নামাজ না পড়লে কি কেউ কাফের হয়ে যায়?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: ইসলামনামাজ না পড়লে কি কেউ কাফের হয়ে যায়?
Md. Ashfaq Uz Zaman asked 8 months ago
(বি:দ্র: আমি জানি এই website ফতোয়া দেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু এ বিষয়টি আকিদার সাথে সম্পৃক্ত তাই প্রশ্ন করতে বাধ্য হলাম। এবং আমার পরিপূর্ণ বিশ্বাস আছে আপনারা সঠিক সমাধান দিতে পারবেন।) আমি হানাফি মাযহাব ফলো করি বিধায় হানাফি আলেমদের মতামতকে অগ্রাধিকার দেই। অনেক আলেমের মতে, (অবহেলাবশত) নামাজ না পড়লে কবিরা গুনাহ হয়, তবে কেও কাফির হয় না।  অন্যদিকে, সালাফীরা বলে নামাজ ছেড়ে দিলে ব্যক্তি নাকি কাফির হয়ে যাবে। তাদের মতের পক্ষে অনেক দলিল আছে। আশা করি, সেগুলো আপনার জানার কথা। নামাজ না পড়লে কাফির হবে না- এর পক্ষে যে দলিলগুলো আছে, ১. হাদিসে এসেছে, 
তিনি বললেন, "বান্দার উপর আল্লাহর অধিকার হল এই যে, বান্দা একমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার অধিকার হল এই যে, তাঁর সাথে যে কোন কিছুকে শরীক করে না তাকে আযাব না দেওয়া।"(বুখারী হা. ২৮৫৬, মুসলিম হা. ১৫৩)
  ২. 
মুআয বিন জাবাল (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যার শেষ কথা ’লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(আহমাদ ২২০৩৪, ২২১২৭, আবূ দাঊদ ৩১১৮, হাকেম ১২৯৯, সহীহুল জামে’ ৬৪৭৯)
৩. 
আনাস বিন মালিক (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, (পরকালে) আল্লাহ বলবেন, সেই ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ’লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে যবের দানা পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে। সেই ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ’লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে অণু (বা ভুট্টা) পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে। আর সেই ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ’লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে গমের দানা পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে। আর সেই ব্যক্তিকেও জাহান্নাম থেকে বের কর, যে ’লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে এবং তার হৃদয়ে গমের দানা পরিমাণ মঙ্গল (ঈমান) আছে।(আহমাদ ৩/২৭৬, তিরমিযী ২৫৯৩, এ হাদীসের মূল রয়েছে সহীহায়নে)
৪. কুরআনে বর্ণিত হয়েছে,
নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না,যে তাঁর সাথে কাউকে শরীক করে। এছাড়া যাকে ইচ্ছা,ক্ষমা করেন। যে আল্লাহর সাথে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়। [সূরা নিসা-১১৬]
৫. তাই আরো আয়াত ও হাদিস বিবেচনা করে লুৎফর রহমান ফরায়েজী বলেছেন, 
সুতরাং নামায ছেড়ে দিলেই ব্যক্তি কাফের হবে না। বরং কাফেরদের মত কাজ হয়। যদি কাফের হয়ে যেত তাহলে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীস আসতো। অথচ নামায ছেড়ে দিলে চিরস্থায় জাহান্নামী হবার কোন হাদীস বা আয়াত বর্ণিত হয়নি।  বরং আল্লাহ তাআলা এবং রাসূল সাঃ পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছেন শিরক ছাড়া আর যত গোনাহই হোক না কেন, আল্লাহ তাআলা তা মাফ করে দিতে পারেন। তবে হ্যাঁ, যদি কেউ নামায পড়া ফরজ নয় মনে করে নামায ছেড়ে দেয়, তাহলে উক্ত ব্যক্তি কাফের। এতে কোন সন্দেহ নেই। কিংবা নামাযকে তাচ্ছিল্য করে নামায পড়া ছেড়ে দেয় তাহলেও উক্ত ব্যক্তি কাফের। কিন্তু অলসতাবশত নামায ছেড়ে দিলে ব্যক্তি কাফের হয়ে যায় বলাটা কুরআন ও হাদীস সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচায়ক ছাড়া আর কিছু নয়।
এখন ব্যাপারটা একটু পরিষ্কার করে বলবেন।
3 Answers
Best Answer
Tahsin Arafat Staff answered 8 months ago

