জান্নাতে মদ খেতে দিবে?
আপনারাত অনুবাদ দেখছেন, যদি আরবি জানতেন তাহলে হয়ত ভালো করেই বুঝতে পারবেন বিষয়টা।
সাধারনত অনুবাদকরা সেই আরবি শব্দগুলোর অনুবাদ মদ করেছেন। তো এই সো কলড মদের কথা কোরআনে সাধারনত সূরা সাফফাত, সূরা মুহাম্মাদ, সূরা ইনসান, সূরা ওয়াকিয়াহ, সূরা তুর এ উল্লেখ করা হয়েছে। একটা একটা করে বলি।
সূরা সাফফাত ৪৫-৪৭ এ কোথাও মদ শব্দটির উল্লেখ নেই। সেখানে উল্লেখ আছে ৪৫ নম্বর আয়াতে مَّعِينٍۭ বিশুদ্ধ পানীয় مِّن থেকে بِكَأْسٍ এক পান পাত্র। এর পরের ২ আয়াতে উল্লেখ আছে সেই পানীয় এর বৈশিষ্ট। [ক্রস চেক করার জন্য চাইলে শব্দে শব্দে কোরআন খুলে এই শব্দের অর্থ দেখে নিতে পারেন]
সূরা মোহাম্মদ ১৫ নাম্বার আয়াতে মদ শব্দটার আরবি শব্দ পাওয়া যায় خَمۡرٍ । এখন বাংলা ইংরেজিকে এটাকে মদ হিসেবে অনুবাদ করা হলেও বাস্তবে এটা অর্থ শুধু মদ না। মদ জাতিয় পানিয়, মিষ্টান্ন, আপেলের রস দিয়ে তৈরি রস, আঙ্গুরের রস দিয়ে তৈরি করা পানিয়, বিনেগার বা সিডার, তালের মিষ্টান্ন, গাঁজন, ইত্যাদি। [ https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/%D8%AE%D9%8E%D9%85%DB%A1%D8%B1%D9%8D/ ]
সূরা ইনসানের ৫ নাম্বার আয়াতেও মদের কথা উল্লেখ নেই বরং বলা হয়েছে তারা পান করবে এমন পেয়ালা হতে যার মিশ্রণ হবে কাফূর - ‘ يَشْرَبُونَ পান করবে مِن থেকে كَأْسٍ পেয়ালা مِزَاجُهَا তার সংমিশ্রণ كَافُورًا কর্পূরের’ [ক্রস চেক করার জন্য চাইলে শব্দে শব্দে কোরআন খুলে এই শব্দের অর্থ দেখে নিতে পারেন]
সূরা ইনসান আয়াত ২১ এ শরাবের কথা বলা হয়েছে। এখন আমাদের এই উপমহাদেশে শরাব মানে মদকেই বুঝে। কিন্তু আরবিতে শরাব মানে হল পানীয়, আরবিতে এটা মানে মদ বা নির্দিষ্ট করে মাদক জাতিয় কোন পানীয়কে বুঝানো হয় না। এই আয়াতের পানিয় সংক্রান্ত শেষের দুইটি আরবি শব্দ হল - شَرَابًا পানীয় طَهُورًا পবিত্র [ https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/%D8%B4%D9%8E%D8%B1%D9%8E%D8%A7%D8%A8%D9%8B%D8%A7/ ]
সূরা তুর আয়াত ২৩ এও কোন মদের কথা বলা হয়নি বরং বলা হয়েছে তারা كَأْسًا পানপাত্র বিনিময় করবে। [ক্রস চেক করার জন্য চাইলে শব্দে শব্দে কোরআন খুলে এই শব্দের অর্থ দেখে নিতে পারেন]
