ইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাববিজ্ঞান

কাজিন ম্যারেজের আদ্যপ্রান্ত

প্রশ্নঃ বিভিন্ন মুসলিম দেশে কাজিন/close relative ম্যারেজ অনেক বেশি প্রচলিত, যার ফলে তাদের পরবর্তী জেনারেশন অনেক জেনেটিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে। ইসলাম কাজিন বিয়েকে জায়েজ বলে। কিন্তু গবেষণায় এটা প্রমাণিত যে, কাজিন বিবাহ করলে সেই বিবাহ থেকে যে সন্তানের জন্ম হবে, তার জেনেটিক ডিসঅর্ডার থাকার সম্ভাবনা আছে ও এটা ক্ষতিকর প্রমাণিত। নাস্তিকদের দাবি: ইসলামের এই বিধানটি বিজ্ঞানের সাথে সাংঘর্ষিক, একটা অবৈজ্ঞানিক ব্যাপারকে ইসলামে জায়েজ করা হয়েছে, তাই ইসলাম একটি অবৈজ্ঞানিক, অমানবিক ও মানব সৃষ্ট ধর্ম।

উত্তরঃ

কনসেঙ্গুইনাস ম্যারিজ এর ইতিহাস

কনসেঙ্গুইনাস ম্যারিজ অর্থাৎ নিকট আত্মীয়দের মাঝে বিবাহ নতুন কোন ঘটনা নয়। এমনটাও নয় যে শরীয়তে এর আমদানি হয়েছে। বহু আগেই এর প্রচলন ছিলো। একটি গবেষণায় দেখা গেছে প্রাচীন গ্রিসের কিছু অংশে, ফার্স্ট কাজিন ভাই-বোনের বিয়েকে শুধুমাত্র অনুমতি দেওয়া হত না বরং উৎসাহিত করা হত।[1]Kolirin, L. (2023, January 16). In parts of Ancient Greece, first-cousin marriage was not only allowed but encouraged, DNA shows | CNN. CNN. https://www.cnn.com/2023/01/16/europe/ancient-cousins-marriage-scli-intl-scn/index.html

ধারনা করা হয় এথেন্স এবং স্পার্টায় প্রথম এই জাতীয় বিয়ে অনুমোদিত হয়েছিল। সম্রাট ক্লডিয়াস (৪১-৫৪ খ্রিস্টাব্দ) এবং তার ভাগ্নি এগ্রিপিনার মধ্যে বিবাহ বিশেষভাবে কলঙ্কজনক হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল। তখন থেকে কনসেঙ্গুইনাস ম্যারিজ নিয়ে বহু আলোচনা সমালোচনা শুরু হয় এবং বহু আইনও হয়েছে ইতিহাসে। ৫০০ সালের দিকে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মাঝে এর পরিমানে বেড়ে গেলে ৫৯১ সালে পোপ গ্রেগরি – এর কাছে এই বিষয়ে পরামর্শ চওয়া হয় তখন তিনি উত্তর দেন বাইবেলের একটি শ্লোক হতে যে, ‘পবিত্র আইন একজন মানুষকে তার নিকটাত্মীয়ের সামনে নগ্নতা প্রকাশ করতে নিষেধ করেছিল।’ যদিও অন্যান্য শ্লোক হতে সুস্পষ্ট হয়ে যায় নিকটাত্মীয় বলতে কাদেরকে বুঝানো হয়েছে ও বাইবেল থেকে যে কাজিন বিবাহ অবৈধ নয়।[2]Bittles, A. H. (2009, December 1). Commentary: The background and outcomes of the first-cousin marriage controversy in Great Britain. OUP Academic. https://doi.org/10.1093/ije/dyp313 প্রাচীন ইউরোপে ২য় শতাব্দি থেকেই কনসেঙ্গুইনাস ম্যারিজ বৈধ ছিল। যতক্ষণ না পশ্চিমে ৩৮১ সালে খ্রিস্টান সম্রাট থিওডোসিয়াস প্রথম এই বিবাহ নিষিদ্ধ করে। পশ্চিম সাম্রাজ্যে কাজিন ভাইয়ের বিয়ে কখনই অভ্যাসগত বা পছন্দের ছিল না, অক্টাভিয়ানের পরে ৩৩ বিয়ের কোনটাই ফার্স্ট কাজিনদের মধ্যে ছিল না। পরে ইউরোপে ক্যাথলিক চার্চের আইন অনুসারে বিয়ের বৈধতা নির্ধারণ করা হত। ৯ম শতাব্দি হতে ১২ শতাব্দিতে বেশ কয়েকবার আইন পরিবর্তন করা হয়েছে এই কাজিন বিবাহ নিয়ে। কখনো চরম কঠোর করে ফেলে আইন যার ধরুন মানুষ কষ্টে পতিত হয়, সে সমস্যা দূর করতে আবার আইন শিথিল করা হয়।[3]Cousin marriage – Wikipedia

সমগোত্রীয় বিবাহ হাজার হাজার বছর ধরে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীতে বহুল প্রচলিত একটি রীতি।[4]Fareed, M. and M. Afzal (2014). “Evidence of inbreeding depression on height, weight, and body mass index: a population-based child cohort study.” Am J Hum Biol 26(6): 784-795. বর্তমান সময়েও পৃথিবীর জনসংখ্যার এক বড় অংশের মধ্যে সমগোত্রীয় বিবাহ সংঘটিত হয় বা তারা এই বিবাহকে অনুমোদন দেয়।[5]Bittles, A., Consanguinity and its relevance to clinical genetics. Clin Genet, 2001. 60(2): p. 89-98.[6]Anwar, W.A., M. Khyatti, and K. Hemminki, Consanguinity and genetic diseases in North Africa and immigrants to Europe. Eur J Public Health, 2014. 24 Suppl 1: p. 57-63.

অবশেষে সব কিছুর অবসান ঘঠিয়ে ১৯ শতকে এসে ইউরোপের কিছু দেশে ও যুক্তরাষ্ট্রে এই বিবাহের উপর পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া শুরু করা হয়, যদিও এই সময়টাতেই পুরো বিশ্ব জুড়ে কাজিন ম্যারেজ অনেক জনপ্রিয় ও সাধারণ হয়ে উঠছিল।[7]Kuper, A. (2002). Incest, Cousin Marriage, and the Origin of the Human Sciences in Nineteenth-Century England. Past & Present, 174, page 165 – 170. http://www.jstor.org/stable/3600719 ১৮৫৮ সালে কানসাস কর্তৃক এর উপর প্রথম নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল, নেভাদা, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা, ওয়াশিংটন, নিউ হ্যাম্পশায়ার, ওহিও এবং ওয়াইওমিং ১৮৬০ এর দশকে এটি অনুসরণ করেছিল। পরবর্তীকালে, আইনগুলির সংখ্যা বৃদ্ধির হার ১৯২০ এর দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় স্থিতিশীল ছিল; শুধুমাত্র কেন্টাকি (১৯৪৬), মেইন (১৯৮৫) এবং টেক্সাস (২০০৫) তখন থেকে কাজিন ভাইবোনদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেছে। আশ্চর্যজনকভাবে, এই নিষেধাজ্ঞাগুলি ইউজেনিক্সের উত্থানের জন্য দায়ী নয়।[8]Paul, D. B., & Spencer, H. G. (2008, December 23). “It’s Ok, We’re Not Cousins by Blood”: The Cousin Marriage Controversy in Historical Perspective. PubMed Central (PMC). https://doi.org/10.1371/journal.pbio.0060320

জায়েজ মাত্র, ক্ষতিকর হলে এড়িয়ে চলুক

ইসলামে কাজিন (খালাতো/মামতো/ফুপাতো/চাচাতো বোন) বিবাহ জায়েজ, জমহুর ওলামাদের এটাই মত। এখন কাফেরদের দাবী অনুসারে, জায়েজ কোন বস্তু ক্ষতিকর হতে পারে না। কিন্তু এই দাবি কি সঠিক? আসুন উদাহরণের মাধ্যমে ব্যাপারটা বুঝে নেই।

ধরেন, একজন ব্যক্তি তিন বেলা গরুর মাংস খায়। সেটা একদিন দুইদিন নয় বরং বহু বছর ধরেই তিন বেলা শুধু মাংসই খায়। অপরদিকে কোন শারীরিক ব্যায়াম করে না। এখন প্রশ্ন হলো ৩ বেলা মাংস খাওয়া কি জায়েজ নাকি নাজায়েজ? অবশ্যই জায়েজ। শারীরিক ব্যায়াম না করা কি কোন গুনাহের কাজ? অবশ্যই না। তার মানে ব্যায়াম থেকে বিরত থাকাটাও জায়েজ।

কিন্তু এই ব্যক্তি যদি প্রত্যেক বেলায় শুধু মাংসই খায়, আর কোন শারীরিক ব্যায়াম বা পরিশ্রম না করে, তাহলে কি তার ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্টের রোগ সহ নানাবিধ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে না? অবশ্যই বাড়বে। কিন্তু সে কি কোন নাজায়েজ কাজ করেছে? না তা তো করে নাই। তবুও তার রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে, আর সে মরণাত্মক রোগে আক্রান্ত হবে। তার মানে বোঝা গেল যে, জায়েজ কাজ করলেও ক্ষতির সম্ভাবনা আছে।

