ঢাকা পতন ও ইসরায়েল – পর্ব ১
নয়াদিল্লি এক ইহুদির সামনে পুরো মুসলিম দেশের মাথানত করা দেখাতে চেয়েছিল

- ঢাকা পতন ও ইসরায়েল – পর্ব ১
- ঢাকা পতন ও ইসরায়েল – পর্ব ২
- ঢাকা পতন ও ইসরায়েল – পর্ব ৩
- ঢাকা পতন ও ইসরায়েল – পর্ব ৪
পাকিস্তান থেকে পূর্ববাংলার বিচ্ছিন্নতাকে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ দেখেছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি মুসলিম শক্তিকে দুর্বল করার সুযোগ হিসেবে।
ইসরায়েলী এই চেতনার প্রকাশ যে ভারতীয় মনস্তত্ত্বেও প্রবলভাবে শেকড় গেড়ে ছিল তার এক চমৎকার নজির দিয়েছেন খ্যাতনামা ভারতীয় সাংবাদিক কুলদীপ নায়ার সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর গ্রন্থ ‘Beyond the Lines’-এ। সেখানে[1]Beyond the Lines, Daily Star book, Dhaka, 2012, p.218 [PDF] কুলদীপ নায়ার দেখিয়েছেন, একাত্তরের ১৫ ডিসেম্বরই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ভারতীয় বাহিনীর কাছে অস্ত্রসমর্পণের জন্য প্রস্তুত থাকার পরও এবং সেভাবে প্রক্রিয়া শুরুর পরও বিষয়টি ঘটে ২৪ ঘণ্টা পরে এবং নজিরবিহীনভাবে খোলা মাঠে। কেন এটা ঘটেছিল। এ সম্পর্কে তখনকার ভারতীয় ইস্টার্ন কমান্ডের চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল জে এফ আর জেকব সাংবাদিক নায়ারকে জানাচ্ছেন,
‘New Delhi wanted to humiliate Islamabad by showing that Muslim country had laid down arms before a Jew.’
উল্লেখ্য, জেনারেল জেকব ছিলেন একজন ইহুদি। আরও উল্লেখ্য, পাকিস্তানকে দ্বিখণ্ডিত করতে বিশেষ সফলতার প্রতীক হিসেবে ইসরায়েল তার সামরিক জাদুঘর ‘Latrum‘-এ জেকবের সামরিক পোশাকটি বিশেষ মর্যাদার সঙ্গে সংরক্ষণ করছে। ভারত-ইসরায়েল সম্পর্ক নির্মাণে ১৯২৩ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণকারী এবং ১৯৭৮ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া Jack Farj Rafael Jacob-এর ভূমিকা সম্পর্কে আরও জানতে দেখুন,
- Jack Jacob: The general who saved India from more war, https://jewishjournal.com/news/worldwide/106897/
উল্লেখ্য, জেকবকেই ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের প্রধান স্থপতি হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং প্রধানত তাঁর ভূমিকার মধ্য দিয়েই ১৯৯২ সালে ইসরায়েল-ভারত কূটনৈতিক সম্পর্কও স্থাপিত হয়।
আলতাফ পারভেজের লেখা অবলম্বনে।[2]মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী: ইতিহাসের পুনর্পাঠ, পৃ ৭৩-৭৪, লেখক- আলতাফ পারভেজ





