সীরাত ও ইতিহাসইসলামবিরোধীদের প্রতি জবাব

রাসূল (ﷺ)-কি সাওদা (রা.)-কে বৃদ্ধ হওয়ার কারণে তালাক দিয়েছিলেন?

রাসূল (ﷺ)-কি সাওদা (রা.)-কে বৃদ্ধ হওয়ার কারণে তালাক দিয়েছিলেন?

জবাব: না! সাওদা (রা.) মৃত্যু পর্যন্ত রাসূল ﷺ-এর সম্মানিত স্ত্রী হিসেবেই জীবন অতিবাহিত করেছেন। তবে সাওদা (রা.)-কে তালাক সংক্রান্ত যেসব বর্ণনা পাওয়া যায়, সেগুলোর সনদ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়—সেগুলোর কোনোটি সহিহ ভাবে সংযুক্ত সনদে প্রমাণিত নয়; বরং সবই মুরসাল, সংযুক্তিহীন বা দুর্বল সনদের বর্ণনা, প্রায় সবগুলোতেই একাধিক দুর্বলতা পাওয়া যায় এবং এগুলো সহিহ হাদিসবিরোধী, যা নিচে বিস্তারিত উল্লেখ করা হলো—

Contents Hide

১. ওলামাগণের হাদিস উদ্ধৃতি

১. ইবনু কাসীর, তাফসীরী বক্তব্য:

وَلِهَذَا لَمَّا كَبِرَتْ سَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ عَزَمَ رَسُولُ اللهِ ﷺ عَلَى فِرَاقِهَا، فَصَالَحَتْهُ عَلَى أَنْ يُمْسِكَهَا، وَتَتْرُكَ يَوْمَهَا لِعَائِشَةَ، فَقَبِلَ ذَلِكَ مِنْهَا وَأَبْقَاهَا عَلَى ذَلِكَ.

অনুবাদ: এ কারণেই যখন সাওদা বিনতে যাম‘আ (রা.) বৃদ্ধ হয়ে গেলেন, তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। অতঃপর তিনি তাঁর সঙ্গে এ মর্মে সমঝোতা করলেন যে, রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে নিজের কাছে রাখবেন এবং তাঁর পালার দিনটি আয়িশা (রা.)-কে দিয়ে দেবেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁর এই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং তাঁকে এভাবেই নিজের কাছে রেখে দিলেন।[1]রেফারেন্স:  তফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম (তাফসীরে ইবনে কাছীর), ২/৪২৬, সূরা আন-নিসা: ১২৮, তাহকীক: সামী বিন মুহাম্মদ আস-সালামাহ, দারু ত্বায়্যিবাহ লিন-নাশরি ওয়াত্তাওযী‘ই, রিয়াদ, সৌদি আরব।

تَفْسِيرُ الْقُرْآنِ الْعَظِيمِ، ٢ / ٤٢٦، سُورَةُ النِّسَاءِ: ١٢٨، تَحْقِيقُ: سَامِي بْنِ مُحَمَّدِ السَّلَامَةِ، دَارُ طَيِّبَةَ لِلنَّشْرِ وَالتَّوْزِيعِ – الرِّيَاضُ

​অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/1129/1898

তাহকীক:

ইবনু কাসীর (রহ.) এই বক্তব্যটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। অতএব, এই নির্দিষ্ট বর্ণনাটি স্বতন্ত্রভাবে শক্তিশালী দলিল হিসেবে গ্রহনযোগ্য নয়।

২. ইবনু কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া-র এই বক্তব্য:

فَلَمَّا كَبُرَتْ هَمَّ رَسُولُ اللهِ بِطَلَاقِهَا.
وَيُقَالُ: إِنَّهُ طَلَّقَهَا، فَسَأَلَتْهُ أَنْ يُبْقِيَهَا فِي نِسَائِهِ وَتَهَبَ يَوْمَهَا لِعَائِشَةَ، فَقَبِلَ ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ ﷺ حَتَّى أَنْزَلَ اللهُ:
﴿وَإِنِ امْرَأَةٌ خَافَتْ مِنْ بَعْلِهَا نُشُوزًا أَوْ إِعْرَاضًا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَنْ يُصْلِحَا بَيْنَهُمَا صُلْحًا وَالصُّلْحُ خَيْرٌ﴾ [النساء: 128].

অনুবাদ: অতঃপর যখন তিনি বৃদ্ধ হয়ে গেলেন, তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করলেন।

আর বলা হয় যে, তিনি তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন। তখন সাওদা (রা.) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে অনুরোধ করলেন, যেন তিনি তাঁকে তাঁর স্ত্রীদের মধ্যে রেখে দেন এবং তাঁর নিজের পালার দিনটি আয়িশা (রা.)-কে দিয়ে দেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ তা গ্রহণ করলেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা নাজিল করলেন:

“আর কোনো নারী যদি তার স্বামীর পক্ষ থেকে অবাধ্যতা বা উপেক্ষার আশঙ্কা করে, তবে তাদের উভয়ের জন্য নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করে নেওয়াতে কোনো দোষ নেই। আর সমঝোতাই উত্তম।” — [সূরা আন-নিসা ৪:১২৮] [2]রেফারেন্স:

আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ১১/২৭৯, তাহকীক: ড. ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী, দারু হাজার লিট্টাবা‘আতি ওয়ান-নাশরি ওয়াত্তাওযী‘ই ওয়াল-ই‘লান।

(الْبِدَايَةُ وَالنِّهَايَةُ، ١١ / ٢٧٩، تَحْقِيقُ: د. عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُحْسِنِ التُّرْكِيِّ، دَارُ هَجَرٍ لِلطَّبَاعَةِ وَالنَّشْرِ وَالتَّوْزِيعِ وَالْإِعْلَانِ)

​অনলাইনে চেক করুন:

https://shamela.ws/book/4445/6502

তাহকীক:

ইবনু কাসীর (রহ.) এই বক্তব্যটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। অতএব, এই নির্দিষ্ট বর্ণনাটি স্বতন্ত্রভাবে শক্তিশালী দলিল হিসেবে গ্রহনযোগ্য নয়।

৩. ইবনু হজর আল-আসকালানী— তাহযীবুত তাহযীব-এর বক্তব্য:

ইবনু হাজর সাওদা (রা.)-এর জীবনীতে লিখেছেন:

قَالُوا: لَمَّا أَسَنَّتْ هَمَّ النَّبِيُّ ﷺ بِطَلَاقِهَا فَوَهَبَتْ يَوْمَهَا لِعَائِشَةَ

অর্থ: “তাঁরা বলেছেন, যখন সাওদা বৃদ্ধ হলেন, তখন নবী ﷺ তাঁকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। তখন তিনি তাঁর দিনটি আয়িশাকে দিয়ে দেন।[3]রেফারেন্স: তাহযীবুত তাহযীব, ১৫/১০৩১, প্রকাশনায়: জাম‘ইয়্যাতু দারিল বির – আল-ইমারাতুল ‘আরাবিয়্যাতুল মুত্তাহিদাহ, দুবাই।

(تَهْذِيبُ التَّهْذِيبِ، ١٥ / ١٠٣١، النَّاشِرُ: جَمْعِيَّةُ دَارِ الْبِرِّ – الْإِمَارَاتُ الْعَرَبِيَّةُ الْمُتَّحِدَةُ، دُبَيّ)

​অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/1278/12976

তাহকীক:

কিন্তু লক্ষ্য করুন, ইবনু হাজর বলেছেন:

قَالُوا —
অর্থ- “তাঁরা বলেছেন”

অর্থাৎ তিনি এই বক্তব্যটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। অতএব, এই নির্দিষ্ট বর্ণনাটি স্বতন্ত্রভাবে শক্তিশালী দলিল হিসেবে গ্রহনযোগ্য নয়।

৪. ইবনু আবদুল বার — আল-ইস্তি‘আব-এর বক্তব্য:

وَأَسَنَّتْ عِنْدَ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَهَمَّ بِطَلَاقِهَا، فَقَالَتْ لَهُ: لَا تُطَلِّقْنِي وَأَنْتَ فِي حِلٍّ مِنْ شَأْنِي؛ فَإِنَّمَا أُرِيدُ أَنْ أُحْشَرَ فِي أَزْوَاجِكَ، وَإِنِّي قَدْ وَهَبْتُ يَوْمِي لِعَائِشَةَ، وَإِنِّي لَا أُرِيدُ مَا يُرِيدُ النِّسَاءُ، فَأَمْسَكَهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ حَتَّى تُوُفِّيَ عَنْهَا

অনুবাদ:

সাওদা (রা.) রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে থাকতে থাকতে বৃদ্ধ হয়ে গেলেন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। সাওদা (রা.) তাঁকে বললেন, ‘আপনি আমাকে তালাক দেবেন না; আমার ব্যাপারে আপনি স্বাধীন। আমি তো শুধু চাই যে, আপনার স্ত্রীদের সঙ্গে আমাকেও যেন কিয়ামতের দিন হাশর করা হয়। আর আমি আমার পালার দিনটি আয়িশা (রা.)-কে দিয়ে দিলাম। আমি নারীরা যা কামনা করে, তা কামনা করি না।’ এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে নিজের কাছে রেখে দিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে থাকলেন।[4]রেফারেন্স: আল-ইস্তী‘আব ফী মা‘রিফাতিল আসহাব, ৮/২৫০, তাহকীক: ড. ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী, মারকাজু হাজার লিলবুহূছি والدَّرَاسَاتِ الْإِسْلَامِيَّةِ, মিসর।

(الِاسْتِيعَابُ فِي مَعْرِفَةِ الْأَصْحَابِ، ٨ / ٢٥٠، تَحْقِيقُ: د. عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُحْسِنِ التُّرْكِيِّ، مَرْكَزُ هَجَرٍ لِلْبُحُوثِ وَالدِّرَاسَاتِ الْإِسْلَامِيَّةِ – مِصْرُ)

​অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/1499/4300

তাহকীক:

ইবনু আবদিল বার (রহ.) এই বক্তব্যটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। অতএব, এই নির্দিষ্ট বর্ণনাটি স্বতন্ত্রভাবে শক্তিশালী দলিল হিসেবে গ্রহনযোগ্য নয়।

এগুলো হলো সাধারণ কিছু বক্তব্য যা বিভিন্ন ওলামাগণ অন্যান্য সনদ বা রেওয়ায়েতের উপর ভিত্তি করে দিয়েছে। আমরাদের মুল আলোচনা হলো সেসব বর্ণনার অথেন্টিসিটি নিয়ে। সেগুলো যদি গ্রহনযোগ্য সুত্রে বর্ণিত না হয়ে থাকে তাহলে ওলামাগণের এই বক্তব্যগুলো প্রমাণ বা দলিল হিসেবে ব্যবহারের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে না।

২. ইবনু আবি মুলাইকার বর্ণনা

قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ: إِنَّ سَوْدَةَ بِنْتَ زَمْعَةَ لَمَّا أَسَنَّتْ أَرَادَ النَّبِيُّ ﷺ أَنْ يُطَلِّقَهَا، فَآثَرَتِ الْكَوْنَ مَعَهُ، فَقَالَتْ لَهُ: أَمْسِكْنِي وَاجْعَلْ يَوْمِي لِعَائِشَةَ؛ فَفَعَلَ ﷺ، وَمَاتَتْ وَهِيَ مِنْ أَزْوَاجِهِ.