আচ্ছা এই ক্ষতির জন্য আসলে দায়ী কে? ইসলাম? নাকি উক্ত ব্যক্তি নিজে? অবশ্যই দায়টা উক্ত ব্যক্তিরই। কারণ, যা কিছু শুধুই জায়েজ, সেগুলা করাটা আবশ্যিক নয়। যদি সেটা নিজের কাছে ভালো না লাগে, অথবা যদি কোন বিপদের আশংকা থাকে, তাহলে সেই জায়েজ ছেড়ে দেয়া যাবে বরং ছেড়ে দেওয়া পরিস্থিতি ভেদে বাধ্যতামূলক হয়ে যায়।

ঠিক তেমনই যার মন চায় কাজিনকে বিবাহ করতে সে করুক, ইসলাম বাঁধা দেয় নি, কিন্তু ইসলাম এটাও বলেনি কাজিনকেই বিবাহ করতে হবে, ইসলামে কোথায়ও লিখা বা এমন নির্দেশনা নেই যে খালি বেছে বেছে কাজিন বিয়ে করতে হবে। তাই কোন মানুষ কি তার আত্মীয় কাউকে বিয়ে করবে নাকি অনাত্মীয় কাউকে তা নিছকই তার ব্যক্তিগত ব্যপার, এই বিষয়ে ইসলাম তাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে।

বঙ্গীয় নাস্তিকদের কাছে প্রশ্নঃ যুদ্ধ করাও ক্ষতিকর, স্বাস্থ্য ও জানমালের ক্ষতি সাধন হয়, তাহলে আমাদের জন্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ করা কি জাস্টিফাইড ছিলো? বিজ্ঞানের আলোকে উত্তর দেবেন যে এক অনিশ্চিত ফলাফলের জন্য আমরা কেন যুদ্ধ করেছিলাম? [হার্ম প্রিন্সিপল সম্পর্কে এখানে জানুন] – সম্পাদক।

কেন জায়েজ করা হল?

ইসলাম এমন কিছুর অনুমতি দেয় যখন তাদের নিষিদ্ধ করা ভালর তুলনায় ক্ষতিই বেশি করে। কখনও কখনও (উদাহরণস্বরূপ, একটি বিচ্ছিন্ন গ্রামে) বিয়ের জন্য একমাত্র উপযুক্ত ব্যক্তি হলেন কাজিন ভাই। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিবাহের অনুমতি দেওয়া সেই দম্পতিকে ব্রহ্মচারী থাকার চেয়ে ভাল হবে। বিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইউরোপে কাজিন ভাইবোনের বিয়ে বেশ সাধারণ ছিল।

আল্লাহ আমাদেরকে হালাল-হারাম, খাদ্য, ধন-সম্পদ, সম্মান-মর্যাদা, বিধান, সন্তান-সন্ততি, দুঃখ-কষ্ট সব কিছুই দিয়েই পরিক্ষা করে থাকেন।[9]সূরা বাকারাহ, আয়াত ৩-৫, ১৫৪-১৫৫; সূরা কাহফ, আয়াত ৭; সূরা আদ-দাহর‌, আয়াত ২-৩; সূরা মুলক, আয়াত ২; সূরা আল-আনকাবূত, আয়াত ২-৩; সূরা আনফাল আয়াত ২৮; সূরা তাগাবুন আয়াত ১৫ সবকিছু খালি মানুষের এক তরফা কল্যাণের জন্যই দেওয়া হয়েছে বা দেওয়া হবে এমন কিন্তু না, এবং সব কিছু মানুষের কল্যানই হবে, কল্যানই হয়, সব সময় কল্যানকরই হবে এই কারণে জায়েজ করা হয়েছে এমন নয়। তালাক দেওয়াও বৈধ করা হয়েছে, কিন্তু কখনো তালাক কল্যানকর আবার কখনো অকল্যানকরও হয়। সম্পদ অর্জন জায়েজ, কিন্তু সম্পদ কখনো কল্যানকর হয় আবার কখনো অকল্যানকর হিসেবেও কাজ করে, ভিক্ষাবৃত্তি মানুষের আত্মমর্যাদা ধ্বংস করে ফেলে, এই কাজের সাথে আরো বেশি জড়িয়ে ফেলে কিন্তু তারপরও এটা জায়েজ। তাই সব জায়েজ কাজই সব সময় করতে হবে ও সব সময় কল্যানকর হবে এমন কোন কথা নেই।

এখন যদি কেউ বলে, ‘অকল্যান থাকলে এসব জায়েজ কেন করল? এগুলো হারাম করা উচিৎ ছিল।’ তাহলে তা হবে তার অজ্ঞতা। কারণ আল্লাহ কোরআনে এর উত্তর এক ভাবে দিয়েই দিয়েছেন যা প্রথমেই উল্লেখ করেছি। এছাড়া আল্লাহ কোরআনে আরো বলেছেন,

হতে পারে কোন বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।সূরা বাকারা আয়াত ২১৬

নিশ্চয় আমি জানি যা তোমরা জান না।সূরা বাকারা আয়াত ৩০

এই থেকে স্পষ্টতই বুঝা যায় আল্লাহ এমনি এমনি কোন বিধান দেন না। ধনী হওয়া, তালাক দেওয়া, ভিক্ষা করা, বেশি খাওয়া ইত্যাদিকে যদি হারাম করা হত তাহলে কাফেররাই আবার অভিযোগ শুরু করতো এগুলো কেন হারাম করা হয়েছে তা নিয়ে।

ইসলাম যদি বোরকাকে নিষেধ করতো, তাহলে শাহবাগীরা বোরকার জন্য আন্দোলন করতো।

এগুলো বৈধ থাকার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপক, একচেটিয়া হারাম করলে সেটা হিতে বিপরীতই হতো, বরং এসব বিষয়ে সতর্ক বাণীসহ এগুলোকে বৈধতা দেওয়ার মাধ্যমে বিধানগুলোকে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ করা হয়েছে। ঠিক একই রকম হল এই কাজিন বিবাহের বিষয়টাও। সরাসরি হারাম করলে এটা হয়তো ভালো কিছু বয়ে আনতো না, যেমনটা হিন্দু ধর্মের বেলায় বেশ ভালো ভাবেই লক্ষ্য করা যায়। তাদের বিশ্বাস তাদের ধর্মে এই রকম বিবাহ অবৈধ, কিন্তু তারপরও হাজার হাজার হিন্দু কাজিন ম্যারেজ করছে, কেউ পালিয়ে, কেউ পারিবারিক ভাবে, কেউ লুকিয়ে, কেউ প্রেম করছে, কেউ অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হচ্ছে বিয়ে করতে না পারার রেশ কাটাতে। ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেল্থ সার্ভে অনুসারে ভারতে মোট হিন্দু জনসংখ্যার ৯ শতাংশ কাজিন ম্যারেজ করে।[10]Prevalence and determinants of consanguineous marriage and its types in India: evidence from the National Family Health Survey, 2015-2016 – PubMed. (2021, July 1). PubMed. https://doi.org/10.1017/S0021932020000383 যার পরিমান প্রায় ৯ কোটির মত। ভারতে বহু কাজিন প্রেমিক-প্রেমিকাকে বিয়ে করতে না দেওয়ায় আত্মহত্যা করার ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে, নিউজ খুজলেই পেয়ে যাবেন।

আর অবৈজ্ঞানিক ও ক্ষতিকর বলা নাস্তিকদের দ্বারা মানায় না। তাদের কোন অধিকারই নেই ইসলামের কোন কিছুর বৈজ্ঞানিক ভাবে অল্প সল্প ক্ষতি আছে তা দেখিয়ে তা নিয়ে সমালোচনা, অভিযোগ করার। কারণ ইদানিং পশ্চিমারা যে যে নীতি, মতবাদ আনছে নতুন নতুন তা থেকে এটা বলা অস্বাভাবিক কিছু হবে না যে ভবিষ্যতে হয়তো কোন শিশু টিকা দিতে না চাইলে সুইয়ের ভয়ে তখন কোন নাস্তিক বা সেকুলার বা পশ্চিমা মতবাদে বিশ্বাসী কেউ উঠে হয়তো বলতে পারে হার্ম প্রিন্সিপ্যাল অনুযায়ী আপনি কাউকে কষ্ট দিতে পারেন না। সে ইঞ্জেকশন না দিতে চাইলে সেটা তার ব্যক্তিস্বাধীনতা। কখনো যদি কেউ এই কথা বলে তাহলে অভাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

আবার মা-বোনের সাথে সঙ্গমের মত কাজকে যারা বৈধ মনে করতে পারে তারা অন্তত কাজিন ম্যারেজ নিয়ে কোন কথা না বললেই ভালো হয়। নাস্তিকীয় দৃষ্টিকোনে (ধর্ম নিয়ে আলাপ করার সময়) দুনিয়ার জীবনে যেন বিন্দুমাত্র ক্ষতিও না হয় সেইভাবে বাঁচতে হবে, এইজন্য কম বয়সে বিবাহ, কাজিন ম্যারিজ এগুলা খুবই আনহেলদি অবৈজ্ঞানিক। কিন্তু পক্ষান্তরে মদ্যপান, মদের বার, যার তার সাথে মিলন, পতিতাবৃত্তি, সমকামিতা, জুয়া ইত্যাদি এগুলা খুবই হেলদি আর বৈজ্ঞানিক। কি সুন্দর না?

