হাদিসইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাব

সালাত আদায় করলেই কি হদ্দ মাফ হয়ে যায়?

“য়” অন্তাক্ষরের এক ওয়েবসাইটের ইসলাম সংক্রান্ত জ্ঞানকোষের অধীনে একটা অধ্যায় দেখলাম সেদিন। অধ্যায়টির নাম প্রায় এমন যে, সালাত আদায় করলেই হদ্দ মাফ। প্রথমে এমন চটকদার হেডলাইন দেখে আমিও টাশকি খেয়ে গিয়েছিলাম। ভাবছিলাম, ভালোই তো! সালাত আদায় করলেই যদি সাত খুন মাফ হয়ে যায়, তাহলে তো সেই দেশ অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠবে! আচ্ছা, তো গিয়ে দেখি কোনো তথ্যসূত্র পাই কিনা।

মনোযোগ দিয়ে পড়লাম। হতাশই হয়েছি বলা যায়! কতরকম বোকার মতো চিন্তাভাবনা যে তাদের মতো কথিত ইন্টেলেকচুয়াল অ্যাইথিস্টদের মাথায় কিলবিল করে, সেটা সেদিনই বুঝেছি। তারা তাদের দাবির পক্ষে ৩/৪ টা হাদীস এনেছে। বলতে কি, একই ঘটনাকে বিভিন্ন হাদীসের গ্রন্থ থেকে তুলে দিয়েছে মাত্র! এক্ষেত্রে একটা হাদীস পড়লেই ওদের দলিল জানা হয়ে যাবে।

যা আছে হাদীসে

তাই আমরা সেই ওয়েব পোস্টে উদ্ধৃত প্রথম হাদীসটি পড়ে নেই,

 حَدَّثَنَا عَبْدُ القُدُّوسِ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ عَاصِمٍ الكِلاَبِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا فَأَقِمْهُ عَلَيَّ، قَالَ: وَلَمْ يَسْأَلْهُ عَنْهُ، قَالَ: وَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ، فَصَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَلَمَّا قَضَى النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الصَّلاَةَ، قَامَ إِلَيْهِ الرَّجُلُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي أَصَبْتُ حَدًّا، فَأَقِمْ فِيَّ كِتَابَ اللَّهِ، قَالَ: «أَلَيْسَ قَدْ صَلَّيْتَ مَعَنَا» قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: ” فَإِنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لَكَ ذَنْبَكَ، أَوْ قَالَ: حَدَّكَ “

আব্দুল কুদ্দুস ইবনে মুহাম্মাদ (রাহি:) … আনাস ইবনে মালিক (রাদি:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নবী (ﷺ) এর কাছে ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বললো, “হে আল্লাহর রাসূল! আমি তো শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে ফেলেছি, তাই আমার উপর শাস্তি প্রয়োগ করুন।” কিন্তু তিনি তাকে অপরাধ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন না। আনাস (রাদি:) বলেন, তখন সালাতের সময় হলো। সে ব্যক্তি নবী (ﷺ) এঁর সাথে সালাত আদায় করলো। যখন নবী (ﷺ) সালাত আদায় করলেন, তখন সে ব্যক্তি তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো এবং বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে ফেলেছি। তাই আমার উপর আল্লাহর বিধান প্রয়োগ করুন। তিনি বললেন, “তুমি কি আমার সঙ্গে সালাত আদায় করোনি?” সে বললো, ‘জি।” তিনি বললেন, “নিশ্চয় আল্লাহ তোমার গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন।” অথবা বললেন, “তোমার শাস্তি (মাফ করে দিয়েছেন)।”[1]সহীহুল বুখারী ৬৩৬৫

হাদীসটি বাংলায় ব্যাখ্যা সহ পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

আচ্ছা, এখানে কোথায় লেখা আছে যে, সালাত আদায় করলেই হদ্দ মাফ হয়ে যাবে? এখানে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি এসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন যে, তিনি হদ্দ যোগ্য অপরাধ করে ফেলেছেন। কিন্তু অপরাধ যে কী করেছেন, তা আর বলেননি। আমার প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কি এতটাই অবুঝ যে একজনের অপরাধ না জেনেই তার ওপর হদ্দ-কিসাসের ডিক্রি জারি করে দেবেন?

মজার কথা হলো, যদি কিনা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সেই ব্যক্তির ওপর হদ্দ কার্যকর করতেন, তাহলে এই ইসলাম বিদ্বেষীরাই প্রবাস থেকে অনলাইনে এসে মায়াকান্না দেখিয়ে বলতো, ‘অপরাধ না জেনেই কেন শাস্তি দিলেন সেই ব্যক্তিকে?’

