সাইকোলজিবিবিধ ধর্ম

খেলাধুলাঃ জনগণের আফিম

মার্কস বলেছিলেন—“ধর্ম হলো জনগণের আফিম”, অর্থাৎ ধর্ম মানুষকে মোহগ্রস্ত ও আচ্ছন্ন করে রাখে, মার্ক্সের কথা কতটুকু সত্য সেটাতে যাচ্ছি না তবে বর্তমানে এই বর্ণনা অনেকাংশে খাটে খেলাধুলার ক্ষেত্রে। খেলাধুলা আজ শুধুই বিনোদন নয়, বরং এটা এখন মানুষের কাছে আফিমের মতো যা তাদেরকে নেশাগ্রস্ত করে রাখে। সবকিছুকে ভুলিয়ে রাখে। আবার অনেকটা  মডার্ন ধর্মের মতোও, ক্রীড়াবিদরা যেন একেকটা দেবতা। যেমনঃ সাংবাদিক Pallavi Pundir বলেন, —

“১.৩ বিলিয়ন জনসংখ্যার দেশ ভারতে ক্রিকেট প্রায় একটি ধর্ম।”[1]INSIDE THE BIZARRE AND VIOLENT WORLD OF CRICKET FANDOM IN INDIA, PALLAVI PUNDIR, OCTOBER 29, 2021

Medium-এর একজন লেখক Vvedaant লিখেছেন

“Cricket is more than just a sport in India; it’s a nationwide obsession….To many, it’s a religion — one that transcends the traditional faiths of Hinduism, Islam, or Christianity.”

সেই সাথে মানুষের আবেগ, জাতীয়তা, রাজনীতি এমনকি হিংস্রতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু এই খেলাধুলা। এ বিষয়ে ভারতের একজন সুপারফ্যান Saravanan Hari লিখেছেন —

“Cricket is not just a sport for me. It’s an emotion. It’s more than a game.”

তাহলে দেখায় যাচ্ছে খেলা কেবল খেলা নয়, এটা তার চেয়েও বেশি কিছু।

যাইহোক এই খেলাধুলার আফিমে মানুষ মোহগ্রস্ত হয়ে বৈশ্বিকভাবে ছড়িয়েছে সন্ত্রাস, ঘটিয়েছে অজস্র দাঙ্গা, করেছে সমাজকে অস্থিরতার শিকার। ইতিহাস সেই সাক্ষ্য দেয়।

এই খেলাধুলা সহিংসতাকে উস্কে দেয়। মিউনিখ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত জার্মানিতে সহিংস অপরাধের পরিমাণ বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং এর মধ্যে ফুটবল খেলা কতটা দায়ী তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে যে খেলার দিনে সহিংস অপরাধ ১৭%  বৃদ্ধি পেয়েছে এবং প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলাগুলির সময় সহিংস অপরাধ ৬৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।[2]ANDRES, LEANDER; FABEL, MARC; RAINER, HELMUT (SEPTEMBER 2023). “HOW MUCH VIOLENCE DOES FOOTBALL HOOLIGANISM CAUSE?”. JOURNAL OF PUBLIC ECONOMICS. 225: 104970

এজন্যই দেখা যায় সামান্য একটি গোল বাতিল হওয়ার কারণে শত শত মানুষ মারা যায়, কিংবা প্রিয় দল হেরে যাওয়ায় আগুন লাগে স্টেডিয়ামে, রাস্তায় চলে মারপিট, দোকানপাট ভাঙচুর হয়, বোমাবর্ষণ চলে—মানুষ খুন হয়। কিংবা IPL-এর বিজয়োৎসব করতে গিয়ে পদদলিত হয়ে মারা যায় নিরীহ মানুষ, তখন তো প্রশ্ন জাগা উচিত : এটি কি কেবলই ক্রীড়া, নাকি কোন আফিম?

