কোরআন আরবীতে হওয়ায় আরবরা বেশি সুবিধা পায়?

প্রশ্নোত্তর (Q&A)কোরআন আরবীতে হওয়ায় আরবরা বেশি সুবিধা পায়?
[email protected] asked 1 বছর ago
আরব দেশের লোকেরা কোরআন সহজেই পড়তে পারে, তারা ভালো ভাবে বুঝতে পারে। অন্য দিকে অনারব লোকেদের অনেক সময় ধরে আরবী ভালোভাবে পড়া শিখতে হয়। পড়া শেখার পর আবার এর অর্থ বুঝতে হয়। আর আরবী শেখা কম কঠিন না। আরবী লোকেরা নামাজের সময় কোরআন তেলাওয়াত শুনে মনোযোগ বাড়াতে পারে। অন্য দিকে আমরা অনারব লোকেরা আরবী বুঝি না দেখে নামাজে ভালো ভাবে মনোযোগ দিতে পারি না। আমার প্রশ্ন হলো এটা আরব দের জন্য সুবিধা জনক নয় কি? আর আমাদের জন্য কি এখানে কোনো আরব দের থেকে benefit আছে?
2 Answers
On behalf of the authors answered 1 বছর ago

একই কথা আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সেখানেও দেখা যায় ইংলিশ ভাষাভাষী যারা লোক আছে তারা কিন্তু এক্সট্রা বেনিফিট পাচ্ছে আমাদের তুলনায়। অর্থাৎ যারা ইংরেজিতে কথা বলে না, যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি না তাদের তুলনায়।

কিন্তু এই ক্ষেত্রে আমরা একটা ট্রেন্ড দেখছি, সেটা হল আমাদের দেশের মানুষরা যদিও তারা ইংরেজি ভাষাভাষী না কিন্তু তারা এই প্রশ্ন করে না যে অন্যান্যদেরকে কেন বেনিফিট দেওয়া হল। তারা এই এক্সট্রা বেনিফিট কেন পেল? আমরা কেন এই বেনিফিট হতে বঞ্চিত হলাম এই প্রশ্ন করে না। এই প্রশ্ন না করে তারা বরং আরো আগ্রহের সাথে ইংরেজি শিখে বা শিখার চেষ্টা করে। এমনকি নিজ সন্তান সন্ততিকেও শিখায় বা শিখতে একপ্রকার বাধ্য করে।

কিন্তু এখন যখন ধর্মের বেলায় আসলো, ইসলামের বেলায় আসলো তখন আমরা সেই প্রশ্নগুলো করছি যা ইংরেজির বেলায় করি না। আমরা ইংরেজিতো খুব আগ্রহ নিয়ে শিখি কিন্তু আরবিটা তার ৪ ভাগের এক ভাগ আগ্রহ নিয়েও শিখি না, চেষ্টাও করি না।

ইংরেজি ভাষার বেলায় আমরা বুঝতেছি যে ভাষাকেই করা হোক একটাকেতো আন্তর্জাতিক ভাষা করতেই হতো, এটা যেকোনো ভাষাই হতে পারতো ইংরেজি ছাড়া। তখনও সেই সমস্যা থাকতোই যে অন্যন্যা ভাষাভাষীদের জন্য বেনিফিটটা একটু কম হয়। এই বিষয়টা আমরা ইংরেজির ক্ষেত্রে মেনে নিচ্ছি কিন্তু আরবির ক্ষেত্রে আমরা এই জিনিসটা মানতে একটু নারাজ।

এর দ্বারা বুঝা গেল আমাদের যেহেতু দুনিয়াবি উন্নতি বা সফলতার জন্য দরকার সেহেতু আমরা বিনা প্রশ্নে এই ইংরেজি শিক্ষাকে অতি উৎসাহের সাথে এটাকে গ্রহণ করে নিয়েছি। কিন্তু যেহেতু আরবিটা আখিরাতের সাথে জড়িত এজন্য আমরা আখিরাতের বিষয়টির প্রতি খুব একটা চিন্তিত না। তাই আখিরাতের সাথে জড়িত হওয়ায় আরবির না সেরকম প্রচলন আছে, না শিখার চেষ্টা আছে, না উৎসাহ উদ্দীপনা আছে। এই হল ব্যাপার।

এই প্রশ্নটা জাগ্রত হওয়ার ভিত্তিটা হচ্ছে দুনিয়াকে আখিরাতের উপর প্রাধান্য দেওয়া। এর ভিত্তিতেই এই প্রশ্নটি করা হচ্ছে।
যাইহোক মূল উত্তরে প্রবেশ করি।

