নাবালেগদের পরিক্ষা নেই, আমাদের কেন পরিক্ষা?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)নাবালেগদের পরিক্ষা নেই, আমাদের কেন পরিক্ষা?
On behalf of the authors asked 1 বছর ago

যে সকল ব্যক্তিগণ ছোট অবস্থায় মারাগেছেন।তারা বিনা হিসেবে জান্নাতে গেছেন।তাদের কে বেশি একটা হয়তো পরীক্ষা দিতে হয় নাই।তারা মারা যাওয়ার পর সরাসরি জান্নাতে যাবেন কিন্তু আমরা যারা বেঁচে আছি আমাদের কে কেন এত পরীক্ষা দিতে হয়?কেন এত কষ্ট পেতে হয়?আবার এত পরীক্ষা,কষ্টের পর ও যে চিরো সুখের স্থান জান্নাত পাবো কিনা সন্দেহ।কষ্টের পর ও আবার চিরো কষ্টের স্থান জাহান্নামে যদি যেতে হয় তাহলে সেটা কেমন?

এক ব্যক্তিবর্গ বেশি কষ্ট না করেই জান্নাতে গেছে,আরেক ব্যক্তিবর্গ কষ্ট করেও যে জান্নাতে যাবে নাকি জাহান্নামে তাও সন্দেহ।আমি কিছু বুঝতেছি না।

আপনারাই ভালো ভাবে উত্তর দেন। আর আরেকটা কথা হলো,কোনো সংশয় টাইপ এর প্রশ্ন করলে কি কুফরী হবে?

2 Answers
Ashraful Nafiz Staff answered 1 বছর ago

আপনার শেষ প্রশ্ন দিয়ে উত্তর শুরু করি।

আপনার মনে কোন বিষয়ে প্রশ্ন আসতেই পারে, সাহাবাদেরও আসতো, অহেতুক প্রশ্ন ও সন্দেহ আসলে সাথে সাথেই তওবা করুন, বেশি বেশি ইস্তিগফার করুন, আল্লাহর কাছে হেদায়েতের উপর অটল থাকার জন্য ও মনের প্রশান্তির জন্য দুআ করুন।

মনের মাঝে শুধুমাত্র বাজে চিন্তা বা কুফরী চিন্তা আসলেই ব্যক্তি কাফের হয়ে যায় না, বরং এমন চিন্তা আসা ইমানেরই লক্ষণ। কারণ সয়তান আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে ওয়াস ওয়াসা দিয়ে থাকে। আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত,

جَاءَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلُوهُ إِنَّا نَجِدُ فِي أَنْفُسِنَا مَا يَتَعَاظَمُ أَحَدُنَا أَنْ يَتَكَلَّمَ بِهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَقَدْ وَجَدْتُمُوهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا نَعَمْ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ذَاكَ صَرِيحُ الإِيمَانِ ‏"‏ ‏.‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কতিপয় সাহাবী তাঁর সমীপে এসে বললেন, আমাদের অন্তরে এমন কিছু সংশয়ের উদয় হয়, যা আমাদের কেউ মুখে উচ্চারণ করতেও মারাত্মক মনে করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বললেনঃ সত্যই তোমাদের তা হয়? তারা জবাব দিলেন, জ্বী, হ্যাঁ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এটই স্পষ্ট ঈমান। (কারণ ঈমান আছে বলেই সে সম্পর্কে ওয়াসওয়াসা ও সংশয়কে মারাত্মক মনে করা হয়।) [সহিহ মুসলিম, হাদিস ১৩২ (আন্তর্জাতিক)]

তাই এমন ওয়াস ওয়াসা, বা উল্টা পাল্টা চিন্তা আসলে তাতে ঘাবরানোর প্রয়োজন নেই, কারণ এসব ওয়াস ওয়াসা আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন যতক্ষণ না তা কর্মে বা মুখে প্রকাশিত না হয়। হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত,

قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ اللهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي مَاوَسْوَسَتْ بِهِ صُدُورُهَا مَا لَمْ تَعْمَلْ أَوْ تَكَلَّمْ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে উদিত ওয়াসওয়াসা মাফ করে দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তা কাজে পরিণত করে অথবা মুখে বলে। [সহিহ বুখারী, হাদিস ২৫২৮ (তাওহীদ পাবলিকেশন)]

এখন আসি প্রশ্নের মুল উত্তরে। যারা নাবালেগ অবস্থায় মৃত্যু বরন করেছে তারা জান্নাতে যাবে, নিশ্চয়ই আপনি এটিকে অযৌক্তিক বলবেন না, যেহেতু তারা অবুঝ, তাদের আমল নামা শুরু হয় নি, তারা ন্যায় অন্যায় বুঝে না, তারা ভালো খারাপ বুঝে না, তারা পাপ করারই সুযোগ পায় নি। যদি তাদেরকে জাহান্নামে পাঠানো হত তাহলে এটি অযৌক্তিক হত, একটা নিষ্পাপ প্রাণকে পাপ ছাড়া শাস্তি দেওয়াকে অন্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়, পুন্য ছাড়া উপহার প্রদানকে অন্যায় হিসেবে গণ্য করা হয় না।

