দাওয়াহ

লেখালেখির মাধ্যমে দাওয়াহ-র প্রয়োজনীয়তা

মানুষের অনুভূতি, চিন্তা-ভাবনা, নিজস্ব খেয়ালের একটি ভিন্ন জগৎ রয়েছে। মানুষ তার নিজস্ব এই জগতে এমন এক দুনিয়া সাজায় যে দুনিয়াতে শুধু তার খেয়াল, চিন্তারাই প্রভাব বিস্তার করে না; বাইরের প্রতিবেশি, দূর-দূরান্তের মুসাফিররাও এসে মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেয়। এর মাঝে কেউ হয়ত দু-একদিন থেকে বিদায় নেয়, কেউ আবার স্থায়ী বাসিন্দা বনে যায়। এ জগতে খুব সহজে যদি কেউ প্রবেশ করতে চায়, তবে ঐ মানুষের অনুভূতি, চিন্তা-ভাবনাকে প্রভাবিত করতে হবে প্রথমে। তার মনের গহীন বনে গিয়ে খাজানাকে বাক্স-বন্দি করে নিয়ে আসতে হবে। আর চাইলে এভাবেই একজন মানুষের উপর কর্তৃত্ব বিস্তার করা সম্ভব। তাহলে কিভাবে তার চিন্তা-চেতনা, অনুভূতিকে প্রভাবিত করা সম্ভব। তাহলে কিভাবে তার চিন্তা-চেতনা, অনুভূতিকে প্রভাবিত করা যায়? প্রশ্নটি হলো ঠিক এখানেই।

মানুষ স্বভাবগতভাবে নিজের Ideology কে ঘিরে সকল অনুভূতি, বাহ্যিক কর্মসাধন করে থাকে। এই Ideology কে প্রভাবিত করতে যুগের পর যুগ নানা মতবাদ, জীবনাদর্শন, lifestyle মানুষের মাঝে আবর্তিত হয়েছে। যেমন: ধরুন সেন্ট লুইস[1]সম্রাট নবম লুই (১২০৭) নামে খ্যাত, যিনি ৮ নভেম্বর ১১২৬ খ্রিঃ হতে ২৫ আগস্ট ১২৭০ খ্রিঃ মৃত্যু অব্দি ফ্রান্সের রাজা ছিলেন। ফরাসি রাজাদের মাঝে তিনিই একমাত্র সেন্স হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন। ৭ম ক্রুসেডে ৮ ফেব্রুয়ারী ১২৫০ তারিখে, লুই ফারিস্কুরের যুদ্ধে তার সেনাবাহিনীকে হারিয়ে মিশরীয়দের হাতে বন্দী হন। অবশেষে ৪০০,০০০ বেজান্ট বা প্রায় ২০০,০০০ লিভারেস টুরনোইস মুক্তিপণের বিনিময়ে তার মুক্তির জন্য আলোচনা হয় , যা ফরাসি রাজপুত্রের বার্ষিক আয়ের চেয়ে সামান্য কম ছিল। ৮ম ক্রুসেডে তিউনিসিয়ায় অনেক সৈনিকের সাথে প্লেগে আক্রান্ত হন ও মৃত্যুবরণ করেন।- সংগৃহিত, https://en.wikipedia.org/wiki/Louis_IX_of_France ক্রমাগত ক্রুসেড যুদ্ধগুলোতে পরাজিত হচ্ছিল। এবার সে ভাবতে বাধ্য হয় যে, মুসলিমদেরপরাজিত করতে হলে তাদের সাথে বুদ্ধিবৃত্তিক হামলার ছক আঁকতে হবে। মুসলিমদের ওপর এরই পর থেকে শুরু হলো চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই। তারা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করলো জ্ঞান-বিজ্ঞান কে; আক্রমণ শুরু করলো মুসলিমদের আকিদা, ঈমান ও মৌলিক Ideology-এর উপর। এরই ধারাবাহিকতায় তারা ধ্বংস করল আমাদের হাজার বছরের খেলাফত। প্রয়োগ করলো সম্রাজ্যবাদ, প্রাচ্যবাদ, প্রজাতন্ত্র, গণতন্ত্র, লিবারেল সোসাইটির ভয়ানক পয়সন (Poison)। আর এগুলো কি Facebook, Twitter দ্বারা হয়েছিল তখন? এগুলো হয়েছিল বিস্তর লেখালিখি, গবেষণা ও তার প্রচারের মাধ্যমে; যা এযুগেও হচ্ছে আধুনিক blogging, social media, posting, leaflet বিতরণ, সেমিনার ইত্যাদি দ্বারা। বুঝাই যাচ্ছে মানুষের চিন্তা-ভাবনাকে কিভাবে এগুলো প্রভাবিত করছে! তবে এর মূলে আছে কলম ও তার ব্যবহার(অর্থাৎ লেখালিখি ও প্রচার)। আপনি লিখতে না জানলে আপনি কখনোই পরিপূর্ণ মানুষের চিন্তাশক্তি, অনুভূতি, বাহ্যিক চেতনাকে আয়ত্তে আনতে পারবেন না। মৌখিকভাবে শুধু ক্ষণস্থায়ীভাবে মানুষের মনকে প্রভাবিত করা যায়। যার স্থায়ীত্বকাল হয় বেশি থেকে বেশি কয়েক বছর!