যৌনরোগের রিস্ক ফ্যাক্টরের সর্বপ্রথম পয়েন্টটাই হল সমকামিতা, পতিতাবৃত্তির মাধ্যমে কি কি রোগ ছড়ায় তা কি জানাতে হবে নতুন করে? নারী বহুগামিতা যে তাদের জন্য চরম ক্ষতিকর এটাও কি অজানা? পর্নোগ্রাফীর ক্ষতি সম্পর্কে হাজার হাজার গবেষণা রয়েছে, তা কি নতুন করে বলার প্রয়োজনীয়তা রাখে? মদ ক্যান্সারের একটা প্রাইম রিস্ক ফ্যাক্টর, কয়টা নাস্তিক মদের বিরুদ্ধে ও মদের উৎপাদনের বিরুদ্ধে কথা বলে? বরঞ্চ পশ্চিমারা গর্বের সাথে বলে wine is part of our culture. যারা নিজেরাই বিজ্ঞান মত চলে না তারা আবার বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে ইসলামকে বিচার করতে আসে, মুসলিমদেরকে শোধরাতে আসে, বিষয়টা বেশ হিপোক্রেটিক।

কিছু ওলামাদের মতে মাকরুহে তানজিহি

যদি কাজিন ম্যারিজে জেনেটিক সমস্যার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে যে কেউ চাইলে অনাত্মীয় কাউকে বিয়ে করতেই পারে। এখন কথা হচ্ছে, উক্ত সমাধান কি কি আমাদের নিজের বানানো? একদমই না। বরং জগত বিখ্যাত ওলামাগণ থেকেই তা প্রমাণিত। যেমন,

وَرَوَى إبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ فِي غَرِيبِ الْحَدِيثِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُؤَمَّلِ عَنْ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ قَالَ قَالَ عُمَرُ لِآلِ السَّائِبِ قَدْ أَضْوَأْتُمْ فَانْكِحُوا فِي النَّوَابِغِ.قَالَ الْحَرْبِيُّ يَعْنِي تَزَوَّجُوا الْغَرَائِبَ

উমর (রাঃ) আল-সায়েব (রাঃ) এর পরিবারকে বলেছেন, “অপরিচিতদের [বংশের বাইরের] মধ্যে বিয়ে করো।”[11]আল তালখীস আল হাবির ৩/৩০৪, সনদ যঈফ

হাফিজ আল ইরাকী (রহ) মন্তব্য করেছেন,

وقال الحافظ زين الدين العراقي: والحديث المذكور إنما يعرف من قول عمر أنه قال لآل السائب قد أضويتم فانكحوا في الغرائب.

“উপরোক্ত হাদীসটি আসলে হযরত উমর (রা) এর উক্তি। তিনি (রা) সায়েবের লোকদের বললেন, “নিশ্চয়ই তোমরা দুর্বল হয়ে গেছ, তোমাদের বংশের বাইরে বিয়ে করতে শুরু কর।”[12]তাখরীজ আহাদিস ইহইয়া উলুম আল দীন ২/৯৭১

ইমাম শাফেঈ (রহঃ) এর কথা,

وقال الإمام الشافعي: ” ليس من قوم لا يخرجون نسائهم إلى رجال غيرهم ولا يخرجون رجالهم إلى نساء غيرهم إلا جاء أولادهم حمقى “.

আল-শাফি’ই বলেছেন, “যখনই একটি পরিবারের লোকেরা তাদের মহিলাদেরকে তাদের বংশের বাইরের পুরুষদের সাথে বিয়ে করতে দেয় না, তখন তাদের সন্তানদের মধ্যে বোকা থাকবে।”[13]আল ইনতিকা ফি ফাযায়েল আল’আইমাত আলছালাছাত আল ফুকাহা, পৃ ৯৮; হিলিয়াতুল আওলিয়া ওয়াল আকসা আল আজুফা ৯/১২৫, নং ৪৪, সহিহ

ইবনুল মুলকিন (রহঃ) একই কথা বলেছেন,

ইবনে আল-সাব্বাগ বলেছেন যে, আমি বলতে চাচ্ছি: রায় (মাসআলাতে) হল যে শিশুটি মূর্খ হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি, এবং “আল-বায়ান” -এ আল-শাফি’র কর্তৃত্বে তিনি বলেছেন: যদি একটি মানুষ (তার বংশের) মধ্যে বিয়ে করে , তাহলে তার সন্তানের বোকা হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। আমি [ইবনুল মুলকিন রহঃ] বললামঃ এটা বাস্তবতা দ্বারা প্রমাণিত।[14]কিতাব আল বদর আল মুনির ফী তাখরিজ আল হাদিস ওয়াল আথার আল ওয়াকিয়াত ফী আল শারহুল কাবির, ৭/৫০০

এ কাজিন ম্যারিজকে অনুৎসাহিত করা হয়েছে, বহু আলেমের মতে এটা অনুত্তম। ওমর (রা) এর হাদিসের ভিত্তিতে ইমাম গাযযালী (রহ), ইবনে মনসুর লিসান আল আরব (রহ) কাজিন বিবাহকে মাকরুহে তানজিহি বলেছেন।[15]ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন ২/৪১; তাফসির ইবনে কাসির ৩/৮২; আহকামুল কোরআন ৬/১৩৪; তাফসির আত তাবারি ৮/৩২২ ইমাম সুয়ুতী, ইমাম নববী, ইবনে কুদামা, ইবনে হাজার আল হাইতামীসহ আরো বহু আলেম আত্মীয় নয় এমন কোন নারীকে বিবাহ করাকে উত্তম ও মুস্তাহাব বলেছেন।[16]আল-ইনসাফ ৮/১৬; মাতালিব ওলি আল-নুহা ৫/৯; শারহুল-মাহাল্লি মা হাশিয়াত কালিওবি ওয়া ‘উমাইরাহ, ৩/২০৪; আল মুগনী ৭/৮৩; কিতাব আল ইনসাফ আন আহাদিস আল নিকাহ, পৃ, ৭৪ উনাদের মতে অনাত্মীয়কে বিয়ে করলে সন্তান সুস্থ ও বুদ্ধিমান বেশি হয়। কিন্তু ওমর (রা) হতে হাদিসটি সহিহ সূত্র প্রমানিত নয়। রাসূল (ﷺ) থেকেও কিছু হাদিস রয়েছে এই জাতীয় কিন্তু কোনটাই সহিহ সূত্রে প্রমাণিত নয়।

একটি বাড়তি তথ্য দিয়ে রাখা ভালো, আলেমগণ বলেছেন, কাজিনদের বিয়ের বিষয়ে কোন ডাক্তার যদি পরিক্ষা নিরিক্ষা করে নিশ্চিত হয় যে সে তার কোন কাজিনকে বিয়ে করলে তার সন্তানের বা তার ক্ষতি হবে তাহলে ডাক্তারের জন্য যায়েজ তাকে এই বিবাহ করতে নিষেধ করা এবং রোগীর জন্যও বৈধ সেই পরামর্শ অনুসারে আমল করা।[17]هل زواج الأقارب سبب لإنجاب أولاد غير طبيعيين؟ – الإسلام سؤال وجواب (islamqa.info) ; https://youtu.be/ejO-03nXHgs?si=YdAqstRjLrMeP3Ce এক ডাক্তারের একটি বক্তব্য শুনেছিলাম এই বিষয়ে, তিনি বলেছিলেন, ‘যার মধ্যে জেনেটিক কোন রোগ আছে সে যে জানে না এমনতো খুব রেয়ার কেস ছাড়া হয় না, সেহেতু সে নিকট আত্মীয়দের মাঝে বিবাহ না করলেই যথেষ্ট হয়। অথবা যদি করতেই হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে পরিক্ষা নিরিক্ষা করে তারপর ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে এগোলেই দূর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব, আমরাতো বাধা দিতে পারি না কারণ এটা তার চয়েস, আমরা শুধু পরামর্শ দিতে পারি।

শুধুই কি অপকার?