এখানে এক্সট্রা বেনিফিট হিসেবে আল্টিমেটলি কিছুই কাউন্ট হবে না। যখন কোন ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করেছে তখন তার উপর জরুরি হল তা অনুসারে আমল করা৷ সে যদি আমল না করে তাহলে তাকে হিসাব দিতে হবে। এখন আরবি ভাষাভাষীরা আরবি বোঝার কারণে তারা কোরআন ও হাদিসের মর্ম আমাদের তুলনায় ঢের ভালো বুঝতে পারেন, তাই তাদের উপর এটা হুকুম যে যেন তারা সেসবের উপর আমল করে।

আখিরাতে তাদেরকে যেভাবে প্রশ্ন করা হবে, আমাদেরকে সেভাবে প্রশ্ন নাও করা হতে পারে৷ যেমন একটি হাদিসে এসেছে কেয়ামত দিন ৫টা প্রশ্ন করার আগ পর্যন্ত কেউ তার কদম সরাতে পারবে না। তার মধ্যে একটা প্রশ্ন হল তকটুকু ইলম অর্জন করেছো ও তা অনুসারে কতটুকু আমল করেছ।

সেহেতু এই ভাষার কারণে যদিও আমাদের নিকট মনে হচ্ছে আরবি ভাষাভাষীরা কিছুটা বাড়তি বেনিফিট পাচ্ছে কিন্তু আলটিমেটলি তাদেরকেও হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে, এমনকি আমাদের তুলনায় আরো কঠোরও হতে পারে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ। আবার আমরা যে পারি না অথবা আমাদের যে শিখতে কষ্ট হয় বেশি এটার কারণেও আলাদা সওয়াব পাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। যেমন এক হাদিসে আছে যে ব্যক্তি কোরআনকে কষ্ট করে করে পড়ে, সম্পূর্ণ নির্ভুল না হলেও কষ্ট হলেও সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সুদ্ধ করে পড়ার সে দ্বিগুণ সওয়াবের অধিকারী হয়। অর্থাৎ এবাদতের জন্য যদি এক্সট্রা কষ্ট হয় তার জন্য এক্সট্রা বেনিফিট পাবে সে।

কেয়ামতের দিন কিন্তু আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সকলকে তার অবস্থা, বৈশিষ্ট্য, চেষ্টা, নিয়ত ইত্যাদি অনুসারেই বিচার করবেন। আল্টিমেটলি কিন্তু তখন ব্যালেন্স হয়ে যাবে।

ঠিক এই প্রশ্নটা ঐ প্রশ্নের মতোই যে কাউকে আল্লাহ ২টা চোখ দিয়েছেন কাউকে ১টা, এখানে কে বেশি সুবিধা পাচ্ছে? আল্লাহর নিকট কে বেশি সুবিধা পাবে? এখানে আল্লাহ ব্যালেন্স করে ফেলবেন, একজনকে একটু ছাড় দিবেন, একজনকে দিবেন না। ধনি গরিবের ক্ষেত্রেও একই। হাদিসে আছে গরিবরা ধনীদের তুলনায় ৫০০ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এর কারণ কি? ধনিদের উপর বিধান বেশি, কোরবানি, জাকাত, হজসহ বহু বিধান বেড়ে যায়। অপর দিকে গরিব গরিব হওয়ায় তার বিধান কম ও আল্লাহর দরবারে সে সুবিধা পাচ্ছে।

একটা কথা আছে না With great power comes great responsibility.

হাদিসের রেফারেন্স

  1. https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=48502
  2. https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=41079
  3. https://www.hadithbd.com/books/link/?id=12158

উত্তর দিয়েছেন মুসআব ইবনে উমাইর

anil af answered 1 বছর ago

আপনার এই প্রশ্নটা অত্যন্ত লেইম: তার কারণ আপনি দুইটা আয়াত সম্পর্কে এখনও অন্তর হইতে ইমান আনতে সক্ষম না।

  1. আল্লাহ যা ইচ্ছা তাই করেন. (সূরাহ৷ বুরুজ)
  2. তাকে প্রশ্ন করা হয়না। কারণ তিনি অমুখাপেক্ষি