অপর দিকে আপনি আমি বালেগ হয়ে গিয়েছি, আমরা বুঝি, আমরা দেখি, আমরা পার্থক্য করতে পারি, আল্লাহ আমাদেরকে বুদ্ধি দিয়েছেন, কমনসেন্স দিয়েছেন, ফ্রি উইল দিয়েছেন, সেই অনুসারে স্বাধীন ভাবে ভালো খারাপ বেঁচে নেওয়া ও সেই কর্ম সম্পাদন করার শক্তি সামর্থ্য দিয়েছেন, আমরা ন্যায় অন্যায় নিজ ইচ্ছায় বেছে নি, জোর করে কেউ আমাদেরকে দিয়ে পাপ করায় না। যদি জোরপূর্বক করায়ও তাহলেতো সেটার শাস্তিই ইসলামে নেই। [সুরা নাহাল আয়াত ১০৬]

এখন আপনিই বলুন কে পরিক্ষার বেশি উপযুক্ত? সেই শিশু যে এখনো ঠিক মত ১,২,ক,খ, অ,আ বুঝে না নাকি সে যে এসব বিষয়ে ভালো ভাবে শিখেছে, বুঝে, জানে।

এখন যে সব বুঝে তার যদি পরিক্ষা না থাকতো, তার জন্য যদি জান্নাত জাহান্নাম না থাকতো তাহলে সে কেন আল্লাহর হুকুম পালন করবে? সে কেন হালাল হারাম বেঁচে চলবে? সে কেন অন্যের হল মেরে খাবে না, সুদ খাবে না, ঘুষ খাবে না, জিনা করবে না, চুরি ডাকাতি করবে না? যদি শাস্তির কনসেপ্টই না থাকতো তাহলে নৈতিকতার কিছুই থাকতো না দুনিয়ায়।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তার সৃষ্টিকে সবচেয়ে ভালো জানেন, তাই তিনি আখিরাতে জান্নাতের লোভও দেখিয়েছেন, আবার জাহান্নামের শাস্তিও রেখেছেন, তেমনই দুনিয়ায়ও শরিয়াহ আইন রেখেছেন। কারণ তিনি এটাও জানেন শুধু আখিরাতের কথা বলেই সকলকে সোজা রাখা সম্ভব নয়।

আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের আকিদা হল যদি শিরক না করে তাহলে ইমানদার মুসলমান একদিন না একদিন জান্নাতে প্রবেশ করবেই। কিন্তু তারমানেতো এই নয় যে অন্যায় যেগুলো করবে সেগুলোর শাস্তি দেওয়া হবে না! শাস্তিতো পেতেই হবে, আর যেখানে হাদিসে বলা হয়েছে জাহান্নামের আগুনের তুলনায় তোমাদের এই দুনিয়ার আগুন (তাপ) মাত্র সত্তর ভাগের এক ভাগ। [তিরমিজি ২৫৯০] আর সেই আগুন দিয়েই দুনিয়ায়ে ৫/৬ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পদার্থকে উত্তপ্ত করা যায়, সেখানে জাহান্নামের আজাবকে এত সহজ মনে করার কিছু নেই।

কথা হল একটা সুন্দর ঘর সংসার বানাতে সব দিকে ব্যালেন্স দরকার হয়, স্বামী স্ত্রীর ভালোবাসা, সম্মান, উত্তম সন্তান, মা বাবার প্রতি দায়িত্ববোধ, প্রয়োজনে শাসন, প্রয়োজনে উৎসাহ, প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা ইত্যাদি।

তেমনই ইসলাম সব দিকেই ব্যালেন্স করেছে, পরিক্ষা, আখিরাতে জান্নাতের অশেষ রহমত, জাহান্নামের ভয়, দুনিয়ায় শরিয়াহ আইন, আল্লাহর রহম, আল্লাহর দয়া, আল্লাহ ন্যায়বিচার সব মিলিয়ে সবচেয়ে ব্যালেন্ড একটি ব্যবস্থা। প্রতিটিই গুরুত্বপূর্ণ, হয়তো কেউ কোন কোনটার গুরুত্ব আপাতদৃষ্টিতে বুঝতে পারে না, পরবর্তীতে উপলব্ধি করতে পারে।

ভাই দেখুন হাদিসে এসেছে পরিক্ষা যত কঠিন পুরষ্কার তত বড়। [তিরমিজি ২৩৯৬] আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহর ওয়াদার উপর সন্দেহ করেন না।

এখন নাবালেগরা জান্নাতে যাবে, কিন্তু জান্নাতেরতো স্থর রয়েছে। ৮টি স্তর রয়েছে জান্নাতে। সকল জান্নাতিতো প্রতিটি স্থরে উঠতে পারবে না। সকল স্তরও নিশ্চয়ই একই হবে না। দেখুন

এখন যারা আমল না করে জান্নাতি হয়েছে ও যারা আমল করো জান্নাতি হয়েছে, যারা জিহাদ করে জান্নাত পেয়েছে ও যারা না করে পেয়েছে উভয়ের অবস্থা কি একই রকম হবে জান্নাতে? অবশ্যই না।

আপনি দেখুন নবীরা পরিক্ষা দিয়েছেন, তারা যেই ইমতেহানের মধ্য দিয়ে গিয়েছেন তার মধ্য দিয়ে যদি আমাদেরকে যেতে হত তাহলে হয়তো আমরা বলেই বসতাম, "আমাদের জন্য জাহান্নামই ঠিক আছে পরকালে, এখন এত কষ্ট সহ্য হচ্ছে না।"

অথচ তাদেরকে আল্লাহ নিজে মনোনীত করেছেন, তারপরও তিনি তাদের পরিক্ষা নিয়েছেন কেন? কারণ হাদিসে আছে,