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায় খেলাধুলাকে ঘিরে সহিংসতা সেই প্রাচীন রোমান যুগেও ছিলো, সেখানে রথদৌড় দলের সমর্থকরা হরহামেশাই বড় বড় দাঙ্গা ঘটাতো, যার ফলে রোমান কর্তৃপক্ষ প্রায়ই ক্রীড়া ইভেন্ট বাতিল করত। ৫৩২ সালের নিকা দাঙ্গা বিশেষভাবে মারাত্মক ছিল, যেখানে ৩০ হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল বলে জানা যায়।

খ্রিস্টাব্দ ৫৯ সালে পম্পেইয়ে গ্ল্যাডিয়েটর প্রদর্শনীতে দাঙ্গা বাধে, যাতে বহু লোক নিহত হয়। রোমান সিনেট এরপর পম্পেইয়ে ১০ বছরের জন্য গ্ল্যাডিয়েটর প্রদর্শনী নিষিদ্ধ করে।

এই ধারাবাহিক এখনও চলে আসছে, খেলাধুলার ধরণ হয়তো পাল্টেছে। আধুনিকতার ছোঁয়াও লেগেছে কিন্তু খেলাধুলার নামে সহিংসতা এখনও কমেনি। বিশেষ করে ফুটবল খেলায় এটা দেখতে পাওয়া যায়। সমর্থকদের উন্মাদনা, মারামারি, দাঙ্গাবাজি ও আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া সেইসাথে গাড়ি ভাংচুরের মতো নানারকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে তারা। এদেরকে বলা হয় Football Hooligan, আধুনিক খেলায় Football Hooliganism-এর প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা ১৮৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডে ঘটেছিল। হেন দুষ্কর্ম নেই যা এরা করেনা ফুটবলকে ঘিরে। এই ফ্যানদের জন্য বহু সম্পত্তি নষ্ট হয়, বহু মানুষ আহত হয় বহুজন নিহতও হয়। কারণ?- ঐ খেলাধুলার আফিম। ফুটবল উন্মাদনা। পৃথিবীর কোন দেশই এই স্পোর্টস টেররিজম থেকে মুক্ত নয়। কয়েকটা মাত্র উদাহরণ দেবg

স্পোর্টস টেরোরিজম

ফুটবল

  • 1955-56 সালের ইংরেজি ফুটবল মৌসুমে, লিভারপুল এবং এভারটনের ভক্তরা বেশ কয়েকটি দাঙ্গা ঘটিয়েছিলো। বিশেষজ্ঞদের মতে 1960 এর দশকে ইংল্যান্ডে প্রতি বছর গড়ে 25টি দাঙ্গার ঘটনা নজরে এসেছে। এগুলো সবই করেছে ক্রীড়াপ্রেমিরা।
  • ১৯৬৯ সালে একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে জাতিগত উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে এল সালভাদোর ও হন্ডুরাস সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।
  • ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্ট, কলকাতার মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা এক সহিংস সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যাতে ১৬ জন নিহত এবং ১০০ জনেরও বেশি আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কলকাতা পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয় এবং বল প্রয়োগ করতে হয়।
  • ২০০১ সালের আগস্টে, ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং রহমতগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের মধ্যে প্রিমিয়ার ডিভিশন ম্যাচে হাজার হাজার ফুটবল ভক্তের তাণ্ডবে ১০০ জন আহত হয় । রেফারি পেনাল্টি বাতিল করলে, মোহামেডানের সমর্থকরা মাঠে প্রবেশ করে এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছুঁড়ে মারে, স্টেডিয়ামের বাইরে কয়েক ডজন গাড়ি এবং বাস ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
  • ২০০৮ সালে স্পার্টা প্রাগ – ডিনামো ম্যাচের আগে প্রাগে একটি বড় দাঙ্গা হয়েছিল । শহরের কেন্দ্রস্থলে দাঙ্গা করে একপক্ষের সমর্থকরা, দোকান ভাঙচুর করে এবং চেয়ার, সিগন্যাল ফ্লেয়ার এবং পাথর দিয়ে পুলিশের উপর আক্রমণ করে।
  • ২০১২ সালের ১ ফেব্রুয়ারী মিশরের পোর্ট সাইদ স্টেডিয়ামে ফুটবলকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা হয়।এই দাঙ্গায় ৭৪ জন নিহত এবং ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়। আল মাসরি সমর্থকরা আল আহলির সমর্থকদের লাঠি, পাথর, চাপাতি, ছুরি, বোতল এবং আতশবাজি দিয়ে  আক্রমণ করে।
  • ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে OGC Nice এবং 1. FC Köln-এর সমর্থকরা নাইস স্টেডিয়ামের বাইরে এবং ভেতরে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়, এতে ৩৯ জন আহত হয় এবং প্রায় ৫০ জন কোলনের সমর্থক হোম এন্ডে আতশবাজি ছুঁড়ে আক্রমণ করে।