একটি মিথ প্রচলিত রয়েছে যে কাজিন ম্যারিজের শুধু অপকারিতাই রয়েছে। মিথটি অনুযায়ি এর ক্ষতিকর দিক এত বেশি যে এটা নিয়ে মতভেদ করা সম্ভবই না। এই মিথটির বাস্তবতা কতটুকু সেটা দেখার চেষ্টা করে আসি।

কাজিন ম্যারেজ তেমন একটা ক্ষতিকর নয় যেমনটা হাইলাইট করা হয়। সাম্প্রতিক মেডিকেল রিসার্চগুলো বরং আরো উপকারেরও কথা বলছেঃ

  • ফার্স্ট কাজিন বিবাহে নবজাতক শিশু তেমন কোনো অস্বাভাবিকতা নিয়ে জন্ম নেয় না।[18]Özener, B., & Graham, J. H. (2014). Growth and fluctuating asymmetry of human newborns: Influence of inbreeding and parental education. American Journal of Physical Anthropology, 153(1), 45–51. https://doi.org/10.1002/ajpa.22401
  • কিছু ক্ষেত্রে ফার্স্ট কাজিন ম্যারেজের ফ্যামিলিগুলোতে জিনগতভাবেই হৃদরোগের ঝুঁকি কম থাকে।[19]Saleheen, D., Natarajan, P., Armean, I. et al. Human knockouts and phenotypic analysis in a cohort with a high rate of consanguinity. Nature 544, 235–239 (2017). https://doi.org/10.1038/nature22034
  • বিভিন্ন কন্ডিশনে কাজিন ম্যারেজ বরং উপকারী, সন্তান ও পিতা মাতা উভয়ের জন্য।[20]Science: Marrying Your Cousin Has Benefits. (2017, March 13). Inverse. https://www.inverse.com/article/28971-cross-cousin-marriage-pair-parent-offspring-inbreeding
  • কনসাঙ্গুইনিটি বংশধরদের মধ্যে অ্যালিলের সমজাতীয়তা সৃষ্টি করতে পারে, যা মানুষের পাশাপাশি প্রাণীর জনসংখ্যার সুবিধাজনক জিনগত বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করে। সংশ্লেষ বর্ধিত স্থূল উর্বরতার সাথে যুক্ত। অনেক গবেষণা স্তন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কনসাঙ্গুইনিটির প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকা নির্দেশ করে। মাল্টিপাল স্ক্লেরোসিসের বিরুদ্ধে কনসাঙ্গুইনিটির প্রতিরক্ষামূলক ভূমিকাও রিপোর্ট করা হয়েছে। কিছু গবেষণায়, প্রতিরক্ষামূলক জিনোটাইপ বা প্রতিরক্ষামূলক অ্যালিলের হোমোজাইগোসিটি নির্বাচনের কারণে রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষার রিপোর্ট করা হয়েছে।[21]Bhinder, M. A., Sadia, H., Mahmood, N., Qasim, M., Hussain, Z., Rashid, M., Zahoor, M., Bhatti, R., Shehzad, W., Waryah, A. M., & Saleem, S. (2019b). Consanguinity: A blessing or menace at population level? Annals of Human Genetics, 83(4), 214–219. https://doi.org/10.1111/ahg.12308
  • জনসংখ্যার মধ্যে জিন পুল এবং হার্ডি-ওয়েনবার্গ ভারসাম্য স্থির থাকার কারণে কনসেঙ্গুইনাস বিবাহ পরিবার-ভিত্তিক জেনেটিক অধ্যয়নকে সহজতর করে। কনসেঙ্গুইনাস পরিবারগুলি লিঙ্কেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে নোবেল ডিজিজ লোকি / জিন সনাক্তকরণে সহায়ক।[22]প্রাগুক্ত
  • কিছু অন্যান্য গবেষণায় আরও তথ্য দেওয়া হয়েছে যে কনসেঙ্গুইনাস বিবাহের দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলন জনসংখ্যা থেকে ক্ষতিকারক জিনগুলি হ্রাস করে জনগোষ্ঠীর উপকার করতে পারে। প্রাণঘাতীর বিভিন্ন স্তরও প্রভাবশালী উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রোগের সাথে যুক্ত, হোমোজাইগাস ব্যক্তিদের বেঁচে থাকার সাথে আপস করে। সহজে বললে দীর্ঘমেয়াদে, এর ফলে রোগের অ্যালিল অপসারণ হয় এবং একটি কনসেঙ্গুইনাস জনসংখ্যার রোগের হারে উল্লেখযোগ্য হ্রাস ঘটে।[23]প্রাগুক্ত

বৈজ্ঞানিক উপকারিতা ছাড়াও অন্যান্য বহু উপকারিতা দেখা যায় কাজিন ম্যারেজের ক্ষেত্রে। যেমন পারিবারিক ইতিহাস এক, সংস্কৃতি এক থাকে, সব বিষয়ে শক্তিশালি সমর্থন থাকে, সবাই পরিচিত হওয়ায় বেশ স্বাচ্ছন্দ্যের অনুভূতি তৈরি হয়, পারিবারিক বন্ধন আরো শক্তিশালি হয়, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ঐতিহ্য প্রায় এক থাকে ও বজায় থাকে , আর্থিক সুযোগ-সুবিধা থাকে, স্ত্রী পরিচিত হওয়ায় মানসিক ঘনিষ্ঠতা থাকে, বিবাহ বিচ্ছেদের হার কম থাকে, আন্ডারস্টেন্ডিং তুলনা মূলক ভালো থাকে, শক্তিশালি মানসিক সমর্থন পাওয়া সম্ভব, পরিবারে স্থিতিশীলতা পাওয়া যায়, আনুগত্য থাকে, যৌতুক হ্রাস, নারী নির্যাতন হ্রাস, শ্বশুরবাড়ির সাথে ভাল সামঞ্জস্যতা, কম গার্হস্থ্য সহিংসতা, পারিবারিক আর্থিক সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস, জমির মালিকানা সংরক্ষণ, বিবাহ ব্যবস্থা সহজতর ইত্যাদি আরো বহু ফায়দা থাকে।[24]Pros and Cons of Cousin Marriage | Ablison ; Marrying a Cousin- 30 real benefits – Refurbished Mag[25]Bhinder, M. A., Sadia, H., Mahmood, N., Qasim, M., Hussain, Z., Rashid, M., Zahoor, M., Bhatti, R., Shehzad, W., Waryah, A. M., & Saleem, S. (2019b). Consanguinity: A blessing or menace at population level? Annals of Human Genetics, 83(4), 214–219. https://doi.org/10.1111/ahg.12308

যেখানে কাজিন ম্যারিজের উপকারিতাও রয়েছে সেখানে একচেটিয়া অপকারিতা থাকার কথা বলাটা হিপোক্রেসি ছাড়া আর কিছুই না। কাজিনদের বিয়েতে এমন পরিবার তৈরি করার সুবিধা রয়েছে যেখানে অন্যান্য পরিবারের তুলনায় অনেক বেশি “আত্মীয় স্নেহ” রয়েছে, শক্তিশালী আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে। শিশুরা একে অপরের সাথে আরও বেশি জিন ভাগ করে নেয়। যমজরা তাদের যমজ ভাইবোনদের প্রতি বিশেষভাবে প্রেমময় হওয়ার জন্য বিখ্যাত। কাজিন ভাইয়ের বিয়েতে জন্ম নেওয়া শিশুরা কিছুটা সেরকমই হয়। তাদের অনেক বেশি প্রেমময় মামা, খালা, চাচা এবং দাদা-দাদি থাকবে কারণ তাদের সাথে তাদের জিনের 25% ভাগ করে নেওয়ার পরিবর্তে, তারা 35% -40% এর মতো কিছু ভাগ করে নেয়, তাই খালা এবং চাচা এবং দাদা-দাদি তাদের প্রায় তাদের নিজের সন্তানের মতো আচরণ করে। মধ্যপ্রাচ্যে এটি দেখা যায় যেখানে কাজিন ভাইয়ের বিয়ের সন্তানরা তাদের খালা, চাচা এবং দাদা-দাদির হৃদয়ে খুব বিশেষ স্থান দখল করে।

জেনেটিক ডিসঅর্ডারের প্রকৃত রহস্য

চলুন এবার জেনেটিক ডিজঅর্ডার ও অন্যান্য রোগ হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে যে এত এত হাইপ, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে এই বিবাহ নিষিদ্ধ, এই নিষিদ্ধ হওয়ার যে কারণগুলো সেগুলো কতটুকু ভেলিড তাতে একটু চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

Dr. Sohaib Khalid, MD, U.S.A এর বক্তব্যের একটি সামারি দিচ্ছি নিছে,

কোন নারী বা পুরুষের মধ্যে জিনগন কোন রোগ থাকলে (প্রকট না হলে) তা তার সন্তানদের মধ্যে স্থানান্তর হয় ও তারা সেটার বাহক হয়, অর্থাৎ সন্তান ত্রুটি যুক্ত জিন বহন করে। যখন সে তারই মত ত্রুটিযুক্ত জিন বহনকারী কোন নারীকে বিয়ে করে তখন তাদের পরবর্তী প্রজন্মে রোগ প্রকাশ পায়।

কাজিন ম্যারিজে সমস্যা হয় কারণ সাধারণত তাদের জিনপোল সীমিত হয়। একটা উপজাতীতে কয়েক প্রজন্ম ধরে কাজিনদের মাঝে বিয়ের কারণে সবার মাঝে সেই একই জিন ঘুরে বেড়ায়। যার কারণে মা-বাবা দুজনই ত্রুটিযুক্ত জিন বহনকারী হয় ও পরবর্তী প্রজন্মে রোগ প্রকাশ পায়। কিন্তু কিছু উপজাতি বা পরিবারে কাজিন ম্যারেজ হয় ও যেহেতু তাদের মধ্যে কোন জিনগত সমস্যা নেই তাদের কিছু হয় না যদি না কোথাও মিউটেশন হয় ও পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হয়।

সমস্যা দেখা দেয় যখন কয়েক প্রজন্মের মধ্যে আন্তঃবিবাহ হয় যেখানে কোন বাহ্যিক জিন প্রবেশ হয় না। জেনেটিক গবেষণার ক্ষেত্রে চিকিৎসা সম্প্রদায় এখনও শৈশবকালে রয়েছে।[26]Askimam, Fatwa 31610 https://askimam.org/public/question_detail/31610

