ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাব

কোরবানি নিয়ে অপপ্রচারের জবাব – আসিফ আদনান

ট্রানস্ক্রিপ্টঃ

এরা কেএফসিতে যায়। এরা ম্যাকডোনাল্ড এ যায়। এরা বারবিকিউ পার্টি করে। এদের অনেকে পর খেয়ে ফেসবুকে খুব আগ্রহ করে ছবি দেয়। পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ খাওয়া নিয়ে খুব আনন্দিত হয়, উৎসিত হয়। কোন জায়গাতে তাদের কোন সমস্যা হয় না। এখানে পশু হতা বা অমানবিকতা নিয়ে তাদের কোন কনসার্ন নাই। তাদের একমাত্র কনসার্ন বা তাদের একমাত্র কথা বলার জায়গা হলো ঈদুল আযহার সময় এবং বিশেষ করে গরু কুরবানী করা নিয়ে। তো এটা আসলে কোন কনসিস্টেন্ট আদর্শিক অবস্থান না, নৈতিক অবস্থান না। এটা মূলত একটা ইসলাম বিদ্বেষী অবস্থান। এটা কি সম্ভব যে সমুদ্রের মাছ এসে বলল যে ঠিক আছে আমাকে নিয়ে যাও সুপার শপে অথবা গরু ছাগল ল্যাম্প বাবা এসে বলতেছে হ্যাঁ ঠিক আছে আমাকে নিয়ে যাও আমাকে খাও না ব্যাপারটা তো এভাবে হয় না যেহেতু আধুনিক সমাজে এই ব্যাপারটা চোখের আড়ালে হয় তাই এই সহিংসতা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না আমরা মনে করি আমরা ফাস্টফুড শপে যাব বা রেস্টুরেন্টে যাব বা সুপার শপে যাব এবং এসি থাকবে খুব পরিপাটি করে আমাদেরকে আমাদের হাতে তুলে দেয়া হবে এবং এখানে কোন বায়োলেন্স মনে হয় নাই এটা কোনভাবেই অপচয় না আপনি চিন্তা করে দেখেন বাংলাদেশের অনেক মানুষ আছে যারা সারা বছরে কখনো হয়তোবা পেট ভরে মাংস খেতে পারে না কিন্তু এই ধরনের কোটি কোটি মানুষ ঈদুল আসার সময় পেট ভরে মাংস খেতে পারে। একদিনে এত পরিমাণ মাংস, এত পরিমাণ খাবার স্বেচ্ছায় বেলানো হচ্ছে। এরকম ইভেন্ট এরকম ঘটনা পুরো পৃথিবীতে খুব কম ঘটে। যেটা কুরবানির সময় সারা বিশ্বে ঘটে। সারা মুসলিম বিশ্বে ঘটে। এটা কেন ইবাদত? আমরা কোন শব্দটা এখানে ইউজ করি দেখেন। কুরবানি বলি আমরা। কুরবানির অর্থ কি? ত্যাগ। স্যাক্রিফাইস। এখানে আপনি কি স্যাক্রিফাইস করতেছেন? সাধারণ মানুষ ব্যাপারটা বোঝে না। বা আমরা আধুনিক সময় এসে আমরা এই ব্যাপারটা আসলে বুঝতে পারতেছি না। যে আমি একটা পশু কিনে আনলাম। তারপর আমি পশুটা জবেহ করলাম এবং আমি এটার মাংস অনেকটাই বিলায় দিলাম। এখানে আসলে স্যাক্রিফাইসটা কোথায়? তা আমি আধুনিক কিছু উদাহরণ দেই। আমি কোন বস্তু, কোন ভোগ্য পণ্য, কোন জিনিস যেটা আমার পছন্দ, যেটা আমি চাই সেটা আমি ছেড়ে দিলাম, উৎসর্গ করলাম, স্যাক্রিফাইস করলাম। এটা স্পিরিচুয়ালিটির পরীক্ষা। আপনি কোন কিছুই করবেন না। কিন্তু তারপর আপনি বলবেন যে মনের কোরবানি বড় কোরবানি, মনের পশুই বড় পশু। এটা তো বাস্তবসম্মত না। যে দান সাদাকা আর কোরবানিকে মুখোমুখি দাঁড়ানো করার প্রয়োজন নাই। কারণ মুসলিমরা সারা বছরই সাদাকা করে। আলহামদুলিল্লাহ। এবং মুসলিমরা প্রতিবছর যাকাতও দেয় এবং যাকাত কিন্তু বাংলাদেশেও হাজার হাজার কোটি টাকার উপরে ওঠে। এই অঞ্চলে কুরবানির সাথে সবসময়ই একটা সামাজিক রাজনৈতিক ডাইমেনশন থাকে। কারণ বাস্তবতা হলো ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষকে গরু কুরবানী করার ক্ষেত্রে বারবার বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং বারবার আত্মত্যাগ এবং সংগ্রাম করতে হয়েছে। আপনি যদি ইতিহাসে দেখেন বাবা আদম শহীদ রাহিমাহুল্লাহ বা হযরত শাহজাহ রাহিমাহুল্লাহ তাদের মত অলি আউলিয়াদেরকেও গরু জবেহ করার অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে। আপনি দেখেন মুজাদ্দেদ আলফেসানী রাহিমাহুল্লাহ তিনি লিখছেন যে হিন্দুস্তানে গরু জবেহ করা হলো ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেন। মিস তিতুমির রাহিমাহুল্লাহ তিনিও কিন্তু গরু কুরবানি করাটা বা গরু জবাবে করাটা সামাজিক রাজনৈতিক প্রতিরোধের একটা প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করছিলেন। কাজেই ঐতিহাসিকভাবেই গরু কুরবানী করার সাথে এখানে একটা সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষ্য বা ডাইমেনশন জড়িত। একদিকে ঈদুল আযহা তো অবশ্যই আমাদের ঈমানী দায়িত্ব এবং ইবাদত। পাশাপাশি এই অঞ্চলে গরু কুরবানী করা এটা আত্মপরিচয়ের প্রতীক এবং এটা পৌত্তলিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটা শেয়ারে পরিণত হয়েছে। স অবশ্যই এটা আমাদের উৎসবের দিন। এটা আমাদের ইবাদতের দিন। এর সাথে আমাদের দ্বীন এবং ঈমানের প্রশ্ন জড়িত। পাশাপাশি এই অঞ্চলে হিন্দুস্তানে মুসলিমবঙ্গে এটা আমাদের আত্মপরিচয় এবং আমাদের স্বাধীনতার প্রতিকেও পরিণত হয়েছে। এজন্য আমি বলব এবং আমি অনুরোধ করব যে এই দিনটাকে আমরা আরো ভালোভাবে ওন করা প্রয়োজন এবং এই দিনটা আমাদের আরো ভালোভাবে উদযাপন করা প্রয়োজন।

আসসালামু আলাইকুম। ইনসাফ২৪ এর মুখোমুখীতে এবারে আমাদের অতিথি লেখক ও গবেষক আসিফ আদনান। ইনসাফের মুখোমুখী অনুষ্ঠানে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনার কাছে আমার প্রথম প্রশ্ন হলো পশু হত্যা আখ্যায়িত করে এক শ্রেণীর মানুষ কুরবানীকে অমানবিক বলে তাদের এ বিরোধিতা কি পশুপ্রেমের জায়গা থেকে নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে?

