ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাব

অপর মুসলিমের দোষ গোপন রাখার হাদিস নিয়ে অমুসলিমদের প্রোপাগাণ্ডা

প্রচুর নাস্তিক এবং তাদের শিক্ষার্থী হিন্দুদের দেখা যায় নিম্নোক্ত হাদিসগুলো নিয়ে নিয়মিত অপপ্রচার চালাতে,

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
হাদিস নম্বরঃ ২৪৪২
৪৬/৩. মুসলিম মুসলিমের প্রতি অত্যাচার করবে না এবং তাকে অপমানিতও করবে না।

২৪৪২. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার উপর জুলুম করবে না এবং তাকে যালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে,আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন।যে কেউ তার মুসলিম ভাইয়ের বিপদ দুর করবে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।[1]সহিহুল বুখারী ২৪৪২, ৬৯৫১, আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৭৮, ২২৮০

সমরূপ বর্ণনা রয়েছে অন্যান্য হাদিসগ্রন্থেও।[2]সুনানে তিরমিজি ইফাবা ১৪৩১, ইবনু মাজাহ ২২৫, মুসলিম পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ১৫, হাঃ ২৫৮০, আল লুলু ওয়াল মারজান ১৬৬৭ ইত্যাদি

কাল্পনিক অভিযোগ

এখান থেকে প্রোপাগ্যান্ডিস্টরা কাল্পনিক কিছু অভিযোগ দাঁড় করায়। যেমন বিভিন্ন অপরাধমূলক ছবির সাথে উক্ত হাদিস যোগ করে তারা অপপ্রচার করে থাকে। এক হিন্দুকে দেখলাম সমকামিতার একটি ছবির সাথে উক্ত হাদিস লিখে অপপ্রচার করছে। মানে, ব্যভিচার/সমকামিতা করলেও আমাদের দায়িত্ব হলো তা ঢেকে রাখা!

যৌক্তিকতার আয়নায়

আসুন সহজাত বুদ্ধি-বিবেচনা ব্যবহার করে চিন্তা করি।

  1. ইসলামে সমকামিতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড
  2. কাওকে সমকামিতা করতে দেখলে আমরা তা গোপন রাখবো
  3. আমরা সেই দোষ গোপন রাখলে অপরাধী(রা) শাস্তি পাবে না। কারণ গোপন রাখলে সাক্ষী দেওয়া হবে না।
  4. তাহলে শাস্তির বিধান কেন? রাখার কী দরকার ছিলো?

খুব সহজেই অমুসলিমদের এই অপপ্রচার ধরে ফেলা যাচ্ছে! হাজার হাজার বছর যাবৎ সাক্ষীমূলক প্রমাণ ইসলামিক আদালতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

কিন্তু, “প্রোপাগ্যান্ডিস্টদের ব্যাখ্যার সাথে তো প্র‍্যাক্টিকাল ইসলাম মিল খাচ্ছে না!”

তাহলে উক্ত হাদিসটি কীসের?

এই হাদিসটি মূলত দোষচর্চা, গীবত, পরনিন্দার উপর নিষেধের হাদিস।

কুরআনের আয়াত দিয়েই অমুসলিমদের কুযুক্তিগুলো ধরিয়ে দেওয়া যাচ্ছে। আল্লাহ্ তা’আলা পবিত্র ক্বুরআনে ইরশাদ করেন,

মন্দ কথার প্রচার আল্লাহ পছন্দ করেন না, তবে কারো উপর যুলম করা হলে ভিন্ন কথা।আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞানী।[3]আল-ক্বুরআন, সূরা আন নিসা, ৪:১৪৮

কারও উপর যুলুম হলে অবশ্যই সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে আমাদের।

মজার ব্যাপার হলো প্রোপাগ্যান্ডিস্টরা যেই হাদিস দিয়ে অপপ্রচার চালায় সেই হাদিসেই ‘জুলুমের নিষিদ্ধতা’ এসেছে। আবার দেখাচ্ছি হাদিসটি,

গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (তাওহীদ)
অধ্যায়ঃ ৪৬/ অত্যাচার, কিসাস ও লুণ্ঠন (كتاب المظالم)
হাদিস নম্বরঃ ২৪৪২
৪৬/৩. মুসলিম মুসলিমের প্রতি অত্যাচার করবে নাএবং তাকে অপমানিতও করবে না।

২৪৪২. ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুসলিম মুসলিমের ভাই। সে তার উপর জুলুম করবে নাএবং তাকে যালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে,আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন।যে কেউ তার মুসলিম ভাইয়ের বিপদ দুর করবে, আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের দোষ ঢেকে রাখবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার দোষ ঢেকে রাখবেন।