বিজ্ঞানীরা বলছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত মিউটেশনের কারণে কমপক্ষে ৫০০০ টি রোগ রয়েছে যাকে রিসেসিভ জিন বলা হয়। মিউটেশনের একক অনুলিপি রাখা প্রায়শই ক্ষতিকারক নয়, তবে যদি প্রতিটি পিতামাতার কাছ থেকে একটি অনুলিপি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয় তবে ফলাফলটি মৃত্যু বা দীর্ঘস্থায়ী রোগ হতে পারে কারণ ফার্স্ট কাজিনরা দাদা-দাদির কাছ থেকে এক জোড়া জিন ভাগ করে নেয় এবং সম্ভাবনা বেশি থাকে যে প্রত্যেকে তাদের সন্তানের কাছে “খারাপ জিনের” একটি অনুলিপি স্থানান্তর করতে পারে, যা ব্যাধিসৃষ্টি করবে।[27]UOCHJRS, Vol. (II), Issue (IV) Jan- June, 2019, p. 42

একটু ব্যখ্যা করে যদি বলি তাহলে, জীবের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বহনকারী gene-এর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিলিপি বা allele থাকতে পারে। Gene -এর ভিন্ন ভিন্ন প্রতিলিপিগুলি একই বৈশিষ্টের ভিন্ন ভিন্ন গুণ বহন করে, যার মধ্যে কোনটি প্রকট গুণ, কোনটি প্রচ্ছন্ন গুণ। এই গুনগুলি gene দ্বারা বংশ পরম্পরায় এক প্রজন্ম থেকে পরবর্তী প্রজন্মে বাহিত হয়। একই জীবে কোন প্রকট গুণ বহনকারী allele এর সাথে যদি প্রচ্ছন্নগুণ বহনকারী gene এর সমন্বয় ঘটে তাহলে, প্রকট গুণটিই প্রাধান্য পায়। প্রচ্ছন্ন গুনটি প্রকাশ না পেলেও নষ্ট হয়ে যায় না। জননকোষ তৈরি হবার সময় এরা আবার আলাদা আলাদা হয়ে যায়। তার ফলে, উভয় allele-এর পরবর্তী প্রজন্মে সঞ্চারিত হবার সম্ভাবনা সমান থাকে। জীবের জীবদ্দশায় বিভিন্ন কারণে এই gene এর মধ্যে বিভিন্ন রকমের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই পরিবর্তনকে mutation বা পরিব্যাক্তি বলা হয়। Mutation এর মাধ্যমে একই gene এর বিভিন্ন প্রিতিলিপি সৃষ্টি হতে পারে। অধিকাংশ mutation -ই নিরপেক্ষ, অর্থাৎ পরিবর্তনের ফলে জীবের বৈশিষ্টের উপর কোন প্রভাব পড়ে না। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে mutation -এর ফলে ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে। অর্থাৎ এই gene দ্বারা সংঘটিত বৈশিষ্টগুলি জীবের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করে অথবা কোন দুরারোগ্য ব্যাধির কারণ হয়। দেখা যায়, কোন mutation এর নেতিবাচক বা ক্ষতিকারক প্রভাব যত বেশি, সেই গুনটির প্রচ্ছন্ন হবার সম্ভাবনাও তত বেশি থাকে।[28]Huber, C.D., et al., Gene expression drives the evolution of dominance. Nat Commun, 2018. 9(1): p. 2750.

এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে কাজিন বিয়ে করলেই জেনেটিক ডিসঅর্ডার ঘটে না, বরং কাজিন বিয়ে করলে বংশগত জেনেটিক ডিসঅর্ডারগুলো সন্তানের চলে আসার সম্ভাবনা হালকা বেশি থাকে ও কয়েক প্রজন্ম ধরে এই রীতি এক টানা চললে তখনই মূলত সমস্যা তৈরি হয়। আর যাদের বংশে পূর্বের কোন বংশগত রোগের ইতিহাস থাকে তাদের ক্ষেত্রেও ঝুঁকি বেশি থাকে, এখন তারা কাজিন বিয়ে করুক বা না করুক।

সমগোত্রীয় বিবাহ এবং আন্তঃপ্রজনন বিভিন্ন জন্মগত বিকৃতি, অটোসোমাল রোগসমূহের ঝুঁকি বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই পরবর্তী একাধিক প্রজন্ম পর্যন্ত অব্যহত থাকে। প্রথম প্রজন্মে (First offspring) এর কোন প্রভাব দেখা না গেলেও পরবর্তী প্রজন্মে বিরূপ প্রভাব ফেলার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করে।[29]Islam, M.M., Effects of consanguineous marriage on reproductive behaviour, adverse pregnancy outcomes and offspring mortality in Oman. Ann Hum Biol, 2013. 40(3): p. 243-55. অন্যদিকে গোত্রের বর্হিভূত বিবাহে হলে যেহেতু সন্তান দুটো আলাদা gene pool থেকে gene পায়, তাই বংশগত রোগ তার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে তারা কোন ত্রুটিপূর্ণ gene-এর ধারক (Carrier) হলেও পরবর্তী প্রজন্মে তা হারিয়ে যাওয়ারও সম্ভবনা থাকে।[30]Islam, M. M. (2013). “Effects of consanguineous marriage on reproductive behaviour, adverse pregnancy outcomes and offspring mortality in Oman.” Ann Hum Biol 40(3): 243-255. তাই কেউ কাজিন বিবাহ করলে তাদের সন্তানদেরকেও কাজিন বিবাহ না করালেই ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

ড. জুনায়েদ গাদাই, এমডি, ইউএসএ বলেন,

“এই বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য বিভ্রান্তিকর এবং মাঝে মাঝে পরষ্পর বিপরীত। সর্বোপরি কেউ বলতে পারেন যে ‘একে অপরের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দম্পতিদের অফ-স্প্রিংয়ে কিছু জন্মগত ত্রুটির সম্ভাবনা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে’।

এটি এমন একটি ইস্যু যা গর্ভপাত, গর্ভনিরোধক, সমকামিতা ইত্যাদির মতো অন্যান্য ইস্যুগুলির মধ্যে তার যোগ্যতার বাইরে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। আমাদের বেশিরভাগই ধর্ম এবং বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে কারণ এটি সুবিধাজনকভাবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাথে মানানসই। যে কোনও দিকে শক্ত অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। আমি মনে করি এখানে কোনো সঠিক বা ভুল নেই। আমাদের কেস বাই কেস নিতে হবে এবং সাধারণীকরণ এড়াতে হবে।[31]প্রাগুক্ত

ইন্টারনাল মেডিসিন ও কার্ডিওলজির পরামর্শক এবং সুপ্রিম কাউন্সিল ফর ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স-এর সায়েন্টিফিক মিরাকলস কমিটির প্রধান ড. আহমেদ শাওকি ইব্রাহিম জানিয়েছেন,

“যদি কোন বিজ্ঞানী এই বিষয়ের মাত্রাগুলি মনোযোগ সহকারে দেখেন, তবে তিনি দেখতে পাবেন যে “কনসাঙ্গুইনিয়াস বিবাহ বংশের মধ্যে জিনগত রোগ বাড়ানোর সুযোগ দেয়” এই বিবৃতিটি সর্বদা সত্য নয়। এটি কিছু ক্ষেত্রে সত্য হতে পারে, তবে এটি সমস্ত ক্ষেত্রে সত্য নয়, এবং তাই এটি একটি সাধারণ আইন বা সাধারণ নিয়ম হওয়া উচিত নয়।

আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিবাহের ক্ষেত্রে যদি সুনির্দিষ্ট ক্ষতি হতো, তাহলে মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলের জন্য এটাকে জায়েয করতেন না, এবং স্পষ্টভাবে তার চাচার কন্যা, ফুফুর কন্যা, মামার কন্যা, খালার কন্যাদের সাথে বিবাহের বিষয়ে উল্লেখ করেছেন।”[32]هل زواج الأقارب سبب لإنجاب أولاد غير طبيعيين؟ – الإسلام سؤال وجواب (islamqa.info)