যে মনে করে না সালাত আদায় করা আবশ্যক সে কাফির, এতে কোনো ইখতিলাফ নেই। অলসতাবশতঃ সালাত আদায় না করলে এখানে আলিমগণের তিনটি মত আছেঃ

  1. কিছু আলেম মনে করেন যে যে ব্যক্তি নামায পরিত্যাগ করবে, তাকে নামায না পড়া পর্যন্ত কারাবদ্ধ করে শেখানো উচিত। (অধিকাংশ হানাফী আলেম)
  2. অন্যান্য আলেমরা বলেছেন যে যে ব্যক্তি এক ওয়াক্ত সালাত ছেড়ে দেয়, তাকে তওবা করতে হবে। সুতরাং, যদি সে অনুতপ্ত হয়, আমরা তাকে ছেড়ে দিই; অন্যথায়, তাকে হত্যা করা উচিত; যা নির্ধারিত শাস্তি (হদ্দ)। (মালেকী ও শাফেঈ)
  3. বাকিরা বলেন যে শাসক কিংবা তার নিযুক্ত কারোর উচিত সালাত পরিত্যাগকারীকে তওবা করার আমন্ত্রণ জানানোর জন্য; যদি সে প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তাকে হত্যা করতে হবে যেহেতু সে মুরতাদ (কাফির) হয়ে যায়। (হাম্বলী)

এ প্রসঙ্গে দেখতে পারেনঃ

আপনার এই প্রশ্নটি যেন সালাত আদায় না করার অজুহাত হিসেবে না হয়। আর শেষ বিষয়টি হলো, ন্যুনতম ঈমান থাকলেই আল্লাহ তাঁর বান্দাকে জান্নাতে নিবেন, তবে তার গুনাহের পাল্লা ভারি হলে, আগে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করানোর পর।
আল্লাহু আলেম।

Ashraful Nafiz Staff answered 8 months ago

বিষয়টা ইখতিলাফি।

ইখতিলাফি বিষয়গুলো সাধারণত উত্তর না দেওয়ার চেষ্টা করে থাকি আমরা। তবে বিষয়টা ইখতিলাফি হলেও সেন্সেটিবও বটে, তাই উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছি।

হানাফি, শাফেয়ী, মালেকি ওলামাদের মতে কোন ওজর বসত, অলসতা বসত নামাজ না পড়লে কাফের হয়ে যাবে না। কিন্তু না পড়ার পাশাপাশি যদি তাকে পড়তে বলার পরও সে পড়বে না, পড়ার প্রয়োজন নেই, না পড়লে সমস্যা নেই, বা অবজ্ঞা অস্বীকার এই জাতীয় মনোভাব রাখে বা মন্তব্য করে তাহলে তা সুস্পষ্ট কুফুরি এইটার বিষয়ে সকলে একমত এবং বুঝানোর পরও যদি সে এর উপর অটল থাকে তাহলে সে কাফির হিসেবে গণ্য হবে এতেও সকলে একমত।

কিন্তু সালাত পড়তে হবে, না পড়লে কবিরা গুনা, না পড়লে শাস্তি রয়েছে, আজাব ভোগ করতে হবে, না পড়ার কারণে অনুশোচনা রয়েছে, নিজে যে ভুল করছে তার স্বীকার করছে, অনুতপ্ত-অনুশোচনা বোধ করছে এমন হলে তার উপর কাফির ফতুয়া আরোপ করা যাবে না এটাই এই ৩ মাজহাবের ওলামাদের মত। কারণ বহু কিছুকে কুফুরি বলা হয়েছে কিন্তু সবগুলোতেই আক্ষরিক অর্থে কাফির হয়ে যাওয়ার মত বা দ্বীন হতে খারিজ এমন কুফুরিকে হিসেবে বুঝানো হয় নি, তাই সালাত না পড়লেই কাফির হওয়ার বিষয়টাকেও সেই ওলামাগণ সেই আক্ষরিক অর্থে দ্বীন হতে খারিজ চিরস্থায়ী জাহান্নামি কাফির হিসেবে গ্রহণ করেনি। তাদের মতে অলসতা বা অন্য অগুরুত্বপূর্ণ ওজর বসত সালাত না পড়া বড় কুফুরির মত গুণা, কোন সন্দেহ নেই, এর কারণে জাহান্নামের কঠিন হতে কঠিনতর আজাব ভোগ করতে হবে, সালাত ত্যাগকারীর পরিনতি ভয়াভহ কিন্তু চিরস্থায়ী জাহান্নামি হওয়ার মত কাফির হয়ে যায় না এতে।

বিস্তারিত জানতে পড়তে পারেন - নামায না পড়লে কেউ ক|ফি*র হয় না

- নামায না পড়লে ব্যক্তি কাফির হয়ে যায়?