ওয়ালাইকুম আসসালাম ওহমাতুল্লাহি বারাকাতুহ এ ধরনের আপত্তি মোটা দাগে দুই ধরনের মানুষের কাছ থেকে আসে এদের মধ্যে প্রথম ক্যাটাগরি হলো যারা ভেজিটেরিয়ান অর্থাৎ তারা নিরামিষ খান মাছ মাংস খান না তো তাদের জবাবটা কয়েকটা ভাবে দেয়া যায় যেমন ধরেন যারা ভেজিটেরিয়ান তারা তো শাকসবজি খান তারা প্ল্যান বেস খাবার খান এবং আমরা সবাই জানি যে গাছপালারও জীবন আছে। গাছপালাও একটা অর্গানিক লাইফ ফর্ম। সো যখন তারা কোন কিছু খাচ্ছেন তখন তারা একটা অর্থে দেয়ার কনজিং লাইফ তারা প্রাণ ভক্ষণ করতেছেন। তো তাদের আপত্তিটা আসলে কোথায়? তারা তো এখানে জীবন হত্যা করতেছেন। ওই অর্থে। এই প্রশ্নটা তাদেরকে করা যায় যে আপনারা আপনাদের অবস্থানে খুব একটা কনসিস্টেন্ট না। এখানে অনেক সময় একটা যুক্তি আনা হয়। সেটা হলো সেন্টিয়েন্সের যুক্তি। যুক্তিটা সহজ হল এরকম যে জীবজন্তু সচেতন, জীবজন্তু সংবেদনশীল। তাদের অনুভূতি আছে। সহজ ভাষায় জীবজন্তু ব্যথা অনুভব করতে পারে। গাছপালা আমরা যতদূর জানি ব্যথা অনুভব করতে পারে না। কিন্তু এখানে সমস্যা হলো সংবেদনশীলতা বা সেন্টেন্সকে যদি আপনি মাপকাঠ হিসেবে নেন তাহলে এখানে খুব জটিল একটা দার্শনিক তর্ক শুরু হয়ে যায়। যেমন ধরেন এমন অনেক মানুষ থাকতে পারে যাদের ব্যথার অনুভূতি নাই। অথবা তারা জন্মগতভাবে তাদের কগনিটিভ ডিসেবিলিটিজ আছে। ধরেন একজন মানুষ যিনি কমায় আছেন তিনি অনেক কিছু এখন অনুভব করতে পারতেছে না। ফিল করতে পারতেছে না। তাহলে কি তার মূল্য এখন কম কিনা? অথবা অনেক মানুষ আছে যারা জন্মগ্রহণ করেন এমনভাবে যে তাদের ব্যথার অনুভূতি হয় না। এটাকে কনজেনিটাল এনালজেসিয়া বলা হয়। সেই ক্ষেত্রে তার মূল্য কি কিছুটা কম কিনা? কিংবা এমন মানুষ থাকতে পারে তাদের জন্ম খুব সিভিয়ার কগনেটিভ ডিসেবিলিটি নিয়ে মানসিক প্রতিবন্ধী যারা হয়ে থাকেন এরকম অনেক মানুষ থাকতে পারে। তাদের মূল্য কি তখন আমরা কম ধরবো কিনা এবং যদি আমরা কম ধরি তাহলে তাদের অধিকার কি অন্য মানুষের তুলনায় কম হবে কিনা? তো এ ধরনের জটিল একটা দার্শনিক আলাপের মধ্যে আপনার চলে যেতে হবে। তখন সহজ ভাষায় যারা ভেজিটেরিয়ান এবং যারা সিনসিয়ারলি প্রশ্নগুলো করেন তাদের প্রতি আমাদের উত্তর হবে যে দেখেন আপনারা এই অবস্থানটা নিচ্ছেন একটা মডল ফ্রেমওয়ার্ক থেকে একটা নৈতিক কাঠামো থেকে যেখানে আপনারা ধরে নিছেন যে পশু হত্যা খুব খারাপ একটা কাজ অমার্জনীয় অপরাধ এবং এটা করা উচিত না। ঠিক আছে? এই অবস্থান আপনারা গ্রহণ করতে পারেন। কিন্তু এটাই পৃথিবীতে একমাত্র মরাল ফ্রেমওয়ার্ক না। এটা পৃথিবীতে একমাত্র নৈতিক অবস্থান না। আমাদের একটা ভিন্ন নৈতিক অবস্থান আছে। আমাদের নৈতিক অবস্থানের ভিত্তি হলো কোরআন, সুন্নাহ, আল্লাহর ওয়াহী। মহান আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা যিনি সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা তিনি যে সীমানা দিছেন, তিনি যে নিয়ম দিছেন, আমরা সেটা মেনে চলি। কাজেই আপনাদের নৈতিক ফ্রেমওয়ার্ক অনুযায়ী আপনি হয়তোবা চলতে পারেন। বাট আপনি অন্যকে এটা দিয়ে চলতে বাধ্য করতে পারেন না। এটা হল তাদের প্রতি উত্তর। বাট আমি বললাম যে এখানে দুই ধরনের মানুষ আছে। এটা প্রথম ক্যাটাগরি যারা মোটামুটি কিছুটা সিনসিয়ার। দ্বিতীয় যে ক্যাটাগরি সেটা হলো বাংলাদেশের ইসলাম বিদ্বেষীরা যাদের অনেকেই নাস্তিক হয়ে থাকে। এদের সমস্যা হলে এরা কেএফসিতে যায়। এরা ম্যাকডোনাল্ডসে যায়। এরা বারবিকিউ পার্টি করে। এদের অনেকে পর খেয়ে ফেসবুকে খুব আগ্রহ করে ছবি দেয়। এরা পহেলা বৈশাখে ইলিশ মাছ খাওয়ায় নিয়ে খুব আনন্দিত হয়। উৎসিত হয়। কোন জায়গাতে তাদের কোন সমস্যা হয় না। এখানে পশু হত্যা বা অমানবিকতা নিয়ে তাদের কোন কনসার্ন নাই। তাদের একমাত্র কনসার্ন বা তাদের একমাত্র কথা বলার জায়গা হলো ঈদের সময়, ঈদুল আযহার সময় এবং বিশেষ করে গরু কুরবানী করা নিয়ে। তো এটা আসলে কোন কনসিস্টেন্ট আদর্শিক অবস্থান না, নৈতিক অবস্থান না। এটা মূলত একটা ইসলাম বিদ্বেষী অবস্থান। আর একটা বিষয় হলো যারাই এই আপত্তিগুলো করেন তাদের একটা বাস্তবতা বোঝা উচিত। পুরো পৃথিবীতে প্রতিদিন কোটি কোটি পশু হত্য করা হয়। খাবারের জন্য, ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য, ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রির জন্য অর্থাৎ ওষুধ তৈরি করার জন্য এমনকি কসমেটিক তৈরি করার জন্য। এবং এই কোটি কোটি পশু যাদেরকে হত্যা করা হয় তাদের অনেককে হত্যা করা হয় অত্যন্ত নির্মমভাবে। তো এই পুরো ব্যাপারটা নিয়ে যদি আপনি কখনো কোন আপত্তি না করেন। আপনি যদি এই পুরো ব্যাপারটা মেনে নিয়ে থাকেন। এটা যদি আপনার কাছে খুব স্বাভাবিক হয়ে থাকে। আর আপনি শুধুমাত্র ঈদুল আযহার সময় বছরে একবার সিলেক্টিভলি আউটরেস দেখান, ক্ষুব্ধ হন, উৎকণ্ঠা দেখান এবং পশুপ্রেমের বক্তব্য নিয়ে আসেন তখন সেটা সিরিয়াসলি গ্রহণ করা আসলে কষ্টকর হয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে জীব হত্যা অমানবিক। একটা শ্রেণীর বক্তব্য হচ্ছে কুরবানির সময় পশু হত্যা করে ধর্মীয় রীতি পালন করা নিষ্ঠুরতা ও সহিংসতা। আসলেই কি তাই? এখানে যে বিষয়টাকে সহিংসতা বা নিষ্ঠতা বলা হচ্ছে সেটা আসলে জীবনের অংশ। প্রকৃতির অংশ। একটা বাঘ যখন খাবার খায় সে কি করে? শিকার করে তারপর খায়। একটা বাঘ একটা হরিণ স্বীকার করে খায় অথবা একটা সিংহ সে একটা বাইসন শিকার করে খায়। আমরা যে পাখিগুলোকে দেখি আমাদের কাছে খুব কিউট লাগে। মনে করেন একটা কবুতর বা একটা চড়বি পাখি তারা পোকামাকর খায়, তারা কেচো খায়। বিড়াল ইদুর খায়, ছোট পোকামাকর খায়। এই প্রত্যেকটা জায়গায় তো সহিংসতা আছে। যখনই খাবার প্রশ্নটা আসে এখানে অবধারিতভাবে কিছুটা ভায়োলেন্সের কথা চলে আসে। চিন্তা করে দেখেন এই যে আমরা যে সুপার শপে যাই সেই সুপার শপে যে খাবারগুলো আসলো সেগুলো কিভাবে আসলো সহিংসতা ছাড়া কি সেগুলো আসতে পারে কিনা আপনি যে ফাস্টফুড শপে যান সেখানে যে খাবারগুলো আছে সেগুলো কিভাবে আসতেছে সহিংসতা ছাড়া কি এগুলো সম্ভব কিনা এটা কি সম্ভব যে সমুদ্রের মাছ এসে বলল যে ঠিক আছে আমাকে নিয়ে যাও সুপার শপে অথবা গরু ছাগল ল্যাম্প নানা জিনিসপত্র যেগুলো আছে সবাই এসে বলতেছে হ্যাঁ ঠিক আছে আমাকে নিয়ে যাও আমাকে খাও না ব্যাপারটা তো এভাবে হয় না যেহেতু আধুনিক সমাজে ব্যাপারটা চোখের আড়ালে হয় তাই এই সহিংসতা নিয়ে আমরা মাথা ঘামাই না। আমরা মনে করি আমরা ফাস্টফুড শপে যাব বা রেস্টুরেন্টে যাব বা সুপার শপে যাব এবং এসি থাকবে। খুব পরিপাটি করে আমাদেরকে আমাদের হাতে তুলে দেয়া হবে এবং এখানে কোন ভায়োলেন্স মনে হয় নাই। বাট অবশ্যই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে ভায়োলেন্স আছে। ক্যাপিটালিস্ট সিস্টেমে বা কনজিউমার ক্যাপিটালিজমে ভায়োলেন্স অবশ্যই আছে। কিন্তু সেটা চোখের আড়ালে হয়। আর ইসলামে যে ব্যাপারটা হয় সেটা হলো ইসলাম বাস্তবতাকে আড়াল করে না। বাস্তবতা যেমন ইসলাম সেভাবেই আমাদের সামনে তুলে ধরে। এই কারণে কুরবানির সময় এই সহিংসতাটা আমাদের চোখের সামনে ঘটে। যেই সহিংসতাটা জীবনের অংশ এটা বাড়তি কোন আরোপ করার সহিংসতা না। এবং এটার কিছু বেনিফিট আছে। এটার বেনিফিট হল প্রথমত আমরা শুকর গুজার হইতে পারি মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে যে আমাদের রিজিকটা কিভাবে আসতেছে এই প্রসেসটার মধ্যে কোন কোন বিষয়গুলো ইনভলভ সেটা আমাদের চোখের সামনে ঘটে। দ্বিতীয়ত পশুর সাথে অবস্থান করার কারণে পশুর প্রতি আপনার আচরণ অনেক বেশি মেইন হয়। যখন একটা বিষয় চোখের আড়ালে ঘটে তখন সেটার প্রতি আমাদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা কাজ করে বা যখন এটা আমাদের চোখের সামনে ঘটে তখন