আপাতত এতেই শেষ করলাম। আরো বহু আছে।

বাংলাদেশেও খেলাধুলার আফিমের প্রভাব ভালোভাবেই বিস্তার লাভ করেছে, আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘Buenos Aires Times’-এর মতে—”কোপা আমেরিকা আর বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের ১৬ কোটি জনগনের মাঝে ফুটবল উন্মাদনার সৃষ্টি হয়। ফুটবল খেলা নিয়ে উন্মাদনা চরমে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তো রীতিমতো দাঙ্গা মারপিট হয় প্রায়ই ফুটবল নিয়ে, সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করতে হয়, যেমন—

  • ৬ জুলাই ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা সংঘর্ষে জড়ায়। যাতে ৪ জন আহত হয়।
  • ২০২৫-এর ৮ ,৯ ও ১০ই মার্চ  তিনদিন ফুটবল নিয়ে  দুপক্ষে সংঘর্ষ হয়েছিল। সংঘর্ষের ঘটনায় তিনদিনে  একজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন।
  • ২০২২-এর ৭ই সেপ্টেম্বরের নিউজ অনুসারে, বাংলাদেশের বাগেরহাট সদরের সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকায় দুটি বিদ্যালয়ের ফুটবল খেলায় গোল নিয়ে বিতর্কের জের ধরে মারামারিতে ২৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে।
  • ২০২৩-এর ৩ জুলাই নেত্রকোনার মদনে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মারামারি ঘটনায় দিলীপ খান নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা গ্রামে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে দু-গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে নিউজে এসেছে।
Read More...  ধর্ম ও দানশীলতা: কেন ধার্মিকরা বেশি দান করেন?

হকি

১৯০০ সালের গোড়ার দিক থেকেই আইস হকির একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে সহিংসতা। Hockey: A People’s History- বই অনুসারে, শুধুমাত্র ১৯০৪ সালেই, হকি খেলার সময় ঘন ঘন ঝগড়া এবং হিংসাত্মক লাঠিচার্জের কারণে চারজন খেলোয়াড় নিহত হয়েছে। আইস হকিতে মারামারি তো উত্তর আমেরিকায় এই খেলার একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্য।

২০০৬ সালে এডমন্টন অয়লার্স ফাইনালে উঠলে এডমন্টনের ব্লু মাইল এলাকায় আগুন জ্বালানো ও লুটপাট হয়। মন্ট্রিয়াল ক্যানাডিয়েন্স শিরোপা জয়ের পর (১৯৮৬ ও ১৯৯৩) এবং ২০০৮ ও ২০১০ সালের প্লে-অফে শহরে ভাঙচুর হয়। ১৯৯৪ সালে কানাকস হেরে গেলে ভ্যাঙ্কুভারেও দাঙ্গা হয়।দাঙ্গার ফলে ১৯০ জনেরও বেশি লোক আহত হয়, ১.১ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়।

২০১১ সালে আবারও ভ্যাঙ্কুভার স্ট্যানলি কাপকে ঘিরে দাঙ্গা হয়।এই ঘটনায় প্রায় ১৫০ জন আহত হন, যার ফলে আনুমানিক ৪ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছিল।

