ঈসা (আঃ) কি মারা গেছেন?
সূরা আন নিসাঃ ১৫৮ এ আছে,
৪:১৫৮ بَلۡ رَّفَعَهُ اللّٰهُ اِلَیۡهِ ؕ وَ کَانَ اللّٰهُ عَزِیۡزًا حَکِیۡمًا ﴿۱۵۸﴾
بل رفعه الله الیه و کان الله عزیزا حکیما ۱۵۸বরং আল্লাহ তাঁর কাছে তাকে তুলে নিয়েছেন এবং আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী,
এখানে 'রাফা'আ' শব্দের অর্থ একজন বলল যে, সম্মানসূচকভাবে আত্মা তুলে নেওয়া। সুতরাং, ঈসা(আঃ) মারা গেছেন নাঊযুবিল্লাহ।
এখন এটার ব্যাখ্যা কি? রাফা'আ নাকি আরো অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে যেগুলো সরাসরি তুলে নেওয়া বুঝায় না।
আমাদের মুসলিমদের ইমান ও আকিদা হল ঈসা (আ) মারা যান নি বা ক্রুশবিদ্ধও হন নি। আল্লাহ উনাকে সরাসরি নিয়ে গিয়েছেন জীবিত এবং আবার শেষ জামানায় পাঠাবেন। দেখতে পারেন -
https://islamqa.info/en/answers/110592/
https://islamqa.info/en/answers/10277
https://islamqa.info/en/answers/341363/
https://islamqa.info/en/answers/3221/
https://islamqa.info/en/answers/103515/
https://www.islamweb.net/en/fatwa/84206/is-jesus-dead
https://islamqa.org/hanafi/darululoomtt/52170/the-return-of-prophet-isa-jesus/
https://at-tahreek.com/article_details/4813
٤١ – مَسْأَلَةٌ: وَأَنَّ عِيسَى – عَلَيْهِ السَّلَامُ – لَمْ يُقْتَلْ وَلَمْ يُصْلَبْ وَلَكِنْ تَوَفَّاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ رَفَعَهُ إلَيْهِ. وَقَالَ عَزَّ وَجَلَّ {وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ} [النساء: ١٥٧] وَقَالَ تَعَالَى: {إِنِّي مُتَوَفِّيكَ وَرَافِعُكَ إِلَيَّ} [آل عمران: ٥٥] وَقَالَ تَعَالَى عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ {وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ} [المائدة: ١١٧] وَقَالَ تَعَالَى: {اللَّهُ يَتَوَفَّى الأَنْفُسَ حِينَ مَوْتِهَا وَالَّتِي لَمْ تَمُتْ فِي مَنَامِهَا} [الزمر: ٤٢] فَالْوَفَاةُ قِسْمَانِ: نَوْمٌ وَمَوْتٌ فَقَطْ وَلَمْ يُرِدْ عِيسَى – عَلَيْهِ السَّلَامُ – بِقَوْلِهِ {فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي} [المائدة: ١١٧] وَفَاةَ النَّوْمِ، فَصَحَّ أَنَّهُ إنَّمَا عَنَى وَفَاةَ الْمَوْتِ، وَمَنْ قَالَ إنَّهُ – عَلَيْهِ السَّلَامُ – قُتِلَ أَوْ صُلِبَ فَهُوَ كَافِرٌ مُرْتَدٌّ حَلَالٌ دَمُهُ وَمَالُهُ لِتَكْذِيبِهِ الْقُرْآنَ وَخِلَافِهِ الْإِجْمَاعَ. ৪১ নম্বর মাসআলা – নিশ্চয়ই ঈসা (আঃ)-কে হত্যা করা হয়নি বা ক্রুশবিদ্ধ করা হয়নি ,তবে তাকে ‘ওফাৎ’ দেওয়া হয়েছে, অতঃপর আল্লাহ্ তাঁকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন, মহান আল্লাহ ﷻ বলেন, ❝অথচ তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে শূলেও চড়ায়নি।❞ (সুরা নিসা ১৫৭) ❝স্মরণ কর, যখন আল্লাহ বললেন, ‘হে ঈসা, নিশ্চয় আমি তোমাকে পরিগ্রহণ করব, তোমাকে আমার দিকে উঠিয়ে নেব এবং কাফিরদের থেকে তোমাকে পবিত্র করব।❞ (সুরা আলে ইমরান ৫৫) আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, [ঈসা আঃ কিয়ামতের দিন যা বলবেন] ❝আর যতদিন আমি তাদের মধ্যে ছিলাম ততদিন আমি তাদের উপর সাক্ষী ছিলাম। অতঃপর যখন আপনি আমাকে উঠিয়ে নিলেন তখন আপনি ছিলেন তাদের পর্যবেক্ষণকারী। আর আপনি সব কিছুর উপর সাক্ষী।❞(সূরা মায়েদা ১১৭) ❝আল্লাহ জীবসমূহের প্রাণ হরণ করেন তাদের মৃত্যুর সময় এবং যারা মরেনি তাদের নিদ্রার সময়।