সেটার সাথে আমাদের একটা মানসিক আত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয় এই ব্যাপারটা সেখানে থাকে ইসলাম এই পুরা প্রক্রিয়াটার মধ্যে একটা একাউন্টেবিলিটি এথিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক এবং তাকওয়ার ডাইমেনশন যুক্ত করে আর যদি নিশ্চয়তার কথা বলেন তাহলে কনজিউমার ক্যাপিটালিজম যে মাত্রার নিষ্ঠুরতার প্রয়োগ করে যে ধরনের নিঃশংসতা করে এটা অন্য কারো পক্ষে রিক্রিয়েট করা সম্ভব না আমি জাস্ট একটা উদাহরণ দেই। পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রির কথা চিন্তা করেন। এখানে দুই ধরনের মুরগি ব্রিড করা হয়। একটা হলো মাংসের জন্য, ডিমের জন্য আরেকটা। একটা হলো ব্রয়লার আরেকটা সমত লেয়ার মুরগি বলা হয়। তো ডিমের জন্য আপনার দরকার ফিমেল মুরগি। কিন্তু মুরগি তো ছেলেও হয়, মেয়েও হয়। তো ছেলে মুরগিগুলোকে কি করা হয়? ছেলে মুরগিগুলোকে জন্মানোর পর মেরে ফেলা হয় ওই দিনেই। প্রতিদিন পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ অথবা কোটি কোটি বাচ্চা মুরগি জন্মের পর জ্যান্ত মেরে ফেলা হয়। জ্যান্ত মিট গ্রাইন্ডারে ফেলে মাটি চাপা দিয়ে অথবা বস্তার ভেতরে এরকম ভিডিও YouTube এ আছে এরকম ভিডিও ইন্টারনেটে আছে আপনারা চাইলে দেখতে পারেন তো এই ব্যাপারটা কিন্তু প্রতিটা দিন ঘটে এটা বছরে একদিন ঘটতেছে না এটা প্রতিটা দিন ঘটতেছে এন্ড পার্ট অফ দা প্রসেস এটা সারপ্লাস যেহেতু তারা সারপ্লাস তাই তাদেরকে এভাবে ধ্বংস করে ফেলা হবে এবং এ ধরনের নিঃশ্রতা তাদের উপর চালানো হবে নিয়মতান্ত্রিকভাবে তো এই ধরনের নিঃশ্্রতা কনজিউমার ক্যাপিটালিজমের একটা অংশ সেই জায়গা থেকে কোনভাবেই ইসলামের যে ব্যবস্থা আছে এবং একদিনের যে ইবাদতের যে ব্যাপারটা আছে সেটা কোনভাবে এর সাথে তুলনা হতে পারে না। এর চেয়ে অনেক বেশি নিষ্ঠুরতা এর চেয়ে অনেক বড় মাপের নিঃশংসতা আমরা প্রতিদিন মেনে নেই। এই ধরনের নিশংসতার কোন জায়গা কিন্তু ইসলামে নাই। এই ধরনের যান্ত্রিক নিষ্ঠুরতা এই মাত্রার নিষ্ঠুরতা আপনি কখনো ইসলামে পাবেন না। বরং আপনি কুরবানির সময় দেখবেন যে পশুর সাথে মানুষের অন্য ধরনের একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। আপনারা অনেক সময় এরকম রিপোর্ট দেখেন যে যে ব্যাপারী এসে বিক্রি করতেছে সে গরুকে ধরে কাঁদতেছে এবং সে বলতেছে এই গরু আমার পরিবারের একটা সদস্যের মতো। এই সম্পর্কটা আপনি চিন্তাও করতে পারবেন না। কখনো ওই ধরনের ফার্মড মিটের ক্ষেত্রে হবে। ওই ধরনের ক্যাপিটালিস্ট কালচারের মধ্যে হবে। একইভাবে যে ব্যক্তি পশু কিনে আনেন কুরবানীর জন্য তিনিও এই পশুকে কিনে আনেন কিন্তু ইবাদতের জন্য। কাজেই পশুকে উনি শুধুমাত্র একটা পণ্য হিসেবে দেখেন না। এবং ওই ধরনের কোন নিষ্ঠুরতার কোন জায়গা ওখানে থাকে না। পাশাপাশি ইসলাম আমাদের শিক্ষা দেয়। সব পশুকেই সাধারণ পশুকেও যখন জবেহ করা হয়। তাদের সাথে যথাসম্ভব ভালো আচরণ করার এবং মানবিক আচরণ করার। কাজেই নিষ্ঠুরতার প্রশ্নে ইসলামের সামনে দাঁড়ানোর মত কোন অবস্থান আধুনিক বিশ্বের আসলে নাই। কুরবানির সময় একদিনে কয়েক কোটি পশু জবাই করা হয়। এই বিষয়টাকে এক শ্রেণী অপচয় বলে থাকেন। তাদের এই মতামত কি যৌক্তিক? না। এটা কোনভাবেই অপচয় না। আপনি চিন্তা করে দেখেন বাংলাদেশের অনেক মানুষ আছে যারা সারা বছরে কখনো হয়তোবা পেট ভরে মাংস খেতে পারে না। কিন্তু এই ধরনের কোটি কোটি মানুষ ঈদুল আসার সময় পেট ভরে মাংস খেতে পারে। একদিনে এত পরিমাণ মাংস, এত পরিমাণ খাবার স্বেচ্ছায় বেলানো হচ্ছে। এরকম ইভেন্ট, এরকম ঘটনা পুরো পৃথিবীতে খুব কম ঘটে। যেটা কুরবানির সময় সারা বিশ্বে ঘটে, সারা মুসলিম বিশ্বে ঘটে। এটা হলো জাস্ট একটা দিক। কুরবানি প্রোটিনের এবং মাংসের একটা বড় সোর্স হিসেবে কাজ করে গরীব দুঃখী মেহনতি মানুষের জন্য। এটা জাস্ট একটা সামাজিক