বাল্যবিবাহ খারাপ হলে হালাল কেন?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: ইসলামবাল্যবিবাহ খারাপ হলে হালাল কেন?
বলা সম্ভব না asked 10 months ago

আমরা জানি বাল্যবিবাহ জিনিসটা খারাপ, আরকি এতে অনেক হেলথ হ্যাজার্ডস আছে। আল্লাহ মহান সৃষ্টিকর্তা, ইসলাম অনুযায়ী সুস্পষ্ট কল্যান ব্যতীত বাল্যবিবাহ দেওয়া যাবে না। এই সুস্পষ্ট কল্যানের মানদন্ড টা কি? ইসলাম এইভাবে বাল্যবিবাহের অনুমোদন দিয়ে কি মহিলাদের ঝুকিতে ফেলতেসে না? মহিলাদের প্রেগন্যান্সি জনিত জটিলতা হয় বাল্যবিবাহের কারণে। ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থায় কেন ক্ষতিকর (হয়ত সবার ক্ষেত্রে ক্ষতিকর না)  তারপরেও এর ক্ষতিই বেশি এমন কাজের অনুমোদন দিয়ে কি মহিলাদের সাথে অন্যায় করে নাই? অবশ্য বাল্যবিবাহের বয়স নিয়ে দ্বিচারিতা আমরা বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দেখি বিশেষত তথাকথিত উন্নত দেশগুলাতেও বিবাহের বয়স ১৮ কিন্তু সেক্স করার বয়স ষোল। এইটা দ্বিমুখিতা। কিন্তু যেই জিনিসটার ক্ষতি আসলেই বেশি সেইটাকে হালাল করাটা কতখানিক যৌক্তিক, আল্লাহ মহান সৃষ্টিকর্তা তিনি কি বাল্যবিবাহের ক্ষতি গুলা বিবেচনায় না নিয়ে মহিলাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিলেন? এটা বৈজ্ঞানিক ভাবে প্রমানিত ৯/১০ থেকে আঠেরো বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের গর্ভ ও শরীর সন্তান ধারণে অনুপযোগী। দুই একটা এক্সেপশন কেস কোন এক্সাম্পল না। এখন আপনারা বলতে পারেন বাল্য বিবাহ হইলেই সন্তান পেটে আসবে এমন কোন কথা না। আযল করতে বলবেন হয়ত। কিন্তু বাস্তবে তা আসলেই হয় না। কিন্তু কথা হচ্ছে বাল্যবিবাহ দেওয়ার মাধ্যমে ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার সম্ভাবনা কেন বাড়িয়ে তুলার সু্যোগ করে দেওয়া? কিন্তু মহামানব নবী (সা) বাল্যবিবাহের মতন ক্ষতিকর জিনিসের অনুমোদন কেন দিলেন, তিনি তো অবশ্যই ততকালীন সমাজের অন্যতম কুরীতি বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পারতেন।

1 Answers
Ashraful Nafiz Staff answered 10 months ago

আশা করি বাল্য বিবাহ বলতে হয়তো বয়সন্ধির (মাসিক) আগে বিবাহ বুঝাচ্ছেন। যদি এমনটা না হয় তাহলে আগে একটা শিশু কিসের ভিত্তিতে কত বছর পর্যন্ত শিশু থাকে ও কেন তত বছর পর্যন্তই থাকে , তার চেয়ে কম বেশি নয় কেন, দুনিয়ার সব স্থানে, সব যুগে একই ছিল কিনা, যদি ভিন্ন হয় তাহলে কে নির্ধারন করবে কত বছর পর্যন্ত শিশু থাকে, তার কথাই কেন মানতে হবে, সে সঠিক সেটার প্রমানই বা কি, অন্য কেউ কেন সঠিক হতে পারে না, অন্য কারোটা কেন মানবো না, কীসের ভিত্তিতে বলবেন ৯/১১/১৩ বছরের কাউকে শিশু, কীসের ভিত্তিতে ১৯/২১ বছরের কাউকে শিশু বলবেন না, জীববিজ্ঞানের দেওয়া সংজ্ঞা নাকি রাষ্ট্রের দেওয়া সংজ্ঞা নাকি সমাজের দেওয়া সংজ্ঞা নাকি বিভিন্ন ধর্মের দেওয়া সংজ্ঞা দ্বারা শিশুকে সংজ্ঞায়িত করবেন? যদি রাষ্ট্রের দেওয়া সংজ্ঞাই শিশুর আদর্শ সংজ্ঞা মানা হয় তাহলে এখন প্রশ্ন হলো কোন রাষ্ট্রকে আদর্শ রাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করা হবে? যদি ধর্মের দেওয়া সংজ্ঞাই শিশুর আদর্শ সংজ্ঞা মানা হয় তাহলে এখন প্রশ্ন হলো কোন ধর্মকে আদর্শ ধর্ম হিসেবে গণ্য করা হবে? কোন সময়কে আদর্শ সময় হিসেবে মানা হবে, এই সমস্ত কিছু ডিফাইন করতে হবে আগে।

