কোরআনে কি সত্যি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা নেই?

ইসলাম সম্পর্কে সাধারণ মুসলমানদের যথাযথ ইলম না থাকার কারণে বর্তমান সময়ে কিছু খ্রিস্টান মিশনারি, তাদের পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠন ও উপসংগঠন, ভণ্ড মাজারপূজারী ও নাস্তিক গোষ্ঠী প্রচার করতে থাকে যে, কোরআনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কোনো উল্লেখ নেই। তাদের এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগাণ্ডার মাধ্যমে তারা সাধারণ মুসলমানদের মনে সংশয় ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালায়। যেখানে একজন সাধারণ মুসলমান সুরা ফাতিহাটাই ভালো করে পড়তে জানেন না, সেখানে তার পক্ষে কোরআনের বিভিন্ন স্থান হতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বর্ননা খুঁজে বের করাটা অন্ধের সুঁই খোঁজার মতন। আর এই সরলতাই বিভ্রান্তিকারীদের মূল সুযোগ। ফলে, অনেক মুসলমান এই অপপ্রচারের ফাঁদে পড়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, কোরআন মাজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের স্পষ্ট বিবরণ বিভিন্ন আয়াতে আছে, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদীস ও সাহাবা এবং তাবেইদের আছার দ্বারা প্রমাণিত। অতএব, এই বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার জবাবে আমাদের উচিত কুরআনের আলোকে সুস্পষ্টভাবে নামাজের বিবরণ তুলে ধরা, যেন সাধারণ মুসলিম সমাজ এ মিথ্যা ও ধোঁকাবাজির বিষয়ে সতর্ক হয়। আসুন, আমরা কুরআনের আলোকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বর্ননাগুলি কোরআন থেকে দেখে নেই।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের দলিল
সুরা বনি ইসরাইল আয়াত ৭৮
সুরা বনি ইসরাইলের ৭৮ নং আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়। যেমন আল্লাহ বলেন—
اَقِمِ الصَّلٰوۃَ لِدُلُوۡکِ الشَّمۡسِ اِلٰی غَسَقِ الَّیۡلِ وَقُرۡاٰنَ الۡفَجۡرِ ؕ اِنَّ قُرۡاٰنَ الۡفَجۡرِ کَانَ مَشۡہُوۡدًا
অর্থাৎ— সূর্য হেলার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম কর এবং ফজরের সময় কুরআন পাঠে যত্নবান থাক। স্মরণ রেখ, ফজরের তিলাওয়াতে ঘটে থাকে সমাবেশ।[1]সুরা বনি-ইসরাইল ১৭:৭৮
আয়াতটি একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করলে বুঝা যায় এই আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিবরণ বিদ্যমান। যেমন এখানে দ্বিপ্রহরের পর থেকে রাত ঘন হওয়া পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে বলা হয়েছে। তাই আয়াতের এই অংশে জোহর থেকে শুরু করে ইশা পর্যন্ত নামাজের বিবরণ এসে যায় এবং ফজরের তেলাওয়াতের বিষয়ে যত্নবান হওয়ার দ্বারা ফজর নামাজ এসে যায়। আয়াতটি সম্পর্কে আবু হুরাইরা রাদি. এর একটি সুন্দর ঘটনা থেকেও বিষয়টি বুঝা যায়। যেমন, তাবেই আব্দুর রহমান ইবনে আবু-লাবিবা রহি: থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রা:) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন—
أَمَا سَمِعْتَ اللَّهَ يَقُولُ: أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ؟ أَتَدْرِي مَا دُلُوكُ الشَّمْسِ؟ ” قُلْتُ: لَا قَالَ: إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ، عَنْ كَبِدِ السَّمَاءِ – أَوْ عَنْ بَطْنِ السَّمَاءِ – بَعْدَ نِصْفِ النَّهَارِ قَالَ: نَعَمْ فَصَلِّ الظُّهْرَ حِينَئِذٍ، وَصَلِّ الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ تَجِدُ لَهَا مَسًّا ” قَالَ: أَتَدْر مَا غَسَقُ اللَّيْلِ؟» قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ، غُرُوبُ الشَّمْسِ قَالَ: نَعَمْ، فَاحْدُرْهَا فِي أَثَرِهَا، ثُمَّ احْدُرْهَا فِي أَثَرِهَا، وَصَلِّ الْعِشَاءَ إِذَا ذَهَبَ الشَّفَقُ، وَادْلَأَمَّ اللَّيْلُ مِنْ هَهُنَا – وَأَشَارَ إِلَى الْمَشْرِقِ -، فِيمَا بَيْنَكَ وَبَيْنَ ثُلُثِ اللَّيْلِ، وَمَا عَجَّلْتُ بَعْدَ ذَهَابِ بَيَاضِ الْأُفُقِ، فَهُوَ أَفْضَلُ، وَصَلِّ الْفَجْرَ إِذَا طَلَعَ الْفَجْرُ، أَتَعْرِفُ الْفَجْرَ؟ قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ قَالَ: لَيْسَ كُلُّ النَّاسِ يَعْرِفُهُ قَالَ: قُلْتُ: إِذَا اصْطَفَقَ بِالْبَيَاضِ قَالَ: نَعَمْ، فَصَلِّهَا حِينَئِذٍ إِلَى السَّدَفِ، ثُمَّ إِلَى السَّدَفِ
অর্থাৎ— “তুমি কি আল্লাহ তাআলার এই বাণী أَقِمِ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ শোনোনি? তুমি কি জানো دُلُوكُ الشَّمْسِ দ্বারা কি বুঝায়?” আমি বললাম “না”। তিনি বললেন “এটা তখনই হয়, যখন মাঝ আকাশ থেকে সূর্য পশ্চিম দিকে হেলে যায়। তখনই দিনের মধ্যভাগ অতিক্রম করে।” আমি বললাম “হাঁ, বুঝতে পেরেছি।” তিনি বললেন “তখন তুমি জোহরের নামাজ আদায় করবে। আর আসরের নামাজ আদায় কর তখন, যখন সূর্য শুভ্র ও উজ্জ্বল থাকে এবং শরীরে সূর্যের উত্তপ্ততা অনুভব করা যায়।” তিনি আমাকে আবার জিজ্ঞেস করলেন “তুমি কি জানো غَسَقُ اللَّيْلِ দ্বারা কি বুঝায়?” আমি বললাম “হাঁ, এটি হলো সূর্যাস্ত।” তিনি বললেন “তুমি ঠিক ধরেছ। তখনই কিন্তু আলোকে অনুসরণ করে নামাজ আদায় করবে, এবং আকাশের লাল আভা যখন মিলিয়ে যাবে এবং রাতের অন্ধকার ঘনিয়ে আসবে, তখনই তুমি ইশার নামাজ আদায় করবে।” এই বলে তিনি আকাশের দিকে ইঙ্গিত করলেন। অতঃপর বললেন “এই সময়ের সীমাবদ্ধতা হলো তোমার ও রাতের এক-তৃতীয়াংশ। তবে আকাশের লাল আভা মুছে যাওয়ার সাথে সাথে যত দ্রুত তুমি ইশার নামাজ আদায় করবে, ততই উত্তম। আর ফজরের নামাজ আদায় করো তখন, যখন ফজরের আলো প্রকাশিত হয়। তুমি কি ফজর চিনো?” আমি বললাম— “হাঁ।” তিনি বললেন— “সকলে কিন্তু তা জানে না।” আমি বললাম “যখন আকাশে শুভ্র আভা ছড়িয়ে যায়।” তিনি বললেন— “ঠিক বলেছো। তখনই ফজরের নামাজ আদায় করো, যখন আকাশে আলো ছড়িয়ে পড়ে, এবং তার থেকে আলো থাকা অবস্থায়।”[2]মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২০৫৭ –
https://ketabonline.com/ar/books/16246/read?page=2068&part=2#p-16246-2068-1 .[3]সুনানে সাইদ ইবনে মানসুর, হাদিস নং ১২১৪ – https://ketabonline.com/ar/books/54732/read?page=3867&part=6#p-54732-3867-2 .এই হাদিসের সনদ হাসান সহিহ[4]قال المُحدِّث السلفي الباكستاني زكريا بن غلام قادر السلفي في كتابه “ما صح من آثار الصحابة في الفقه” (ج1: ص177): “الحديث صحيح.” وقال الشيخ أبو عمر ياسر بن فاطر عن إسناد هذا الحديث في كتابه “فضل الرحيم الودود تخريج سنن أبي داود” (ج5: ص177): “وهذا موقوف بإسناد لا بأس به.” و قال الشيخ أبو أسامة محمد بن مبارك الحكيمي المغربي في كتابه “العتيق مصنف جامع لفتاوى أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم” (خ2: ص138): “الحديث إسناده صحيح. ( مكتب الشامله)
ابن لبيبة هو: عبد الرحمن بن نافع بن لبيبة الطائفي، سمع أبا هريرة، قال العجلي: تابعي ثقة، وذكره ابن حبان في ثقات التّابعين [التَّاريخ الكبير (٥/ ٣٥٧)، ثقات العجلي (١٠٧١)، الجرح والتعديل (٥/ ٢٩٤)، مغاني الأخيار (٢/ ٦٢٢)، عمدة القاري (٦/ ٤٣)]، وعبد الله بن عثمان بن خثيم: مكي صدوق
ফজরের কোরআন তিলাওয়াত দ্বারা কি ফজরের নামাজ উদ্দেশ্য?
হাঁ, এর দ্বারা নামাজই উদ্দেশ্য। এই বিষয়ে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। যেমন আবু হুরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন—
عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ” فَضْلُ صَلاَةِ الْجَمِيعِ عَلَى صَلاَةِ الْوَاحِدِ خَمْسٌ وَعِشْرُونَ دَرَجَةً، وَتَجْتَمِعُ مَلاَئِكَةُ اللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةُ النَّهَارِ فِي صَلاَةِ الصُّبْحِ “. يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ اقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا
অর্থাৎ— রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “জামাতের সাথে নামায আদায় করার ফযীলত একাকী পড়ার চেয়ে পঁচিশ গুণ বেশী। আর ফজরের নামাযে রাতের ফিরিশতারা এবং দিনের ফিরিশতারা সমবেত হয়” (এ প্রসঙ্গে) আবু হুরায়রা (রা:) বলেন, তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াতটি পড়ে নিতে পার –وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا ।[5]সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৩৬২ –
https://muslimbangla.com/hadith/4362 .,[6]সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৩৪১ –
https://muslimbangla.com/hadith/8398 .এটি বিশুদ্ধ হাদিস
এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, আবু হুরায়রা (রা:) আল্লাহর রাসুল ﷺ-এর একটি বাণী বর্ণনা করেছেন। যেখানে রাসুল ﷺ বলেছেন যে, ফজরের নামাজের সময় দিন ও রাতের ফেরেশতাদের সমাবেশ ঘটে—যেমনটা কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে। অতঃপর আবু হুরায়রা (রা:) তাঁর ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ফজরের নামাজের সময় যে ফেরেশতাদের সমাবেশ ঘটে, তা তোমরা সুরা বনি ইসরাইল-এর ৭৮ নং আয়াত পড়ে দেখলেই বুঝতে পারবে। একই কথা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এই থেকে বোঝা যায় যে, সুরা বনি ইসরাইল-এর ৭৮ নং আয়াতে ফজরের কোরআন তিলাওয়াত দ্বারা ফজরের নামাজ উদ্দেশ্য করা হয়েছে।
এই বিষয়ে তাবেই মুজাহিদ (রহি:) ( ২১-১০৩ হি: ) বলেন—
وَقُرْءَانَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْءَانَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا يعني صلاة الفجر .
