সাহাবারা কি নবীজির রক্ত বা পেশাব পান করেছিলেন??

প্রশ্নোত্তর (Q&A) › সাহাবারা কি নবীজির রক্ত বা পেশাব পান করেছিলেন??
jabir abdullah asked 2 মাস ago
আমরা জানি যে রক্ত হল নাপাক এবং তা পান করা হারাম। তা সত্বেও আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. কেন নবীজির হিজামার রক্ত পান করেছিলেন?? এটার সনদ এর মান কি? উনি ছাড়াও এমন কতগুলা রিওয়ায়াত আছে যেগুলাতে ভিন্ন ভিন্ন সাহাবির কথা পাওয়া যায় যারা রক্ত পান করে ছিলেন! নবীর পেশাব পান করার হাদিসও পাওয়া যায়। সেটা কি দুরবল?? আর উটের পেশাবের হাদিস কি মানসুখ??
1 Answers
Muhammad Hasan answered 2 মাস ago

জবাব:

আপনার প্রশ্নের বেশ কয়েকটা দিক রয়েছে যেটা আলাদা ভাবে আলোচনার দাবি রাখে

১. আমাদের রক্ত এবং পেশাব যেমন নাজাস বা অপবিত্র তার সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যাপারেও এর হুকুম কি একই নাকি ভিন্ন?

২. আসলেই কোনো সাহাবী থেকে নবীজীর রক্ত পান করা প্রমানিত কিনা? নির্দিষ্টভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়েরের এর সনদের অবস্থা আপনি জানতে চেয়েছেন, আরও জানতে চেয়েছেন উনি ছাড়াও এমন কতগুলি রিয়াওয়াত রয়েছে যেগুলাতে ভিন্ন ভিন্ন সাহাবির কথা পাওয়া যায় যারা রক্ত পান করে ছিলেন।

৩. শেষে আরও দুইটি বিষয় জানতে চেয়েছেন এক. নবীজীর পেশাব পান করার হাদীস কি যঈফ কিনা আর উটের পেশাবের হাদীস কি মানসুখ কিনা!

জবাব: বিসমিল্লাহ আল্লাহর প্রশংসা আদায় করছি অতপর প্রিয় নবীজীর উপর দরুদ বর্ষিত হোক। (আল্লাহুমা সাল্লী আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ)

প্রথমত আমাদের ক্ষেত্রে যেটা নাজাস তার সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ক্ষেত্রেও সেটা নাজাস কিনা?

নবী ﷺ-এর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি নিয়ে শাফেয়ি আলেমরাই সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন; পরবর্তীতে অন্যান্য লোকও তাঁদের অনুসরণ করেছেন। কিন্তু প্রাথমিক যুগের আলেমদের মধ্যে এ বিষয়ে তেমন আলোচনা পাওয়া যায় না।

শিষ্টাচারের দিক থেকে তাঁদের কেউ কেউ এভাবে বলেন:

“والنجس من غيره نجس منه”
“অন্যদের ক্ষেত্রে যে বস্তু নাজিস, তাঁর ক্ষেত্রেও সেটি নাজিস।”

আবার অন্য কিছু আলেম এর বিরোধিতা করেছেন যেটা সামনে আলোচনা করব তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে অনেক বড় লেখা হয়ে যাবে তাই সংক্ষেপে আলোচনা করব, যদি কখনও এই বিষয়ে বড় কোনো ইশকাল আসে তখন সেটা খণ্ডন করার উদ্দেশ্য হয়তো বিস্তারিত লিখতে পারি। আমাদের যেখানে সতর্ক থাকা জরুরি সেটা হলো খুব সাবধানতার সাথে শব্দ প্রয়োগ করা মহান ও সম্মানিত নবী ﷺ-এর মর্যাদার ক্ষেত্রে আদব রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাই উত্তম হলো আমরা এভাবে প্রশ্ন করি: 

“পবিত্রতার দিক থেকে এর বিধান কী?”

এর হুকুম দেয়ার ক্ষেত্রেও আলেমদের শব্দগুলি লক্ষ্য করলেই সেটা পরিষ্কার হয়ে যায় তারা কত সাবধানতার সাথে হুকুম দিয়েছেন কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেকেই তাদের শাতেমের হুকুম দিয়ে থাকে যেই ফিতনা অস্তিত্বশীল তবে আমরা সালাফদের অর্থাৎ আহলুস সুন্নাহর গ্রহনযোগ্য ইমামরাই আমাদের জন্য অনুসরণযোগ্য।

যারা নবীজীর দেহ থেকে নির্গত বস্তুকে নাজাস বলে মত পোষণ করেছেন তাদের অনেকগুলি দলিলের মধ্যে অন্যতম একটি দলিল হলো এই আয়াত

إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ
আমি তোমাদের মতোই মানুষ

এই আয়াতের দলিল দিয়ে অনেকেই বলেছেন মানুষের ক্ষেত্রে যেটা নাজাস নবীজীর ক্ষেত্রেও তাই। শাইখ ইবনু উসাইমীন এই যুক্তিই ব্যবহার করেছেন তিনি আরও বলেন, নবী ﷺ পেশাবের পর ইস্তিঞ্জা/ইস্তিজমার করতেন, আরোও বলা যায় তিনি ফরজ গোসল ও করতেন যদি তার সা: ক্ষেত্রে এইগুলি নাজাস না হতো তাহলে এ থেকে পবিত্রতা অর্জন করার প্রশ্নই আসত না।

