হিন্দুধর্মে বহুপতিত্ব – এক স্ত্রী বহু স্বামী

বহুপতিত্ব বা এক স্ত্রী বহু স্বামী – কথাটা শুনলেই তো কেমন গা ঘিন ঘিন করে উঠে। একজন নারী কীভাবে একইসাথে একাধিক পুরুষের সাথে যৌন সম্পর্ক রাখতে পারে! একজন কীভাবে অন্যের ফসলে চাষ করতে পারে! এসব তো জাহেলিয়্যাতের প্রথা! তবে এদিক থেকে এগিয়ে আছে হিন্দুধর্ম। হিন্দুধর্মে এসবের একাধিক উদাহরণ পাওয়া যায়, যেসবকে হিন্দুধর্ম বৈধতা দিয়েছিলো।
নারীদের ইচ্ছামতো যেমন খুশী যার সাথে
পূর্বে হিন্দুধর্মে নারীদের এই নিয়ম ছিলো যে, যে যার সাথেই যৌনসহবাস করতে পারবে। কোনো লিমিট ছিলো না। এক নারী একইসাথে অনেক পুরুষের সাথে যৌনসম্পর্ক রাখতে পারতো। এ বিষয়টাকেও আমি বহুপতিত্ব হিসেবে বিবেচনা করছি। এ সম্পর্কে আলাদা একটি আর্টিকেল রয়েছেঃ
দ্রৌপদীর ৫ স্বামী
দ্রৌপদীর সাথে পঞ্চপাণ্ডবের বিবাহের কাহিনি প্রায় অনেকেরই জানা। রূপকথার কাহিনি মহাভারতে গল্পে হস্তিনাপুরের রাজা পাণ্ডুর ৫টি স্বীকৃত ছেলেকে বলা হয় পঞ্চপাণ্ডবঃ যুধিষ্ঠির ভীম অর্জুন নকুল ও সহদেব। তবে এরা পাণ্ডুর ঔরসজাত পুত্র না, তার বউকে দেবতাদের ভোগে লাগিয়ে এদের জন্ম। সে ভিন্ন আলাপ, আরেকদিন করা যাবে।
এখানে ঘটনা হলো, অর্জুন রাজা দ্রুপদের কন্যা কৃষ্ণাকে জয় করে আনে। তারপরেই লাগে বিপত্তি। তাদের পাঁচ ভাইয়ের মধ্যেকার নিয়ম ছিলো যে, তারা যা পাবে তাই ৫ জন মিলে ভোগ করবে।[1]মহাভারত, আদিপর্ব, অধ্যায় ১৯৬, অনুবাদঃ জগন্মোহন তর্কালঙ্কার, প্রিন্টঃ ১৮৬২, পৃ ৩০৭
এসব মাথায় রেখেই, বহু আলাপ-আলোচনা বিতর্কের পর তারা ৫ ভাই মিলেই দ্রৌপদীকে বিয়ে করে। তারা একেকদিন একজন করে দ্রৌপদীকে বিয়ে করে এবং রাত কাটায়। মজার ব্যাপার হলো, এর পরের দিনই দ্রৌপদীর ভার্জিনিটি ফিরে আসে এই পাঁচদিন যাবৎ। এও বিবাহগুলো হয়ে গেলে তারা পাঁচ ভাই তাদের এই নতুন বউকে নিয়ে নিজেদের ঘরে নিয়ে দেবতা ইন্দ্রের মতো যৌনসহবাস চালিয়ে যেতে থাকেঃ[2]মহাভারত, আদিপর্ব, অধ্যায় ১৯৯, অনুবাদঃ জগন্মোহন তর্কালঙ্কার, প্রিন্টঃ ১৮৬২, পৃ ৩১৩
মহাভারতের এই দ্রৌপদীর পাঁচ স্বামীর কাহিনি একাধিক পুরাণেও এসেছে, মার্কণ্ডেয় পুরাণেও একাধিকবার এসেছে[3]মার্কণ্ডেয়পুরাণম্, ৪/৩২ এবং ৫/২৬ দ্রৌপদীর পাঁচ স্বামী যে দ্রৌপদীকে বিয়ে করে কিছু করে নি তা নয়, তারা দ্রৌপদীকে দিয়ে ৫টি বাচ্চারও জন্ম দিয়েছে। শ্রীমদ্ভাগবত বলছে,[4]শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ৯/২২/২৮, অনুবাদঃ শীল প্রভুপাদ, ইসকন থেকে প্রকাশিত
এই পাঁচ সন্তানের কথা নামের তালিকাসহ মৎস্যপুরাণেও[5]মৎস্যপুরাণম্, অনুবাদঃ পঞ্চানন তর্করত্ন, অধ্যায় ৫, শ্লোক ৫১ উল্লেখ আছে।
জটিলার ৭ স্বামী
