দুনিয়ার অপছন্দনীয় বস্তু কেন জান্নাতে পুরস্কার?
السلام عليكم ورحمت الله
একটি প্রশ্ন ছিলো,
عَنْ مُحَمَّدٍ، قَالَ إِمَّا تَفَاخَرُوا وَإِمَّا تَذَاكَرُوا الرِّجَالُ فِي الْجَنَّةِ أَكْثَرُ أَمِ النِّسَاءُ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ أَوَلَمْ يَقُلْ أَبُو الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّ أَوَّلَ زُمْرَةٍ تَدْخُلُ الْجَنَّةَ عَلَى صُورَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ وَالَّتِي تَلِيهَا عَلَى أَضْوَإِ كَوْكَبٍ دُرِّيٍّ فِي السَّمَاءِ لِكُلِّ امْرِئٍ مِنْهُمْ زَوْجَتَانِ اثْنَتَانِ يُرَى مُخُّ سُوقِهِمَا مِنْ وَرَاءِ اللَّحْمِ وَمَا فِي الْجَنَّةِ أَعْزَبُ " .
অর্থঃ “মুহাম্মদ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকেরা হয়ত গর্ব প্রকাশ করে বলল, অথবা আলোচনা করতঃ বলল, জান্নাতে পুরুষ বেশী হবে, না নারী? এ কথা শুনে আবূ হুরায়রা (রাঃ) বললেন, আবূল কাসিম ﷺ কি বলেন নি, প্রথম যে দলটি জান্নাতে প্রবেশ করবে তাদের চেহারা হবে পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় দীপ্তীয়মান। তাদের পর যারা জান্নাতে যাবে তাদের চেহারা হবে উজ্জ্বল নক্ষত্রের ন্যায়। তাদের প্রত্যেকের জন্যই থাকবে দু জন স্ত্রী। গোশতের ওপাশ হতে তাদের পায়ের গোছার (অস্থির) মগজ দেখা যাবে। জান্নাতের মধ্যে কেউ অবিবাহিত থাকবে না।”
প্রশ্নটি হচ্ছে ,- বর্তমান নারী সমাজে স্বামীর দ্বিতীয় স্ত্রীকে সহ্য করতে পারে না প্রথম স্ত্রী (সতিন)। তাহলে নারীদের অপছন্দনীয় বস্তুটি আল্লাহ তায়ালা জান্নাতে পুরষ্কার হিসেবে কেন নারীদের কে দিচ্ছেন? (হয়তো বা জান্নাতে আল্লাহ নারীদের চিন্তা চেতনার পরিবর্তন ঘটাবেন, কিন্তু দুনিয়াতে তো অনেক নারীরা এটা কে কষ্টের কারন মনে করে জান্নাতকে অবহেলা করতে পারে)
- কোন নারী যদি না চান তার স্বামীকে জান্নাতে দ্বিতীয় স্ত্রী দেয়া হোক , তবে আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করবেন?
- ইতিহাসেও কিছু ঘটনা থেকে জানা যায় নারীরা আগেও সতিন পছন্দ করতেন না বা সহ্য করতে না,
- তাবে কি এটি বহু আগ থেকেই ঘটে আশা ঘটনা , নাকি বর্তমানে পশ্চিমা তৈরি করা কোন স্ট্যান্ডার্ড?
ওয়া আলাইকুমুসসালাম।
১। দুনিয়ায় ঈর্ষা নারীদের জন্য (এবং কখনো পুরুষদের জন্যও) স্বাভাবিক এবং ফিতরাহগত। ইসলাম এই অনুভূতিকে স্বীকার করে। শেখ উসাইমিন (রহ) বলেন,
নারী স্বভাবতই বহুবিবাহকে অপছন্দ করেন। তিনি ঈর্ষা অনুভব করেন, যা প্রায় উন্মাদনার পর্যায়ে পৌঁছে যায়। আর এর জন্য তাকে দায়ী করা যায় না অর্থাৎ এটি কুফরি নয়। কেননা এটা নারীর জন্মগত স্বভাব। [শাইখ ইবনু উছাইমীন, ফাতাওয়া নূরূন ‘আলাদ্দারব, খণ্ড ১৯ পৃ. ২অ; নুবাদক : ফাহাদ ইবনু ইব্রাহিম।]
কিন্তু জান্নাত দুনিয়ার মতো নয়; এটি অন্য একটি জগত যেখানে আল্লাহ সব নেগেটিভ অনুভূতি দূর করে দেন। কুরআনে আল্লাহ বলেছেন: "আর তাদের অন্তরে যা কিছু ঈর্ষা ও বিদ্বেষ রয়েছে তা আমি দূর করে দিব,..." (সুরা আল-আ'রাফ: ৪৩)। এর অর্থ আল্লাহ জান্নাতে হৃদয় থেকে হিংসা, ঈর্ষা এবং কষ্ট দূর করেন। সেখানে শুধু সবার জন্য পূর্ণ সুখ।
আপনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা জান্নাতে পুরুষদের পুরস্কার বর্ণনা করে (যেমন দুটি স্ত্রী যাদের চামড়া এত স্বচ্ছ যে পায়ের গোড়ার মজ্জা দেখা যায়)। এরা হুরগণ, জান্নাতের বিশেষ সৃষ্টি, দুনিয়ার নারীদের মতো নয়। কিন্তু জান্নাতে বিশ্বাসী নারীরা হুরদের চেয়ে উত্তম, কারণ তারা দুনিয়ায় আল্লাহর ইবাদত করেছে এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। জান্নাত সবার ইচ্ছা পূরণ করে; পুরুষরা যা চান পান, নারীরাও তাই, কেউ কম অনুভব করে না। যদি দুনিয়ায় কোনো নারী এটাকে ভয় করে, তা মানুষী স্বভাবের কারণে, কিন্তু আখিরাতে আল্লাহ হৃদয় পরিবর্তন করে পূর্ণ সুখী করে দেন। এই ভয়ের কারণে জান্নাতকে অবহেলা করা ভুল, কারণ জান্নাত দুনিয়ার মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বড়।
দেখতে পারেনঃ
- No jealousy in Paradise - IslamWeb
- Is it true that men get 72 virgin women in paradise when they die? If so does it apply to a men that are married in this life as well? - QuestionOnIslam
- Why Does a Maiden of Paradise Curse the Women of This World? - SeekersGuidance
২। এ সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন, তবে কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ হয় এমন কিছু চাওয়া অনুচিত। ইসলামওয়েবের ফাতাওয়াতে এসেছে,
As regards her being or not being your only wife in Paradise, then the matter is not in your hands; this is a matter that is purely in the Hands of Allaah, so how can she ask you to make an oath on this. In addition to this, in Paradise there is no jealousy or harm between the wives like it is the case in this worldly life. [IslamWeb]
৩+৪। একাধিক স্ত্রী নিয়ে ঈর্ষা পশ্চিমা নতুন উদ্ভাবন নয়; এটি স্বাভাবিক বিষয় যা অনেক আগে থেকে ছিল। জাহিলিয়াতে (ইসলামের আগে), একাধিক স্ত্রী খুব সাধারণ ছিল সংখ্যার কোনো সীমা ছাড়া, এবং নারীরা ঈর্ষা এবং হিংসা অনুভব করত, কখনো পরিবারের সমস্যা সৃষ্টি করত। ইসলাম এটাকে চার স্ত্রীতে সীমাবদ্ধ করেছে, ন্যায়ের শর্ত সহ, এবং স্বাভাবিক ঈর্ষাকে স্বীকার করেছে।
জান্নাতে নারী নিয়ে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া রয়েছে এখানেঃ