এবার দেখা যাক, লেখালিখি মানুষের মনের কোন কোন বিষয়কে প্রভাবিত করে!

লেখালেখি থেকে মানুষ Narrative গ্রহণ করে

ধরুন, আপনি বার্তা মানুষের মনের খুব গভীরে খোদাই করতে চাচ্ছেন। আপনি চাচ্ছেন আপনার এই বার্তাটি মানুষ মনে প্রাণে মেনে নিক, এই বার্তাকে focus করে তার lifestyle ঢেলে সাজাক। আপনি সমাজের মানুষের জন্য, তাদেরর প্রভাবিত করতে, একটি গল্পের আড়ালে আপনার সেই বার্তাটি push in করে দিলেন এবার। গল্পের চরিত্রের আড়ালে সাজিয়ে তুললেন আপনার ভাবাদর্শ। মানুষ এবার এবার শুধু ঐ গল্পটি পড়লেই আপনার ভাবাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হবে। একে বলে Narrative Transportation. কাউকে আবেগগতভাবে নিমজ্জিত করা (high transportation)। আর যখন কেউ এভাবে আবেগগতভাবে নিমজ্জিত হবে, তখন তাদের সহানুভূতি (empathy) দৃঢ়ভাবে বৃদ্ধি পায়। আর এই প্রবণতা পরবর্তী এক সপ্তাহ ধরে বজায় থাকে।[2]Bal, P. M., & Veltkamp, M. (2013). How does fiction reading influence empathy? An experimental investigation on the role of emotional transportation. PloS one, 8(1), e55341. https://doi.org/10.1371/journal.pone.0055341 এবার এমন Narrative Transportation যখন বছরের পর বছর একটি জাতির উপর বলবৎ থাকে তখন তাদের মাঝে নিজস্ব স্বকীয়তা লোপ পায়। তারা ভুগতে থাকে Identity Crisis-এ। এটি তো বললাম গল্পের মাধ্যেমে কিভাবে Ideology Transport করা হয়! এবার এর উৎকৃষ্ট কিছু উদাহরণ দেখুন চারপাশে! যেমন- জাফর ইকবালের লিখে উপন্যাস ও গল্প, হুমায়ুন আহমেদের লিখা হিমু!

জাফর ইকবাল তার উপন্যাসে রাজাকার হিসেবে দাঁড়ি-টুপি পড়া লোককে উপস্থাপন করেছে। অথচ যদি আমরা দেশ স্বাধীনের ঐ সময়ের রাজাকারদের ছবি দেখি তাহলে দেখতে পারব তাদের কারো গায়ে পাঞ্জাবি নেই, নেই টুপি, নেই দাঁড়ি! কিন্তু উপন্যাসের আড়ালে সে এমন এক Narrative দাঁড়া করিয়েছে যে, দাঁড়ি-টুপি মানেই রাজাকার আর এরাই দেশের শত্রু! কি আজব Narrative Transportation! আবার দেখুন হুমায়ুন আহমেদের “হিমু” পড়ে অনেকেই খালি পায়ে, হলুদ পাঞ্জাবি পড়েছে! এটাই তরুণ সমাজের মনকে প্রাভবিত করেছে। অথচ এমন হলুদ পাঞ্জাবি আমাদের মুসলিম বাংলার সংস্কৃতি নয়!
এভাবেই লেখা পড়ে মানুষ Narrative গ্রহণ করে।

সভ্যতার ধারা পরিবর্তন

সভ্যতা একটি অঞ্চলের ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনযাত্রার মান, ধর্ম ইত্যাদির সাথে সম্পর্কিত। সভ্যতার ভীত গড়ে ওঠে যখন একটি জাতি নিজেদেরকে জ্ঞানার্জন, নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস চর্চাসহ এর থেকে শিক্ষা সর্বপরি স্রষ্টার দিকে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে। যদি প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা থেকে এক বিংশ শতাব্দি অব্দি এই পুরো বিবর্তন দেখা হয়, পর্যালোচনা করা হয়, তবে দেখা যাবে বিজ্ঞান চর্চা ও বস্তুবাদী মতবাদই শেষমেশ খ্রিষ্টবাদের ভিত্তিতে চলমান সমাজকে ধ্বংস করে ভিন্ন এক সভ্যতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

গ্রিক সভ্যতার[3]Hornblower, S. (2025, August 29). ancient Greek civilization. Encyclopedia Britannica. https://www.britannica.com/place/ancient-Greece বিকাশে মিথ (কল্প-কাহিনী), কবিতা, উপন্যাস, সাধারণ লেখনী, সামাজিক নানা তত্ত্বসহ মতবাদ্গুলো বেশি ভূমিকা রেখেছিল। হোমার[4]হোমার ছিলেন একজন বিখ্যাত গ্রীক কবি যিনি ইলিয়াড এবং ওডিসির মতো মহাকাব্যের জন্য পরিচিত। – Gill, N.S. (2025, May 7). The Life and Work of Homer. Retrieved from https://www.thoughtco.com/the-life-and-work-of-homer-119091-এর ইলিয়াড ও ওডিসি কবিতা ছিল এমনই এক রচনা। সে সময়ে মানুষ কবিতা না জানলে তাদেরকে শিক্ষিত বলা হতো না! এই কবিতাগুলোই তাদের চিন্তা-ভাবনাকে বেশি প্রভাবিত করত। যেমন- হোমারের কবিতা তাদের নীতিশাস্ত্র ও নৈতিকতার উপর প্রভাব বিস্তার করেছিল।

