মারিয়া কিবরিয়া কি দাসী ছিলেন?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: ইসলামমারিয়া কিবরিয়া কি দাসী ছিলেন?
Ex Atheist asked 2 months ago

পুরো বিশ্বের জন্য আদর্শ নবী বিয়ে ছাড়া দাসী মারিয়া কিবরিয়া এর সঙ্গে সহবাস করেন যার জন্য তার অন্য স্ত্রী গন নবীর সাথে ঝগড়া করে, তাহলে এইগুলো নৈতিক & যৌক্তিক হয় কিভাবে
তেনা না পেঁচিয়ে জবাব দেব

3 Answers
Ashraful Nafiz Staff answered 2 months ago

এই প্রশ্নের উত্তর আগেও একবার দেওয়া হয়েছিল, আপনার নজরে পড়ে নি নাকি না আমার জানা নেই। চাইলে সেটি দেখে আসতে পারেন - https://www.frommuslims.com/qna/মারিয়া-আল-কিবরিয়াকে-নি/

যাইহোক মারিয়া কিবতিয়া কে ছিলেন তা নিয়ে ওলামাদের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কারো মতে তিনি রাসুলের স্ত্রী ছিলেন আবার কারো মতে তিনি রাসূলের সুরাইয়া ছিলেন। তিনি রাসুলের সুরাইয়া ছিলেন এই মতকে আমরা সঠিক মনে করি।

আপনার প্রশ্ন মারিয়া আল কিবতিয়া সুরাইয়া হওয়া নৈতিক ও যৌক্তিক হয় কি করে! আমাদের প্রশ্ন আপনার কাছে রইল  এটি অনৈতিক ও অযৌক্তিক কিভাবে? ইজমা দ্বারা এটা সাবস্ত যে যদি কেউ তার দাসীর সাথে সহবাস করে তাহলে তা বৈবাহিক চুক্তির মর্যাদা নেমে আসবে। [كتاب النجم الوهاج في شرح المنهاج ৭/১৬০]

আগে উপপত্নী বলতে যৌনদাসীকে বুঝানো হত, যারা শুধু যৌনতার জন্য ছিল, তাদের কোন অধিকার ছিল না, মর্যাদা ছিল না, তাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন গুরুত্ব ছিল না, শারীরিক অবস্থার কেমন সেটাও চিন্তা করার মত প্রয়োজনীতা অনুভব করত না। কিন্তু ইসলামে সুরাইয়ার পরিস্থিত ও অবস্থা একদম বিপরীতে, সুরাইয়া স্ত্রীরই আরেকটি রূপ। কারন স্ত্রী যে যে অধিকার, সম্মান, হক পাওয়ার যোগ্য প্রায় সবই সুরাইয়াকেও দেওয়া হয়।

মারিয়া কিবতিয়া রাসূলের সুরাইয়া ছিলেন এতে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন তার কোন প্রমান আছে? উত্তর হল - না। তিনি চলে যেতে চেয়েছিলেন এর কোন প্রমান আছে? উত্তর হল - না। উনাকে কি পরে বিক্রয় করা হয়েছে? উত্তর হল - না। রাসূল কি কখনো উনাকে প্রহার করেছেন? উত্তর হল - না। রাসূল কি কখনো উনার সাথে কাফের মুশরিকদের দাস প্রথার মত আচরণ করেছেন? উত্তর হল - না। রাসূল কি উনাকে পতিতাবৃত্তিতে নামিয়েছিলেন? উত্তর হল - না। রাসূল কি উনারে উনার সাথ্যের বাহিরে কোন কাজ দিতেন? - উত্তর হল - না। তাহলে আপনার কাছেই প্রশ্ন থাকলো কিভাবে এটা অনৈতিক ও অযৌক্তিক?

নৈতিকতার মানদন্ড কি? নৈতিকতা কি আপনার ভালো লাগা বা না লাগার উপর নির্ভরশীল? নৈতিকতা কি একজনের ইচ্ছার উপর নির্ভর করে? নৈতিকতা কি যুগের উপর নির্ভর করে? নৈতিকতা কি সমাজের উপর নির্ভর করে? আমাদের কাছে নৈতিকতা হল আল্লাহর তরফ থেকে আসা বিধান যার কোন পরিবর্তন নেই। অপর দিকে আপনাদের নৈতিকতা যুগে যুগে পরিবর্তন হয়। তাহলে স্টেবল নৈতিকতার ‍উপর ডিপেন্ড করা হবে নাকি আনস্টেবল নৈতিকতার উপর নির্ভর করা হবে?