দ্রৌপদীর যখন ৫ জনের সাথে একসাথে বিয়ের কথা চলছিলো, তখন একদিকে একপক্ষ এই বিয়েকে হিন্দুধর্মবিরোধী বলছিলো, অপরপক্ষে যুধিষ্ঠির নামক চরিত্রটি সেই বিবাহের পক্ষে যুক্তি দিতে অন্যান্য বহুপতি বিবাহের উদাহরণ টানছে! সে বলছেঃ[6]মহাভারত, আদিপর্ব, অধ্যায় ১৯৭, অনুবাদঃ জগন্মোহন তর্কালঙ্কার, প্রিন্টঃ ১৮৬২, পৃ ৩০৮-৩০৯
অর্থাৎ, গৌতম গোত্রের জটিলা নামের এক মেয়ের বিয়ে ৭ জন পুরুষের সাথে হয়েছিলো, আর অন্যদিকে এক মুনির মেয়ের বিয়ে হয়েছিলো ১০ জনের সাথে।
যুধিষ্ঠিরের কথা শুনে সেখানে আলোচনায় থাকা ব্যাস বলেন যে, এটাই অর্থাৎ নারীর বহুপতি বিবাহই সনাতন ধর্ম।[7]পূর্বোক্ত, শ্লোক ১৮। উল্লেখ্য এই শ্লোকের অনুবাদে হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ ভুল করেছেন, এবং এই ভুলের সমালোচনা করেছেন চিত্রভানু সেন। দেখুনঃ পরিচয় (মাসিক পত্রিকা), বর্ষ ৫১, ১-৩ সংখ্যা, অগাস্ট-অক্টোবর ১৯৮১, প্রবন্ধঃ মহাভারতঃ ধর্ম, যুক্তি ও সম্পত্তি – চিত্রভানু সেন, পৃ ১৫৭
মারিষার ১০ স্বামী
হিন্দুধর্মগ্রন্থ গুলোতে ১০ জন রাজকুমার যারা প্রচেতাগণ নামে[8]মহাভারত, অনুশাসনপর্ব, অধ্যায় ১৪৭, শ্লোক ২৫, অনুবাদঃ রামরঞ্জন কাব্যব্যকরণতীর্থ, আর্য্যশাস্ত্র সিরিজ, পৃ ৭৭৯৯ পরিচিত তাদের সম্মিলিত একটি বউ বিবাহ করার কাহিনি উল্লেখিত আছে। সেই কাহিনি অনুযায়ী কণ্ডু মুনি প্রম্লোচ্চা নামক এক অপ্সরার সাথে সহবাস করে মারিষা নামের এক মেয়ের জন্ম দেয়। সেই মেয়ে মারিষার সাথে ১০ জন প্রচেতার বিয়ে হয়।
এই কাহিনি বিভিন্ন পুরাণে উল্লেখিত হয়েছে। যেমনঃ শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণে,[9]শ্রীমদ্ভাগবতমহাপুরাণম্, ৪/৩০/১৫-১৬, গীতা প্রেস, পৃ ৫৩৯
বিশ্বনাথের টীকাতে স্পষ্টই এখানে বহুজনের এক বউয়ের কথা বলা হচ্ছেঃ[10]শ্রীমদ্ভাবতম্, গৌড়ীয় ভাষ্য, সংস্করণ-১, ৪/৩০/১৬-তে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা দ্রষ্টব্য, প্রিন্টঃ ১৯৯৭, প্রকাশেঃ গৌড়ীয় মঠ, পৃ ৫৪৪
ব্রহ্মাণ্ডপুরাণেও এই বিয়ের কথা উল্লেখিত আছে,[11]ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ, অধ্যায় ৬৯, শ্লোক ৩৯
শিবপুরাণেও আছে,[12]শিবপুরাণ, বঙ্গানুবাদ, ধর্মসংহিতা, অধ্যায় ৫৩, শ্লোক ১১-১৬
এই কাহিনি ব্রহ্মপুরাণ[13]ব্রহ্মপুরাণম্, অনুবাদঃ পঞ্চানন তর্করত্ন, অধ্যায় ২, শ্লোক ৪৪-৪৫, মৎস্যপুরাণ[14]মৎস্যপুরাণম্, অনুবাদঃ পঞ্চানন তর্করত্ন, অধ্যায় ৪, শ্লোক ৪৭-৫৫, গরুড়পুরাণ[15]গরুড়পুরাণম্, পূর্বখণ্ড, অধ্যায় ৬, শ্লোক ১৩, অষ্টাদশপুরাণম্, খণ্ড-১, অনুবাদঃ রসিকমোহন চট্টোপাধ্যায়, পৃ ১৪ বায়ুপুরাণ[16]বায়ুপুরাণম্, অধ্যায় ৬৩, শ্লোক ৩৬-৩৯, বিষ্ণুপুরাণেও[17]বিষ্ণুপুরাণ, অনুবাদঃ পঞ্চানন তর্করত্ন, প্রথমাংশ, অধ্যায় ১৫, শ্লোক ৭১-৭৪ বর্ণিত হয়েছে। আমরা অপ্রয়োজনীয় হওয়ায় সব উল্লেখ করলাম না।
২ জন অশ্বিদ্বয় আর তাদের ১ স্ত্রী