ক্রিকেট

ভারতে ক্রিকেট নিয়ে উন্মাদনা চরমে। এখানে ক্রিকেটকে দেশপ্রেম, জাতীয়তাবাদের সাথে মিলিয়ে ফেলা খুবই সাধারণ বিষয়। এখানে জাস্ট ক্রিকেটের কারণে সংখ্যালঘুদের কটূক্তির শিকার হতে হয়। ম্যাচে জয়-পরাজয়ের কারণে হেনস্তারও মুখোমুখি হতে হয়। গালাগালি, ট্রোল তো আছেই। প্রদীপ ম্যাগাজিন তার বই, ‘Not Just Cricket: A Reporter’s Journey Through Modern India’-তে এইসব হাইপারন্যাশনালিস্টিক ফ্যানডম কালচার নিয়ে আলোচনা করেছেন।

যাইহোক ১৯৮৭ সালে ভারতের আহমেদাবাদে ক্রিকেট ম্যাচের পর সহিংসতায় পাঁচজন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়। ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বিরোধপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছিলো এবং সহিংসতা থামাতে পুলিশ গুলি চালালে আরও দুজন নিহত হয়। এই সময় যানবাহন ও দোকানপাট পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

১৯৯৬ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচে ইডেন গার্ডেনে “দাঙ্গা” হয়েছিল। সেই ম্যাচে ভারত ও শ্রীলঙ্কা মুখোমুখি ছিলো। ভারত যখন ম্যাচ হারছিল, তখন দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, তারা স্টেডিয়ামে ভাঙচুর শুরু করে। মাঠে বোতল ছুঁড়ে মারা হয় এবং স্ট্যান্ডে আগুন জ্বালানো হয়।

২০২৫ সালের আইপিএল-এ দিল্লি ক্যাপিটালস (DC) ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানস (MI)-এর মধ্যকার ম্যাচ চলাকালে দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষ ঘটে।

পৃথিবীজুড়ে এই ক্রীড়া-সন্ত্রাসীদের দ্বারা সংঘটিত দাঙ্গায় বহুজনের প্রাণহানি ঘটেছে। ইউরোপে ২০১৫ সালের দিকে এর কিছুটা বৃদ্ধিও ঘটে। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ক্রীড়াপ্রেমিদের সন্ত্রাস সর্বোচ্চ হারে ছিল। ২০২১ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডস এবং ফ্রান্সেও, ইতিমধ্যে বিশ্লেষণ করা হয়েছে যে সমর্থকদের সহিংসতা বেড়ে চলেছে।[3]MARTIN, MICHIEL (18 OCTOBER 2021). “IS HET HOOLIGANISME TERUG IN HET VOETBAL?”. DE MORGEN (IN FLEMISH). RETRIEVED 1 MARCH 2024 উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে ক্রীড়া ইভেন্টের প্রেক্ষাপটে মাঝেমধ্যেই সহিংসতা দেখা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ১৯৮০ সাল থেকে কানাডায় একাধিক দাঙ্গা।[4]FAIRLESS, DAEMON (2018). MAD BLOOD STIRRING: THE INNER LIVES OF VIOLENT MEN. TORONTO: RANDOM HOUSE CANADA. P. 276.

১৯৮০ এবং ১৯৯০ এর দশকে নেদারল্যান্ডসে এই ক্রীড়াসন্ত্রাস শীর্ষে পৌঁছেছিল। ২০১৮ সালের অক্টোবরে, সুইস ফেডারেল এবং ক্যান্টোনাল কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেছে যে পূর্ববর্তী ছয় মাসে সুইজারল্যান্ডের প্রতি তৃতীয় ফুটবল খেলায় সহিংস ঘটনা ঘটেছে। ১৯৯৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ান ফুটবল সন্ত্রাসে ৭০ জন মারা গেছে, যার মধ্যে ২১ জন মারা গেছে জনতার হাতে।[5]SOCCER A DEADLY GAME IN INDONESIA”. THE JAKARTA POST. 27 SEPTEMBER 2018. RETRIEVED 4 OCTOBER 2018

খেলাধুলার আফিমের কারণে ঘটা কিছু ট্রাজেডি

  • Peru-Argentina Stadium Tragedy

১৯৬৪ সালে পেরুতে একটি গোল বাতিল হওয়ার পর বিক্ষোভ, দাঙ্গা ও পুলিশের টিয়ার গ্যাসে পদদলনে ৩২০+ জন মারা যান।আহত হন ৫০০ জন।