অর্থাৎ- وَقُرْءَانَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْءَانَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا এর মানে ফজরের নামাজ। [7]তাফসিরে মুজাহিদ ইবনে জুবাইর ৪৪০ পৃ:
https://archive.org/details/20200101_20200101_0706/page/n439/mode/1up?q=%D9%84%D8%AF%D9%84%D9%88%D9%83 .[8]তাফসির আত-তবারি, ১৫/৩৬ –
https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftaftabryhgr%2Ftaftabry15.pdf#page=36 .বর্ননাটি বিশুদ্ধ
তাবেই কাতাদা (রহি:) ( ৬০-১০৭ হি. ) বলেন—
وَقُرْآنَ الْفَجْرِ : صلاةَ الفجرِ. وأما قولُه: كَانَ مَشْهُودًا فإنَّه يقولُ: ملائكةُ الليلِ وملائكةُ النَّهارِ يشهَدون تلك الصلاةِ.
অর্থাৎ— وَقُرْآنَ الْفَجْرِ হলো ফজরের নামাজ আর كَانَ مَشْهُودًا হলো রাতের ও দিনের ফেরেশতা এই নামাজে সাক্ষী থাকে।[9]মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ১৬০২ –
https://shamela.ws/book/21791/1575 .[10]তাফসির-আত তবারি, ১৫/৩৫ –
https://shamela.ws/book/7798/10165অন্যত্র বর্ণিত হয়েছে যে, তাবেই কাতাদা (রহি:) ( ৬০-১০৭ হি. ) বলেন—
وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا: وَقُرْآنَ الْفَجْرِ صلاةَ الصبحِ، كنَّا نُحدَّثُ أن عندَها يجتمِعُ الحَرَسانِ من ملائكةِ اللَّهِ؛ حَرَسُ الليلِ وحَرَسُ النَّهارِ.
অর্থাৎ— وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا এখানে وَقُرْآنَ الْفَجْرِ হলো ফজরের নামাজ। আমরা সাহাবাদের থেকে এই কথাও শুনতাম যে, এই সময়ে রাত ও দিনের পাহারাদার ফেরেস্তারা মিলিত হয়।[11]তাফসির-আত তবারি, ১৭/৫২১ –
https://shamela.ws/book/43/9873 .উভয় বর্ণনা বিশুদ্ধ
ইবনে জুরাইজ আল-মাক্কি (রহি:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন —
قُلْتُ لِعَطَاءٍ: وَقُرْآنَ الْفَجْرِ قَالَ: هُوَ الصُّبْحُ، قُلْتُ: كَانَ مَشْهُودًا ، قَالَ: يَشْهَدُهُ المَلاَئِكَةُ وَالْخَيْرُ.
আমি আতা রহি: কে বললাম— وَقُرْآنَ الْفَجْرِ তিনি বললেন— “এটি ফজরের নামাজ”। আমি তিনাকে বললাম كَانَ مَشْهُودًا তিনি বলেন— “এতে ফেরেস্তারা সাক্ষী থাকে, যা কল্যানকর”।[12]মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ২১৯৬ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Fmosanaf_taaseel_2%2F02-6836.pdf#page=270 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা
এই বিষয়ে আরো অসংখ্য বর্ণনা আছে। লেখাটি অনেক বড়ো হয়ে যাবে এই ভয়ে সকল বর্ননা উল্লেখ করছি না।
মুফাসসিরদের তাফসির
জমহুর মুফাসসির এ বিষয়ে একমত যে, এই আয়াতে ৫ ওয়াক্ত নামাজের বর্ণনা আছে। যেমন ইমাম রজব হাম্বলি (রহি:) ( ৭৩৬-৭৯৫ হি. ) উক্ত আয়াত তিনার লিখিত ফাতহুল বারিতে উল্লেখ করে বলেন—
وقد ذكر غير واحد من الأئمة كمالك والشافعي: أن هذه الآية تدل على الصلوات الخمس، وروي معناه عن طائفة من السلف
অর্থাৎ— একাধিক ইমাম যেমন মালেক ও শাফেয়ি উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশ করে। তাছাড়াও সালফদের একটি দল থেকে অনুরূপ বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে।[13]ফাতহুল বারী, ইমাম রজব হাম্বলি; ৪/১৭৫ – https://shamela.ws/book/137/1755 .
ইমাম আবু মানসুর আল-আজহারি (রহি:) (২৮২-৩৭০ হি. ) বলেন—
القول عندي في دلوك الشمس أنه زوالها نصف النهار لتكون الآية جامعة للصلوات الخمس، والمعنى: أقم الصلاة؛ أي أدمها من وقت زوال الشمس إلى غسق الليل، فيدخل فيها الأولى والعصر وصلاتا غسق الليل، وهما العشاءان، ثم قال: قُرْآنَ الْفَجْرِ، فهذه خمس صلوات،
অর্থাৎ— আমার মতে دلوك الشمس বলতে বোঝানো হয়েছে মাঝ আকাশ থেকে সূর্য ঢলে যাওয়া। যাতে করে আয়াতটি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে অন্তর্ভুক্ত করে। অর্থাৎ أقم الصلاة মানে সূর্য হেলে পড়া থেকে শুরু করে রাতের ঘন অন্ধকার পর্যন্ত নামাজ কায়েম করো। এতে জোহর, আসর, এবং রাতের অন্ধকারের দুই নামাজ (মাগরিব ও ঈশা) অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর বলা হয়েছে: قُرْآنَ الْفَجْرِ ফজরের কিরাআত, এটি হলো পঞ্চম নামাজ। অতএব, এগুলো হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।[14]তাফসির আল-বাসিত, ১৩/৪৩২ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2F13231%2FBSeeT_13.pdf#page=432 .
ইমাম আল-মোতারজি (রহি:) ( ৫৩৮-৬১০ হি. ) বলেন—
وقولُه تعالى: أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ أي أَدِمْها لوقت زَوال الشمس، وبذلك تكون الآية جامعةً للصلوات الخمس.
অর্থাৎ— আল্লাহ তাআলার বাণী হলো أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ অর্থাৎ সূর্য ঢলে পড়া থেকে নামাজ অব্যাহত রাখো। এর দ্বারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে একত্রে নির্দেশ করে।[15]আল-মাগরিব ফি তারতীব আল-মু‘আর্রাব; ১/২৯৩ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftalalaba%2F01_87411.pdf#page=293 .
ইমাম ইবনে কাসীর (রহি:) ( ৭০১-৭৭৪ হি. ) বলেন—
فعلى هذا تكون هذه الآية دخل فيها أوقات الصلاة الخمسة، فمن قوله: لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيلِ – وهو ظلامه، وقيل: غروب الشمس – أُخِذ منه الظهر والعصر والمغرب والعشاء، وقوله: وَقُرْآنَ الْفَجْرِ ، يعني: صلاة الفجر.
অর্থাৎ— অতএব, এই আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় অন্তর্ভুক্ত আছে। আল্লাহর বাণী হলো— لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيلِ এর দ্বারা মূলত রাতের অন্ধকার বুঝায়। কারো কারো মতে সূর্যাস্ত। এই বাক্য থেকেই জোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার নামাজের সময় গ্রহণ করা হয়েছে। আর وَقُرْآنَ الْفَجْرِ মানে ফজরের নামাজ।[16]তাফসির ইবনে কাসীর, ৯/৫২ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftkather_sheikh%2Ftkather09.pdf#page=52 .
ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি (রহি:) ( ৮৪৯-৯১১ হি.) বলেন—
أَقِمْ الصَّلَاة لِدُلُوكِ الشَّمْس أَيْ مِنْ وَقْت زَوَالهَا إلَى غَسَق اللَّيْل إقْبَال ظُلْمَته أَيْ الظُّهْر وَالْعَصْر وَالْمَغْرِب وَالْعِشَاء وَقُرْآن الْفَجْر صَلَاة الصُّبْح إنَّ قُرْآن الْفَجْر كَانَ مَشْهُودًا تَشْهَدهُ ملائكة الليل وملائكة النهار
অর্থাৎ— أَقِمْ الصَّلَاة لِدُلُوكِ الشَّمْس সূর্য হেলে যাওয়ার পর থেকে إلَى غَسَق اللَّيْل রাত ঘনিয়ে আসা পর্যন্ত, অর্থাৎ জোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার নামাজ প্রতিষ্ঠা করবে। وَقُرْآن الْفَجْر ফজরের কোরআন তেলাওয়াত হলো ফজরের নামাজ। আর إنَّ قُرْآن الْفَجْر كَانَ مَشْهُودًا তখন উপস্থিত থাকে রাত ও দিনের ফেরেশতাগণ।[17]তাফসিরে জালালাই, ২৯০ পৃ: – https://archive.org/details/20220104_20220104_0113/page/n297/mode/1up?q=%D9%84%D8%AF%D9%84%D9%88%D9%83 .
সুরা রুম আয়াত ১৭-১৮
সুরা রুমের ১৭-১৮ নং আয়াতে স্পষ্ট পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিবরণ পাওয়া যায়। যেমন আল্লাহ বলেন—
فَسُبۡحٰنَ اللّٰہِ حِیۡنَ تُمۡسُوۡنَ وَحِیۡنَ تُصۡبِحُوۡنَ . وَلَہُ الۡحَمۡدُ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ وَعَشِیًّا وَّحِیۡنَ تُظۡہِرُوۡنَ.
অর্থৎ— সুতরাং আল্লাহর তাসবীহতে লিপ্ত থাক যখন তোমরা সন্ধ্যায় উপনীত হও এবং যখন তোমরা ভোরের সম্মুখীন হও। এবং তারই প্রশংসা আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে এবং বিকাল বেলায় (তার তাসবীহতে লিপ্ত হও) এবং জুহরের সময়ও।[18]সুরা রুম ৩০: ১৭-১৮
এই আয়াতেও স্পষ্টভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিবরণ পাওয়া যায়। এ আয়াত থেকে যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিবরণ পাওয়া যায়, তার একটি প্রমাণ ইবনে আব্বাস রাদি: এর বক্তব্যের মধ্যে ফুটে উঠে। যেমন তাবেই ইবনে রাজন (রহি:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন—
جاء نافع بن الأزرق إلى ابن عباس – رضي الله عنهما – فقال : الصلوات الخمس في القرآن ؟ فقال : نعم ، فقرأ : فسبحان الله حين تمسون قال : صلاة المغرب وحين تصبحون صلاة الصبح وعشيا صلاة العصر وحين تظهرون صلاة الظهر ، وقرأ : ومن بعد صلاة العشاء ثلاث عورات لكم .