এমন একটি সভ্যতা যারা কিনা ছিল ইউরোপ এর একচ্ছত্র সভ্য জনগোষ্ঠী, তাদের মননকৌশলকে রেঁনেসা হয়ে আধুনিক একটি ভিন্ন সভ্যতায় convert করার সময়কাল্টা এবার চিনাত করুন। তাদের এই ধর্মতান্ত্রিক সমাকজকে বিভিন্ন প্রপাগান্ডা, লেখনী, জ্ঞান বিজ্ঞানের দ্বারা বিপ্লব ঘটিয়ে Renaissance[5]রেনেসাঁ বা পুনর্জন্ম বা পুনর্জাগরণ বা নবজাগরণ যার অভিধানিক অর্থ বিপ্লব (ফরাসি: Renaissance, ইতালীয়: Rinascimento) ছিল পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে সংঘটিত ইউরোপীয় ইতিহাসে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে পদার্পনের মধ্যবর্তী সময়।- https://en.wikipedia.org/wiki/Renaissance এর সময়ে পুরোপুরি ধসিয়ে দেয়া হইয়। সৃষ্টি হয় আধুনিক বস্তুবাদী যুগের।

এগুলোর সবকিছুই বর্তমান সময়ের কিছু প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের লেখনীর দিকে তাকালেও লক্ষ্য আমরা দেখতে পাবো, তারা লেখনীর দ্বারা ইসলামি সভ্যতাকে পরিবর্তন করে আসছে বহু আগ থেকেই। প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের এমন প্রপাগান্ডা যদি আলেমসমাজ দৃঢ় কলমে না রুখতেন, তবে আজ এই সমৃদ্ধ মুসলিম সভ্যতার(মানুষ সৃষ্টির সূচনা হতে কিয়ামত পর্যন্ত এটি থাকবে) ভীত ভেঙ্গে যেত। আল্লাহই এই দ্বীনের হেফাজত করবেন।[6]আল্লাহ তায়ালা বলেন,
اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّکۡرَ وَاِنَّا لَہٗ لَحٰفِظُوۡنَ
“বস্তুত এ উপদেশ বাণী (কুরআন) আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষাকর্তা।” (সূরা হিজর, আয়াত ৯).
এর বিপরীতে সকল ষড়যন্ত্রই নস্যাৎ হবে![7]আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمَکَرُوۡا وَمَکَرَ اللّٰہُ ؕ  وَاللّٰہُ خَیۡرُ الۡمٰکِرِیۡنَ
“আর কাফিরগণ গুপ্ত কৌশল অবলম্বন করল এবং আল্লাহও গুপ্ত কৌশল করলেন। বস্তুত আল্লাহ সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কৌশলী। ”(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৫৪).

লিখনির মাধ্যমে প্রপাগান্ডা বাস্তবায়নের উদাহরণ

লিখনির মাধ্যমে কিভাবে প্রপাগান্ডা বাস্তবায়ন হয়েছিল আধুনিক বিশ্বে এমন কয়েকজনের সাথে চলুন পরিচয় হয়ে যাক:

জোশেফ গ্যোব্-বেলস

তিনি[8]একজন রাজনীতিবিদ, এবং নাৎসি জার্মানির তথ্য মন্ত্রী ছিলেন ১৯৩৩ হতে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। জোসেফ গোয়েবলস ছিলেন এডলফ হিটলারের প্রধান সহযোগী এবং তার একনিষ্ঠ অনুসারী। –http://en.wikipedia.org/wiki/Joseph_Goebbels ছিলেন Nazi Germany’s minister of propaganda[9]Cambridge, M. (2025, May 22). 10 Most popular Propagandists Throughout History. Retrieved September 5, 2025, from https://www.lemontopics.com/10-most-popular-propagandists-throughout-history/। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে বলা হয় দ্য গোল্ডেন এইজ অফ প্রোপাগান্ডা(The golden age of propaganda)। আর এরই মাঝে masterclass হল Nazi propaganda[10]Chapman, O. (2025, September 5). The role of Propaganda in Historical Conflicts – Nazi Propaganda: A Masterclass in Manipulation. Scholar Mix. https://www.scholarmix.com/article/the-role-of-propaganda-in-historical-conflicts। এর মূল হোতা ছিলেন গ্যোব্‌-বেলস। Anti-semitic[11]প্রচলিত অর্থে Anti-semitism বা ইহুদি-বিদ্বেষ বলতে ইহুদি জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মের প্রতি যেকোনো ধরনের বৈরিতা বা কুসংস্কারকে বোঝানো হয়ে থাকে। এটি হতে পারে জাতিগত ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে।- https://en.wikipedia.org/wiki/Antisemitism এবং Pro-aryan[12]Aryanism বা আর্যবাদ হলো এমন এক জাতিগত আধিপত্য যা দৃষ্টিকোণ: আর্যরাই জাতিগত স্বতন্ত্র এক জাতি যাদেরই একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে পুরো মানবজাতিকে শাসন করার।- https://en.wikipedia.org/wiki/Aryanism মেসেজ/মতাদর্শ প্রচারে তারা ব্যবহার করেছিল পোস্টার, নিউজ পেপার, সিনেমা, এমনকি শিশুদের জন্য বই[13]Chapman, O. (2025, September 5). The role of Propaganda in Historical Conflicts – Nazi Propaganda: A Masterclass in Manipulation. Scholar Mix. https://www.scholarmix.com/article/the-role-of-propaganda-in-historical-conflicts। এরই সূত্র ধরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল হলোকাস্ট[14]ইউরোপে ইহুদি গণহত্যা (ইংরেজি: The Holocaust দ্য হলোকস্ট্‌; হিব্রু ভাষায়: השואה‎ হাশোয়া) হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের উপর চালানো গণহত্যা। হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসি পার্টির পরিচালনায় জার্মান নাৎসি সামরিক বাহিনী ইউরোপের তদানীন্তন ইহুদি জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি অংশকে এবং আরও কিছু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বন্দী শিবির ও শ্রম শিবিরে নির্বিচারে হত্যা করে। আনুমানিক ষাট লক্ষ ইহুদি এবং আরও অনেক সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষ প্রাণ দেয়। – https://en.wikipedia.org/wiki/The_Holocaust ও অন্যান্য হত্যাযজ্ঞ। তার বার্তা ছিল আবেগময় ও পুনরাবৃত্তি উপস্থাপনের সাহায্যে গোটা জাতিকে প্রভাবিত করেছিল। ছড়িয়েছিল জাতীয়তাবাদী বার্তা।

চার্লস মাস্টারম্যান

তিনি ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্যের War Propaganda Bureau (“Wilington House❞) এর প্রধান। তিনি H.G. Wells, Aurthur Conan Doyles সহ খ্যাতিমান লেখকদের নিয়ে ৩০০ এরও অধিক বই অপপ্রচারনামূলক পাম্ফলেট ২১ ভাষায় ঝাপিয়ে প্রচার করেছিলেন। এটি ছিল তখনকার সময়ের অন্যতম ব্যাপক সাহিত্যভিত্তিক প্রোপাগান্ডার হস্তক্ষেপ।[15]বিস্তারিত- https://en.wikipedia.org/wiki/Charles_Masterman

রাডইয়ার্ড কিপলিং

তিনি[16]জোসেফ রাডইয়ার্ড কিপলিং (ইংরেজি: Joseph Rudyard Kipling; জন্ম: ৩০ ডিসেম্বর, ১৮৬৫ – মৃত্যু: ১৮ জানুয়ারি, ১৯৩৬) একজন ইংরেজ লেখক, কবি এবং সাহিত্যিক ছিলেন যিনি ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। মূলত তার অসাধারণ শিশু সাহিত্যের জন্য সুখ্যাতি লাভ করেন। তার অমর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে রয়েছে শিশু সাহিত্য দ্য জাঙ্গল বুক, জাস্ট টু স্টরিস, পাক অফ পুক্‌স হিল, কিম। ১৯০৭ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বেঁচে থাকা ভারতীয় সেনাদের চিঠির লিখে ব্রিটিশ জনমত পরিচালনা করেছিলেন। তিনি “The Eye’s of Asia” শিরোনামে বই প্রকাশ করে ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে দমন করার কাছে সতর্কভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন।[17]https://en.wikipedia.org/wiki/Rudyard_Kipling