❞ (সুরা যুমার ৪২) অতএব অফাৎ দুই প্রকার আসল মৃত্যু এবং নিদ্রা। فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي} [المائدة: ١١٧] ❝অতঃপর যখন আপনি আমাকে লোকান্তরিত করলেন (/ওফাৎ দিলেন), তখন থেকে আপনিই তাদের সম্পর্কে অবগত রয়েছেন।❞(সুরা মায়েদা ১১৭) এখানে ওফাৎ দ্বারা উদ্দেশ্য ঘুম বা নিদ্রা। অতএব যে বলবে, ঈসা আঃ কে হত্যা করা হয়েছে বা ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে সে কাফের-মুরতাদ; তার রক্ত ও সম্পদ হালাল, কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে এবং ইজমাহর বিরোধীতার কারণে। - কিতাবুল মুহাল্লা বিল-আছার, كتاب المحلى بالآثار 1/43
আপনার উত্তর আলহামদুলিল্লাহ অনেক সুন্দর হয়েছে। তবে আমি আসলে “রাফাআ” এই শব্দের ব্যাখ্যা জানতে চাচ্ছিলাম। আল্লাহ আপনাদের রহম করুন।
এই শব্দ দ্বারা যা যা বুঝানো হয় তা হল – Elevation, height, altitude; exaltation, lift, Lifting Height, promotion; dignity, eminence, nobility, honourableness, illustriousness, Greatness, Sublimity, loftiness. [<a href="https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/رفعة/">https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/رفعة/</a>] [<a href="http://urdu.hawramani.com/رفعت/">http://urdu.hawramani.com/رفعت/</a>] [<a href="https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/رفعه/">https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/رفعه/</a>]
আরবি ব্যকরণে একটি শব্দ বহু কিছু রিপ্রেজেন্ট করতে পারে, ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহার হতে পারে। একটি উদাহরণ হল طعملة ‘তুয়মা’ শব্দ দ্বারা খাদ্য, মুদ্রা, সম্পদ ৩ টাই বুঝায় পরিস্থিতি, প্রেক্ষাপট ভেদে।
রাফাআ শব্দ দ্বারাও উপরে উঠা, মর্যাদা ইত্যাদি বুঝায়, কিন্তু মূলত উপরে উত্তলনই এর অর্থ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এখন ইসা (আ)-কে কি আল্লাহ নিজের কাছে তুলে নেওয়া উনার জন্য মর্যাদা, সম্মানের নয়? অবশ্য। আল্লাহ উনাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন, সাথে শেষ নবীর উম্মত করে একমাত্র নবী হিসেবে উনাকে পাঠাবেন, এসবের মাধ্যমে উনার সম্মান, মর্যাদা বহুগুনে বেড়ে যায়। সেহেতু আর সমস্যা কোথায় থাকছে? এছাড়া আত্মা তুলে নেওয়ার যে বিষয়টা, সেরকম কোন ব্যাখ্যা কেউ করেছে কিনা আমার চোখে পড়ে নি।
একজন কাদিয়ানী এই ব্যাখ্যা করেছে। কারণ হিসেবে সূরা মারইয়ামের ৫৭ নং আয়াতে ইদ্রিস(আ:) এর মৃত্যুর (!) সাথে তুলনা করেছে,
১৯:৫৭ وَّ رَفَعۡنٰهُ مَکَانًا عَلِیًّا ﴿۵۷﴾
আর আমি তাকে উচ্চ মর্যাদায় সমুন্নত করেছিলাম।
এখানেও একই “রাফাআ” শব্দ এসেছে।
আসলেই কি দুইটা মিলানো যায়? আর মিলাইলেও কি তার দেওয়া ব্যাখ্যা ঠিক হয়?
যেমনটা আমি আগেই বলেছি আরবিতে একটা শব্দের পরিস্থিতি ও প্রেক্ষাপট অনুসারে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ হতে পারে। এই ক্ষেত্রেও সেটাই ঘটেছে।
ইদ্রিস আ. সম্পর্কে এমন বর্ণনাও রয়েছে উনাকে সশরীরে জীবিত অবস্থায় বেহেশতে নেওয়া হয়েছিল৷ যদি এটা সত্য হয় তাহলেও এই আয়াত ও ইসা. এর সম্পর্কে আয়াতটি এক অর্থ বহণ করে। কিন্তু এই রেওয়ায়েতটি ইসরায়েলি রেয়ায়েত, এর সত্য মিথ্যা আমাদের জানা নেই বিধায় এর উপর নির্ভর করা যাচ্ছে না। যদি সত্য হয় তাহলেতো হলই, সত্য না হলেও এই আয়াতে সেই মর্যাদার অর্থে শব্দটি ব্যবহার হয়েছে বলা যায়।