অর্থাৎ— নাফি’ ইবনুল আজরাক ইবনু আব্বাস (রা:) -এর নিকট বললেন: “কোরআনে কি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা আছে?” ইবনে আব্বাস রাদি: বলেন “হাঁ, আছে”। অতঃপর তিনি ( ইবনে আব্বাস ) এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন। فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ তিনি বললেন “এটি মাগরিবের নামাজ। وَحِينَ تُصْبِحُونَ এটি ফজরের নামাজ। وَعَشِيًّا এটি আসরের নামাজ। وَحِينَ تُظْهِرُونَ এটি জোহরের নামাজ।” অতঃপর তিনি অন্য একটি আয়াত তেলাওয়াত করলেন। وَمِن بَعْدِ صَلَاةِ الْعِشَاءِ ۚ ثَلَاثُ عَوْرَاتٍ لَّكُمْ এবং বললেন— “এটি ইশার নামাজ।”[19]আল-মুস্তাদরাক, হাদিস নং ৩৫৯৮ – https://archive.org/details/jamia_20170718/page/n1267/mode/1up .[20]মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ১৭৮৮ – https://ketabonline.com/ar/books/16246/read?page=1797&part=2#p-16246-1797-1 .
এটি বিশুদ্ধ হাদিস [21]في هذا الحديث قال الإمام الحاكم رحمه الله: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ وَلَمْ يُخْرِجَاهُ، وقال الشيخ عبد القادر عطا في تعليقاته على المستدرك على الصحيحين: إن الحديث صحيح [المستدرك على الصحيحين 2/445]، وقال في تعليقاته على المستدرك على الصحيحين: إن إسناده حسن صحيح [المستدرك على الصحيحين 4/427]، وقال الإمام ابن حجر العسقلاني رحمه الله: إن إسناد هذا الحديث صحيح [إتحاف المهرة بالفوائد المبتكرة من أطراف العشرة 8/36]، وفي رسالة مقدمة لنيل درجة العالمية «الدكتوراه»، في تحقيق تفسير إسحاق البُسْتي، قيل: إن إسناد الحديث حسن صحيح [تفسير إسحاق البستي 2/76]، وكذلك غيرهم من الأئمة المحدّثين قد اعترفوا بصحة هذا الحديث.
অন্যত্র আবু ইয়াদ (রহি:) -এর বরাতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন—
عن ابن عباس في قوله: فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ إلى قوله: وَحِينَ تُظهِرُونَ. قال: جمعت الصلواتِ؛ فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ : المغربُ والعشاءُ، وَحِينَ تُصْبِحُونَ : صلاةُ الصبحِ، وَعَشِيًّا : صلاة العصر، وَحِينَ تُظْهِرُونَ : صلاة الظهر
অর্থাৎ— ইবনে আব্বাস (রাদি:) فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ থেকে وَحِينَ تُظهِرُونَ পর্যন্ত আয়াত সম্পর্কে বলেন যে, “এখানে নামাজগুলিকে একত্রিত করা হয়েছে। فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ। وَحِينَ تُصْبِحُونَ হলো ফজর নামাজ। وَعَشِيًّا হলো আসর নামাজ। وَحِينَ تُظهِرُونَ হলো জোহরের নামাজ।” [22]তাফসিরে তবারি, ১৮/৪৭৫ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftaftabryhgr%2Ftaftabry18.pdf#page=475 .[23]আল-আওসাত; ইবনে মুনজির, হাদিস নং ৯২৬ – https://archive.org/details/Pdf0849/page/n987/mode/1up .
হাদিসের সনদ সহিহ
তাবেই মুজাহিদ (রহি:) ( ২১-১৪০ হি. ) বলেন—
فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ : المغرب والعشاء، وحين تُصْبِحُونَ : الفجرُ، وَعَشِيًّا : العصر، وَحِينَ تُظهِرُونَ : الظهرُ، وكلُّ سجَدة في القرآن فهي صلاةٌ
অর্থাৎ— فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ দ্বারা মাগরিব ও ইশার, وَحِينَ تُصْبِحُونَ দ্বারা ফজর, وَعَشِيًّا দ্বারা আসর ও وَحِينَ تُظهِرُونَ দ্বারা জোহরের নামাজ উদ্দেশ্য। আর কোরআনে যখন সিজদার কথা বলা হয়, তখনও এর দ্বারা নামাজ উদ্দেশ্য। [24]তাফসির আত-তবারি, ২০/৮৪ – https://shamela.ws/book/43/11471 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা।
ইমাম মুকাতিল ইবনে সুলাইমান (রহি:) ( ৭০-১৫০ হি. ) বলেন—
فَسُبْحانَ اللَّهِ يعني فصلوا لله عز وجل حِينَ تُمْسُونَ يعني صلاة المغرب وصلاة العشاء وَحِينَ تُصْبِحُونَ يعنى صلاة الفجر وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّماواتِ وَالْأَرْضِ يحمده الملائكة في السموات ويحمده المؤمنون في الأرض وَعَشِيًّا يعني صلاة العصر وَحِينَ تُظْهِرُونَ يعني صلاة الأولى
অর্থাৎ— فَسُبْحانَ اللَّهِ হচ্ছে আল্লাহর জন্য নামাজ আদায় করা। حِينَ تُمْسُونَ হচ্ছে মাগরিব ও ইশারের নামাজ। وحِينَ تُصْبِحُونَ হচ্ছে ফজরের নামাজ। ولَهُ الحَمْدُ في السَّماواتِ والأَرْضِ এর মানে হলো ফেরেশতারা আসমানে আল্লাহর প্রশংসা করছে এবং মানুষেরা পৃথিবীতে। وعَشِيًّا হচ্ছে আসরের নামাজ। وحِينَ تُظْهِرُونَ হচ্ছে প্রথম ( জোহরের ) নামাজ। [25]তাফসির মুকাতিল ইবনে সুলাইমান, ৩/৮ – https://archive.org/details/i7atahtms/page/n941/mode/1up .
মুফাসসিরদের তাফসির
ইমাম শাফেই (রহি:) ( ১৫০-২০৪ হি. ) বলেন—
ويقال في قول الله عزَّ وجلَّ: فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ المغرب والعشاء، وَحِينَ تُصْبِحُونَ الصبح. وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا العصر، وَحِينَ تُظْهِرُونَ الظهر
অর্থাৎ— আল্লাহ তাআলার বাণী فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ দ্বারা মাগরিব ও ইশার নামাজ উদ্দেশ্য। وَحِينَ تُصْبِحُونَ দ্বারা ফজর, وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا দ্বারা আসর, وَحِينَ تُظْهِرُونَ দ্বারা জোহরের নামাজ উদ্দেশ্য।[26]তাফসিরে ইমাম শাফেই, ৩/১১৭২ – https://archive.org/details/20191231_20191231_1444/page/n1170/mode/1up .
ইমাম ইবনে আবু জামানিন (রহি.) ( ৩২৪-৩৯৯ হি.) বলেন—
فسبحان الله حِين تمسون الْمغرب وَالْعشَاء وَحين تُصبحُونَ صَلَاة الْفجْر وعشيا صَلَاة الْعَصْر وَحين تظْهرُونَ صَلَاةَ الظُّهْرِ
অর্থাৎ— فسبحان الله حِين تمسون হলো মাগরিব এবং ইশার নামাজ। وَحين تُصبحُونَ হলো ফজরের নামাজ। وعشيا হলো আসরের নামাজ। وَحين تظْهرُونَ হলো জোহরের নামাজ।[27]তাফসির ইবনে জামানির, ৩/৩৫৮ –
https://archive.org/details/20200103_20200103_0820/page/n1210/mode/1up .
ইমাম আবু সাঈদ আস-সামাআ’নি (রহি:) ( ৪২৬-৪৮৯ হি. ) বলেন—
وفي الآية إشارة إلى أوقات الصلاة الخمس، فقوله: حِينَ تُمْسُون إشارة إلى صلاة المغرب والعشاء، وقوله: وَحِينَ تُصْبِحُونَ إشارة إلى صلاة الصبح، وقوله: وَعَشِيًّا إشارة إلى صلاة العصر. وقوله: وَحِينَ تُظْهِرُونَ إشارة إلى صلاة الظهر
অর্থাৎ— এই আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ইঙ্গিত রয়েছে। যেমন আল্লাহর বাণী حِينَ تُمْسُونَ মাগরিব ও ইশার নামাজের ইঙ্গিত। আল্লাহর বাণী وَحِينَ تُصْبِحُونَ ফজরের নামাজের ইঙ্গিত। আল্লাহর বাণী وَعَشِيًّا আসরের নামাজের ইঙ্গিত। আল্লাহর বাণী وَحِينَ تُظْهِرُونَ জোহরের নামাজের ইঙ্গিত। [28]তাফসির ইমাম সামাআ’নি, ৪/২০৩ – https://archive.org/details/000145_201807/page/n1737/mode/1up .
আবু হাসান আল-ওহিদি *রহি:) ( মৃত্যু ৪৬৮ হি. ) বলেন—
فسبحان الله فصلُّوا لله سبحانه حين تمسون يعني: صلاة المغرب والعشاء الآخرة وحين تصبحون صلاة الفجر وعشياً يعني: صلاة العصر وحين تظهرون يعني: صلاة الظهر
অর্থাৎ— فسبحان الله মানে তোমরা নামাজ আদায় কর। حين تمسون মানে মাগরিব ও ইশার নামাজ। وحين تصبحون মানে ফজর নামাজ। وعشياً মানে আসরের নামাজ। وحين تظهرون মানে জোহরের নামাজ। [29]তাফসির আল-ওহিদি, ৮৪০ পৃ: – https://archive.org/details/20220309_20220309_2141/page/n838/mode/1up. .
ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি (রহি:) ( ৮৪৯-৯১১ হি. )বলেন—
فَسُبْحَان اللَّه أَيْ سَبِّحُوا اللَّه بِمَعْنَى صَلُّوا حِين تُمْسُونَ أَيْ تَدْخُلُونَ فِي الْمَسَاء وَفِيهِ صَلَاتَانِ الْمَغْرِب وَالْعِشَاء وَحِين تُصْبِحُونَ تَدْخُلُونَ فِي الصَّبَاح وَفِيهِ صَلَاة الصُّبْح وَلَهُ الْحَمْد فِي السَّمَاوَات وَالْأَرْض اعْتِرَاض وَمَعْنَاهُ يَحْمَدهُ أَهْلهمَا وَعَشِيًّا عَطْف عَلَى حِين وَفِيهِ صَلَاة الْعَصْر وَحِين تُظْهِرُونَ تَدْخُلُونَ فِي الظَّهِيرَة وَفِيهِ صَلَاة الظُّهْر
অর্থাৎ— فَسُبْحان اللَّه এর মানে হচ্ছে নামাজ আদায় করো। حِين تُمْسُونَ এরমধ্যে রয়েছে দুইটি নামাজ, মাগরিব এবং ইশার। وحِين تُصْبِحُونَ এর মধ্যে ফজরের নামাজ। ولَهُ الحَمْد فِي السَّماوات والأَرْض এর মানে হলো আকাশ ও জমিনের অধিবাসীরা আল্লাহর প্রশংসা করে। وعَشِيًّا এর মধ্যে আছে আসরের নামাজ। وحِين تُظْهِرُونَ এর মধ্যে আছে জোহরের নামাজ। [30]তাফসিরে জালালাই, ৪০৬ পৃ: – https://archive.org/details/20220104_20220104_0113/page/n414/mode/1up .
সুরা হুদ আয়াত ১১৪
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিবরণ সম্পর্কে কোরআনের আরেকটি আয়াতে হলো—
وَاَقِمِ الصَّلٰوۃَ طَرَفَیِ النَّہَارِ وَزُلَفًا مِّنَ الَّیۡلِ ؕ اِنَّ الۡحَسَنٰتِ یُذۡہِبۡنَ السَّیِّاٰتِ ؕ ذٰلِکَ ذِکۡرٰی لِلذّٰکِرِیۡنَ
অর্থাৎ— এবং (হে নবী!) দিনের উভয় প্রান্তে এবং রাতের কিছু অংশে নামায কায়েম কর। নিশ্চয়ই পুণ্যরাজি পাপরাশিকে মিটিয়ে দেয়। যারা উপদেশ মানে তাদের জন্য এটা এক উপদেশ।[31]সুরা হুদ ১১/১১৪
জমহুর মুহাদ্দিসদের মতে এই আয়াতেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বর্ণনা পাওয়া যায়।[32]এই আয়াত সম্পর্কে মুফাসসিরদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কারো মতে এই আয়াতে চার ওয়াক্ত নামাজের বর্ণনা আছে। তিনারা বলেন طَرَفَیِ النَّہَارِ হলো ফজর ও আসরের নামাজ এবং وَزُلَفًا مِّنَ الَّیۡلِ হচ্ছে মাগরিব ও ইশার নামাজ। আবার কারো মতে طَرَفَیِ النَّہَارِ হচ্ছে ফজর ও মাগরিবের নামাজ এবং طَرَفَیِ النَّہَارِ হচ্ছে ইশার নামাজ। কিন্তু আমাদের কাছে অধিক বিশুদ্ধ ও যুক্তিযোগ্য মনে হয় ফজর, আসর, মাগরিবও ইশার নামাজ। তাছাড়া যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা বলেছেন তাদের বর্ননাও বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য। যেহেতু অধিকাংশ মুহাদ্দিস পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা বলেছেন তাই আমরা এর ওপরই ভিত্তি করে মত প্রকাশ করেছি।
যেমন তাবেই হাসান বসরি (রহি:) (২১-১১০ হি:) বলেন—
فِي قَوْلِهِ تَعَالَى أَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ صَلَاةُ الْفَجْرِ وَالطَّرَفُ الْآخَرُ الظُّهْرُ وَالْعَصْرُ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ الْمَغْرِبُ وَالْعِشَاءُ
অর্থাৎ— আল্লাহ তায়ালার বাণী أَقِمِ الصَّلَاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ হলো ফজরের নামাজ এবং অপর প্রান্ত হলো জোহর এবং আসরের নামাজ আর وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ।[33]সুনানে কুবরা বাইহাকি, হাদিস নং ১৬৭৮ – https://shamela.ws/book/7861/1903 .[34]তাফসির ইবনে হাতেম, হাদিস নং ১১২৬৪+৭ – https://shamela.ws/book/8658/2081 .
এই বর্ণনা বিশুদ্ধ
তাবেই মুজাহিদ (রহি:) ( ২১-১০৩ হি: ) বলেন—
الصلاة طرفي النهار قال الفجر والظهر والعصر
অর্থাৎ— الصلاة طرفي النهار হচ্ছে ফজর, জোহর এবং আসর নামাজ।[35]তাফসির সুফিয়া সাওরি, হাদিস নং ৩৮৫- https://shamela.ws/book/2229/131#p1 .[36]তাফসির আত-তবারি, হাদিস নং ১৮৬০৯-১০- https://shamela.ws/book/43/8663 .
তিনি আরো বলেন—
وزلفًا من اللي ، قال: المغرب، والعشاء.
অর্থা— وزلفًا من الليل হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ।[37]তাফসির আত-তবারি, হাদিস নং ১৮৬৩৭, ৮, ৯ – https://shamela.ws/book/43/8669#p1 .
উভয় বর্ননা বিশুদ্ধ
তাবেই মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাইজি (রহি:) ( ৪০-১০৭ হি. ) বলেন—
فَطَرَفَا النَّهَارِ: الْفَجْرُ وَالظُّهْرُ وَالْعَصْرُ، وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ : الْمَغْرِبُ وَالْعِشَاءُ، إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ وَهُنَّ الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ
অর্থাৎ— فَطَرَفَا النَّهَارِ হলো ফজর, জোহর ও আসরের নামাজ এবং وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ আর إِنَّ الْحَسَنَاتِ يُذْهِبْنَ السَّيِّئَاتِ এর উদ্দেশ্য হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ।[38]তাজিমুল কদরুস-সালাত, হাদিস নং ৮২ – https://shamela.ws/book/13087/100 .[39]আজ-জুহদু আর-রকাইক, হাদিস নং ৯০৫ – https://shamela.ws/book/13028/938 .
এই বর্ণনা বিশুদ্ধ
মুফাসসিরদের তাফসির
ইমাম ইব্রাহিম আল-যাজ্জাজ (রহি:) ( ২৪১-৩১১ হি. ) বলেন—
فَطَرفا النهار غُدُوُّه وعَشِيه، وصلاة طرفي الئهارِ الغدَاة والظهر والعصرُ…..زُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ الصلاة القريبة من أول الليل، وزلَفاً جمع زُلْفة، يعنى بالزلف من الليل المغرب وعشاء الآخرة.
অর্থাৎ— অতএব দিনের দুই প্রান্ত হলো সকাল এবং বিকাল। আর দিনের দুই প্রান্তের নামাজ হলো ফজর, জোহর ও আসর।….আর زُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ হলো রাতের প্রথম অংশের কাছাকাছির নামাজ। আর “زلفاً” শব্দটি হলো “زلفة”-এর বহুবচন। এর দ্বারা রাতের নিকটবর্তী সময় কে বোঝানো হয়েছে। তা হলো মাগরিব এবং শেষের নামাজ ইশার।[40]মাআনিল কোরআন ওয়া-ইরবিহ্, ৩/৮২ – https://shamela.ws/book/922/1013 .
ইমাম ইবনে আবু জামানিন (রহি:) ( ৩২৪-৩৯৯ হি. ) বলেন—
وَأَقِمِ الصَّلاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا من اللَّيْل يَعْنِي: الصَّلَوَاتِ الْخَمْسَ: أَنْ تُقَامَ عَلَى وضوئها ومواقيتها وركوعها وسجودها. وَطَرَفَا النَّهَارِ؛ فِي الطَّرَفِ الأَوَّلِ صَلاةُ الصُّبْحِ، وَفِي الطَّرَفِ الآخَرِ الظُّهْرُ وَالْعَصْرُ وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ يَعْنِي: صَلاةَ الْمَغْرِبِ وَصَلاةَ الْعِشَاءِ الآخِرِ
অর্থাৎ— وَأَقِمِ الصَّلاةَ طَرَفَيِ النَّهَارِ وَزُلَفًا من اللَّيْل এর মানে হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। যা আদায় করা হবে অজুসহ, নির্দিষ্ট সময়ে, রুকু ও সেজদার সাথে। আর দুই প্রান্তের নামাজের মধ্যে প্রথম প্রান্তের নামাজ হলো ফজরের নামাজ এবং শেষ প্রান্তের নামাজ হলো জোহর ও আসর। আর وَزُلَفًا مِنَ اللَّيْلِ হলো মাগরিব এবং শেষের নামাজ ইশা।[41]তাফসিরুল কুরআন ইমাম ইবনে জামানিন, ২/৩১২- https://archive.org/details/1192Pdf_201807/page/n737/mode/1up .
ইমাম মাক্কি ইবনে আবু তালিব (রহি:) ( ৩৫৫-৪৩৭ হি. ) বলেন—
وكذلك قوله تعالى: وَأَقِمِ الصلاة طَرَفَيِ النهار فالطرف الأول صلاة الصبح، والطرف الآخر صلاة الظهر العصر وقوله: وَزُلَفاً مِّنَ اليل يعني المغرب والعشاء فهذه الآية أيضاً جمعت فرض الصلوات الخمس وأوقاتها
অর্থাৎ— আল্লাহর বাণী وَأَقِمِ الصلاة طَرَفَيِ النهار এর প্রথম প্রান্ত হলো ফজরের নামাজ এবং দ্বিতীয় প্রান্ত হলো জোহর এবং আসর নামাজ। আর আল্লাহর বাণী وَزُلَفاً مِّنَ اليل হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ। তাহলে এই আয়াতেও পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ ও তার সময়সূচি একত্রিত করা হয়েছে।[42]আল-হিদায়াত ইলা বুলুগু নিহায়াহ্, ১২/৭৯৪৫- https://shamela.ws/book/22593/7839 .
ইমাম ইবনে রুশদ (রহি:) ( ৪৫০-৫২০ হি. ) বলেন—
ففي الطرف الأول صلاة الصبح، وفي الطرف الثاني صلاة الظهر والعصر، وزلفا من الليل المغرب والعشاء
অর্থাৎ— অতএব প্রথম প্রান্তে আছে ফজরের নামাজ আর দ্বিতীয় প্রান্তে আছে জোহর ও আসরের নামাজ, এবং রাতের কিছু অংশে মাগরিব ও ইশার নামাজ।[43]মুকাদ্দিমা আল-মুমাহ্হিদাত, ১/১৪৬ – https://shamela.ws/book/21735/139 .
ইমাম জালালুদ্দিন আল-মুহাল্লি (রহি:) ( ৭৯১-৮৬৪ হি. ) বলেন—
وَأَقِمْ الصَّلَاة طَرَفَيْ النَّهَار الْغَدَاة وَالْعَشِيّ أَيْ الصُّبْح وَالظُّهْر وَالْعَصْر وَزُلَفًا جَمْع زُلْفَة أَيْ طَائِفَة مِنْ اللَّيْل الْمَغْرِب وَالْعِشَاء
অর্থাৎ— وَأَقِمْ الصَّلَاة طَرَفَيْ النَّهَار হলো সকাল ও বিকাল। অর্থাৎ ফজর, জোহর ও আসরের নামাজ। আর “وَزُلَفًا” হলো “زُلْفَة” শব্দের বহুবচন, যার মানে রাতের একাংশ। مِنْ اللَّيْل হলো মাগরিব ও ইশার।[44]তাফসিরে জালালাই, ২৩৩ পৃষ্ঠা – https://archive.org/details/20220104_20220104_0113/page/n242/mode/1up .