যাক গে, মূল কথায় আসি।

কথা হচ্ছে, এখানে যেহেতু ব্যক্তিটি কোনো দোষ উল্লেখ করেননি, সেহেতু না জেনেই তাকে হদ্দ-কিসাসের আসামি বানানোটা যেমন অপরাধ, তেমনি তাকে নির্দোষ বলে বেকসুর খালাস করে দেওয়াও অনৈতিক। আপাতদৃষ্টিতে এমনটাই মনে হতে পারে। এছাড়া আরো যেসব খুঁতখুঁতানি মনে আসতে পারে সেগুলো হলো:–

  1. কেন বলা হলো যে, ‘তোমাকে আল্লাহ মাফ করে দিয়েছেন’?
  2. তিনি (ﷺ) কেন সেই ব্যক্তির অপরাধটাও জানতে চাইলেন না?
  3. সেই ব্যক্তিটি যে হদ্দের উপযুক্ত অপরাধ করেন নি, তারই বা নিশ্চয়তা দিল কে? ইত্যাদি।

আলোচনাটি সহজ করার জন্য আমরা কয়েকভাবে এসব প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ্‌।

হাদিসের অধ্যায়ের নাম পর্যালোচনা

জ্ঞানপাপীরা পাপের দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু যেটা ভুলে গেছে সেটা হচ্ছে আলোচ্য হাদীসের অধ্যায়ের নাম দেখা। তারা যে অধ্যায়ের হাদীস বর্ণনা করেছে সেই অধ্যায়ের শিরোনামই হচ্ছে,

بَابُ إِذَا أَقَرَّ بِالْحَدِّ وَلَمْ يُبَيِّنْ، هَلْ لِلإِمَامِ أَنْ يَسْتُرَ عَلَيْهِ

কেউ যদি হদ্দ যোগ্য অপরাধের স্বীকৃতি দিয়ে অপরাধ বর্ণনা না করে, তাহলে ইমামের জন্য তার দোষ গোপন করার বৈধতা আছে কিনা সে সংক্রান্ত অধ্যায়।

আমরা এই হাদীসেও তাই-ই দেখি। সেই ব্যক্তিটি নিজেকে অপরাধী বললেও কোন অপরাধের অপরাধী বা কোন অপরাধ তিনি করেছেন তা বলেননি। হতে পারে, ছোটখাটো একটা অপরাধ করে তাকেই হদ্দ যোগ্য মনে করেছিলেন তিনি! আল্লাহ ভীরুতার চূড়ান্ত পর্যায়েই যেমনটা সম্ভব। এখন আপনিই বলুন, কোনো জ্ঞানী-প্রজ্ঞাবান বিচারক কি অপরাধ না জেনে কাউকে অপরাধী বলতে পারেন?

হাদিসের আগের অধ্যায় কী বলে?

যে অধ্যায়ের হাদীস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে আমরা তার আগের অধ্যায়ের নামটাও দেখে নেই,

بَابُ مَنْ أَصَابَ ذَنْبًا دُونَ الْحَدِّ فَأَخْبَرَ الْإِمَامَ فَلَا عُقُوبَةَ عَلَيْهِ بَعْدَ التَّوْبَةِ إِذَا جَاءَ مُسْتَفْتِيًا

হদ্দ সংক্রান্ত নয় এমন কোনো অপরাধ কেউ করে ইমামকে অবহিত করে বিধান জানতে চায়, তাহলে তাওবার পর তার ওপর কোনো শাস্তি কার্যকর না হওয়া সংশ্লিষ্ট অধ্যায়।

অর্থাৎ, এখানে যে বিষয়টা মৌলভাবে উপস্থাপন করে এগোনো হয়েছে সেটা হলো, হদ্দ সংক্রান্ত নয় এমন অপরাধ করে বিচারের সম্মুখীন হওয়ার আগেই তাওবা করলে সে তাওবা গ্রহণযোগ্য। আমরা আলোচ্য হাদীসে দেখছি, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সালাত আদায়ের পর সে ব্যক্তিকে বলেছেন তার পাপ মোচন হয়ে গিয়েছে।

সালাত কি তাওবার ভূমিকা রাখতে পারে?
অবশ্যই পারে।[2]আগ্রহীগণ পড়তে পারেনঃ

আমরা নবী (ﷺ) এঁর হাদীসে পাই, সালাত আমাদের গুনাহ মাফ করার জন্য জলাশয়ের মতো ভূমিকা পালন করে। ছগিরা গুনাহ যেন শরীরের ময়লা আর সালাত যেন তা দূরীকারক জলাশয়।

 

قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَرَأَيْتُمْ لَوْ أَنَّ نَهْرًا بِبَابِ أَحَدِكُمْ يَغْتَسِلُ فِيهِ كُلَّ يَوْمٍ خَمْسًا هَلْ يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ؟ قَالُوا: لَا يَبْقَى مِنْ دَرَنِهِ شَيْءٌ. قَالَ: فَذَلِكَ مَثَلُ الصَّلَوَاتِ الْخَمْسِ يَمْحُو اللَّهُ بِهِنَّ الْخَطَايَا

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (সাহাবীগণের উদ্দেশে) বললেন, “আচ্ছা বলো তো, তোমাদের কারো বাড়ীর দরজার কাছে যদি একটি নদী থাকে, যাতে সে নদীতে দিনে পাঁচবার গোসল করে তাহলে কি তার শরীরে কোন ময়লা থাকতে পারে?” সাহাবীগণ উত্তরে বললেন, “না, কোন ময়লা থাকবে না।” তিনি (ﷺ) বলেন, “এই দৃষ্টান্ত হলো পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের। এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়কারীর গুনাহসমূহ আল্লাহ ক্ষমা করে দেন।[3]সহীহুল বুখারী/৫২৮; সহীহুল মুসলিম/৬৬৭; সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী/৪৬২; জামি আত তিরমিযী/২৮৬৮; মুসনাদু আহমাদ লি ইবনি হানবাল/৮৯২৪; সহীহ ইবনু হিব্বান/১৭২৬; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব/৩৫২; মিশকাতুল মাসাবিহ/৫৬৫

