বহিরাগত আর্য জাতির বাঙ্গালী-বিদ্বেষ

সুদূর পারস্য থেকে আগত বৈদিক তথা আর্য নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী দক্ষিণ এশিয়াতে যখন এসেছিল, তারা একে একে বাঙ্গালী সহ অন্য সকল অনার্য জাতিগোষ্ঠীর উপর দমন-নিপীড়ন চালায়। অনার্য জাতিগোষ্ঠীকে তারা ঘৃণার চোখেই দেখতো। আজকে তার কিছু নমুনাই দেখবো।
শুরু করার আগে বুঝতে হবে বাঙ্গালী জাতি কারা। বাঙ্গালী একটি সংকর জাতি। অর্থাৎ বিশুদ্ধ বাঙ্গালী জাতি বলতে কিছু হয় না। যুগে যুগে এই উর্বর ভূমিতে বিভিন্ন জাতির আগমনে বাঙ্গালীর ডিএনএ মিশ্রিত হয়েছে। তুরস্ক, আফগান কোন জাতির ডিএনএ নেই বাঙ্গালী জাতিতে? এমনকি আর্য উপনিবেশের পর আর্য গোষ্ঠীরও কিছু ডিএনএ সংমিশ্রিত হয়েছে। একই বাঙ্গালী জাতির মধ্যে কালো-ফর্সা-শ্যামলা-বেটে-লম্বা-কোকড়াচুল বিবিধ বৈশিষ্ট্যই পাওয়া যায় ব্যক্তিভেদে। বিচিত্র রক্তেরই প্রমাণ দেয় এটি। তাই এভাবে ট্রাইবাল-ভাবে বাঙ্গালী জাতিকে আলাদা করার উপায় নেই।
বরং আমরা স্থানভিত্তিক চিন্তা করে আগাবো। মোটামুটি ঐতিহাসিকদের কাছে এটি স্বীকৃত যে মিশ্রিত হোক আর অমিশ্রিত, বাঙ্গালী জাতির পূর্বধারা বঙ্গ জাতি সর্বনিম্ন আড়াই হাজার বছর ধরে এই বঙ্গোপসাগরের কূলে বাস করে।
স্থানভিত্তিক হিসাবে বাঙ্গালী কারা?
হাজার বছর ধরে কোনো দেশের ভৌগলিক সীমানা এক থাকে না। হাজার বছর আগে ‘বঙ্গ’ নামে একটি দেশ ছিলো, ‘বঙ্গাল’ নামে একটি দেশ ছিলো, একইসাথে ‘গৌড়’, ‘পুণ্ড্র’, ‘বরেন্দ্র’, ‘তাম্রলিপ্তি’, ‘রাঢ়’ ইত্যাদি দেশ একইসাথে ছিলো এই অঞ্চলে।[1]প্রাচীন বাংলার জনপদ, প্রসূন কাঞ্জিলাল, জ্বলদর্চি, https://www.jaladarchi.com/2022/01/janapada-of-ancient-bengal-prasun-kanjilal.html

সম্রাট আকবরের শাসনামলে সবচেয়ে বড় ছিল এই বাংলাদেশ। তখনকার প্রশাসনিক নাম ‘সুবাহ-ই-বঙ্গালাহ্’ তে যুক্ত ছিলো বর্তমান বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যা। মানচিত্র দেখে বোঝা যায় যে, পূর্বে উল্লেখিত দেশগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত ছিল। ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী ব্যতীত, এই অঞ্চলের মাঝে নির্দিষ্ট করে বাঙ্গালী জাতি আলাদা করা কঠিন কাজ। একাকার হয়ে গেছে, আগেও একাকার ছিল বলে ঐতিহাসিকদের মত। স্বাধীন সুবাহতে অন্তর্মিশ্রিত হয়েছে তা সহজেই অনুমেয়।

আর্য জাতিরা এই অঞ্চলের লোকদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করতো। ইতিহাসবিদ নিহাররঞ্জন রায় তার ‘বাঙালীর ইতিহাস’ বইয়ে লিখেছিলেন,
“তাহা ছাড়া, প্রাচীনতর উল্লেখ যাহা পাইতেছি তাহা সমস্তই আর্যভাষাভাষী আর্য-সস্কৃতিসম্পন্ন লোকদের গ্রন্থ হইতে, যাহারা আর্যপূর্ব বা অনার্য ভাষা ও সংস্কৃতির উপর শ্রদ্ধাবান ছিলেন না এমন লোকদের নিকট হইতে, এ কথাও মনে রাখা দরকার।…বোধায়নের ধর্মসূত্রে বঙ্গ জনপদটিকে কলিঙ্গ জনপদের প্রতিবেশী বলিয়া ইঙ্গিত করা হইয়াছে, এমন অনুমান করিলে ভুল হয় না; আরটু, পুণ্ড, সৌবীর, বঙ্গ ও কলিঙ্গজনেরা একেবারে বৈদিক সংস্কৃতিবহির্ভূত, এবং তাহাদের দেশে যাতায়াত করিলে ফিরিয়া আসিয়া প্রায়শ্চিত্ত করিতে হয়, বোধায়ন এইরূপ নির্দেশ দিয়াছেন।”[2]বাঙালীর ইতিহাস, আদিপর্ব, নিহাররঞ্জন রায়, ছাপা ১৯৮০, পৃ ১৪২ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.315702/page/n180/mode/1up