দেবতা বিবস্বান বা সূর্যের পুত্রদের মধ্যে দুইজন যথাঃ নাসত্য এবং দস্রকে একত্রে অশ্বিদ্বয়/অশ্বিনীদ্বয়/অশ্বিনীকুমার বলা হয়ে থাকে[18]ঋগ্বেদ ১০/১৭/২[19]বেদবাণী, চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় এবং প্যারীমোহন সেনগুপ্ত, পৃ ১৮৭। তারা সংখ্যায় দুইজন হলেও তার বউ একজন! ঋগ্বেদে আছে,
দুইজন অশ্বিদ্বয় এক স্ত্রীর সহিত নিবাসী পুরুষদ্বয়ের ন্যায় বাস করেন ও অশ্বদ্বারা সঞ্চারণ করেন।[20]ঋগ্বেদ ৮/২৯/৮, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত
এখন এই একজন স্ত্রী যে কে, সেটা নিয়ে বৈদিক শাস্ত্র দুই রকম কথা বলে।
সরস্বতী ও তার স্বামী অশ্বিদ্বয়
শুক্ল যজুর্বেদে আছে দেবী সরস্বতী হলো অশ্বিদ্বয়ের স্ত্রীঃ[21][শুক্ল] যজুর্বেদ সংহিতা, ১৯/৯৪, অনুবাদঃ বিজনবিহারী গোস্বামী
সরস্বতী অস্বীদ্বয়ের পত্নী হয়ে ইন্দ্ররূপ গর্ভ ধারণ করেছিল।
সূর্যা ও তার স্বামী অশ্বিদ্বয়
অশ্বিদ্বয়ের বউ হিসাবে ঋগ্বেদে বলা হচ্ছে সূর্যের মেয়ে সূর্যাকে, তারা কিন্তু একই পিতার সন্তান, এটা বহুপতি বিবাহের পাশাপাশি ভাই-বোন অজাচারও নির্দেশ করে, সে আরেকদিনের আলোচনা। ঋগ্বেদের মন্ত্রটি নিম্নরূপঃ[22]ঋগ্বেদ ৫/৭৩/৫, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত, জ্ঞান-ভারতী প্রাইভেট লিমিটেড, প্রিন্টঃ ১৯৬৩
হে অশ্বিদ্বয়! যৎকালে তোমাদের পত্নী সূর্যা তোমাদের সর্বদা দ্রুতগামী রথে আরোহণ করেন, সেকালে দীপ্তিশালী সমুজ্জ্বল আতপ সকল তোমাদের চতুর্দিকে বিস্তৃত হয়।
সূর্যাকে একটি প্রতিযোগিতায় অশ্বি দুজন মিলে জিতেছিলো, এবং সূর্যা তাদেরকে স্বামী হিসেবে গ্রহণ করেছিলো।
হে অশ্বিদ্বয়! তোমাদের প্রশংসনীয় অশ্বদ্বয় তোমাদের সংযোজিত রথকে তার সীমাভূত আদিত্য পর্যন্ত সকল দেবগণের পূর্বে নিয়ে গিয়েছিল; কুমারী সূর্যা এরূপে বিজিত হয়ে সখ্যতা হেতু এসে তোমরা আমার পতি এ বলে তোমাদের পতিত্ব স্বীকার করলেন।[23]ঋগ্বেদ ১/১১৯/৫, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত
রোদসী ও তার ৬৩ স্বামী
বৈদিক শাস্ত্রে অনেক জায়গায় মরুৎগণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বেদে মরুৎগণকে রুদ্রের পুত্র[24]ঋগ্বেদ ১/৮৫/১০, ৫/৫৭/১, ১/৩৯/৪, ১/১১৪/৮ বলে আখ্যায়িত করা হয়। তাদের সঠিক সংখ্যা বেদ থেকে পাওয়া মুশকিল, এক জায়গায় ৭ জন[25]ঋগ্বেদ ১/৮৫/১, ৫/৫২/১৭ বলা তো অন্য জায়গায় ৪৯[26]ঋগ্বেদ ৮/৪৬/২৬, ৫/৫২/১৬, তো আরেক জায়গায় ৬৩[27]ঋগ্বেদ ৮/৯৬/৮! সে যা হোক, একজনের বেশি হলেই আমাদের আলোচনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাদের বউ ছিলো কিন্তু একটাই! বউয়ের নাম “রোদসী”, এর উল্লেখ আছে ঋগ্বেদেই,[28]ঋগ্বেদ ১/১৬৭/৪-৬, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত, জ্ঞান-ভারতী প্রাইভেট লিমিটেড, প্রিন্টঃ ১৯৬৩, পৃ ১০৯
