
- ঢাকা পতন ও ইসরায়েল – পর্ব ১
- ঢাকা পতন ও ইসরায়েল – পর্ব ২
- ঢাকা পতন ও ইসরায়েল – পর্ব ৩
- ঢাকা পতন ও ইসরায়েল – পর্ব ৪
এক
গৃহযুদ্ধের প্রাক্কালে ‘৭১ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের বিভিন্ন দেশের সাথে ইসরায়েলকেও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চিঠি পাঠায় অস্থায়ী সরকার।
তবে সে চিঠিকে সেসময় এক্সেপ্ট কিংবা রিজেক্ট কোনোটাই করে নি ইসরায়েল সরকার।[1]Some discussion here: https://www.reddit.com/r/Israel/comments/qcnjdp/1971_the_newly_formed_republic_of_bangladesh/ (Main Archive link is dead).
দুই
পরে যুদ্ধ চলাকালীনই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহবান জানায় ইসরায়েল। কিন্তু প্রবাসী সরকার আরব দেশগুলোর ভয়ে সেটা গ্রহণ করে নি। ইসরায়েল এসময় বাংলাদেশের জন্য বিমানে করে ওষুধ সামগ্রীও পাঠায় ভারতে- কিন্তু ‘বাংলাদেশের প্রবাসী সরকারের তরফ থেকে সেই ওষুধ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করা হয়’- বলে জানিয়েছেন ডেভিড যোহর-যিনি সেসময় বোম্বেতে ইসরায়েলের একজন ভাইস-কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। ডেভিড এও জানাচ্ছেন, উল্লিখিত ওষুধ সামগ্রী পরে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অক্সফাম-এর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তারা সেটা ‘ব্রিটেনের অনুদান’ হিসেবে ঢাকায় নিয়ে গিয়েছিল।[2]দেজা নিউজ আর্কাইভ (বর্তমানে গুগল গ্রুপস্)-এ ১৯৯৯ সালের কথোপকথন দেখুন: https://groups.google.com/g/soc.culture.bangladesh/c/S6FEpbPjdo0 [ইন্টারনেট আর্কাইভ]
তিন
যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।[3]Daily News Bulletin, Jewish Telegraphic Agency, Feb 7, 1972 https://www.jta.org/archive/israel-recognizes-bangladesh
চার
❝A senior Israeli Foreign Ministry source told an A.N.S. correspondent in Jerusalem yesterday that overt support and recognition would be “the kiss of death” for Muslim East Bengal. Jerusalem would avoid any move likely to embarrass the Bangla Desh leadership and the whole question of aid and recognition had been handled with great care in order to avoid damaging the interests of the Bangla Desh movement. But he confirmed that any formal request by Bangla Desh for Israeli recognistion “would be considered sympathetically.”❞[4]From the Archives (April 20, 1971): Bangla Desh rejects Israeli offer https://www.thehindu.com/archives/from-the-archives-april-20-1971-bangla-desh-rejects-israeli-offer/article34360279.ece
পাঁচ
গোয়েন্দা সংস্থা হিসেবে ‘র’ গঠিত হওয়ার পরপরই ভারত সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে তার একটি আউটপোস্ট প্রতিষ্ঠা করে। এই অফিসটি ব্যবহৃত হতো মূলত বিদেশে পাকিস্তানের বিভিন্ন দূতাবাসে কর্মরত বাঙালি কূটনীতিবিদদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য। এই লিয়াঁজোতে ‘র’কে সহায়তা করে ‘মোসাদ’। এ বিষয়ে ‘র’-এর কর্মকর্তা বি. রমন লিখেছেন,
‘১৯৬৮ সালের সেপ্টেম্বরে ‘র’ গঠিত হওয়ার পরপরই আর এন কাও-এর সৃষ্ট প্রথম পোস্টগুলোর একটি হয় জেনেভায়। তিনি এই পোস্টটিকে ইসরাইলের বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে গোপন লিয়াজোঁ স্থাপন এবং ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর রাজনৈতিক, সামরিক ও কূটনীতিক সোর্সগুলোর সাথে স্পর্শকাতর বৈঠক অনুষ্ঠানের পয়েন্ট হিসেবে কাজে লাগাতো। …এই পোস্টটি গঠনের পর প্রায় ১০ বছর মোসাদ এটাকে তার যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে। … জেনেভায় বহু গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এগুলোর উল্লেখযোগ্য হচ্ছে, ১৯৭১ সালের আগে বাংলা ভাষাভাষী কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকগুলো। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগপর্যন্ত বাংলাভাষী কূটনীতিকদের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিয়ে যাওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হতো।…[5]বিস্তারিত দেখুন, বি. রমন, র-এর কাউবয়েরা, পৃ. ১৫৭ (গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন মাসুমুর রহমান খলিলী ও মো. একরামুল্লাহিল কাফি, প্রতীতি প্রকাশন, ঢাকা, ২০০৮).