ঐতিহাসিক তুলসীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন,
“বঙ্গ, রাঢ় ও সুহ্ম দেশবাসীরা ছিল আর্য্যেতর। বাঙ্গলা দেশে অনার্য্য-ভাষীদের বাস অধিক ছিল বলে এ দেশে আসা ও বসবাস করা আৰ্য্যাবর্তের লোকেদের পক্ষে অনেকদিন পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছিল। বোধায়ন ধৰ্ম্মসূত্রে বলা হয়েছে যে, মধ্যদেশ বা আৰ্য্যাবর্ত্ত থেকে বঙ্গদেশে এলে প্রায়শ্চিত্ত না করে কেউ স্বসমাজে ফিরে যেতে পারত না। এখানে স্মরণ রাখা প্রয়োজন, এই বিদ্বেষ বা কটূক্তি যাঁরা করেছিলেন তাঁরা সকলেই ছিলেন আৰ্য্যভাষাভাষী ও আৰ্য্যসংস্কৃতি সম্পন্ন লোক। এ দেশের আচার-ব্যবহার, ভাষা, সংস্কৃতি, সম্বন্ধে সম্যক কোন জ্ঞানই তাঁদের ছিল না। তাঁরা দূর থেকে এ দেশকে শুধু অবজ্ঞার দৃষ্টিতেই দেখে গেছেন। মধ্য ও উত্তর ভারতের রাজা, সৈন্য-সামন্ত, ধর্মপ্রচারক, বণিক-ব্যবসায়ী, ভাগ্যান্বেষীরা বাঙ্গলাদেশে নানা সময়ে, নানা প্রয়োজনে এসেছেন এবং তাঁরাই আর্য্যভাষা ও আর্য্য’সংস্কৃতি বহন করে এনেছেন।”[3]মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, তুলসীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ-১, ১৯৫১, পৃ ১৫০ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.301527/page/n167/mode/1up
নভেলিস্ট রিজিয়া রহমান লিখেছেন,
পরবর্তীকালে বৈদিক যুগে প্রাচীন ধর্মীয় শাস্ত্রে দেখতে পাই বাংলাদেশের অধিবাসীদেরকে ম্লেচ্ছ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।[4]বং থেকে বাংলা, রিজিয়া রহমান (১৯৭৮)।
এটা আমরা পরে দেখবো আরো। আর্যরা ইরান থেকে প্রবেশ করেছিলো সিন্ধু দিয়ে, যেটা বর্তমান পাকিস্তান-উত্তর ভারতের দিকে অবস্থিত। তারা সবচেয়ে বেশি সময় ধরে উত্তর ভারত ও মধ্য ভারতে অবস্থান করেছে। তারা সাউথ ইন্ডিয়ান, ও সাউথ এশিয়ানদের (আমাদের) এমন দৃষ্টিতে দেখতো।
আর্যদের লিখিত বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে আমরা এবার এর উদাহরণ দেখবো। বৌধায়ন ধর্মসূত্রে আছে,[5]Baudhāyana Dharmasūtra 1.2.4.14-15 https://archive.org/details/DharmasutrasTheLawCodesOfApastambaGautamaBaudhayanaAndVasistha/page/n180/mode/1up
If someone visits the lands of the Arattas, Karaskaras, Pundras, Sauvlras, Vangas, Kalingas, or Pranunas, he should offer a Punastoma or a Sarvaprstha sacrifice. Now, they also quote: When someone travels to the land of the Kalingas he commits a sin through his feet. The seers have prescribed the Vaisvanari sacrifice as an expiation for him.
আর্য হিন্দুদের অন্যান্য ধর্মগ্রন্থেও এমন কথাবার্তা আছে। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে পুন্ড্র জাতিকে বলা হয়েছে দস্যু জাতি। মহাভারতে বঙ্গ অঞ্চলকে বলা হয়েছে ম্লেচ্ছ। ভাগবতপুরাণে সূহ্মদের বলা হয়েছে পাপ। ঐতরেয় আরণ্যকে উল্লেখিত বঙ্গকে কেউ কেউ অসুর কিংবা পাখী মনে করতেন। নিহাররঞ্জন রায় এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন,
“প্রাচীন বাংলার প্রাচীনতম অধ্যায় অস্পষ্ট পুরাণকথায় সমাচ্ছন্ন। ইতিহাসের সেই প্রদোষ-ঊষায় কয়েকটি প্রাচীন কোমের নাম ও কিছু কিছু কীর্তিকলাপের বিবরণ মাত্র পাওয়া যাইতেছে: কিন্তু, যেসব গ্রন্থে এইসব উল্লেখ পাওয়া যাইতেছে তাহার একটিও এই জনদের পক্ষ হইতে রচিত নয়, প্রত্যেকটিরই উৎস অন্যতর জন, সভ্যতা ও সংস্কৃতি। ই’হাদের প্রতি একটা ঘৃণা ও অবজ্ঞা তাঁহাদের সকল উক্তি ও বিবরণীতে।
ঋগ্বেদে প্রাচীন বাংলার একটি কোমেরও উল্লেখ নাই। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে পূর্ব-ভারতের অনেকগুলি ‘দস্যু’ কোমের নাম পাওয়া যাইতেছে, তাহাদের মধ্যে পুণ্ড্র কোম একটি। ঐতরেয় আরণ্যকে বঙ্গ ও বগধ (মগধ?) জনদের ভাষা পাখির ভাষার সঙ্গে তুলিত হইয়াছে বলিয়া কেহ কেহ মনে করেন; এই দুই কোমের লোকদের তাঁহারা মনে করিতেন অনাচারী বা আচারবিরহিত। প্রাচীন জৈনগ্রন্থ আচারণা-সূত্রের উল্লেখ হইতে দেখা যাইতেছে, পথহীন রাঢ়দেশ তখনও পর্যন্ত (আনুমানিক, খ্রীষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতক) এক রূঢ় বর্বর কোম দ্বারা অধ্যুষিত এবং বঙ্গজভূমির (উত্তর-রাঢ়ের?) ভোজ্য প্রাচীন বিহারবাসী এইসব যতিদের কাছে অরুচিকর। মহাভারতে ভীমের দিগ্বিজয়প্রসঙ্গে সমুদ্রতীরবাসী বাংলার লোকদের বলা হইয়াছে ‘স্লেচ্ছ’; ভাগবত পুরাণে সুহ্মদের বলা হইয়াছে ‘পাপ’ কোম। বৌধায়ন ধর্মসূত্রে বংগ এবং পুন্ড্র জন এবং জনপদগুলিকে একেবারে আর্য সংস্কার- ও সংস্কৃতি -বহির্ভূত বলিয়া বর্ণনা করা হইয়াছে। এইসব জনপদে যাঁহারা প্রবাস যাপন করিতে যাইতেন ফিরিয়া আসিয়া তাঁহাদের প্রায়শ্চিত্ত করিতে হইত। আর্যমঞ্জু শ্রীমুলকল্প-গ্রন্থে গৌড়, পুন্ড্র, বঙ্গ, সমতট ও হরিকেল জনপদের লোকেদের ভাষাকে বলা হইয়াছে ‘অসুর’ ভাষা। ঐতিহাসিক কালে (খীষ্টোত্তর সপ্তম শতকের আগে) প্রাচীন কামরূপ রাজ্যে অসুরান্ত-ঔপধিক রাজাদের নাম পাওয়া যাইতেছে। এইসব বিচিত্র উল্লেখ হইতে স্পষ্টতই বুঝা যায়, এইসব কোমদের ভাষা ছিল ভিন্নতর, আচার-ব্যবহার অন্যতর। জনতত্ত্বের দিক হইতেও যে এইসব লোকেরা অন্যতর জনের লোক ছিলেন, তাহার ইঙ্গিত আমরা আগেই পাইয়াছি। এই’ অন্যতর ‘জন, অন্যতর আচার-ব্যবহার, অন্যতর সভ্যতা ও সংস্কৃতি এবং অন্যতর ভাষার লোকেদের সেইজনাই বিজেজাতিসূলভ দর্পিত উন্নাসিকতায় বলা হইয়াছে দস্যু, স্লেচ্ছ, পাপ, অসুর ইত্যাদি।