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার মঙ্গল চান, তখন তিনি তাকে তাড়াতাড়ি দুনিয়াতে (পাপের) শাস্তি দিয়ে দেন। আর যখন আল্লাহ তাঁর বান্দার অমঙ্গল চান, তখন তিনি তাকে (শাস্তিদানে) বিরত থাকেন। পরিশেষে কিয়ামতের দিন তাকে পুরোপুরি শাস্তি দেবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেন, বড় পরীক্ষার বড় প্রতিদান রয়েছে। আল্লাহ তাআলা যখন কোন জাতিকে ভালবাসেন, তখন তার পরীক্ষা নেন। ফলে তাতে যে সন্তুষ্ট (ধৈর্য) প্রকাশ করবে, তার জন্য (আল্লাহর) সন্তুষ্টি রয়েছে। আর যে (আল্লাহর পরীক্ষায়) অসন্তুষ্ট হবে, তার জন্য রয়েছে আল্লাহর অসন্তুষ্টি। [হাদিস সম্ভার ৩৫৩৩]

পাশতো ভাই ব্যাকবেঞ্চাররাও করে, মিডেল ব্যাঞ্চাররাও করে, টপাররাও করে। কার পাশ কেমন ও কে শিক্ষকের প্রিয় তাতো সুস্পষ্ট, তাই না ভাই?

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সয়ং আমার কল্যান চান, এটা যদি জানতে পারতেন তাহলে পরিক্ষা আপনার নিকট বেশি বড় বিষয় হত নাকি যিনি সকল প্রধান মন্ত্রী, সকল নায়ক নায়ীকা, সকল সম্মানিতদের চাইতেও হাজার গুন বেশি সম্মানিত তিনি নিজে আপনার কল্যান চান সেটা বড় বিষয় হত? আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন না এমন ভাবে জান্নাতে প্রবেশ করতে যেভাবে বিবাহে খাবার খেতে আসা অন্য সাধারণ ২০/৫০ জন মানুষের প্রবেশ করে, বরং আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন সেই বিবাহে সবচেয়ে বেশি প্রটোকল পাওয়া ভিআইপি মানুষের মত প্রবেশ করতে।

এটাও দেখতে পারেন চাইলে https://at-tahreek.com/article_details/9686

anil af answered 1 বছর ago

আপনারা যারা সেক্যুলার শিক্ষা কার্যক্রমের ধর্ম বইয়ের থেকে ইসলাম শিখেন, তারা আকিদাহ সম্পর্কে আসলেই জ্ঞান রাখেন না।

এটা আপনাদের দোষ না, জন্মের পর হইতেই আপনাদের শিখানো হচ্ছে =(ইকুয়াল) চিহ্ন টা ভাল। এইটাই সব মুশকিলের আছান।

কিন্তু আসলে ব্যাপারটা তেমন না। আপনি বলবেন, আপনারা যারা সেক্যুলার ধর্ম বই পড়েন তারা নিশ্চয়ই দুইটা হাদিস জানেন।

সহীহুল বুখারিতে আছে, একটা কুকুরকে পানি পান করানোর মাধ্যমে এক ব্যাভিচারী মহিলা জান্নাতে প্রবেশ করে। - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=3345

আরেকটা হাদিসও আছে যেখানে দেখা যায়, মাত্র একটা বিড়ালকে বেধে নির্যাতন করার কারণে এক মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করে। - http://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=28071

কুরআনের অসংখ্য আয়াত আছে যেখানে বলা হয়, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন যাকে ইচ্ছা শাস্তি প্রদান করেন।

وَ لِلّٰهِ مَا فِی السَّمٰوٰتِ وَ مَا فِی الۡاَرۡضِ ؕ یَغۡفِرُ لِمَنۡ یَّشَآءُ وَ یُعَذِّبُ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوۡرٌ رَّحِیۡمٌ ﴿۱۲۹﴾و لله ما فی السموت و ما فی الارض یغفر لمن یشآء و یعذب من یشآء و الله غفور رحیم ﴿۱۲۹﴾

আর আল্লাহর জন্যই যা আছে আসমানসমূহে এবং যা আছে যমীনে । তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন, আর যাকে ইচ্ছা আযাব দেন। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরাহ আলে ইমরান ১২৯)

এবং এটা অবশ্যই তার নিজ কৃতকর্মের কারণেই:

وَ مَاۤ اَصَابَكُمۡ مِّنۡ مُّصِیۡبَۃٍ فَبِمَا كَسَبَتۡ اَیۡدِیۡكُمۡ وَ یَعۡفُوۡا عَنۡ كَثِیۡرٍ ﴿ؕ۳۰﴾و ما اصابكم من مصیبۃ فبما كسبت ایدیكم و یعفوا عن كثیر ﴿۳۰﴾

আর তোমাদের প্রতি যে মুসীবত আপতিত হয়, তা তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল। আর অনেক কিছুই তিনি ক্ষমা করে দেন। (সূরাহ শুআরা ৪২)

ظَهَرَ الۡفَسَادُ فِی الۡبَرِّ وَ الۡبَحۡرِ بِمَا كَسَبَتۡ اَیۡدِی النَّاسِ لِیُذِیۡقَهُمۡ بَعۡضَ الَّذِیۡ عَمِلُوۡا لَعَلَّهُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ ﴿۴۱﴾

মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও সমুদ্রে ফাসাদ প্রকাশ পায়। যার ফলে আল্লাহ তাদের কতিপয় কৃতকর্মের স্বাদ তাদেরকে আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে। (সূরাহ রুম :৪১)

আপনাদের এই ধরণের প্রশ্ন দ্বারা বুঝা যায় যে আপনারা এই আয়াতটায় এখনও ইমান আনতে সক্ষম হন নি যেখানে আল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন:

فَعَّالٌ لِّمَا یُرِیۡدُ
"ফা'আ লুলিল মা ইউরিদ" :সূরাহ বুরুজ (৮৫:১৬)
এই আয়াতের অর্থ: আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন। যা ইচ্ছা তা হুকুম করার ও বাস্তবায়ন করার সামর্থ্য তিনি রাখেন।

আপনারা তার এই সক্ষমতার সার্বভৌমত্বকে মানতে নারাজ, যেখানে তিনি এটা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন:

تَبٰرَكَ الَّذِیۡ بِیَدِهِ الۡمُلۡكُ ۫ وَ هُوَ عَلٰی كُلِّ شَیۡءٍ قَدِیۡرُۨ ۙ﴿۱﴾

বরকতময় তিনি যার হাতে সর্বময় কর্তৃত্ব। আর তিনি সব কিছুর উপর সর্বশক্তিমান (সূরাহ মুলক:১)

সূরাহ ত্বীনে আল্লাহ বলেন:

اَلَیۡسَ اللّٰهُ بِاَحۡكَمِ الۡحٰكِمِیۡنَ ﴿۸﴾

আল্লাহ কি বিচারকদের শ্রেষ্ঠ বিচারক নন (৯৫:৮)

অর্থাৎ তার কাছে যেটা বিচার সেটাই ন্যায়বিচার। কারণ তিনিই বিচারকদের মধ্যে উত্তম।

এখন কথা হচ্ছে আমাদের মানে আমরা মানুষ বা আমরা যারা সৃষ্টির সর্বশ্রেষ্ঠ তাদের কাছে যেটা ন্যায়বিচার অর্থাৎ সর্বদা সর্বক্ষেত্রে =(ইকুয়ালিটি) এটা আল্লাহ তা'আলার মানদন্ড নাও হতে পারে সর্বক্ষেত্রে। আমাদের মগজে পশ্চিমা গ্রিক প্যাগান আকিদাহ ও ত্রিত্ববাদী পৌত্তলিক রুমীয় খ্রিষ্টর্ধমের মিশ্রণে তৈরি যেসব মানদন্ড বিরাজমান তা আল্লাহর নিকট গ্রহণ যোগ্য সেটা আপনাকে কে বলল? তার ইচ্ছা, বিচার, মর্জি, রাগ, ক্রোধ বিভিন্ন সীফাতের মানদন্ড কোন সৃষ্টির সহিতই সাদৃশ্যতা রাখেনা। যেটা তিনি সূরাহ শুআরায় বলেছেন, সূরাহ ইখলাসে বলেছেন " কোনকিছুই তার সদৃশ নয়".

৪২ : ১১ فَاطِرُ السَّمٰوٰتِ وَ الۡاَرۡضِ ؕ جَعَلَ لَكُمۡ مِّنۡ اَنۡفُسِكُمۡ اَزۡوَاجًا وَّ مِنَ الۡاَنۡعَامِ اَزۡوَاجًا ۚ یَذۡرَؤُكُمۡ فِیۡهِ ؕ لَیۡسَ كَمِثۡلِهٖ شَیۡءٌ ۚ وَ هُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡرُ ﴿۱۱﴾

তিনি আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা; তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া বানিয়েছেন এবং চতুষ্পদ জন্তু থেকেও জোড়া বানিয়েছেন, (এভাবেই) তিনি তোমাদেরকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর মত কিছু নেই আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা।

وَ لَمۡ یَكُنۡ لَّهٗ كُفُوًا اَحَدٌ ﴿۴﴾و لم یكن لهٗ كفوا احد ﴿۴﴾

আর তাঁর কোন সমকক্ষও নেই।

(কুফুয়ান) এর মানে হচ্ছে,নজীর, সদৃশ, সমান, সমমর্যাদা সম্পন্ন ও সমতুল্য.

তাইলে আপনি কি বলবেন যে আল্লাহ বৈষম্য করেন? হ্যা করেন। নিসন্দেহে করেন। কারণ তিনিই বলেছেন "কাফের আর মুমিন কখনই সমান না ".

৫৯ : ২০ لَا یَسۡتَوِیۡۤ اَصۡحٰبُ النَّارِ وَ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ ؕ اَصۡحٰبُ الۡجَنَّۃِ هُمُ الۡفَآئِزُوۡنَ ﴿۲۰﴾

জাহান্নামবাসী ও জান্নাতবাসীরা সমান নয়; জান্নাতবাসীরাই সফলকাম। (সূরাহ হাশর:২০)

"মুশরিক সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব"

اِنَّ الَّذِیۡنَ كَفَرُوۡا مِنۡ اَهۡلِ الۡكِتٰبِ وَ الۡمُشۡرِكِیۡنَ فِیۡ نَارِ جَهَنَّمَ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا ؕ اُولٰٓئِكَ هُمۡ شَرُّ الۡبَرِیَّۃِ ؕ﴿۶﴾

কিতাবধারীদের মধ্যে যারা কুফুরী করে তারা আর মুশরিকরা জাহান্নামের আগুনে স্থায়ীভাবে থাকবে। এরাই সৃষ্টির নিকৃষ্ট। (সূরাহ বায়্যিনাহ:৬)

এখন আপনি বলবেন এগুলা তো তাহলে আল্লাহর দয়ালু হবার সহিত সাংঘর্ষিক হয়ে গেল, না এগুলা সাংঘর্ষিক না। তার দয়া কখনই সৃষ্টির মত না। কারণ কোন কিছুই তার সদৃশ না। তার প্রতিটা কাজের পিছনে হিকমাহ বিরাজমান এজন্যই তিনি বলেন :

" আমি যা জানি তা তোমরা জাননা".

