ফারাবী আর্কাইভস্হিন্দুধর্ম

বাঙ্গালী সমাজে পা ছুঁয়ে সালাম করা বা, কদমবুছি এই প্রথার উৎস কোথায়?

ভারত ও বাংলাদেশে বিশেষ করে বাঙালী সমাজে “পা ধরে সালাম করা” নামে একটি প্রথা প্রচলিত আছে। মানুষ হয়ে আরেকজন মানুষের পা ছুঁয়ে আলিঙ্গনের দৃশ্যটা আমার কখনোই ভালো লাগেনি। কেননা এক্ষেত্রে উঁচু-নিচু বিভেদের ব্যাপারটা চলে আসে। সবচেয়ে খারাপ লাগে যখন দেখি একজন মহিলার বিয়ে হয়ে স্বামীর বাড়ি আসে তখন স্বাভাবিক ভাবেই একজন মহিলা মানসিকভাবে খুব অস্থিরতার মধ্যে থাকে নিজের বাড়িঘর, ভাই বোন, পিতা মাতা, মোট কথা নিজের জন্মস্থান সহ সব কিছু ছেড়ে একজন মহিলাকে নানান ধরনেন চিন্তা গ্রাস করে বসে ঠিক সেই সময় এক একজন করে ঐ মহিলার সামনে আসেন চাচাশশুর, মামাশশুর, সিরিয়ালের মত করে আসেন আর ঐ শাশুড়ি ঐ মহিলাকে বলে সালাম কর, তখন মুখে সালাম করলে হবে না পা ধরে সালাম করতে হবে। আর বাংলাদেশে কিছু ভণ্ড পীর আছে তাদের মুরিদরা কদমবুসি না করলে পীরেরা তাদের মুরিদদের কে বেয়াদব বলে।

এই প্রথার উৎস সম্পর্কেও আমরা অনেকেই জানি না।

হিন্দু সমাজে বেদের শিক্ষক তথা পুরোহিত থেকে শুরু করে গুরুজনেরা মূলত ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ের হয়। আর হিন্দু ধর্ম মতে ব্রাহ্মণরা বিশেষ করে ব্রাহ্মণ পুরোহিতরা হচ্ছে ঈশ্বরের প্রতিনিধি। ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে তারা সাধারণ হিন্দুদের কাছে প্রায় পূজনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়। মনুসংহিতাতে বেদের ছাত্রদেরকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে যে, বেদ শিক্ষার প্রতিটি পাঠের শুরুতে ও শেষে একজন ছাত্র অবশ্যই তার গুরুর দুই পা ছুঁয়ে আলিঙ্গন করবে। এই পা ছুঁয়ে আলিঙ্গন করাকে ব্রহ্মাঞ্জলি বলা হয়।

মজার ব্যাপার হচ্ছে শিক্ষিত হিন্দুরাই যে ধর্মগ্রন্থটির নাম সহসা মুখে নিতে চায় না, সেই ধর্মগ্রন্থেরই একটি প্রথাকে স্রেফ অজ্ঞতাবশত বাঙালী মুসলিম সমাজে পালন করা হচ্ছে! এই প্রথাটি যে সরাসরি মনুসংহিতা থেকে এসেছে – এই তথ্য মুসলিমদের কেউ জানত বলে মনে হয় না।

মনুসংহিতার ২:৭১-৭২ শ্লোকগুলো দেখুন-

71. At the beginning and at the end of (a lesson in the) Veda he must always clasp both the feet of his teacher, (and) he must study, joining his hands; that is called the Brahmangali (joining the palms for the sake of the Veda).

72. With crossed hands he must clasp (the feet) of the teacher, and touch the left (foot) with his left (hand), the right (foot) with his right (hand).

অনুবাদের লিঙ্ক-

Read More...  বৈদিক অপচিকিৎসা - পর্ব ১

শ্লোকগুলো পড়লে আপনারা স্পষ্টই বুঝতে পারছেন যে বেদ পড়ার সময় প্রত্যেকটা ছাত্রকেই ব্রাহ্মণের পা ধরে সালাম করতে হয়। শ্লোকগুলির অনুবাদটা ইচ্ছা করেই আমি করলাম না পাছে হিন্দুরা বলবে আমি অর্থ বিকৃত করেছি। আর মনুসংহিতার অনুবাদ সাধারণত করা হয় না মনুসংহিতার ইংরেজি অনুবাদটাই পড়া হয়ে থাকে। তাহলে আপনারা স্পষ্টই বুঝতে পারছেন পা ছুঁয়ে সালাম করা একটা হিন্দুয়ানি প্রথা। ইসলামে সালাম, মুসাফা রয়েছে কিন্তু পা ছুঁয়ে সালাম করার কোনো নিয়ম নাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য আমাদের দেশে এই প্রথাটা একদম জেঁকে বসেছে। তবে বাংলাদেশের হক্কানী আলেমরা এটার বিরুদ্ধে সব সময় বলে এসেছে। তাই আমাদের সবার উচিত পা ধরে সালাম করার মত একটি হিন্দুয়ানি রীতি বর্জন করা।

উৎসঃ ফারাবী ব্লগ, ১৭ই জুন, ২০১৪ [আর্কাইভ]

ফ্রম মুসলিমস্‌ টিম থেকে সংযুক্তি

মনুসংহিতার বাংলা অনুবাদ থেকেও বিষয়টি দেখা যেতে পারেঃ

বাঙ্গালী সমাজে পা ছুঁয়ে সালাম করা বা, কদমবুছি এই প্রথার উৎস কোথায়?

বেদপাঠের আরম্ভ এবং সমাপ্তির পর শিষ্য প্রতিদিন গুরুর পদদ্বয় স্পর্শ করবে এবং অধ্যয়নকালে গুরুর সামনে হাত জোড় করে অবস্থান করবে। অধ্যয়ন কালের এই কৃতাঞ্জলি অবস্থাকেই ব্রহ্মাঞ্জলি বলে। ৭১।

শিষ্য হাত দুটি আড়াআড়ি রেখে এমনভাবে গুরুর পা স্পর্শ করবে যাতে দক্ষিণ হাত চিত করে গুরুর দক্ষিণ পা স্পর্শ করা যায় এবং বাম হাত চিত করে গুরুর বাম পা স্পর্শ করা যায়। এই সময় দক্ষিণ হাত ওপরে এবং বাম হাত নীচে থাকবে। ৭২।[1]মনুসংহিতা, ২/৭১-৭২, অনুবাদঃ চৈতালী দত্ত, নবপত্র প্রকাশন, পৃ ৬১

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 মনুসংহিতা, ২/৭১-৭২, অনুবাদঃ চৈতালী দত্ত, নবপত্র প্রকাশন, পৃ ৬১

Farabi Archives - ফারাবী আর্কাইভস্‌

শাফিউর রহমান ফারাবী - ভাইয়ের লেখাসমূহের সংরক্ষণ
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button