অতএব, সেই ব্যক্তিটি সালাত আদায়ের মাধ্যমেই আল্লাহর পক্ষ থেকে মাগফিরাত লাভ করেছিলেন বলে আমরা ধরে নিতেই পারি।

মুহাদ্দিসগণের ব্যাখ্যা

আগেই বলেছিলাম, এই ঘটনাটা বিভিন্ন হাদীসের গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে আর নাস্তিকরা সেগুলোই কপি করে বসিয়ে নিজেদের পক্ষে তথ্যসূত্র বৃদ্ধি করার চেষ্টা করেছে। ঘটনাটা সহীহ মুসলিমেও[4]সহীহুল মুসলিম ৬৭৫০ রয়েছে। সেই হাদীসের ব্যাখ্যায় ইমাম নববী রাহিমাহুল্লাহ তার বিখ্যাত ব্যাখ্যাগ্ৰন্থ শারহু সাহীহি মুসলিমে বলেছেন,

هَذَا الْحَدُّ مَعْنَاهُ مَعْصِيَةٌ مِنَ الْمَعَاصِي الْمُوجِبَةِ للتعزير وهى هنا من الصغائر لأنها كَفَّرَتْهَا الصَّلَاةُ وَلَوْ كَانَتْ كَبِيرَةٌ مُوجِبَةٌ لِحَدٍّ أَوْ غَيْرُ مُوجِبَةٍ لَهُ لَمْ تَسْقُطْ بِالصَّلَاةِ فقد أجمع العلماء على أن المعاصى الموجبة للحدود لاتسقط حُدُودُهَا بِالصَّلَاةِ هَذَا هُوَ الصَّحِيحُ فِي تَفْسِيرِ هَذَا الْحَدِيثِ … وَإِنَّمَا لَمْ يَحُدَّهُ لِأَنَّهُ لَمْ يُفَسِّرْ مُوجِبَ الْحَدِّ

“এই হদ্দের অর্থ হচ্ছে তা‘জীর (বা, সংশোধন মূলক শাস্তি) আবশ্যক করে এমন অপরাধ। এখানে এটা ছোটখাটো অপরাধ, কেননা সালাত এটি মোচন করে দিয়েছে। আর যদি এটা হদ্দ কিংবা তার ওপর অন্যকিছু আবশ্যককারী বড় কোন পাপ হতোই, তাহলে তো আর সালাতের মাধ্যমে মাফ হতো না। আলিমগণ এর ওপর একমত হয়েছেন যে, যে সকল পাপ হদ্দ আবশ্যক করে, সে সকল পাপের হদ্দ সালাতের মাধ্যমে মাফ হয় না। এই হাদিসের ব্যাখ্যায় এটাই সঠিক কথা। … হদ্দ আবশ্যক করে এমন কোন অপরাধ তিনি ব্যাখ্যা করেননি বলে (এই ব্যক্তিকে) হদ্দ দেওয়া হয়নি।”[5]শারহু সাহীহি মুসলিম/২৭৬৪ নং হাদীসের ব্যাখ্যা

আরো জেনে নিই

আমাদের আলোচ্য হাদীসটি ছিল সহীহুল বুখারীর। সেই হাদীসের ব্যাখ্যায় বুখারীর ইতিহাসে সেরা ব্যাখ্যাকার ইবনু হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ লম্বা আলোচনা করেছেন। তিনি লিখেছেন,

وَقَدِ اخْتَلَفَ نَظَرُ الْعُلَمَاءِ فِي هَذَا الْحُكْمِ، فَظَاهِرُ تَرْجَمَةِ الْبُخَارِيِّ حَمْلُهُ عَلَى مَنْ أَقَرَّ بِحَدٍّ وَلَمْ يُفَسِّرْهُ فَإِنَّهُ لَا يَجِبُ عَلَى الْإِمَامِ أَنْ يُقِيمَهُ عَلَيْهِ إِذَا تَاب،

وَحَمَلَهُ الْخَطَّابِيُّ عَلَى أَنَّهُ يَجُوزُ أَنْ يَكُونَ النَّبِيُّ ﷺ اطَّلَعَ بِالْوَحْيِ عَلَى أَنَّ اللَّهَ قَدْ غَفَرَ لَهُ لِكَوْنِهَا وَاقِعَةَ عَيْنٍ، وَإِلَّا لَكَانَ يَسْتَفْسِرُهُ عَنِ الْحَدِّ وَيُقِيمُهُ عَلَيْهِ،… وَهَذَا الرَّجُلُ لَمْ يُفْصِحْ بِأَمْرٍ يَلْزَمُهُ بِهِ إِقَامَةُ الْحَدِّ عَلَيْهِ فَلَعَلَّهُ أَصَابَ صَغِيرَةً ظَنَّهَا كَبِيرَةً تُوجِبُ الْحَدَّ فَلَمْ يَكْشِفْهُ النَّبِيُّ ﷺ عَنْ ذَلِكَ لِأَنَّ مُوجِبَ الْحَدِّ لَا يَثْبُتُ بِالِاحْتِمَال