কিন্তু এই দর্পিত উন্নাসিকতা বহুকাল স্থায়ী হইতে পারে নাই। ইতিমধ্যে আর্যভাষাভাষী আর্য সংস্কৃতির বাহকের। ক্রমশ পূর্বদিকে বিস্তার লাভ করিয়াছেন প্রাকৃতিক ও সামাজিক নিয়মের তাড়নায়, উর্বর শস্যক্ষেত্রের সন্ধানে, এবং আদিমতর কোমবৃন্দের উপর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভুত্ব বিস্তারের চেষ্টায়। এই বিস্তৃতির মূলে ছিল আর্যসংস্কৃতিসম্পন্ন লোকদের উন্নততর কৃষিব্যবস্থা, উন্নততর যন্ত্রাদি এবং অস্ত্রশস্ত্র। তাহা ছাড়া মননশক্তি ও অভিজ্ঞতাতেও বোধ হয় ই’হারা উন্নততর স্তরের লোক ছিলেন। গোড়ার দিকে এইসব বিভিন্ন জন, ভাষা ও সংস্কৃতির পরস্পর পরিচয় বিরোধের মধ্য দিয়াই হইয়াছিল।
ঐতরেয় ব্রাহ্মণ-গ্রন্থে অন্ধ্র, পুণ্ড্র, শবর, পুলিন্দ এবং মুতিব কোমের লোকেরা ঋষি বিশ্বামিত্রের অভিশপ্ত পঞ্চাশটি পুত্রের বংশধর বলিয়া বর্ণিত হইয়াছেন; তাঁহারা যে আর্যভূমির প্রত্যন্ত দেশে বাস করিতেন তাহাও ইঙ্গিত করা হইয়াছে। ঠিক এই ধরনের একটি গল্প আছে মহাভারতে এবং বায়ু, মৎস্য ইত্যাদি পুরাণে। এই গল্পে অসুর বলির স্ত্রীর গর্ভে বৃদ্ধ অন্ধ ঋষি দীর্ঘতমসের পাঁচটি পুত্র উৎপাদনের কথা বর্ণিত আছে; এই পাঁচ পুত্রের নাম অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গা, পুণ্ড্র এবং সুহ্ম; ইহাদের নাম হইতেই পাঁচ-পাঁচটি জনপদের নামের উদ্ভব।”[6]বাঙালীর ইতিহাস, আদিপর্ব, নিহাররঞ্জন রায়, ছাপা ১৯৪৯, রাজবৃত্ত অধ্যায়, পৃ ২২০-২২১ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.457809/page/221/mode/1up
এবার আমরা আর্যদের ধর্মগ্রন্থ থেকেও দেখি এই নমুনাগুলো। ঐতরেয় ব্রাহ্মণের গল্পে আছে পুণ্ড্র (বর্তমান উত্তরবঙ্গ) অঞ্চলের মানুষদেরকে দস্যু ও অভিশপ্ত বোঝানো হয়েছে,[7]Aitareya Brahmana, vii.18 (xxxiii.6), Rigveda Brahmanas: the Aitareya and Kausitaki Brahmanas of the Rigveda by Keith, Arthur Berriedaled Publication date 1920, page 307 https://archive.org/details/in.gov.ignca.23771/page/307/mode/1up
Visvamitra had a bundred and one sons, fifty older than Madhuchandas, fifty younger. Those that were older did not think this right. Them he cursed (saying) ‘Your offspring shall inherit the ends (of the earth).’ These are the (people), tlie Andhres, Pundres, Cabaras. Pulindas, and Mutibas, who live in large numbers beyond the borders; most of the Dasyus are the descendants of Visvamitra.