আপনি মূলত যেই প্রশ্নটা করছেন, যে কেন আল্লাহ কুরআন আরবি ভাষায় নাযিল করলেন, এতে আপনার আরবদের প্রতি এক প্রকার ঈর্ষা ও বিদ্বেষ লক্ষণীয়। ঠিক এই ঈর্ষা ইয়াসরিবের ইয়াহুদিদের ছিল, যে নবী কেন বনি ইসরাইলিদের মধ্যে থেকে না হয়ে আরবদের মধ্য হইতে আসলেন! ঠিক একই ইর্ষা ইয়াহুদিদের মধ্যেও ছিল।

এটা হইল নিজের গোত্র ও ভাষাকে সুপ্রিম মনে করার একটা superiority complex যেটা আরবিতে আস্যাবিয়াত নামে পরিচিত।

আর রাসূলুল্লাহ (সা) বলছেন, যে ব্যক্তিগোত্রবাদে লিপ্ত তার মৃত্যু জাহেলিয়াতের মৃত্যু (সহীহ মুসলিম)। জাতীয়তাবাদ, গোত্রপ্রীতি ও ভাষাপ্রীতি যে ইসলামে কতটা ঘৃন্য আর নিন্দনীয় তা নিম্মলিখিত আর্টিকেলটা পড়লেই বুঝতে পারবেন:

এই যে জাতিআন্ধা হওয়া এটা অবশ্য আপনাদের সমস্যা না। বঙ্গীয় অশ্লীল সাহিত্য লিখকেরা আপনাদের মগজে ছোটবেলা হইতে গ্রিক পৌত্তলিকতা হইতে উদ্ভুত জাতীয়তাবাদ নামক এক শিরকিয়া বিশ্বাস ঢুকায়ে দেন। (এজন্য পড়ুন : বাংলা সাহিত্যে ইসলামবিদ্বেষ বইটা)। এতেই ছোটবেলা হইতে মূলত এই সুপিয়রিটি কম্পলেক্স টা তৈরি হয়। আপনাদের জেনারেশনের সমস্যা হইল, তারা আল ওয়ালা আল বারা বুঝে না। আগে আল ওয়ালা আল বারা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন।

ইসলামের ভিত্তি হইল আল ওয়ালা আল বারা। আর আল ওয়ালা আল বারা আজকে মুসলিম সমাজে নাই। মুসলিমরা কাফেরদের শত্রু ভাবে না,তাদের মানবতা (যেটা একটা গ্রিক পৌত্তলিক আইডিয়া) মানহাজের কারণে।

কারণ যদি আজকে বলেন এক পতাকার নিচে ঐক্যবদ্ধ হোন, দেখবেন কেউ জাতীয়তাবাদী চেতনায়, কেউ সেক্যুলারিজম এর চেতনায়, কেউ গণতান্ত্রিক চেতনায়, কেউ ভাষাতান্ত্রিক চেতনায় একে অপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। আল ওয়ালা ওয়াল বারা বলতে এখন মুসলিম দেশগুলোর মাঝে কিছু নেই।

যখন বিশুদ্ধ তাওহীদ আসবে, তখনই আল ওয়ালা ওয়াল বারা কায়েম হবে। উভয়টি একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত। মুসলিমদের দুরাবস্থার জন্য আজকে সবেচেয়ে বেশি মুসলিমরাই দায়ী।

আজকে যদি বলেন, পাকিস্তানিদের সাথে ফিলিস্তিনে যুদ্ধ করতে যাবো, তথাকথিত চেতনাপূজারীরা ৭১ টেনে বলবে না এদের সাথে এক হওয়া যাবে না। অথচ এটা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক কারণ ইসলামের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়:

হিন্দা বিনতে উতবা রাসূল ﷺ এর চাচাকে হত্যা করেন, রাসূল ﷺ তাকে ক্ষমা করেন এরপর তিনি ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশ নেন।

ওয়াহশি ইবনে হারব (রা:) তিনি যুদ্ধের ময়দানে হামজা ইবন আব্দিল মুত্তালিব (রা:) কে বর্শা নিক্ষেপ করে হত্যা করেন। অতঃপর ইসলাম গ্রহণের পর তাকে ক্ষমা করা হয়। অতঃপর তিনি ইয়ামামার যুদ্ধ অংশ নেন।

আবু সুফিয়ান ইবনে হারব (রা.) তিনি দীর্ঘ ২০ বছর নবীজি (ﷺ) ও ইসলামের বিরোধিতা করেন। বদর ও উহুদ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। মক্কা বিজয়ে তিনি ইসলাম গ্রহণ করলে রাসূল (ﷺ) ঘোষণা দেন, "যে ঘরে প্রবেশ করবে, সে নিরাপদ।"
তিনি হুনাইন ও তায়েফ অভিযানে অংশ নিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দেন।

