল? তখন আমি বললাম, ইয়া রাসূল ﷺ , তিনি তো তাওয়াফে যিয়ারাহ্ আদায় করে নিয়েছেন। তখন রাসূল ﷺ বললেন, তাহলে সেও রওয়ানা করুক।”

এরকম বুখারী শরীফে অনেক হাদীসই পাওয়া যায় যেখানে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে যে সাফিয়া রাযিয়াল্লাহু আনহা ছিলেন উম্মুল মুমেনীন। কিন্তু এই মালাউন অভিজিৎ রায় তার নোট ও ব্লগে বারবার মিথ্যাচার করেছে যে সাফিয়া নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের রক্ষিতা ছিল। নাউযুবিল্লাহ। আমি অভিজিৎ রায়ের পা চাটা মুরিদদের কে বলতে চাই এই দেখেন আপনাদের বাপ অভিজিৎ রায় ঠিক এরকম ভাবেই হাদীস বিকৃতি করে আপনাদের কে ভুল বুঝাচ্ছে। অভিজিৎ রায়ের ভণ্ডামি গুলি ধরিয়ে দেবার জন্য এই মালাউন অভিজিৎ রায় আমাকে ব্লক করে রেখেছে। শুধু তাই নয় তাদের ভণ্ডামি গুলি মানুষ জেনে যাবে বলে এই অভিজিৎ রায়, মগাচীপ আসিফ মহিউদ্দীনের ওয়ালে তাদের বন্ধুরা ছাড়া আর কেউ কমেন্ট করতে পারে না। তাও নাকি তারা মুক্তমনা !

তারপর হযরত সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রাযিয়াল্লাহু আনহার দাম্পত্য জীবন নিয়েও এই মালাউন অভিজিৎ রায় অনেক মিথ্যাচার করেছে। হযরত সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই রাযিয়াল্লাহু আনহা কে নিয়ে অভিজিৎ রায়ের এই মিথ্যাচার গুলি জানার জন্য পড়ুনঃ

যখনই কোন নাস্তিক আপনাদের কে কোন হাদীসের রেফারেন্স দিবে তখনই আপনারা এই ওয়েবসাইট http://www.hadithbd.com এ গিয়ে দেখে নিবেন যে ঐ নাস্তিকের দেয়া হাদীস টা ঠিক আছে কিনা। বাংলাভাষায় সকল হাদিস আপনারা এই http://www.hadithbd.com ওয়েবসাইট থেকেই পাবেন।

সূরা আত তাহরীমের ১ম ১২ আয়াতের শানে নুযুলে উম্মুল মুমেনীন মারিয়া কিবতিয়ার নাম কোন তাফসীরকারক উল্লেখ না করলেও এই অভিজিৎ রায় উনার ১ম নোটে উম্মুল মুমেনীন মারিয়া কিবতিয়ার প্রসঙ্গ টেনে নিয়ে এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কেও চরম অশ্লীল মন্তব্য করেছ। উম্মুল মুমেনীন মারিয়া কিবতিয়া সম্পর্কে অভিজিৎ রায়ের সকল প্রশ্নের জবাব এখানে দেয়া হয়েছে।

তারপর অভিজিৎ রায় তার ১ম নোটে বলছে আত তাবারীই নাকি হচ্ছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভাল উৎস ! অভিজিৎ রায় বলতে চাচ্ছে যে বুখারী মুসলিম তিরমিযী সীরাতে ইবনে ইসহাক, সীরাতে ইবনে হিশাম এখন থেকে বাদ দিয়ে আমরা মুসলমানরা এখন থেকে ইসলাম জানব তাবারী নামক একটা ইতিহাস গ্রন্থ থেকে !

অভিজিৎ রায়ের হাদীস বিকৃতির নমুনা, ১ম পর্ব

বাংলা অন্তর্জালে দীর্ঘদিন ধরে নাস্তিকরা আত তাবারী নামক একটি ইতিহাস গ্রন্থ কে হাদীস গ্রন্থ বলে চালিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু আপনারা কি জানেন তাবারী বা আত তাবারী বা আল তাবারী যে নামেই আমরা এই গ্রন্থটিকে ডাকি না কেন এটা কোন হাদীস গ্রন্থ নয়। তাবারী হচ্ছে একটা ইতিহাস গ্রন্থ। কিন্তু অনলাইনে নাস্তিকরা কি চমৎকার ভাবেই না দীর্ঘদিন ধরে আমাদের কাছে এই তাবারী নামক একটা ইতিহাস গ্রন্থ কে হাদীস গ্রন্থ বলে চালিয়ে যাচ্ছে। ৩১০ হিজরির দিকে ইবনে জরীর আল তাবারী নামক একজন মুসলিম স্কলার এই তাবারী নামক একটি ইতিহাস গ্রন্থ লিখেন। এই তাবারী গ্রন্থের পূরা নাম হল تاريخ الرسل والملوك Tarikh al-Rusul wa al-Muluk, তবে সাধারনত একে Tarikh al-Tabari/তারিখ আল তাবারী নামেই ডাকা হয়।

