সূরার ক্রমবিন্যাস সাহাবিদের ইজতিহাদ অনুসারে হয়েছে?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: ইসলামসূরার ক্রমবিন্যাস সাহাবিদের ইজতিহাদ অনুসারে হয়েছে?
মাহদি asked 2 বছর ago
কুরআনের সূরাহ সমূহের ক্রমবিন্যাস যদি সাহাবিদের ইজতিহাদ হয়ে থাকে তাহলে লাওহে মাহফুজে সূরা্‌হ সমূহ কোন বিন্যাসে বিন্যস্ত? সহীহ মুসলিমের হাদিস হইতে দেখা যায়, হাজ্জাজ কুরআনকে জীবরাইল (আ) কুরআন যেভাবে সজ্জিত করে সেভাবে সজ্জিত করতে চাইল। এতে কি প্রমাণিত হয়না উসমানী মুসহাফে কুরআনের বিন্যাসের ব্যাতিক্রম হইছে?
2 Answers
Best Answer
Tahsin Arafat Staff answered 2 বছর ago

মূল উত্তরঃ
প্রত্যেকটি সূরার ভেতরে আয়াতসমূহের বিন্যাস সরাসরি রাসূল সাঃ থেকেই এসেছে এ ব্যাপারে ইজমাহ রয়েছে। তবে সূরা গুলোর বিন্যাসের ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে ইখতিলাফ রয়েছে, জুমহুর ওমালার মতে এই বিন্যাস সাহাবীদের ইজতিহাদ, আর কারও মতে এই বিন্যাসও রাসূল সাঃ থেকেই এসেছে। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত পড়ুনঃ

আব্দুল করিম আল খুদাইর (হাফিঃ) বলেছেন, ব্যবহারিক কাজে সূরার অন্য ক্রমে ব্যবহারে সমস্যা নেই। যেমন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) একদা রাতের সালাতে সূরা বাকারা -> সূরা নিসা -> সূরা আলে ইমরান পাঠ করেছেন। - শরহ কিতাব আলহাজী মিন সহীহ মুসলিম - ১৬/২৫

 

হাজ্জাযের প্রসঙ্গঃ
সহিহ মুসলিমের বর্ণনা নিম্নরূপ,

মিনজাব ইবনু হারিস তামীমী (রহঃ) ইবন মুসহির হতে তিনি আ’মাশ (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজ ইবনু ইউসূফকে মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিচ্ছিলেন। তখন আমি তাকে বলতে শুনেছিঃ জিবরীল (আলাইহিস সালাম) যেভাবে কুরআন মজীদবিন্যাস করেছেন, তোমরা তদনুযায়ী তা বিন্যস্ত কর। যেমন, প্রথম সেই সূরা যার মধ্যে বাকারা (গাভী) সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। এরপর যে সূরায় নিসা (মহিলাদের) সম্পর্কে আলোচনা আছে, এরপর সেই সূরা যার মধ্যে ইমরান-পরিবার সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।
আমাশ (রহঃ) বলেন, এরপর আমি ইবরাহীমের সাথে সাক্ষাত করে তাকে হাজ্জাজের বক্তব্য সম্পর্কে অবহিত করলাম। তিনি তাকে গালি/অভিশাপ দিলেন। এরপর বললেন, আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ আমাকে বলেছেন যে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রাঃ) এর সাথে ছিলেন। তিনি জামরাতুল আকাবায় এলেন, উপত্যকার মাঝে দাঁড়ালেন এবং জামরাকে নিজের সম্মুখভাগে রাখলেন, এরপর উপত্যকার মাঝে দাঁড়িয়ে সাতটি কাঁকর নিক্ষেপ করলেন, প্রত্যেকবার নিক্ষেপের সাথে সাথে আল্লাহু আকবার বললেন।
রাবী বলেন, আমি বললাম, হে আবূ আবদুল রহমান! লোকেরা উপত্যকার উপরিভাগ থেকে পাথর নিক্ষেপ করে। তিনি বললেন, সেই সত্তার শপথ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই, এই সেই স্থান যেখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছিল। - সহিহ মুসলিম ৩০০২ (ইফা)