রুশ সাম্রাজ্যের লেখক

Pushkin[18]আলেক্সান্ডার সের্গেইয়েভিচ পুশকিন হলেন একজন রোমান্টিক ধাঁচের কবি, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক। অনেকেই তাকে রাশিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি এবং আধুনিক রুশ সাহিত্যের জনক হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকেন। -https://en.wikipedia.org/wiki/Alexander_Pushkin ও Tyutchev[19]ফিওদর টিউতচেভ ছিলেন একজন রাশিয়ান কবি ও কূটনীতিক ব্যক্তিত্ব. -https://en.wikipedia.org/wiki/Fyodor_Tyutchev সহ অন্যান্য লেখকরা রুশ সাম্রাজ্যের সময়ে tsarist[20]Tsarist Autocracy (জার শাসনব্যবস্থা): Tsarist autocracy , যাকে Tsarism (জারতন্ত্র)-ও বলা হয়, ছিল এক ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা (absolute monarchy)। এটি প্রথমে গ্র্যান্ড ডাচি অব মস্কো-তে শুরু হয় এবং পরে এর উত্তরসূরি রাষ্ট্রগুলো—Tsardom of Russia এবং Russian Empire-এ চালু ছিল। এই ব্যবস্থায় Tsar-এর হাতে নীতিগতভাবে অসীম ক্ষমতা ও সম্পদ থাকত। পশ্চিমা সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের তুলনায় Tsar-এর ক্ষমতা অনেক বেশি ছিল, কারণ সেখানে সংসদ বা আইনপ্রণয়নকারী সংস্থার দ্বারা কোনো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এছাড়া, Tsar-রা পশ্চিমা রাজাদের তুলনায় বেশি ধর্মীয় কর্তৃত্ব ভোগ করতেন।এই শাসনব্যবস্থার উৎপত্তি ঘটে ইভান তৃতীয় (Ivan III, ১৪৬২–১৫০৫)-এর সময়। তবে, ১৯০৫ সালের বিপ্লব-এর পর সংবিধান ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিনিধি পরিষদ (State Duma) চালু হলে Tsar-এর ক্ষমতা কিছুটা সীমাবদ্ধ হয়।তবুও, ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব পর্যন্ত রাশিয়ায় রাজতন্ত্রকে Tsarism নামেই ডাকা হতো। বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন-এর সময়ও রুশ বিপ্লবীরা এ শব্দটি ব্যবহার করত। -https://en.wikipedia.org/wiki/Tsarist_autocracy অবস্থানের পক্ষে সাহিত্য রচনা করে সাম্রাজ্যবাদ ও শাসন প্রচার করতেন।[21]How the Russian Empire promoted imperialism through literature- https://war.ukraine.ua/articles/interplay-between-literature-and-propaganda

সিআইএ (CIA) স্ট্রাটেজিক সাহিত্য প্রচারণা (Cold War Context)

Boris Pasternark এর “Doctor Zhivage”,যা Stalin era[22]স্টালিন যুগ (১৯২৭–১৯৫৩) সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সমসাময়িক সময় ছিল। এই সময়ে জোসেফ স্টালিন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা ছিলেন এবং তার শাসনের অধীনে দেশটি দ্রুত শিল্পায়ন ও সমবায়ভিত্তিক কৃষি দিকে এগিয়ে যায়। একই সঙ্গে, স্টালিন তার ব্যক্তিগত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে সক্ষম হন এবং রাজনৈতিকভাবে কঠোর দমননীতি চালু হয়। তবে এই সময়টি সাধারণ জনগণের জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টকরও, কারণ রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান, ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ এবং গুলাগ (শ্রম শিবির) ব্যবস্থা অনেক মানুষের জীবন বিপন্ন করে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এই যুগে কোটি মানুষের জীবন ও স্বাধীনতা হারানোর মতো ভয়াবহ মানবিক ক্ষতি ঘটেছিল। –https://en.wikipedia.org/wiki/History_of_the_Soviet_Union এর বিপরীতে মূল্যবোধ প্রচারের শক্তিশালী প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। CIA এ লেখাকে “Strategic (long range) Propaganda” হিসেবে ব্যবহার করে।[23]Boyagoda, R. (2020, June 1). Strategic Long-Term propaganda. First Things. Retrieved September 5, 2025, from https://firstthings.com/strategic-long-term-propaganda/ CIA cold war এর সময় Orwell, Camus, Nabokov, Joyce-এর বইগুলো (উভয়পক্ষের রাষ্ট্রীয় নাকচত্ত্বা সত্ত্বেও) ছড়িয়ে দেয়ার প্রচেষ্টা চালায়, যা গোপনে সাহিত্য মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা পরিচালনার এক দৃষ্টান্ত।[24]SBS News. (2014, June 20). Comment: Is literature the ‘most important weapon of propaganda’? Retrieved September 5, 2025, from https://www.sbs.com.au/news/article/comment-is-literature-the-most-important-weapon-of-propaganda/fc2mu6jkp

আব্বাসী আমলে শরয়ি জ্ঞানের উপর হামলা ও এর মোকাবেলা

আব্বাসী আমলে শরয়ি জ্ঞানের সাথে গ্রিক দর্শনের মিশেল ঘটে। দর্শন ও যুক্তিবিজ্ঞানের হামলা পরিচালিত হয়। খলিফা মামুন দর্শনের রাশি রাশি বইপত্র গ্রীস থেকে বাগদাদ আনান এবং পশুকতায় অনুবাদ করিয়ে প্রচার করেন। এতে মুসলিম আলেমদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিভ্রান্তির শিকার হন। শুরু হয় মুতাজিলা[25]ইসলাম ধর্মালম্বীদের একটি বাতিল ফিরকার নাম মুতাযিলা। ফিরকাটি কারণ ও যুক্তি আলোচনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ইমাম হাসান বসরির বিভ্রান্ত শিষ্য ওয়াসিল ইবনে আতাকে মুতাজিলা মতবাদের জনক গণ্য করা হয়। পবিত্র কুরআনকে মাখলুক তথা সৃষ্ট বলার কারণে মতবাদটি তীব্রভাবে নিন্দিত ও সমালোচিত। -মুফতি হারুনুর রশিদ, অনুবাদক: চিন্তাযুদ্ধ- মাওলানা ইসমাইল রেহান, নাশাত প্রকাশনী নামক নতুন বিভ্রান্তির উদ্ভব।
এর বিপরীতে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহি., ইমাম আবুল হাসান আশআরী রহি. এবং ইমাম গাজ্জালী রহি. দৃঢ় কলমে তা মোকাবেলা করেন। যুগে যুগে এমন লেখনীগুলোই যুগের ভ্রান্তি ও ফেরকা মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।[26]চিন্তাযুদ্ধ, মাওলানা ইসমাইল রেহান; পৃঃ ২৮
এই আলোচনা থেকে কি বুঝে আসলো তাহলে?