وَجَزَمَ النَّوَوِيُّ وَجَمَاعَةٌ أَنَّ الذَّنْبَ الَّذِي فَعَلَهُ كَانَ مِنَ الصَّغَائِرِ بِدَلِيلِ أَنَّ فِي بَقِيَّةِ الْخَبَرِ أَنَّهُ كَفَّرَتْهُ الصَّلَاةُ بِنَاءً عَلَى أَنَّ الَّذِي تُكَفِّرُهُ الصَّلَاةُ مِنَ الذُّنُوبِ الصَّغَائِرُ لَا الْكَبَائِرُ، وَهَذَا هُوَ الْأَكْثَرُ الْأَغْلَبُ

وَقَدْ تُكَفِّرُ الصَّلَاةُ بَعْضَ الْكَبَائِرِ كَمَنْ كَثُرَ تَطَوُّعُهُ مَثَلًا بِحَيْثُ صَلَحَ لِأَنْ يُكَفِّرَ عَدَدًا كَثِيرًا مِنَ الصَّغَائِرِ وَلَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ مِنَ الصَّغَائِرِ شَيْءٌ أَصْلًا أَوْ شَيْءٌ يَسِيرٌ وَعَلَيْهِ كَبِيرَةٌ وَاحِدَةٌ مَثَلًا، فَإِنَّهَا تُكَفِّرُ عَنْهُ ذَلِكَ لِأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ مَنْ أَحْسَنَ عَمَلًا.

قُلْتُ: وَقَدْ وَقَعَ فِي رِوَايَةِ أَبِي بَكْرٍ الْبَرْزَنْجِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الْمَلِكِ الْوَاسِطِيِّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَاصِمٍ بِسَنَدٍ حَدِيثُ الْبَابِ بِلَفْظِ: أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنِّي زَنَيْتُ فَأَقِمْ عَلَيَّ الْحَدَّ الْحَدِيثَ،

 …فَحَمَلَهُ بَعْضُ الْعُلَمَاءِ عَلَى أَنَّهُ ظَنَّ مَا لَيْسَ زِنًا زِنًا؛ فَلِذَلِكَ كَفَّرَتْ ذَنْبَهُ الصلاة

وَيَحْتَمِلُ أَنْ يَكُونَ الرَّاوِي عَبَّرَ بِالزِّنَا مِنْ قَوْلِهِ أَصَبْتُ حَدًّا فَرَوَاهُ بِالْمَعْنَى الَّذِي ظَنَّهُ، وَالْأَصْلُ مَا فِي الصَّحِيحِ … وَيَحْتَمِلُ أَنْ يُخْتَصَّ ذَلِكَ بِالْمَذْكُورِ لِإِخْبَارِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّ اللَّهَ قَدْ كَفَّرَ عَنْهُ حَدَّهُ بِصَلَاتِهِ، فَإِنَّ ذَلِكَ لَا يُعْرَفُ إِلَّا بِطَرِيقِ الْوَحْيِ فَلَا يَسْتَمِرُّ الْحُكْمُ فِي غَيْرِهِ وَقَدِ انْقَطَعَ عِلْمُ ذَلِكَ بِانْقِطَاعِ الْوَحْيِ بَعْدَ النَّبِيِّ ﷺ.

