মানুষকে পাঠিয়ে কেন কষ্ট দিচ্ছে আল্লাহ?
- কিছু মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়ে আল্লাহ কেন তাদেরকে কষ্ট দিচ্ছেন? আল্লাহ তাদেরকে পৃথিবীতে না পাঠালে তো তাদেরকে এত কষ্ট করতে হতো না। আবার আত্মহত্যা করাও তো মহাপাপ অথচ কিছু মানুষ জীবনে এমন পরিস্থিতিতে আছে সে মৃত্যু ছাড়া সামনে আগানোর কোন পথ পাচ্ছেনা। এমন মানুষগুলোকে দুনিয়ায় পাঠানোর কি দরকার ছিল যাদের দুনিয়াটাই জাহান্নাম মনে হচ্ছে???
- অমুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়া, অমুসলিমদেশে জন্ম নেয়া ব্যাক্তির জন্য ইসলাম গ্রহন করা কি একজন জন্মগত মুসলিম এর থেকে বেশি কঠিন নয়? তাদের মধ্যে বেশিরভাগ মানুষই জন্মগত মুসলিমদের থেকে জাহান্নামি হয়ে মৃত্যুবরণ করছে না? তারা কি দোষ করেছিল? পৃথিবীতে অন্য ধর্মের লোকের প্রতি কি অন্যায় হচ্ছে না? তারা যদি জন্মগত মুসলিম হতো তারা তো সহজে জান্নাতে যাবার সুযোগ পেত, আর যারা অমুসলিম পরিবার, রাষ্ট্রে জন্মাত, তাদের ইসলাম গ্রহন করা কঠিন হত। হিন্দুপাড়াতে সবাই কাফের, তবে মুসলিমদের মধ্যে যারা খারাপ, তারাও অন্তত শেষ বয়সে দ্বীনের পথে ফিরে। এটা কি অন্যায় না?
১ম প্রশ্নের উত্তর -
১. যাতে আমারা তাদের জিবনি থেকে শিক্ষা নিতে পারি।
২. আল্লাহর ইচ্ছা তাই তিনি পাঠিয়েছেন এর জন্য তিনি কারও কাছে জবাবদিহি করবেন না কারণ তিনি অমুখাপেক্ষী এ সম্পর্কে তিনিই ভালো জানেন, আবার তিনিই জান্নাতের পথ সুখের পথ দেখিয়েছেন। তবে আল্লাহ জালিম নন কারণ আল্লাহ নিজেই নিজের উপর যুলুম হারাম করেছেন। আল্লাহ জালেম নন কারণ, আপনাকে তিনি এইরুপ প্রশ্ন করার মতো বুদ্ধি দিয়েছেন। তিনি যদি আপনি শুধু নেগেটিভ বুদ্ধি দিতেই তাহলে এই প্রশ্ন করার সুযোগ টুকুও হতো না।
সৃষ্টির সাথে স্রষ্টার কোন সাদৃশ্য নেই। শূরা ১১। আল্লাহ চাওয়া আমাদের চাওয়া এক না তার চাওয়া তার মতো। আল্লাহর ইচ্ছা আর আমাদের ইচ্ছা এক না তার ইচ্ছা তার মতো। আর উদ্দেশ্য সম্পর্কে যেহুতু তিনি কিছুই জানান নি তাই আমারা বলব জানি না। এটা আল্লাহই ভালো জানেন সঠিকটা হয়তো শেষ দিবসে জানতে পারবেন।
৩. কষ্ট জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মানুষকে চূড়ান্ত লক্ষ্য পরকাল সম্পর্কে সচেতন করে। কষ্ট নিপতিত হলে মানুষ তার রবকে ডাকে। জীবন হলো একটি দায়িত্ব। আত্মহত্যা না করে কষ্ট সহ্য করা এবং সমাধান খুঁজে বের করা জীবনের প্রকৃত অর্থ।
৪. মানুষ তার ভুলের কারণে আশেপাশের মানুষের কারণে আত্মহত্যার দিকে এগিয়ে যায়। হতাশায় নিরাশায় করা ভোগেন জানেন?