এক যায়গায় দেখেছি একজন মেয়ের বয়ঃসন্ধিকাল বা যৌন সঙ্গম করার জন্য উপযুক্ত বয়স শুরু হয় ৮ - ১২ বছরের মাঝে, সেই সময় তার দেহের নানা ধরণের অঙ্গ - প্রত্যঙ্গ বৃদ্ধি লাভ করে, তবে একেক মেয়ের ক্ষেত্রে একেক বছর প্রযোজ্য । কেউ কেউ ৯ বছর বয়সেই যৌন সঙ্গমের উপোযোগী হয় আবার কেউ কেউ ১২ বছর বয়সে। [https://www.nichd.nih.gov/health/topics/puberty/conditioninfo ; https://medlineplus.gov/puberty.html]

বিখ্যাত সাইকলজিস্ট, সেক্সোলজিস্ট ও জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটির প্রফেসর এর মতে,

শৈশবের যৌন অভিজ্ঞতা যেমন তুলমামূলক ভাবে বয়স্ক কোন ব্যক্তির সাথে যৌন মিলন শিশুর জন্য নেতিবাচকই হবে এমন কোন কথা নেই। [ATTACKING THE LAST TABOO (Time Magazine, April 14, 1980.)]

তিনি আরো বলেছিলেন,

ধরুন আমি যদি দেখি ১০ বা ১১ বছর বয়সের একটি ছেলে বিশের বা ত্রিশের কোঠার কোন পুরুষের প্রতি তীব্র শারীরিক আকর্ষণ বোধ করছে, যদি তাদের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে হয়, তাদের বন্ধন যদি পারস্পরিক হয়, তাহলে আমার মতে এধরনের সম্পর্ককে কোন ভাবেই বিকারগ্রসথ বা অসুস্থ (pathological) বলা যায় না। [nterview: John Money. PAIDIKA: The Journal of Paedophilia, Spring 1991, vol. 2, no. 3, p. 5; Colapinto, John (December 1997). "The True Story of John / Joan". Rolling Stone. pp. 54–97.]

বায়োলজির অধ্যাপক Alfred Kinsey বলে, শিশুরা বয়স্ক সঙ্গী/সঙ্গীনীদের সাথে আনন্দদায়ক এবং উপকারী যৌনমিলন করতেই পারে এবং করা উচিত। এই বিকৃত মস্তিষ্কধারী এও বলেছে, "পিতামাতার উচিত ৬-৭ বছর বয়স থেকে শুরু করে শিশুদের মাস্টারবেট করানো এবং মিলেমিশে একসাথে মাস্টারবেট করা" [Kinsey, Sex and Fraud, page 3]

আবার গবেষকদের মতে ১৬ বছর বা ততোধিক বয়সী কোন ব্যক্তি যদি এমন কোন শিশুর প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করে, যার সাথে তার বয়সের পার্থক্য অন্তত পাঁচ বছর, তবেই সেই ব্যক্তিকে শিশুকামী হিসেবে চিহ্নিত করা যাবে। অর্থাৎ কোন ১৫ বছরের ছেলে ১০ বছরের মেয়ের প্রতি যৌন আকর্ষণ বোধ করলে সেটা পেডোফিলিয়া বলে বিবেচিত হবে না! [Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders, Fourth Edition, 302.2 Pedophilia]

এই দেখেন আপনার উন্নত সভ্যতার মানুষরা এক দিকে ১৮/২১ কে বিয়ের বয়স নির্ধারণ করে, এর কমে বিয়েকে বাল্যবিবাহ নাম দিয়ে অপরাধ হিসেবে সবার কাছে উপস্থাপন করেছে। আবার তারাই সেক্স এর ক্ষেত্রে যে ভিন্ন কথা বলছে! এই দ্বিমুখি মানুষদের নীতিতে আমরা কেন চলব? তাদের নীতি যে কতটা বাস্তবসম্মত তাতো এই থেকেই টের পাওয়া যাচ্ছে।