‘এই বিধান সম্পর্কে আলিমদের ইখতিলাফ রয়েছে। বুখারীর বর্ণনার বাহ্যিক অর্থ হচ্ছে,  “যিনি হদ্দ যোগ্য পাপের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন অথচ তার কারণ খুলে বলননি, তিনি তাওবা করার পর তার ওপর হদ্দ কার্যকর করা ইমামের উপর বর্তায় না।”
খাত্তাবী রাহিমাহুল্লাহর মতে, “এমনটাও হওয়ার সম্ভাবনা আছে যে, নবী (ﷺ) কে ওহীর মাধ্যমে আল্লাহর তাকে মাফ করে দেওয়ার বিষয়টা জানানো হয়েছিল। আর সেটা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা ছিল। তা না হলে তো তার অপরাধ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হতো এবং (প্রয়োজনে) তার ওপর হদ্দ বাস্তবায়ন করা হতো! … আর এই ব্যক্তি এমন কোন বিষয়ও স্পষ্ট করেননি যার মাধ্যমে তার ওপর হদ্দ কার্যকর হওয়াটা আবশ্যক হবে! সুতরাং, হতে পারে তিনি ছোটখাটো কোনো অপরাধ করে তাকে এতোটা বড়ো মনে করছেন যে, তার ওপর বুঝি হদ্দ আবশ্যক হবে![6]এ কথাটি ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহও বলেছিলেন। দেখুন, কাশফুল মুশকিল মিন হাদীসিস সাহীহাইন/কাশফুল মুশকিল ফী মুসনাদি আবী হামযা আনাস বিন মালিক/১৫৫২ তাই নবী ﷺ সেটা স্পষ্ট করলেন না। কারণ, হদ্দ তো আর ধারণার মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না।” …
ইমাম নববী এবং একদল উলামা নিশ্চয়তার সাথে বলেছেন ‘ওই ব্যক্তি যে অপরাধ করেছিল তা ছিল সগিরা গুনাহ।’ যাঁদের দলিল হচ্ছে হাদীসের বাকি অংশে উল্লেখ আছে যে, সালাতের মাধ্যমে তার গুনাহ মাফ হয়ে গিয়েছিল। এই ভিত্তিতে যে, সালাত কবিরা নয়, সগিরা গুনাহ মোচন করে দেয়। এটাই জুমহুর এবং অধিক গ্রহণীয় মত।
তবে সালাত কোনো কোনো সময় কবিরা গুনাহও মোচন করে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো ব্যক্তি প্রচুর নফল ইবাদত আদায় করে, যার ফলে তার ছোট পাপগুলো ক্ষমা হয়ে যায়, কিন্তু তার কোনো ছোট পাপ না থাকে বা খুব কম থাকে এবং তার উপর একটি কবিরা গুনাহ থাকে, তাহলে সালাত সেই বড় পাপও ক্ষমা করতে পারে। কারণ আল্লাহ তাআলা কোনো ভালো কাজের প্রতিদান নষ্ট করেন না।
আমার মত হলো : আবু বকর আল-বারযানজির বর্ণনায় মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল মালিক আল-ওয়াসিতির মাধ্যমে আমর ইবনে আসিমের সনদে এই প্রসঙ্গে এই শব্দে একটি হাদীস[7]এই সনদে হাদীসটির বর্ণনা আমরা সহীহুল মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বাহরুল মুহীত আছ ছাজজাজেও পেয়েছি। কিন্তু সরাসরি কোনো হাদীসের গ্রন্থে এই সনদে অভিন্ন শব্দে বর্ণিত কোনো হাদীস আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। এজন্য আমরা শুয়াইব আরনাউত্ব রাহিমাহুল্লাহ কৃত ফাতহুল বারীর তাহকীক গ্রন্থ, নাবিল আল বাসারাহ হাফিজাহুল্লাহ কৃত ফাতহুল বারীতে উল্লেখিত হাদীস সমূহের তাখরিজ গ্রন্থ সহ আরো বিভিন্ন সাইটে হাদীসটি খোঁজ করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। তবে, অভিন্ন শব্দে এবং ভিন্ন সনদে যা-ও একটি হাদীস পেয়েছি, তার সনদও দূর্বল। এছাড়া ভিন্ন শব্দে বর্ণিত গ্রহণযোগ্য একটি বর্ণনার রেফারেন্স আমাদের হাতে এসেছে। বিজ্ঞ পাঠকগণ যেন ফাতহুল বারীতে উল্লেখিত সনদে উক্ত হাদীসটি পেলে আমাদের অবহিত করেন।
• উল্লেখিত শব্দে দূর্বল সনদে বর্ণিত হাদীসের রেফারেন্স :– আল ইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ/৪/৩২০; আল ইসাবাহ ফী মা’রিফাতিস সাহাবাহ/৭৬৬৯;
• কিছুটা ভিন্ন শব্দে গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত হাদীসের রেফারেন্স :–
সুনানু আবী দাউদ/ ৪৪১৯; মুসনাদু আহমাদ লি ইবনি হানবাল/২১৮৯০; নাইলুল আওত্বার/৭/৮৪; আল মুসনাদু লি শুয়াইব/২১৮৯০; মুশকিলুল আছার/৪৩৫; ইরওয়াউল গালীল/৭/৩৫৭; হিদায়াতুর রিওয়ায়াহ/
৩৫১৪-তে বর্ণিত হয়েছে, ‘এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, “হে আল্লাহর রাসূল, আমি তো যিনা করে ফেলেছি! আমার উপর হদ্দ প্রয়োগ করুন।” ’ কোনো কোনো আলিম এটাকে এইভাবে ব্যাখ্যা করেছেন যে, সে ব্যক্তি এমন কিছুকে যিনা মনে করেছিল যা প্রকৃতপক্ষে যিনা ছিলই না! তাই তার পাপ সালাতের মাধ্যমে মোচন হয়ে গেছে। …
এ-ও হতে পারে যে, ‘আমি হদ্দ যোগ্য অপরাধ করেছি’ এই কথাটাকে রাবী ‘আমি যিনা করেছি’ বলে বর্ণনা করেছেন বা তিনি তার ধারণা অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন
। তবে মূলকথা হলো সেটাই, যেটা সহীহ হাদিসে এসেছে …এই বিধান এখানে বিশেষভাবে প্রযোজ্য হতে পারে, কারণ নবী (ﷺ) জানিয়েছেন যে আল্লাহ তার নামাজের মাধ্যমে তার হদ্দ মাফ করে দিয়েছেন। এটি কেবল ওহীর মাধ্যমেই জানা সম্ভব ছিল। তাই এই বিধান অন্য কারো ক্ষেত্রে জারি হবে না। … আর, নবী ﷺ এর পর ওহী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই ধরনের জ্ঞানও বন্ধ হয়ে গেছে।[8]ফাতহুল বারী/৬৮২৩ নং হাদীসের ব্যাখ্যা

সারকথা

ওপরের আলোচনা থেকে আমরা বুঝতে পারলাম,

Read More...  নবুয়্যতের আগে মুহাম্মদ ﷺ কি অন্য ধর্মে ছিলেন?