সূরা ওয়াকিয়াহ এর ১৮ নম্বর আয়াতের বাংলা অনুবাদে বলা হয়েছে, কিছু বালক দাড়িয়ে থাকবে পানপাত্র, জগ, প্রবাহিত ঝর্ণার শরাব/শুরা/মদ নিয়ে। এখানে আমাদের এখানে প্রয়োজনীয় শব্দগুলোর বাস্তব অর্থ হল ‘ بِأَكْوَابٍ পান পাত্রগুলো নিয়ে’ مَّعِينٍ প্রবাহিত ঝর্ণা। ফাতহুল কাদির, কুরতুবি, ইবনে কাসিরের মত বিখ্যাত তাফসিরে এই مَعِين শব্দটার সম্পর্কে বলেছেন এটা মানে হল পানীয় একটি ঝর্ণা। অথচ কিছু কিছু বাংলা অনুবাদে মদ/সুরা বলা হয়েছে। [ https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/%D9%85%D9%91%D9%8E%D8%B9%D9%90%D9%8A%D9%86%D9%8D/ এবং ফাতহুল কাদির, কুরতুবি, ইবনে কাসিরের তাফসিরে এই আয়াতের ব্যাখ্যায়]
সূরা মুতাফফিফিনের ২৫ নাম্বার আয়াতেও মদের কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে এক প্রকার পানীয়র কথা যা رَّحِيقٍ ফুলের অমৃতের মত। [ https://www.almaany.com/en/dict/ar-en/%D8%B1%D9%91%D9%8E%D8%AD%D9%90%D9%8A%D9%82%D9%8D/ ]
অপর দিকে মাদকদ্রব্যের আরবী প্রতিশব্দ ‘খমর’ (خمر) এর অর্থ- সমাচ্ছন্ন করা, ঢেকে দেয়া যেমনটা সুরা বাকারার ২১৯, সূরা মায়েদার ৯০ নাম্বার আয়াতে এসেছে। সুতরাং এই আয়াতগুলোতে আপনারা যেগুলোকে মদ হিসেবে চিনেন সেগুলোর কথাই যে বলা হয়েছে এর কোন বাস্তবতা নেই। অনেকে বলবে হাদিসেতো খমর’ (خمر) শব্দ ব্যবহার হয়েছে, এই ক্ষেত্রে আমি মনে করি ভাষার সুবিদার্থেেই হাদিসে এই শব্দটা ব্যবহার হয়েছে, যেখানে কোরআনে শব্দের সুস্পষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান সেখানে দুনিয়া ও জান্নাতের ক্ষেত্রে দুটো যে ভিন্ন, আল্লাহর নিকট দুটো যে এক রকম জিনিস নং তাতে কোন সন্দেহ থাকে না।
যদি ধরেও নি যে কোরআনে মদের কথাই বলা হয়েছে তারপরওতো দুনিয়ার মদের সাথে সেই মদের তুলনা করা যায় না। বর্তমানে বিদেশে অনেক টাইপের মদ দেখা যায় যেগুলোতে ক্ষতি ও মাতলামি করার যে ক্ষমতা তার পার্থক্য রয়েছে। কোনটাতে কম কোনটাতে বেশি, কোনটাতে অনেক বেশি, কোনটাতে মাঝারি ইত্যাদি। মদ শুধুই একটা নাম, এটা বৈশিষ্ট্য নয়। মাতলামি, মাথা ব্যাথা, খারাপ স্বাদ, নেশা হওয়া, ক্ষতিকর ইত্যাদি হচ্ছে বৈশিষ্ট্য যা সাধারনত মদের মধ্যে থাকে। এখন আপনিই চিন্তা করুন যেখানে মানষের পক্ষে মদের এত টাইপ বানানো সম্ভব, সেখানে কি সমগ্র সৃষ্টির স্রষ্টার পক্ষেকি এমন কোন কিছু তৈরি করা সম্ভব নয় যে সুস্বাধু, সাস্থ্যসম্মত, নেশাহীন মদ তৈরি করে! এই বিষয়ে আল্লাহ কোরআনের সূরা সাফফাত: ৪৫-৪৭, সূরা ওয়াকিয়া: ১৭-১৯ তে স্পষ্ট করেছেন।
আরো বিস্তারিত জানতে দেখতে পারেন -