সুরা ত্বা-হা, আয়াত ১৩০
কোরআনে আরেকটি আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বর্ণনা পাওয়া যায়। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেন—
فَاصۡبِرۡ عَلٰی مَا یَقُوۡلُوۡنَ وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَقَبۡلَ غُرُوۡبِہَا ۚ وَمِنۡ اٰنَآیِٔ الَّیۡلِ فَسَبِّحۡ وَاَطۡرَافَ النَّہَارِ لَعَلَّکَ تَرۡضٰی
অর্থাৎ— সুতরাং (হে নবী!) তারা যেসব কথা বলে, তাতে সবর কর এবং সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে নিজ প্রতিপালকের তাসবীহ ও হামদে রত থাক এবং রাতের মুহূর্তগুলোতেও তাসবীহতে রত থাক এবং দিনের প্রান্তসমূহেও, যাতে তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাও।[45]সুরা ত্বা-হা, আয়াত নং ১৩০
এই আয়াতেও আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বর্ণনা পাচ্ছি। যেমন সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে এই দুই সময় ফজর ও আসরের নামাজ। রাতের মুহূর্তগুলি দ্বারা মাগরিব ও ইশার নামাজ এবং দিনের প্রান্তভাগ বলতে জোহরের নামাজ।
এই আয়াত সম্পর্কে তাবেই কাতাদা (রহি:) ( ৬০-১০৭ হি. ) বলেন—
وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ قَالَ: ” هِيَ صَلَاةُ الْفَجْرِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا صَلَاةُ الْعَصْرِ وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ الْمَغْرِبِ , وَالْعِشَاء وَأَطْرَافَ النَّهَارِ صَلَاةُ الظُّهْرِ.
অর্থাৎ— وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ হলো ফজর নামাজ। وَقَبْلَ غُرُوبِهَا হলো আসর নামাজ। وَمِنْ آنَاءِ اللَّيْلِ হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ এবং وَأَطْرَافَ النَّهَارِ হলো জোহর নামাজ।[46]তাফসির আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ১৮৪৭ – https://shamela.ws/book/21791/1817 .
বিশুদ্ধ বর্ননা
মুফাসসিরদের তাফসির
ইমাম মক্কি ইবনে আবু তালিব (রহি:) ( ৩৫৫-৪০৭ হি. ) বলেন—
وكذلك قوله تعالى: وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشمس يعني صلاة الصبح، وَقَبْلَ غُرُوبِهَا يعني: العصر. وَمِنْ آنَآءِ الليل فَسَبِّحْ يعني: المغرب والعشاء. وَأَطْرَافَ النهار يعني: الظهر، لأن وقتها طرفي النهار.
অর্থাৎ— এবং অনুরূপ আল্লাহ তায়ালার বাণী وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشمس মানে ফজরের নামাজ। وَقَبْلَ غُرُوبِهَا মানে আসর নামাজ। وَمِنْ آنَآءِ الليل فَسَبِّحْ মানে মাগরিব ও ইশার নামাজ। وَأَطْرَافَ النهار মানে জোহর নামাজ। কারন এই সময় দিনের দুই প্রান্তের মাঝে অবস্থিত।[47]আল-হিদায়াতু ইলা বুলুগু-নিহায়াহ্, 12/7945 – https://archive.org/details/20211207_20211207_2156/page/n7916/mode/1up .
ইমাম সামআনি (রহি:) ( ৪২৬-৪৮৯ হি. ) বলেন—
وَقَوله: قبل طُلُوع الشَّمْس هُوَ الْفجْر. وَقبل غُرُوبهَا هُوَ الْعَصْر وَمن آنَاء اللَّيْل الْمغرب وَالْعشَاء. والآناء جمع إنى، والإنى: السَّاعَة. وأطراف النَّهَار هُوَ الظّهْر .
অর্থাৎ— আল্লাহর বাণী قبل طُلُوع الشَّمْس হচ্ছে ফজর নামাজ। وَقبل غُرُوبهَا আসর নামাজ। وَمن آنَاء اللَّيْل হচ্ছে মাগরিব ও ইশার নামাজ। আর “الآناء” হলো “إنى”-এর বহুবচন, আর “الإنى” অর্থ “সময়”। وأطراف النَّهَار হলো জোহরের নামাজ।[48]তাফসির ইমাম সামাআনী ৩/৩৬৩ – https://archive.org/details/1152Pdf_201807/page/n1340/mode/1up .
ইমাম আল ওহেদী (রহি:) ( মৃ. ৪৬৮ হি. ) বলেন—
وسبح بحمد ربك صل لربِّك قبل طلوع الشمس صلاة الفجر وقبل غروبها صلاة العصر ومن آناء الليل فسبح فصلِّ المغرب والعشاء الآخرة وأطراف النهار صلِّ صلاة الظُّهر
অর্থাৎ— وسبح بحمد ربك এর মানে তোমার রবের জন্য নামাজ আদায় করো। قبل طلوع الشمس হলো ফজরের নামাজ। وقبل غروبها হলো আসরের নামাজ। ومن آناء الليل فسبح হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ আদায় কর। وأطراف النهار হলো জোহরের নামাজ।[49]তাফসির আল-ওহিদি, ৭০৮ পৃ: – https://archive.org/details/20220309_20220309_2141/page/n707/mode/1up .
ইমাম আবু কাসেম আল-কিরমানি (রহি:) ( মৃ. ৫০৫ হি. ) বলেন—
وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ صلاة الفجر. وَقَبْلَ غُرُوبِهَا صلاة العصر. وَمِنْ آَنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ يعنى: المغرب والعشاء الآخرة. وَأَطْرَافَ النَّهَارِ الظهر
অর্থাৎ— وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ হলো ফজরের নামাজ। وَقَبْلَ غُرُوبِهَا হলো আসরের নামাজ। وَمِنْ آَنَاءِ اللَّيْلِ فَسَبِّحْ হলো মাগরিব ও শেষের নামাজ ইশার । وَأَطْرَافَ النَّهَارِ হলো জোহরের নামাজ।[50]তাফসির আল-কিরমানী, ১৪৬৮ পৃষ্ঠা – https://shamela.ws/book/36/1468 .
ইমাম ইবনে আব্দুল সালাম (রহি:) ( ৫৭৭—৬৬০ হি. ) বলেন—
قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ صلاة الفجر وَقَبْلَ غُرُوبِهَا صلاة العصر آناء الليل ساعاته واحدها إني صلاة الليل كله، أو المغرب والعشاء وَأَطْرَافَ النَّهَارِ صلاة الظهر لأنها آخر النصف.
অর্থাৎ— قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ হলো ফজরের নামাজ। وَقَبْلَ غُرُوبِهَا হলো আসরের নামাজ। آناء الليل হলো তার সময় সমূহ যার একবচন হলো “إني” অর্থাৎ রাতের নামাজ সমূহ বা মাগরিব ও ইশার নামাজ। وَأَطْرَافَ النَّهَارِ হলো জোহর নামাজ। কারন তা দিনের প্রথম ভাগের শেষে পড়া হয়।[51]তাফসির ইবনে আব্দুস-সালাম, ২/৩১৬ – https://shamela.ws/book/5638/2154 .
সুরা দাহর, আয়াত ২৫-২৬
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَاذۡکُرِ اسۡمَ رَبِّکَ بُکۡرَۃً وَّاَصِیۡلًا وَمِنَ الَّیۡلِ فَاسۡجُدۡ لَہٗ وَسَبِّحۡہُ لَیۡلًا طَوِیۡلًا
অর্থাৎ— এবং নিজ প্রতিপালকের নামের যিকির কর সকাল ও বিকালে। এবং রাতের কিছু অংশেও তাঁর সম্মুখে সিজদা কর এবং রাতের দীর্ঘক্ষণ তার তাসবীহতে রত থাক।[52]সুরা দাহর, আয়াত নং ২৫-২৬
এই আয়াতেও পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বর্ণনা পাওয়া যায় বলে মতামত দিয়েছেন মুফাসসিরগণ। এ দুটি আয়াতের প্রথম আয়াতটিতে ফজর, জোহর এবং আসরের কথা আছে এবং দ্বিতীয় আয়াতে মাগরিব ইশা এবং কিয়ামুল লাইলের কথা এসেছে।
মুফাসসিরদের তাফসির
ইমাম আব্দুল মালেক বিন হাবিব (রহি:) ( ১৭৪-২৩৮ হি. ) বলেন —
واذكر اسم رَبِّكَ بُكْرَةً يعني الصبح: وقوله وَأَصِيلاً يعني: الظهر والعصر. وقوله: وَمِنَ الليل فاسجد لَهُ يعني به المغرب والعشاء. فالآية محكمة جمعت الأمر بفرض الصلوات الخمس.
অর্থাৎ— আল্লাহর বাণী واذكر اسم رَبِّكَ بُكْرَة হচ্ছে ফজরের নামাজ। আর وَأَصِيلا হলো জোহর ও আসরের নামাজ। আর وَمِنَ الليل فاسجد لَهُ হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ। অতএব এই আয়াতটি স্পষ্ট, যা পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ আদায় করার আদেশ কে অন্তর্ভুক্ত করে।[53]আল-হিদায়াহ ইলা বুলুগিন নিহায়াহ, ৭৯৪৩ পৃষ্ঠা – https://archive.org/details/20211207_20211207_2156/page/n7914/mode/1up .
ইমাম আবু জামানির (রহি:) ( ৩২৪-৩৯৯ হি. ) বলেন—
وَاذْكُر اسْم رَبك بكرَة صَلَاة الصُّبْح وَأَصِيلا صَلَاة الظّهْر وَالْعر وَمن اللَّيْل فاسجد لَهُ صَلاةَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَسَبِّحْهُ لَيْلا طَويلا هَذَا تطوُّع.
অর্থাৎ— وَاذْكُر اسْم رَبك بكرَة হলো ফজরের নামাজ। وَأَصِيلا হলো জোহর ও আসরের নামাজ। وَمن اللَّيْل فاسجد لَهُ হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ। وَسَبِّحْهُ لَيْلا طَويلا হলো নফল ইবাদত।[54]তাফসিরে জামানিন, ৫/৭৫ – https://shamela.ws/book/2154/5869 .
ইমাম মাওয়ারদি (রহি:) ( ৩৬৪-৪৫০ হি.) বলেন—
واذكُر اسمَ رَبِّك بُكرَةً وأصيلاً يعني في أول النهار وآخره، ففي أوله صلاة الصبح، وفي آخره صلاة الظهر والعصر. ومِنَ الليلِ فاسْجدْ له يعني صلاة المغرب والعشاء الآخرة. وسَبِّحْهُ ليلاً طويلاً يعني التطوع من الليل.