১. সে ব্যক্তিটি হয়তো হদ্দ সংক্রান্ত নয় এমন কোনো অপরাধ করে তাকে হদ্দ যোগ্য অপরাধ মনে করেছিলেন।

২. যেহেতু তিনি হদ্দের স্বীকারোক্তি দিয়ে তার কারণ স্পষ্ট করেননি, সেহেতু তার ওপর হদ্দ বাস্তবায়িতও হয়নি।

৩. ওই ব্যক্তি যে অপরাধ করেছিল সেটা ছিল সগীরা গুনাহ বা ছোটখাটো অপরাধ।

৪. যদি তার অপরাধটা হদ্দ যোগ্য হয়েও থাকে, তবুও আল্লাহ বিশেষভাবে তাকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। হদ্দ যেহেতু আল্লাহর হক, [9]হদ্দ আল্লাহর হক। দেখুনঃ
হানাফী ফিকহ:–
হিদায়াহ/যিনার হদ্দ/হদ্দের ধরণ ও তার বাস্তবায়ন
শারহু মুখাতাসারিল কারখী/চোর-ডাকাত সংশ্লিষ্ট অধ্যায়/হদ্দ আদায়ের অধিকারী সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ/‘والأصل في هذا’ এর আওতাধীন আলোচনা

হাম্বলি ফিকহ:–
আল কাফী/কিতাবুল হুদূদ/হদ্দের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ
শারহুয যুরকাশী/কিতাবুশ শাহাদাত/সাক্ষ্যগ্রহণে প্রতিবন্ধক সমূহ/‘وعنه’ এর আওতাধীন আলোচনা
সেহেতু আল্লাহর আদেশে সেটা সেই ব্যক্তির জন্যই নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা ছিল। মানে, সেটা ছিল বিরল কোনো ঘটনা, যার পুনরাবৃত্তি এ যুগে সম্ভব নয়। কারণ, আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে সেটা নবী (ﷺ) কে ওহীর মাধ্যমে জানিয়েছিলেন। আর, তাঁর (ﷺ) ইন্তেকালের পর সেই পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

৫. অন্যথায় এ সম্ভাবনাই প্রবল যে, তিনি হদ্দ যোগ্য নয় এমন পাপকে হদ্দ যোগ্য অপরাধ মনে করেছিলেন। যে কারণে আল্লাহ সালাতের মাধ্যমে তার পাপ মোচন করে দিয়েছেন। বিষয়টা এমন নয় যে, সালাতের মাধ্যমে হদ্দ যোগ্য অপরাধও মাফ হয়ে যায় বলে তারও সাত খুন মাফ হয়ে গিয়েছে। কেননা, এক্ষেত্রে উম্মাহর ইজমা সংঘটিত হয়েছে যে, সালাতের মাধ্যমে হদ্দ রহিত হয়না।

যাই হোক, মূল কথা হচ্ছে, সালাত আদায়ের দ্বারা ঢালাওভাবে যে কারোর হদ্দ মাফ হয়না। যে একজনের হদ্দ মাফ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, সেটা আদৌ হদ্দ যোগ্য কোনো অপরাধ কিনা তা নিশ্চিত নয়। যদি হদ্দ যোগ্য অপরাধ হয়ও, তবুও সেটা সে যুগের ওই একজন ব্যক্তির জন্যই কার্যকর ছিল, অন্য কারোর জন্য না। এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও হদ্দ মাফ করার ক্ষমতা রাখতেন না। অতএব যারা ‘সালাতের দ্বারা হদ্দ মাফ হয়’ বলে অনলাইনে প্রচারণা চালায়, তাদের উচিত কথার স্বপক্ষে স্বতঃসিদ্ধ প্রমাণ উপস্থাপন করা। অন্যথায় এহেন মিথ্যাচারের জন্য ক্ষমা চেয়ে সেই ব্লগপোস্ট রিমুভ করা।

সবশেষে

সর্বশেষ আলোচনায় আসি। সালাতের মাধ্যমে হদ্দ থেকে নিস্তার পাওয়া যায় না— জানলাম। কিন্তু কীসের মাধ্যমে হদ্দ যোগ্য অপরাধ থেকে ক্ষমা পাওয়া যায়? বা, কেউ কি হদ্দ থেকে কাউকে মুক্তি দিতে পারেন?

এককথায় বললে, একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউই কাউকে কখনো হদ্দ যোগ্য অপরাধ থেকে মাফ করতে পারেন না। এমনকি পারেন না স্বয়ং নবী (ﷺ) নিজেও পারতেন না কাউকে হদ্দ যোগ্য অপরাধ থেকে মাফ করতে। কেননা হদ্দের সংজ্ঞাই হচ্ছে,

এমন নির্ধারিত শাস্তি, যা আল্লাহর হককে আবশ্যক করে।[10]এটা হানাফীদের মতে হদ্দের সংজ্ঞা।
عُقُوبَةٌ مُقَدَّرَةٌ وَجَبَتْ حَقًّا لِلَّهِ تَعَالَى
হাশিয়াতু ইবনি আবিদীন/কিতাবুল হুদূদ

আবার অনেকে এভাবেও বলেন,

কোনো পাপের দরুন নির্ধারিত এমন শাস্তি, যা আল্লাহর হককে আবশ্যক করে।[11]এটা শাফিয়ী এবং হাম্বলীদের মতে হদ্দের সংজ্ঞা।
عُقُوبَةٌ مُقَدَّرَةٌ عَلَى ذَنْبٍ وَجَبَتْ حَقًّا لِلَّهِ تَعَالَى
আল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যাহ/হারফুল হা/হুদূদ/হদ্দের পারিভাষিক সংজ্ঞা