এখানে হাজ্জাজ কী বোঝাতে চেয়েছে সেটা স্পষ্ট নয়। তবে এই হাদিসে আমাশ (রহঃ) হাজ্জাজের সূরার মূল নাম ব্যবহার না করে "যেই সূরার মধ্যে বাকারা সম্পর্কে আলোচনা এসেছে" এমন নাম ব্যবহার করতে বলাটা তুলে ধরেছেন, এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) এর হাদিস দিয়ে খণ্ডন করেছেন যেখানে সাহাবী নিজে "সূরা বাকারা" শব্দ ব্যবহার করেছেন।
এ বিষয়ে আরো দেখুনঃ সহিহুল বুখারী ১৭৫০
আর দ্বিতীয়ত, হাজ্জাজ জিব্রাইল আঃ এর বিন্যাস বলতে আসলে কোনটা বুঝিয়েছেন সেটা স্পষ্ট নয়। তিনি যদি নাম বুঝিয়ে থাকেন সেটা ইতোমধ্যেই আমরা আলোচনা করেছি।
মূসা শাহীন লাশিন (রহঃ) বলেছেন,

(السورة التي يذكر فيها البقرة) ذكره النساء قبل آل عمران يفيد أنه لا يقصد ترتيب السور، وإنما يقصد ترتيب الآيات، فإن المصحف الذي يتبعه مصحف عثمان رضي الله عنه ولو قصد ترتيب السور لذكر آل عمران قبل النساء
The chapter in which the cow is mentioned, mentioning it before "The Women" rather than "The Family of Imran," indicates that he does not intend to follow the order of chapters, but rather the order of verses. For the Quran [arrangement/mushaf] he follows is that of Uthman, may Allah be pleased with him, and if he intended the order of chapters, he would have mentioned "The Family of Imran" before "The Women."
- ফাতহুল মুনিম ৫/৩২৫

হাজ্জাজ ইতোমধ্যেই উসমানী মুসহাফ অনুসরণ করতো, তাই সে মূলত সূরার বিন্যাস বোঝায় নি যেহেতু উসমানী মুসহাফে সূরা নিসা আলে ইমরানের পরে। বোঝালে আয়াতের বিন্যাস বুঝিয়ে থাকতে পারে। আর আয়াতের ব্যাপারটা ইতোমধ্যেই ইজমাবদ্ধ। তাই হাজ্জাজের এমন কথার দিকে মনোযোগ দেওয়ার কিছু নেই।
হাজ্জাজ যদি বিন্যস্ত করুন বলতে যেমনটা আছে এখন, জিব্রাইল (আঃ) এর বিন্যাস এরকমই, আপনারা সেরকমভাবেই বিন্যস্ত করে রাখুন - এমনটা বুঝিয়ে থাকে তাহলে এতে সমস্যা নেই। - উমদাতুল কারী ১০/৯০
আর যদি সে বুঝিয়ে থাকে আয়াতের বিন্যাস পরিবর্তন করে আবার বিন্যস্ত করতে, তাহলে তার কথা গ্রহণযোগ্য নয়। এমনিতেও হাজ্জাজ কোনো নির্ভরযোগ্য কেউ নন আমাদের জন্যঃ

আল্লাহই ভালো জানেন।

Ashraful Nafiz Staff answered 2 বছর ago

লাওহে মাহফুজের বিষয়টি হল সেখানে সমস্ত কিছু লিখা রয়েছে, তাকদির হতে শুরু করি সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব কিছু সেখানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। [সুরা বুরুজ আয়াত ২১-২২; সূরা আল হাজ্জ আয়াত ৭০; সুরা হাদিদ আয়াত ২২] এই বিষয়ে বিস্তারিত হাদিসের কিতাবাদিতে রয়েছে। লাওহে মাহফুজে যা লিখিত সেটা পৃথিবীতে শেষ নবীর উপর নাজিল করা কুরআন নয়, তাই দুটোকে গুলিয়ে ফেললে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হবে। লাওহে মাহফুজ লিখিত কিতাব কোরআনের তুলনায় হতে পারে কয়েক হাজার বা লক্ষগুন বড়, যেহেতু সেখানে সব লিপিবদ্ধ রয়েছে তাই৷ আবার সেখানের সব কিছুতো আর কুরআনে উল্লেখ করা হয় নি। সেহেতু সেটার ক্রমবিন্যাসের সাথে পৃথিবীতে শেষ নবী ও রাসুলের উপর নাজীল করা কুরআনের বিন্যাস মিল থাকবে না এটাই স্বাভাবিক।