অনুবাদ: ইবনু আবি মুলাইকা বলেন: সাওদা বিনতে যাম‘আ (রা.) যখন বৃদ্ধ হয়ে গেলেন, তখন নবী ﷺ তাঁকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করলেন। তখন তিনি তাঁর সঙ্গে থেকে যাওয়াকেই পছন্দ করলেন। তিনি তাঁকে বললেন, ‘আমাকে রেখে দিন এবং আমার দিনটি আয়িশার জন্য দিয়ে দিন।’ অতঃপর তিনি ﷺ তা-ই করলেন। আর সাওদা (রা.) তাঁর স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেন।” [5]রেফারেন্স:

আল-জামি‘ লি-আহকামিল কুরআন (তাফসীরে কুরতুবী), ৫/৪০৪, সূরা আন-নিসা: ১২৮, তাহকীক: আহমাদ আল-বারদূনী ও ইবরাহীম এতফায়্যিশ, দারুল কুতুবিল মিছরিয়্যাহ, কায়রো, মিসর।
(الْجَامِعُ لِأَحْكَامِ الْقُرْآنِ، ٥ / ٤٠٤، سُورَةُ النِّسَاءِ: ١٢٨، تَحْقِيقُ: أَحْمَدَ الْبَرْدُونِي وَإِبْرَاهِيمَ أَطَفَّيِّش، دَارُ الْكُتُبِ الْمِصْرِيَّةِ – الْقَاهِرَةُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/20855/2074

তাহকীক:

ইবন আবি মুলাইকা ( রহ) একজন তাবিঈ। তিনি রাসূল ﷺ-এর যুগে জন্মগ্রহণ করেননি, তিনি উক্ত ঘটনা নিজ চোখে দেখে বর্ণনা করেন নি। যার কারনে এখানে ইরসাল বা সাহাবী অনুপস্থিত থাকার সমস্যা বিদ্যমান। তবে এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সমস্যাটি রয়েছে তা হলো কুরতুবী (রহ) ইবনু আবি মুলাইকা (রহ.)-এর এই বক্তব্যটি কোনো সনদ ছাড়াই উল্লেখ করেছেন। অতএব, এই নির্দিষ্ট বর্ণনাটি সনদবিহীন হওয়ায় স্বতন্ত্রভাবে সহিহ রেওয়ায়েত হিসেবে প্রমাণিত নয়।

৩. নু‘মান ইবনু সাবিত আত-তাইমী (রহ.)-এর সূত্র

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ: حَدَّثَنِي حَاتِمُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنِ النُّعْمَانِ بْنِ ثَابِتٍ التَّيْمِيِّ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِسَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ: «اعْتَدِّي»، فَقَعَدَتْ لَهُ عَلَى طَرِيقِهِ لَيْلَةً، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، مَا بِي حُبُّ الرِّجَالِ، وَلَكِنِّي أُحِبُّ أَنْ أُبْعَثَ فِي أَزْوَاجِكَ، فَارْجِعْنِي، قَالَ: فَرَجَعَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ.

অনুবাদ:

“মুহাম্মদ ইবনু উমার আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হাতিম ইবনু ইসমাঈল আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি নু‘মান ইবনু সাবিত আত-তাইমী থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:

রাসুলুল্লাহ ﷺ সাওদা বিনতে যাম‘আ (রা.)-কে বললেন, ‘ইদ্দত পালন করো।’

এরপর এক রাতে সাওদা তাঁর যাওয়ার পথে বসে তাঁর অপেক্ষা করতে লাগলেন। তিনি বললেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! পুরুষদের প্রতি আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। কিন্তু আমি চাই, আপনার স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত অবস্থায় যেন আমাকে পুনরুত্থিত করা হয়। সুতরাং আমাকে ফিরিয়ে নিন।’

তিনি বলেন, অতঃপর রাসুলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ফিরিয়ে নিলেন।” [6]রেফারেন্স:

আত-তাবাক্বাতুল কু্বরা, ৮/৫৩-৫৪, ভূমিকা: ইহসান ‘আব্বাস, দার সাদির, বৈরুত, লেবানন।
(الطَّبَقَاتُ الْكُبْرَى، ٨ / ٥٣-٥٤، قَدَّمَ لَهَا: إِحْسَان عَبَّاس، دَارُ صَادِرٍ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/9351/3431

তাহকীক:

তাহকীক: রেওয়ায়েতটি মুরসাল বা জয়ীফ। এতে একাধিক ত্রুটি বিদ্যমান।

প্রথমত নু‘মান ইবনু সাবিত আত-তাইমী সরাসরি রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁর ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মাঝে কোনো সাহাবির নাম উল্লেখ করা হয়নি।

এছাড়া সনদের প্রথম দিকে থাকা মুহাম্মদ ইবনু উমার আল-ওয়াকিদী (مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ الْوَاقِدِيُّ)-ও হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল রাবি।

ইমাম বুখারী তাঁর সম্পর্কে مَتْرُوكُ الْحَدِيثِ বলেছেন—এর অর্থ, “তাঁর হাদিস পরিত্যক্ত; তাঁর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।” আর ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন বলেছেন ضَعِيفٌ—অর্থাৎ “তিনি দুর্বল” এবং لَيْسَ بِثِقَةٍ—অর্থাৎ “তিনি নির্ভরযোগ্য নন।” [7]রেফারেন্স:

তাহযীবুত তাহযীব, ৩/৬৫৭, তাহকীক: ইবরাহীম যাইবাক ও ‘আদিল মুরশিদ, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত।
(تَهْذِيبُ التَّهْذِيبِ، ٣ / ٦٥٧، بِاعْتِنَاءِ: إِبْرَاهِيمَ الزَّيْبَقِ، عَادِلَ مُرْشِدٍ، مُؤَسَّسَةُ الرِّسَالَةِ – بَيْرُوتُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1293/1987

৪. হিশাম আদ-দাস্তুয়ায়ী, কাসিম ইবনু আবি বাযযাহ-এর সূত্র

أَخْبَرَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ الدَّسْتُوَائِيُّ، حَدَّثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ أَبِي بَزَّةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ بَعَثَ إِلَى سَوْدَةَ بِطَلَاقِهَا، فَلَمَّا أَتَاهَا جَلَسَتْ عَلَى طَرِيقِهِ بَيْتَ عَائِشَةَ، فَلَمَّا رَأَتْهُ قَالَتْ: أَنْشُدُكَ بِالَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ كِتَابَهُ، وَاصْطَفَاكَ عَلَى خَلْقِهِ، لِمَ طَلَّقْتَنِي؟ أَلِمَوْجِدَةٍ وَجَدْتَهَا فِيَّ؟ قَالَ: «لَا». قَالَتْ: فَإِنِّي أَنْشُدُكَ بِمِثْلِ الْأُولَى لَمَا رَاجَعْتَنِي، وَقَدْ كَبِرْتُ، وَلَا حَاجَةَ لِي فِي الرِّجَالِ، وَلَكِنِّي أُحِبُّ أَنْ أُبْعَثَ فِي نِسَائِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَرَاجَعَهَا النَّبِيُّ ﷺ، قَالَتْ: فَإِنِّي قَدْ جَعَلْتُ يَوْمِي وَلَيْلَتِي لِعَائِشَةَ.

অনুবাদ:

“মুসলিম ইবনু ইবরাহিম আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হিশাম আদ-দাস্তুয়ায়ী আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কাসিম ইবনু আবি বাযযাহ বর্ণনা করেছেন যে,

নবী ﷺ সাওদা (রা.)-এর কাছে তাঁর তালাকের সংবাদ পাঠালেন।

তাঁর কাছে সেই সংবাদ পৌঁছালে তিনি আয়িশা (রা.)-এর ঘরের কাছে নবী ﷺ-এর চলার পথে বসে থাকলেন। তাঁকে দেখে তিনি বললেন, ‘যিনি আপনার ওপর তাঁর কিতাব নাজিল করেছেন এবং আপনাকে তাঁর সৃষ্টির ওপর মনোনীত করেছেন, তাঁর কসম! আপনি আমাকে কেন তালাক দিলেন? আমার মধ্যে এমন কোনো বিষয় কি আপনি পেয়েছেন, যার কারণে আপনি আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন?’

তিনি বললেন, ‘না।’
সাওদা (রা.) বললেন, ‘তাহলে আমি আপনাকে আগের মতোই অনুরোধ করছি—আপনি যেন আমাকে ফিরিয়ে নেন। আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি এবং পুরুষদের প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমি চাই, কিয়ামতের দিন আপনার স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হতে।’

অতঃপর নবী ﷺ তাঁকে ফিরিয়ে নিলেন। সাওদা (রা.) বললেন, ‘তাহলে আমি আমার দিন ও রাত আয়িশার জন্য দিয়ে দিলাম।’” [8]রেফারেন্স:

আত-তাবাক্বাতুল কু্বরা, ৮/৫৪, ভূমিকা: ইহসান ‘আব্বাস, দার সাদির, বৈরুত, লেবানন।
(الطَّبَقَاتُ الْكُبْرَى، ٨ / ٥٤، قَدَّمَ لَهَا: إِحْسَان عَبَّاس، دَارُ صَادِرٍ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/9351/3432

তাহকীক:

এটিও মুরসাল বা জয়ীফ। কারণ এই সনদে কাসিম ইবনু আবি বাযযাহ আর নবী ﷺ এর মাঝখানে কোনো সাহাবি নেই।

হাফিজ ইবনু হাজর (রহি.) বলেন:

وَأَخْرَجَ ابْنُ سَعْدٍ بِسَنَدٍ رِجَالُهُ ثِقَاتٌ مِنْ رِوَايَةِ الْقَاسِمِ ابْنِ أَبِي بَزَّةَ مُرْسَلًا: أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ طَلَّقَهَا…

অর্থ: “ইবনু সা‘দ নির্ভরযোগ্য রাবিদের সনদে কাসিম ইবনু আবি বাযযাহ-এর সূত্রে এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন: নবী ﷺ তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন…।” [9]রেফারেন্স:

ফাতহুল বারী বিশারহি সহীহিল বুখারী, ৯/৩১৩, হাদিস: ৫২১৩, তাখরীজ ও ট্র্যাকিং: মুহাম্মদ ফুয়াদ ‘আব্দুল বাকী, ইখরাজ ও তাসহীহ: মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব, আল-মাকতাবাতুস সালফিয়্যাহ, মিসর।
(فَتْحُ الْبَارِي بِشَرْحِ صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ، ٩ / ٣١٣، رقم الحديث: ٥٢١٣، رَقَّمَ كُتُبَهُ وَأَبْوَابَهُ وَأَحَادِيثَهُ: مُحَمَّد فُؤَاد عَبْد الْبَاقِي، قَامَ بِإِخْرَاجِهِ وَتَصْحِيحِ تَجَارِبِهِ: مُحِبُّ الدِّينِ الْخَطِيبُ، الْمَكْتَبَةُ السَّلَفِيَّةُ – مِصْرُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1673/5402

৫. হাইসাম থেকে আবু হানিফা (রহ.)-এর সূত্র

قَالَ: ثَنَا يُوسُفُ عَنْ أَبِيهِ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنِ الْهَيْثَمِ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ لِسَوْدَةَ ابْنَةِ زَمْعَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا: «اعْتَدِّي»، فَقَعَدَتْ لَهُ فِي الطَّرِيقِ، فَسَأَلَتْهُ بِوَجْهِ اللهِ أَنْ يُرَاجِعَهَا، فَقَالَتْ: وَاللهِ مَا بِي حِرْصٌ عَلَى الرِّجَالِ، وَلَكِنِّي أُحِبُّ أَنْ أُحْشَرَ مَعَ أَزْوَاجِكَ، وَاجْعَلْ يَوْمِي لِعَائِشَةَ، فَفَعَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَلِكَ.