এই তাবারী ইতিহাস গ্রন্থে যেই সব বর্ননা এসেছে তার কোনটাই হাদীস নয়। হাদীস শাস্ত্রের কোন কিতাবে তাবারী নামক কোন গ্রন্থও নেই। এই তাবারীর ভুলভাল ইতিহাস লেখার প্রতিবাদ করেই ইবনে কাসীর “আল বিদান ওয়ান নেহায়া” নামক আরেকটি ইতিহাস গ্রন্থ লিখেন। অর্থ্যাৎ তাবারী বা আল বিদান ওয়ান নেহায়া এগুলি কোনটাই হাদীস গ্রন্থ নয়। এগুলি হচ্ছে সব ইতিহাস গ্রন্থ। তারাবী গ্রন্থের ভুমিকায় ইবনে জরীর আল তাবারী নিজেই বলেছেন-

“Let the reader be aware that whatever I mention in my book is relied on the news that were narrated by some men. I had attributed these stories to their narrators, without inferring anything from their incidents ….”

“If a certain man gets horrified by a certain incident that we reported in our book, then let him know that it did not come from us, but we only wrote down what we received from the narrators. ”

অর্থাৎ আমি ভালো-খারাপ সকল ব্যক্তির কাছে যা বর্ণনা পেয়েছি তার সব এখানে তুলে ধরেছি, এর থেকে জ্ঞানীরা সব যাচাই বাছাই করে নিবে .

অর্থাৎ জরীর আল তাবারী তিনি তাঁর এই তাবারী গ্রন্থে যা কিছু বর্ণনা পেয়েছেন, তা কোনোরকম যাচাই- বাঁচাই ছাড়াই তা সংগ্রহ করেছিলেন। এতে উনার তাবারী গ্রন্থটি একটি বৃহৎ ইতিহাস গ্রন্থ হলেও কোন নির্ভরযোগ্য ইতিহাসগ্রন্থ হিসেবে তা বিবেচিত হয়না। সুতরাং তাবারির যে-সব কথা বা যে কোনো ইতিহাসভিত্তিক বর্ণনা, যদি কোন হাদিসের বিপরীত হয় তা কখনই গ্রহণযোগ্য হবে না। ইবনে জরীর আল তাবারী বিভিন্ন রাবীর কাছ থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন সম্পর্কিত অনেক বর্ননা সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন সম্পর্কিত তাবারীর সেই সংগৃহিত বর্ননা গুলি হাদীসের মাপ কাঠিতে উত্তীর্ন হতে পারি নি।[1]উল্লেখ্য, তাবারী রহঃ এর তারিখ গ্রন্থে সহীহ যঈফ উভয় প্রকার বর্ণনাই রয়েছে। সকল বর্ণনা যঈফ নয়, এটা ফারাবী ভাইয়ের ভুল কথা। – ফ্রম মুসলিমস্‌ টিম আর তাই তাবারীকে কোন হাদীস গ্রন্থ বলা হয় না। তাবারী হচ্ছে মূলত একটা ইতিহাস গ্রন্থ। আর যেই উইকিপিডিয়ার কথা বলে নাস্তিকরা মুখে ফেনা উঠাই ফেলায় সেই উইকিপিডিয়ায় পর্যন্ত বলা হয়েছে যে তাবারী হচ্ছে একটা ইতিহাস গ্রন্থ। আপনারা এই লিংক http://en.wikipedia.org/wiki/History_of_the_Prophets_and_Kings এ যেয়ে তাবারী যে একটা ইতিহাস গ্রন্থ সে সম্পর্কে জানতে পারবেন।

