মুসলিমরা আবিষ্কার হওয়ার পর কোরআন ও হাদিসে খুঁজে পায়?
লিখাটা অনেক আগে লিখে ড্রাফটে ফেলে রেখেছিলাম, আজকে নজরে পড়লো। তাই কিছুটা পরিমার্জন করে পোস্ট করছি।
আমি অনেককেই টিটকারি করে বলতে শুনেছি যে মুসলিমরা আবিষ্কার হওয়ার পর কোরআন ও হাদিসে খুঁজে পায়, এর আগে পায় না।
আসলে কিছু টিটকারি আসলে আমাদের মুসলিমদের কারণেও আসে। যা বিজ্ঞানের সাথে মিলে না, বা বিজ্ঞান দ্বারা ব্যাখ্যা সম্ভব না সেগুলোকেও বিজ্ঞানের সাথে মিলানোর, আধুনিক বিজ্ঞানের আদলে ব্যাখ্যা করার এক মানসিক রোগে আক্রান্ত আমরা। যেমন মেহজারের ঘটনাকে টাইম ডাইলেশন দিয়ে ব্যাখ্যা করা, কোরআনের আয়াতকে ভেঙে চুরে কোরআন থেকে পৃথিবীকে সমতল বা গোল প্রমাণ করার চেষ্টা এসব খুব পরিচিত কিছু জিনিস যা না বুঝে মানুষ করে থাকে।
যাইহোক আমার এই উত্তরটা দেখতে পারেন চাইলে:- [ https://www.frommuslims.com/?p=342258 ]
এবার আসি অভিযোগটার বিষয়ে। এখানে খুব স্পষ্ট প্রতারণা রয়েছে, বাস্তবে মুসলিমরা এমন বহু আকিদা লালণ করে যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞান দিতে পারে না, বা বিজ্ঞান সেসব আবিষ্কার করে নি বা বিশ্বাস করে না।
যেমন মুসলিমরা সব সময় বিশ্বাস করত যে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছে [সূরা বাকারা ১১৭; সূরা যুমার আয়াত ৬২] অর্থাৎ এক সময় এর অস্তিত্ব ছিল না। ইবনে সিনা নিজের জীবনের এক সময় এই বিশ্বাসের বিপরীতে যে বলেছিল মহাবিশ্ব সব সময় ধরে ছিল এই মতবাদ দেওয়ার কারণে তাকে কাফের পর্যন্ত ফতুয়া দেওয়া হয়েছিল, এটাত কম বেশি সবাই জানে। অথচ সেসময় সবচেয়ে পরিচিত ও বহু প্রচলিত ছিল যে মহাবিশ্ব সবসময় অস্তিত্বে ছিল, আধুনিক বিজ্ঞানও খুব রিসেন্ট টাইমে শক্ত ভাবে দাবি করছে আমাদের এসব সবসময় অস্তিত্বে ছিল না।
আবার মুসলিমরা ৭ আসমান ও ৭ জমিন আছে [আন-নাবা আয়াত ১২; সূরা নুহ আয়াত ১৫; আত-ত্বলাক্ব, আয়াত ১২] বিশ্বাস করে কিন্তু বিজ্ঞান এখনো তা আবিষ্কার করতে পারে নি।
মুসলিমরা বিশ্বাস করে মানুষ ছাড়াও অন্য বুদ্ধিমান প্রাণী পৃথিবীতে আছে, যাদেরকে জ্বীন বলা হয় [সূরা যারিয়াত আয়াত ৫৬]। কিন্তু বিজ্ঞান তাও প্রমাণ করতে পারে নি।
কোরআন হতে সম্ভাবনা পাওয়া যায় পৃথিবীর বাহিরেও প্রাণী আছে, হতে পারে তা ফেরেশতা বা অন্য কিছু [কোরআন ২৬/২৩-২৪; ৪২/২৯; ৬৫/১২] বিজ্ঞান কিন্তু এখনো এটাও প্রমাণ করতে পারে নি।
মুসলিমরা সব সময় বিশ্বাস করত যে পৃথিবীর বাহিরে পানি রয়েছে। আমাদের আকিদাই হল আরশ পানির উপর। [সূরা হূদ আয়াত ৭; বুখারীঃ ৭৪১৯, ৩১৯১; মুসলিমঃ ২৬৫৩] কিন্তু বিজ্ঞান এই বিষয়ে কি বলে?
মুসলিমরা বিশ্বাস করে মানবজাতির শুধু দুই জন নর ও নারী থেকে এসেছে যাদেরকে জান্নাতে তৈরি করা হয়েছে অর্থাৎ পৃথিবীর বাহিরে। [সুরা ত্ব-হা, আয়াত-১২৩; সূরা ছোয়াদ আয়াত ৭৫; সূরা বাকারাহ আয়াত ৩৫; সুরা নিসা : আয়াত ১; সুরা আয-যুমার : আয়াত ০৬] কিন্তু বিজ্ঞান এরও সমর্থন করে না।
মুসলিমরা মনে করে সব প্রাণীর রুহ রয়েছে [সূরা আনআম, আয়াত ৯৫; সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত ৮৫ ] কিন্তু বিজ্ঞান এখনো এমন কিছু আবিষ্কার করতে পারে নি।
অতিতে অতি বিকট আওয়াজে জাতি ধ্বংস হয়েছিল বলে কোরআন হতে জানা যায়। [সুরা মুমিনুন, আয়াত : ৩৯-৪১; সুরা হিজর, আয়াত : ৭৩; সূরা হুদ আয়াত ৬৭] কিন্তু ইতিহাসবিদগণ বা বিজ্ঞান কোনটাই এমন কিছু খুঁজে পেয়েছে বলে আমার জানা নেই।
এখানেতো অল্প কয়েকটা উল্লেখ করেছি, এমন আরো আছে, যেমন ফেরেশতাদের অস্তিত্ব, মানব জাতির শুরু থেকেই একেশ্বরবাদ থাকা, নবী রাসূলদের মৌজেজা, সাহাবাদেরকে ফেরেশতাদের সাহায্য, কেয়ামতের আগে সূর্য পশ্চিম দিক হতে উদিত হওয়া, বিরাট ধোঁয়া ও দাববাতুল আরদের আগমন, ইয়াজুয-মা’জুযের আবির্ভাব, পূর্বে ভূমিধস, পশ্চিমে ভূমিধস, আরব উপদ্বীপে ভূমিধস, বিকৃত ইতিহাসকে ফিলটার করে সঠিকটা জানানো ইত্যাদি অসংখ্য অগণিত বিষয়াদি রয়েছে যা আধুনিক বিজ্ঞান ও অন্যান্য জ্ঞানের শাখা আবিষ্কারও করে নি, করতে পারবে কিনা তাও সন্দেহ, অনেক ক্ষেত্রে তারা বিশ্বাসও করে না।
সেহেতু মুসলিমরা আবিষ্কার হওয়ার পর কোরআন ও হাদিসে খুঁজে পায় এমন অভিযোগ আসলে মস্তিষ্কের ক্ষয় যাওয়ার কারণেই কেউ কিরতে পারে। নতুবা সুস্থ মস্তিষ্কের কারো দ্বারা ইহা সম্ভব নহে।