মহাভারতের গল্পে অঙ্গের রাজাকে ম্লেচ্ছ-রাজা বলে উপস্থাপন করা হয়েছে, মহাভারতের ভিলেন দুর্যোধনের সাহায্যকারী হিসাবে দেখানো হয়েছে, ভীম তাকে হত্যা করে,[8]মহাভারত, দ্রোণ পর্ব, অধ্যায় ২৬, কালীপ্রসন্ন সিংহ https://archive.org/details/20230512_20230512_1143/page/n2029/mode/2up; কিশোরীমোহনের অনুবাদে অধ্যায় ২৪-এ রয়েছে আবার কোথাও বলা আছে নকুল অঙ্গদেশের রাজাকে হত্যা করে,[9]মহাভারত, কর্ণপর্ব, অধ্যায় ২২, শ্লোক ১৮
বঙ্গ-পুণ্ড্র এসবের অধিবাসীদেরকে ম্লেচ্ছ বলা হয়েছে, আর্যদের মিথিক্যাল হিরো পাণ্ডুর ছেলেদের আগের মতই বারবার দেখা যাচ্ছে ম্লেচ্ছদের সাথে যুদ্ধ করতে।[10]মহাভারত, কর্ণ পর্ব, অধ্যায় ২৩, কালীপ্রসন্ন সিংহ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.290440/page/n56/mode/1up; কিশোরীমোহনের অনুবাদে অধ্যায় ২২-এ রয়েছে
মহাভারতের অন্যত্রও বঙ্গ, সুহ্ম, তাম্রলিপ্ত ইত্যাদির জাতিকে ম্লেচ্ছজাতি ঘোষণা করেছে আর্য ধর্মগ্রন্থলেখকেরা।[11]মহাভারত, সভাপর্ব, দিগ্বিজয়পর্ব, অধ্যায় ২৯, কিশোরীমোহন গাঙ্গুলীর অনুবাদ
স্বাভাবিকভাবেই ম্লেচ্ছভাষা প্রাকৃত থেকে উদ্ভূত আরেক ম্লেচ্ছভাষা বাংলাকে সেই আর্য ব্রাহ্মণরা কখনোই সহজভাবে নেয় নি। আজকে আমরা হয়তো বাংলা বলতেই পারতাম না যদি সুলতান ও বাদশাহরা বাংলার পৃষ্ঠপোষকতা না করতে। বাংলা ভাষার উপর বহিরাগত হিন্দুদের ঘৃণা ও আক্রমণ নিয়ে আরেকটা সিরিজ লিখছি।
Footnotes
| ⇧1 | প্রাচীন বাংলার জনপদ, প্রসূন কাঞ্জিলাল, জ্বলদর্চি, https://www.jaladarchi.com/2022/01/janapada-of-ancient-bengal-prasun-kanjilal.html |
|---|---|
| ⇧2 | বাঙালীর ইতিহাস, আদিপর্ব, নিহাররঞ্জন রায়, ছাপা ১৯৮০, পৃ ১৪২ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.315702/page/n180/mode/1up |
| ⇧3 | মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্য, তুলসীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, সংস্করণ-১, ১৯৫১, পৃ ১৫০ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.301527/page/n167/mode/1up |
| ⇧4 | বং থেকে বাংলা, রিজিয়া রহমান (১৯৭৮)। |
| ⇧5 | Baudhāyana Dharmasūtra 1.2.4.14-15 https://archive.org/details/DharmasutrasTheLawCodesOfApastambaGautamaBaudhayanaAndVasistha/page/n180/mode/1up |
| ⇧6 | বাঙালীর ইতিহাস, আদিপর্ব, নিহাররঞ্জন রায়, ছাপা ১৯৪৯, রাজবৃত্ত অধ্যায়, পৃ ২২০-২২১ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.457809/page/221/mode/1up |
| ⇧7 | Aitareya Brahmana, vii.18 (xxxiii.6), Rigveda Brahmanas: the Aitareya and Kausitaki Brahmanas of the Rigveda by Keith, Arthur Berriedaled Publication date 1920, page 307 https://archive.org/details/in.gov.ignca.23771/page/307/mode/1up |
| ⇧8 | মহাভারত, দ্রোণ পর্ব, অধ্যায় ২৬, কালীপ্রসন্ন সিংহ https://archive.org/details/20230512_20230512_1143/page/n2029/mode/2up; কিশোরীমোহনের অনুবাদে অধ্যায় ২৪-এ রয়েছে |
| ⇧9 | মহাভারত, কর্ণপর্ব, অধ্যায় ২২, শ্লোক ১৮ |
| ⇧10 | মহাভারত, কর্ণ পর্ব, অধ্যায় ২৩, কালীপ্রসন্ন সিংহ https://archive.org/details/in.ernet.dli.2015.290440/page/n56/mode/1up; কিশোরীমোহনের অনুবাদে অধ্যায় ২২-এ রয়েছে |
| ⇧11 | মহাভারত, সভাপর্ব, দিগ্বিজয়পর্ব, অধ্যায় ২৯, কিশোরীমোহন গাঙ্গুলীর অনুবাদ |








