সমসাময়িক

আফগান ক্লাসরুমের উপর গবেষণা, প্রাসঙ্গিক বাংলাদেশও

গত জুলাই মাসে আফগানিস্তান সায়েন্স একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় ‘আফগানিস্তান কোয়ার্টারলি ম্যাগাজিন‘। এতে ৫ খানা গবেষণাপত্র ছিল। এগুলোর মধ্যে একটা গবেষণাপত্র ছিল ‘আ স্টাডি অফ মডার্ন টিচিং মেথডস ইন দি এডুকেশনাল সিস্টেম অফ আফগানিস্তান‘ শিরোনামের। তো, এটা নিয়েই আজকে আলাপ করবো।

চলুন, শুরু করি।

শুরুর আলাপ 

আফগানিস্তানের ক্লাসরুমগুলোতে শিক্ষকেরা ঠিক কীভাবে পড়ান? শ্রেণীকক্ষের সেই ছবিটা কেমন? আফগানিস্তানের বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর ওপর চালানো গবেষণায় এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।

শিক্ষাদান পদ্ধতি যত প্রাণবন্ত ও আধুনিক হয়, শিক্ষার্থীদের শেখার পরিধিও তত বিস্তৃত হয়। কথাটা তো আমরা মানি নাকি? কিন্তু আফগানিস্তানের বাস্তবতায় ক্লাসরুমের ভেতরের সত্যিকারে কী ঘটছে, তা নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি রয়েছে।

এই ঘাটতি দূর করতেই মূলত কাবুল ও জালালাবাদের ৪টি বাছাই করা বেসরকারি স্কুলের ওপর এই অনুসন্ধান চালানো হয়। গবেষকদের প্রধান লক্ষ্য ছিল শিক্ষকেরা প্রতিদিনের ক্লাসে ঠিক কোন কোন কৌশল প্রয়োগ করছেন, তা গভীরভাবে অনুধাবন করা।

আফগান ক্লাসরুমের উপর গবেষণা, প্রাসঙ্গিক বাংলাদেশও
আফগানিস্তানের একটি স্কলের বাইরে শিক্ষার্থীদের শোরগোল। ছবি: Ahmad Sahel Arman—AFP/Getty Images

বিষয়টি কাছ থেকে বুঝতে ব্যবহার করা হয়েছে গুণগত বা পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা পদ্ধতি। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে এই তথ্য সংগ্রহের কাজটি সম্পন্ন হয়। গবেষকেরা কেবল মুখের কথায় ভরসা না রেখে তিনটি মাধ্যমে মূল বিষয়গুলো খুঁজেছেন:

  • নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ: ১৬টি ক্লাসে সরাসরি উপস্থিত থেকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, যেখানে গবেষকেরা কেবল শ্রোতা হিসেবে ছিলেন)।
  • শিক্ষকদের সাথে মুখোমুখি আলাপ: ২০ জন শিক্ষকের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের অভিজ্ঞতার গল্পগুলো উঠে আসে।
  • নথিপত্র বিশ্লেষণ: স্কুলের সিলেবাস ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় দস্তাবেজ পরীক্ষা করা হয়েছে।

সংগৃহীত এই বিপুল তথ্যকে সাজাতে গবেষকেরা বিখ্যাত ব্রাউন ও ক্লার্কের ‘থিমেটিক অ্যানালাইসিস’ বা বিষয়ভিত্তিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। ফলে ক্লাসরুমের ভেতরের বাস্তব রূপটি একটি স্পষ্ট ও আকর্ষণীয় চিত্রে রূপ নিয়েছে।

আফগান ক্লাসরুমের আসল সমস্যা 

আফগানিস্তানের শিক্ষানীতিতে বারবার জোর দেওয়া হয়েছে এক আধুনিক ধারণার ওপর। আর তা হলো, পড়াশোনা হতে হবে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক এবং তা বাড়াবে মেধা ও দক্ষতা। অথচ বাস্তবে স্কুলের ক্লাসরুমগুলোতে আজও দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সেই সনাতন, শিক্ষককেন্দ্রিক পাঠদান পদ্ধতি। খাতার পাতায় লেখা রাজকীয় নীতি আর ক্লাসরুমের ভেতরের সাধারণ চালচিত্রের মধ্যে এই যেন এক নাছোড়বান্দা ফারাক!