Read More...  দাসপ্রথা ও ইসলাম: নাস্তিকদের অভিযোগের খণ্ডন

বাইবেলে হযরত দাউদ আলাইহিস সাল্লাম, হযরত লুত আলাইহিস সাল্লাম, হুযরত সুলায়মান আলাইহিস সাল্লাম সম্পর্কে অনেক অনৈতিক কথা বার্তা রয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই জানি যে নবী রাসূলগন হলেন নিস্পাপ। আল কোরআনেই নবী রাসূলদের নিস্পাপ থাকার কথা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তাই বাইবেলে নবী রাসূলদের সম্পর্কে যে অনৈতিক কথা গুলি এসেছে এর সবগুলিই যে ইহুদী খৃস্টানদের বানোয়াট এতে কোন সন্দেহ নাই। দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাইবেলে নবী রাসূলদের সম্পর্কে যে অনৈতিক কথা গুলি এসেছে ঠিক তাবারীতেও এই বর্ননা গুলি এসেছে। আর তাই তাবারী গ্রন্থে লেখা অনেক ইতিহাস যে ভুল এতে কোন সন্দেহ নাই।

তাওরাত-যাবুর-ইঞ্জিল ইয়াহুদী-খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ হলেও এই ধর্মগ্রন্থ গুলির বর্ণনার কোনো সুত্র বা সনদ নেই। লুক-মথির পত্র এগুলো কি আসলেই তাদের পত্র, নাকি অন্যের বানানো কিতাব এটা ইয়াহুদী-খ্রিস্টানরা প্রমাণ করতে পারবে না। এইজন্য দেখা যায় রোমান ক্যাথলিকরা যে বাইবেল পড়ে, প্রোটেস্টেন্ট খৃস্টানরা তাকে বাইবেল বলে মানে না। আর ইহুদীরা তো বাইবেলের অল্ড টেস্টমেন কে স্বীকারই করতে চায় না। ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থ হল তালমুদ।

কিন্ত আপনারা যারা হাদিসের কিতাব পড়েছেন, তারা দেখেছেন হাদিস বর্ণনার আগে কিছু নাম দেয়া থাকে। অর্থাৎ হাদিসটি গ্রন্থবদ্ধ হওয়ার আগে কারা হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তাদের নাম। আর উনাদেরকেই বলা হয় রাবী। এবার রিজাল শাস্ত্রের কিতাব খুললেই আপনি রাবীদের জীবনী পাবেন। রাবীরা কেমন লোক ছিলো, সেটাও জানতে পারবেন। এভাবে রিজাল শাস্ত্রের কিতাবগুলিতে প্রায় ৫ লক্ষ রাবীর জীবনী সংকলিত হয়েছে।

এইজন্যই মুহাদ্দিসরা বলেন, “সনদ হচ্ছে দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ। যদি সনদ না থাকে, তবে যার যা মন চায়, সে তা-ই বলবে।” আর তাবারী গ্রন্থে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন সম্পর্কিত যেই বর্নানাগুলি এসেছে সেগুলি সনদের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারে নাই। আর তাই তাবারী হল শুধুমাত্র একটা ইতিহাস গ্রন্থ কোন হাদীস গ্রন্থ নয়। এই নাস্তিকরা প্রায়ই তারিখ আল তাবারী কে একটা হাদিস গ্রন্থ বলে তাবারী থেকে বিভিন্ন বর্ননা নিজের মত করে দিয়ে মুসলমানদের কে বিভ্রান্ত করছে। তাই নাস্তিকদের দেয়া তাবারী গ্রন্থের কোন কথাই আপনারা আর বিশ্বাস করবেন না। ইসলামের সীরাত গ্রন্থ গুলি হচ্ছে সীরাতে ইবনে ইসহাক, সীরাতে ইবনে হিশাম প্রভৃতি। আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী জানব বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থ থেকে। কখনই তাবারী থেকে নয়। মুসলিম স্কলাররা অনেক আগেই তাবারী নামক এই ইতিহাস গ্রন্থ কে পরিতাজ্য ঘোষণা করেছেন। ইবনে জরীর আল তাবারি নামে দুই জন প্রসিদ্ধ আলিম ছিলেন। একজন কট্রর শিয়াপন্থী অপরজন হক্বপন্থী। তারিখে তাবারি হকপন্থী আলিমেরই লেখা। তবে তিনি তাঁর এই গ্রন্থে যা- কিছু বর্ণনা পেয়েছেন, কোনোরকম যাচাই- বাঁচাই ছাড়াই সংগ্রহ করেছেন। এতে গ্রন্থটি বৃহৎ ইতিহাসগ্রন্থ হলেও নির্ভরযোগ্য ইতিহাসগ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়নি। সুতরাং তাবারির যে-সব বর্ণনা বা যে কোনো ইতিহাসভিত্তিক বর্ণনা, তা যত শক্তিশালী-ই হোকনা কেনো, কোন হাদিসের বিপরীত হলে তা কখনো গ্রহণযোগ্য হবে না ।

