বাউলদের বিকৃত যৌনাচার – পর্ব ৩
নারীর যৌনাঙ্গে সিজদা করা, মলমূত্র-রজঃ-বীর্য খাওয়ার উৎসব

- বাউলদের বিকৃত যৌনাচার – পর্ব ১
- বাউলদের বিকৃত যৌনাচার – পর্ব ২
- বাউলদের বিকৃত যৌনাচার – পর্ব ৩
এগারো
- চারিচন্দ্র ভেদ → বাউলেরা মানুষের দেহ থেকে বের হওয়া ‘মল, মূত্র, নারীর ঋতুস্রাবের রক্ত, পুরুষের বীর্য’ এই চারটি জিনিসকে চারটি চন্দ্র বলে থাকে। তাদের মতে এগুলো আবার দেহের ভেতরেই প্রবেশ করাতে হবে।
“বাউল সন্যাসীরা যৌন সঙ্গমের মাধ্যমে যৌন পূজার একটি অনুষ্ঠান পালন করে। এতে তারা ‘চারিচন্দ্র ভেদ’ অর্থাৎ খতুবতী নারীর রক্ত, বীর্য, মল ও মূত্র সেবন করে।”[1]ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়, ২৩৬ পৃষ্ঠা
বারো
❝এই [বাউলদের] সম্প্রদায়ের সাধন-পদ্ধতি অতীব গুহা, উহা পুস্তকে প্রকাশ করা যায় না। “বা আছে ব্রহ্মাণ্ডে তা’ আছে ভাণ্ডে” (দেহে) এই মতই ইহাদের “দেহতত্ত্ব।” আর এক একটা প্রকৃতি বা স্ত্রীলোক লইয়া ইন্দ্রিয়-পরিচালন করাই সাধন। শোণিত, শুক্র, মল, মূত্র পরিত্যাগ না করিয়া গ্রহণের নামই “চারিচন্দ্র-ভেদ”।❞[2]বৈষ্ণব বিবৃতি, পৃ ৪০২, গৌড়ীয়-বৈষ্ণব-ইতিহাস, সংস্করণ-২, মধূসূদন তত্ত্ববাচস্পতি সংকলিত, প্রিন্ট: ১৯২৫
তেরো
❝সুধীর চক্রবর্তী মহাশয়ও লিখেছেন, “বাউলদের ব্যাপারে দ্বিতীয় যে চিন্তাভাবনা বহু মানুষকে তাঁদের সম্পর্কে কৌতূহল অথবা বিদ্বেষ টেনে এনেছে সেটা চারিচন্দ্র ভেদ, অর্থাৎ মল মূত্র রজ বীর্য পান। বাউল তো শুধু নয়, আমাদের কায়াবাদী সাধকদের অনেকে দুই চাঁদ (মল মূত্র) বা চার চাঁদের চর্চা করেন। এ তো বহু শত বছরের ধারা। এককালে বাউলদের ‘মুখেকো’ বলা হয়েছে। তাঁদের এই বিচিত্র সাধনাকে ‘কদর্য’ ‘বীভৎস’ ‘জঘন্য’ এইসব। নিন্দাত্মক বিশেষণে ঘৃণা করা হয়েছে।… সম্ভবতঃ ঐ বীর্যপানরত পুরুষ নিজের বীর্য দ্বারাই শরীরে এন্টিবডি উৎপন্ন করবে এবং তাতে শুক্রাণুর উৎপাদন অবশ্যই অল্প হবে। তাই দেখা যায়, বাউলদের সন্তান সংখ্যা অত্যন্ত অল্প।… রবীন্দ্রনাথ নিজেও বাউলগানের ভাবমূল্যে ও ছন্দে আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং দেশবাসীকে প্রথম সচেতন করেছিলেন বাউল গানের নিজস্বতা ও গুরুত্ব সম্পর্কে।” রবীন্দ্রনাথ নিজেকেও বাউল বলে পরিচয় দিয়েছেন। ডক্টর সুধীরবাবু এ প্রসঙ্গে লিখেছেন, “তাঁর কোন কোন রচনাকে তিনি এমনকি ‘রবীন্দ্র বাউলের রচনা’ বলে মেনে নিয়েছেন।” ❞[3]‘দেশ’, পৃ ৩৬, ডিসেম্বর ১৯৯১; এ এক অন্য ইতিহাস, আল্লামা গোলাম আহমদ মর্তুজা, পৃ ১৮৬
চৌদ্দ
❝সম্প্রদায়ভেদে ও গুরুভেদে ইহার পদ্ধতির তারতম্য হয়। প্রথম দুই ‘চন্দ্রের’ আর একটি ভেদ পদ্ধতি আছে, তাহাকে ব্যবহারিক ভাষায় ‘রস-রতির মিলন’ বলা হয়। লালনশাহী ফকিরগণ একটি নির্দিষ্ট সময়ে এই মিলনের অনুষ্ঠান করে, নবদ্বীপ ও রাঢ়ের বাউলগণ করে অন্য সময়ে। পদ্ধতিতেও বিভিন্নতা আছে। তবে প্রত্যেকেই এই ‘রস-রতির মিলন সাধন’ করে। ইহা তাহাদের সাধনায় একটা অপরিহার্য অঙ্গ। সাধকের সাধনায় অগ্রগতি ও ফল বিবেচনা করিয়া শুরু ক্রমে উপদেশ দিয়া ‘চন্দ্রাভেদ শিক্ষা’ দেন। …..রূপ হইতে স্বরূপে ভাব দেহে সাধক কতদূর উন্নীত হইতেছে, তাহারই পরীক্ষার জন্য ‘চারিচন্দ্র ভেদ’ প্রয়োজন।❞[4]প্রবন্ধঃ বীরভূমের বাউল : স্বাতন্ত্র্যের সন্ধ্যানে, চন্দন কুণ্ডু, উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য থেকে উদ্ধৃত, ম্যাগাজিনঃ পশ্চিমবঙ্গ, বীরভূম জেলা সংখ্যা-১৪১২, ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত, পৃ ২১৮