৪। সাধারণ স্ত্রীর ন্যায় আলিঙ্গন পরায়ণ বিদ্যুতের সহিত শুভ্রবর্ণ, অভিগমনশীল, উৎকৃষ্ট মরুৎগণ মিশ্রিত হইতেছে। ভয়ঙ্কর মরুৎগণ, দ্যাবা পৃথিবীকে অপনোদন করেন না। দেবগণ, সখ্যতাপরযুক্ত উহাদিগের সমৃদ্ধি সাধন করেন।
৫। অসুর মরুৎগণের স্বকীয়া পত্নী রোদসী আলুলায়িত কেশে ও অনুরক্তমনে মরুৎগণকে সঙ্গমমার্থ সেবা করিতেছেন। সূৰ্য্যা যেরূপ অশ্বিদ্বয়ের রথে আরোহণ করিয়াছিলেন; দীপ্তাবয়বা রোদসী সেইরূপ চঞ্চল মরুৎগণের রথে উঠিয়া শীঘ্র আসিতেছেন।
৬। যজ্ঞ আরম্ভ হইলে বৃষ্টিদান জন্য তরুণবয়স্ক মরুৎগণ, তরুণী রোদসীকে রথে স্থাপিত করিতেছেন। বলশালিনী রোদসী, নিয়মক্রমে তাঁহাদিগের সহিত মিলিত হন। সেই সময় অৰ্চনমন্ত্রবিশিষ্ট হব্যপ্রদায়ী, সোমাভিষবকারী যজমান মরুৎগণের পরিচর্যা করতঃ স্তব পাঠ করিতেছে।
সায়ণাচার্য এই মন্ত্রের ভাষ্যে স্পষ্টই লিখেছেন ‘রোদসী মরুৎপত্নী বিদ্যুদ্বা’।[29]ঋগ্বেদ সংহিতা, দুর্গাদাস লাহিড়ী, খণ্ড ৬, পৃ ৩৫৮
বহুপতি বিবাহের স্মৃতি রামায়ণে
যোগবাশিষ্ঠ রামায়ণের একটি শ্লোক থেকে বোঝা যায় যে হিন্দুদের মধ্যে প্রাচীনকালে বহুপতি বিবাহ প্রচলিত ছিলোঃ[30]যোগবাশিষ্ঠ মহারামায়ণ, নির্বাণ প্রকরণ, সর্গ ২১, শ্লোক ৪১-৪৩, কালীবর বেদান্ত বাগীশ, প্রিন্টঃ ১৯১৫, পৃ ৬১
এখানে অতীতকালের বিভিন্ন কথা স্মরণ করা হচ্ছিলো। এর মানে এই ই দাঁড়ায় মধ্যযুগে রচিত যোগবাশিষ্ঠ রামায়ণের রচনাকালের আগেই নারীদের বহুপতি বিবাহ প্রচলিত ছিলো।
বিবাহ প্রথার প্রথম দিকে
নৃতত্ত্ববিদ ডঃ অতুল সুর তার ভারতে বিবাহের ইতিহাস বইয়ে লিখেছেন,[31]ভারতে বিবাহের ইতিহাস, ডঃ অতুল সুর (১৯৬০), শঙ্খ প্রকাশন, পৃ ১৫-১৭
হিন্দুরা যদিও দাবী করে যে তাদের মধ্যে প্রচলিত বিবাহের রীতিনীতি বৈদিক যুগ থেকে অনুসৃত হয়ে এসেছে তথাপি কথাটা ঠিক নয়। গোত্র-প্রবর-সপিণ্ড বর্জন বিধি, যার উপর বর্তমান হিন্দুদের বিবাহ প্রথা প্রতিষ্ঠিত, তার উল্লেখ বৈদিক যুগের প্রাচীনতম গ্রন্থ ঋগ্বেদে মোটেই নেই। মনে হয়, ঋগ্বেদের যুগে বিবাহ প্রতিষ্ঠিত ছিল গ্রামভিত্তিক বহির্বিবাহের নিয়মের উপর। কেননা, ঋগ্বেদের বিবাহসংক্রান্ত স্তোত্র থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, পাত্রপাত্রী বিভিন্ন গ্রামের সহিত সংশ্লিষ্ট হতে এবং “দিধিষু” নামে এক শ্রেণীর মধ্যগের মাধ্যমে বিবাহের যোগাযোগ সাধিত হতো। নবপরিণীতা যে অন্য গ্রামের সহিত সংশ্লিষ্ট থাকতো, তা তার ‘বধু’ আখ্যা থেকেই বোঝা যায়। কেননা, “বধু’ শব্দের বুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে যাকে বহন করে আনা হয়েছে। বৈদিকযুগের বিবাহ সম্বন্ধে আরও লক্ষ্য করবার বিষয় এই যে, নবপরিণীতার বিবাহ কোন বিশেষ ব্যক্তির সঙ্গে হতে