অস্ট্রেলিয়ার মারডক ইউনিভার্সিটির লেখক ও চিকিৎসা জিনতত্ত্ববিদ অ্যালান এইচ বিটলস ‘কনসেনগুইনিটি ইন কনটেক্সট’ গ্রন্থে আইনি, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও চিকিৎসাগত দৃষ্টিকোণ থেকে চাচাতো ভাইয়ের বিয়ে সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলো পরীক্ষা/গবেষণা করেছেন। এই বিবাহের চরম বিরোধীরা বলে এই বিবাহ জেনেটিক অস্বাভাবিক ঝুঁকি বাড়ায়, কিন্তু কাজিন ম্যারেজ স্বাস্থ্যের প্রভাবের উপর ৩৫ বছরের গবেষণা বিটলসকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে যে কাজিনকে বিয়ে করার ঝুঁকিগুলি নিয়ে অতিরঞ্জিত করা হয়েছে। এই ঝুঁকিগুলি প্রাথমিকভাবে সে দম্পতিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যারা সাধারণত খুব, খুব বিরল ব্যাধিগুলির বাহক, বিটলস ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি আরো বলেন, “৯০ শতাংশেরও বেশি কাজিন বিয়ের ক্ষেত্রে তাদের ঝুঁকি (জিনগত অস্বাভাবিকতার সাথে সন্তান ধারণের) সাধারণ জনগণের মতোই। অনেক কাজিন ম্যারিজের গবেষণায় তারা সন্তানের উপর নন-জেনেটিক প্রভাবগুলোকে গণ্য করতে ব্যর্থ হয়েছে, তাই বিটল মন্তব্য করেছেন কাজিন ম্যারেজ নিয়ে গবেষণার অনেকগুলো ডেটা খুব দুর্বল[33]Why not marry your cousin? Millions do. (2012, April 25). EurekAlert! https://www.eurekalert.org/news-releases/508067 যেমন একটি উদাহরণ হতে বহু যায়গায় বলা হয় কাজিন বিবাহের কারণে গর্ভপাত ও মৃতশিশু জন্মহওয়ার হার অনেক বেশি বেড়ে যায় নাকি, কিন্তু পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্য পরিমানের গবেষণা কাজিন বিবাহ এবং গর্ভপাত/গর্ভপাতের হার বৃদ্ধির মধ্যে কোনো উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা নির্ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে[34]Bhinder, M. A., Sadia, H., Mahmood, N., Qasim, M., Hussain, Z., Rashid, M., Zahoor, M., Bhatti, R., Shehzad, W., Waryah, A. M., & Saleem, S. (2019). Consanguinity: A blessing or menace at population level? Annals of Human Genetics, 83(4), 214–219. https://doi.org/10.1111/ahg.12308

ফার্স্ট কাজিনদের জন্মগত ত্রুটিযুক্ত সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা 4-6%, আর অনাত্মীয় দম্পতির ত্রুটি যুক্ত সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা 3-4%। এটি খুব একটা বেশি না, যেমনটা অ্যালান বিটলস বলেছিলেন, এছাড়া ফার্স্ট কাজিনদের কারো যদি জিনগত কোন সমস্যা না থাকে তাহলে তাদের সন্তান ত্রুটিযুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরো কমে আসে। কিন্তু বেশ কয়েক প্রজন্ম যখন কাজিন ম্যারেজ করতেই থাকে তখন বহু সমস্যার সৃষ্টি হয়, বহু রোগের রিস্ক বেড়ে যায়। এমনকি ঝুঁকি ৫-৮% পর্যন্ত বাড়তে পারে।[35]The individual & social risks of cousin marriage – Gene Expression. (2010, August 25). Gene Expression.[36]Risk factors of various diseases in cousin marriages from Medical encyclopedia, Retrieved: 10-4-20018

ফার্স্ট কাজিন ভাইবোনদের প্রতিবন্ধী শিশু হওয়ার ঝুঁকি কেবল 4-6% থাকে। এর মানে হল যে 94-96% শিশু সুস্থ এবং তাদের কোনও সমস্যা নেই। দ্বিতীয় কাজিন ভাইবোনদের প্রতিবন্ধী সন্তান হওয়ার ঝুঁকি আরও কম। তাদের ঝুঁকি সমস্ত সম্পর্কহীন দম্পতিদের ঝুঁকির চেয়ে কিছুটা বেশি। সুতরাং, প্রতি 100 দ্বিতীয় কাজিন ভাই-বোন যাদের বাচ্চা রয়েছে, 96-97 শিশু পুরোপুরি সুস্থ।[37]UOCHJRS, Vol. (II), Issue (IV) Jan- June, 2019, p. 41

গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে কাজিন ভাইবোনদের মধ্যে বিবাহের সন্তানরা 7% থেকে 8% ক্ষেত্রে সিস্টিক ফাইব্রোসিস এবং টাই-স্যাকস রোগের মতো রিসেসিভ জেনেটিক ব্যাধিগুলি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়। সাধারণ জনসংখ্যার জন্য, এই হার ছিল 5%। এই পরিমানটাও প্রায় কাছাকাছি বললেই চলে।[38]UOCHJRS, Vol. (II), Issue (IV) Jan- June, 2019, p. 41 সাধারণ জনসংখ্যার মধ্যে, একটি শিশু স্পাইনা ফিডার মতো একটি বড় জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে এমন ঝুঁকি 3 থেকে 4 শতাংশ; গবেষকরা বলেন, এই ব্যাকগ্রাউন্ড ঝুঁকিতে ফার্স্ট কাজিনদের অবশ্যই আরও ১.৭ থেকে ২.৮ শতাংশ পয়েন্ট যোগ করতে হবে।[39]No Genetic Reason to Discourage Cousin Marriage, Study Finds – The New York Times পরিবারে কোনও জেনেটিক ব্যাধি নেই এমন দম্পতিদের মধ্যে, সাধারণ জনসংখ্যার ঝুঁকির চেয়ে ফার্স্ট কাজিন ভাইবোনদের সন্তানদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য জন্মগত ত্রুটিগুলির জন্য অতিরিক্ত 1.7% -2.8% ঝুঁকি রয়েছে। বহুজাতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রথম চাচাতো ভাইয়ের গর্ভাবস্থার বংশধরদের মধ্যে, নন-কনসাঙ্গুইনিয়াস জনসংখ্যার তুলনায় 1.1% নবজাতক এবং শিশু মৃত্যুর গড় বেশি ছিল।[40]Bennett, R. L., Malleda, N. R., Byers, P. H., Steiner, R. D., & Barr, K. M. (2021). Genetic counseling and screening of consanguineous couples and their offspring practice resource: Focused Revision. Journal of Genetic Counseling, 30(5), 1354–1357. https://doi.org/10.1002/jgc4.1477

বোস্টনের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের অধ্যাপক ডায়ান পল এবং নিউজিল্যান্ডের ডুনেডিনের ওটাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হামিশ স্পেন্সার বলেন, ‘চল্লিশের কোঠায় থাকা মহিলাদের সন্তান জন্ম দেওয়ার বিষয়ে দোষী বোধ করা হয় না এবং এটি কাজিন ভাইবোনদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত যারা বিয়ে করতে চান।’ তারা দেখিয়েছেন, জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি ফার্স্ট কাজিন বোনের বিয়েতে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের গড়ের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ বেশি – শিশু মৃত্যুর হার প্রায় ৪.৪ শতাংশ বেশি – যা ৪০ বছরের বেশি বয়সী মহিলাদের জন্মগ্রহণকারী শিশুদের ঝুঁকির সমান। পাবলিক লাইব্রেরি অফ সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা সহ-লেখক অধ্যাপক স্পেন্সার বলেন, “৪০ বছরের বেশি বয়সী নারীদের জন্মগত ত্রুটিযুক্ত সন্তান হওয়ার ঝুঁকি একই রকম এবং কেউই পরামর্শ দিচ্ছে না যে তাদের রিপ্রোডিউসিং থেকে বিরত রাখা উচিত” বিবর্তনবাদী প্রাণিবিজ্ঞানী অধ্যাপক স্পেন্সার কাজিন বিবাহ নিষিদ্ধ করা আইন সম্পর্কে বলেন,

এই আইনগুলো বাতিল করা উচিত, বিশেষ করে আমেরিকায়, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে এগুলি এমনভাবে খসড়া করা হয়েছিল যা গ্রামীণ দরিদ্র এবং অভিবাসীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়: “এই ধরনের আইনের পিছনে বৈজ্ঞানিক বা সামাজিক অনুমানগুলি নিবিড়ভাবে তদন্তের জন্য দাড়ায় না। এই ধরনের আইন অভিবাসী এবং গ্রামীণ দরিদ্রদের সম্পর্কে প্রচলিত কুসংস্কারকে প্রতিফলিত করে এবং বংশগতির অত্যধিক সরলীকৃত দৃষ্টিভঙ্গির উপর নির্ভর করে। এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।”[41]Connor, S. (2008b, December 24). There’s nothing wrong with cousins getting married, scientists say | The Independent. The Independent.