পনেরো
- লতাসিদ্ধি → বাউলদের ভাষায় নারীর যৌনাঙ্গ হলো ‘লতা’।[5]দেখুনঃ লোকায়ত দর্শন, পৃ ৩৯০, লেখকঃ দেবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সেই লতায় সিজদা দেওয়ার নামই তাদের কাছে লতাসিদ্ধি।
বাউলরা বলে ইবলিশ সিজদা দিয়েছে সব জায়গায়, নারীর যৌনাঙ্গ ছাড়া, নারীর যোনী ছাড়া বিশ্বের সবকিছু নাপাক, তাই একমাত্র নারীর যৌনাঙ্গে সিজদা দেওয়া উচিত। বাউলরা সেটাই করে এবং প্রচার করে।
❝ছওয়ালের বর্ণনা মতে বাউলগণ স্ত্রীলোকের যোনীকে ছেজদা করে ও বলে যে ইবলিছ স্বর্গ মর্ত্ত সকল স্থানের কোথাও ছেজদা করিবার বাকি রাখে নাই সুতরাং কেবল মাত্র ছেজদা করিবার বাকি আছে একটি স্থান, তাহা স্ত্রীলোকের যোনী, সুতরাং আমাদের নামাজ পড়িবার স্থান কোথায়? কাজেই স্ত্রীযোনীকে ছেজদা করি। উহা প্রকৃত হইলে ধন্য বাউলের দলকে! স্ত্রীযোনীকে ছেজদা করিয়া দরবেশ বনিতে বোধ হয় শয়তানও তাহাদিগকে শিখায় নাই। তাহারা স্ত্রীযোনীকে ছেজদা করিয়া
শয়তানের চেয়েও অধম হইয়া গিয়াছে।❞[6]বাউল ধ্বংস ফৎওয়া, সংস্করণ-২, পৃ ৫৪, রেয়াজউদ্দিন আহমদ কর্তৃক ১৯২৬ সালে সংকলিত ও প্রকাশিত
ষোল
❝বাউল দরবেশদের মধ্যে লতাসিদ্ধি বলে একটি কাণ্ড আছে। উক্ত ফকিরদেরকে যখনই নামাজের কথা বলবেন, তখনই তারা উত্তর দিবে ইবলিস সব জায়গায় সিজদা করেছে আমরা সিজদা করবো কোথায়? এই কোথায় সিজদা করতে হবে এই কথাটা আপনাকে কিন্তু আর সহজে তারা বলবে না। তবে শিষ্য হয়ে একান্ত ভক্ত যদি হতে পারেন তখন বলবে ইবলিস ঐ একটা জায়গা বাদ রেখেছে ওখানেই সিজদা করতে হবে-ওটা হলো ঐ ‘লতা’। বাউল সুফীরা এভাবেই লতাসিল্কি পালন করে থাকে।❞[7]আবূ তাহের বর্ধমানী, সাধু সাবধান, পৃ ১১-১২, পুরাতন প্রিন্ট
Footnotes
| ⇧1 | ভারতবর্ষীয় উপাসক সম্প্রদায়, ২৩৬ পৃষ্ঠা |
|---|---|
| ⇧2 | বৈষ্ণব বিবৃতি, পৃ ৪০২, গৌড়ীয়-বৈষ্ণব-ইতিহাস, সংস্করণ-২, মধূসূদন তত্ত্ববাচস্পতি সংকলিত, প্রিন্ট: ১৯২৫ |
| ⇧3 | ‘দেশ’, পৃ ৩৬, ডিসেম্বর ১৯৯১; এ এক অন্য ইতিহাস, আল্লামা গোলাম আহমদ মর্তুজা, পৃ ১৮৬ |
| ⇧4 | প্রবন্ধঃ বীরভূমের বাউল : স্বাতন্ত্র্যের সন্ধ্যানে, চন্দন কুণ্ডু, উপেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য থেকে উদ্ধৃত, ম্যাগাজিনঃ পশ্চিমবঙ্গ, বীরভূম জেলা সংখ্যা-১৪১২, ইন্ডিয়ার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত, পৃ ২১৮ |
| ⇧5 | দেখুনঃ লোকায়ত দর্শন, পৃ ৩৯০, লেখকঃ দেবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় |
| ⇧6 | বাউল ধ্বংস ফৎওয়া, সংস্করণ-২, পৃ ৫৪, রেয়াজউদ্দিন আহমদ কর্তৃক ১৯২৬ সালে সংকলিত ও প্রকাশিত |
| ⇧7 | আবূ তাহের বর্ধমানী, সাধু সাবধান, পৃ ১১-১২, পুরাতন প্রিন্ট |