কারিকুলাম বদলে ফেলার কম চেষ্টা হয়নি, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণেও নতুন নতুন উদ্যোগ এসেছে। তবুও আফগান স্কুলগুলোর অধিকাংশ ক্লাসে সেই একই পুরোনো দৃশ্যপট—একতরফা বক্তৃতা, অন্ধের মতো মুখস্থ করার চেনা পথ আর শিক্ষার্থীদের চরম উদাসীনতা।

ফলে শেখার এই পুরো প্রক্রিয়ায় তরুণরা হয়ে পড়েছে স্রেফ নিশ্চুপ শ্রোতা। এতে করে তাদের মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ হচ্ছে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থমকে দাঁড়াচ্ছে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো কিছু শেখার আগ্রহটাই ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।

অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য একা শিক্ষকদের দোষ দেওয়া অন্যায়। এর পেছনে রয়েছে জট পাকিয়ে থাকা একগুচ্ছ কাঠামোগত সমস্যা। পাঠ্য উপকরণের আকাল আর এক একটি ক্লাসে গাদাগাদি করে বসে থাকা এক গাদা শিক্ষার্থীর কারণেও ঝামেলা হচ্ছে। এই সীমাবদ্ধতাগুলোর বেড়াজালে আটকে পড়ে প্রাণবন্ত কোনো পদ্ধতিতে পড়ানো শিক্ষকদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে।

আফগান ক্লাসরুমের উপর গবেষণা, প্রাসঙ্গিক বাংলাদেশও
আফগান ক্লাসরুমে পড়াচ্ছেন এক শিক্ষিকা। ছবি: Ahmad Sahel Arman—AFP/Getty Images

এর ওপর নতুন আরেকটা সমস্যা রয়েছে। আফগানিস্তানের পড়াশোনা নিয়ে এ যাবৎ যত গবেষণা হয়েছে, তার সবই হয় ভীষণ সাধারণ মানের, নয়তো নির্দিষ্ট কোনো একটি বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ। ইসলামিক স্টাডিজ, সমাজবিজ্ঞান, ভাষা কিংবা বিজ্ঞান—বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাসে শিক্ষাদানের ধরন কেমন এবং কেন তারা একে অপরের থেকে আলাদা, তা তুলনা করে দেখার মতো বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার বড়ই অভাব ছিল।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই গবেষণাটি মূলত দুটি বড় সমস্যার উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে। প্রথমত, আধুনিক শিক্ষাদানের নীতি ও ক্লাসরুমের তিক্ত বাস্তবের মধ্যকার সেই বড়সড় শূন্যতা। আর দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাসে শিক্ষাদানের কৌশলে ঠিক কী কী পার্থক্য তৈরি হয়, তার একটা ধারণা অর্জন।

কেন গবেষণাটি জরুরি?

আফগানিস্তানের ক্লাসরুমগুলোতে শিক্ষকেরা ঠিক কীভাবে পড়াচ্ছেন—বিভিন্ন বিষয়ভেদে তার বাস্তব চিত্রটি তুলে ধরার পেছনেই রয়েছে এই গবেষণার মূল সার্থকতা।

কাগজে-কলমে আঁকা রঙিন স্বপ্ন আর ক্লাসরুমের ধূসর বাস্তবের মধ্যে ঠিক কতটা তফাত, এই গবেষণা সেই ফাঁকটুকু স্পষ্ট করে দেয়। একই সাথে আধুনিক পদ্ধতিতে পড়াতে গিয়ে শিক্ষকেরা প্রতিদিন কী কী বাস্তব প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছেন, তাও উঠে এসেছে এখানে। নীতি নির্ধারক, পাঠ্যক্রম প্রণেতা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর জন্য এই অভিজ্ঞতাগুলো কিন্তু দারুণ সহায়ক হতে পারে।

তো, গবেষণাপত্রে বেশ কিছু জরুরি বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে ক্লাসরুম পর্যবেক্ষণের ফলাফল। তো, চার খানা স্কুলের ক্লাসরুমের অবস্থা দেখে গবেষকেরা বুঝলেন যে