এমনকি হদ্দ যে নবী (ﷺ) নিজেও মাফ করতে পারেন না, তা তিনি নিজেও বলেছেন। এ সংক্রান্ত ঘটনাটি আমরা হাদীসে যেভাবে পাই হুবহু সেভাবে তুলে ধরছি।

باب قَطْعِ السَّارِقِ الشَّرِيفِ وَغَيْرِهِ وَالنَّهْىِ عَنِ الشَّفَاعَةِ فِي الْحُدُودِ

অভিজাত ও অনভিজাত চোরের হাত কাটা এবং হদ্দের ক্ষেত্রে সুপারিশ নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত অধ্যায়

وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، – وَاللَّفْظُ لِحَرْمَلَةَ – قَالاَ أَخْبَرَنَا ابْنُ، وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ بْنُ يَزِيدَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّ قُرَيْشًا أَهَمَّهُمْ شَأْنُ الْمَرْأَةِ الَّتِي سَرَقَتْ فِي عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي غَزْوَةِ الْفَتْحِ فَقَالُوا مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم . فَأُتِيَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَكَلَّمَهُ فِيهَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ فَتَلَوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ ”أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ“ . فَقَالَ لَهُ أُسَامَةُ اسْتَغْفِرْ لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ .
فَلَمَّا كَانَ الْعَشِيُّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاخْتَطَبَ فَأَثْنَى عَلَى اللَّهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ ثُمَّ قَالَ ”أَمَّا بَعْدُ فَإِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيهِمُ ‌الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ أَقَامُوا عَلَيْهِ الْحَدَّ
وَإِنِّي— وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ— لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا“ . ثُمَّ أَمَرَ بِتِلْكَ الْمَرْأَةِ الَّتِي سَرَقَتْ فَقُطِعَتْ يَدُهَا . قَالَ يُونُسُ … قَالَتْ عَائِشَةُ فَحَسُنَتْ تَوْبَتُهَا بَعْدُ وَتَزَوَّجَتْ وَكَانَتْ تَأْتِينِي بَعْدَ ذَلِكَ فَأَرْفَعُ حَاجَتَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
আবু তাহির ও হারমালা ইবনে ইয়াহয়া (রাহি:) … রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর স্ত্রী আয়িশা (রাদি:) থেকে বর্ণিত যে, কুরাইশরা এক মহিলার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লো, যে মহিলাটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সময়কালে মক্কা বিজরের সময় চুরি করেছিল। তখন তাঁরা বললো, এ ব্যাপারে কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট কথা বলবে? তখন তাঁরা বললো, এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রিয় পাত্র উসামা ব্যতীত আর কার হিম্মত আছে? অতএব তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট নিয়ে যাওয়া হলো। এ ব্যাপারে উসামা ইবনে যাইদ (রাদি:) কথোপকথন করলেন। এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর মুখমণ্ডল বিবর্ণ হয়ে গেল। তখন তিনি বললেন, তুমি কি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হদ্দের ব্যাপ্যরে সুপারিশ করতে চাও? তখন উসামা (রাদি:) বললেন, আল্লাহর রাসুল! আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন।
বিকাল হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দণ্ডায়মান হয়ে এক ভাষণ দিলেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করলেন, অতঃপর বললেন, “তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণকে ধ্বংস করা হয়েছে এই জন্য যে, যখন তাদের মধ্যে কোন সম্ভ্রান্ত লোক চুরি করতো, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের মধ্যে কোন দূর্বল লোক চুরি করতো, তখন তার ওপর হদ্দ প্রয়োগ করতো।”
সেই মহান আল্লাহর কসম, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! যদি ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদও চুরি করতো, তবুও আমি তাঁর হাত কেটে দিতাম। এরপর তিনি যে মহিলা চুরি করেছিল তার হাত কাটার নির্দেশ দিলেন। সুতরাং তার হাত কেটে দেওয়া হলো। ইউনূস (রাহি:)… আয়িশা (রাদি:) হতে বর্ণনা করেন যে, অতঃপর সে মহিলা খাটিভাবে তাওবা করল এবং এরপরে তার বিয়ে হলো। আয়িশা (রাদি:) বলেন, এই ঘটনার পর ওই মহিলা প্রায়ই আমার কাছে আসতো। তার কোন প্রয়োজন থাকলে আমি তা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তুলে ধরতাম।[12]সহীহুল মুসলিম/৪২৬৪

আমরা সেই ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধানের অনুসারী।

যেখানে সালাতের মাধ্যমে হদ্দ মাফ হওয়ার ব্যাপারে কোনো স্ব-প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ নেই, যেখানে উলামাগণ এর বিরোধিতা করেছেন একমত হয়ে, যেখানে স্বয়ং নবী (ﷺ) অবধি বলেছেন, তিনিও এর ক্ষমা করতে পারেন না, সেখানে নাস্তিকদের এহেন অপপ্রচার নিন্দনীয়!

আল্লাহ যেন তাদের পোকায় খাওয়া মস্তিষ্কে সু-বুদ্ধির উদয় ঘটান, আমীন!