দিক। পাশাপাশি অর্থনৈতিক দিকটা চিন্তা করেন। কুরবানিকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা লেনদেন হয়। আমাদের অর্থনীতির বড় একটা অংশ হলো ইনফরমাল এবং গ্রামকেন্দ্রিক বা গ্রামীণ অর্থনীতি। সেই অর্থনীতিতে এই লেনদেনের প্রভাব অনেক বেশি। যারা গবাতি পশু নিয়ে কাজ করেন, এগ্রো বিজনেস নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের ব্যবসার বড় একটা অংশ আবর্তিত হয় এই কুরবানী কেন্দ্রিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। পাশাপাশি এই সময়টাতে অনেকে সিজনাল বিভিন্ন কাজ করতে পারেন। যারা ট্রান্সপোর্টের কাজ করেন, ফিড নিয়ে কাজ করেন, কসাই যারা আছেন, লেবার হিসেবে যারা এই সময়টাতে কাজ করেন তাদের অনেকের উপার্জনের একটা সোর্স কিন্তু এই কুরবানী কেন্দ্রিক লেনদেন। অন্যদিকে চিন্তা করেন আমাদের চামড়া শিল্পের কথা। আমাদের চামড়া শিল্পের বড় একটা সিগনিফিক্যান্ট একটা অংশ কিন্তু আসে এই কুরবানির সময় থেকে। আমরা হয়তোবা সেটা প্রপারলি ব্যবহার করতে পারি না, কাজে লাগাতে পারি না। বাট সেটা হলো আমাদের কাঠামোগত সমস্যা। আমাদের অর্থনীতি, আমাদের শাসনগত পলিসিগত নানা সমস্যার ফলাফল। এটা কুরবানির সমস্যা না। কাজেই আপনি দুনিয়াবী অনেক সেন্সও দেখবেন যে এই কুরবানি কোন অর্থেই অপচয় না। যদিও এটা আমাদের মূল উদ্দেশ্য না। আমাদের মূল উদ্দেশ্য অবশ্যই ইবাদত। কিন্তু মহান আল্লাহর দেয়া সিস্টেমের সৌন্দর্য এটা। যে আমরা যখন ইবাদত হিসেবে এই কাজটা করতেছি এটা সামগ্রিকভাবে আমাদের সমাজের উপর আমাদের অর্থনীতির উপর অনেক ইতিবাচক প্রভাব রাখে। কাজেই কোন অর্থেই এটাকে আসলে অপচয় বলা যায় না। কিছু লোক বলে থাকে ধর্ম একটি আধ্যাত্মিক বিষয়। তাহলে ধর্মীয় উৎসব বা এবাদত রক্তাক্ত হওয়াটা কতটা যৌক্তিক? এ বিষয়ে কি বলবেন? এখানে আসলে মূল সমস্যাটা হলো যে আমরা ঈদুল আযহার মর্মার্থটা বুঝতে পারি না। দেখেন পশু উৎসর্গ করা বা স্যাক্রিফিশিয়াল অফারিং এটা সবসময় একটা ইবাদত। এটা কেন ইবাদত? আমরা কোন শব্দটা এখানে ইউজ করি? দেখেন কুরবানি বলি আমরা। কুরবানির অর্থ কি? ত্যাগ। স্যাক্রিফাইস। এখানে আপনি কি স্যাক্রিফাইস করতেছেন? সাধারণ মানুষ ব্যাপারটা বোঝে না বা আমরা আধুনিক সময় এসে আমরা এই ব্যাপারটা আসলে বুঝতে পারতেছি না যে আমি একটা পশু কিনে আনলাম। তারপর আমি পশুটা জবেহ করলাম এবং আমি এটার মাংস অনেকটাই বিলায় দিলাম। এখানে আসলে স্যাক্রিফাইসটা কোথায়? তা আমি আধুনিক কিছু উদাহরণ দেই। মনে করেন আপনি অনেক সময় ধরে টাকা জমাইছেন। আপনার সাধ্যমত টাকা নিয়ে আপনি বাজারে গেছেন। বেছে বেছে পছন্দ করে শখ করে একটা গাড়ি কিনে নিয়ে আসছেন। কিন্তু এই গাড়ি আপনি চালাতে পারবেন না। আপনাকে বলা হলে এই গাড়ি তুমি দান করে দাও। অন্য কাউকে দিয়ে দাও বা রাস্তায় রেখে চলে আসো। কাজটা কিন্তু সহজ না। অথবা মনে করেন আপনি অনেকদিন টাকা জমায়ে একটা খুব ভালো স্পেসিফিকেশনের ল্যাপটপ কিনছেন বা একটা গ্রাফিক্সের পিসি কিনছেন বা গেমিং পিসি কিনছেন। কিন্তু সেই পিসি আপনি ইউজ করতে পারতেছেন না। আপনাকে বলা হলো এটা তুমি একটা মফসের ছেলেকে দিয়ে দাও। অথবা মনে করেন আপনি আপনার মার জন্য বা স্ত্রীর জন্য অনেক টাকা দিয়ে একটা অলংকার কিনলেন। কিন্তু আপনাকে বলা হয় এটা তুমি ব্যবহার করতে পারবা না। এটা অন্য কাউকে দিয়ে দাও। জমি কিনলেন সেই জমিতে আপনি থাকতে পারবেন না। আপনাকে বলা এটা দিয়ে দাও। এই কাজগুলো একটাও কিন্তু সহজ না। এই কাজগুলো বেশ কঠিন। এটা স্যাক্রিফাইস। সমস্যা যেটা হয়েছে যে আমরা আধুনিক মানুষ অনেক স্পিরিচুয়ালিটির কথা বলি। আধ্যাত্মিকতার কথা বলি। কিন্তু আধ্যাত্মিকতার অর্থ আমরা আসলে ঠিক ওইভাবে বুঝি না। মানুষের যে রুহ মানুষের যে আধ্যাত্মিকতা এটা কিন্তু মানুষের মাথার উপরে ফ্রিলি ঘুরপাক খায় না। আমাদের রুহ কোথায় থাকে? আমাদের শরীরের