কোরআনে উদয়াচল অস্তাচল কেন বলা হয়েছে?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: ইসলামকোরআনে উদয়াচল অস্তাচল কেন বলা হয়েছে?
Ahnaf asked 7 মাস ago

সুরা কাহাফের 86, 90 নাম্বার আয়াতগুলার দুইটা লাইন -

  1. সে যখন সূর্যের অস্তাচলে পৌছালো
  2. সে যখন সূর্যের উদয়াচলে পৌছালো
  • এই দুইটা লাইন দিয়ে ত সরাসরি বুঝানো হচ্ছে যে দুইটা পৃথিবীর শুরুর এবং শেষ সীমা অথবা সূর্য অই জায়গা থেকেই উদিত হয় বা অস্ত যায়।
  • তাহলে কিভাবে এখানে যুক্তি দেয় যে কথাটা যুলকারনাইনের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বলা হয়েছে।
  • ভাই "পঙ্কিল জলাশয়ে সূর্যকে অস্ত যেতে দেখলো " এই লাইন নিয়ে আমার কোনো সমস্যা নাই।
  • কিন্তু সমস্যা হচ্ছে উদয়াচলে আর অস্তাচলে পৌছাল এই দুইটা লাইন নিয়ে। কারন উদয়াচল আর অস্তাচল ত পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকেই দেখা যায়। নির্দিষ্ট কোনো জায়গা বা দূর প্রাচ্যে কেন যেতে হবে।
1 Answers
Ashraful Nafiz Staff answered 7 মাস ago

এটা বললে সমস্যা কোথায়?

বলা হয় সুর্যদ্বয়ের দেশ জাপান, এখন এটার মানে সুর্য কি জাপানের ভিতর থেকে বের হয় নাকি শুধু সেখান থেকেই সুর্য উদয় দেখা যায়? বলা হয় সূর্যাস্তের দেশ নরওয়ে, এখন প্রশ্ন হল সুর্য কি নরওয়েতে গিয়ে ভিতরে ঢুকে যায় নাকি সেখান থেকেই শুধু সুর্যাস্ত দেখা যায়?

কোরআনে সুরা কাহফে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন,

85। একবার সে এক রাস্তা ধরল (অর্থাৎ একদিকে একটা অভিযান চালাল)।

86। চলতে চলতে যখন সে সূর্যাস্তের স্থানে পৌঁছল, তখন সে সূর্যকে অস্বচ্ছ জলাশয়ে ডুবতে দেখল আর সেখানে একটি জাতির লোকেদের সাক্ষাৎ পেল। আমি বললাম, ‘হে যুলকারনাইন! তুমি তাদেরকে শাস্তি দিতে পার কিংবা তাদের সঙ্গে (সদয়) ব্যবহারও করতে পার।’

87। সে বলল, ‘যে ব্যক্তি যুলম করবে আমি তাকে অচিরেই শাস্তি দেব, অতঃপর তাকে তার প্রতিপালকের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে, তখন তিনি তাকে কঠিন ‘আযাব দেবেন।

88। আর যে ব্যক্তি ঈমান আনবে আর সৎকাজ করবে তার জন্য আছে উত্তম পুরস্কার আর আমি তাকে সহজ কাজের নির্দেশ দেব।

89। তারপর সে আরেক পথ ধরল।

90। চলতে চলতে সে সূর্যোদয়ের স্থানে পৌঁছল। সে সূর্যকে এমন এক জাতির উপর উদয় হতে দেখতে পেল, আমি যাদের জন্য সূর্য থেকে বাঁচার কোন আড়ালের ব্যবস্থা করিনি।

91। এই হল তাদের অবস্থা। তার সামনে যা ছিল আমি সে সম্পর্কে ছিলাম সম্পূর্ণ অবহিত।

আমি আপনাকে ভাষার সহজতা ও প্রচলিত টার্মগুলো ব্যবহারের বিষয়টা উপলব্ধি করানোর জন্য জাপান ও নরওয়ের উদাহরণ টেনেছি।

সুরা কাহাফের ৮৬ নং আয়াতে অস্তাচলের জন্য ব্যবহৃত শব্দটা হচ্ছে মাগরিব। তাফসিরকারকগণ এর তাফসিরে লিখেছেন জুলকারনাইন পশ্চিম দিকে যাত্রা করতে করতে সুর্যাস্তের স্থানে পৌছালেন।

এখন পশ্চিম দিকে যাত্রা করার তাফসির করার কারণ কি জানেন? হাদিসে এটা আসে নি। কিন্তু তারপরও পশ্চিম দিকে অগ্রসর হওয়ার তাফসির করেছেন মুলত মাগরিব শব্দটির কারণে।

এর অর্থ হল পশ্চিম দিক, সূর্যাস্তের সময় অর্থাৎ সন্ধ্যা, সুর্যাস্ত, সুর্য নামা, সূর্য অস্ত যাওয়ার স্থান ইত্যাদি। এখন আয়াতের সাথে প্রেক্ষাপট মিলিয়ে দেখেন।