Tahsin Arafat Staff answered 2 months ago
  1. মারিয়া রাঃ রাসূল সাঃ এর দাসী ছিলেন। এটাই জুমহুর ওলামার মতামত।
  2. আল্লাহর বিধানই নৈতিকতার মানদণ্ড, আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা আমাদের জন্য নৈতিক ও যৌক্তিক। এ প্রসঙ্গে অন্য কোনো স্ত্রীর মনোমালিন্য হুজ্জাত নয়।
On behalf of the authors answered 2 months ago

ইসলামে সহবাস করার ক্ষেত্রে, বিবাহ একমাত্র শর্ত নয়। শর্ত দুটো, প্রথমটি বিবাহ হবে ২য় টি না হয় মালিকানা দ্বারা সহবাস হালাল হবে। দ্বিতীয়ত, সতীনদের হিংসা ইসলামে ধর্তব্য নয়। বরঞ্চ ইসলামে যেকোন হিংসাই বারণ। পুরুষের অধিকার ইসলামে একাধিক নারীর সাথে সহবাস করা। ইসলাম কখনই পুৃরুষদের জন্য polygyni মন্দ তা বলে না।

দ্বিতীয়ত, মারিয়া কিবতিয়ার (রা) নবী (সা) এর মালিকানায় আসার বহু আগেই সূরা মুমিনূন সম্পূর্ণটাই নাযিল হয়ে গিয়েছিল মক্কায় থাকাকালীন। সেখানে আল্লাহ তা'আলা আগেই মুমিনদের সুরাইয়া রাখবার অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন। এখন আপনাদের মন চাইলে এই হিংসা হিংসি ধরে বসে থাকতে চাইলে থাকতে পারেন কোরআনের বিপরীতে। হাসান মানের হাদিসে বর্নিত আছে, হাফসা (রা) জানতেন মারিয়া কিবতিয়া (রা) রাসূল (সা) এর জন্য হালাল ছিলেন। তারা জানতেন তাদের স্বামীদের সুরাইয়া রাখার অধিকার আছে। কাজেই এগুলা নিয়ে আমারা ভাবি না। তারা এগুলা মেনে নিয়েই ইসলাম গ্রহণ করছেন এবং তাদের স্বামী যখন তাদেরকে তাকে ত্যাগ করতে সুযোগ দিয়েছিলেন তারা সে সুযোগ গ্রহণ করেন নি। বিবাহ করতেই হবে এই কথা সুরাইয়া রাখার ক্ষেত্রে শর্ত নয়। আরেকটি জিনিস, রাসূলের স্ত্রীগণ নবীর সাথে ঝগড়া করে, এমন কোন ঝগড়াঝাটির বর্ননা থেকে থাকলেও সেটা সহীহ নয়, সামিউল আল ইনিফিরাদি ভাই এইগুলা যাচাই করছেন। বিস্তারিত দেখুন - https://islamicauthors.com/article/236

আরেকটা বিষয়, ইসলামে বিবাহ কোন সাত জন্মের বা জন্ম জন্মান্তরের সম্পর্ক নয়। এইটা একটা চুক্তি মাত্র। চুক্তি এক ধরনের বন্ধন যার কিছু বাধ্যবাধকতা থাকে। তেমনি সুরাইয়া মালিক সম্পর্কও একটা বন্ধন যেখানে কিছু বাধ্যবাধকতা থাকে একে অপরের উপর।

আরেকটা বিষয়, সতীনে সতীনে হিংসা হিংসি টানছেন আপনারা, তো এই হিংসা হিংসি শুধু আয়েশা (রা) এবং মারিয়া (রা) এর মধ্যেই ছিল না। আয়েশা (রা) সবচেয়ে বেশি জেলাস ছিলেন খাদিজা (রা) এর উপর।

আপনারা এমন একটা ন্যারেটিভ তৈরি করার ট্রাই করে যে নবী (সা) রাতের আধারে গোপনে দাসীর যে তার জন্য হালাল নয় তার সাথে সহবাস করতে গিয়ে ধরা খেয়েছেন নাউজুবিল্লাহ। As if হাফসা (রা) জানতেনই না যে মারিয়া (রা) এর সহিত নবী (সা) এর কোনরূপ সম্পর্ক ছিল। অথচ হাদিসে বুঝা যায় যে এই ঘটনা ঘটা এর আগেই ইবরাহীমের জন্ম হয়ে গেসিল, যারা এই ধারণা পোষণ করেন যে রাসূল আল্লাহ তার স্ত্রীদের না জানিয়ে গোপণে সুরাইয়ার সহিত থাকতেন বা সহবাস করতেন তাদের জন্য এই হাদিসটা যথেষ্ট: عن عمرَ قال: قال النبيُّ صلى الله عليه وسلم لحفصةَ: «لا تُحدِّثي أحدًا، وإنَّ أُمَّ إبراهيمَ عليَّ حرامٌ». فقالت: أَتُحرِّم ما أحلَّ اللهُ لك؟ قال: «فوالله لا أَقرَبُهَا». قلتُ: فلم تَقِرَّ بها نفسُها حتى أخبَرَتْ عائشةَ، فأنزل اللهُ عزَّ وجلَّ: {قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ}  হাদিস্টা ইবনে কাসিরের মতে সহীহ