অনুবাদ:

“তিনি বলেন, ইউসুফ আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন; তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন; তাঁর পিতা আবু হানিফা থেকে বর্ণনা করেছেন; আবু হানিফা হাইসাম থেকে বর্ণনা করেছেন; আর হাইসাম রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

রাসুলুল্লাহ ﷺ সাওদা বিনতে যাম‘আহ (রা.)-কে বললেন, “ইদ্দত পালন করো।” এরপর তিনি তাঁর পথে বসে আল্লাহর দোহাই দিয়ে তাঁকে পুনরায় গ্রহণ করার অনুরোধ করলেন। তিনি বললেন, “আল্লাহর কসম! পুরুষদের প্রতি আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। তবে আমি চাই, কিয়ামতের দিন আপনার স্ত্রীদের সঙ্গে পুনরুত্থিত হতে। আর আমার দিনটি আয়িশার জন্য দিয়ে দিন।” অতঃপর রাসুলুল্লাহ ﷺ তা-ই করলেন। [10]রেফারেন্স:

কিতাবুল আসার লি আবি ইউসুফ, পৃষ্ঠা: ১৪৬, হাদিস: ৬৬৭, তাহকীক: আবু আল-ওয়াফা, নাশের: লাজনাতু এহইয়াইল মাআরিফ এন-নোমানিয়্যা (হায়দ্রাবাদ – ডেকান), বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা।
(كِتَابُ الْآثَارِ لِأَبِي يُوسُفَ، ص: ١٤٦، رقم الحديث: ٦٦٧، تَحْقِيقُ: أَبُو الْوَفَاءِ، النَّاشِرُ: لَجْنَةُ إِحْيَاءِ الْمَعَارِفِ النُّعْمَانِيَّةِ بِحَيْدَر آبَاد – الدَّكْنِ، وَصَوَّرَتْهُ دَارُ الْكُتُبِ الْعِلْمِيَّةِ – بَيْرُوتُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/12987/678

তাহকীক:

এটি মুরসাল বা জয়ীফ। কারণ সনদের ধারাবাহিকতা হলো:

এখানে হাইসাম সরাসরি রাসুলুল্লাহ ﷺ থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হাইসাম ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মাঝে কোনো সাহাবির নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাই এটি মুরসাল (مرسل) রেওয়ায়েত।

সনদে আরেকটি সমস্যা হলো ইমাম আবু হানিফা (রহ) এর নামে হাদিস শাস্ত্রে একজন রাবী হিসেবে উনার জারাহ ও তাদিল দুটোই পাওয়া যায়। উনার দুর্বল স্মৃতিশক্তি ও হাদিস বর্ণনা যথেষ্ট ভুল করার কারণে উনার সমসাময়িক বহু মুহাদ্দিস উনাকে যয়িফ বলেছেন।[11]أرشيف ملتقى أهل الحديث – 2, ملتقى أهل الحديث 70/69- 75 https://al-maktaba.org/book/31615/34571

৬. আল-কাসিম থেকে আবু হানিফা (রহ.)- এর সূত্র

حَدَّثَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنُ الصَّوَّافِ، ثَنَا بِشْرُ بْنُ مُوسَى، ثَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لِسَوْدَةَ: «اعْتَدِّي».

অনুবাদ:

আবু আলী ইবনুস সাওয়াফ আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বিশর ইবনু মূসা আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আবু হানিফা আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আল-কাসিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

নবী ﷺ সাওদা (রা.)-কে বললেন: ‘ইদ্দত পালন করো। [12]রেফারেন্স:

মুসনাদ ইমাম আবি হানিফাহ (রিওয়ায়াতু আবি নুআইম), পৃষ্ঠা: ৬৪, তাহকীক: নজর মুহাম্মদ আল-ফারিয়াবি, মাকতাবাতুল কাওসার, রিয়াদ, সৌদি আরব।
(مُسْنَدُ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ رِوَايَةُ أَبِي نُعَيْمٍ، ص: ٦٤، تَحْقِيقُ: نَظَر مُحَمَّد الْفَارْيَابِي، مَكْتَبَةُ الْكَوْثَرِ، الرِّيَاضُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/6721/99

তাহকীক:

এটিও মুরসাল বা জয়ীফ। কারণ আল-কাসিম একজন তাবি’ঈ (আবু হানিফা রহ. বর্ণনা করায় তিনি অনুমান করা হয় এই কাসিম হলেন আল-কাসিম ইবনে আবাদুর রহমান আল-হুদালী রহ., যদিও অনুমান ভুলও হতে পারে), তার আর নবী ﷺ- এর মাঝে সাহাবির নাম নেই। একই সাথে এটি ইমাম আবু হানিফা (রহ) বর্ণনা করেছেন।

৭. জাবির (রা.) থেকে বিলাল আর বিলাল থেকে আবু হানিফা (রহ.)- এর সূত্র

وَحَدَّثَنَا أَبُو عَلِيِّ بْنِ عَلَّانَ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدَةَ النَّيْسَابُورِيُّ، ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، ثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ بِلَالٍ، عَمَّنْ حَدَّثَهُ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِسَوْدَةَ حِينَ طَلَّقَهَا: «اعْتَدِّي».

অনুবাদ:

আলী ইবনু আল্লান আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আহমদ ইবনু মুহাম্মদ ইবনু উবাইদাহ আন-নাইসাবুরী আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আহমদ ইবনু হাফস আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ইবরাহিম ইবনু তাহমান আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি বিলাল থেকে, আর বিলাল এমন একজন ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যিনি তাঁকে এ বিষয়ে বর্ণনা করেছেন—তিনি জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন।
জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রা.) বলেন:

রাসুলুল্লাহ ﷺ সাওদা (রা.)-কে যখন তালাক দিয়েছিলেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: ‘ইদ্দত পালন করো। [13]রেফারেন্স:

মুসনাদুল ইমাম আবি হানিফাহ (রিওয়ায়াতু আবি নুআইম), পৃষ্ঠা: ৬৪, তাহকীক: নজর মুহাম্মদ আল-ফারিয়াবি, মাকতাবাতুল কাওসার, রিয়াদ, সৌদি আরব।
(مُسْنَدُ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ رِوَايَةُ أَبِي نُعَيْمٍ، ص: ٦٤، تَحْقِيقُ: نَظَر مُحَمَّد الْفَارْيَابِي، مَكْتَبَةُ الْكَوْثَرِ، الرِّيَاضُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/6721/99

তাহকীক:

এটি একাধিক কারণে জয়ীফ। কারণ প্রথমত সনদে দেখুন বিলাল ও জাবির (রা.)- এর মাঝে অজ্ঞাতব্যক্তি রয়েছে যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তাই এই সনদটি মুত্তাসিল ও সহীহ সনদ নয়। দ্বিতীয়ত এই সনদে আরো সমস্যা হলো ইমাম আবু হানিফা (রহ) বিলাল থেকে বর্ণনা করেছে, কিন্তু এই বিলাল সম্পর্কে রিজাল শাস্ত্রে জারাহ তাদিল খুঁজে পাওয়া যায় না, যার কারণে এই রাবী মাজহুল বা অপরিচিত হিসেবেই গণ্য হবে।

৮. হিশাম ইবনু উরওয়ার পিতা উরওয়া’র সূত্র

َْأخبرَنا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ وَأَبُو سَعِيدِ بْنُ أَبِي عَمْرٍو، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ، حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ غِيَاثٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ طَلَّقَ سَوْدَةَ، فَلَمَّا خَرَجَ إِلَى الصَّلَاةِ أَمْسَكَتْ بِثَوْبِهِ، فَقَالَتْ: مَا لِي فِي الرِّجَالِ حَاجَةٌ، وَلَكِنِّي أُرِيدُ أَنْ أُحْشَرَ فِي أَزْوَاجِكَ. قَالَ: فَرَجَعَهَا، وَجَعَلَ يَوْمَهَا لِعَائِشَةَ، فَكَانَ يَقْسِمُ لَهَا بِيَوْمِهَا وَيَوْمِ سَوْدَةَ.

অনুবাদ:

আবু আবদিল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু সাঈদ ইবনু আবি আমর—উভয়ে বলেন: আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনু ইয়াকুব আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আহমদ ইবনু আবদিল জাব্বার আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হাফস ইবনু গিয়াস আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া থেকে, তিনি তাঁর পিতা উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

রাসুলুল্লাহ ﷺ সাওদাকে তালাক দিয়েছিলেন।
অতঃপর তিনি যখন নামাজের উদ্দেশ্যে বের হলেন, সাওদা তাঁর কাপড় ধরে বললেন, ‘পুরুষদের প্রতি আমার কোনো প্রয়োজন নেই; কিন্তু আমি চাই, আপনার স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হতে।’ তিনি তাঁকে ফিরিয়ে নিলেন এবং তাঁর দিনটি আয়িশার জন্য নির্ধারণ করলেন। এরপর তিনি আয়িশার জন্য তাঁর নির্ধারিত দিন এবং সাওদার দিন—উভয় দিনের পালা ভাগ করে দিতেন। [14]রেফারেন্স:

আস-সুনানুল কাবীর, ১৩/৫৭৫, হাদিস: ১৩৫৬৫, তাহকীক: ড. ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আবদিল মুহসিন আত-তুর্কী, মারকাজু হাজার লিল-বুহূসি ওয়াদ-দিররাসাতিল ‘আরাবিয়্যাতি ওয়াল-ইসলামিয়্যাহ, কায়রো, মিসর।
(السُّنَنُ الْكَبِيرُ، ١٣ / ٥٧٥، رقم الحديث: ١٣٥٦٥، تَحْقِيقُ: الدَّكْتُورُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْمُحْسِنِ التُّرْكِيُّ، مَرْكَزُ هَجَر لِلْبُحُوثِ وَالدِّرَاسَاتِ الْعَرَبِيَّةِ وَالإِسْلَامِيَّةِ، الْقَاهِرَةُ، مِصْرُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/148486/7727

তাহকীক:

এটি মুরসাল বা জয়ীফ: প্রথম কারণ সনদে তাবেঈ উরওয়া ও রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর মাঝে সাহাবির নাম অনুল্লেখিত।

দ্বিতীয় কারণ ইবনুল মুলাক্কিন বলেন:

وَهَذَا مَعَ إِرْسَالِهِ، فِيهِ أَحْمَدُ الْعَطَارِدِيُّ
“এটি মুরসাল; তাছাড়া এতে আহমদ আল-আতারিদি রয়েছেন।”

তাঁর ব্যাপারে ইবনু আদী বলেন:

رَأَيْتُهُمْ مُجْمِعِينَ عَلَى ضَعْفِهِ
“আমি তাঁদেরকে তাঁর দুর্বলতার ব্যাপারে একমত দেখেছি।”

আর মুতাইন বলেছেন:

كَانَ يَكْذِبُ
“তিনি মিথ্যা বলতেন।” [15]রেফারেন্স:
আল-বদ্রুল মুনীর ফি তাখরীজিল আহাদীছি ওয়াল-আছারিল ওয়াকি’আতি ফি আশ-শারহিল কাবীর, ৮/৪৮, তাহকীক: মুস্তফা আবুল গীত, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সুলাইমান ও ইয়াসির ইবনু কামাল, দারুল হিজরাহ লিন-নাশরি ওয়াত-তাওযী’, রিয়াদ, সৌদি আরব।
(الْبَدْرُ الْمُنِيرُ فِي تَخْرِيجِ الأَحَادِيثِ وَالآثَارِ الْوَاقِعَةِ فِي الشَّرْحِ الْكَبِيرِ، ٨ / ٤٨، تَحْقِيقُ: مُصْطَفَى أَبُو الْغَيْطِ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ سُلَيْمَانَ وَيَاسِرُ بْنُ كَمَالٍ، دَارُ الْهِجْرَةِ لِلنَّشْرِ وَالتَّوْزِيعِ، الرِّيَاضُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/5922/4733

৯. আবু হানিফা, আবু যুবার, জাবির (রা.)-এর সূত্র

খাওয়ারিজমির পাঠ:

أَخْرَجَ طَلْحَةُ بْنُ مُحَمَّدٍ فِي مُسْنَدِهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عُبَيْدٍ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ أَحْمَدَ بْنِ حَفْصٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ طَهْمَانَ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لِسَوْدَةَ حِينَ طَلَّقَهَا: «اعْتَدِّي».

অনুবাদ:

তালহা ইবনু মুহাম্মদ তাঁর মুসনাদ-এ বর্ণনা করেছেন—আলী ইবনু মুহাম্মদ ইবনু উবাইদ থেকে, তিনি আহমদ ইবনু উবাইদুল্লাহ থেকে, তিনি আহমদ ইবনু হাফস থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইবরাহিম ইবনু তাহমান থেকে, তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

নবী ﷺ সাওদা (রা.)-কে যখন তালাক দিলেন, তখন তাঁকে বললেন: ‘ইদ্দত পালন করো।’  [16]রেফারেন্স:

জামেউল মাসানীদ লিল-খাওয়ারিজমী, আল-বাবুর রাবি‘উ ওয়াল-‘ইশরূনা ফিত-ত্বলাক, ২/১৩৮, আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ, সামান্দরী।
(جَامِعُ الْمَسَانِيدِ لِلْخَوَارِزْمِيِّ، الْبَابُ الرَّابِعُ وَالْعِشْرُونَ فِي الطَّلَاقِ، ٢ / ١٣٨، ط. الْمَكْتَبَةُ الإِسْلَامِيَّةُ سَمَنْدَرِي)
​অনলাইনে চেক করুন (জামে’উল কুতুবিল ইসলামিয়্যাহ থেকে):
https://ketabonline.com/ar/books/20926/read?page=695&part=2#p-20926-695-3

তাহকীক:

এটি জয়ীফ, এতেও একাধিক ত্রুটি পাওয়া যায়।

প্রথমত আবু হানিফা (রহ) বর্ণনা করেছেন, তারপর আবু যুবায়ের একজন বিখ্যাত মুদাল্লিস রাবী হিসেবে পরিচিত, মুদাল্লিস রাবীগণ আন শব্দে হাদিস বর্ণনা করেন নিজের শিক্ষকের নাম গোপন রাখার জন্য, এখানেও তিনি জাবির (রা) হতে আন শব্দে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে আবু যুবাইর জাবির (রা)-এর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বহু জায়গায় তাঁর জাবির থেকে سماع স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। কিন্তু এই নির্দিষ্ট সনদে سماع-এর শব্দ নেই। বরং عن-দিয়ে বর্ণনা করায় এটিকেও মুদাল্লাস হাদিস হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। আর এমন হাদিস যয়িফ হিসেবেই গণ্য হয়ে থাকে।[17]أبو الزبير محمد بن مسلم بن تدرس المكي – https://shamela.ws/narrator/5914

দ্বিতীয়ত খাওয়ারিজমির পাঠ অনুযায়ী মূল রুট: এই সনদের أحمد بن عبيد الله (আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ)-এর নির্দিষ্ট পরিচয় শনাক্ত করা যায়না। কারণ এটি রাবির সংক্ষিপ্ত নাম। সনদের এই স্থানে তাঁর পূর্ণ নাম, কুনিয়া বা নিসবা উল্লেখ করা হয়নি।

তবে সাবধান! একই নামে বা কাছাকাছি নামে একাধিক ব্যক্তি রিজালগ্রন্থে পাওয়া যায়; তাই শুধু নামের মিলের ভিত্তিতে এই রাবিকে অন্য কোনো “আহমদ বিন উবাইদুল্লাহ” -এর সঙ্গে একীভূত করা যাবে না। একই নামে বিভিন্ন ব্যক্তির পরিচয় নির্ধারণে তাঁদের শায়খ, ছাত্র, সময়কাল, স্থান ও সংশ্লিষ্ট সনদ মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন হয়।

এই কারণে সনদটি পরিচয়গতভাবে অসম্পূর্ণ/অপ্রতিষ্ঠিত, রাবীর পরিচিতি ও তাওসিক নিশ্চিত না এবং তাই এককভাবে সহিহ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

১০. আবু হানিফা, হাম্মাদ, ইবরাহিম, আসওয়াদ, আয়িশা (রাঃ)-এর সূত্র

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ زِيَادٌ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا سَلْمُ بْنُ سَالِمٍ، عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الْأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ رضي الله عنها: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ لِسَوْدَةَ حِينَ طَلَّقَهَا: «اعْتَدِّي».

অনুবাদ:

মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম জিয়াদ আর-রাযী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আমর ইবনে হুমাইদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, সালম ইবনে সালিম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু হানিফা থেকে, তিনি হাম্মাদ থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে, তিনি আল-আসওয়াদ থেকে এবং তিনি হযরত আয়েশা (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন সাওদা (রা)-কে তালাক দেন, তখন তাঁকে বলেছিলেন: “তুমি ইদ্দত পালন করো।” [18]রেফারেন্স:

মুসনাদু আবি হানিফাহ লিল-হারিছী, ২/৫৩১, হাদিস: ৮৪৯, আল-মাকতাবাতুল ইমদাদিয়্যাহ, মাক্কাতুল মুকাররমাহ।
(مُسْنَدُ أَبِي حَنِيفَةَ لِلْحَارِثِيِّ، ٢ / ٥٣١، رقم الحديث: ٨٤٩، ط. الْمَكْتَبَةُ الإِمْدَادِيَّةُ بِمَكَّةَ الْمُكَرَّمَةِ)
​অনলাইনে চেক করুন (জামে’উল কুতুবিল ইসলামিয়্যাহ থেকে):
https://ketabonline.com/ar/books/25916/read?page=850&part=2#p-25916-850-1

তাহকীক:

Read More...  পশুর সাথে অপকর্মে পশুকে কেন হত্যা করা হবে?

এই সনদটি অত্যন্ত দুর্বল। কারণ সনদের প্রথম রাবি “মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহিম ইবনু যিয়াদ আত-তাইয়ালিসি আর-রাযী সম্পর্কে ইমাম যাহাবী লিখেছেন:

ضَعَّفَهُ أَبُو أَحْمَدَ الْحَاكِمُ،
আবু আহমাদ আল-হাকিম তাকে দুর্বল বলেছেন।

وَقَالَ الدَّارَقُطْنِيُّ: مَتْرُوكٌ
আর দারাকুতনী বলেছেন: মাতরূক/পরিত্যক্ত রাবি। [19]রেফারেন্স:
মিযানুল ই’তিদাল ফি নাকদির রিজাল, ৩/৪৪৮, তরজমা: ৭১১০ (মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম ইবনি যিয়াদ আত-তয়ালিসী আর-রাযী), তাহকীক: ‘আলী মুহাম্মদ আল-বিজাবী, দারুল মা‘রিফাহ লিত্তিবা‘আতি ওয়ান-নাশরি, বৈরুত, লেবানন।
(مِيزَانُ الإِعْتِدَالِ فِي نَقْدِ الرِّجَالِ، ٣ / ٤٤٨، ترجمة: ٧١١٠ [محمد بن إبراهيم بن زياد الطيالسي الرازي]، تَحْقِيقُ: عَلِي مُحَمَّد الْبِجَاوِي، دَارُ الْمَعْرِفَةِ لِلطِّبَاعَةِ وَالنَّشْرِ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1692/1799

দ্বিতীয় রাবি عَمْرُو بْنُ حُمَيْدٍ(আম্‌রু ইবনু হুমাইদ)-এর ব্যাপারেও যাহাবী তাঁকে অত্যন্ত কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে হাদিস জাল করার অভিযোগের কথা উল্লেখ করেছেন। ইমাম যাহাবী তার সম্পর্কে লিখেছেন:

هَالِكٌ، أَتَى بِخَبَرٍ مَوْضُوعٍ، اتُّهِمَ بِهِ. وَقَدْ ذَكَرَهُ السُّلَيْمَانِيُّ فِي عِدَادِ مَنْ يَضَعُ الْحَدِيثَ.
অর্থ: “সে অত্যন্ত দুর্বল। সে একটি জাল হাদিস বর্ণনা করেছে, যার কারণে তার বিরুদ্ধে [হাদিস জাল করার] অভিযোগ করা হয়েছে। সুলাইমানী তাকে হাদিস জালকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। [20]রেফারেন্স: মিযানুল ই’তিদাল ফি নাকদির রিজাল, ৩/২৫৬, তরজমা: ৬৩৫৬ (‘আম্‌রু ইবনু হুমাইদ), তাহকীক: ‘আলী মুহাম্মদ আল-বিজাবী, দারুল মা‘রিফাহ লিত্তিবা‘আতি ওয়ান-নাশরি, বৈরুত, লেবানন।

(مِيزَانُ الإِعْتِدَالِ فِي نَقْدِ الرِّجَالِ، ٣ / ٢٥٦، ترجمة: ٦٣٥٦ [عمرو بن حميد]، تَحْقِيقُ: عَلِي مُحَمَّد الْبِجَاوِي، دَارُ الْمَعْرِفَةِ لِلطِّبَاعَةِ وَالنَّشْرِ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1692/1607

তৃতীয় রাবি سَلْمُ بْنُ سَالِمٍ الْبَلْخِيُّ (সালম ইবনু সালম আল-বালখী)-কেও বহু মুহাদ্দিস দুর্বল, অনির্ভরযোগ্য এবং মুনকার হাদিসের রাবি বলেছেন। ইবন হিব্বান লিখেছেন:

مُنْكَرُ الْحَدِيثِ، يَقْلِبُ الْأَخْبَارَ قَلْبًا، وَكَانَ مُرْجِئًا شَدِيدَ الْإِرْجَاءِ دَاعِيَةً إِلَيْهَا، كَانَ ابْنُ الْمُبَارَكِ يُكَذِّبُهُ.