তিনি এক যায়গায় গিয়েছেন, আবার সেখানে সুর্যাস্তের সময় পৌছালেন, এবং জুলকারনাইন এমন স্থানে পৌছালেন যা ছিল সুর্যাস্তের স্থান অর্থাৎ যেখানে সুর্য ডুবছিল এবং তিনি পানিতে সুর্য ডুবতেও দেখলেন যা উনার অগ্রযাত্রা পশ্চিম দিকে ছিল সেটাকেও বুঝায়।

কনটেক্সট ও আরবী ভাষা দিয়ে যদি বুঝেন তাহলেই দেখবেন এই আয়াতে এটা বলা হয় নি যে এটাই পৃথিবীর শেষ প্রান্ত, এর পর আর কিছু নেই।

একই ভাবে ৯০ নাম্বার আয়াতে ব্যবহার হয়েছে মাত'লিয়া যার অর্থ হল পুর্ব, ভোর বেলা অর্থাৎ সুর্য উঠার সময়, সুর্য উঠা, সুর্য উদিত হওয়ার স্থান।

এর তাফসিরেও বলা হয়েছে তিনি পশ্চিম থেকে পরে পুর্ব দিকে যাত্রা শুরু করলেন। এই আয়াতেও তিনি এক যায়গায় গেলেন, আর সেখানে সুর্য উঠার সময় পৌঁছালেন, এবং যেতে যেতে এমন স্থানে গিয়ে পৌঁছালেন যা ছিল সুর্যদ্বয়ের স্থান এবং যেখানে একজাতিকে পেলেন যাদের উপর দিয়ে সুর্যদয় হচ্ছিল যা উনার পরবর্তী অগ্রযাত্রা পুর্ব দিকে ছিল সেটাকেও বুঝায়।

কনটেক্সট ও আরবী ভাষা দিয়ে যদি বুঝেন তাহলেই দেখবেন এই আয়াতেও এটা বলা হয় নি যে এটাই পৃথিবীর শেষ প্রান্ত, এর পর আর কিছু নেই।

আর হে আরেকটা মজার বিষয় কি জানেন? আল্লাহ এই দুইটা আয়াতে জুলকারনাইনের নামে পুর্বে প্রচলিত ভুল সুধরে দিয়েছেন।

ভুলগুলো হলো, বলা হতো

১। প্রথমে তিনি পুর্ব দিকে গিয়েছেন যেখানে কোরআনে বর্ণিত পঙ্কিম জলাশ ছিল। তারপর পশ্চিম দিকে গিয়েছিল যেখানে সেই কেরআনে বর্ণিত সুর্যদ্বয়ের স্থানের জাতি ছিল। আবার সেসব গল্পে ঐসব স্থানে পৌছানো সময় উল্লেখ নেই। অথচ কোরআন এসবের বিপরীতে ঠিক উল্টোটা বলে, কোরআনে সময়, স্থান, দিক, জাতির বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি বলার দ্বারা এই ভুল সমুহ সুধরে দিয়েছেন।

২। জুলকারনাইন সেই সুর্যাস্তের স্থানে গিয়ে নাকি জুলুম করেছিল, পানি বিষাক্ত কিনা তা পরিক্ষা করার জন্য মানুষ ধরে ধরে পানিতে ফেলে দিতেন। অথচ কোরআন বলে ভিন্ন কথা।

৩। তিনি যেখানেই যেতেন সেখানেই জুলুম, খুন, লুট, রাহাজানি করতেন। কিন্তু আল্লাহর মনোনিত কারো আচরণ এমন নয় সেটাই কোরআনে ফুটে উঠেছে।

৪। সুর্যদয়ের স্থান নিয়ে একটা ছিল সেটা মনে নেই

এমন আরো বেশ কিছু ভুল ধারণা জুলকারনাইনকে নিয়ে ছিল। আমি সেই বিষয়ে আলাদা একটা ইবুক লিখেছি, ইনশাআল্লাহ দ্রুত সেটা পাবলিশ হবে। সেটার শিরোনাম হলঃ-

Dhul-Qarnayn: Between History and Revelation

দেখেন এসব ভুল ধারণা সুধরাতেও আল্লাহ বিষয়টা সহজে যেন বুঝা যায় সেই রকম করে বর্ণনা করেছেন।

এখন আপনি যদি এই স্বাভাবিক কথাবার্তা বা যে শব্দগুলো স্বাভাবিক ব্যবহার ছিল সেগুলাও না বুঝেন বা না বুঝার চেষ্টা করেন, সেগুলাও নিয়েও আপত্তি করেন তাহলেতো তা আপনার সমস্যা, কোরআনের না। কোরআনে আল্লাহ বলেছেনই তিনি সহজ করে বর্ণনা করেছেন। আবার এটাও বলেছেন কিছু মুতাশাবিহাত আয়াতও রেখেছেন যা মানুষের নিকট সম্পুর্ন স্পষ্ট না। যেমন আয়াতের শুরুতে হা মিম, সদ, ত্ব হা এবং আল্লাহর সিফাত সংক্রান্ত আয়াত ইত্যাদি।

আশা করি ভাই নিজের উত্তর পেয়েছেন

Back to top button