ইবনে বাযের দৃষ্টিতেে আমেরিকার বিরুদ্ধে লড়াই করা কি নিষেধ?
উনার দলিল ঠিক আছে, রাষ্ট্রের অনুমতি নিয়েই কাফেরবাহিনী দেশে প্রবেশ করেছে, সেহেতু তারা অনুমতিপ্রাপ্তদের কাতারে থাকবে। তাদের বিরুদ্ধে সাধারণত অস্ত্র তুলা হারাম হয়ে থাকে।
কিন্তু এখানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফেরদেরকে সাহায্য করা কুফুরি, এটা শেখ বিন বাযেরই বক্তব্য। সেহেতু এমন ক্ষেত্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে কাফেরদেরকে অনুমতি দিয়ে সাহায্য করা নিশ্চিত রূপে চরম জুলুম, হয়তো এটি তাকে ইসলাম থেকে খারিজ করে না, কিন্তু এটি সুস্পষ্ট অন্যায়। মুসলিমরা অন্যায় করলে আপনি বাদশাহ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারেন, কিন্তু ইসলামের বিরুদ্ধে সবসময় শত্রুতা করে আসা কোন কাফেরকেতো লেলিয়ে দিতে পারেন না মুসলিমদের বিরুদ্ধে!
সেহেতু এই ক্ষেত্রে সেই মুহুর্তে শাসকের আনুগত্যকে আমরা বৈধ মনে করি না।
কিন্তু আপনার ভাষ্যমতে শেখ বিন বায আরেকটি কথা বলেছেন তা হল বিশৃঙ্খলা ও ক্ষতির। নিজ দেশের বিশৃঙ্খলা ও ক্ষতি দূর করাও তিনি এই ক্ষেত্রে যুক্তি বা দলিল হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। এই ক্ষেত্রে আমরা উনার এই দলিলকে গ্রহণ করছি।
কারণ রাষ্ট্র যেখানে কাফেরদের পক্ষ নিয়েছে সেখানে ব্যক্তি সাধারণের পক্ষে কাফেরদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব নয়, তাদের সেই শক্তি ও সামর্থ্যও নেই। ফলশ্রুতিতে যেই প্রতিরোধ করতে চাইবে তাকেই কাফের বাহিনি ও রাষ্ট্রকর্তৃপক্ষ দমন করবে। যার ফলাফল কোন ভালো কিছু বয়ে আনবে না। তাই এই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে শক্তিবলে না যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কিন্তু এই কাজকে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করা ও মুখে সম্ভব হবে বিরোধীতা করারে আমরা ওয়াজিব মনে করি।
তাই শেখ বিন বায কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাকে হারাম বলেন নি, উনার উদ্দেশ্য ভিন্ন কিছু ছিল।
ধন্যবাদ, আশা করি বুঝাতে পেরেছি।