অর্থ: “সে মুনকারুল-হাদিস; সে বর্ণনাগুলো উল্টে-পাল্টে দিত। সে চরম মুরজিয়া মতের অনুসারী এবং এর দিকে আহ্বানকারী ছিল। ইবনুল মুবারক তাকে মিথ্যাবাদী বলতেন।”

এরপর ইয়াহইয়া ইবনু মাঈনের বক্তব্যও উল্লেখ করেছেন:

سَلْمُ بْنُ سَالِمٍ الْبَلْخِيُّ لَيْسَ حَدِيثُهُ بِشَيْءٍ
অর্থ: “সালম ইবন সালিম আল-বালখীর হাদিসের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।” [21]রেফারেন্স:

আল-মাজরূহীন মিনাল মুহাদ্দিছীন, ১/৪৩৭, তরজমা: ৪৩৪ (সালম ইবনু সালম আল-বালখী), তাহকীক: হামদী ‘আবদুল মাজীদ আস-সালাফী, দারুস সামী‘ঈ লিন-নাশরি ওয়াত-তাওযী‘, রিয়াদ, সৌদি আরব।
(الْمَجْرُوحِينَ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ، ١ / ٤٣٧، ترجمة: ٤٣٤ [سلم بن سالم البلخي]، تَحْقِيقُ: حَمْدِي عَبْدِ الْمَجِيدِ السَّلَفِيِّ، دَارُ الصَّمِيعِيِّ لِلنَّشْرِ وَالتَّوْزِيعِ، الرِّيَاضُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/151099/409

১১. আবু হুরাইরা (রা.)-এর সূত্র

أَخْبَرَنَا أَبُو عَبْدِ اللَّهِ الْحَافِظُ وَأَبُو بَكْرِ بْنُ الْحَسَنِ الْقَاضِي، قَالَا: حَدَّثَنَا أَبُو الْعَبَّاسِ مُحَمَّدُ بْنُ يَعْقُوبَ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْفَرَجِ أَبُو عُتْبَةَ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنْ أَبِي الْهَيْثَمِ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ لِسَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: «اعْتَدِي». فَجَعَلَهَا تَطْلِيقَةً وَاحِدَةً، وَهُوَ أَمْلَكُ بِهَا.

অনুবাদ:

আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ এবং আবু বকর ইবনুল হাসান আল-কাদি—উভয়ে বলেন: আবু আল-আব্বাস মুহাম্মদ ইবনু ইয়াকুব আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আহমদ ইবনুল ফারাজ, আবু উতবা, আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বাকিয়্যাহ আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি আবু আল-হাইসাম থেকে, তিনি যুহরি থেকে, তিনি আবু সালামা থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে,

রাসুলুল্লাহ ﷺ সাওদা বিনতে যাম‘আ (রা.)-কে বললেন: ‘ইদ্দত পালন করো।’ অতঃপর তিনি এটিকে এক তালাক হিসেবে গণ্য করলেন, আর তিনি তাঁর ওপর অধিকতর অধিকারী ছিলেন। [22]রেফারেন্স:

আস-সুনানুল কাবীর, ১৫/২৭১, হাদিস: ১৫১১১, তাহকীক: ড. ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আবদিল মুহসিন আত-তুর্কী, মারকাজু হাজার লিল-বুহূসি ওয়াদ-দিররাসাতিল ‘আরাবিয়্যাতি ওয়াল-ইসলামিয়্যাহ, কায়রো, মিসর।
(السُّنَنُ الْكَبِيرُ، ١٥ / ٢٧١، رقم الحديث: ١٥١١١، تَحْقِيقُ: الدَّكْتُورُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْمُحْسِنِ التُّرْكِيُّ، مَرْكَزُ هَجَر لِلْبُحُوثِ وَالدِّرَاسَاتِ الْعَرَبِيَّةِ وَالإِسْلَامِيَّةِ، الْقَاهِرَةُ، مِصْرُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/148486/8578

তাহকীক:

সনদটি অতিরিক্ত দুর্বল। কারণ সনদের أَبُو الْهَيْثَمِ সম্পর্কে ইবনু হাজর লিসানুল মীযান-এ স্পষ্টভাবে লিখেছেন:

أَبُو الْهَيْثَمِ عَنِ الزُّهْرِيِّ وَعَنْهُ بَقِيَّةٌ، لَا يُعْرَفُ

অর্থ: “আবু হাইসাম—যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে বকিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন—তিনি পরিচিত নন/অজ্ঞাত।” [23]রেফারেন্স:

লিসানুল মিযান, ৭/১১৯, তাহকীক: دائرة المعارف النظامية (হায়দ্রাবাদ, ভারত), মুয়াসসাসাতুল আ’লামী লিল-মাতবূ‘আত, বৈরুত, লেবানন।
(لِسَانُ الْمِيزَانِ، ٧ / ١١٩، تَحْقِيقُ: دَائِرَةُ الْمَعَارِفِ النِّظَامِيَّةِ – الْهِنْدِ، مُؤَسَّسَةُ الْأَعْلَمِيِّ لِلْمَطْبُوعَاتِ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/12063/3416

এছাড়াও সনদে বাকিয়্যাহ ইবনুল ওয়ালিদ রয়েছেন। তিনি তাদলিসের জন্য পরিচিত। ইবনু হাজর তাকরীবুত তাহযীব-এ তাঁকে বলেছেন:

صَدُوقٌ كَثِيرُ التَّدْلِيسِ عَنِ الضُّعَفَاءِ

অর্থ: “তিনি গ্রহণযোগ্য রাবি; তবে দুর্বল রাবিদের থেকে প্রচুর তাদলিস করতেন।” [24]রেফারেন্স:

তাকরী্বুত তাহযীব, পৃষ্ঠা: ১২৭, তরজমা: ৭৩৪ (বাশীর ইবনু মিহরান আল-কুফী), তাহকীক: মুহাম্মদ ‘আওয়ামাহ, দারুর রশীদ, সিরিয়া।
(تَقْرِيبُ التَّهْذِيبِ، ص: ١٢٧، ترجمة: ٧٣٤ [بشير بن مهران الكوفي]، تَحْقِيقُ: مُحَمَّد عَوَّامَة، دَارُ الرَّشِيدِ – سُورِيَا)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/8609/52#p1

এখানে বাকিয়্যাহ অজ্ঞাত রাবি আবু হাইসাম থেকে عن (আন) পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন। ফলে তাঁর সরাসরি শ্রবণ নিশ্চিত নয়। সুতরাং আবু হাইসামের অজ্ঞাত পরিচয় এবং বাকিয়্যাহর তাদলিস—উভয় দিক থেকেই সনদে দুর্বলতার কারণ রয়েছে। আবার একই সাথে
আহমাদ ইবনুল ফারাজ ইবন সুলায়মান একজন বিতর্কিত রাবী, তাকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস যয়িফ বলেছেন, কেউ কেউতো মিথ্যাবাদি হওয়ার অভিযোগও করেছেন।[25]أحمد بن الفرج بن سليمان – https://shamela.ws/narrator/11681 তাই এই সনদকে এককভাবে সহিহ বলা নিরাপদ নয়।

১২. আবদুর রহমান ইবনু সাবিত- এর সূত্র

عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنِ الثَّوْرِيِّ، عَنْ جَابِرٍ الْجُعْفِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ قَالَ: أَرَادَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِرَاقَ سَوْدَةَ، فَدَعَا أَبَا بَكْرٍ وَعُمَرَ لِيُشْهِدَهُمَا عَلَى طَلَاقِهَا، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا بِي رَغْبَةٌ فِي الدُّنْيَا إِلَّا لِأُحْشَرَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِي أَزْوَاجِكَ، فَيَكُونُ لِي مِنَ الثَّوَابِ مَا لَهُنَّ.

অনুবাদ:

আবদুর রাজ্জাক, সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি জাবির আল-জু‘ফী থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনু সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:

‘নবী ﷺ সাওদা (রা.)-এর সঙ্গে বিচ্ছেদ করার ইচ্ছা করলেন। অতঃপর তিনি আবু বকর ও উমর (রা.)-কে ডেকে পাঠালেন, যেন তাঁরা সাওদাকে তালাক দেওয়ার বিষয়ে সাক্ষী থাকেন। তখন সাওদা (রা.) বললেন: “হে আল্লাহর রাসুল! দুনিয়ার প্রতি আমার কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই; তবে আমি চাই, কিয়ামতের দিন আপনার স্ত্রীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পুনরুত্থিত হতে, যাতে তাঁদের যে সওয়াব হবে, আমারও সেই সওয়াব হয়। [26]রেফারেন্স:

আল-মু’জামুল কাবীর, ২৪/৩৩, হাদিস: ৮৩, তাহকীক: হামদী বিন আবদিল মাজীদ আস-সালাফী, মাকতাবাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ, কায়রো, মিসর।
(الْمُعْجَمُ الْكَبِيرُ، ٢٤ / ٣٣، رقم الحديث: ٨٣، تَحْقِيقُ: حَمْدِي بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ السَّلَفِيِّ، مَكْتَبَةُ ابْنِ تَيْمِيَّةَ، الْقَاهِرَةُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1733/24779#p1 আল-মুসান্নাফ, ৬/৩০০, হাদিস: ১১৫০৪, তাহকীক: মারকাজুল বুহূছি ওয়াতাকনিয়াতিল মা‘লূমাত, দারুত্তাসীল।

(الْمُصَنَّفُ، ٦ / ٣٠٠، رقم الحديث: ١١٥٠٤، تَحْقِيقُ: مَرْكَزُ الْبُحُوثِ وَتَقْنِيَةِ الْمَعْلُومَاتِ – دَارُ التَّأْصِيلِ، دَارُ التَّأْصِيلِ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/84/3027

তাহকীক:

এটি মুরসাল বা জয়ীফ। কারণ আবদুর রহমান ইবনু সাবিত সরাসরি নবী ﷺ-এর ঘটনা বর্ণনা করেছেন; তাঁর ও নবী ﷺ-এর মাঝে কোনো সাহাবির নাম নেই।

আর সনদে জাবির আল-জু‘ফি রয়েছেন। হাইসামি এই বর্ণনা সম্পর্কে বলেছেন:

رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ مُرْسَلًا، وَفِيهِ جَابِرٌ الْجُعْفِيُّ، وَهُوَ ضَعِيفٌ
অর্থ: “তাবরানি এটি মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এতে জাবির আল-জু‘ফি রয়েছেন, যিনি দুর্বল।” [27]রেফারেন্স:
মাজমা’উয-যাওয়াইদি ওয়ামানবা’উল ফাওয়াইদ, ৯/২৪৭, হাদিস: ১৫৩৪২, তাহকীক: হুসামুদ্দীন আল-কুদসী, মাকতাবাতুল কুদসী, কায়রো, মিসর।
(مَجْمَعُ الزَّوَائِدِ وَمَنْبَعُ الْفَوَائِدِ، ٩ / ٢٤٧، رقم الحديث: ١٥٣٤٢، تَحْقِيقُ: حُسَامُ الدِّينِ الْقُدْسِيُّ، مَكْتَبَةُ الْقُدْسِيِّ، الْقَاهِرَةُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/61/2889#p1

১৩. মা‘মারের সূত্র

عَنْ مَعْمَرٍ قَالَ: بَلَغَنِي
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ أَرَادَ فِرَاقَ سَوْدَةَ فَكَلَّمَتْهُ فِي ذَلِكَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، مَا بِي حِرْصُ الْأَزْوَاجِ، وَلَكِنْ أُحِبُّ أَنْ يَبْعَثَنِي اللهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ زَوْجًا لَكَ.