  • Heysel Stadium Disaster

১৯৮৫ সালে বেলজিয়ামে ইউরোপিয়ান কাপ ফাইনালের আগে লিভারপুল ও জুভেন্টাস সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে দেয়াল ধসে পড়ে, ফলে ৩৯ জন প্রাণ হারান।৬০০ জন আহত হন।

  • Hillsborough Disaster

১৯৮৯ সালে ইংল্যান্ডে ফুটবল ম্যাচ চলাকালে স্টেডিয়ামের গেট খুলে দেওয়ায় প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে ৯৭ জন লিভারপুল সমর্থক পদদলিত হয়ে মারা যান। ৭৬৬ জন আহত হন

  • Kanjuruhan Stadium disaster

২০২২ সালে এটা ঘটেছিলো ইন্দোনেশিয়ার মালাং-এ। ম্যাচ শেষে যখন আরেমা এফসি হেরে যায়, তখন রাগান্বিত সমর্থকরা মাঠে ঢুকে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।পুলিশ ভিড় নিয়ন্ত্রণ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে, ১৩৫ জনের বেশি মানুষ মারা যান, যার মধ্যে অনেক শিশু ছিল। ৫৩৮ জন আহত হন।

  • Chinnaswamy Stadium Disaster

এই তো গত ৪ জুন ২০২৫-শে ভারতের বেঙ্গালুরুতে আইপিএল ট্রফি জয়ের পর আরসিবি-র বিজয়োৎসব উদযাপনের সময় ১১ জনের মৃত্যু ঘটেছে পদপিষ্ট হয়ে, আহত হয়েছে ৫০ জন।

খেলাধুলাকে বলা হয় আনন্দের মাধ্যম , সময় কাটানোর নিরীহ সঙ্গী। কিন্তু সত্যটা হলো এই খেলাধুলার জন্য অতীত বর্তমান সবসময়ই সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা হয়েছে। এখন এটা পরিণত হয়েছে একটা আধুনিক ধর্মে, যার অনুসারীরা এই খেলাধুলা-ধর্মের আফিমে উন্মত্ত হয়ে দাঙ্গা করে, লুটপাট করে, জনজীবনে দুর্ভোগ তৈরী করে, আগুন জ্বালায়, দোকানপাট ভাঙচুর করে এমনকি মানুষ খুনও করে নিজের পছন্দের দলের জন্য, ক্রীড়াবিদের জন্য এবং সামান্য গোলের জন্য।

— এরপরও কি সন্দেহ থাকে যে, এই খেলাধুলা নেহাতই  কোন আনন্দ নয়, এটা আফিমের মতো এক মোহ?

শয়তান শুধু মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করতে চায়। আর (চায়) আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বাধা দিতে। অতএব, তোমরা কি বিরত হবে না?সূরা মায়েদা আয়াত ৯১

Citation is loading...

Footnotes

Footnotes
1 INSIDE THE BIZARRE AND VIOLENT WORLD OF CRICKET FANDOM IN INDIA, PALLAVI PUNDIR, OCTOBER 29, 2021
2 ANDRES, LEANDER; FABEL, MARC; RAINER, HELMUT (SEPTEMBER 2023). “HOW MUCH VIOLENCE DOES FOOTBALL HOOLIGANISM CAUSE?”. JOURNAL OF PUBLIC ECONOMICS. 225: 104970
3 MARTIN, MICHIEL (18 OCTOBER 2021). “IS HET HOOLIGANISME TERUG IN HET VOETBAL?”. DE MORGEN (IN FLEMISH). RETRIEVED 1 MARCH 2024
4 FAIRLESS, DAEMON (2018). MAD BLOOD STIRRING: THE INNER LIVES OF VIOLENT MEN. TORONTO: RANDOM HOUSE CANADA. P. 276.
5 SOCCER A DEADLY GAME IN INDONESIA”. THE JAKARTA POST. 27 SEPTEMBER 2018. RETRIEVED 4 OCTOBER 2018
0 0 votes
Article Rating
Subscribe
Notify of
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Back to top button