না, তার সমস্ত সহোদর ভ্রাতাগণেরই সঙ্গে হতো। অন্ততঃ আপস্তম্ভ ধর্মসূত্রের যুগ পর্যন্ত এই রীতি প্রচলিত ছিল। কেননা, আপস্তম্ভ ধর্মসূত্রে পরিষ্কার বলা হয়েছে যে কন্যাকে দান করা হয় কোন এক বিশেষ ভ্রাতাকে নয়, বংশের সমস্ত ভ্রাতাকে। এজন্তই পরবর্তীকালে মনু বিধান দিয়েছিলেন যে কলিযুগে কন্যার বিবাহ যেন সমগ্র পরিবারের সঙ্গে যৌথভাবে না দেওয়া হয়। মনুর এই বিধান থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে, তথাকথিত কলিপুর্বযুগে কন্যার বিবাহ সমগ্র পরিবারের সহিতই সাধিত হতো। ঋগ্বেদে এবং অথর্ববেদে এমন কয়েকটি স্তোত্র আছে যা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, যদিও বধূকে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাই বিবাহ করতো, তা হলেও তার কনিষ্ঠ সহোদরগণেরও তার উপর যৌনমিলন বা রমনের অধিকার থাকতো। এই দুই গ্রন্থেই স্বামীর কনিষ্ঠভ্রাতাকে “দেবৃ” বা দেবর বলা হয়েছে। এই শব্দদ্বয় থেকেও তা সূচিত হয়। কেননা দেবর মানে দ্বিবর বা দ্বিতীয় বর।
ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের এক স্তোত্র থেকে বোঝা যায় যে জ্যেষ্ঠ ভ্রাতার মৃত্যুর পর তার বিধবা দেবরের সঙ্গেই স্ত্রীরূপে বাস করতো। সেখানে বিধবাকে বলা হচ্ছে, “তুমি উঠে পর, যে দেবৃ তোমার হাত ধরছে তুমি তারই স্ত্রী হয়ে তার সঙ্গে বসবাস কর।” অথর্ববেদের এক স্তোত্রেও (১০/৩/১-২ ) অনুরূপ কথা ধ্বনিত হয়েছে।
ভাবীর সঙ্গে দেবরের যে যৌন ঘনিষ্ঠতা থাকতো তা ঋগ্বেদের বিবাহ সম্পর্কিত স্তোত্রও ইঙ্গিত করে। উক্ত স্তোত্রে দেবতাগণের নিকট প্রার্থনা করা হচ্ছে যে, তারা যেন নববধূকে দেবৃর প্রিয়া ও অনুরাগের পাত্রী করে তোলেন। ঋগ্বেদের দশম মণ্ডলের অপর এক স্থানেও বর্ণিত রয়েছে যে, বিধবা ভাবী দেবৃকে তাঁর দাম্পত্য শয্যায় নিয়ে যাচ্ছেন।
একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারা যাবে যে ঋগ্বেদের যুগে ভাবীর সঙ্গে দেবরের যৌন সম্পর্ক ছিল কেন। আর্যরা যখন এদেশে আসেন তখন তাঁরা তাঁদের সঙ্গে খুব কমসংখ্যক মেয়েছেলে নিয়ে এসেছিলেন । তাঁদের মধ্যে মেয়েছেলের অভাব বিশেষভাবেই ছিল। এদেশে আসবার পর তাঁরা এদেশের অধিবাসীদের খুব ঘৃণার চক্ষে দেখতেন । রক্তের বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য, গোড়ারদিকে তাঁরা এদেশের অধিবাসীদের সঙ্গে কোনরূপ বিবাহ সম্পর্ক স্থাপন করেন নি। পরবর্তীকালে অবশ্য তাঁরা এদেশের মেয়ে বিয়ে করতে বাধ্য হয়েছিলেন । কিন্তু অন্তর্বর্তীকালে তাদের মধ্যে বিবাহযোগ্য মেয়ের অভাবের দরুন মাত্র জ্যেষ্ঠভ্রাতাই বিবাহ করতেন আর অন্য ভ্রাতারা ভাবীর সঙ্গেই যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতেন।