  • বুদ্ধিভিত্তিক লড়াইয়ে লেখনীর ভূমিকা
  • মানুষের মনস্তাত্ত্বিক নিয়ন্ত্রণ লেখনীর মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করা যায়
  • দীর্ঘমিয়াদি প্রোপাগান্ডা বাস্তবায়নে নিয়মতান্ত্রিক লেখনী খুবই গুরুত্বপূর্ণ
  • মানুষের আবেগ, চিন্তা, বুদ্ধিমত্তা লেখনীর মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে থাকে
  • লেখনীর দ্বারা রাজনৈতিক ও বৈশ্বিক ক্ষেত্রসমূহ প্রভাবিত হয়

আমাদের করনীয়

  • বুদ্ধি ভিত্তিক লড়াইয়ে অংশ নিতে হবে। আধুনিক এই বিশ্বে বুদ্ধি ভিত্তিক লড়াইয়ে যে জাতি যত বেশি এগিয়ে সেই সামগ্রিক দিক থেকে অগ্রগন্য। যুগের বুদ্ধি ভিত্তিক লড়াই চালিয়ে যেতে, শত্রুদের বিভিন্ন প্রপাগান্ডার বিপরীতে আজ আমাদের কলম ধরতে হবে!
  • যুগের মুতাজিলা, খারিজি সহ সকল ফিরকার বিপরীতে আমাদের লেখনি পারে একমাত্র জাতিকে সতর্ক করতে।
  • মানুষের অন্তরের মাঝে রবের দেওয়া নির্দেশ পৌছাতে আজ আমাদেরকে কলমের মাথা কালিতে ডুবাতেই হবে, নতুবা সেই স্থান দখলে নিবে এক গাইরুল্লাহ, ভিন্ন কোনো রব।
  • তাওহীদের দাওয়াত মানুষের কাছে এই লেখনির মাধ্যমেই সহজে পৌঁছানো যায়।
  • মুসলিম জাতির আত্মপরিচয়, ইতিহাস, গৌরব-গর্ব এই কলমের কালিতেই স্থাপত্য হয়ে এসেছে বইয়ের পাতায় পাতায়। তাই নিজের জন্য লিখতে হবে, উম্মাহর জন্য লিখতে হবে। গড়ে তুলতে হবে এক অদম্য অপ্রতিরোধ্য জাতি, যারা কিনা আল্লাহর জমিয়ে আল্লাহর আইনকে শতভাগ নিশ্চিত করে।

আজ আমাদেরকে যেমন তরবারীতে শান দিতে হবে ঠিক তেমনি কলমও ধরতে হবে। দায়ী ইলাল্লাহ এর ভূমিকায় এই কলম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এই কলম ও কালি দ্বারা আল্লাহ সুবাহানাহুওয়া তা’য়ালা সৃষ্টির শুরু লগ্ন হতে কিয়ামত অব্দি সব লিপিবদ্ধ করেছেন। এই কলমের দ্বারাই যুগে যুগে বুদ্ধিভিত্তিক ও লেখনীর যুদ্ধ হয়ে এসেছে আর হতেই থাকবে। বিইযনিল্লাহ!