ইকরিমা ইবনে আবি জাহল (রা:) তিনি ইসলামের শত্রু ছিলেন। খন্দক যুদ্ধে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন।

মক্কা বিজয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করলে নবীজি (ﷺ) তাকে সাদরে গ্রহণ করেন। ইয়ারমুকের যুদ্ধে বীরত্বের সাথে লড়াই করে শাহাদাত লাভ করেন।

এরকম বহু উদাহরণ দেয়া যাবে। যেখানে ইসলামের এমনকি নবীজি ﷺ এর ক্ষতিকারীদের তিনি তাওহীদের জন্য ক্ষমা করেছেন। এটাই আল ওয়ালা ওয়াল বারা। আমার মুসলিম ভাই যত বড়ই অপরাধী হোক, তার সাথে শত্রুতা মিত্রতা হবে শুধু আল্লাহর জন্য। অথচ আজকে এই আল ওয়ালা ওয়াল বারা অধিকাংশ মুসলিম দাবিদারদের মধ্যে নেই।

উহুদ যুদ্ধের ময়দানে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) নির্দেশ দিয়েছিলেন একদল ধনুকধারীদের পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থান করতে, যেন শত্রুপক্ষ পেছন থেকে আক্রমণ না করতে পারে। কিন্তু বিজয়ের আভাস পেয়ে কিছু সৈন্য লোভ করে নবীজির আদেশ অমান্য করে গণিমতের মাল কুড়াতে নেমে পড়ে। এ সুযোগে খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে কুরাইশ বাহিনী পুনরায় আক্রমণ চালালে মুসলিম বাহিনী বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়।

উহুদ যুদ্ধে মুসলিম সৈন্যরা গণিমতের মাল সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় শৃঙ্খলা ভেঙে যায়, ফলে শত্রুপক্ষ পাল্টা আক্রমণ করে তাদের পরাজয় ঘটায়। এ পরিস্থিতিতে আল্লাহ তাআলা সূরা আলে ইমরানের ১৫২ নং আয়াত নাজিল করেন

: أَوَلَمَّا أَصَابَتْكُم مُّصِيبَةٌ قَدْ أَصَبْتُم مِّثْلَيْهَا قُلْتُمْ أَنَّىٰ هَـٰذَا ۖ قُلْ هُوَ مِنْ عِندِ أَنفُسِكُمْ

যখন তোমাদের বিপদ আঘাত করল, অথচ তোমরা এর দ্বিগুণ (শত্রুদের) আঘাত করেছিলে, তখন তোমরা বললে: 'এটা কোথা থেকে এলো?' বলো: 'এটা তোমাদের নিজেদের পক্ষ থেকেই এসেছে।'"

ইবনে কাসির (রহ.) ব্যাখ্যায় বলেন, "এ আয়াত প্রমাণ করে, মুমিনের যেকোনো বিপদ-মুসিবত তার নিজের অপরাধ বা ভুলের ফলেই আসে। আল্লাহর নিয়মে বিজয়-পরাজয় বাহ্যিক কারণের চেয়ে বান্দার ঈমানি শক্তি ও তাকওয়ার ওপর নির্ভরশীল।"

পড়ুন আল ওয়ালা আল বারা সম্পর্কে:

আর রইল আরবি সম্পর্কিত প্রশ্ন: শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়াহ রাহিমাহুল্লাহ বলেন : প্রত্যেক মুসলমানের উপর আরবি ভাষা শেখা ও তা আত্নস্থ করা ওয়াজিব।

আরবি ভাষার গুণাগুণ ও eloquence সম্পর্কে জানতে পড়ুন:

আপনার এই ধরনের লেইম প্রশ্ন নিয়ে ইসলামের প্রাথমিক সাহাবি অনারবর সালমান ফারসির মনেও এসব বদ চিন্তার উদয় হয়নাই। তিনি বলেন নাই আমি কেন আরবি শিখব, বরঞ্চ ইয়াহুদিরা বলত হিংসা বশত যে আরবদের মধ্যে কেন নবী আসল?