ভাবীর উপর দেবরের এই যৌন অধিকার যে পরবর্তীকালের নিয়োগপ্রথা থেকে স্বতন্ত্র সে বিষয় কোন সন্দেহ নেই। বৈদিক যুগে দেবরের যে যৌন অধিকার থাকতে তা সাধারণ রমণের অধিকার। আর পরবর্তীকালের নিয়োগপ্রথা ছিল মাত্র সন্তান উৎপাদনের অধিকার। সন্তান উৎপন্ন হবার পর এ অধিকার আর থাকতো না। আরও লক্ষ্য করবার বিষয় হচ্ছে এই যে, বিধবা ভাবীর উপর দেবরের এই যৌন অধিকার জ্যেষ্ঠের মৃত্যুর পরেও অবিকৃত থাকার দরুন ঋগ্বেদে বিধবা বিবাহের কোন উল্লেখ নেই, যা পরবর্তীকালের গ্রন্থসমূহে দেখতে পাওয়া যায়। বেদে ব্যবহৃত ও জ্ঞাতিত্ব বাচক কয়েকটি শব্দ থেকেও আমরা বুঝতে পারি যে স্ত্রীলোকের একাধিক স্বামী থাকতো। ‘পিতা’ ও ‘জনিত পিতা’ এ দুটি শব্দ বেদে স্বতন্ত্র জ্ঞাতিবাচক শব্দ হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। মনে হয়, শেষোক্ত শব্দের অর্থ হচ্ছে, যে পিতা সন্তানের প্রকৃত জন্মদাতা আর প্রথম শব্দের অর্থ হচ্ছে অপর পিতা বা মাতার অন্য স্বামী। একথা বলাবাহুল্য যে, প্রকৃত পিতা হতে অপর কোন পিতা মাত্র সেই সমাজেই কল্পিত হতে পারে, যে সমাজে স্ত্রীর একাধিক স্বামী থাকতো । বেদে ব্যবহৃত “পিতৃতম” শব্দও অনুরূপ ইঙ্গিত করে। এর অর্থ পিতাদের মধ্যে যে অগ্রণী বা অগ্রগামী ।
ডঃ অতুল সুর খুব সম্ভব আপস্তম্ভ ধর্মসূত্রের নিম্নোক্ত শ্লোকটির কথাই বুঝিয়েছেন, যেখানে বলা হচ্ছে স্ত্রীকে কোনো পরিবারে দেওয়া হয়, স্বামীকে একা নয়ঃ[32]আপস্তম্ভ ধর্মসূত্র ২/(১০)/২৭/৩, অনুবাদঃ জর্জ বুহলার
3. For they declare, that a bride is given to the family (of her husband, and not to the husband alone).
এখানে নিয়োগপ্রথার আলোচনায় এই উদ্ধৃতিটি আনা হয়েছিলো আপস্তম্ভ ধর্মসূত্রে, যেখানে নিজের গোত্রকে নিয়োগে প্রায়োরিটি দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে যে কোনো বিয়ের কন্যাকে শুধুমাত্র স্বামীকে না স্বামীর পরিবারকে সম্প্রদান করা হয়, এবং বাচ্চা না হলে বাচ্চা জন্মানোর দায়িত্বে প্রায়োরিটি পাবে দেবর চাচা এরা। নিয়োগ প্রথা সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ুনঃ
বর্তমান বিশ্বে হিন্দুসমাজে বহুপতি বিবাহ
পণ্ডিত ভগবানলাল ইন্দ্রজিৎ বলেছেন,[33]Indian Antiquary, 1879, Volume 8, page 88
POLYANDRY.-In Kamaun between the Tois and Jamuna, about Kalsi, the Rajputs, Brahmans, and Sudras all practise polyandry, the brothers of a family all marrying one wife, like the Pandavas. The children are all attributed to the eldest brother alive. None of the younger brothers are allowed to marry a separate or additional wife for themselves. When there is only one or two sons in a family it is difficult to procure a wife, lest she should become a widow.