আর তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না, কেননা কাফির কওম ছাড়া কেউই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না’। সূরা ইউসুফ ৮৭
আরও বর্ণিত হয়েছে,
সে বলল, ‘পথভ্রষ্টরা ছাড়া, কে তার রবের রহমত থেকে নিরাশ হয়’ ?সূরা হিজর, ৫৬
আর আল্লাহ কাউকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে দুনিয়ার পরীক্ষায় ফেলেন নাই। বরং মানুষ নিজের ইচ্ছাতেই এই পরীক্ষা দিতে সম্মত হয়েছে পড়ুন সূরা আহযাব আয়াত ৭২
২য় প্রশ্নের উত্তরঃ-
কোন ব্যক্তি যদি পরিবারের বা সমাজের চাপে পড়ে যদি গরুকে বাঘ ভাবেন, এবং আশেপাশে এটাকে যারা গরু হওয়ার প্রমান দেখাচ্ছে তাদেরকে পরিবারের দোহাই দিয়ে ইগ্নোর করছেন, তাহলে তো দোষ সেই ব্যক্তিরই। এমন লোককেই বলে চোখ থাকতে অন্ধ।
আপনি যদি পরিবারের চাপে পড়ে এমন একজনকে গড মানেন, যে নিজ সন্তানকে "ভুল করে হত্যা করে", কিন্তু জীবিত করতে পারে না, পরে হাতির ঘাড় লাগে- তাকে আপনি কোন লজিকে গড বলবেন ভাই?
গড হওয়ার গুনাবলি নিয়ে হালকা পড়াশোনা করলেই হয়ে যায়, আর কিছু লাগে না।
তবে এছাড়া যাদের কাছে ইসলামের বানীই আসে নাই, তাদেরকে আল্লাহ শাস্তি দিবেন না (বনি ইসরাইল)
শুধু এইটুকু মনে রাখবেন আল্লাহ নিজের উপর নিজেই জুলুম হারাম করেছেন। আর তিনি ন্যায় বিচারক। এইটুকু ভরসা আপনি রাখবেন যেহুতু আপনি মুসলিম।
দুনিয়াতে সব মানুষের পরীক্ষা আলাদা। কেউ ধনী, কেউ দরিদ্র, কেউ মুসলিম পরিবারে, আবার কেউ অমুসলিম পরিবারে জন্ম নেয়। জন্মগত সুবিধা বা অসুবিধা আল্লাহর পরিকল্পনার অংশ। তবে যে ব্যক্তির দিন দারীতা যত বেশি সেই ব্যক্তি কে আল্লাহ বেশি পরিক্ষা করেন। এমন বর্ণনা হাদীসে পাওয়া যায়।
যদি সবাই মুসলিম ঘরে জন্মাত, তবে পরীক্ষার অর্থ কী থাকত? অনেকে মুসলিম ঘরে জন্ম নিয়েও অনেকেই ইসলামের শিক্ষা থেকে বিচ্যুত হয়? এমনকি ইসলাম ত্যাগ করে।
আপনি যদি অমুসলিম হন আপনাকে প্রথমেই প্রকাশ করতে হবে না যে আপনি মুসলিম বরং গোপন ও রাখতে পারেন যদি আপনার বড় ক্ষতির আশংকা থাকে।
আপনার মতে, কারো বিচার তার জন্মের পরিবেশ দেখে হওয়া উচিত নাকি তার নিজের কর্ম এবং আন্তরিক প্রচেষ্টা দেখে? আপনি কি মনে করেন জন্মগত সুবিধা পেয়ে জান্নাতে যাওয়ার নিশ্চয়তা আছে, নাকি সেটি আমাদের কর্মের ওপর নির্ভর করছে?
উত্তর দিয়েছেন মুহাম্মাদ আলফাজ ও মুসআব ইবনে উমাইর