অর্থাৎ— واذكُر اسمَ رَبِّك بُكرَةً وأصيلاً হলো দিনের শুরু ও শেষ প্রান্ত। দিনের প্রথম প্রান্ত হলো ফজরের নামাজ আর শেষ প্রান্ত হলো জোহর ও আসরের নামাজ। ومِنَ الليلِ فاسْجدْ له হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ। وسَبِّحْهُ ليلاً طويلاً হলো রাতের নফল নামাজ।[55]তাফসিরে মাওয়ারদি, ৬/১৭২ – https://shamela.ws/book/8346/4168 .
ইমাম আবু হাফস আন-নাফাসি (রহি:) ( ৪৬১-৫৩৭ হি. ) বলেন —
وقيل: بُكْرَةً وَأَصِيلًا: صلاة الفجر والظهر والعصر، وَمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ لَهُ المغرب والعشاء، وَسَبِّحْهُ لَيْلًا طَوِيلًا نفل اللَّيل.
অর্থৎ— এবং বলা হয় بُكْرَةً وَأَصِيلًا হলো ফজর, জোহর ও আসরের নামাজ। وَمِنَ اللَّيْلِ فَاسْجُدْ لَهُ হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ। وَسَبِّحْهُ لَيْلًا طَوِيلًا হলো রাতের নফল।[56]তাফসিরে নাফাসি, ১৫/১৫৭ – https://shamela.ws/book/2063/7537 .
ইমাম জালালুদ্দিন আল-মুহাল্লি (রহি:) ( ৭৯১-৮৬৪ হি. ) বলেন—
واذكر اسم ربك في الصلاة بكرة وأصيلا يعني الفجر والظهر والعصر ومن الليل فاسجد له يعني المغرب والعشاء وسبحه ليلا طويلا صل التطوع فيه كما تقدم من ثلثيه أو نصفه أو ثلثه
অর্থাৎ— واذكر اسم ربك অর্থ হলো নামাজের মাঝে আল্লাহকে স্মরণ করো। بكرة وأصيلا হলো ফজর জোহর ও আসরের নামাজ। ومن الليل فاسجد له হলো মাগরিব ও ইশার নামাজ। والعشاء وسبحه ليلا طويلا অর্থাৎ পূর্বে যা বলা হয়েছে, রাতের দুই-তৃতীয়াংশ, অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ সময়ে নফল নামাজ আদায় করা।[57]তাফসীরে জালালাইন, ৫৭৯ পৃষ্ঠা – https://archive.org/details/20220104_20220104_0113/page/n587/mode/1up .
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আয়াতে বর্ণিত “أَصِيلًا” অর্থ দিনের শেষ অংশ। অর্থাৎ আসরের পর থেকে মাগরিবের আগ পর্যন্ত সময়। কিন্তু মুফাসসিরগণ এখানে “أَصِيلًا” শব্দটিকে “العَشِيّ” দিয়ে ব্যাখ্যা করে ধরেছেন জোহর ও আসর। কিন্তু أَصِيلًا শব্দ দিয়ে শুধু আসর নামাজকেই বুঝায়। যেমন তাবেই আবু আলিয়া রহি. ( মৃ. ৯৩ হি. ) বলেন—
أَصيلًا: صلاةَ العصرِ
অর্থাৎ— أَصيلًا হলো আসরের নামাজ।[58]সুনানে সাইদ ইবনে মানসুর, হাদিস নং ১৭৪৪ – https://shamela.ws/book/161/581 .[59]তাফসির ইবনে হাতেম, হাদিস নং ১৪৯৭৮ – https://archive.org/details/20250921_20250921_1407/page/n2662/mode/1up .
বিশুদ্ধ বর্ননা
তাবেই কাতাদা (রহি:) ( ৬০-১১৭ হি. ) সুরা আহযাবের ৪২ নং আয়াত সম্পর্কে বলেন—
فِي قَوْلِهِ تَعَالَى: وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا قَالَ: صَلَاةُ الصُّبْحِ وَصَلَاة الْعَصْرِ
অর্থাৎ— আল্লাহর বাণী وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلًا قَالَ হলো ফজর ও আসর নামাজ।[60]মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২৩৫৪ – https://shamela.ws/book/21791/2310#p1 .
ইমাম মামার ইবনে মুছান্নাহ (রহি:) ( ১১০-২০৯ হি. ) বলেন—
وَالْآصالِ واحدتها أصل وواحد الأصل أصيل ومجازه ما بين العصر إلى المغرب،
অর্থাৎ— الْآصالِ এর একবচন হলো أصل এবং أصل এর একবচন হলো أصيل, এর মানে হলো আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়।[61]মাজাজুল কুরআন, ১/২৩৯ – https://archive.org/details/MagazCoran/Magaz_alkuraan01/page/n289/mode/1up .
ইমাম বুখারী (রহি:) ( ১৯৪-২৫৬ হি. ) أَصِيلًا সম্পর্কে বলেন—
وَالْآصَالُ واحدها أصيل، وهو ما بين العصر إلى المغرب ، كقوله: بكرة وأصيل
অর্থাৎ— وَالْآصَالُ এর একবচন হলো أصيل আর তা হলো আসর থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়। যেমন আল্লাহর বাণী بكرة وأصيل। [62]জামে আস-সহিহ, ৬/১৩৬ – https://shamela.ws/book/1284/2900 .
উপরের প্রত্যেকটি আয়াতে সরাসরি কিংবা ইঙ্গিত ভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিবরণ এসেছে। এখন আমরা বিভিন্ন আয়াতে পৃথক পৃথক নামাজের বর্ণনা দেখব।
ফজর, জোহর এবং আসরের বর্ননা
এখানে আমরা দেখব ফজর, জোহর ও আসরের নামাজ সংক্রান্ত কোরআনের আয়াত। যেমন আল্লাহ বলেন—
وَلَا تَطۡرُدِ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَدٰوۃِ وَالۡعَشِیِّ
অর্থাৎ— আর তাদেরকে বিতাড়িত করবেন না, যারা সকাল ও অপরাহ্নে স্বীয় পালকর্তার এবাদত করে, তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে।[63]সুরা আনআম, আয়াত নং ৫২
তিনি অন্যত্র বলেন—
وَاصۡبِرۡ نَفۡسَکَ مَعَ الَّذِیۡنَ یَدۡعُوۡنَ رَبَّہُمۡ بِالۡغَدٰوۃِ وَالۡعَشِیِّ یُرِیۡدُوۡنَ وَجۡہَہٗ
অর্থাৎ— ধৈর্য-স্থৈর্যের সাথে নিজেকে সেই সকল লোকের সংসর্গে রাখ যারা সকাল ও অপরাহ্নে নিজেদের প্রতিপালককে এ কারণে ডাকে যে, তারা তাঁর সন্তুষ্টি কামনা করে।[64]সুরা কাহ্ফ, আয়াত নং ২৮
তিনি আরো বলেন—
وَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ بِالۡعَشِیِّ وَالۡاِبۡکَارِ
অর্থাৎ— এবং সকাল ও অপরাহ্নে নিজ প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তাসবীহ পাঠ করতে থাক।[65]সুরা মুমিন, আয়াত নং ৫৫
এই সকল আয়াত তিন ওয়াক্ত নামাজের ইঙ্গিত বহন করে। তথা ফজর জোহর ও আসর। আয়াতে বর্ণিত “الْعَشِيِّ” শব্দটি দ্বারা জোহর আর আসর নামাজের ইঙ্গিত বহন করে। যেমন সাদ (রা.) বলেন—
كُنْتُ أُصَلِّي بِهِمْ صَلاَةَ رَسُولِ اللَّهِ صَلاَتَىِ الْعَشِيِّ لاَ أَخْرِمُ عَنْهَا،
অর্থাৎ— আমি তাদেরকে নিয়ে বিকালের দু’নামায (যোহর ও আসর) রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নামাযের ন্যায় আদায় করতাম। এতে কোন ত্রুটি করতাম না।[66]জামে আস-সহিহ লি বুখারী, হাদিস নং ৭২২ – https://muslimbangla.com/hadith/722 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা
আরেক হাদিসে এসেছে যে, আবু হুরায়রা (রা.) বলেন—
صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِحْدَى صَلَاتَيِ الْعَشِيِّ. إِمَّا الظُّهْرَ وَإِمَّا الْعَصْرَ.