শিক্ষকেরা মূলত একতরফা বক্তৃতা দেওয়া, বিষয় ব্যাখ্যা করা আর পাঠ্যবই রিডিং পড়ার ঐতিহ্যবাহী পথেই হাঁটছেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা সেখানে বড্ড সীমিত—স্রেফ চুপচাপ শুনে যাওয়া, খাতায় নোট টোকা আর শিক্ষকের ছকে বাঁধা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মধ্যেই আটকে আছে তাদের অংশগ্রহণ।

Read More...  আফগানে বাচ্চাবাজি নিয়ে ববি হাজ্জাজের মিথ্যা দাবি

কিন্তু, দলগত কাজ, শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করা কিংবা খোলামেলা আলোচনার মতো আধুনিক ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক কৌশলগুলো একেবারে অনুপস্থিত তা নয়। তবে সেগুলোর দেখা মেলে বেশ কদাচিৎ। এসব পদ্ধতির ব্যবহার নিয়মিত নয়, বরং কোন বিষয়ে কতটুকু সুযোগ বা সরঞ্জাম আছে তার ওপর নির্ভর করে।

আফগান ক্লাসরুমের উপর গবেষণা, প্রাসঙ্গিক বাংলাদেশও
Modern Teaching Methods অনেকাংশেই শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন শিক্ষাগ্রহণ নিশ্চিতে ভূমিকা রাখে।

তবে একটা আশার কথা হলো অন্যান্য বিষয়ের তুলনায় ভাষা ও বিজ্ঞানের ক্লাসগুলোতে শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের মধ্যকার বোঝাপড়া ছিল বেশি। সেখানে কিছুটা হলেও প্রাণবন্ত আলোচনার আমেজ পাওয়া গেছে।

এরপর শিক্ষকদের সাথে দীর্ঘ আলাপে একটি করুণ সত্য উঠে এসেছে। আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতির ওপর উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষক বাধ্য হয়ে সেই পুরোনো পথেই হাঁটছেন। শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক নতুন নতুন কৌশল ক্লাসরুমে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ না থাকাকেই তারা সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে মনে করছেন।

এছাড়া শিক্ষকেরা আরও কিছু কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। পর্যাপ্ত পাঠ্য উপকরণের অভাব, গাদাগাদি করে বসে থাকা বিশাল ক্লাসরুম আর নিজের পড়ার বিষয়ের বাইরে অন্য বিষয় পড়াতে বাধ্য হওয়ার মতো সমস্যাগুলো তাদের পথ আটকে দিচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই ক্লাসে অংশগ্রহণমূলক ও সৃজনশীল কোনো কাজ করানো তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারপরে বিভিন্ন অফিসিয়াল নথিপত্র বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখেন অফিসিয়াল কারিকুলামের নীতিমালায় কিন্তু ‘শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক’ এবং ‘দক্ষতাভিত্তিক’ শিক্ষাপদ্ধতিকেই পুরোপুরি সমর্থন করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশিকা ও শিক্ষক-ম্যানুয়ালগুলোতেও জোর দেওয়া হয়েছে সক্রিয় লার্নিং, শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ আর ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়ানোর ওপর।

তবে বাস্তবতার নির্মম সত্য হলো, কাগজ-কলমের এই রূপকথার সাথে ক্লাসরুমের আসল ছবির এক প্রকাণ্ড ফারাক রয়ে গেছে। নীতিমালায় আধুনিক শিক্ষার কথা বলা হলেও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সীমার বেড়াজালে আটকে পড়ে সেসব আধুনিক পদ্ধতির প্রয়োগ ক্লাসরুমে আলোর মুখ খুব কমই দেখতে পাচ্ছে।

কিন্তু

এই গবেষণা নিয়ে আমি কিছু জায়গায় সন্তুষ্ট হতে পারিনি। প্রথমত, গবেষণার মডেল অনেক ছোট ছিল। মাত্র ৪টা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য সংগ্রহ করে গবেষণা করা হয়েছে। এই সংখ্যাটা খুবই ছোট। কারণ যত বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেওয়া যেতো, ততই সূক্ষ্ম সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেতো। কারণ একেক প্রতিষ্ঠানের পাঠদান পদ্ধতি একেক রকম হয়ে থাকে।