একাত্তরে ভারত-ইসরায়েল সম্পর্কের আরও চমকপ্রদ তথ্য-প্রমাণের জন্য দেখা যেতে পারে:
- Srinath Raghavan-এর 1971: A Global History of the Creation of Bangladesh, Harvad University Press, 2013, p. 181-83.
রাঘবন হলেন দিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ-এর একজন ফেলো। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে সম্প্রতি প্রকাশিত তাঁর এই গবেষণায় তিনি বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেছেন কীভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকার পরও ইসরায়েল একাত্তরে ভারতকে অস্ত্র ও ‘বিশ্বজুড়ে প্রপাগান্ডা সহায়তা’ দিয়েছিল। ভারতের পক্ষে ফ্রান্সে নিযুক্ত তৎকালীন রাষ্ট্রদূত ডি এন চ্যাটার্জি এবং ইসরায়েলের পক্ষে Liechtenstein-এ অবস্থিত অস্ত্র নির্মাণ স্থাপনা Salgad-এর নির্বাহী পরিচালক পারস্পরিক ‘অমূল্য সহায়তা’র এই পুরো প্রক্রিয়াটি তদারক করতেন। আলোচ্য সূত্র এও জানাচ্ছে, যুদ্ধকালে তেলআবিব কেবল অস্ত্র নয়- সামরিক বিশেষজ্ঞ দিয়েও সহায়তা দিয়ে গেছে ভারতকে। এসব অস্ত্র ও ইন্সট্রাক্টরদের এয়ার লিফটিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলা হয়। একই বিষয়ে হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদন দেখুন:
অন্যদিকে খ্যাতনামা সাংবাদিক Gary J. Bass নয়াদিল্লিতে নেহেরু মেমোরিয়াল মিউজিয়াম ও লাইব্রেরিতে রক্ষিত ‘হাকসার পেপার’ থেকে উদ্ধৃত করে তাঁর গ্রন্থে লিখেছেন,
উক্ত অস্ত্রের উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন Shlomo Zabludowicz. প্রধানমন্ত্রী গোল্ডা মায়ারের নির্দেশে অস্ত্র সরবরারের এই নির্দেশটির তারিখ রয়েছে ২৩ আগস্ট ১৯৭১। সরকার-সরকার এই সম্পর্কের বাইরেও ইসরায়েল তাদের একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে সরাসরি বাংলাদেশি মুক্তিসেনাদের সাথেও যে যোগাযোগ রাখত-সে বিষয়েও তথ্যসূত্রের উল্লেখ করেছেন Gary J. Bass তাঁর গবেষণায়।[6]The Blood Telegram, Random House, India, 2013, p. 403.
(তথ্য সংগ্রহ: ইন্টারনেট, আলতাফ পারভেজের বই ও অন্যান্য)
Footnotes
| ⇧1 | Some discussion here: https://www.reddit.com/r/Israel/comments/qcnjdp/1971_the_newly_formed_republic_of_bangladesh/ (Main Archive link is dead). |
|---|---|
| ⇧2 | দেজা নিউজ আর্কাইভ (বর্তমানে গুগল গ্রুপস্)-এ ১৯৯৯ সালের কথোপকথন দেখুন: https://groups.google.com/g/soc.culture.bangladesh/c/S6FEpbPjdo0 [ইন্টারনেট আর্কাইভ] |
| ⇧3 | Daily News Bulletin, Jewish Telegraphic Agency, Feb 7, 1972 https://www.jta.org/archive/israel-recognizes-bangladesh |
| ⇧4 | From the Archives (April 20, 1971): Bangla Desh rejects Israeli offer https://www.thehindu.com/archives/from-the-archives-april-20-1971-bangla-desh-rejects-israeli-offer/article34360279.ece |
| ⇧5 | বিস্তারিত দেখুন, বি. রমন, র-এর কাউবয়েরা, পৃ. ১৫৭ (গ্রন্থটি অনুবাদ করেছেন মাসুমুর রহমান খলিলী ও মো. একরামুল্লাহিল কাফি, প্রতীতি প্রকাশন, ঢাকা, ২০০৮). |
| ⇧6 | The Blood Telegram, Random House, India, 2013, p. 403. |