অর্থাৎ— রাসুল ﷺ আমাদেরকে নিয়ে অপরাহ্নের দুটি নামাজের মাঝে কোন একটি আদায় করলেন। হয় সেটা জোহরের না হয় আসরের।[67]সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৭৫ – https://ihadis.com/muslim/hadith/1175 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা
আরেক হাদিসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনে শদ্দাদ (রহি:) তিনার পিতার সূত্রে বলেন—
خَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي إِحْدَى صَلَاتَيِ الْعَشِيِّ، الظُّهْرِ – أَوِ الْعَصْرِ – وَهُوَ حَامِلٌ الْحَسَنَ – أَوِ الْحُسَيْنَ
অর্থাৎ— একবার অপরাহ্নের দুই নামাজের একটিতে, হয় সেটা জোহর বা আসরের সময় রাসুল ﷺ হাসান কিংবা হুসাইনকে কোলে নিয়ে উপস্থিত হলেন।[68]মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১৬০৩৩ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Fwaqmsnda%2Fmsnda25.pdf#page=419 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা
ইমরান ইবনে হুসাইন (রা:) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন—
صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِحْدَى صَلَاتِي الْعَشِيِّ، إِمَّا الظُّهْرَ أَوِ الْعَصْرَ قَالَ: أَيُّكُمْ قَرَأَ سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى؟
অর্থাৎ— আল্লাহর রাসুল ﷺ আমাদের নিয়ে অপরাহ্নের দুটি নামাজের কোন একটি, হয় সেটি জোহর অথবা আসর আদায় করছিলেন। (নামাজ শেষে) বললেন “তোমাদের মধ্যে কে পড়েছেন سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى ?”[69]মুজমাউল কাবির লি তবারী, হাদিস নং ৫২২ – https://shamela.ws/book/1733/18434 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা
এইরকম আরো অসংখ্য দলিল আছে যেখানে, “الْعَشِيِّ” -এর নামাজ দ্বারা জোহর এবং আসর নামাজ বুঝায়।
ফজর এবং আসরের বর্ণনা
এখন আমরা দেখব যে সমস্ত আয়াতে ফজর এবং আসরের বর্ণনা রয়েছে। যেমন আল্লাহ বলেন—
وَاذۡکُرۡ رَّبَّکَ فِیۡ نَفۡسِکَ تَضَرُّعًا وَّخِیۡفَۃً وَّدُوۡنَ الۡجَہۡرِ مِنَ الۡقَوۡلِ بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ وَلَا تَکُنۡ مِّنَ الۡغٰفِلِیۡنَ
অর্থাৎ— এবং সকালে ও সন্ধ্যায় নিজ প্রতিপালককে স্মরণ কর বিনয় ও ভীতির সাথে, মনে মনে এবং অনুচ্চস্বরে মুখেও। যারা গাফলতিতে নিমজ্জিত, তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।[70]সুরা আল-আ’রাফ, আয়াত নং ২০৫
আল্লাহ অন্যত্র বলেন—
وَلِلّٰہِ یَسۡجُدُ مَنۡ فِی السَّمٰوٰتِ وَالۡاَرۡضِ طَوۡعًا وَّکَرۡہًا وَّظِلٰلُہُمۡ بِالۡغُدُوِّ وَالۡاٰصَالِ ٛ
অর্থাৎ— আর আল্লাহকেই সিজদা করে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টি, কেউ তো স্বেচ্ছায় এবং কেউ বাধ্য হয়ে। তাদের ছায়াও সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর সামনে সিজদায় লুটায়।[71]সুরা আর-রাদ, আয়াত নং ১৫
তিনি আরো বলেন—
وَّسَبِّحُوۡہُ بُکۡرَۃً وَّاَصِیۡلًا
অর্থাৎ— এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তার তাসবীহ পাঠ কর।[72]সুরা আল-আহ্যাব, আয়াত নং ৪২
তিনি আরো বলেন—
لِّتُؤۡمِنُوۡا بِاللّٰہِ وَرَسُوۡلِہٖ وَتُعَزِّرُوۡہُ وَتُوَقِّرُوۡہُ ؕ وَتُسَبِّحُوۡہُ بُکۡرَۃً وَّاَصِیۡلًا
অর্থাৎ— যাতে (হে মানুষ!) তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন এবং তাঁকে সাহায্য কর ও তাঁকে সম্মান কর এবং সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর তাসবীহ পাঠ কর।[73]সুরা আল-ফাত্হ, আয়াত নং ৯
উপরোক্ত আয়াতগুলি দ্বারা ফজর এবং আসর নামাজ উদ্দেশ্য। আমরা উপরেই সংক্ষিপ্ত রূপে “اَصِیۡلًا” শব্দের বিষয়ে আলোচনা করেছি। তাই এখানে আবার আলোচনা প্রয়োজন মনে করছি না।
জোহর ও ইশার বর্ণনা
আল্লাহ তাআলা বলেন—
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لِیَسۡتَاۡذِنۡکُمُ الَّذِیۡنَ مَلَکَتۡ اَیۡمَانُکُمۡ وَالَّذِیۡنَ لَمۡ یَبۡلُغُوا الۡحُلُمَ مِنۡکُمۡ ثَلٰثَ مَرّٰتٍ ؕ مِنۡ قَبۡلِ صَلٰوۃِ الۡفَجۡرِ وَحِیۡنَ تَضَعُوۡنَ ثِیَابَکُمۡ مِّنَ الظَّہِیۡرَۃِ وَمِنۡۢ بَعۡدِ صَلٰوۃِ الۡعِشَآءِ ۟ؕ
অর্থাৎ— হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীগণ এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও সাবালকত্বে পৌঁছেনি সেই শিশুগণ যেন তিনটি সময়ে (তোমাদের কাছে আসার জন্য) অনুমতি গ্রহণ করে ফজরের নামাযের আগে, দুপুর বেলা যখন তোমরা পোশাক খুলে রাখ এবং ইশার নামাযের পর।[74]সুরা নুর, আয়াত নং ৫৮
এই আয়াতে স্পষ্ট ফজর ও ইশার নামাজের বর্ণনা আছে।
আসরের বর্ননা
আল্লাহ বলেন—
حٰفِظُوۡا عَلَی الصَّلَوٰتِ وَالصَّلٰوۃِ الۡوُسۡطٰی وَقُوۡمُوۡا لِلّٰہِ قٰنِتِیۡنَ
অর্থাৎ— তোমরা নামাযসমূহের প্রতি পুরোপুরি যত্নবান থেক এবং (বিশেষভাবে) মধ্যবর্তী নামাযের প্রতি এবং আল্লাহর সামনে আদবের সাথে অনুগত হয়ে দাঁড়িয়ো।[75]সুরা বাকারা, আয়াত নং ২৩৮
এখানে বর্ণিত মধ্যবর্তী নামাজটি হল আসরের নামাজ। এই বিষয়ে খোদ রাসুল ﷺ বলেছেন যে মধ্যবর্তী নামাজ হলো আসরের নামাজ। যেমন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা:) বলেন—
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةُ الْوُسْطَى صَلاَةُ الْعَصْرِ
অর্থাৎ— রাসূল ﷺ ইরশাদ করেন ‘‘সালাতুল উসতা’’ হল আসরের নামায।[76]জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৮১ – https://muslimbangla.com/hadith/29813 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা
অনুরূপভাবে সামুরা ইবনে জুনদাব (রা.) বলেন—
النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ صَلاَةُ الْوُسْطَى صَلاَةُ الْعَصْرِ .
অর্থাৎ— রাসূল (ﷺ) বলেন সালাতুল উসতা হল সালাতুল আসর।[77]জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৮২ – https://muslimbangla.com/hadith/29814 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা
আলি (রা.) ও এমনটাই বলেছেন। যেমন তিনি বলেন —
النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الخَنْدَقِ، فَقَالَ مَلَأَ اللَّهُ قُبُورَهُمْ وَبُيُوتَهُمْ نَارًا، كَمَا شَغَلُونَا عَنْ صَلاَةِ الوُسْطَى حَتَّى غَابَتِ الشَّمْس وَهِيَ صَلاَةُ العَصْر
অর্থাৎ— খন্দকের যুদ্ধের দিন আমরা নবী ﷺএর সঙ্গে ছিলাম। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! তাদের গৃহ এবং কবরকে আগুনে ভর্তি করে দিন। কেননা, তারা আমাদের সালাতুল উস্তা থেকে বিরত রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে গেল। আর ‘সালাতুল উস্তা’ হল আসর নামায।[78]জামে আস-সহিহ, হাদিস নং ৫৯৫৪ – https://muslimbangla.com/hadith/5954 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা
আয়শা (রা:) বলেন—
الوسطى صلاة العصر
অর্থাৎ— মধ্যবর্তীর নামাজ হলো আসর।[79]মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদিস নং ৮৮৫৭ – https://shamela.ws/book/333/10041 .
বিশুদ্ধ বর্ণনা
জুমার বর্ননা
আল্লাহ বলেন—
یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِذَا نُوۡدِیَ لِلصَّلٰوۃِ مِنۡ یَّوۡمِ الۡجُمُعَۃِ فَاسۡعَوۡا اِلٰی ذِکۡرِ اللّٰہِ وَذَرُوا الۡبَیۡعَ ؕ ذٰلِکُمۡ خَیۡرٌ لَّکُمۡ اِنۡ کُنۡتُمۡ تَعۡلَمُوۡنَ
অর্থাৎ— হে মুমিনগণ! জুম‘আর দিন যখন নামাযের জন্য ডাকা হয়, তখন আল্লাহর যিকিরের দিকে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয় যদি তোমরা উপলব্ধি কর।[80]সুরা জুমাআহ, আয়াত নং ৯
এ সকল স্পষ্ট কোরআনের বর্ণনা থাকার পরেও এই কথা বলার কোন সুযোগ নেই যে, কোরআনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বর্ণনা নেই। যারা সাধারণ মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার জন্য এমন মিথ্যা প্রপাগাণ্ডা চালায় আল্লাহ তাদের হেদায়েত দান করুক এবং ওই সকল লোকদের ফিতনা থেকে আমাদের রক্ষা করুন। ( আমিন )
Footnotes
| ⇧1 | সুরা বনি-ইসরাইল ১৭:৭৮ |
|---|---|
| ⇧2 | মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২০৫৭ – https://ketabonline.com/ar/books/16246/read?page=2068&part=2#p-16246-2068-1 . |
| ⇧3 | সুনানে সাইদ ইবনে মানসুর, হাদিস নং ১২১৪ – https://ketabonline.com/ar/books/54732/read?page=3867&part=6#p-54732-3867-2 . |
| ⇧4 | قال المُحدِّث السلفي الباكستاني زكريا بن غلام قادر السلفي في كتابه “ما صح من آثار الصحابة في الفقه” (ج1: ص177): “الحديث صحيح.” وقال الشيخ أبو عمر ياسر بن فاطر عن إسناد هذا الحديث في كتابه “فضل الرحيم الودود تخريج سنن أبي داود” (ج5: ص177): “وهذا موقوف بإسناد لا بأس به.” و قال الشيخ أبو أسامة محمد بن مبارك الحكيمي المغربي في كتابه “العتيق مصنف جامع لفتاوى أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم” (خ2: ص138): “الحديث إسناده صحيح. ( مكتب الشامله) ابن لبيبة هو: عبد الرحمن بن نافع بن لبيبة الطائفي، سمع أبا هريرة، قال العجلي: تابعي ثقة، وذكره ابن حبان في ثقات التّابعين [التَّاريخ الكبير (٥/ ٣٥٧)، ثقات العجلي (١٠٧١)، الجرح والتعديل (٥/ ٢٩٤)، مغاني الأخيار (٢/ ٦٢٢)، عمدة القاري (٦/ ٤٣)]، وعبد الله بن عثمان بن خثيم: مكي صدوق |
| ⇧5 | সহিহ বুখারী, হাদিস নং ৪৩৬২ – https://muslimbangla.com/hadith/4362 . |
| ⇧6 | সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১৩৪১ – https://muslimbangla.com/hadith/8398 . |