- বেস্বলাতি কাফির তবে চিরস্থায়ী জাহান্নামী নয়

- https://www.drkhalilurrahman.com/14396/article-details.html

- https://islamanswers.co.uk/question/if-you-do-not-pray-then-are-you-kafir-is-it-shirk-to-miss-prayers/

- https://www.banuri.edu.pk/bayyinat-detail/شریعت-اسلامیہ-میں-نماز-کی-قضاء-کا-حکم

- https://www.alkawsar.com/bn/article/3033/

- সূরা আন-আম ১২৮; সূরা হুদ আয়াত ১০৮ এর তাফসির সমূহ

আমি হানাফি মাযহাবের অনুসরণ করি, তাই হয়ত আমি বলব এই ওলামাই হকের উপর রয়েছে, কিন্তু হয়ত সালাফি কোন লেখক এসে বলতে পারেন যে, ‘না এই ওলামাগণের মত সঠিক নয়’। এখানে আমরা কেউই মুহাদ্দিস, মুজতাহিদ নই, আমরা দাঈ মাত্র, তাই আমাদের মত কারো মতামতের উপর ভিত্তি করে এই ধরনের বিষয়ে কোন মতকে সঠিক বা বেঠিক হিসেবে গ্রহণ করা বিবেক সম্মত কাজ হবে বলে মনে হয় না। আপনি চাইলে উভয় পক্ষের দলিলগুলোই দেখতে পারেন ও তারপর আপনার কাছে যেটা সঠিক মনে হবে দলিলের আলোকে সেটাই গ্রহণ করতে পারেন।

ওলামাগণ দলিলকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে বুঝেছেন বিধায় এই দুটি মতের সৃষ্টি ও ইখতিলাফ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ইখতিলাফ থাকতেই পারে, এটাই প্রাকৃতিক যে কিছু না কিছু বিষয়ে ইখতিলাফ থাকবেই। কিন্তু আমাদের উচিত ছিল নিয়মিত সালাত আদায় করা, তাহলে সালাত আদায় না করলে কাফের হয়ে যাবে কিনা এইটা নিয়ে চিন্তিত হতে হতো না, এই ইখতিলাফ নিয়ে মাথা ঘামাতে হতো না, ভয় পেতে হতো না। হাম্বলিদের মতে সালাত না পড়া কুফুরি, কিন্তু দেখুন আরবদের কেউ এই ফতুয়া নিয়ে মাথাও ঘামায় না, কারণ তারা সবাই নিয়মিত সালাত আদায় করার চেষ্টা করে। কিন্তু আমরা তা না করে এই ইখতিলাফের মধ্যে কোনটা সঠিক সেই চিন্তায় বিভোর হয়ে রয়েছি, তর্ক-বিতর্ক করছি, ঝগড়া-ফাসাদ করছি।

মুমিনের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত ছিল সবসময় নিরাপদটাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, যে কাজটা করলে আমি নিরাপদ থাকতে পারব সেটাই করা কিন্তু আমরা সে দিকে না ঝুঁকে বরং ভিন্ন আঙ্গিকে দ্বীনকে বিচার করতে চলেছি। অথচ সাহাবাগণ জিহাদের ময়দানেও সালাত ত্যাগ করেন নি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তৌফিক দান করুক

On behalf of the authors answered 2 months ago

সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান কী?

প্রশ্ন: শায়েখ ইবনে উসাইমিন রহিমাহুল্লাহকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ব্যক্তি মাঝে মাঝে সালাত পড়ে এবং মাঝে মাঝে সালাত পরিত্যাগ করে এমন ব্যক্তি কি কাফের?