আর দ্বিতীয়ত রাসূলুল্লাহ যখন দেখলেন তার স্ত্রীরা বিষয়টা ভাল ভাবে নিচ্ছেন না তখন তিনি বলেন নি যে ‘হাফসা তোমার এত সাহস! আমি আল্লাহর রাসূল, আমার পছন্দের বিরুদ্ধে কথা বল তুমি?’ বরঞ্চ তিনি তার মন রক্ষার জন্য মারীয়া (রা) কে ত্যাগ করার মনোস্থির করেন ও নিজের উপর হারাম করে নিতে চান, যার কারনে সয়ং হাফসাই বলেন, ‘আপনি কি এমন একটা বিষয়কে নিজের উপর হারাম করে নিচ্ছেন যা আল্লাহ আপনার জন্য হালাল করেছেন?’। তারপর আল্লাহ তাতে সূরা তাহরিমের আয়াত নাযিল করেন। এতে বুঝা যায় আল্লাহর কাছে মহিলাদের উক্ত ঈর্ষার কোন ভ্যালু নেই কারন কারো ভালো লাগা না লাগা নৈতিকতার মানদন্ড নয়।

মূলত হাফসা রা এর আপত্তিটা ছিল যে তার ঘরে কেন মারিয়া রা এর সহিত রাসূলুল্লাহ অবস্থান করছিলেন, অন্য কিছু নয়। এখন অনেকে হয়ত বলবে মারিয়া (রা) এর সাথে সম্পর্ক গড়ার পেছনে কি দরকার ছিল? রাসূলুল্লাহ মিশরবাসী আর কিবতীদের সাথে নিজের সম্পর্ক স্ট্রং করতে চাইছিলেন। আর কিবতীদের কাছে এই দাসীর সাথে সম্পর্ক করাটা নিত্তনৈমিত্তক ব্যাপার ছিল। কারণ তারাই খ্রিস্টান গির্জায় মারিয়া আর তার বোনকে দাসী হিসাবে নিবেদন করেছিল যাকে মুকাওয়িস রাসূলুল্লাহ (সা) কে হেবা করে।

انَّكُمْ سَتَفْتَحُوْنَ مِصْرَ، وَهِيَ أَرْضٌ يُسَمَّى فِيْهَا الْقِيْرَاطُ، فَإِذَا فَتَحْتُمُوْهَا فَأَحْسِنُوْا إِلَى أَهْلِهَا، فَإِنَّ لَهُمْ ذِمَّةً وَرَحِمًا أَوْ قَالَ: ذِمَّةً وَصِهْرًا

এই হাদিসটা তার প্রমাণ।

মারিয়া (রা) এর মর্যাদা কতখানিক ছিল মুসলিমদের মাঝে তা বোঝা যায় যে তিনি যখন মারা গেসিলেন, দ্বিতীয় খলিফা উমর (রা) তার জানাজা পড়াইছিলেন।

এছাড়া হাফসা (রা) কি এমন কোন প্রশ্ন করেছেন যে রাসূলুল্লাহ আপনি আমার সাথে প্রতারণা কেন করলেন? আমাকে ধোকা কেন দিলেন? আমি আপনার স্ত্রী, আমাকে ব্যতীত আপনি অন্যকে কেন বিছানায় স্থান দিলেন? এমন কোন প্রশ্ন তিনি করেছেন কি? না, তিনি বলেছেন, "আপনি আপনার জন্য হালাল জিনিসকে আমার জন্য হারাম করে কেন নিচ্ছেন নিজের ওপর?" উলটা প্রশ্নটাই করেছেন।

রাসূলুল্লাহ কি তার নিজের জন্য হালাল নয় এমন কোন নারীর সহিত অবস্থান করছিলেন? রাসূলুল্লাহ নিজ জীবনে কখনই তার অধিকারভুক্ত নয় এমন কোন নারীর হাত অব্দি স্পর্শ করেন নি। যেটার সাক্ষ্য স্বয়ং আয়েশা (রা) দিচ্ছেন। অথচ মারিয়া কিবতিয়া (রা) এর উক্ত ঘটনায় আয়েশা (রা) ও ইনভলভড ছিলেন। আয়েশা রা. বলেন,

مَا مَسَّتْ يَدُ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَ امْرَأَةٍ إِلاَّ امْرَأَةً يَمْلِكُهَا .هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

ইসলামে ব্যাভিচার বা অনৈতিকতার শর্ত হইল, আপনার জন্য হালাল নয় বা বৈধ নয় এমন মহিলার সহিত ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। হালাল বা অধিকারভুক্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয় এবং অনৈতিক নয়।

- উত্তর দিয়েছেন এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভাই

Back to top button