সীরাতে ইবনে ইসহাক বা সীরাতে ইবনে হিশাম যার তার কাছ থেকে বর্ণনা নিয়ে লেখা হয় নি। মোটামুটি সনদের একটা ধারাবাহিকা রক্ষা করা হয়েছে এই সীরাত গ্রন্থ গুলিতে। কিন্তু তাবারীতে যা কিছুই করা হয় নি। আর তাই তাবারীকে অনেক আগেই মুসলিম স্কলাররা বাদ দিয়েছেন। সত্যি কথা বলতে কি ইতিহাস জানার জন্য তাবারীর চেয়ে আল বিদান ওয়ান নিহায়া উত্তম। বাইবেলে একটি কাহিনী বর্নিত আছে যে দাউদ আলাইহিস সাল্লাম নাকি উনার সেনাপতি উরিয়ার স্ত্রী বত্শেতবা বিনতে ইলিয়ামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল। পরবর্তীতে এক অসম যুদ্ধে উরিয়াকে প্রেরণ করে তারপর উরিয়া নিহত হলে বত্শেরবা কে নাকি হযরত দাউদ আলাইহিস সাল্লাম পরবর্তীতে বিয়ে করেন। হযরত দাউদ আলাইহিস সাল্লাম নাকি নারী লিপ্সু ছিল এসব কথাও বাইবেলে লেখা আছে। নাউযুবিল্লাহ। কিন্তু পবিত্র কোরআনে স্পষ্ট বলা আছে যে সকল নবী রাসূলরা হল নিস্পাপ। দুঃখজনক হলেও সত্য যে হযরত দাউদ আলাইহিস সাল্লাম কে নিয়ে লেখা এই মিথ্যা কিচ্ছা কাহিনীটা আত তাবারীতেও বর্ণিত আছে। তাই তাবারীর অনেক কথাই যে পরিতাজ্য এতে কোন সন্দেহ নাই। সীরাত গুলি লেখা হয়েছে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইন্তেকাল হবার পর ১০০ বছর পর। আর সীরাতে ইবনে হিশাম, ইবনে ইসহাক এও কিছু বর্ণনা পাওয়া যায় যা সহী হাদীস গুলির সাথে সাংঘর্ষিক। অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী সম্পর্কিত কোন তথ্য যদি সহীহ হাদীস বা আল কোরআনের বিপরীত হয় তাইলে তা পরিতাজ্য। তাবারী হচ্ছে মূলত একটা ইতিহাস গ্রন্থ। ইসলামের সীরাত গ্রন্থ গুলি হচ্ছে সীরাতে ইবনে ইসহাক, সীরাতে ইবনে হিশাম। এইসব সীরাতে স্পষ্ট বলা আছে যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রী ছিল ১৩ জন। এইসব সীরাতে হযরত স্যাফিয়া,হযরত জুহায়রিয়া,হযরত মারিয়া কিবতিয়া ও হযরত রায়হানা উনাদের বলা হয়েছে উম্মুল মুমেনীন।

অভিজিৎ রায়ের “বিশ্বাসের ভাইরাস” বইটাতেও বুখারী শরীফের এই হাদিসটি বিকৃত করা হয়েছে। এবং অভিজিৎ রায় উনার “বিশ্বাসের ভাইরাস” বইটাতে বলেছেন যে আল তাবারীই হচ্ছে নাকি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন সম্পর্কে জানার সবচেয়ে ভাল উৎস !রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বহু বিবাহ নিয়ে অভিজিৎ রায়ের যেন প্রশ্নের শেষ নাই। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বহু বিবাহ প্রসঙ্গে ইসলাম বিদ্বেষীদের সকল সমালোচনার জবাব এখানে

