ইসলামে, হিন্দুদের এবং বৌদ্ধ ধর্মে কী অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না এমন কিছু বলা আছে?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)Category: হিন্দুধর্মইসলামে, হিন্দুদের এবং বৌদ্ধ ধর্মে কী অন্য ধর্মের মানুষদের সাথে বন্ধুত্ব করা যাবে না এমন কিছু বলা আছে?
Sifat Sharif asked 2 বছর ago
ইসলামে যেমন বলা আছে বের্ধমীদের বন্ধুরুপে গ্রহন না করতে? হিন্দুদের এবং বৈদ্য ধর্মে কী এমন কিছু বলা আছে? থাকলে রিফারেন্স সহ কিছু প্রমান লাগবে  
2 Answers
Ashraful Nafiz Staff answered 2 বছর ago

ইসলামে তাদেরকে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানাতে নিষেধ করেছে। যেমন তাদের সাথে বেশি উঠাবসা, খাওয়া দাওয়া, ঘুরাঘুরি করা, সারাক্ষন তাদের সাথে থাকা, তাদের সাথেই বেশি সময় কাটানো, তাদেরকে অনুসরণীয় অনুকরণীয় বানানো ইত্যাদি। কারন এতে তাদের আচার আচরণ, তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতি আমাদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেক সময় অমুসলিম বন্ধুদের সাথে থাকলে মানুষ সালাতও ঠিক মত আদায় করে না, হালাল হারামের চিন্তা করে না, অনেক সময় হিন্দু বন্ধুরা তাদের ধর্মীয় উৎসবে যাওয়ার দাওয়াত করে, দেখা যায় ১ বার নিষেধ করে, ২ বার নিষেধ করে কিন্তু ৩য় বারে মুসলিম ভাইটি ঠিকই হিন্দু বন্ধুর দাওয়াতে তাদের ধর্মীয় উৎসবে পর্যন্ত অংশ নিয়ে ফেলে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এমন সম্পর্ক মানুষকে মুসলিমদের উপর অমুসলিমদেরকে বেশি প্রাদান্য দেওয়ার দিকে পরিচালিত করে যা মুসলিমদের জন্য সুস্পষ্ট হারাম।

আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর রহ. এই বিষয়ে একটা সুন্দর উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছিলেন। কোন আওয়ামিলীগ যে তার দলের উপর পূর্ণ ইমান রাখে তাহলে কি সে জামাতের কর্মী কারো সাথে অন্তরের বন্ধুত্ব করতে পারবে? অন্তরের বন্ধু বানাতে পারবে? পারবে না, কারন আওয়ামিলীগের উপর ইমান তাকে বাঁধা দিবে। তার ইমানের দাবি হল জামাত বেঠিক ও অপরাধী। ঠিক তেমনই মুসলিমদের ইমানের দাবি হল অমুসলিমরা বেঠিক ও আল্লাহর হকের বিষয়ে অপরাধী।

কিন্তু নরমালি কথাবার্তা বলা, তাদের ও অন্য মুসলিম সহ এক সাথে স্কুল, কলেজে, ভার্সিটিতে খাবার খাওয়া, প্রতিবেশি হিন্দুর জন্য খাবার পাঠানো, তাদেরকে উপহার দেওয়া, তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করা, তাদের সাথে কো-কারিকুলার এক্টিভিটি করা, তাদের বিপদে আর্থিক বা শারীরিক ভাবে সাহায্য করা, এক সাথে পড়ালেখা করা তা নিয়ে সাহায্য দেওয়া নেওয়া, মত বিনিময় করা বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষ করে দাওয়াত দেওয়ার উদ্দেশ্যে, চুক্তি করা ও রক্ষা করা, তাদের নিরাপত্তা দেওয়া, অসুস্থ হলে দেখতে যাওয়া, ভালো-মন্দর উপদেশ দেওয়া, ন্যায় বিচার করা, তাদের হক তাদেরকে সম্পুর্ন দেওয়া ইত্যাদি এসব অবৈধ নয়। এটাকেও অনেকে বন্ধুত্ব হিসেবে দেখে বা এসব কারনে অনেকে একে অপরের বন্ধু হিসেবে সম্বোধন করে। এই প্রকারের সম্পর্ককে হারাম বলা হয় নি। কিন্তু সম্পর্ক সেই পর্যায়ে পৌছাতে পারবে না যেখানে পৌছালে আপনার দ্বীন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

বিস্তারিত দেখুনঃ-

On behalf of the authors answered 1 বছর ago

পেট পাতলা কথাটা শুনেছেন না? পেটে কোনো কথা রাখতে পারে না। আপনার বান্ধবিকে একটা কথা বলছেন বিশ্বাস করে, কাউকে বলবে না ভেবে। পরের দিন দেখেন রেডিওতে ওই কথা বাজতেছে।

আরবিতে স্টমাক বা পাকস্থলী বুঝাইতে বাতনুন শব্দটা ব্যবহার হয়। একই রুট থেকে আসা শব্দ 'বিত্ব(অ)-নাতান', মানে এমন বন্ধু যার পেটে বোম মারলেও আপনার গোপন কথা সে অন্য কাউরে কইবে না। একই রুট থেকে আসা শব্দ হইল বা-তিন। পবিত্র কুরআনে এই রুট থেকে সম্ভবত ২৫টা শব্দের এস্তেমাল দেখা যায়। আরবি ইজ সো রিচ ম্যান। লাভ দ্যাট ❤️

যে আপনার গোপনতম সিক্রেট জানে - এমন অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে আপনে কারে বাইছা নিবেন? তা বুঝতে গেলে আপনারে এই আয়াতের প্রেক্ষাপট জানতে হবে। আগের আয়াতে বুঝা যায় আলাপটা মদিনায় থাকা ইয়াহু**দীদের শত্রুতার কনটেক্সটে নাজিল হইসে। তারা উপরে উপরে বন্ধুভাব দেখাইলেও তলে তলে ক্ষতির নিয়ত রাখত। এই আয়াতে ও পরের আয়াতে আসলে বলা হইসে কোন অমুসলিমরে আপনে গোপন কথা রাখার মতন ইয়ার ভাববেন না। এইটা ঢালাও বক্তব্য না।সো কনটেক্সট ম্যাটারস।

এইটারে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চিন্তা করলে আমরা ডিপ্লোম্যাটিক গাইডেন্স পাই। ইবনে কাসির ফরমান, সাইয়েদ্যিনা উমার (রা) একবার এক মাহের খ্রিস্টান লোকরে মুসলিমদের লেনদেনের নথি লেখার কাম দিবার চান নাই, সিক্রেট বেহাত হইবে এই আশংকায়। এইটা শুইনা আপনার সাম্প্রদায়িক সুইচ অন হইয়া গেছে না? আগেই অন কইরেন না, আপনেও একই কাম করেন। আচ্ছা বাঙালি কেউ কী তার ভারতের লগে চলা গোপনতম চুক্তি, রিশতা হুজুরদের কইবে? কখনোই কইবে না। সো কুরআনের এই পরামর্শ খুবই প্র‍্যাকটিকাল আর ইউনিভার্সাল।

উত্তর সংগ্রহ করা হয়েছে রাফান আহমেদ ভাইয়ের আলোচনা হতে৷

Back to top button