২:৩০ وَ اِذۡ قَالَ رَبُّكَ لِلۡمَلٰٓئِكَۃِ اِنِّیۡ جَاعِلٌ فِی الۡاَرۡضِ خَلِیۡفَۃً ؕ قَالُوۡۤا اَتَجۡعَلُ فِیۡهَا مَنۡ یُّفۡسِدُ فِیۡهَا وَ یَسۡفِكُ الدِّمَآءَ ۚ وَ نَحۡنُ نُسَبِّحُ بِحَمۡدِكَ وَ نُقَدِّسُ لَكَ ؕ قَالَ اِنِّیۡۤ اَعۡلَمُ مَا لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۳۰﴾

আর স্মরণ কর, যখন তোমার রব ফেরেশতাদেরকে বললেন, ‘নিশ্চয় আমি যমীনে একজন খলীফা সৃষ্টি করছি’, তারা বলল, ‘আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন, যে তাতে ফাসাদ করবে এবং রক্ত প্রবাহিত করবে? আর আমরা তো আপনার প্রশংসায় তাসবীহ পাঠ করছি এবং আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি। তিনি বললেন, নিশ্চয় আমি জানি যা তোমরা জান না। (সূরাহ বাকারাহ:৩০)

এখন আপনি গ্যারেন্টি চান জান্নাত জাহান্নামের, এই গ্যারেন্টি না পেয়ে আপনি ধরি আপনি, ইসলাম ত্যাগ করলেন। এতে কারো কিছুই যাবে আসবেনা। কারণ আল্লাহ বলেন:

৩৫:১৫ یٰۤاَیُّهَا النَّاسُ اَنۡتُمُ الۡفُقَرَآءُ اِلَی اللّٰهِ ۚ وَ اللّٰهُ هُوَ الۡغَنِیُّ الۡحَمِیۡدُ ﴿۱۵﴾یایها الناس انتم الفقرآء الی الله و الله هو الغنی الحمید ﴿۱۵﴾

হে মানুষ, তোমরা আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষী আর আল্লাহ অমুখাপেক্ষী ও প্রশংসিত।(সূরাহ ফাতির ১৫)

কারণ আল্লাহ আপনাকে গ্যারেন্টি দিতে বাধ্য না। কারণ নবী (সা) বলেন:

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَقُولَنَّ أَحَدُكُمُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي، إِنْ شِئْتَ‏.‏ لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ، فَإِنَّهُ لاَ مُكْرِهَ لَهُ ‏"‏‏

অর্থ: আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ কখনো এ কথা বলবে না যে, হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে ক্ষমা করুন। হে আল্লাহ! আপনার ইচ্ছে হলে আমাকে দয়া করুন। বরং দৃঢ় আশা নিয়ে দু’আ করবে। কারণ আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই। - https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=31051

তারপরও তিনি ওয়াদা করেছেন, ইমান আনায়ন করলে, সালাত কায়েম করলে, যাকাত আদায় করলে, সৎকর্ম (যেটা আল্লাহর মানদন্ডে বৈধ সৎ কর্ম, পৌত্তলিক গ্রিক ও রোমান আকিদাহ এবং ত্রিত্ববাদী খ্রিষ্টবাদের সংমিশ্রণ থেকে উদ্ভুত সৎকর্ম নয়) তা করলে তিনি উদ্যান সমূহে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশে নহর সমূহ প্রবাহিত।

وَ الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَنُبَوِّئَنَّهُمۡ مِّنَ الۡجَنَّۃِ غُرَفًا تَجۡرِیۡ مِنۡ تَحۡتِهَا الۡاَنۡهٰرُ خٰلِدِیۡنَ فِیۡهَا ؕ نِعۡمَ اَجۡرُ الۡعٰمِلِیۡنَ ﴿٭ۖ۵۸﴾و الذین امنوا و عملوا الصلحت لنبوئنهم من الجنۃ غرفا تجری من تحتها الانهر خلدین فیها نعم اجر العملین ﴿٭۵۸

﴾আর যারা ঈমান আনে ও সৎ কর্ম করে, তাদেরকে অবশ্যই আমি জান্নাতে কক্ষ বানিয়ে দেব, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে, সেখানে তারা স্থায়ী হবে। কতইনা উত্তম আমলকারীদের প্রতিদান! (সূরাহ আনকাবুত :৫৮)

৯ : ১৮ اِنَّمَا یَعۡمُرُ مَسٰجِدَ اللّٰهِ مَنۡ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ الۡیَوۡمِ الۡاٰخِرِ وَ اَقَامَ الصَّلٰوۃَ وَ اٰتَی الزَّكٰوۃَ وَ لَمۡ یَخۡشَ اِلَّا اللّٰهَ فَعَسٰۤی اُولٰٓئِكَ اَنۡ یَّكُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُهۡتَدِیۡنَ ﴿۱۸﴾

একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, ওরা হিদায়াতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরাহ তওবা ১৮)

এখন আপনার এগুলা ভাল নাও লাগতে পারে, কথা গুলা কঠোর। এজন্য জিহাদ ফরজ করার সময়, আল্লাহ বলেন:

كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الۡقِتَالُ وَ هُوَ كُرۡهٌ لَّكُمۡ ۚ وَ عَسٰۤی اَنۡ تَكۡرَهُوۡا شَیۡئًا وَّ هُوَ خَیۡرٌ لَّكُمۡ ۚ وَ عَسٰۤی اَنۡ تُحِبُّوۡا شَیۡئًا وَّ هُوَ شَرٌّ لَّكُمۡ ؕ وَ اللّٰهُ یَعۡلَمُ وَ اَنۡتُمۡ لَا تَعۡلَمُوۡنَ ﴿۲۱۶﴾

তোমাদের উপর কিতালের (যুদ্ধের) বিধান দেয়া হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয় এবং হতে পারে কোন বিষয় তোমরা অপছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর। আর হতে পারে কোন বিষয় তোমরা পছন্দ করছ অথচ তা তোমাদের জন্য অকল্যাণকর। আর আল্লাহ জানেন এবং তোমরা জান না।(সূরাহ বাকারাহ ২১৬)

ইসলামের অর্থ কি জানেন? ইসলামের অর্থ সম্পূর্ন আত্নসম্পর্ণ। আমার ভাল না লাগলেও আত্নসমর্পণ, আমার খারাপ লাগলেও আত্নসমর্পন।

আর বিশ্বাসী বা মুমিনের কাজ হইল "ওয়া ক্বলু সামিনা ওয়া আ ত্বনা" অর্থ শুনলাম এবং মান্য করলাম। এজন্য আল্লাহ বলেন:

اٰمَنَ الرَّسُوۡلُ بِمَاۤ اُنۡزِلَ اِلَیۡهِ مِنۡ رَّبِّهٖ وَ الۡمُؤۡمِنُوۡنَ ؕ كُلٌّ اٰمَنَ بِاللّٰهِ وَ مَلٰٓئِكَتِهٖ وَ كُتُبِهٖ وَ رُسُلِهٖ ۟ لَا نُفَرِّقُ بَیۡنَ اَحَدٍ مِّنۡ رُّسُلِهٖ ۟ وَ قَالُوۡا سَمِعۡنَا وَ اَطَعۡنَا ٭۫ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَ اِلَیۡكَ الۡمَصِیۡرُ ﴿۲۸۵﴾

রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফেরেশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল।(সূরাহ বাকারাহ ২৮৫)

এই শুনা এবং মান্য না করা নিয়েই কিন্তু ইবলিস শয়তানে পরিণত হয়েছিল, সে আকল দিয়ে "যুক্তি" দিয়েছিল, আমি কেন আদমকে সেজদাহ করব? কারণ আমিতো আগুনের তৈরী সে মাটির তৈরি। তারও কিন্তু আদমকে সেজদাহ করতে ভাল লাগেনাই। সে অভিশপ্ত হয়ে যায় আখিরাত পর্যন্ত। যেমন আল্লাহ বলেন:

وَ اِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِكَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا اِلَّاۤ اِبۡلِیۡسَ ؕ قَالَ ءَاَسۡجُدُ لِمَنۡ خَلَقۡتَ طِیۡنًا ﴿ۚ۶۱﴾و اذ قلنا للملٓئكۃ اسجدوا لادم فسجدوا الا ابلیس قال ءاسجد لمن خلقت طینا ﴿۶۱﴾

আর স্মরণ কর, যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, ‘আদমকে সিজদা কর’, তখন ইবলীস ছাড়া সকলে সিজদা করল। সে বলল, ‘আমি কি এমন ব্যক্তিকে সিজদা করব যাকে আপনি কাদামাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন? (সূরাহ ইসরাহ ৬১)

ইবলিস অভিশপ্ত হয়ে আল্লাহর শত্রুতে পরিণত হইল:

১৭ : ৬২ قَالَ اَرَءَیۡتَكَ هٰذَا الَّذِیۡ كَرَّمۡتَ عَلَیَّ ۫ لَئِنۡ اَخَّرۡتَنِ اِلٰی یَوۡمِ الۡقِیٰمَۃِ لَاَحۡتَنِكَنَّ ذُرِّیَّتَهٗۤ اِلَّا قَلِیۡلًا ﴿۶۲﴾ قال ارءیتك هذا الذی كرمت علی لئن اخرتن الی یوم القیمۃ لاحتنكن ذریتهٗ الا قلیلا ﴿۶۲﴾

সে বলল, ‘দেখুন, এ ব্যক্তি, যাকে আপনি আমার উপর সম্মান দিয়েছেন, যদি আপনি আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময় দেন, তবে অতি সামান্য সংখ্যক ছাড়া তার বংশধরদেরকে অবশ্যই পথভ্রষ্ট করে ছাড়ব’।(সূরাহ ইসরাহ ৬২)

কাজেই আল্লাহ কেন কি করবেন এই প্রশ্ন করার অধিকার কারো নাই, কারন আল্লাহ বলেন,

لَا یُسۡـَٔلُ عَمَّا یَفۡعَلُ وَ هُمۡ یُسۡـَٔلُوۡنَ ﴿۲۳﴾لا یسـٔل عما یفعل و هم یسـٔلون ﴿۲۳﴾