নীহাররঞ্জন মিত্র তার একটি প্রবন্ধে লিখেছেন,
পূজনীয় অধ্যাপক শ্রীযুক্ত অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ মহাশয় বলিয়াছেন যে, তিনি ভ্রমণ ব্যপদেশে গঙ্গোত্রীতে উপস্থিত হইলে একটি বহুপত্যাত্মক-বিবাহ-পরায়ণ পরিবার দেখিতে পাইয়াছিলেন। তাহারা হিন্দু! গৃহস্বামিনী পরমাসুন্দরী এবং নিষ্ঠাবতী রমণী ৷ বিদ্যাভূষণ মহাশয় এবং তাহার সঙ্গিগণ ঐ পরিবারে আতিথ্য গ্রহণ করিলে এ রমণী প্রাচীন হিন্দু-আচার অনুসারে পাদ্য-অর্ঘ্য দিয়া অতিথি সৎকার করিয়াছিল। এ মহিলাটির সাত জন স্বামী হিল। গঙ্গোত্রী-অঞ্চলে বহুপত্যাত্মক বিবাহ এখনও প্রচলিত আছে।[34]পঞ্চপুষ্প, বর্ষ ৩, জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা, বাংলা সন ১৩৩৭, প্রিন্টঃ ১৯৩০, প্রবন্ধঃ দ্রৌপদীর পঞ্চস্বামী ও বহুপত্যাত্মক বিবাহ, পৃ ২৩৫
ভাবা যায় এমন একটি ব্যাপারকে কী সুন্দর করে তিনি গ্লোরিফাই করছেন। তিনি তার প্রবন্ধে ভারতের আরো বিভিন্ন জায়গায় চলা বহুপতি বিবাহের উদাহরণ এনেছেন, পাঠকেরা সেগুলো দেখতে পারেন।
উপসংহার
আমরা হিন্দুধর্মে বেশ কয়েকটি বহুপত্যাত্মক বিবাহ দেখলাম, কিন্তু বর্তমানে হিন্দধর্মে এই বিবাহ খুঁজে পাওয়া যায় না তেমন, পরবর্তীকালের কিছু হিন্দুধর্মগ্রন্থে আবার এর উল্টোটাও দেখা যায়, যেখানে একেই সনাতন ধর্ম বলা হয়েছে মহাভারতে। সে নিয়ে বিতর্ক হয়তো থামার নয়। তিব্বতসহ ভারতের বেশ কিছু জায়গায় এখনো হিন্দুধর্মের সিলসিলা অনুযায়ী এই বহুপতি বিবাহ প্রচলিত আছে।
আরো বিস্তারিত রেফারেন্স সহ জানতে এই বইগুলো পড়তে পারেনঃ
- Polyandry in Ancient India by Sarva Daman Singh
- POLYANDRY IN THE HIMALAYAS by Y.S. PARMAR
Footnotes
| ⇧1 | মহাভারত, আদিপর্ব, অধ্যায় ১৯৬, অনুবাদঃ জগন্মোহন তর্কালঙ্কার, প্রিন্টঃ ১৮৬২, পৃ ৩০৭ |
|---|---|
| ⇧2 | মহাভারত, আদিপর্ব, অধ্যায় ১৯৯, অনুবাদঃ জগন্মোহন তর্কালঙ্কার, প্রিন্টঃ ১৮৬২, পৃ ৩১৩ |
| ⇧3 | মার্কণ্ডেয়পুরাণম্, ৪/৩২ এবং ৫/২৬ |
| ⇧4 | শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ৯/২২/২৮, অনুবাদঃ শীল প্রভুপাদ, ইসকন থেকে প্রকাশিত |
| ⇧5 | মৎস্যপুরাণম্, অনুবাদঃ পঞ্চানন তর্করত্ন, অধ্যায় ৫, শ্লোক ৫১ |
| ⇧6 | মহাভারত, আদিপর্ব, অধ্যায় ১৯৭, অনুবাদঃ জগন্মোহন তর্কালঙ্কার, প্রিন্টঃ ১৮৬২, পৃ ৩০৮-৩০৯ |
| ⇧7 | পূর্বোক্ত, শ্লোক ১৮। উল্লেখ্য এই শ্লোকের অনুবাদে হরিদাস সিদ্ধান্তবাগীশ ভুল করেছেন, এবং এই ভুলের সমালোচনা করেছেন চিত্রভানু সেন। দেখুনঃ পরিচয় (মাসিক পত্রিকা), বর্ষ ৫১, ১-৩ সংখ্যা, অগাস্ট-অক্টোবর ১৯৮১, প্রবন্ধঃ মহাভারতঃ ধর্ম, যুক্তি ও সম্পত্তি – চিত্রভানু সেন, পৃ ১৫৭ |