কুরআনকে জীবরাইল (আ) কুরআন যেভাবে সজ্জিত করে সেভাবে সজ্জিত করতে চাওয়াটি শিয়াদের ইচ্ছা। শিয়াদের আকিদা হল বর্তমানে আমাদের নিকট যে কুরআন রয়েছে তা রাসুল (সা) এর উপর নাজিল হওয়া প্রকৃত পরিপূর্ণ কিতাব নয়। বরং তার মাঝে আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তার পরিপন্থী আয়াত যেমন রয়েছে; আবার তেমনি পরিবর্তিত ও বিকৃত আয়াতও রয়েছে। আর তার থেকে অনেক কিছু বিলুপ্ত করা হয়েছে; তন্মধ্যে অনেক জায়গায় আলী’র নাম বিলুপ্ত করা হয়েছে; আবার একাধিক বার “آل محمد” (মুহাম্মদের বংশধর) শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়েছে; আরও বিলুপ্ত করা হয়েছে মুনাফিকদের নামসমূহ এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এটা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের পছন্দসই ক্রমধারা অনুযায়ী সাজানোও নয়। [তাফসিরুল সাফী, শিয়া মোল্লা হাসান, পৃষ্ঠা ১৩]

শিয়াদের মাঝে তাদের ইমামের সংকলিত সবচেয়ে জনপ্রিয় হাদিস গ্রন্থ হচ্ছে, মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আল-কুলাইনীর ‘আল কাফী’ (الكافي)। এই গ্রন্থে “ইমামগণই আল-কোরআনকে পরিপূর্ণ সংকলন করেন এবং তারাই তার পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখে” শিরোনামের অধীনে বলা হয়েছেঃ আলী ইবন আবি তালিব ও তার পরবর্তী ইমামগণ ছাড়া আর কেউ আল্লাহ যেভাবে তা নাযিল করেছেন, ঠিক সেভাবে সংকলন ও সংরক্ষণ করেন নি, কিন্তু অন্যরা আলির সংকলন গ্রহণ করে নি। সেখানে আরো উল্লেখ আছে আলির সংকলন করা কোরআন যা তাদের দাবি মতে প্রকৃত কুরআন যা জিবরাইল (আ) মুহাম্মদ (সা) এর নিকট নিয়ে এসেছিলেন তাতে নাকি ১৭ হাজার আয়াত ছিল। এবং যখন ইমাম মাহদি আসবে তখন তিনি পুনরায় আলীর সংকলন করা কিতাব সকলের সামনে নিয়ে আসবেন। [উসুলুল কাফী (ভারতীয় সংস্করণ)। মুহাম্মদ ইবন ইয়াকুব আল-কুলাইনী। পৃষ্ঠা ৬৭০-৭১]

আরেক শিয়া আলেম বলে,

আমীরুল মুমিনীনের হযরত আলী(রা) এর কাছে একটি বিশেষ কুরআন ছিল, যা তিনি রাসূলুল্লাহ(ﷺ) ইন্তিকালের পর নিজেই সংকলন করেন এবং তা জনসমক্ষে পেশ করেন; কিন্তু তারা তা উপেক্ষা করে। অতঃপর তিনি তা তাদের দৃষ্টি থেকে গোপন করে রাখেন; আর তা ছিল তার সন্তান তথা বংশধরের নিকট সংরক্ষিত, ইমামত তথা নেতৃত্বের সকল বৈশিষ্ট্য ও নবুয়তের ভাণ্ডারের মত যার উত্তরাধিকারী হয় এক ইমাম থেকে অপর ইমাম। আর তা প্রমাণ (মাহদী) এর নিকট সংরক্ষিত রয়েছে। “আল্লাহ আল্লাহ দ্রুত তাকে মুক্ত করে দিন”- তিনি তখন তা জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন এবং তাদেরকে তা পাঠ করার নির্দেশ দিবেন; আর তা সংকলন, সূরা ও আয়াতসমূহের ধারাবাহিকতার দিক থেকে বিদ্যমান এই কুরআনের বিপরীত; এমনকি শব্দসমূহও কম-বেশি করার দৃষ্টিকোণ থেকে তার বিপরীত। আর যেখানে সত্য আলী’র সাথে; আর আলী সত্যের সাথে, সেখানে বিদ্যমান কুরআনের মধ্যে উভয়দিক থেকেই পরিবর্তন রয়েছে; আর এটাই উদ্দেশ্য। [ফসলুল খিতাব, পৃষ্ঠা ৯৭]