সাথেই তো থাকে। এই রক্তমাংসের সাথেই তো আমরা থাকি। তা আমাদের এই যে শরীরের কামনা বাসনা আমাদের নফসের চাওয়া পাওয়া এটা কিন্তু আমাদের রুহের উপর প্রভাব ফেলে। এই কারণে যে জিনিসটা আমরা ভোগ করতে চাই, যে জিনিসটা আমার কাছে পছন্দ, যে জিনিসটার মালিকানা আমি চাই, ও জিনিসটা ছেড়ে দেয়া অনেক কঠিন। এই জায়গাটাতেই তো স্পিরিচুয়ালিটির পরীক্ষা। আমার শরীরে ক্ষুদা আছে। কিন্তু আমি না খেয়ে থাকলাম, আমি রোজা রাখলাম। এটা হলো স্পিরিচুয়ালিটির একটা পরীক্ষা। আমার নফস গান শুনতে চায় বা সিনেমা দেখতে চায়। কিন্তু আমি এটা থেকে নিজেকে বিরত রাখলাম। এটা স্পিরিচুয়ালিটির একটা পরীক্ষা। আমি কোন বস্তু কোন ভোগ্য পণ্য কোন জিনিস যেটা আমার পছন্দ যেটা আমি চাই সেটা আমি ছেড়ে দিলাম উৎসর্গ করলাম স্যাক্রিফাইস করলাম এটা স্পিরিচুয়ালিটির পরীক্ষা আপনি কোন কিছুই করবেন না কিন্তু তারপর আপনি বলবেন যে মনের কোরবানি বড় কোরবানি মনের পশুই বড় পশু এটা তো বাস্তবসম্মত না আপনার স্পিরিচুয়ালিটির পরীক্ষা তখন হয় যখন আপনি ম্যাটেরিয়াল কোন পজিশন অর্থাৎ আপনার মানে বস্তুগত কোন বিষয় আপনি কারো জন্য স্যাক্রিফাইস করেন এবং কুরবানির ক্ষেত্রে আমরা সেই কাজটাই করি আমরা কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে একটা পশু কিনি পছন্দ করে হাটে গিয়ে কষ্ট করে এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সেটাকে কুরবানী করি যার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করা যার উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর আনুগত্য করা এবং যার উদ্দেশ্য হলো এই ইবাদতটার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা এবং আপনি চিন্তা করে দেখেন এই পুরো জিনিসটা আধুনিকতা আমাদের যে জিনিসটা শেখায় সেটার বিরুদ্ধে যায় আধুনিকতা আমাদের শুধু শেখায় নাফসানিয়াতের কথা যে আমার আরো লাগবে আমি আরো ভোগ করতে চাই আমি আরো জিনিসের মালিক হইতে চাই এবং আমরা শুধু ভোগ, শুধু বস্তু, শুধু পণ্য এসব জিনিসে মগ্ন হয়ে থাকি। কুরবানী আমাদেরকে এখান থেকে বের করে নিয়ে আসে। কুরবানী আমাদেরকে শেখায় যে তুমি তোমার সম্পদ, তুমি তোমার প্রিয় জিনিস মহান আল্লাহর জন্য উৎসর্গ করো। এবং এখানেই ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম এবং ইসমাইল আলাইহিস সালাম তাদের যে আত্মত্যাগ তাদের যে ঘটনা সেই শিক্ষাটা আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। কারণ আল্লাহ তাদের কাছে দেখতে চাচ্ছিলেন বিশেষ করে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের কাছে যে তুমি আল্লাহর আনুগত্য কতদূর পর্যন্ত করবা। যখন সহজ শুধু তখন করবা নাকি যখন একদম কঠিন হয়ে যায় তখনও করবা। সো এই পুরা ব্যাপারটা হলো কুরবানির শিক্ষার ছোট্ট একটা অংশ। এখানে আরো অনেক বিস্তারিত আলোচনার জায়গা আছে। সো এই পুরো বিষয়টাকে অগ্রাহ্য করে শুধুমাত্র কুরবানির সময় জবাবে করা হয়, রক্ত পড়ে, রাস্তাঘাট ময়লা হয় এভাবে বিষয়টা দেখা এটা আসলে খুবই সিম্পলিস্টিক এবং একমাত্রিক একটা দৃষ্টিভঙ্গি আর কি। এবং এই প্রশ্নগুলো মূলত আসে কারণ কুরবানি এবং ইবাদতের এই মর্মার্থটা উপলব্ধি না করতে পারার কারণে। একটা শ্রেণীর বক্তব্য হচ্ছে কুরবানির অর্থ যেহেতু প্রিয় জিনিস ত্যাগ করা তাহলে সেই ত্যাগ পশু জবাইয়ের মাধ্যমে না করে অন্য কিছু দিয়েও তো করা যেতে পারে যেমন তাদের যুক্তি হচ্ছে পশু কেনার টাকা সদকা করে দেওয়া বা অন্য কোন ভালো কাজে ব্যয় করা এই প্রশ্নটার উত্তর কয়েকটা ভাবে দেয়া যায় প্রথম যে দিকটা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটা সেটা হলো কুরবানি একটা ইবাদত এবং ইবাদতের একটা সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি আছে আমরা ইবাদত করি মহান আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য আমরা