অনুবাদ:

মা‘মার বলেন: আমার কাছে এই সংবাদ পৌঁছেছে যে, নবী ﷺ সাওদা (রা.)-এর সঙ্গে বিচ্ছেদ করার ইচ্ছা করেছিলেন। তখন সাওদা (রা.) এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বললেন এবং বললেন: ‘হে আল্লাহর রাসুল! স্ত্রীদের মতো সংসার-দাম্পত্যের প্রতি আমার কোনো আগ্রহ নেই; তবে আমি চাই, আল্লাহ যেন কিয়ামতের দিন আমাকে আপনার স্ত্রী হিসেবে পুনরুত্থিত করেন।[28]রেফারেন্স: আল-মুসান্নাফ, ৬/২৩৯, হাদিস: ১০৬৫৮, তাহকীক: হাবীবুর রহমান আল-আ’যামী, আল-মাজলিসুল ‘ইলমী, ভারত (পরিবেশনায়: আল-মাকতাবুল ইসলামী, বৈরুত)।

(الْمُصَنَّفُ، ٦ / ٢٣٩، رقم الحديث: ١٠٦٥٨، تَحْقِيقُ: حَبِيبُ الرَّحْمَنِ الْأَعْظَمِيُّ، الْمَجْلِسُ الْعِلْمِيُّ – الْهِنْدُ، تَوَزِيعُ الْمَكْتَبِ الْإِسْلَامِيِّ – بَيْرُوتُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/13174/11565

তাহকীক:

এটি জয়ীফ। কারণ এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দ হলো:

بَلَغَنِي
অর্থ: “আমার কাছে পৌঁছেছে।”

মা‘মার তাঁর সূত্রের নাম বলেননি। সুতরাং এটি মু‘আল্লাক/বালাগ ধরনের মুরসাল সংবাদ, এখানে একাধিক রাবী অনুপস্থিত, অর্থাৎ এটি পূর্ণ সংযুক্ত সনদ নয়।

১৪. তাবারির তাফসিরে আস-সুদ্দির বক্তব্য

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْحُسَيْنِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالَ: حَدَّثَنَا أَسْبَاطٌ، عَنِ السُّدِّيِّ:
﴿وَأُحْضِرَتِ الْأَنْفُسُ الشُّحَّ﴾، قَالَ: تَطَّلِعُ نَفْسُهَا إِلَى زَوْجِهَا وَإِلَى نَفَقَتِهِ. قَالَ: وَزَعَمَ أَنَّهَا نَزَلَتْ فِي رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَفِي سَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ: كَانَتْ قَدْ كَبُرَتْ، فَأَرَادَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ يُطَلِّقَهَا، فَاصْطَلَحَا عَلَى أَنْ يُمْسِكَهَا، وَيَجْعَلَ يَوْمَهَا لِعَائِشَةَ، فَشَحَّتْ بِمَكَانِهَا مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অনুবাদ:

“মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আহমদ ইবনুল মুফাদ্দাল আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আসবাত আমাদের কাছে আস-সুদ্দী থেকে বর্ণনা করেছেন—

‘আর মানুষের অন্তরসমূহে লোভ/কৃপণতা উপস্থিত করা হয়েছে’—এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, তার মন তার স্বামী ও তার ব্যয়ের প্রতি আকৃষ্ট থাকে।

তিনি বলেন, তিনি দাবি করেছেন যে, এই আয়াতটি রাসুলুল্লাহ ﷺ এবং সাওদা বিনতে যাম‘আ (রা.)-এর ব্যাপারে নাজিল হয়েছিল। তিনি বৃদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তাকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন। অতঃপর তারা দুজন এ বিষয়ে সমঝোতা করলেন যে, তিনি তাকে স্ত্রী হিসেবে রেখে দেবেন এবং তার পালার দিনটি আয়িশা (রা.)-কে দিয়ে দেবেন। ফলে সাওদা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে নিজের অবস্থান/স্ত্রী হিসেবে থাকা আঁকড়ে ধরলেন।” [29]রেফারেন্স:

জামি‘উল বায়ান ‘আন তা’বীলি আয়িল কুরআন (তাফসীরে ত্বাবারী), ৯/২৮২, আছার: ১০৬২৩, পরিবেশনায়: দারুত তারবিয়াহ ওয়াত্তুরাস, মাক্কাতুল মুকাররামাহ।
(جَامِعُ الْبَيَانِ عَنْ تَأْوِيلِ آيِ الْقُرْآنِ، ٩ / ٢٨٢، أثر: ١٠٦٢٣، تَوِزِيعُ: دَارُ التَّرْبِيَةِ وَالتُّرَاثِ، مَكَّةُ الْمُكَرَّمَةُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/43/4959#p1

তাহকীক:

সনদ অতিরিক্ত দুর্বল। এটি পূর্ণ সনদবিহীন আস-সুদ্দির তাফসিরি বক্তব্য। উক্ত সনদে আসবাত ইবন নাসর রয়েছেন যিনি সত্যবাদি কিন্তু প্রচুর ভুল করতেন।[30]أسباط بن نصر – https://shamela.ws/narrator/545

তাবারির উদ্ধৃত অংশে আস-সুদ্দি তিনি এটিকে নিজের সূত্রে পাওয়া একটি তাফসিরি বক্তব্য হিসেবে উল্লেখ করছেন; এখানে সাহাবীও অনুপস্থিত, এখানে পূর্ণ সনদ নবী ﷺ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এমনকি সুদ্দি নিজেও একজন বিতর্কিত রাবী, সে সত্যবাদি ছিল কিন্তু প্রচুর ভুল করায় দুর্বল হিসেবে গণ্য হতো, শিয়া হওয়ার অভিযোগও ছিল তার উপর।[31]إسماعيل بن عبد الرحمن بن أبي كريمة – https://shamela.ws/narrator/669

১৫. এবার দেখুন সহীহ হাদীস দ্বারা কী প্রমাণিত?

এতক্ষণ তো বললাম জইফ ও অগ্রহণযোগ্য বাতিল হাদিসগুলোর কথা। কিন্তু এখন যদি একদম সহিহ হাদিসের কথা বলি, তাহলে নবীজি তাঁকে তালাক দিয়েছিলেন এমন কোনো কথা সহিহ হাদিসে উল্লেখ নেই; বরং সহিহ হাদিসগুলোতে এর বিপরীত তথ্যই পাওয়া যায়।
যেমন—আয়েশা (রা.) বলেছেন:

وَلَقَدْ قَالَتْ سَوْدَةُ بِنْتُ زَمْعَةَ: حِينَ أَسَنَّتْ وَفَرِقَتْ أَنْ يُفَارِقَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، يَوْمِي لِعَائِشَةَ، فَقَبِلَ ذَلِكَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْهَا

অনুবাদ:

যখন সাওদা বিনতে যামআ বৃদ্ধা হলেন এবং তিনি ভয় পেলেন যে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে ত্যাগ করবেন, তখন তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার পালা আয়েশার জন্য দিয়ে দিলাম। রাসূলুল্লাহ ﷺ তা কবুল করলেন।

[32]রেফারেন্স:
সুনানে আবু দাউদ (আলবানী একাডেমি), হাদিস নম্বর ২১৩৫ এবং সুনানে তিরমিযী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বর ৩০৪০।

​অর্থাৎ সাওদা (রা.) বয়সে অন্য স্ত্রীদের চেয়ে বড় ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই বার্ধক্যের কারণে তাঁর মনে একটি মানবিক আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে, হয়তো সময়ের সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মনোযোগ তিনি কিছুটা কম পেতে পারেন এবং তিনি যেন নবী ﷺ-এর পবিত্র সাহচর্য থেকে বঞ্চিত না হন। এই গভীর ভালোবাসা ও আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি তাঁর পালার দিনটি আয়েশা (রা.)-কে দান করে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর এই প্রস্তাব গ্রহণ করেছিলেন এবং সাওদা (রা.) আমৃত্যু নবীজির স্ত্রী হিসেবেই সম্মানিত ছিলেন।

​এছাও সাওদা (রা.) রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর পালা আয়েশা (রা.)-এর জন্য দিয়েছিলেন—এটিও আয়েশা (রা.) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি বলেন:

غَيْرَ أَنَّ سَوْدَةَ بِنْتَ زَمْعَةَ وَهَبَتْ يَوْمَهَا وَلَيْلَتَهَا، لِعَائِشَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم تَبْتَغِي بِذَلِكَ رِضَا رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏

অনুবাদ:

সাওদা বিনতে যামআ তাঁর দিন ও রাত আয়েশার (নবী ﷺ-এর স্ত্রী) জন্য দিয়ে দিয়েছিলেন; এর দ্বারা তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সন্তুষ্টি কামনা করেছিলেন।”[33]সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর ২৪২২

১৬. দুর্বল বর্ণনাগুলো একত্রিত হয়ে যদি হাসান লি-গাইরিহি বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে উন্নীত হয়?

আমার উল্লেখিত সনদগুলোর প্রায় প্রতিটিতেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দুর্বলতা লক্ষ্য করা যায়, জমহুর মুহাদ্দিসিনগণের উসুল অনুযায়ী এমন দুর্বলতার হাদিসগুলো সাধারণত একত্রিত হয়ে হাসান লি- গাইরিহি পর্যায়ে উন্নিত হয় না।

তারপরও দুর্বল ও জয়ীফ বর্ণনাগুলোকে একত্রিত করে যদি সেগুলো হাসান লি-গাইরিহি বা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়াও হয়, তাহলেও এসব বর্ণনা থেকে সর্বোচ্চ যা বোঝা যেতে পারে তা হলো—রাসূলুল্লাহ ﷺ সাওদা (রা.)-কে এক তালাকে রজঈ দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে রুজু করে পুনরায় নিজের বিবাহবন্ধনে রেখে দিয়েছিলেন। এরপর সাওদা (রা.) মৃত্যু পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সম্মানিত স্ত্রী হিসেবেই জীবন অতিবাহিত করেন।

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়। কিছু বর্ণনায় সাওদা (রা.)-এর বৃদ্ধ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁর তালাকের প্রসঙ্গ আনা হয়েছে। কিন্তু সেসব বর্ণনাতেও এমন কোনো বক্তব্য নেই যে, “তিনি বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণেই রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে তালাক দিতে চেয়েছিলেন।” বরং সর্বোচ্চ যা বোঝা যায় তা হলো—তিনি বৃদ্ধ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পক্ষ থেকে বিচ্ছেদের আশঙ্কা করেছিলেন, অথবা কোনো দুর্বল বর্ণনা গ্রহণ করলে রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁকে এক তালাকে রজঈ দিয়েছিলেন কিংবা তাঁকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা করেছিলেন। কিন্তু “সাওদা (রা.) বৃদ্ধ হয়ে যাওয়াই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর তালাক দেওয়ার কারণ ছিল”— এই দাবি প্রমাণ করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা নেই।

