আলবানির ১৯৯৩ সালের ফতোয়া কি ইসরাইল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)আলবানির ১৯৯৩ সালের ফতোয়া কি ইসরাইল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে?
Ahmed Abir asked 10 মাস ago
১৯৯৩ সালে মুহাম্মদ নাসিরুদ্দীন আল-আলবানির (Muhammad Nasiruddin Al-Albani) এক ফতোয়া জারি করেছিলেন যার মধ্যে তিনি পশ্চিম তীর (West Bank) এ বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের আহ্বান করেছেন যে তারা সেই এলাকা ছেড়ে অন্য দেশে চলে যাক, যেখানে তারা ইসলামী তত্ত্বাবধানে নিজেদের ধর্ম ভালোভাবে পালন করতে পারবেন। ১৯৯৩ সালের ফতোয়া – ফিলিস্তিনিদের পশ্চিম তীর ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান: ১. ১৯৯৩ সালে আলবানিরএকটি ফতোয়া দেন যেখানে তিনি বলেন যে ফিলিস্তিনিদের পশ্চিম তীর (West Bank) থেকে চলে যেতে হবে। ২. তার যুক্তি ছিল যে, এই অঞ্চল আর দারুল ইসলাম (Dar al-Islam – ইসলামী শাসনের অধীন ভূমি) নয়, বরং এটি দারুল কুফর (Dar al-Kufr – কুফর/অমুসলিম শাসনের অধীন ভূমি) হয়ে গেছে। ৩. তাই তিনি মনে করতেন, সেখানে মুসলমানদের ইসলাম পূর্ণভাবে পালন করা সম্ভব নয়, এবং এ অবস্থায় মুসলমানদের এমন জায়গা ছেড়ে চলে যেতে হবে যেখানে তারা মুক্তভাবে ইসলাম পালন করতে পারবে। উৎস: এটি একটি নির্ভরযোগ্য ইসলামিক স্টাডিজ ব্লগে সংরক্ষিত আছে। https://islamiclaw.blog/2018/08/14/1993-fatwa-from-muhammad-nasiruddin-al-albani-calling-on-palestinians-to-leave-the-west-bank/amp/ এত কিছু হওয়ার পর কেন এই নাসিরউদ্দিন আলবানির কে অনুসরণ করবো?
1 Answers
Ashraful Nafiz Staff answered 10 মাস ago

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

আপনাদের মতন কতিপয় আবেগী অজ্ঞ ও তাদের সহচরদের মস্তিষ্কে যদি উলামাদের কওল, তার গুরুত্ব, মর্মার্থ ঢুকতে চায় না সহজে। আপনারা হলেন আবেগী যুবক যারা উলামাদের কওল ও নস বুঝেন না। সেই সাথে আপনাদের ফিকহি উসুলি কোন জ্ঞানও নাই।

বদর যুদ্ধে ১ হাজারের বিপরীতে ৩১৩ জন মুসলিম, ওহুদ যুদ্ধে ৩ হাজারের বিরুদ্ধে ৭০০ মুসলিম, খন্দক যুদ্ধে ১০ হাজারের  বিপরীতে ৩ হাজার মুসলিম, মুতার যুদ্ধে ২ লক্ষের বিপরীতে ৩ হাজার মুসলিম [আসাদুল্লাহ আল গালিব, নবীদের কাহিনী, হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-মাদানী জীবন অধ্যায়] যুদ্ধ করেছিল, প্রতিটি যুদ্ধে মুসলিমদের সামরিক শক্তি যেমন কম ছিল তেমনই জনশক্তিও কম ছিল৷ কিন্তু অধিকাংশতেই আল্লাহ বিজয় দান করেছিলেন, অথচ উনারা প্রতিবার নিশ্চিত ছিলেন না আল্লাহ উনাদেরকে বিজয়ী করবেন সেসব যুদ্ধে। যেকোনো সাধারণ মানুষ চিন্তা করবে এই যুদ্ধ অসম্ভব, এত বড় বড় সংখ্যক সৈন্য দলের বিপক্ষে যুদ্ধে অংশ নেওয়া আত্মহত্যার শামিল। অথচ জিহাদে নিশ্চিত বিজয়ী হবে কিনা সেটা নিশ্চিত হয়ে তারপর মাঠে নামা জিহাদের শর্তই ছিল না কখনো।

আমরা অনেকেই হয়তো জানি না, তাই জানিয়ে দিচ্ছি যে, জেনে রাখুন হজরত ওমর (রা) এর খেলাফত কালে ইবনুল হাযরামী (রা) এর অধীনে এক অভিযানে সাগর যখন প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল তখন নৌযান ছাড়াই ঘোড়াসহ সমুদ্র পাড় করার ঘটনা, সা’দ বিন আবী ওয়াক্কাস (রা) এর নেতৃত্বে যখন তাইসুন তথা পারস্য সম্রাটের রাজপ্রাসাদ জয় করার জন্য অগ্রসর হওয়ার সময় দিজলা নদী অন্তরায় হয়ে দাঁড়ানো, পানি বৃদ্ধি পাওয়া, সকল নৌ, ফেরী চলাচল বন্ধ করে দেওয়া, সমস্ত পুল, সেতু ধ্বংস করে ফেলার পরও খালেদ বিন ওয়ালীদ (রা) এর স্বপ্নের ভিত্তিতে আল্লাহ তাআলার সাহায্যে পূর্ণ আস্থা রেখে দোয়া পড়তে পড়তে সৈনিকরা নদীতে ঝাপ দেওয়া, পানির উপর দিয়ে ঘোড়া তাদেরকে নিয়ে চলা, নিরাপদে পার হয়ে মাদায়েন জয়ের মাধ্যমে পারস্য সম্রাটের প্রাসাদ, তাঁর রাজমুকুট এবং সেখানকার ধনভাণ্ডার অধিকার করার ঘটনা। কখনোই তারা জয়ের নিশ্চয়তা দিয়ে অগ্রসর হন নি, আল্লাহর উপর সম্পূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে উনারা অগ্রসর হয়েছিলেন। [শারহুল আকিদা আল ওয়াসেতীয়া, প্রকাশনা মাকতাবাতুস সুন্নাহ,  পৃষ্ঠা ৪৫৯-৪৬০, ফুটনোট ২৬৯]