| ⇧8 | মহাভারত, অনুশাসনপর্ব, অধ্যায় ১৪৭, শ্লোক ২৫, অনুবাদঃ রামরঞ্জন কাব্যব্যকরণতীর্থ, আর্য্যশাস্ত্র সিরিজ, পৃ ৭৭৯৯ |
| ⇧9 | শ্রীমদ্ভাগবতমহাপুরাণম্, ৪/৩০/১৫-১৬, গীতা প্রেস, পৃ ৫৩৯ |
| ⇧10 | শ্রীমদ্ভাবতম্, গৌড়ীয় ভাষ্য, সংস্করণ-১, ৪/৩০/১৬-তে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর টীকা দ্রষ্টব্য, প্রিন্টঃ ১৯৯৭, প্রকাশেঃ গৌড়ীয় মঠ, পৃ ৫৪৪ |
| ⇧11 | ব্রহ্মাণ্ডপুরাণ, অধ্যায় ৬৯, শ্লোক ৩৯ |
| ⇧12 | শিবপুরাণ, বঙ্গানুবাদ, ধর্মসংহিতা, অধ্যায় ৫৩, শ্লোক ১১-১৬ |
| ⇧13 | ব্রহ্মপুরাণম্, অনুবাদঃ পঞ্চানন তর্করত্ন, অধ্যায় ২, শ্লোক ৪৪-৪৫ |
| ⇧14 | মৎস্যপুরাণম্, অনুবাদঃ পঞ্চানন তর্করত্ন, অধ্যায় ৪, শ্লোক ৪৭-৫৫ |
| ⇧15 | গরুড়পুরাণম্, পূর্বখণ্ড, অধ্যায় ৬, শ্লোক ১৩, অষ্টাদশপুরাণম্, খণ্ড-১, অনুবাদঃ রসিকমোহন চট্টোপাধ্যায়, পৃ ১৪ |
| ⇧16 | বায়ুপুরাণম্, অধ্যায় ৬৩, শ্লোক ৩৬-৩৯ |
| ⇧17 | বিষ্ণুপুরাণ, অনুবাদঃ পঞ্চানন তর্করত্ন, প্রথমাংশ, অধ্যায় ১৫, শ্লোক ৭১-৭৪ |
| ⇧18 | ঋগ্বেদ ১০/১৭/২ |
| ⇧19 | বেদবাণী, চারুচন্দ্র বন্দোপাধ্যায় এবং প্যারীমোহন সেনগুপ্ত, পৃ ১৮৭ |
| ⇧20 | ঋগ্বেদ ৮/২৯/৮, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত |
| ⇧21 | [শুক্ল] যজুর্বেদ সংহিতা, ১৯/৯৪, অনুবাদঃ বিজনবিহারী গোস্বামী |
| ⇧22 | ঋগ্বেদ ৫/৭৩/৫, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত, জ্ঞান-ভারতী প্রাইভেট লিমিটেড, প্রিন্টঃ ১৯৬৩ |
| ⇧23 | ঋগ্বেদ ১/১১৯/৫, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত |
| ⇧24 | ঋগ্বেদ ১/৮৫/১০, ৫/৫৭/১, ১/৩৯/৪, ১/১১৪/৮ |
| ⇧25 | ঋগ্বেদ ১/৮৫/১, ৫/৫২/১৭ |
| ⇧26 | ঋগ্বেদ ৮/৪৬/২৬, ৫/৫২/১৬ |
| ⇧27 | ঋগ্বেদ ৮/৯৬/৮ |
| ⇧28 | ঋগ্বেদ ১/১৬৭/৪-৬, অনুবাদঃ রমেশচন্দ্র দত্ত, জ্ঞান-ভারতী প্রাইভেট লিমিটেড, প্রিন্টঃ ১৯৬৩, পৃ ১০৯ |
| ⇧29 | ঋগ্বেদ সংহিতা, দুর্গাদাস লাহিড়ী, খণ্ড ৬, পৃ ৩৫৮ |
| ⇧30 | যোগবাশিষ্ঠ মহারামায়ণ, নির্বাণ প্রকরণ, সর্গ ২১, শ্লোক ৪১-৪৩, কালীবর বেদান্ত বাগীশ, প্রিন্টঃ ১৯১৫, পৃ ৬১ |
| ⇧31 | ভারতে বিবাহের ইতিহাস, ডঃ অতুল সুর (১৯৬০), শঙ্খ প্রকাশন, পৃ ১৫-১৭ |
| ⇧32 | আপস্তম্ভ ধর্মসূত্র ২/(১০)/২৭/৩, অনুবাদঃ জর্জ বুহলার |
| ⇧33 | Indian Antiquary, 1879, Volume 8, page 88 |
| ⇧34 | পঞ্চপুষ্প, বর্ষ ৩, জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা, বাংলা সন ১৩৩৭, প্রিন্টঃ ১৯৩০, প্রবন্ধঃ দ্রৌপদীর পঞ্চস্বামী ও বহুপত্যাত্মক বিবাহ, পৃ ২৩৫ |






