ইবাদত করি মহান আল্লাহর আনুগত্যের তিনি আমাদেরকে একটা দায়িত্ব দিছেন। সেই দায়িত্বটা আমরা পালন করতেছি। তো যখন আমরা এটা করব তখন মহান আল্লাহ যে পদ্ধতি আমাদের জন্য নির্দিষ্ট করে দিছেন সেভাবেই আমাদের করতে হবে। আমরা নিজের মত করে একটা জিনিস এখানে আবিষ্কার করতে পারবো না। যেমন ধরেন সালাত আদায় করার সময় সালাত আমাদের জন্য একটা হুকুম যেটা আমাদের পালন করতে হবে। এখন আমরা তো নিজের ইচ্ছামত সালাতের একটা পদ্ধতি বের করে এটা করতে পারবো না। যেহেতু এটা একটা শারী ইবাদত। তাই এটা আল্লাহ আজওজাল যেভাবে নির্দিষ্ট করে দিছেন সেভাবে আমাদের পালন করতে হবে। আরেকটা কথা হল যে হ্যাঁ তাত্ত্বিকভাবে এই কথাটা বলা যায় যে অনেক মানুষ তোরা চাইলে এই টাকাটা দান করে দিতে পারে মানব কল্যাণের জন্য কাগজে কলমে এটা বলা যায় এবং অনেক মানুষ এরকম বলেও থাকে কিন্তু বাস্তবে কয়জন মানুষ আসলে এই কাজটা করে এই বিষয়টা আসলে হয় না কারণ আধুনিকতা মানুষের মধ্যে যে মানসিকতা তৈরি করে সেটা সম্পূর্ণ উল্টা আপনি যে সম্পদ অর্জন করবেন আপনার যে রিসোর্সেস আছে আপনি সেটা ইউজ করবেন নিজের সন্তুষ্টির জন্য নিজের ভোগের জন্য মানুষ যখন দান করে তখন সে দান করে কেন নিজের মনটাকে ভালো লাগানোর জন্য যে আমি একটা ভালো কাজ করছি এখান থেকে সে একটা আনন্দ পায় ইউটিলিটি পায় এটার জন্য এটা আসলে বছর বছর এভাবে হাজার হাজার টাকা বা লাখ টাকা খরচ করা এটা আসলে বাস্তব সম্মত না এবং বাস্তবে আমরা দেখি এটা আসলে হয় না বলার সময় অনেকেই বলে বাট করার সময় আসলে এভাবে কেউ করে না আর অন্য একটা বিষয় হলো যে দান সাদাকা আর কুরবানীকে মুখোমুখি দাঁড় করার করার প্রয়োজন নাই কারণ মুসলিমরা সারা বছরই সাদাকা করে আলহামদুলিল্লাহ এবং মুসলিমরা প্রতিবছর যাকাতও দেয় এবং যাকাত কিন্তু বাংলাদেশেও হাজার হাজার কোটি টাকার উপরে উঠে এবং সারা বিশ্বে বিলিয়নস অফ ডলারস এর উপরে প্রতিবছর যাকাত হয়। একইভাবে সাদাকাও হয় আপনারা জানেন আমাদের সাম্প্রতিক সময়ের এই ঘটনা মোটামুটি কাছাকাছি সময়ের ঘটনা। যখন রোহিঙ্গাদের যেনটা চলতেছিল এবং তারা বাংলাদেশে ঢোকা শুরু করলো। তখন কিন্তু বাংলাদেশের মুসলিমরা ব্যাপক পরিমাণে দান সাদাকা করছেন আলহামদুলিল্লাহ। সো এই ব্যাপারটা আমরা অলরেডি করি। মুসলিমরা দান সাদাকা করে মুসলিমরা যাকাত দেয়। সো এখানে অর্থ খরচ করার সাথে কুরবানীকে মুখোমুখি দাঁড় করার কোন প্রয়োজন আসলে নাই। আমাদের এই অঞ্চল অর্থাৎ ভারত উপমহাদেশে কুরবানি কি কেবল একটি এবাদত নাকি এর রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে? এই অঞ্চলে কুরবানির সাথে সবসময়ই একটা সামাজিক রাজনৈতিক ডাইমেনশন থাকে বা অক্ষ থাকে। কারণ বাস্তবতা হলো ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষকে গরু কুরবানী করার ক্ষেত্রে বারবার বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হয়েছে এবং বারবার আত্মত্যাগ এবং সংগ্রাম করতে হয়েছে। আপনি ইতিহাসে দেখেন বাবা আদম শহীদ রাহিমাহুল্লাহ বা হযরত শাহজাহল রাহিমাহুল্লাহ তাদের মত অলি আউলিয়াদেরকেও গরু জবাবে করার অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে। আপনি দেখেন মুজাদ্দেদ আলফেসানী রাহিমাহুল্লাহ তিনি লিখছেন যে হিন্দুস্তানে গরু জবাবে করা হলো ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিয়ারের একটা কেন কারণ এই অঞ্চলের যারা কাফের বা এই অঞ্চলের যারা মুশরিক তারা জিজিয়া মেনে নিতে পারে কিন্তু তাদের জন্য এই গরু কুরবানি বা গরু জবেহ করা এটা মেনে নেয়া অত্যন্ত কঠিন এই কারণে উনি বলতেছেন যে হিন্দুস্তানে গরু জবেহ করা হলো ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ দেওয়া ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয়া বা ইসলামের নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ দেয়া ইসলাম