| ⇧7 | তাফসিরে মুজাহিদ ইবনে জুবাইর ৪৪০ পৃ: https://archive.org/details/20200101_20200101_0706/page/n439/mode/1up?q=%D9%84%D8%AF%D9%84%D9%88%D9%83 . |
| ⇧8 | তাফসির আত-তবারি, ১৫/৩৬ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftaftabryhgr%2Ftaftabry15.pdf#page=36 . |
| ⇧9 | মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ১৬০২ – https://shamela.ws/book/21791/1575 . |
| ⇧10 | তাফসির-আত তবারি, ১৫/৩৫ – https://shamela.ws/book/7798/10165 |
| ⇧11 | তাফসির-আত তবারি, ১৭/৫২১ – https://shamela.ws/book/43/9873 . |
| ⇧12 | মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, ২১৯৬ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Fmosanaf_taaseel_2%2F02-6836.pdf#page=270 . |
| ⇧13 | ফাতহুল বারী, ইমাম রজব হাম্বলি; ৪/১৭৫ – https://shamela.ws/book/137/1755 . |
| ⇧14 | তাফসির আল-বাসিত, ১৩/৪৩২ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2F13231%2FBSeeT_13.pdf#page=432 . |
| ⇧15 | আল-মাগরিব ফি তারতীব আল-মু‘আর্রাব; ১/২৯৩ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftalalaba%2F01_87411.pdf#page=293 . |
| ⇧16 | তাফসির ইবনে কাসীর, ৯/৫২ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftkather_sheikh%2Ftkather09.pdf#page=52 . |
| ⇧17 | তাফসিরে জালালাই, ২৯০ পৃ: – https://archive.org/details/20220104_20220104_0113/page/n297/mode/1up?q=%D9%84%D8%AF%D9%84%D9%88%D9%83 . |
| ⇧18 | সুরা রুম ৩০: ১৭-১৮ |
| ⇧19 | আল-মুস্তাদরাক, হাদিস নং ৩৫৯৮ – https://archive.org/details/jamia_20170718/page/n1267/mode/1up . |
| ⇧20 | মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ১৭৮৮ – https://ketabonline.com/ar/books/16246/read?page=1797&part=2#p-16246-1797-1 . |
| ⇧21 | في هذا الحديث قال الإمام الحاكم رحمه الله: هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ وَلَمْ يُخْرِجَاهُ، وقال الشيخ عبد القادر عطا في تعليقاته على المستدرك على الصحيحين: إن الحديث صحيح [المستدرك على الصحيحين 2/445]، وقال في تعليقاته على المستدرك على الصحيحين: إن إسناده حسن صحيح [المستدرك على الصحيحين 4/427]، وقال الإمام ابن حجر العسقلاني رحمه الله: إن إسناد هذا الحديث صحيح [إتحاف المهرة بالفوائد المبتكرة من أطراف العشرة 8/36]، وفي رسالة مقدمة لنيل درجة العالمية «الدكتوراه»، في تحقيق تفسير إسحاق البُسْتي، قيل: إن إسناد الحديث حسن صحيح [تفسير إسحاق البستي 2/76]، وكذلك غيرهم من الأئمة المحدّثين قد اعترفوا بصحة هذا الحديث. |
| ⇧22 | তাফসিরে তবারি, ১৮/৪৭৫ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Ftaftabryhgr%2Ftaftabry18.pdf#page=475 . |
| ⇧23 | আল-আওসাত; ইবনে মুনজির, হাদিস নং ৯২৬ – https://archive.org/details/Pdf0849/page/n987/mode/1up . |
| ⇧24 | তাফসির আত-তবারি, ২০/৮৪ – https://shamela.ws/book/43/11471 . |
| ⇧25 | তাফসির মুকাতিল ইবনে সুলাইমান, ৩/৮ – https://archive.org/details/i7atahtms/page/n941/mode/1up . |
| ⇧26 | তাফসিরে ইমাম শাফেই, ৩/১১৭২ – https://archive.org/details/20191231_20191231_1444/page/n1170/mode/1up . |
| ⇧27 | তাফসির ইবনে জামানির, ৩/৩৫৮ – https://archive.org/details/20200103_20200103_0820/page/n1210/mode/1up . |
| ⇧28 | তাফসির ইমাম সামাআ’নি, ৪/২০৩ – https://archive.org/details/000145_201807/page/n1737/mode/1up . |
| ⇧29 | তাফসির আল-ওহিদি, ৮৪০ পৃ: – https://archive.org/details/20220309_20220309_2141/page/n838/mode/1up. . |
| ⇧30 | তাফসিরে জালালাই, ৪০৬ পৃ: – https://archive.org/details/20220104_20220104_0113/page/n414/mode/1up . |
| ⇧31 | সুরা হুদ ১১/১১৪ |
| ⇧32 | এই আয়াত সম্পর্কে মুফাসসিরদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কারো মতে এই আয়াতে চার ওয়াক্ত নামাজের বর্ণনা আছে। তিনারা বলেন طَرَفَیِ النَّہَارِ হলো ফজর ও আসরের নামাজ এবং وَزُلَفًا مِّنَ الَّیۡلِ হচ্ছে মাগরিব ও ইশার নামাজ। আবার কারো মতে طَرَفَیِ النَّہَارِ হচ্ছে ফজর ও মাগরিবের নামাজ এবং طَرَفَیِ النَّہَارِ হচ্ছে ইশার নামাজ। কিন্তু আমাদের কাছে অধিক বিশুদ্ধ ও যুক্তিযোগ্য মনে হয় ফজর, আসর, মাগরিবও ইশার নামাজ। তাছাড়া যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা বলেছেন তাদের বর্ননাও বিশুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য। যেহেতু অধিকাংশ মুহাদ্দিস পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের কথা বলেছেন তাই আমরা এর ওপরই ভিত্তি করে মত প্রকাশ করেছি। |
| ⇧33 | সুনানে কুবরা বাইহাকি, হাদিস নং ১৬৭৮ – https://shamela.ws/book/7861/1903 . |
| ⇧34 | তাফসির ইবনে হাতেম, হাদিস নং ১১২৬৪+৭ – https://shamela.ws/book/8658/2081 . |
| ⇧35 | তাফসির সুফিয়া সাওরি, হাদিস নং ৩৮৫- https://shamela.ws/book/2229/131#p1 . |
| ⇧36 | তাফসির আত-তবারি, হাদিস নং ১৮৬০৯-১০- https://shamela.ws/book/43/8663 . |
| ⇧37 | তাফসির আত-তবারি, হাদিস নং ১৮৬৩৭, ৮, ৯ – https://shamela.ws/book/43/8669#p1 . |
| ⇧38 | তাজিমুল কদরুস-সালাত, হাদিস নং ৮২ – https://shamela.ws/book/13087/100 . |
| ⇧39 | আজ-জুহদু আর-রকাইক, হাদিস নং ৯০৫ – https://shamela.ws/book/13028/938 . |
| ⇧40 | মাআনিল কোরআন ওয়া-ইরবিহ্, ৩/৮২ – https://shamela.ws/book/922/1013 . |
| ⇧41 | তাফসিরুল কুরআন ইমাম ইবনে জামানিন, ২/৩১২- https://archive.org/details/1192Pdf_201807/page/n737/mode/1up . |
| ⇧42 | আল-হিদায়াত ইলা বুলুগু নিহায়াহ্, ১২/৭৯৪৫- https://shamela.ws/book/22593/7839 . |
| ⇧43 | মুকাদ্দিমা আল-মুমাহ্হিদাত, ১/১৪৬ – https://shamela.ws/book/21735/139 . |
| ⇧44 | তাফসিরে জালালাই, ২৩৩ পৃষ্ঠা – https://archive.org/details/20220104_20220104_0113/page/n242/mode/1up . |
| ⇧45 | সুরা ত্বা-হা, আয়াত নং ১৩০ |
| ⇧46 | তাফসির আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ১৮৪৭ – https://shamela.ws/book/21791/1817 . |
| ⇧47 | আল-হিদায়াতু ইলা বুলুগু-নিহায়াহ্, 12/7945 – https://archive.org/details/20211207_20211207_2156/page/n7916/mode/1up . |
| ⇧48 | তাফসির ইমাম সামাআনী ৩/৩৬৩ – https://archive.org/details/1152Pdf_201807/page/n1340/mode/1up . |
| ⇧49 | তাফসির আল-ওহিদি, ৭০৮ পৃ: – https://archive.org/details/20220309_20220309_2141/page/n707/mode/1up . |
| ⇧50 | তাফসির আল-কিরমানী, ১৪৬৮ পৃষ্ঠা – https://shamela.ws/book/36/1468 . |
| ⇧51 | তাফসির ইবনে আব্দুস-সালাম, ২/৩১৬ – https://shamela.ws/book/5638/2154 . |
| ⇧52 | সুরা দাহর, আয়াত নং ২৫-২৬ |
| ⇧53 | আল-হিদায়াহ ইলা বুলুগিন নিহায়াহ, ৭৯৪৩ পৃষ্ঠা – https://archive.org/details/20211207_20211207_2156/page/n7914/mode/1up . |
| ⇧54 | তাফসিরে জামানিন, ৫/৭৫ – https://shamela.ws/book/2154/5869 . |
| ⇧55 | তাফসিরে মাওয়ারদি, ৬/১৭২ – https://shamela.ws/book/8346/4168 . |
| ⇧56 | তাফসিরে নাফাসি, ১৫/১৫৭ – https://shamela.ws/book/2063/7537 . |
| ⇧57 | তাফসীরে জালালাইন, ৫৭৯ পৃষ্ঠা – https://archive.org/details/20220104_20220104_0113/page/n587/mode/1up . |
| ⇧58 | সুনানে সাইদ ইবনে মানসুর, হাদিস নং ১৭৪৪ – https://shamela.ws/book/161/581 . |
| ⇧59 | তাফসির ইবনে হাতেম, হাদিস নং ১৪৯৭৮ – https://archive.org/details/20250921_20250921_1407/page/n2662/mode/1up . |
| ⇧60 | মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদিস নং ২৩৫৪ – https://shamela.ws/book/21791/2310#p1 . |
| ⇧61 | মাজাজুল কুরআন, ১/২৩৯ – https://archive.org/details/MagazCoran/Magaz_alkuraan01/page/n289/mode/1up . |
| ⇧62 | জামে আস-সহিহ, ৬/১৩৬ – https://shamela.ws/book/1284/2900 . |
| ⇧63 | সুরা আনআম, আয়াত নং ৫২ |
| ⇧64 | সুরা কাহ্ফ, আয়াত নং ২৮ |
| ⇧65 | সুরা মুমিন, আয়াত নং ৫৫ |
| ⇧66 | জামে আস-সহিহ লি বুখারী, হাদিস নং ৭২২ – https://muslimbangla.com/hadith/722 . |
| ⇧67 | সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ১১৭৫ – https://ihadis.com/muslim/hadith/1175 . |
| ⇧68 | মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং ১৬০৩৩ – https://ready.shamela.ws/pdf/pdfjs.html?file=https%3A%2F%2Fready.shamela.ws%2Fpdf%2Fwaqmsnda%2Fmsnda25.pdf#page=419 . |
| ⇧69 | মুজমাউল কাবির লি তবারী, হাদিস নং ৫২২ – https://shamela.ws/book/1733/18434 . |
| ⇧70 | সুরা আল-আ’রাফ, আয়াত নং ২০৫ |
| ⇧71 | সুরা আর-রাদ, আয়াত নং ১৫ |
| ⇧72 | সুরা আল-আহ্যাব, আয়াত নং ৪২ |
| ⇧73 | সুরা আল-ফাত্হ, আয়াত নং ৯ |
| ⇧74 | সুরা নুর, আয়াত নং ৫৮ |
| ⇧75 | সুরা বাকারা, আয়াত নং ২৩৮ |
| ⇧76 | জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৮১ – https://muslimbangla.com/hadith/29813 . |
| ⇧77 | জামে আত-তিরমিজি, হাদিস নং ১৮২ – https://muslimbangla.com/hadith/29814 . |
| ⇧78 | জামে আস-সহিহ, হাদিস নং ৫৯৫৪ – https://muslimbangla.com/hadith/5954 . |
| ⇧79 | মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা, হাদিস নং ৮৮৫৭ – https://shamela.ws/book/333/10041 . |
| ⇧80 | সুরা জুমাআহ, আয়াত নং ৯ |




