শরিয়াহ আইন

তাওহীদ কি কেবল তসবিহতে, নাকি শাসনের মসনদেও? – তাওহীদুল হাকিমিইয়্যাহ

সভ্যতার মুখোশধারী শোষকদের বুক কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো এক সত্য

তাওহীদুল হাকিমিইয়্যাহ: মুসলিম উম্মাহর বিজয় ও খিলাফত পুনরুদ্ধারের মূলমন্ত্র

​আজকের পৃথিবীতে মুসলিম উম্মাহর যে লাঞ্ছনা ও অবমাননা, তার মূলে রয়েছে একটি বিচ্যুতি, আমরা আমাদের রবের ‘হাকিমিইয়্যাহ’ বা সার্বভৌমত্বকে ভুলে গেছি। আমরা ইবাদতে তাওহীদ চর্চা করলেও, জীবনের ফয়সালা ও বিধানের ক্ষেত্রে মানবরচিত মতবাদের কাছে মাথা নত করেছি। অথচ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের অকাট্য আকিদাহ হলো: লা হুকমা ইল্লা লিল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া আর কারো বিধান দেওয়ার অধিকার নেই)।

​১. তাওহীদুল হাকিমিইয়্যাহ: ঈমানের অবিচ্ছেদ্য অংশ

​তাওহীদ কেবল স্রষ্টা হিসেবে আল্লাহকে স্বীকার করা নয়, বরং তাঁকে একমাত্র ‘বিধাতা’ বা ‘হুকুমদাতা’ হিসেবে মেনে নেওয়া। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন:

​”সাবধান! সৃষ্টি যাঁর, নির্দেশও চলবে একমাত্র তাঁরই।”[1]সূরা আল-আরাফ: ৫৪

​ আহলুস সুন্নাহর ইমামগণ যুগে যুগে শিখিয়েছেন যে, যারা আল্লাহর দেওয়া বিধান বাদ দিয়ে অন্য কোনো আদর্শ বা তন্ত্রকে শ্রেষ্ঠ মনে করে, তারা মূলত তাওহীদের মূল রজ্জু থেকে বিচ্যুত। ইসলামের শত্রুরা চায় আমরা যেন তাওহীদকে কেবল মসজিদের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ রাখি, যাতে তারা তাদের কুফরি সিস্টেম দিয়ে আমাদের শাসন করতে পারে।

​২. খিলাফত: উম্মাহর ঢাল ও গৌরব

​খিলাফত কেবল কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, এটি ইবাদতের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “ইমাম (খলিফা) হচ্ছেন ঢালস্বরূপ, যার পেছনে থেকে যুদ্ধ করা হয় এবং যার মাধ্যমে নিরাপত্তা লাভ করা হয়।” (সহিহ মুসলিম)।

​যখন থেকে মুসলিম উম্মাহ এই ঢাল হারিয়েছে, তখন থেকেই তারা এতিম হয়ে পড়েছে। গাজা থেকে কাশ্মীর, সুদান থেকে তুর্কিস্তান—আজ সর্বত্র মুসলিমের রক্ত সস্তা হওয়ার কারণ একটাই: আমাদের কোনো অভিভাবক নেই। ইসলামের শত্রুরা সবচেয়ে বেশি ভয় পায় এই খিলাফত ব্যবস্থাকে, কারণ এটি কায়েম হলে তাদের শোষণমূলক ‘ওয়ার্ল্ড অর্ডার’ তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে।

Read More...  গুজবের ফিতনা ও দ্বীনের শিক্ষা: আমরা কেন বিপথগামী?

​৩. ইসলামের শত্রুদের গাত্রদাহের কারণ

​কেন তথাকথিত প্রগতিশীল আর পশ্চিমা শক্তিগুলো ‘তাওহীদুল হাকিমিইয়্যাহ’ শুনলেই আঁতকে ওঠে?

​সার্বভৌমত্বের সংঘাত: তারা চায় সার্বভৌমত্ব থাকবে মানুষের হাতে, আর আমরা বলি সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর।

​অর্থনৈতিক মুক্তি: খিলাফত কায়েম হলে তাদের সুদী অর্থব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যাবে।

​ঐক্য: খিলাফত মানেই বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিম এক পতাকাতলে—যা তাদের বিভাজন নীতির সরাসরি বিপরীত।

​৪. পুনরুদ্ধারের পথ কী?

​মুসলিম উম্মাহর গৌরব পুনরুদ্ধার কোনো অলীক কল্পনা নয়। এর জন্য প্রয়োজন:

​বিশুদ্ধ আকিদাহ: তাওহীদের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করা এবং শিরক ও কুফরি মতবাদ থেকে মনকে মুক্ত করা।

​ইস্তিকামাত (দৃঢ়তা): সত্য বলতে পিছপা না হওয়া। বাতিলের চোখে চোখ রেখে বলা—আমরা কেবল আল্লাহর গোলাম, অন্য কারো নই।

​প্রস্তুতি: জ্ঞান, বিজ্ঞান এবং ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হওয়া।

​উপসংহার

হে মুসলিম উম্মাহ! জেগে ওঠার সময় এখনই। মনে রাখবেন, আল্লাহ আমাদের জন্য যে ব্যবস্থা মনোনীত করেছেন, তার চেয়ে উত্তম আর কিছু হতে পারে না। ইসলামের শত্রুরা চাইবে আমাদের দাবিয়ে রাখতে, কিন্তু আল্লাহর নূরকে তারা নিভিয়ে দিতে পারবে না। খিলাফতের সূর্য আবারও উদিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

​”তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করবেনই; যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে।”[2]সূরা আস-সাফ: ০৮

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 সূরা আল-আরাফ: ৫৪
2 সূরা আস-সাফ: ০৮
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button