আর বাচ্চা কনসিবের কথাটা আসলে আমার দৃষ্টিতে যৌক্তিক কোন অভিযোগ না। কারন আমরা সো-কল্ড উন্নত বিশ্বে দেখি তারা ১৮ এর আগে বিবাহ না করলেও এর আগে ৪/৫ জন পুরুষের সাথে ঠিকই শুয়ে যায়। যেই দেশে ১২-১৮ বছর বয়সে অহরহ সেক্স চলে, যেই দেশে এই বয়সে সম্মতিতে বিবাহ ছাড়া সেক্স করা, লিভ টুগেদার বৈধ, সেই দেশে কি করে ১৮ এর আগে বিবাহ করলে সমস্যা হয়? এই নিয়ম কীসের ভিত্তিতে? বিয়ে করলেই কেন সমস্যা হয়? বিবাহ ছাড়া সেক্স করাতে কোন আপত্তি নেই কেন তাদের? যে বয়সে তারা নারীর সাথে সহবাস করা সেকুলারদের নীতি অনুসারে বিয়ে করা অবৈধ সেই বয়সে নারী ঋতুমতী হয় কেন? সে বয়সে বিয়ে করা ঠিক না হলেও লিভ টুগেদার কীভাবে ঠিক হয়? সেক্স করা কীভাবে ঠিক হয়? ১৮ এর আগে বিয়ে করলে তারা অ্যাকশন নেয়, কিন্তু লিভ টুগেদার করলে, সেক্স করলে তেমন কোন অ্যাকশন নিতে দেখা যায় না কেন? আছে এসব প্রশ্নের কোন উত্তর? তাদের নীতি হল শুধু বাচ্ছা না নেওয়া ছাড়া যা খুশি কর।

ইসলাম বিবাহ জায়েজ করেছে, বৈধ বলেছে। কম বয়সে বিবাহ করাকে নফল, সুন্নত, ওয়াজিব, ফরজ কিছু করে নি, শুধু জায়েজ করেছে। আর কম বয়সে বাচ্ছা নেওয়ার বিষয়েতো ফরজ-ওয়াজিবতো অনেক দূরের বিষয়, আলাদা করে জায়েজ-নাজায়েজ কিছুই বলেনি। (বিবাহ যেহেতু বৈধ সেহেতু ইনডাইরেকলি বাচ্চা নেওয়াও বৈধ হওয়ার কথা) সেহেতু সো কল্ড উন্নত দেশের ১৮ এর নিচের অবুঝ, নিষ্পাপ বাচ্চাদের বাচ্চা হওয়া ছাড়া সেক্সকে মেনে নিতে পারলে, এখানে বাচ্ছা নেওয়া ছাড়া বিবাহকে কেন মেনে নিতে পারবেন না? ইসলাম আপনাকে বাচ্ছা নিতেও বলে না, আবার মানাও করে না, নেওয়া জায়েজ বা নাজায়েজ এই বিষয়ে কোরআন ও হাদিসে স্পষ্ট বলা হয় নি সেহেতু বাচ্ছা নেওয়া নিছকই আপনার ব্যাক্তিগত বিষয়।

সব কিছু রাসূলের দোষ, সব ক্ষেত্রে রাসূলের দোষ খোজে কিছু বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিরা। আয়শারতো কোন সন্তান হয়, তাহলে আপনারা প্রশ্ন কেন করেন না যে কম বয়সে নবীর স্ত্রীরতো বাচ্চা হয়নি তাহলে তোমরা কেন বাচ্চা নিচ্ছ? রাসূলতো নিজের থেকে বয়সে বড় নারীকে বিয়ে করেছিল তাহলে কেন প্রশ্ন করেন না যে তোমরা কেন কর না? তিনিতো নিজের সমবয়সি নারীকে বিয়ে করেছিলেন, তালাক প্রাপ্ত নারীকে বিয়ে করেছিলেন, বিধবা নারীকে বিয়ে করে ছিলেন তাহলে কেন প্রশ্ন করেন না যে এসব কেন কর না? তিনিতো তালাক দেন নি কাউকে, নির্যাতন করেন নি নিজের স্ত্রীদের উপর, সবার তাদের প্রাপ্য অধিকার ও চাহিদা পূরন করেছে তাহলে তোমরা কেন কর না? করেছেন কখনো? করেন নি, করবেনও না, এটাই স্বাভাবিক।

এই ছাড়া বিস্তারিত এই সম্পর্কে সকল সমাধান আশা করি এইখানে পেয়ে যাবেন [ রাসূল ﷺ এর উপর পেডোফিলিয়ার অপবাদ ]

Back to top button