প্রশ্ন ১: সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান:

মুসলিমগণ একমত যে, কোন ব্যক্তি যদি সালাতের বিধানকে অস্বীকার করে সালাত পরিত্যাগ করে, তাহলে সে কাফির এবং ইসলাম থেকে বেরিয়ে যাবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি এর ওপর ঈমান আনে, সালাত যে ফরয বিধান তা বিশ্বাস করে, কিন্তু অলসতা অবহেলার কারণে সালাত পরিত্যাগ করে, তার বিধানের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। এই মতভেদের কারণ হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই বিষয়ে বর্ণিত হাদীসগুলোতে সালাত পরিত্যাগকারীকে কাফির বলা হয়েছে, তাতে সালাতের বিধান অস্বীকার করে পরিত্যাগ করা এবং অলসতার কারণে পরিত্যাগ করা এই দুইয়ের মাঝে কোন পার্থক্য করা হয়নি।

জাবির ইবনু আব্দুল্লাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

بَيْنَ الرَّجُلِ وَبَيْنَ الْكُفْرِ تَرْكُ الصَّلَاةِ

বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত ছেড়ে দেয়া। এই হাদীসটি সহীহ। [ সহীহ মুসলিম, হা/৮২, আবূ দাউদ, হা/৪৬৭৮, তিরমিযী, হা/২৬২০, ইবনে মাজাহ, হা/১০৭৮ ]

বুরাইদাহ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,

العَهْدُ الَّذِي بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمُ الصَّلَاةُ، فَمَنْ تَرَكَهَا فَقَدْ كَفَرَ

আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে যে অংগীকার রয়েছে তা হলো সালাত। অতএব যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করলো, সে কুফরী করলো। এই হাদীসটি সহীহ। [ মুসনাদে আহমাদ, ৫/৩৪৬, তিরমিযী, হা/২৬২১, নাসাঈ, ১/২৩১, ইবনে মাজাহ, হা/১০৭৯ ]

কিন্তু এই হাদীস আর অন্যান্য হাদীসের মাঝে সমন্বয় করে আলেমগণের মতের মধ্যে প্রাধান্যযোগ্য মত হলো, এখানে কুফরী দিয়ে ছোট কুফরী উদ্দেশ্য, যেই কুফরীর কারণে ব্যক্তি ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় না। অন্যান্য হাদীসগুলো হলো,

ইবনু মুহাইরীয (রহি) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

سمع رجلًا بالشام يدعى أنا محمد، يقول: إن الولز واجب، قال المخدجي: فرحت إلى عبادة بن الصامت فأخبرته، فقال عبادة: كذب أبو محمد، سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «حمن صلوات كتبهنَّ الله على العباد، فمن جاء بمن لم يُصبح منهن شيئًا استخفافا بحقهن، كان له عند الله عهد أن يدخله الجلد، ومن لم يأت من فليس له عند الله عهد، إن شاء عذبة، وإن شاء غفر له

বনু কিনানাহর আল মুখদাজী সিরিয়াতে আবু মুহাম্মাদ নামক এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, বিতর ওয়াজিব। মুখদাজী বলেন, আমি উবাদাহ ইবনুস সামিত (রা) এর কাছে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বললেন, আবু মুহাম্মাদ মিথ্যা বলেছে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তার বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করবে, আর অবহেলাহেতু এর কোনটি পরিত্যাগ করবে না, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন। আর যে ব্যক্তি তা (যথাযথভাবে) আদায় করবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোনো প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন কিংবা ইচ্ছা করলে তিনি ক্ষমা করবেন। এই হাদীসটি সহীহ। [ মুসনাদে আহমাদ, ৫/৩১৫, আবু দাউদ, হা/১৪২০, ইবনে মাজাহ, হা/১৪০১।]

যেহেতু যারা যথাযথভাবে সালাত আদায় করবে না তাদের বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার দিকে সোপর্দ করলেন, সুতরাং এখান থেকে আমরা জানতে পারি যে, সেটি ছোট কুফরী ও ছোট শিরক। কেননা আল্লাহ তাআলা সূরা আন নিসাতে বলেন,

إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ )

নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তার সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া এর নিম্ন পর্যায়ের অপরাধ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন (সূরা আন নিসা: ৪৮)।

আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,

إن أول ما يحاسب به العبد المسلم يوم القيامة، الصلاة المكتوبة، فإن المها، وإلا قيل: انظروا هل له من الطوع؟ فإن كان له تطوع أكملت الفريضة من الطلوعه، ثم يفعل بسائر الأعمال المفروضة مثل ذل

কিয়ামতের দিন বান্দার কাজসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম ফরয সালাতের হিসাব নেয়া হবে।