আপনি যে অভিযোগ বা সমস্যার কথা গুলো জানিয়েছেন তা আদতে শিয়াদের করা মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ। আপনিই চিন্তা করুন আল্লাহ শেষ নবী হিসেবে পাঠালেন মুহাম্মদ (সা)-কে, যার উপর নাজিল করলেন পবিত্র কোরআন, তিনি সেই কিতাব রাসুলের মৃত্যু হওয়ার সাথে সাথে সম্পুর্ন হেফাজত করতে অক্ষম হয়ে যাবেন! এ কেমন কথা হতে পারে! আরেকটি বিষয় হল আলি যদি সম্পুর্ন কুরআন লিপিবদ্ধ করে তাহলে বাকি সাহাবাগণ কি চোখ বন্ধ করে রেখেছিলেন? একজনও কি তার এই সংকলনের পক্ষে থাকবে না! এ কেমন কথা!  তারপর আরেকটি বিষয় হল তার সংকলন করা কুরআন শুধু তার পরিবার ও শিয়া ইমামগণই পেয়েছে, আর কেউ পায় নি বা জানেও নি এত লক্ষ লক্ষ মানুষের মাঝে! এ কেমন কথা! আরেকটি বিষয় হল ১৪শত বছর আগে আলির করা সংকলিত বা সংগ্রহিত কুরআন কেয়ামতের আগে জন্ম নেওয়া ইমাম মাহদির কাছে কি করে সংরক্ষিত হতে পারে! এ কেমন কথা, কি কথা!

এ ছাড়া তাদের বর্ণনা করা ঘটনাগুলো সনদেরও চরম সমস্যা থাকে, কিন্তু তারপরও তা তাদের নিকট সহিহ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু আমরা তাদের সংকলন করা কিতাবগুলোতে বিশ্বাসী নই, আমরা তাদের সংকলন করা হাদিসকে গ্রহণযোগ্য ও রাসুল এবং তার সাহাবাগণ হতে প্রমাণীত সুত্রে বর্ণিত হয়েছে এটা বিশ্বাস করি না। সেহেতু তাদের দাবিতে কিছু যায় আসে না৷

তারা রুপকথার গল্প বানাচ্ছে আলি বাদে কেউ সহিহ কুরআন সংকলন করে নাই এটাও বিশ্বাস করা লাগবে? তারা গল্প বানাচ্ছে শেষ জমানায় মাহদির কাছে সেই আসল কুরআন সংরক্ষিত সেটাও বিশ্বাস করা লাগবে? আল কাফির হাদিসগুলার সনদদেও চরম সমস্যা রয়েছে।

আমার প্রশ্ন শিয়াদের কাছেও যেহেতু আসল কুরআন নাই তাইলে তারা নিজেদেরকে মুসলিম বলে কি কারনে? তাদের বর্ণনা অনুসারে আল্লাহর সেই ক্ষমতাই নাই নিজের শেষ নবীর পার্মানেন্টলি শেষ কিতাবকে রক্ষা করার। কিতাবই যদি রক্ষা না হয় তাহলে ধর্ম কেমনে টিকে থাকে! এটাওতো সেই ইহুদি খ্রিষ্টানদের মতই হয়ে গেল! অন্তত তাদের জন্য তাদের কিতাব পার্মানেন্টতো ছিল না, তাই বিকৃত হলেও কিছু বলার থাকে না

Back to top button