মো. শাহেদ হাসান
ভোর ৬ টা
২৪ সফর, ১৪৪৭ হিজরি
১৯ আগস্ট, ২০২৫ ঈসায়ী
Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 সম্রাট নবম লুই (১২০৭) নামে খ্যাত, যিনি ৮ নভেম্বর ১১২৬ খ্রিঃ হতে ২৫ আগস্ট ১২৭০ খ্রিঃ মৃত্যু অব্দি ফ্রান্সের রাজা ছিলেন। ফরাসি রাজাদের মাঝে তিনিই একমাত্র সেন্স হিসেবে সমাদৃত হয়েছেন। ৭ম ক্রুসেডে ৮ ফেব্রুয়ারী ১২৫০ তারিখে, লুই ফারিস্কুরের যুদ্ধে তার সেনাবাহিনীকে হারিয়ে মিশরীয়দের হাতে বন্দী হন। অবশেষে ৪০০,০০০ বেজান্ট বা প্রায় ২০০,০০০ লিভারেস টুরনোইস মুক্তিপণের বিনিময়ে তার মুক্তির জন্য আলোচনা হয় , যা ফরাসি রাজপুত্রের বার্ষিক আয়ের চেয়ে সামান্য কম ছিল। ৮ম ক্রুসেডে তিউনিসিয়ায় অনেক সৈনিকের সাথে প্লেগে আক্রান্ত হন ও মৃত্যুবরণ করেন।- সংগৃহিত, https://en.wikipedia.org/wiki/Louis_IX_of_France
2 Bal, P. M., & Veltkamp, M. (2013). How does fiction reading influence empathy? An experimental investigation on the role of emotional transportation. PloS one, 8(1), e55341. https://doi.org/10.1371/journal.pone.0055341
3 Hornblower, S. (2025, August 29). ancient Greek civilization. Encyclopedia Britannica. https://www.britannica.com/place/ancient-Greece
4 হোমার ছিলেন একজন বিখ্যাত গ্রীক কবি যিনি ইলিয়াড এবং ওডিসির মতো মহাকাব্যের জন্য পরিচিত। – Gill, N.S. (2025, May 7). The Life and Work of Homer. Retrieved from https://www.thoughtco.com/the-life-and-work-of-homer-119091
5 রেনেসাঁ বা পুনর্জন্ম বা পুনর্জাগরণ বা নবজাগরণ যার অভিধানিক অর্থ বিপ্লব (ফরাসি: Renaissance, ইতালীয়: Rinascimento) ছিল পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দীতে সংঘটিত ইউরোপীয় ইতিহাসে মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে পদার্পনের মধ্যবর্তী সময়।- https://en.wikipedia.org/wiki/Renaissance
6 আল্লাহ তায়ালা বলেন,
اِنَّا نَحۡنُ نَزَّلۡنَا الذِّکۡرَ وَاِنَّا لَہٗ لَحٰفِظُوۡنَ
“বস্তুত এ উপদেশ বাণী (কুরআন) আমিই অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর রক্ষাকর্তা।” (সূরা হিজর, আয়াত ৯).
7 আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَمَکَرُوۡا وَمَکَرَ اللّٰہُ ؕ  وَاللّٰہُ خَیۡرُ الۡمٰکِرِیۡنَ
“আর কাফিরগণ গুপ্ত কৌশল অবলম্বন করল এবং আল্লাহও গুপ্ত কৌশল করলেন। বস্তুত আল্লাহ সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কৌশলী। ”(সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৫৪).
8 একজন রাজনীতিবিদ, এবং নাৎসি জার্মানির তথ্য মন্ত্রী ছিলেন ১৯৩৩ হতে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। জোসেফ গোয়েবলস ছিলেন এডলফ হিটলারের প্রধান সহযোগী এবং তার একনিষ্ঠ অনুসারী। –http://en.wikipedia.org/wiki/Joseph_Goebbels
9 Cambridge, M. (2025, May 22). 10 Most popular Propagandists Throughout History. Retrieved September 5, 2025, from https://www.lemontopics.com/10-most-popular-propagandists-throughout-history/
10, 13 Chapman, O. (2025, September 5). The role of Propaganda in Historical Conflicts – Nazi Propaganda: A Masterclass in Manipulation. Scholar Mix. https://www.scholarmix.com/article/the-role-of-propaganda-in-historical-conflicts
11 প্রচলিত অর্থে Anti-semitism বা ইহুদি-বিদ্বেষ বলতে ইহুদি জাতি, গোষ্ঠী বা ধর্মের প্রতি যেকোনো ধরনের বৈরিতা বা কুসংস্কারকে বোঝানো হয়ে থাকে। এটি হতে পারে জাতিগত ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে।- https://en.wikipedia.org/wiki/Antisemitism
12 Aryanism বা আর্যবাদ হলো এমন এক জাতিগত আধিপত্য যা দৃষ্টিকোণ: আর্যরাই জাতিগত স্বতন্ত্র এক জাতি যাদেরই একমাত্র ক্ষমতা রয়েছে পুরো মানবজাতিকে শাসন করার।- https://en.wikipedia.org/wiki/Aryanism
14 ইউরোপে ইহুদি গণহত্যা (ইংরেজি: The Holocaust দ্য হলোকস্ট্‌; হিব্রু ভাষায়: השואה‎ হাশোয়া) হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের উপর চালানো গণহত্যা। হিটলারের নেতৃত্বে নাৎসি পার্টির পরিচালনায় জার্মান নাৎসি সামরিক বাহিনী ইউরোপের তদানীন্তন ইহুদি জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি অংশকে এবং আরও কিছু সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে বন্দী শিবির ও শ্রম শিবিরে নির্বিচারে হত্যা করে। আনুমানিক ষাট লক্ষ ইহুদি এবং আরও অনেক সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর মানুষ প্রাণ দেয়। – https://en.wikipedia.org/wiki/The_Holocaust