যদি ফরয সালাতের মধ্যে কিছু কমতি হয়ে থাকে তবে আল্লাহ তা'আলা বলবেন, দেখো,

বান্দার কোন নফল সালাত আছে কি না। থাকলে তা দিয়ে ফরযের এ ঘাটতি পূরণ করা

হবে। এভাবে সকল ফরয আমলের ক্ষেত্রেই এমনটি করা হবে। এই হাদীসটি সহীহ। [ মুসনাদে আহমাদ, ২/৪২৫, আবু দাউদ, হা/৮৬৪, তিরমিযী, হা/৪১৩, ইবনে মাজাহ, হা/১৪২৫ ]

উবাদাহ ইবনু সামিত (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

من شهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأن محمدا عبده ورسوله، وأن عيسى عبد الله ورسوله، وكلمته القاها إلى مريم، وروح منه، والجنة والنار على أدخله الله الجنَّةَ عَلَى مَا كَانَ مِنَ الْعَمَل

যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল, আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই আর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল আর নিশ্চয়ই ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর বান্দা ও তার রাসূল এবং তার সেই কালিমা যা তিনি মারইয়ামকে পৌঁছিয়েছেন এবং তার নিকট হতে একটি রূহ মাত্র, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমল যাই হোক না কেন।
এই হাদীসটি সহীহ। [ সহীহ বুখারী, হা/৩৪৩৫, সহীহ মুসলিম, হা/২৮, মুসনাদে আহমাদ, ৫/৩১৮ ]

[ মুখতাছার ফিকহুস সুন্নাহ পৃষ্ঠা ২৪৩-২৪৫ ]

প্রশ্ন ২: শায়েখ ইবনে উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ কে প্রশ্ন করা হয়েছিল "

عن الإنسان الذي يصلي أحياناً ويترك الصلاة أحياناً ويترك الصلاة أحياناً أخرى فهل يكفر؟

একজন মানুষ যে মাঝে মাঝে সালাত পড়ে, মাঝে মাঝে সালাত পরিত্যাগ করে এবং যে মাঝে মাঝে সালাত ছেড়ে দেয় সে কি কাফের ?

শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে সালিহ আল উসাইমীন রহিমাহুল্লাহ তাকে জবাবে বলেন:

الذي يظهر لي أنه لا يكفر إلا بالترك المطلق بحيث لا يصلي أبداً، وأما من يصلي أحياناً فإنه لا يكفر لقول الرسول، عليه الصلاة والسلام: " بين الرجل وبين الشرك والكفر ترك الصلاة. ولم يقل ترك صلاة، بل قال: " ترك الصلاة ". وهذا يقتضي أن يكون الترك المطلق، وكذلك قال:" العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها – أي الصلاة – فقد كفر " . وبناء على هذا نقول: إن الذي يصلي أحياناً ليس بكافر.

আমার নিকট যেটা স্পষ্ট তা হলো, যে ব্যক্তি পরিপূর্ণভাবে সালাত পরিত্যাগ করে অর্থাৎ কখনোই সালাত আদায় করে না কেবল তাকেই কাফের বলা যাবে। কিন্তু যে ব্যক্তি মাঝে মধ্যে সালাত পড়ে তাকে কাফের বলা যাবে না। কারণ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

বান্দা এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত পরিত্যাগ করা।" তিনি বলেননি যে, "এক ওয়াক্ত সালাত পরিত্যাগ করা" বরং বলেছেন, "সালাত পরিত্যাগ করা।" এ শব্দ প্রয়োগের দাবি হলো, পরিপূর্ণভাবে সালাত ত্যাগ করা। অনুরূপভাবে তিনি বলেছেন,"আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে যে পার্থক্য হলো সালাত। অতএব, যে তা পরিত্যাগ করবে সে কুফুরি করবে।"

এর উপর ভিত্তি করে আমরা বলব, যে ব্যক্তি মাঝে মধ্যে সালাত আদায় করে আর মাঝে মধ্যে ছাড়ে সে কাফের (ইসলাম থেকে পরিপূর্ণ বহিষ্কৃত কাফের-মুরতাদ) নয়।” [ কিতাবু মাজমু ফাতাওয়া ও রাসায়িলিল উসাইমীন ১২/৫৫-৫৬ পৃষ্ঠা ]

https://shamela.ws/book/12293/4341

মূল: মুখতাছার ফিকহুস সুন্নাহ

আরবী ইবারত সংযোজন ও উপস্থাপনা:
ইকরামুজ্জামান রুকন ✍️

Back to top button