আল্লাহ ﷻ কুর’আনে বলেছেন,

তবে অত্যাচারিত হওয়ার পর যারা প্রতিশোধ গ্রহণ করে, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না।[4]আল কুর’আন, ৪২:৪১

যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ করতে চাও তবে ততটুকু প্রতিশোধ গ্রহণ কর যতটুকু অন্যায় তোমাদের উপর করা হয়েছে। আর যদি তোমরা ধৈর্য ধারণ কর তবে ধৈর্যধারণকারীদের জন্য অবশ্যই তা উত্তম।[5]আল কুর’আন, সূরাহ আন-নাহল্ ১৬:১২৬

একটি হাদিসে এসেছে,

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে তিনি বললেনঃ যাও ধৈর্য ধরো। অতঃপর সে দু’ বা তিনবার এভাবে এসে অভিযোগ করলে তিনি বললেনঃ তুমি গিয়ে তোমার জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলে রাখো। অতঃপর সে তার জিনিসপত্র রাস্তায় ফেলে রাখলে লোকেরা তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করতে লাগলো এবং সে তাদেরকে তার প্রতিবেশীর খবর জানাতে থাকলো। লোকেরা তাকে অভিশাপ দিতে লাগলো, আল্লাহ তোমার প্রতি এরূপ এরূপ করুন। তার প্রতিবেশী তার নিকট এসে তাকে বললো, তুমি ফিরে যাও। ভবিষ্যতে তুমি আমার পক্ষ থেকে এরূপ কিছুর পুনরাবৃত্তি দেখবে না।[6]সুনানে আবু দাঊদ ৫১৫৩; হাদিসটি ইমাম বুখারী (রহঃ) আদাবুল মুফরাদেও এনেছেন

চিন্তাশীলদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট।

Read More...  সূর্য কি "উষ্ণ ঝরণায় অস্তমিত" হয়? - হাদিসটির বিস্তারিত তাহকিক

জাজাকাল্লাহ খাইরান।

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 সহিহুল বুখারী ২৪৪২, ৬৯৫১, আধুনিক প্রকাশনীঃ ২২৬৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ২২৭৮, ২২৮০
2 সুনানে তিরমিজি ইফাবা ১৪৩১, ইবনু মাজাহ ২২৫, মুসলিম পর্ব ৪৫; সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক ও শিষ্টাচার, অধ্যায় ১৫, হাঃ ২৫৮০, আল লুলু ওয়াল মারজান ১৬৬৭ ইত্যাদি
3 আল-ক্বুরআন, সূরা আন নিসা, ৪:১৪৮
4 আল কুর’আন, ৪২:৪১
5 আল কুর’আন, সূরাহ আন-নাহল্ ১৬:১২৬
6 সুনানে আবু দাঊদ ৫১৫৩; হাদিসটি ইমাম বুখারী (রহঃ) আদাবুল মুফরাদেও এনেছেন
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
6 Comments
Oldest
Newest Most Voted
2 years ago

ভাই অনেক কিছুই বুঝতে পারিনি। একটু বুঝিয়ে দিলে ভালো হতো।
১. যদি দেখি কেউ প্রেম করছে তখন কি এই কথা কারও কাছে প্রকাশ করব? আর না হলে কি গোপন রাখব?
২. সমকামে কাওকে লিপ্ত থাকতে দেখলে কি ব্যবস্থা নিব? ঘটনা হচ্ছে, ১ নং প্রশ্নে বর্ণিত অপরাধটি আইনগতভাবে(বাংলাদেশ) অপরাধ নয় কিন্তু সমকামিতা অপরাধ। সেক্ষেত্রে সমকামিতার ব্যাপারটি পুলিশকে জানানো গেলেও প্রেমের ব্যাপারটি তো জানানো যায় না। তাহলে কি উক্ত হাদিস অনুসারে এ কথা গোপন রাখতে হবে? তাহলে যে দেশে সমকামিতা কোনো অপরাধ নয়, সে দেশের ক্ষেত্রে কি হবে?

Reply to  Tahsin Arafat
2 years ago

অর্থাৎ যা সংবিধানের দৃষ্টিতে অন্যায় + দণ্ডনীয় অপরাধ (ইসলামি সংবিধান), তা জনে জনে না বলে শুধু কাজীর নিকট বলতে হবে। আর যা দণ্ডনীয় নয়, তা কাউকে না বলে শুধু উক্ত ব্যক্তিকে বোঝাতে হবে। অথবা সংশ্লিষ্ট এমন কাউকে বলতে হবে যাতে করে সমস্যাটি দূরীভূত হয় আবার গীবতও না হয়।
আমি কি ঠিক বুঝেছি?

Reply to  Tahsin Arafat
2 years ago

অনেকটা কেন? পুরোপুরি না?

Back to top button