তিনি যা করেন সে ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা যাবে না; বরং তাদেরকেই প্রশ্ন করা হবে। (সূরাহ আম্বিয়া ২৩)

আল্লাহর একটা নাম বা সীফাত হইল রাহমানির রাহিম, অর্থাত পরম দয়ালু, সে সাথে তার আরেকটা নাম জাব্বার অর্থ প্রবল, আরেকটা মুনতাকিম অর্থাৎ প্রতিশোধ গ্রহণ কারী। এগুলা সব সহ আল্লাহকে গ্রহণ করতে হবে এবং এটাই আকিদাহ বা সহীহ আকিদাহ।

যেটা সমাজের ও যুগের ফেরে বা পার্থিব ক্ষয়ক্ষতির কারণে ভাল লাগল না সেটা বাদ এইধরণের কোন বিশ্বাস এর স্থান ইসলামে নাই।

আসা করি বুঝতে পারছেন। যদিও আমরা বিকৃত তাওরাত বা বাইবেলের ওল্ড টেস্টামেন্ট বিশ্বাস করিনা সম্পূর্নরুপে তাও খুলে দেখুন, যে বনি ইসরাইলের ক্ষেত্রে আল্লাহ কতটা কঠোর ছিলেন৷ একেকটা জাতি আল্লাহর একেকটা আযাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। একদিনে কি দুইদিনে।

যার কথা আল্লাহ কুরআনেও তুলে ধরেন বহু আয়াতে , তিনি বলেন :

وَ كَمۡ قَصَمۡنَا مِنۡ قَرۡیَۃٍ كَانَتۡ ظَالِمَۃً وَّ اَنۡشَاۡنَا بَعۡدَهَا قَوۡمًا اٰخَرِیۡنَআমি কত জনবসতিকে ধ্বংস করেছি যারা ছিল যালিম এবং তাদের পর অন্য জাতি সৃষ্টি করেছি। (সূরাহ আম্বিয়া ১১)

আর সেই তুলনায় তো আল্লাহ তা'আলা উম্মাতে মুহাম্মাদের উপর যথেষ্ট দয়া প্রদর্শন করেছেন, সহীহ মুসলিমের হাদিসে আছে, তিনি ওয়াদা করেছেন নবী (সা) এর দোয়ার প্রতিফল স্বরুপ যে তিনি উম্মাতে মুহাম্মাদ কে একবারে ধ্বংস করবেন না।

حَدَّثَنَا أَبُو الرَّبِيعِ الْعَتَكِيُّ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، كِلاَهُمَا عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، - وَاللَّفْظُ لِقُتَيْبَةَ - حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ، عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِيَ الأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَإِنَّ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِيَ لِي مِنْهَا وَأُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ الأَحْمَرَ وَالأَبْيَضَ وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي لأُمَّتِي أَنْ لاَ يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ بِعَامَّةٍ وَأَنْ لاَ يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَإِنَّ رَبِّي قَالَ يَا مُحَمَّدُ إِنِّي إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءً فَإِنَّهُ لاَ يُرَدُّ وَإِنِّي أَعْطَيْتُكَ لأُمَّتِكَ أَنْ لاَ أُهْلِكَهُمْ بِسَنَةٍ بِعَامَّةٍ وَأَنْ لاَ أُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ يَسْتَبِيحُ بَيْضَتَهُمْ وَلَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بِأَقْطَارِهَا - أَوْ قَالَ مَنْ بَيْنَ أَقْطَارِهَا - حَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَيَسْبِي بَعْضُهُمْ بَعْضًا

অর্থ: আবূ রাবী আল আতাকী ও কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহঃ) ... সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আল্লাহ সমস্ত পৃথিবীকে ভাজ করে আমার সামনে রেখে দিয়েছেন। অতঃপর আমি এর পূর্ব দিগন্ত হতে পশ্চিম দিগন্ত পর্যন্ত দেখে নিয়েছি। পৃথিবীর যে পরিমাণ অংশ গুটিয়ে আমার সম্মুখে রাখা হয়েছিল সে পর্যন্ত আমার উম্মাতের রাজত্ব পৌছবে। আমাকে লাল ও সাদা দুই ধনাগার দেয়া হয়েছে। আমি আমার উম্মাতের জন্য আমার প্রতিপালকের নিকট এ দুআ করেছি, যেন তিনি তাদেরকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস না করেন এবং যেন তিনি তাদের উপর নিজেদের ব্যতীত এমন কোন শত্রুকে চাপিয়ে না দেন যারা তাদের দলকে ভেঙ্গে টুক্বরা টুকরা করে দিবে।

এ কথা শুনে আমার প্রতিপালক বললেন, হে মুহাম্মদ! আমি যা সিদ্ধান্ত করি তা কখনো প্রতিহত হয় না। আমি তোমার দুআ কবুল করেছি। আমি তোমার উম্মাতকে সাধারণ দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করবো না এবং তাদের উপর তাদের নিজেদের ব্যতীত অন্য এমন কোন শত্রুকে চাপিয়ে দেবো না যারা তাদের সমষ্টিকে বিক্ষিপ্ত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। যদিও বিভিন্ন প্রান্ত হতে লোক সমবেত হয়ে চেষ্টা করে না কেন। তবে মুসলিমগণ পরস্পর একে অপরকে ধ্বংস করবে এবং একে অপরকে বন্দী করবে। - https://www.hadithbd.com/hadith/error/?id=19317