তথ্য সরবরাহে সহযোগী ওয়েবসাইট সমূহঃ

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 সহীহুল বুখারী ৬৩৬৫
2 আগ্রহীগণ পড়তে পারেনঃ
3 সহীহুল বুখারী/৫২৮; সহীহুল মুসলিম/৬৬৭; সুনানুল কুবরা লিন নাসায়ী/৪৬২; জামি আত তিরমিযী/২৮৬৮; মুসনাদু আহমাদ লি ইবনি হানবাল/৮৯২৪; সহীহ ইবনু হিব্বান/১৭২৬; সহীহ আত তারগীব ওয়াত তারহীব/৩৫২; মিশকাতুল মাসাবিহ/৫৬৫
4 সহীহুল মুসলিম ৬৭৫০
5 শারহু সাহীহি মুসলিম/২৭৬৪ নং হাদীসের ব্যাখ্যা
6 এ কথাটি ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহও বলেছিলেন। দেখুন, কাশফুল মুশকিল মিন হাদীসিস সাহীহাইন/কাশফুল মুশকিল ফী মুসনাদি আবী হামযা আনাস বিন মালিক/১৫৫২
7 এই সনদে হাদীসটির বর্ণনা আমরা সহীহুল মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থ বাহরুল মুহীত আছ ছাজজাজেও পেয়েছি। কিন্তু সরাসরি কোনো হাদীসের গ্রন্থে এই সনদে অভিন্ন শব্দে বর্ণিত কোনো হাদীস আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি। এজন্য আমরা শুয়াইব আরনাউত্ব রাহিমাহুল্লাহ কৃত ফাতহুল বারীর তাহকীক গ্রন্থ, নাবিল আল বাসারাহ হাফিজাহুল্লাহ কৃত ফাতহুল বারীতে উল্লেখিত হাদীস সমূহের তাখরিজ গ্রন্থ সহ আরো বিভিন্ন সাইটে হাদীসটি খোঁজ করেছিলাম। কিন্তু পাইনি। তবে, অভিন্ন শব্দে এবং ভিন্ন সনদে যা-ও একটি হাদীস পেয়েছি, তার সনদও দূর্বল। এছাড়া ভিন্ন শব্দে বর্ণিত গ্রহণযোগ্য একটি বর্ণনার রেফারেন্স আমাদের হাতে এসেছে। বিজ্ঞ পাঠকগণ যেন ফাতহুল বারীতে উল্লেখিত সনদে উক্ত হাদীসটি পেলে আমাদের অবহিত করেন।
• উল্লেখিত শব্দে দূর্বল সনদে বর্ণিত হাদীসের রেফারেন্স :– আল ইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ/৪/৩২০; আল ইসাবাহ ফী মা’রিফাতিস সাহাবাহ/৭৬৬৯;
• কিছুটা ভিন্ন শব্দে গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত হাদীসের রেফারেন্স :–
সুনানু আবী দাউদ/ ৪৪১৯; মুসনাদু আহমাদ লি ইবনি হানবাল/২১৮৯০; নাইলুল আওত্বার/৭/৮৪; আল মুসনাদু লি শুয়াইব/২১৮৯০; মুশকিলুল আছার/৪৩৫; ইরওয়াউল গালীল/৭/৩৫৭; হিদায়াতুর রিওয়ায়াহ/
8 ফাতহুল বারী/৬৮২৩ নং হাদীসের ব্যাখ্যা
9 হদ্দ আল্লাহর হক। দেখুনঃ
হানাফী ফিকহ:–
হিদায়াহ/যিনার হদ্দ/হদ্দের ধরণ ও তার বাস্তবায়ন
শারহু মুখাতাসারিল কারখী/চোর-ডাকাত সংশ্লিষ্ট অধ্যায়/হদ্দ আদায়ের অধিকারী সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ/‘والأصل في هذا’ এর আওতাধীন আলোচনা

হাম্বলি ফিকহ:–
আল কাফী/কিতাবুল হুদূদ/হদ্দের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ
শারহুয যুরকাশী/কিতাবুশ শাহাদাত/সাক্ষ্যগ্রহণে প্রতিবন্ধক সমূহ/‘وعنه’ এর আওতাধীন আলোচনা

10 এটা হানাফীদের মতে হদ্দের সংজ্ঞা।
عُقُوبَةٌ مُقَدَّرَةٌ وَجَبَتْ حَقًّا لِلَّهِ تَعَالَى
হাশিয়াতু ইবনি আবিদীন/কিতাবুল হুদূদ
11 এটা শাফিয়ী এবং হাম্বলীদের মতে হদ্দের সংজ্ঞা।
عُقُوبَةٌ مُقَدَّرَةٌ عَلَى ذَنْبٍ وَجَبَتْ حَقًّا لِلَّهِ تَعَالَى
আল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ আল কুয়েতিয়্যাহ/হারফুল হা/হুদূদ/হদ্দের পারিভাষিক সংজ্ঞা
12 সহীহুল মুসলিম/৪২৬৪

Muhammad Al Ibrahim

খাই, দাই, পড়ি, ঘুমাই আর অনিয়মিত লেখালেখি করি। একটু কট্টরমনাই আমি। আকিদায় আছারী আর ফিকহে হানাফী। ভালো লাগে সাহিত্য, ইতিহাস আর তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব নিয়ে পড়তে। অ্যাকাডেমিক পরিচয়ও আছে, কিন্তু অদ্ভুত কোনো কারণে এই বিষয়ে কথা বলি না। এড়িয়ে যাই। এই আর কি! একটা জীবন পড়ার টেবিলেই কাটিয়ে দেবো— এই স্বপ্নে করি দিনাতিপাত।
5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button