আল্লাহ তা'আলা আরো বলেন যে নিশ্চয়ই আমি আরবি ভাষায় কুরআন নাযিল করেছি যাতে নবীর অনুসারি আরবদের তা বুঝতে সহজ হয়।

আর আরবদের শ্রেষ্টত্ব নিয়ে নবী (সা) তার বিদায় হজের ভাষণে বলেন:

আরবের উপর অনারবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নাই অনারবরের উপর আরবের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নাই। শ্রেষ্ঠত্ব আছে শুধু তাকওয়া ও পরহেযগারিতায়। (মুসনাদে আহমাদ).

প্রতিদিন সকালে "আমার সোনার বাংলা " গাওয়া আস্যাবিয়াতে আক্রান্ত জাতির কাছে কুরআন কেন আরবিতে এটা অস্বাভাবিক মনে হবেই।

তাদের মনে এই প্রশ্ন অবশ্য কখনো জাগবেনা, বেদটা কেন সংস্কৃতে, বাইবেলটা কেন গ্রিকে যদিও যীশুর মুখের ভাষা ছিল এরামায়িক, তাওরাত টা কেন হিব্রুতে মূলত এধরনের চিন্তা আপনার দোষ না। কারণ ছোটবেলা থেকেই ব্রিটিশদের তৈরি কারিকুলাম আপনাকে এটাই শিখাবে যে আপনার ভাষা সুপেরিয়র বা ঐশি টাইপের কিছু। ব্রিটিশদের আরবিকে ছোট করার কৌশল নতুন নয়। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মিশরে যখন ব্রিটিশরা কলোনি করে সর্বপ্রথম তারা সেটা এটাক করে তা হইল আরবি ভাষা ও এর সাহিত্যমান। তারা তাদের লেখনিতে এটা প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করে যে আরবি আধুনিক যুগে একটি অচল ভাষা। আর ইংরেজি সুপেরিয়র। আপনাদের ডাবল স্ট্যান্ডার্ডে এই প্রশ্নটা আসে না, যে ব্রিটিশদের ভাষা আমি কেন আমার পকেটের পয়সা খরচ করে স্কুল কলেজে শিখতে বাধ্য হচ্ছি। এই প্রশ্ন কখনও করেছেন নিজের মনকে? অথচ মুসলিমের জন্য আরবি ভাষা শেখা ওয়াজিব হলে তখন আপনার তা বৈষম্য লাগে। নাইস ডাবল স্ট্যান্ডার্ড। এধরণের চিন্তাভাবনার উদয়ই হইল গোত্রপ্রিতী।

ওহ আরেকটা কথা, ইসলাম কখনই বলেনাই যে ইসলাম বৈষম্য দূর করতে আসছে। বরঞ্চ আল্লাহ তা'আল পরিষ্কার ভাবে জানিয়েছেন, কাফের আর মুমিন কখনই এক না। এখন আপনি কোনটায় যাবেন সেটা আপনার ডিসিশন। আল্লাহ তা'আল ক্ষমাশীল, তিনি কাফেরের পূর্ববর্তী করা শিরকের মতন বীভতস গুনাহও ইসলামের মাধ্যমে মিটিয়ে দেন। এখন কাফের ঘরে কেন জন্ম কাফেরের আর মুমিনের ঘরে কেন জন্ম মুমিনের এইটা অন্য আলোচনা। তাও সংক্ষেপে বলে রাখি, আল্লাহর ইচ্ছা। কারণ তিনি বলেন :

ফা'আ লুলিল মা ইউরিদ"

তার যা ইচ্ছা তিনি তাই করেন".

আর ইসলামের অর্থই হইল আত্নসম্পর্ণ, ইসলামের ভিত্তিই হইল আল্লাহর যেকোন সিদ্ধান্তের সার্বভৌমত্বকে স্বীকার করে নেওয়া বিনা বাক্যে এবং আল্লাহ যে পথভ্রষ্ট হবার যোগ্য তাকেই পথভ্রষ্ট করেন।

আর আরবেরা কোন বেশি বেনিফিট পায় কিনা এটাও একটা লেইম প্রশ্ন কারণ, কুরআন তিলাওয়াত একটা ইবাদত। এতে সে বুঝে পড়ুক আর না পড়ুক প্রতিটা অক্ষরের বিনিময়ে সে একটা করে নেকি লাভ করবে। এখানে আরব অনারব, বুঝা না বুঝা কোন শর্ত নাই:

কুরআন পাঠের ফযীলত সম্পর্কে হাদিস ও আছার সমূহ:

  1. https://www.hadithbd.com/hadith/detail/?book=27&section=687
Back to top button