সাধারণ কাপলের তুলনায় কাজিন কাপলদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি হালকা বেশি হলেও তা অনেক বেশি নয়। অ্যাবসুলুট রিস্ক এখনো অনেক কম। কাজিন ম্যারিজের কারণে হওয়া জন্মগত ত্রুটি টোটালের ৩ ভাগের এক ভাগ, অর্থাৎ আর ২ ভাগতো এমনিতেই অন্যান্য কারণে হচ্ছে! বিভিন্ন রিপোর্ট অনুসারে জেনেটিক ডিজঅর্ডার অনেক বেশি দেখা যায় অমুসলিম দেশেই, অথচ প্রচার করা হয় মুসলিমদের মাঝেই কাজিন ম্যারিজ নাকি বেশি, তাই মুসলিমদের মাঝেই নাকি জেনেটিক রোগ বেশি। অসংখ্য গবেষণা ও সার্ভে হতে নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে যে অধিকাংশ কাজিন কাপলদের সন্তান একদম সুস্থ ও স্বাভাবিক। কাজিনদের মাঝে বিবাহ হওয়ার ধরুন যে যে সমস্যাগুলো হতে পারে সেগুলো দূর দূর থেকে কোন ভাবেই রক্ত সম্পর্কীয় নয় এমন কাপলদের মাঝে যে হবেই না এমন ধারণাটাই ভুল। অনাত্মীয় কাপলদের সন্তানদেরও সেই সমস্যা বা তার চাইতে জঘন্য সমস্যা হওয়ারও অসংখ্য অগণিত রেকর্ড রয়েছেকাজিনদের মধ্যে বিয়ে হলেই যে ডিফেক্তিভ জিন বাচ্চাতে আসবে, সেটা ভুল ধারণা। কাজিন হোক আর না হোক, বাবা মার পরিবারের ডিফেক্তিভ জিন সন্তানে যাবেই, যার কারণে সন্তান ত্রুটিযুক্ত জন্মাবেই[42]Cousin marriage and genetic conditions – bradford.gov.uk/media/3276/cousin-marriage-and-genetic-inheritance-leaflet.pdf[43]MacDonald, J. (2019, August 14). The Genetics of Cousin Marriage. JSTOR Daily.[44]CONGENITAL ANOMALIES DEATH RATE BY COUNTRY (worldlifeexpectancy.com)

যাইহোক, এসব কারণে জেনেটিক্সের শীর্ষস্থানীয় গবেষকরা বিশ্বাস করেন যে ফার্স্ট কাজিনদের মধ্যে বিয়ে, দীর্ঘদিন ধরে একটি আইনি, সামাজিক এবং ধর্মীয় ট্যাবু হয়ে ছিল, যা শিশুদের অস্বাভাবিকতা ঘটার সম্ভাবনা সাধারণভাবে যা অনুমান করা হয় তার চেয়ে অনেক কম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সামান্য বৃদ্ধির (সম্ভাবনা) ঝুঁকি আছে, কিন্তু জীবনের সাধারণ ঝুঁকির পরিপ্রেক্ষিতে এটি খুব বেশি নয়। তাদের মতে এর কোনো ভালো সামাজিক বা বায়োলজিক্যাল নিষেধ থাকা উচিত নয়, কাজিন ম্যারিজ নিষেধাজ্ঞার আইন বাতিল করা উচিৎ কারণ আইন প্রণেতারা এই ভুল বিশ্বাসের উপর ভিত্তি করে যে এই ধরনের পিতামাতার সন্তানরা ভয়ানক শারীরিক ও মানসিক রোগে ভুগবে। কারণ সেখানে প্রচুর ভুল তথ্য রয়েছে যা সত্যিই কিছু কাজিন দম্পতিকে আটকে রেখেছে যারা সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করতে চায়। বহু গবেষক বলেছেন কাজিন বিবাহকে অজাচার হিসেবে গণ্য করা উচিৎ নয়। তারা এই প্রশ্নও এনেছেন যে উচ্চ স্তরের ঝুঁকিযুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের সন্তান ধারণের অধিকার নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। উদাহরণস্বরূপ, হান্টিংটনের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা, একটি গুরুতর স্নায়বিক ব্যাধি, তাদের বাচ্চাদের মধ্যে রোগটি পাস করার 50 শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞগণ এটাও উপদেশ দিয়েছেন যাদের জিনগত সমস্যা রয়েছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে যা ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন তা করলেই যথেষ্ট হবে।[45]UOCHJRS, Vol. (II), Issue (IV) Jan- June, 2019, p. 41; The study is in the April 2016 edition of the Journal of Genetic Counseling. ; Nasr, Seyyed Hossein. “Ali”. Encyclopedia Britannica Online. Encyclopedia Britannica, Inc. Retrieved 14-01-2019[46]No Genetic Reason to Discourage Cousin Marriage, Study Finds – The New York Times

উপরোক্ত আলোচনা হতে আমরা কয়েকটা বিষয়ে উপসংহারে আসতে পারি যে,

  1. কাজিন ম্যারিজ নিয়ে প্রচার করা সমস্যাগুলো অতিরঞ্জিত ও বহু ভুল তথ্যও প্রচার করা হচ্ছে।
  2. কাজিন বিবাহের যতটা ক্ষতিকর দেখানো হয় আদতে তা ততটা ক্ষতিকর না।
  3. কয়েক প্রজন্ম ধরে একটানা কাজিনদের মধ্যে বিবাহ হলে আসল ক্ষতিটা তখন হয়, তাই এই জাতীয় কাজ না করলেই ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব। (আর ইসলাম একটানা কয়েক প্রজন্ম ধরে এই জাতীয় বিবাহ করতেও বলেনি)
  4. যাদের বংশে পূর্বে বংশগত রোগ বা জেনেটিক ডিসঅর্ডার থাকার ইতিহাস ছিল তারা কাজিন ম্যারেজ না করাই উত্তম। যদি তারপরও করতে হয় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  5. কাজিন বিবাহের কারণে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা ও সাধারণ অনাত্মীয়দের মধ্যে হওয়া সমস্যার সম্ভাবনা প্রায় কাছাকাছি।
  6. যদি রিস্ক হওয়ায় কাজিনকে বিবাহ না করা যায় তাহলে যাদের জেনেটিক কোন সমস্যা আছে তারাতো কাউকে বিয়েই করতে পারবে না! কাজিনদের তুলনায় হালকা কম হলেও রিস্ক সাধারণ জনগণের বেলায়ও আছে, যা থাকার কারণে অনাত্মীয় কাউকেও বিয়ে করা যাবে না এবং সারা জীবন অবিবাহিত থেকেই মরতে হবে।
  7. এর অপকারীতার পাশাপাশি উপকারিতাও পাওয়া যাচ্ছে বহু বৈজ্ঞানিক, সামাজিক, পারিবারিক ইত্যাদির।
  8. কাজিন ম্যারেজ না করার আইন নিয়ে পশ্চিমাদের মাঝে সুস্পষ্ট দ্বিমুখী আচরণের প্রমাণ পাওয়া যায় বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুসারে।

আপনারা আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে ‘The American Myth of Cousin Marriage’ বইটি পড়ে দেখতে পারেন। এছাড়া এই আর্টিকেলে দেওয়া প্রতিটি লিংক ভিজিট করে ভালো করে পড়ে দেখতে পারেন। তাহলে আশা ইনশাআল্লাহ আরো বহু বিষয়ে জানতে পারবেন। যেমন কতগুলো মিথ্যা ও ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে আমাদেরকে এই বিষয়ে, কত বেশি অতিরঞ্জিত করা হয়েছে এই টপিক নিয়ে, অসংখ্য গবেষক এই আইনের বিরোধিতা করেছেন, কত মানুষ ভুল জানার কারণে নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে পারে নি, কত মানুষ ঝুঁকি সম্পর্কে ভুল জানার কারণে গর্ভপাত করে পরবর্তীতে আফসোস করেছিল, কত মানুষ অনেক বেশি ঝুঁকি আছে শুনে সন্তান না হওয়ার পার্মানেন্ট ব্যবস্থা করে তারপর আফসোসের সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে আছে ইত্যাদি ইত্যাদি।

এত আলোচনার পর আপনাদের কাছেই প্রশ্ন থাকে কোন যুক্তিতে এই বিধানকে হারাম করা প্রয়োজন? কোন যুক্তিকে এই বিধান হালাল হওয়ায় সমস্যা হচ্ছে? সুতরাং যদিও কাজিন ভাই-বোনদের বিবাহগুলি সুপারিশ করার মতো কিছু নাও হতে পারে, তবে আপনি যদি সুবিধাগুলিও বিবেচনা করেন তবে এত কম ঝুঁকিগুলি এটি নিষিদ্ধ করার জন্য যথেষ্ট নয়।

শুধু ইসলামেই কাজিন ম্যারেজ?

এতক্ষনের আলোচনায় আশা করি বৈজ্ঞানী সম্পর্কিত বিষয়াদির যে অভিযোগ ও প্রশ্ন ছিল সেগুলোর উত্তর সুস্পষ্ট করে দেওয়া হয়ে গিয়েছে। এখন বিভিন্ন ধর্মের সমালোচকদের নিজ নিজ ধর্মে কাজিন ম্যারেজ করার বিষয়ে কি বলা হয়েছে তা দেখে আসার সময় হয়ে গেছে।

হিন্দু মাইথোলজি অনুযায়ী কৃষ্ণ তার ফুফাতো বোন মিত্রাবিন্দার সাথে বিয়ে করেছে।[47]শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১০/৫৮/৩১। কৃষ্ণের আরেক জন স্ত্রী ভদ্রা যিনি কৃষ্ণের আরেক ফুফুর কন্যা ছিলেন বলে জানা যায়।[48]শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১০/৫৮/৫৬ কৃষ্ণের প্রতিটি স্ত্রীর গৃহে ১০ জন করে সন্তানও জন্ম হয়েছিল।[49]শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১০/৬১/১, ৭ কৃষ্ণের পুত্র প্রদুম্ন্য বিয়ে করেছিল তার মামা রুকমির কন্যা রুক্মবতীকে। প্রদুম্ন্য এর পুত্র অনিরুদ্ধও নিজের মামার কন্যা রচনাকে বিয়ে করেছিল যে রুকমির নাতি ছিল।[50]শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১০/৬১ অথচ ফুফাতো মামাতো বোনকে আপন বোন মনে করে হিন্দুরা। যাইহোক আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে এটি দেখতে পারেন।[51]https://fb.watch/pqoVMClkIi/