আরও একটা সমস্যা আছে একই বিষয়ে। চারটা স্কুলকে যে বাছাই করা হয়েছে, সেটা আবার কাবুল আর জালালাবাদের। বাকি আর কোনো প্রদেশের স্কুলগুলো থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। এর ফলে গবেষণাটার ভারত্ব কমে গেছে। ফলে আমরা আর এটাকে সমগ্র আফগানিস্তানের প্রমাণিত চিত্র বলতে পারব না।

আরেক খানা সমস্যা হলো ডেটা স্যাম্পলে। এখানে তথ্য নেওয়া হয়েছে মাত্র ২০ জন শিক্ষকের কাছ থেকে। কোয়ালিটেটিভ (গুণগত) গবেষণার গভীরতা মাপার জন্য এই সংখ্যাটি একদম পারফেক্ট হলেও এটি দিয়ে পুরো দেশের বিশাল শিক্ষক সমাজের সার্বিক চিত্র দাবি করা কঠিন।

তো, উপরে যেই আপত্তিগুলোর কথা বললাম, এগুলো আবার ঐ গবেষণাপত্রেই স্বীকার করা হয়েছে। কিন্তু আমি এই সমস্যাগুলোর কথা কেন বললাম একটু পরেই বুঝতে পারবেন।

সমাধানের সুপারিশ 

গবেষণাপত্রটিতে অবশ্য এই সমস্যাগুলো সমাধান করার কিছ রাস্তাও বলা হয়েছে।

  • ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক পদ্ধতিগুলোর সফল প্রয়োগ নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
  • পুরোনো ও একঘেয়ে পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং পাঠদানের মান বাড়াতে, শিক্ষকদের কেবল তাদের একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট বিষয় পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া।
  • পড়াশোনাকে, বিশেষ করে বিজ্ঞানের ক্লাসগুলোকে আরও প্রাণবন্ত ও ব্যবহারিক করে তুলতে স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ ও ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারের ব্যবস্থা করা। সেই সাথে শিক্ষার্থীরা যেন ব্যবহারিক শিক্ষা পায় সেটাও নিশ্চিত করা।
  • ক্লাসে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়াতে দলগত কাজ, প্রশ্নোত্তর পর্ব এবং সমস্যা সমাধানের মতো আনন্দদায়ক পদ্ধতিগুলোকে শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানে যুক্ত করা।
  • সামনের দিনগুলোতে আরও বড় পরিসরে গবেষণা হওয়া, যেখানে বিভিন্ন প্রদেশের সরকারি-বেসরকারি উভয় ধরনের স্কুলই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
  • পাঠদানের পদ্ধতিগুলো ঠিক কতটা কার্যকর, তার আরও গভীর ও নিখুঁত চিত্র পেতে তুলনামূলক (Comparative) এবং মিশ্র-পদ্ধতির (Mixed-method) গবেষণা করা।

প্রাসঙ্গিক বাংলাদেশও

এতক্ষণ ইমারতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের কথা বলেছি। বাংলাদেশের কথা কিন্তু কিছু বলিনি, যদিও শিরোনামে রয়েছে। কিন্তু আপনাদেরকে বলেছিলাম যে গবেষণাটার সমস্যাগুলোর কথা কেন বললাম একটু পরেই বুঝতে পারবেন। এই সেই হলো কারণ যে বাংলাদেশের প্রসঙ্গে এগুলো লাগবে।

আমি যতদূর জানি, এ ধরণের গবেষণা বাংলাদেশে সেভাবে হয়নি। যেই সমস্যাগুলো বললাম, এই পয়েন্টগুলো অতিক্রম করে একটা বড়-সড় গবেষণা আমাদের দেশেও হতে পারে। স্কুলের জন্য একটা, কওমী মাদ্রাসার জন্য একটা। তাহলে আমরা অনেকগুলো জরুরি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো।

আরেকটা বিষয়ও জরুরি। গবেষণাপত্রে যে সুপারিশগুলো করা হয়েছে, সেগুলো প্রতিটা বাংলাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োগ করার উপযুক্ত। শুধু উপযুক্ত বলাটা ভুল হবে, বরং করা উচিৎ।

Citation is loading...
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button