এমনকি যেসব দুর্বল বা মুরসাল বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পক্ষ থেকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা বা তালাক দেওয়ার কথা এসেছে, সেগুলোতেও বৃদ্ধ হয়ে যাওয়াকে সেই তালাকের কারণ হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি।

অতএব, দুর্বল বর্ণনাগুলোকে পরস্পরের দ্বারা শক্তিশালী করে “সাওদা (রা.) বৃদ্ধ হয়ে যাওয়াই তালাকের কারণ ছিল”—এ কথা বলার কোনো গ্রহণযোগ্য ভিত্তি নেই। সর্বোচ্চ এতটুকুই বলা যেতে পারে যে, বৃদ্ধ হওয়ার সময় তাঁর পক্ষ থেকে বিচ্ছেদের আশঙ্কা বা তালাকের প্রসঙ্গের কথা কিছু বর্ণনায় এসেছে; কিন্তু বৃদ্ধ হওয়াটিই রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর তালাকের কারণ ছিল—এ দাবি প্রমাণিত নয়।

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
⇧1 রেফারেন্স:  তফসীরুল কুরআনিল ‘আযীম (তাফসীরে ইবনে কাছীর), ২/৪২৬, সূরা আন-নিসা: ১২৮, তাহকীক: সামী বিন মুহাম্মদ আস-সালামাহ, দারু ত্বায়্যিবাহ লিন-নাশরি ওয়াত্তাওযী‘ই, রিয়াদ, সৌদি আরব।

تَفْسِيرُ الْقُرْآنِ الْعَظِيمِ، ٢ / ٤٢٦، سُورَةُ النِّسَاءِ: ١٢٨، تَحْقِيقُ: سَامِي بْنِ مُحَمَّدِ السَّلَامَةِ، دَارُ طَيِّبَةَ لِلنَّشْرِ وَالتَّوْزِيعِ – الرِّيَاضُ

​অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/1129/1898

⇧2 রেফারেন্স:

আল-বিদায়াহ ওয়ান-নিহায়াহ, ১১/২৭৯, তাহকীক: ড. ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী, দারু হাজার লিট্টাবা‘আতি ওয়ান-নাশরি ওয়াত্তাওযী‘ই ওয়াল-ই‘লান।

(الْبِدَايَةُ وَالنِّهَايَةُ، ١١ / ٢٧٩، تَحْقِيقُ: د. عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُحْسِنِ التُّرْكِيِّ، دَارُ هَجَرٍ لِلطَّبَاعَةِ وَالنَّشْرِ وَالتَّوْزِيعِ وَالْإِعْلَانِ)

​অনলাইনে চেক করুন:

https://shamela.ws/book/4445/6502

⇧3 রেফারেন্স: তাহযীবুত তাহযীব, ১৫/১০৩১, প্রকাশনায়: জাম‘ইয়্যাতু দারিল বির – আল-ইমারাতুল ‘আরাবিয়্যাতুল মুত্তাহিদাহ, দুবাই।

(تَهْذِيبُ التَّهْذِيبِ، ١٥ / ١٠٣١، النَّاشِرُ: جَمْعِيَّةُ دَارِ الْبِرِّ – الْإِمَارَاتُ الْعَرَبِيَّةُ الْمُتَّحِدَةُ، دُبَيّ)

​অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/1278/12976

⇧4 রেফারেন্স: আল-ইস্তী‘আব ফী মা‘রিফাতিল আসহাব, ৮/২৫০, তাহকীক: ড. ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কী, মারকাজু হাজার লিলবুহূছি والدَّرَاسَاتِ الْإِسْلَامِيَّةِ, মিসর।

(الِاسْتِيعَابُ فِي مَعْرِفَةِ الْأَصْحَابِ، ٨ / ٢٥٠، تَحْقِيقُ: د. عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُحْسِنِ التُّرْكِيِّ، مَرْكَزُ هَجَرٍ لِلْبُحُوثِ وَالدِّرَاسَاتِ الْإِسْلَامِيَّةِ – مِصْرُ)

​অনলাইনে চেক করুন: https://shamela.ws/book/1499/4300

⇧5 রেফারেন্স:

আল-জামি‘ লি-আহকামিল কুরআন (তাফসীরে কুরতুবী), ৫/৪০৪, সূরা আন-নিসা: ১২৮, তাহকীক: আহমাদ আল-বারদূনী ও ইবরাহীম এতফায়্যিশ, দারুল কুতুবিল মিছরিয়্যাহ, কায়রো, মিসর।
(الْجَامِعُ لِأَحْكَامِ الْقُرْآنِ، ٥ / ٤٠٤، سُورَةُ النِّسَاءِ: ١٢٨، تَحْقِيقُ: أَحْمَدَ الْبَرْدُونِي وَإِبْرَاهِيمَ أَطَفَّيِّش، دَارُ الْكُتُبِ الْمِصْرِيَّةِ – الْقَاهِرَةُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/20855/2074

⇧6 রেফারেন্স:

আত-তাবাক্বাতুল কু্বরা, ৮/৫৩-৫৪, ভূমিকা: ইহসান ‘আব্বাস, দার সাদির, বৈরুত, লেবানন।
(الطَّبَقَاتُ الْكُبْرَى، ٨ / ٥٣-٥٤، قَدَّمَ لَهَا: إِحْسَان عَبَّاس، دَارُ صَادِرٍ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/9351/3431

⇧7 রেফারেন্স:

তাহযীবুত তাহযীব, ৩/৬৫৭, তাহকীক: ইবরাহীম যাইবাক ও ‘আদিল মুরশিদ, মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ, বৈরুত।
(تَهْذِيبُ التَّهْذِيبِ، ٣ / ٦٥٧، بِاعْتِنَاءِ: إِبْرَاهِيمَ الزَّيْبَقِ، عَادِلَ مُرْشِدٍ، مُؤَسَّسَةُ الرِّسَالَةِ – بَيْرُوتُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1293/1987

⇧8 রেফারেন্স:

আত-তাবাক্বাতুল কু্বরা, ৮/৫৪, ভূমিকা: ইহসান ‘আব্বাস, দার সাদির, বৈরুত, লেবানন।
(الطَّبَقَاتُ الْكُبْرَى، ٨ / ٥٤، قَدَّمَ لَهَا: إِحْسَان عَبَّاس، دَارُ صَادِرٍ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/9351/3432

⇧9 রেফারেন্স:

ফাতহুল বারী বিশারহি সহীহিল বুখারী, ৯/৩১৩, হাদিস: ৫২১৩, তাখরীজ ও ট্র্যাকিং: মুহাম্মদ ফুয়াদ ‘আব্দুল বাকী, ইখরাজ ও তাসহীহ: মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব, আল-মাকতাবাতুস সালফিয়্যাহ, মিসর।
(فَتْحُ الْبَارِي بِشَرْحِ صَحِيحِ الْبُخَارِيِّ، ٩ / ٣١٣، رقم الحديث: ٥٢١٣، رَقَّمَ كُتُبَهُ وَأَبْوَابَهُ وَأَحَادِيثَهُ: مُحَمَّد فُؤَاد عَبْد الْبَاقِي، قَامَ بِإِخْرَاجِهِ وَتَصْحِيحِ تَجَارِبِهِ: مُحِبُّ الدِّينِ الْخَطِيبُ، الْمَكْتَبَةُ السَّلَفِيَّةُ – مِصْرُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1673/5402

⇧10 রেফারেন্স:

কিতাবুল আসার লি আবি ইউসুফ, পৃষ্ঠা: ১৪৬, হাদিস: ৬৬৭, তাহকীক: আবু আল-ওয়াফা, নাশের: লাজনাতু এহইয়াইল মাআরিফ এন-নোমানিয়্যা (হায়দ্রাবাদ – ডেকান), বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যা।
(كِتَابُ الْآثَارِ لِأَبِي يُوسُفَ، ص: ١٤٦، رقم الحديث: ٦٦٧، تَحْقِيقُ: أَبُو الْوَفَاءِ، النَّاشِرُ: لَجْنَةُ إِحْيَاءِ الْمَعَارِفِ النُّعْمَانِيَّةِ بِحَيْدَر آبَاد – الدَّكْنِ، وَصَوَّرَتْهُ دَارُ الْكُتُبِ الْعِلْمِيَّةِ – بَيْرُوتُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/12987/678

⇧11 أرشيف ملتقى أهل الحديث – 2, ملتقى أهل الحديث 70/69- 75 https://al-maktaba.org/book/31615/34571
⇧12 রেফারেন্স:

মুসনাদ ইমাম আবি হানিফাহ (রিওয়ায়াতু আবি নুআইম), পৃষ্ঠা: ৬৪, তাহকীক: নজর মুহাম্মদ আল-ফারিয়াবি, মাকতাবাতুল কাওসার, রিয়াদ, সৌদি আরব।
(مُسْنَدُ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ رِوَايَةُ أَبِي نُعَيْمٍ، ص: ٦٤، تَحْقِيقُ: نَظَر مُحَمَّد الْفَارْيَابِي، مَكْتَبَةُ الْكَوْثَرِ، الرِّيَاضُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/6721/99

⇧13 রেফারেন্স:

মুসনাদুল ইমাম আবি হানিফাহ (রিওয়ায়াতু আবি নুআইম), পৃষ্ঠা: ৬৪, তাহকীক: নজর মুহাম্মদ আল-ফারিয়াবি, মাকতাবাতুল কাওসার, রিয়াদ, সৌদি আরব।
(مُسْنَدُ الْإِمَامِ أَبِي حَنِيفَةَ رِوَايَةُ أَبِي نُعَيْمٍ، ص: ٦٤، تَحْقِيقُ: نَظَر مُحَمَّد الْفَارْيَابِي، مَكْتَبَةُ الْكَوْثَرِ، الرِّيَاضُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/6721/99

⇧14 রেফারেন্স:

আস-সুনানুল কাবীর, ১৩/৫৭৫, হাদিস: ১৩৫৬৫, তাহকীক: ড. ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আবদিল মুহসিন আত-তুর্কী, মারকাজু হাজার লিল-বুহূসি ওয়াদ-দিররাসাতিল ‘আরাবিয়্যাতি ওয়াল-ইসলামিয়্যাহ, কায়রো, মিসর।
(السُّنَنُ الْكَبِيرُ، ١٣ / ٥٧٥، رقم الحديث: ١٣٥٦٥، تَحْقِيقُ: الدَّكْتُورُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْمُحْسِنِ التُّرْكِيُّ، مَرْكَزُ هَجَر لِلْبُحُوثِ وَالدِّرَاسَاتِ الْعَرَبِيَّةِ وَالإِسْلَامِيَّةِ، الْقَاهِرَةُ، مِصْرُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/148486/7727