আচ্ছা এখন তো ২০১৪ সাল। এই ২০১৪ সালেও যে হিন্দু মেয়েরা তাদের বাপ মা স্বামীর কোন সম্পত্তির মালিক হয় না, কোটিপতি বাপের মেয়ে হলেও একটা হিন্দু মেয়ে তার বাপের কোন অস্থাবর স্থাবর সম্পত্তি পায় না। একটা হিন্দু মেয়ে কখনই তার স্বামীকে তালাক দিতে পারে না, একটা হিন্দু মেয়ে বিয়ের সময় কোন দেনমোহর পায় না, শুধু তাই নয় হিন্দু মেয়েদের বিয়ের সময়ে কোন সাক্ষীও থাকে না। অগ্নিকে সাক্ষী রেখে এই হিন্দু মেয়েদের বিয়ে হয়। যারা Law তে পড়াশুনা করেছেন তারা জানেন যে হিন্দু আইনে বিয়েকে কোন চুক্তি বলা হয় নাই হিন্দু আইনে বিয়েকে বলা হয়েছে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান। তাই স্বাভাবিক ভাবেই হিন্দু মেয়েদের বিয়ের সময়ে কোন সাক্ষীও থাকে না ও হিন্দু মেয়েরা বিয়ের সময়ে স্বামীর কাছ থেকে কোন দেনমোহরও পায় না। সত্যিকথা বলতে হিন্দু ধর্মে মেয়েদের কে এক টুকরা মাংস ছাড়া আর কিছুই মনে করা হয় না। তাই হিন্দু ধর্মে মেয়েদের নূন্যতম অধিকার বলতে কিছু নাই। কিন্তু আপনারা কি কখনই দেখেছেন এই অভিজিৎ রায়কে এই হিন্দু পারিবারিক আইন সংস্কার করা নিয়ে কিছু লিখতে। কিন্তু দ্বীন ইসলাম কে জড়িয়ে মিথ্যা কথা বলার যেন শেষ নাই এই অভিজিৎ রায়ের। আসলে এই অভিজিৎ রায় কোন নাস্তিক না এই অভিজিৎ রায় হচ্ছে একটা কট্টর হিন্দু যে নাস্তিকতার আড়ালে মুসলমানদের ঈমান ধ্বংসের মিশনে নেমেছে।

উৎসঃ ফারাবী ব্লগ, ১০ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৪ [আর্কাইভ]

ফ্রম মুসলিমস্‌ টিম থেকে সংশোধনীঃ

সহিহ বুখারীর ২৮৯৩ নং হাদিসে এভাবে সাফিয়্যা রাঃ এর সৌন্দর্যের কথা এসেছেঃ

…অতঃপর যখন আল্লাহ তা‘আলা তাঁকে দুর্গের উপর বিজয়ী করলেন, তখন তাঁর নিকট সাফিয়্যা বিনতু হুয়াই ইবনু আখতাবের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করা হলো, তিনি ছিলেন সদ্য বিবাহিতা; তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে নিজের জন্য মনোনীত করলেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে রওয়ানা দিলেন। আমরা যখন সাদ্দুস্ সাহ্বা নামক স্থানে পৌঁছলাম তখন সফিয়্যাহ (রাঃ) হায়েয থেকে পবিত্র হন। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেখানে তাঁর সঙ্গে বাসর যাপন করেন। অতঃপর তিনি চামড়ার ছোট দস্তরখানে ‘হায়সা’ প্রস্তুত করে আমাকে আশেপাশের লোকজনকে ডাকার নির্দেশ দিলেন। এই ছিল আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সঙ্গে সাফিয়্যার বিয়ের ওয়ালিমা।…

বেআক্কেল নাস্তিক ছাড়া সকল সাধারণ মানুষের কাছে এটাই স্বাভাবিক যে বিয়ে শাদীর ক্ষেত্রে কিংবা দাসী ক্রয়/নির্বা‌চনের পাত্রীর সৌন্দর্য একটি ফ্যাক্টর। এখানে তারা কীভাবে অশ্লীল চিন্তাভাবনা করে সেটাই চিন্তার!

আম্মাজান সাফিয়্যা রাঃ এর সম্পর্কে উগ্র নাস্তিকদের বিবিধ বিভ্রান্তির জওয়াবঃ

ফ্রম মুসলিমস্‌ টিম থেকে সংশোধনীঃ

সহিহ বুখারীর ১ঃ৮ঃ৩৬৭ নং হাদিসে ইংরেজিতে ভিন্ন প্রকাশনীতে সাফিয়্যা রাঃ সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত আছে [দেখুন এখানে]। আশা করছি, এটি ফারাবী ভাইয়ের অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিলো।

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 উল্লেখ্য, তাবারী রহঃ এর তারিখ গ্রন্থে সহীহ যঈফ উভয় প্রকার বর্ণনাই রয়েছে। সকল বর্ণনা যঈফ নয়, এটা ফারাবী ভাইয়ের ভুল কথা। – ফ্রম মুসলিমস্‌ টিম

Farabi Archives - ফারাবী আর্কাইভস্‌

শাফিউর রহমান ফারাবী - ভাইয়ের লেখাসমূহের সংরক্ষণ
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button