যে গালেব এটার প্রমাণ দেয়া দেওয়া। এই কারণে এই অঞ্চলে গরু জবেহ করা ইসলামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিয়ারের একটাতে পরিণত হয়েছে। এটা মুজাদ্দেদ আলফেসানী রাহিমাহুল্লাহর কথা। আমাদের ইতিহাসে এটা আমরা দেখতে পাই। পলাশীতে মুসলিমদের পরাজয়ের পর গরু কুরবানি করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে যায়। হিন্দু জমিদাররা মুসলিমদের নানাভাবে এটাতে বাধা দিতে থাকে। আপনারা জানেন মিন নিসার তিতুমির রাহিমাহুল্লাহ তিনিও কিন্তু গরু কুরবানি করাটা বা গরু জবাবে করাটা সামাজিক রাজনৈতিক প্রতিরোধের একটা প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করছিলেন। কাজেই ঐতিহাসিকভাবেই গরু কুরবানী করার সাথে এখানে একটা সামাজিক এবং রাজনৈতিক অক্ষ বা ডাইমেনশন জড়িত। এবং 47 এর আগ পর্যন্ত নবাবদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কিছু জায়গা ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে মুসলিমদের জন্য গরু জবাবে করা অত্যন্ত কঠিন ছিল। 47 এর পরে এটা কিছুটা সহজ হয়ে আসে। তারপরও যেসব অঞ্চলে হিন্দুদের প্রভাব বেশি ছিল সেসব অঞ্চলে মুসলিমরা গরু কুরবানী করতে পারতো না। এমনকি মুনতাসির মামুন সাহেবের মত লেখকরাও বলতেছেন যে আজকে থেকে 60 70 বছর আগে গরু জবাবে করা এতটা সহজ ছিল না। কাজেই একদিকে ঈদুল আযহা তো অবশ্যই আমাদের ঈমানী দায়িত্ব এবং ইবাদত। পাশাপাশি এই অঞ্চলে গরু কুরবানী করা এটা আত্মপরিচয়ের প্রতীক এবং এটা পৌত্তলিক শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটা শেয়ারে পরিণত হয়েছে। এবং এটা বর্তমানেও চলমান। আপনারা জানেন যে আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে ভারতে মুসলিমদের গৌরক্ষার নামে মুসলিমদের রাস্তায় পিটায় হত্যা করা হচ্ছে। কারো বাসায় গরুর মাংস আছে এই কথা বলে ঘর থেকে পিটায় এনে গণপ্রতিনিধি হত্যা করা হচ্ছে। ইভেন এখনো বিজেপির অনেক নেতা তারা বলতেছে যে তোমরা পশু কোরবানী করার দরকার নাই। তোমরা পশুর আকৃতিতে কেক বানাও তারপর সেটা কাটো। অর্থাৎ কোরবানির ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতা বা যে বাধা দেয়ার যে ব্যাপারটা সেটা কিন্তু এখনো চলমান। এই কারণে একদিকে অবশ্যই এটা আমাদের ইবাদত। এটা অবশ্যই আমাদের উৎসবের দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস থেকে আমরা জানি তিনি বলছেন যে প্রত্যেক জাতির উৎসবের দিন থাকে। আমাদের উৎসবের দিন দুইটা ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। সো অবশ্যই এটা আমাদের উৎসবের দিন। এটা আমাদের ইবাদতের দিন। এর সাথে আমাদের দ্বীন এবং ঈমানের প্রশ্ন জড়িত। পাশাপাশি এটার সাথে আমাদের এই অঞ্চলে বিশেষ করে এই অঞ্চলে হিন্দুস্তানে মুসলিম বঙ্গে এটা আমাদের আত্মপরিচয় এবং আমাদের স্বাধীনতার প্রতীকেও পরিণত হয়েছে। এজন্য আমি বলব এবং আমি অনুরোধ করব যে এই দিনটাকে আমরা আরো ভালোভাবে ওন করা প্রয়োজন এবং এই দিনটা আমাদের আরো ভালোভাবে উদযাপন করা প্রয়োজন। শরিয়ার সীমানার ভেতরে থেকে এই দিন কেন্দ্রিক আমাদের আরো বিভিন্ন আয়োজন করা প্রয়োজন। সেটা মেলা হতে পারে বা গ্রামের মানুষকে নিয়ে বা এলাকার মানুষ নিয়ে আরো বিভিন্ন আয়োজন হতে পারে। কারণ এটা একদিকে আমাদের ইবাদত। অন্যদিকে এটা কুফরি শক্তির বিরুদ্ধে, পৌত্তরিক শক্তির বিরুদ্ধে মুসলিম বঙ্গের প্রতিরোধের একটা প্রতীক।

Read More...  লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ না বলা পর্যন্ত যুদ্ধ?

ইনসাফের মুখোমুখী অনুষ্ঠানে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনাকেও ধন্যবাদ।

[ট্রানস্ক্রিপ্টে ভুল থাকতে পারে]

Citation is loading...

FromMuslims Collections

বিভিন্ন লেখকের লেখার সংগ্রহ।
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button