⇧15 রেফারেন্স:
আল-বদ্রুল মুনীর ফি তাখরীজিল আহাদীছি ওয়াল-আছারিল ওয়াকি’আতি ফি আশ-শারহিল কাবীর, ৮/৪৮, তাহকীক: মুস্তফা আবুল গীত, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সুলাইমান ও ইয়াসির ইবনু কামাল, দারুল হিজরাহ লিন-নাশরি ওয়াত-তাওযী’, রিয়াদ, সৌদি আরব।
(الْبَدْرُ الْمُنِيرُ فِي تَخْرِيجِ الأَحَادِيثِ وَالآثَارِ الْوَاقِعَةِ فِي الشَّرْحِ الْكَبِيرِ، ٨ / ٤٨، تَحْقِيقُ: مُصْطَفَى أَبُو الْغَيْطِ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ سُلَيْمَانَ وَيَاسِرُ بْنُ كَمَالٍ، دَارُ الْهِجْرَةِ لِلنَّشْرِ وَالتَّوْزِيعِ، الرِّيَاضُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/5922/4733
⇧16 রেফারেন্স:

জামেউল মাসানীদ লিল-খাওয়ারিজমী, আল-বাবুর রাবি‘উ ওয়াল-‘ইশরূনা ফিত-ত্বলাক, ২/১৩৮, আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ, সামান্দরী।
(جَامِعُ الْمَسَانِيدِ لِلْخَوَارِزْمِيِّ، الْبَابُ الرَّابِعُ وَالْعِشْرُونَ فِي الطَّلَاقِ، ٢ / ١٣٨، ط. الْمَكْتَبَةُ الإِسْلَامِيَّةُ سَمَنْدَرِي)
​অনলাইনে চেক করুন (জামে’উল কুতুবিল ইসলামিয়্যাহ থেকে):
https://ketabonline.com/ar/books/20926/read?page=695&part=2#p-20926-695-3

⇧17 أبو الزبير محمد بن مسلم بن تدرس المكي – https://shamela.ws/narrator/5914
⇧18 রেফারেন্স:

মুসনাদু আবি হানিফাহ লিল-হারিছী, ২/৫৩১, হাদিস: ৮৪৯, আল-মাকতাবাতুল ইমদাদিয়্যাহ, মাক্কাতুল মুকাররমাহ।
(مُسْنَدُ أَبِي حَنِيفَةَ لِلْحَارِثِيِّ، ٢ / ٥٣١، رقم الحديث: ٨٤٩، ط. الْمَكْتَبَةُ الإِمْدَادِيَّةُ بِمَكَّةَ الْمُكَرَّمَةِ)
​অনলাইনে চেক করুন (জামে’উল কুতুবিল ইসলামিয়্যাহ থেকে):
https://ketabonline.com/ar/books/25916/read?page=850&part=2#p-25916-850-1

⇧19 রেফারেন্স:
মিযানুল ই’তিদাল ফি নাকদির রিজাল, ৩/৪৪৮, তরজমা: ৭১১০ (মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম ইবনি যিয়াদ আত-তয়ালিসী আর-রাযী), তাহকীক: ‘আলী মুহাম্মদ আল-বিজাবী, দারুল মা‘রিফাহ লিত্তিবা‘আতি ওয়ান-নাশরি, বৈরুত, লেবানন।
(مِيزَانُ الإِعْتِدَالِ فِي نَقْدِ الرِّجَالِ، ٣ / ٤٤٨، ترجمة: ٧١١٠ [محمد بن إبراهيم بن زياد الطيالسي الرازي]، تَحْقِيقُ: عَلِي مُحَمَّد الْبِجَاوِي، دَارُ الْمَعْرِفَةِ لِلطِّبَاعَةِ وَالنَّشْرِ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1692/1799
⇧20 রেফারেন্স: মিযানুল ই’তিদাল ফি নাকদির রিজাল, ৩/২৫৬, তরজমা: ৬৩৫৬ (‘আম্‌রু ইবনু হুমাইদ), তাহকীক: ‘আলী মুহাম্মদ আল-বিজাবী, দারুল মা‘রিফাহ লিত্তিবা‘আতি ওয়ান-নাশরি, বৈরুত, লেবানন।

(مِيزَانُ الإِعْتِدَالِ فِي نَقْدِ الرِّجَالِ، ٣ / ٢٥٦، ترجمة: ٦٣٥٦ [عمرو بن حميد]، تَحْقِيقُ: عَلِي مُحَمَّد الْبِجَاوِي، دَارُ الْمَعْرِفَةِ لِلطِّبَاعَةِ وَالنَّشْرِ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1692/1607

⇧21 রেফারেন্স:

আল-মাজরূহীন মিনাল মুহাদ্দিছীন, ১/৪৩৭, তরজমা: ৪৩৪ (সালম ইবনু সালম আল-বালখী), তাহকীক: হামদী ‘আবদুল মাজীদ আস-সালাফী, দারুস সামী‘ঈ লিন-নাশরি ওয়াত-তাওযী‘, রিয়াদ, সৌদি আরব।
(الْمَجْرُوحِينَ مِنَ الْمُحَدِّثِينَ، ١ / ٤٣٧، ترجمة: ٤٣٤ [سلم بن سالم البلخي]، تَحْقِيقُ: حَمْدِي عَبْدِ الْمَجِيدِ السَّلَفِيِّ، دَارُ الصَّمِيعِيِّ لِلنَّشْرِ وَالتَّوْزِيعِ، الرِّيَاضُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/151099/409

⇧22 রেফারেন্স:

আস-সুনানুল কাবীর, ১৫/২৭১, হাদিস: ১৫১১১, তাহকীক: ড. ‘আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আবদিল মুহসিন আত-তুর্কী, মারকাজু হাজার লিল-বুহূসি ওয়াদ-দিররাসাতিল ‘আরাবিয়্যাতি ওয়াল-ইসলামিয়্যাহ, কায়রো, মিসর।
(السُّنَنُ الْكَبِيرُ، ١٥ / ٢٧١، رقم الحديث: ١٥١١١، تَحْقِيقُ: الدَّكْتُورُ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ الْمُحْسِنِ التُّرْكِيُّ، مَرْكَزُ هَجَر لِلْبُحُوثِ وَالدِّرَاسَاتِ الْعَرَبِيَّةِ وَالإِسْلَامِيَّةِ، الْقَاهِرَةُ، مِصْرُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/148486/8578

⇧23 রেফারেন্স:

লিসানুল মিযান, ৭/১১৯, তাহকীক: دائرة المعارف النظامية (হায়দ্রাবাদ, ভারত), মুয়াসসাসাতুল আ’লামী লিল-মাতবূ‘আত, বৈরুত, লেবানন।
(لِسَانُ الْمِيزَانِ، ٧ / ١١٩، تَحْقِيقُ: دَائِرَةُ الْمَعَارِفِ النِّظَامِيَّةِ – الْهِنْدِ، مُؤَسَّسَةُ الْأَعْلَمِيِّ لِلْمَطْبُوعَاتِ، بَيْرُوتُ، لُبْنَانُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/12063/3416

⇧24 রেফারেন্স:

তাকরী্বুত তাহযীব, পৃষ্ঠা: ১২৭, তরজমা: ৭৩৪ (বাশীর ইবনু মিহরান আল-কুফী), তাহকীক: মুহাম্মদ ‘আওয়ামাহ, দারুর রশীদ, সিরিয়া।
(تَقْرِيبُ التَّهْذِيبِ، ص: ١٢٧، ترجمة: ٧٣٤ [بشير بن مهران الكوفي]، تَحْقِيقُ: مُحَمَّد عَوَّامَة، دَارُ الرَّشِيدِ – سُورِيَا)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/8609/52#p1

⇧25 أحمد بن الفرج بن سليمان – https://shamela.ws/narrator/11681
⇧26 রেফারেন্স:

আল-মু’জামুল কাবীর, ২৪/৩৩, হাদিস: ৮৩, তাহকীক: হামদী বিন আবদিল মাজীদ আস-সালাফী, মাকতাবাতু ইবনি তাইমিয়্যাহ, কায়রো, মিসর।
(الْمُعْجَمُ الْكَبِيرُ، ٢٤ / ٣٣، رقم الحديث: ٨٣، تَحْقِيقُ: حَمْدِي بْنُ عَبْدِ الْمَجِيدِ السَّلَفِيِّ، مَكْتَبَةُ ابْنِ تَيْمِيَّةَ، الْقَاهِرَةُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/1733/24779#p1 আল-মুসান্নাফ, ৬/৩০০, হাদিস: ১১৫০৪, তাহকীক: মারকাজুল বুহূছি ওয়াতাকনিয়াতিল মা‘লূমাত, দারুত্তাসীল।

(الْمُصَنَّفُ، ٦ / ٣٠٠، رقم الحديث: ١١٥٠٤، تَحْقِيقُ: مَرْكَزُ الْبُحُوثِ وَتَقْنِيَةِ الْمَعْلُومَاتِ – دَارُ التَّأْصِيلِ، دَارُ التَّأْصِيلِ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/84/3027

⇧27 রেফারেন্স:
মাজমা’উয-যাওয়াইদি ওয়ামানবা’উল ফাওয়াইদ, ৯/২৪৭, হাদিস: ১৫৩৪২, তাহকীক: হুসামুদ্দীন আল-কুদসী, মাকতাবাতুল কুদসী, কায়রো, মিসর।
(مَجْمَعُ الزَّوَائِدِ وَمَنْبَعُ الْفَوَائِدِ، ٩ / ٢٤٧، رقم الحديث: ١٥٣٤٢، تَحْقِيقُ: حُسَامُ الدِّينِ الْقُدْسِيُّ، مَكْتَبَةُ الْقُدْسِيِّ، الْقَاهِرَةُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/61/2889#p1
⇧28 রেফারেন্স: আল-মুসান্নাফ, ৬/২৩৯, হাদিস: ১০৬৫৮, তাহকীক: হাবীবুর রহমান আল-আ’যামী, আল-মাজলিসুল ‘ইলমী, ভারত (পরিবেশনায়: আল-মাকতাবুল ইসলামী, বৈরুত)।

(الْمُصَنَّفُ، ٦ / ٢٣٩، رقم الحديث: ١٠٦٥٨، تَحْقِيقُ: حَبِيبُ الرَّحْمَنِ الْأَعْظَمِيُّ، الْمَجْلِسُ الْعِلْمِيُّ – الْهِنْدُ، تَوَزِيعُ الْمَكْتَبِ الْإِسْلَامِيِّ – بَيْرُوتُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/13174/11565

⇧29 রেফারেন্স:

জামি‘উল বায়ান ‘আন তা’বীলি আয়িল কুরআন (তাফসীরে ত্বাবারী), ৯/২৮২, আছার: ১০৬২৩, পরিবেশনায়: দারুত তারবিয়াহ ওয়াত্তুরাস, মাক্কাতুল মুকাররামাহ।
(جَامِعُ الْبَيَانِ عَنْ تَأْوِيلِ آيِ الْقُرْآنِ، ٩ / ٢٨٢، أثر: ١٠٦٢٣، تَوِزِيعُ: دَارُ التَّرْبِيَةِ وَالتُّرَاثِ، مَكَّةُ الْمُكَرَّمَةُ)
​অনলাইনে চেক করুন:
https://shamela.ws/book/43/4959#p1

⇧30 أسباط بن نصر – https://shamela.ws/narrator/545
⇧31 إسماعيل بن عبد الرحمن بن أبي كريمة – https://shamela.ws/narrator/669
⇧32 রেফারেন্স:
সুনানে আবু দাউদ (আলবানী একাডেমি), হাদিস নম্বর ২১৩৫ এবং সুনানে তিরমিযী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস নম্বর ৩০৪০।
⇧33 সহীহ বুখারী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, হাদিস নম্বর ২৪২২
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button