আপনি কি মনে করেছেন এই কাহিনীগুলো কি শেখ আলবানী জানেন না? আপনি শুধু হিজরতের ফতুয়াই দেখলেন অথচ তিনি যে মুসলিমদের ভুখন্ড ফিরিয়ে নেওয়া এর আসে পাসের মুসলিম শাসকদের উপর ওয়াজিব বলেছেন, মুসলিম শাসক যাদের সামর্থ্য রয়েছে তাদের জন্য অবৈধ দেশের বিরুদ্ধে জিহাদ ফরজে আইন বলেছেন ও এই বিধানের বিষয়ে গাফেল হওয়ায় উনি আফসোস করেছেন এই ফতুয়াটি দেখেন নি!

তিনি আরব ভুখন্ডে কাফেরদেরকে ঘাটি করতে দেওয়ায় সমালোচনা করেছেন তার শাসকদের সেগুলোকি চোখে পড়ে নি আপনার? তিনি কাফেরদের থেকে অস্ত্র ক্রয় না করার নসিহা করেছিলেন আরব শাসকদেরকে কারণ কাফেরদের অস্ত্র পরবর্তীতে কাফেরদের বিরুদ্ধে তোলা সম্ভব না হতে পারে, এইগুলো চোখে পরে নি আপনার?

ভাই আমার এতটা অন্ধ হওয়া উচিৎ না, রাসুল (সা) কি প্রয়োজনে হিজরত করেন নি? করেছেন। তাহলে ফিলিস্তিনিদেরকে হিজরত করতে বললে সমস্যা কোথায়? যেখানে আসে পাশের জাতিয়তাবাদী জাহিল পিতার লজ্জাস্থান কামড়ে ধরা গোত্রগুলো তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসছে না, আল্লাহর ফরজ বিধান পালন করছে না, আল্লাহর হুকুম মেনে নারী ও শিশুর অভিভাবক হয়ে তাদেরকে জুলুমের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে না সেখানে গাজাবাসী এত শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কি করে টিকে থাকবে! পেরেছে? পারে নিতো!

বরং শুধু জীবন যাচ্ছে, আর সফলতা আসছে না। যারা যোদ্ধা তারা থাকুক না, কিন্তু যারা যোদ্ধা নয় তাদের জন্যতো হিজরত ওয়াজিব হয়েই গিয়েছে! কারণ তাদের পক্ষে যুদ্ধ করা সম্ভব নয়, আর তারা সেখানে থাকলে মৃত্যু নিশ্চিত, আর জীবন বাঁচানো ফরজ। যেহেতু আপনি যুদ্ধ করতে অক্ষম ও সেখানে থাকলে মৃত্যু নিশ্চিত সেহেতু আপনার জন্য নিজের জীবন বাচানোই বাধ্যতামুলক।

উনার এই ফতুয়ার বিরোধিতা বহু জনই করেছিল, বহু মন্ত্রী মিনিস্টার, নেতা খাতা, কিন্তু তারা কি কেউ অবৈধ দেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়েছিল? নাহতো! বড় বড় কথা বলা লোকদের কেউই অস্ত্র তাক করে নি অবৈধ দেশের বিরুদ্ধে। তিনি তখনই উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন ছোট খাটো দলের দ্বারা যুদ্ধ করে ফায়দা নেই, বরং এতে আমাদেরই ভাই বোন শহিদ হচ্ছে শুধু, তাদের একজন মারা গেলে আমাদের ১০ জন শহিদ হচ্ছে, কিন্তু ফলাফল শুন্য। তিনি সেই সময়েই বুঝতে পেরেছিলেন এই পদ্ধতি কার্যকর হবে না এই প্রেক্ষাপটে, তাই তিনি ইজমায়ি জিহাদের প্রতি মানুষদেরকে আহবান করেছে, কারণ এই ভুখন্ডে বিচ্ছিন্ন জিহাদ দ্বারা সফলতা সম্ভব হচ্ছে না, হয়তো হবেও না।

এছাড়া ফিলিস্তিন আর দারুল ইসলাম নেই, অবৈধ দেশের প্রভাবে সে বহু আগেই দারুল কুফরে পরিণত হয়েছে তা। এইটা বলাও কি উনার ভুল? অবশ্যই না, দারুল ইসলাম হওয়ার শর্ত হল শরিয়াহ শাসন কায়েম থাকা। অথচ সেখানে সেটা আর সম্ভব হয় নি।

আল্লাহু আলাম

Back to top button