15 বিস্তারিত- https://en.wikipedia.org/wiki/Charles_Masterman
16 জোসেফ রাডইয়ার্ড কিপলিং (ইংরেজি: Joseph Rudyard Kipling; জন্ম: ৩০ ডিসেম্বর, ১৮৬৫ – মৃত্যু: ১৮ জানুয়ারি, ১৯৩৬) একজন ইংরেজ লেখক, কবি এবং সাহিত্যিক ছিলেন যিনি ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। মূলত তার অসাধারণ শিশু সাহিত্যের জন্য সুখ্যাতি লাভ করেন। তার অমর সৃষ্টিকর্মের মধ্যে রয়েছে শিশু সাহিত্য দ্য জাঙ্গল বুক, জাস্ট টু স্টরিস, পাক অফ পুক্‌স হিল, কিম। ১৯০৭ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
17 https://en.wikipedia.org/wiki/Rudyard_Kipling
18 আলেক্সান্ডার সের্গেইয়েভিচ পুশকিন হলেন একজন রোমান্টিক ধাঁচের কবি, নাট্যকার ও ঔপন্যাসিক। অনেকেই তাকে রাশিয়ার সর্বশ্রেষ্ঠ কবি এবং আধুনিক রুশ সাহিত্যের জনক হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকেন। -https://en.wikipedia.org/wiki/Alexander_Pushkin
19 ফিওদর টিউতচেভ ছিলেন একজন রাশিয়ান কবি ও কূটনীতিক ব্যক্তিত্ব. -https://en.wikipedia.org/wiki/Fyodor_Tyutchev
20 Tsarist Autocracy (জার শাসনব্যবস্থা): Tsarist autocracy , যাকে Tsarism (জারতন্ত্র)-ও বলা হয়, ছিল এক ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা (absolute monarchy)। এটি প্রথমে গ্র্যান্ড ডাচি অব মস্কো-তে শুরু হয় এবং পরে এর উত্তরসূরি রাষ্ট্রগুলো—Tsardom of Russia এবং Russian Empire-এ চালু ছিল। এই ব্যবস্থায় Tsar-এর হাতে নীতিগতভাবে অসীম ক্ষমতা ও সম্পদ থাকত। পশ্চিমা সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের তুলনায় Tsar-এর ক্ষমতা অনেক বেশি ছিল, কারণ সেখানে সংসদ বা আইনপ্রণয়নকারী সংস্থার দ্বারা কোনো শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ছিল না। এছাড়া, Tsar-রা পশ্চিমা রাজাদের তুলনায় বেশি ধর্মীয় কর্তৃত্ব ভোগ করতেন।এই শাসনব্যবস্থার উৎপত্তি ঘটে ইভান তৃতীয় (Ivan III, ১৪৬২–১৫০৫)-এর সময়। তবে, ১৯০৫ সালের বিপ্লব-এর পর সংবিধান ও জাতীয় পর্যায়ের প্রতিনিধি পরিষদ (State Duma) চালু হলে Tsar-এর ক্ষমতা কিছুটা সীমাবদ্ধ হয়।তবুও, ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব পর্যন্ত রাশিয়ায় রাজতন্ত্রকে Tsarism নামেই ডাকা হতো। বিপ্লবের পর সোভিয়েত ইউনিয়ন-এর সময়ও রুশ বিপ্লবীরা এ শব্দটি ব্যবহার করত। -https://en.wikipedia.org/wiki/Tsarist_autocracy
21 How the Russian Empire promoted imperialism through literature- https://war.ukraine.ua/articles/interplay-between-literature-and-propaganda
22 স্টালিন যুগ (১৯২৭–১৯৫৩) সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সমসাময়িক সময় ছিল। এই সময়ে জোসেফ স্টালিন সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা ছিলেন এবং তার শাসনের অধীনে দেশটি দ্রুত শিল্পায়ন ও সমবায়ভিত্তিক কৃষি দিকে এগিয়ে যায়। একই সঙ্গে, স্টালিন তার ব্যক্তিগত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করতে সক্ষম হন এবং রাজনৈতিকভাবে কঠোর দমননীতি চালু হয়। তবে এই সময়টি সাধারণ জনগণের জন্য ছিল অত্যন্ত কষ্টকরও, কারণ রাজনৈতিক শুদ্ধি অভিযান, ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ এবং গুলাগ (শ্রম শিবির) ব্যবস্থা অনেক মানুষের জীবন বিপন্ন করে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের পাশাপাশি এই যুগে কোটি মানুষের জীবন ও স্বাধীনতা হারানোর মতো ভয়াবহ মানবিক ক্ষতি ঘটেছিল। –https://en.wikipedia.org/wiki/History_of_the_Soviet_Union
23 Boyagoda, R. (2020, June 1). Strategic Long-Term propaganda. First Things. Retrieved September 5, 2025, from https://firstthings.com/strategic-long-term-propaganda/
24 SBS News. (2014, June 20). Comment: Is literature the ‘most important weapon of propaganda’? Retrieved September 5, 2025, from https://www.sbs.com.au/news/article/comment-is-literature-the-most-important-weapon-of-propaganda/fc2mu6jkp
25 ইসলাম ধর্মালম্বীদের একটি বাতিল ফিরকার নাম মুতাযিলা। ফিরকাটি কারণ ও যুক্তি আলোচনার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ইমাম হাসান বসরির বিভ্রান্ত শিষ্য ওয়াসিল ইবনে আতাকে মুতাজিলা মতবাদের জনক গণ্য করা হয়। পবিত্র কুরআনকে মাখলুক তথা সৃষ্ট বলার কারণে মতবাদটি তীব্রভাবে নিন্দিত ও সমালোচিত। -মুফতি হারুনুর রশিদ, অনুবাদক: চিন্তাযুদ্ধ- মাওলানা ইসমাইল রেহান, নাশাত প্রকাশনী
26 চিন্তাযুদ্ধ, মাওলানা ইসমাইল রেহান; পৃঃ ২৮
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button