ইহুদি খ্রিষ্টানদের বহু ওয়েব সাইটেও এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে কাজিন ম্যারিজ বাইবেল অনুসারে নিষিদ্ধ নয়।[52]What does the Bible say about marrying your first cousin?[53]What Does the Bible Say About Marriage Between Cousins? (openbible.info)[54]Bible Verses About Marrying Your Cousin – CHURCHGISTS.COM[55]Marrying to Cousins – Debating Christianity and Religion

লিখাটিতে সহযোগিতা করেছেন – তাহসিন আরাফাতসাব্বির আহমেদ ভাই এবং নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ডাক্তার ভাইসহ আরো অনেকে।

    Footnotes

    Footnotes
    1Kolirin, L. (2023, January 16). In parts of Ancient Greece, first-cousin marriage was not only allowed but encouraged, DNA shows | CNN. CNN. https://www.cnn.com/2023/01/16/europe/ancient-cousins-marriage-scli-intl-scn/index.html
    2Bittles, A. H. (2009, December 1). Commentary: The background and outcomes of the first-cousin marriage controversy in Great Britain. OUP Academic. https://doi.org/10.1093/ije/dyp313
    3Cousin marriage – Wikipedia
    4Fareed, M. and M. Afzal (2014). “Evidence of inbreeding depression on height, weight, and body mass index: a population-based child cohort study.” Am J Hum Biol 26(6): 784-795.
    5Bittles, A., Consanguinity and its relevance to clinical genetics. Clin Genet, 2001. 60(2): p. 89-98.
    6Anwar, W.A., M. Khyatti, and K. Hemminki, Consanguinity and genetic diseases in North Africa and immigrants to Europe. Eur J Public Health, 2014. 24 Suppl 1: p. 57-63.
    7Kuper, A. (2002). Incest, Cousin Marriage, and the Origin of the Human Sciences in Nineteenth-Century England. Past & Present, 174, page 165 – 170. http://www.jstor.org/stable/3600719
    8Paul, D. B., & Spencer, H. G. (2008, December 23). “It’s Ok, We’re Not Cousins by Blood”: The Cousin Marriage Controversy in Historical Perspective. PubMed Central (PMC). https://doi.org/10.1371/journal.pbio.0060320
    9সূরা বাকারাহ, আয়াত ৩-৫, ১৫৪-১৫৫; সূরা কাহফ, আয়াত ৭; সূরা আদ-দাহর‌, আয়াত ২-৩; সূরা মুলক, আয়াত ২; সূরা আল-আনকাবূত, আয়াত ২-৩; সূরা আনফাল আয়াত ২৮; সূরা তাগাবুন আয়াত ১৫
    10Prevalence and determinants of consanguineous marriage and its types in India: evidence from the National Family Health Survey, 2015-2016 – PubMed. (2021, July 1). PubMed. https://doi.org/10.1017/S0021932020000383
    11আল তালখীস আল হাবির ৩/৩০৪, সনদ যঈফ
    12তাখরীজ আহাদিস ইহইয়া উলুম আল দীন ২/৯৭১
    13আল ইনতিকা ফি ফাযায়েল আল’আইমাত আলছালাছাত আল ফুকাহা, পৃ ৯৮; হিলিয়াতুল আওলিয়া ওয়াল আকসা আল আজুফা ৯/১২৫, নং ৪৪, সহিহ
    14কিতাব আল বদর আল মুনির ফী তাখরিজ আল হাদিস ওয়াল আথার আল ওয়াকিয়াত ফী আল শারহুল কাবির, ৭/৫০০
    15ইহইয়াউ উলুমুদ্দিন ২/৪১; তাফসির ইবনে কাসির ৩/৮২; আহকামুল কোরআন ৬/১৩৪; তাফসির আত তাবারি ৮/৩২২
    16আল-ইনসাফ ৮/১৬; মাতালিব ওলি আল-নুহা ৫/৯; শারহুল-মাহাল্লি মা হাশিয়াত কালিওবি ওয়া ‘উমাইরাহ, ৩/২০৪; আল মুগনী ৭/৮৩; কিতাব আল ইনসাফ আন আহাদিস আল নিকাহ, পৃ, ৭৪
    17هل زواج الأقارب سبب لإنجاب أولاد غير طبيعيين؟ – الإسلام سؤال وجواب (islamqa.info) ; https://youtu.be/ejO-03nXHgs?si=YdAqstRjLrMeP3Ce
    18Özener, B., & Graham, J. H. (2014). Growth and fluctuating asymmetry of human newborns: Influence of inbreeding and parental education. American Journal of Physical Anthropology, 153(1), 45–51. https://doi.org/10.1002/ajpa.22401
    19Saleheen, D., Natarajan, P., Armean, I. et al. Human knockouts and phenotypic analysis in a cohort with a high rate of consanguinity. Nature 544, 235–239 (2017). https://doi.org/10.1038/nature22034
    20Science: Marrying Your Cousin Has Benefits. (2017, March 13). Inverse. https://www.inverse.com/article/28971-cross-cousin-marriage-pair-parent-offspring-inbreeding
    21, 25Bhinder, M. A., Sadia, H., Mahmood, N., Qasim, M., Hussain, Z., Rashid, M., Zahoor, M., Bhatti, R., Shehzad, W., Waryah, A. M., & Saleem, S. (2019b). Consanguinity: A blessing or menace at population level? Annals of Human Genetics, 83(4), 214–219. https://doi.org/10.1111/ahg.12308
    22, 23, 31প্রাগুক্ত
    24Pros and Cons of Cousin Marriage | Ablison ; Marrying a Cousin- 30 real benefits – Refurbished Mag
    26Askimam, Fatwa 31610 https://askimam.org/public/question_detail/31610
    27UOCHJRS, Vol. (II), Issue (IV) Jan- June, 2019, p. 42
    28Huber, C.D., et al., Gene expression drives the evolution of dominance. Nat Commun, 2018. 9(1): p. 2750.
    29Islam, M.M., Effects of consanguineous marriage on reproductive behaviour, adverse pregnancy outcomes and offspring mortality in Oman. Ann Hum Biol, 2013. 40(3): p. 243-55.
    30Islam, M. M. (2013). “Effects of consanguineous marriage on reproductive behaviour, adverse pregnancy outcomes and offspring mortality in Oman.” Ann Hum Biol 40(3): 243-255.
    32هل زواج الأقارب سبب لإنجاب أولاد غير طبيعيين؟ – الإسلام سؤال وجواب (islamqa.info)
    33Why not marry your cousin? Millions do. (2012, April 25). EurekAlert! https://www.eurekalert.org/news-releases/508067
    34Bhinder, M. A., Sadia, H., Mahmood, N., Qasim, M., Hussain, Z., Rashid, M., Zahoor, M., Bhatti, R., Shehzad, W., Waryah, A. M., & Saleem, S. (2019). Consanguinity: A blessing or menace at population level? Annals of Human Genetics, 83(4), 214–219. https://doi.org/10.1111/ahg.12308
    35The individual & social risks of cousin marriage – Gene Expression. (2010, August 25). Gene Expression.
    36Risk factors of various diseases in cousin marriages from Medical encyclopedia, Retrieved: 10-4-20018
    37, 38UOCHJRS, Vol. (II), Issue (IV) Jan- June, 2019, p. 41
    39, 46No Genetic Reason to Discourage Cousin Marriage, Study Finds – The New York Times
    40Bennett, R. L., Malleda, N. R., Byers, P. H., Steiner, R. D., & Barr, K. M. (2021). Genetic counseling and screening of consanguineous couples and their offspring practice resource: Focused Revision. Journal of Genetic Counseling, 30(5), 1354–1357. https://doi.org/10.1002/jgc4.1477
    41Connor, S. (2008b, December 24). There’s nothing wrong with cousins getting married, scientists say | The Independent. The Independent.
    42Cousin marriage and genetic conditions – bradford.gov.uk/media/3276/cousin-marriage-and-genetic-inheritance-leaflet.pdf
    43MacDonald, J. (2019, August 14). The Genetics of Cousin Marriage. JSTOR Daily.
    44CONGENITAL ANOMALIES DEATH RATE BY COUNTRY (worldlifeexpectancy.com)
    45UOCHJRS, Vol. (II), Issue (IV) Jan- June, 2019, p. 41; The study is in the April 2016 edition of the Journal of Genetic Counseling. ; Nasr, Seyyed Hossein. “Ali”. Encyclopedia Britannica Online. Encyclopedia Britannica, Inc. Retrieved 14-01-2019
    47শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১০/৫৮/৩১
    48শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১০/৫৮/৫৬
    49শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১০/৬১/১, ৭
    50শ্রীমদ্ভাগবত পুরাণ ১০/৬১
    51https://fb.watch/pqoVMClkIi/
    52What does the Bible say about marrying your first cousin?
    53What Does the Bible Say About Marriage Between Cousins? (openbible.info)
    54Bible Verses About Marrying Your Cousin – CHURCHGISTS.COM
    55Marrying to Cousins – Debating Christianity and Religion
    Show More

    Ashraful Nafiz

    আমি একজন সাধারন মুসলিম ছাত্র যে আল্লাহর দেওয়া কল্যানময় জ্ঞান অর্জনে আগ্রহি এবং সেই জ্ঞান মানুষের মাঝে পৌছানোর প্রত্যাশী।
    Back to top button