আল্লাহ আপনার ভাল মন্দ লাগা অনুযায়ী তার নিয়ম বদলাবেন না। আপনি বা সমগ্র মানবজাতি যদি তাকে এবং তার নিয়মকে অস্বীকারও করে তাতেও তার কিছু যাবে আসবে না। কারণ তিনি বলেন:

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا مَنۡ یَّرۡتَدَّ مِنۡكُمۡ عَنۡ دِیۡنِهٖ فَسَوۡفَ یَاۡتِی اللّٰهُ بِقَوۡمٍ یُّحِبُّهُمۡ وَ یُحِبُّوۡنَهٗۤ ۙ اَذِلَّۃٍ عَلَی الۡمُؤۡمِنِیۡنَ اَعِزَّۃٍ عَلَی الۡكٰفِرِیۡنَ ۫ یُجَاهِدُوۡنَ فِیۡ سَبِیۡلِ اللّٰهِ وَ لَا یَخَافُوۡنَ لَوۡمَۃَ لَآئِمٍ ؕ ذٰلِكَ فَضۡلُ اللّٰهِ یُؤۡتِیۡهِ مَنۡ یَّشَآءُ ؕ وَ اللّٰهُ وَاسِعٌ عَلِیۡمٌ ﴿۵۴﴾

হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার দীন থেকে ফিরে যাবে তাহলে অচিরেই আল্লাহ এমন কওমকে আনবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুমিনদের উপর বিনম্র এবং কাফিরদের উপর কঠোর হবে। আল্লাহর রাস্তায় তারা জিহাদ করবে এবং কোন কটাক্ষকারীর কটাক্ষকে ভয় করবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তাকে তা দান করেন। আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।(সূরাহ মায়িদাহ ৫৪)

اِنۡ تَكۡفُرُوۡا فَاِنَّ اللّٰهَ غَنِیٌّ عَنۡكُمۡ ۟ وَ لَا یَرۡضٰی لِعِبَادِهِ الۡكُفۡرَ ۚ وَ اِنۡ تَشۡكُرُوۡا یَرۡضَهُ لَكُمۡ ؕ وَ لَا تَزِرُ وَازِرَۃٌ وِّزۡرَ اُخۡرٰی ؕ ثُمَّ اِلٰی رَبِّكُمۡ مَّرۡجِعُكُمۡ فَیُنَبِّئُكُمۡ بِمَا كُنۡتُمۡ تَعۡمَلُوۡنَ ؕ اِنَّهٗ عَلِیۡمٌۢ بِذَاتِ الصُّدُوۡرِ ﴿۷﴾

তোমরা যদি কুফরী কর তবে (জেনে রাখ) আল্লাহ তোমাদের থেকে অমুখাপেক্ষী; আর তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য কুফরী পছন্দ করেন না এবং তোমরা যদি শোকর কর তবে তোমাদের জন্য তিনি তা পছন্দ করেন; আর কোন বোঝা বহনকারী অপরের বোঝা বহন করে না। তারপর তোমাদের রবের দিকেই তোমাদের প্রত্যাবর্তন হবে। তখন তোমরা যে আমল করতে তিনি তা তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয় অন্তরে যা আছে তা তিনি সম্যক অবগত। (সূরাহ যুমার :৭)

আর মুমিন বা একনিষ্ঠ বিশ্বাসীর কাজ হইলো আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ করা। কারণ নবী সা বলেন:

وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَبلَ مَوْتِه بِثَلاَثَةِ أَيَّامٍ يَقُولُلاَ يَمُوتَنّ أحَدُكُمْ إِلاَّ وَهُوَ يُحْسِنُ الظَّنَّ بِاللهِ عَزَّ وَجَلَّ رواه مسلم

অর্থ: জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ইন্তেকালের তিনদিন পূর্বে তাঁকে বলতে শুনেছেন, আল্লাহর প্রতি সুধারণা না রেখে তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই মৃত্যুবরণ না করে। - https://www.hadithbd.com/hadith/detail/chapter/?book=27&chapter=21934

আর এই সুধারণা আপনি আপনার নিজের উপকারের জন্যই পোষণ করবেন: কারণ হাদিসে কুদসিতে আছে: (হাদিসে কুদসী হলো কুরআনের বাইরে আল্লাহর সরাসরি কথা)।

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، سَمِعْتُ أَبَا صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى أَنَا عِنْدَ ظَنِّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلأٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلأٍ خَيْرٍ مِنْهُمْ، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَىَّ بِشِبْرٍ تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَىَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِيأَتَيْتُهُ هَرْوَلَةً ‏"‏‏.‏

অর্থ: উমার ইবনু হাফস (রহঃ) ... আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তা’আলা ঘোষনা করেন, আমি সেইরূপই, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে। আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে। যদি সে মনে মনে আমাকে স্মরণ করে আমিও তাকে নিজে স্মরণ করি। আর যদি সে লোক-সমাবেশে আমাকে স্মরণ করে তবে আমিও তাদের চেয়ে উত্তম সমাবেশে তাকে স্মরণ করি। যদি সে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, তবে আমি তার দিকে এক হাত অগ্রসর হই, যদি সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়; আমি তার দিকে দু হাত অগ্রসর হই। আর সে যদি আমার দিকে হেঁটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই। -  https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=7644

কাজে আকিদাহ ঠিক করেন।

আল্লাহর প্রতি কুধারণা করা যাবেনা।

Back to top button