অন্যদিকে, যারা পবিত্র বলেছেন, তাদের বক্তব্য হলো নবী ﷺ-এর ক্ষেত্রে খাস বৈশিষ্ট্যের দলিল থাকলে সাধারণ মানুষের বিধান সরাসরি তাঁর ওপর প্রয়োগ করা যাবে না এবং নবীজীর পবিত্র দেহ মুবারক থেকে যা কিছু নির্গত হয় তার সব কিছুই পবিত্র এই ব্যাপারে তাদের অনেক দলিল রয়েছে এই মত দিয়েছেন ইবনে হাজার (রহ) তবে শাফেঈদের মধ্যেও এই বিষয়ে মতভেদ হয়েছে।

যাঁরা বলেছেন পবিত্রঃ

অন্যদিকে মানসুর বুহূতী (মৃ. 1051H) সরাসরি লিখেছেন:

والنجس منا طاهر منه صلى الله عليه وسلم ومن سائر الأنبياء، وبجواز أن يستشفى ببوله ودمه
আমাদের ক্ষেত্রে যা নাজিস, তাঁর ﷺ ক্ষেত্রে তা পবিত্র; এবং অন্যান্য নবীদের ক্ষেত্রেও। আর তাঁর পেশাব ও রক্ত দ্বারা চিকিৎসা গ্রহণ করা বৈধ। [ كشاف القناع عن متن الإقناع, ৫মখণ্ড, كتاب النكاح وخصائص النبي، فصل في خصائص النبي]

ইমাম আল-মারদাওয়ী (মৃ. 885H) الإنصاف–এ লিখেছেন:

«والنجس منا طاهر منه. ذكره في الفنون وغيره. وقدمه في الفروع.»

তারপর বিপরীত মতও উল্লেখ করেছেন:

«وفي النهاية لأبي المعالي، وغيرها: ليس بطاهر.»

আমাদের ক্ষেত্রে যা নাজিস, তাঁর ক্ষেত্রে তা পবিত্র…এ কথা الفنون প্রভৃতি গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে এবং الفروع এ এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে আবুল-মা‘আলীর النهاية এবং অন্যান্য গ্রন্থে আছে যে এটি পবিত্র নয়।

ইবনু হাজার আল-হাইতামী (মৃ. 974H) প্রথমে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী পেশাব/পায়খানাকে নাজিস বলেছেন। তারপর লিখেছেন:

واختار جمع متقدمون ومتأخرون طهارة فضلاته صلى الله عليه وسلم وأطالوا فيه
অনেক মুতাকাদ্দিমিন ও পরবর্তী আলেম তাঁর ﷺ-এর فضلات (দেহ থেকে নির্গত পদার্থ) এর ব্যাপারে পবিত্রতার মত দিয়েছেন এবং পবিত্র হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।

শাফেঈদের মধ্যে এই বিষয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে নিচের উলামাগণ এর পবিত্র হওয়ার কথা বলেছেন।

  1. تقي الدين السبكي
  2. شهاب الدين الرملي
  3. شمس الدين الرملي
  4. الخطيب الشربيني

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (রহ) থেকেও এই মত পাওয়া যায় যেটা তিনি তার ফাতহুল বারীতে উল্লেখ্য করেছেন।

والحق أن حكمه حكم جميع المكلفين في الأحكام التكليفية إلا فيما خص بدليل، وقد تكاثرت الأدلة على طهارة فضلاته وعد الأئمة ذلك في خصائصه، فلا يلتفت إلى ما وقع في كتب كثير من الشافعية مما يخالف ذلك، فقد استقر الأمر بين أئمتهم على القول بالطهارة
হক কথা হলো, নবী ﷺ শরিয়তের বিধানের ক্ষেত্রে অন্যান্য মানুষের মতোই। কিন্তু কোনো বিষয়ে যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে তাঁর জন্য আলাদা বা খাস বিধান রয়েছে, তাহলে সেটি ব্যতিক্রম হবে। আর নবী ﷺ-এর দেহ থেকে নির্গত পদার্থগুলো পবিত্র হওয়ার ব্যাপারে বহু দলিল রয়েছে। বহু ইমামগণ এটিকে নবী ﷺ-এর বিশেষ খাস বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন। তাই পুরনো কিছু শাফেয়ি গ্রন্থে এগুলো নাজিস বলা হয়েছে বলে সেটিকে চূড়ান্ত মত ধরা হবে না; কারণ পরবর্তী শাফেয়ি ইমামদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত পবিত্রতার মতটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অর্থাৎ আমরা বুঝলাম নবীজীর দেহ থেকে নির্গত বস্তু আসলে নাজাস কিনা এটা নিয়ে আসলে একটা “মুটামুটি” ইখতিলাফ হয়েছে দুই দিকেই দলিল আছে সব দলিলগুলো কিভাবে জমা করা যায় না সামঞ্জস্য করা যায় সেটাই হলো বিষয়, আমি এখানে এই মত দিচ্ছি না যে কোন মত অধিক বিশুদ্ধ। মূল প্রশ্নের দিকে যাচ্ছি, কারণ আপনার মূল প্রশ্ন ছিল কোনো সাহাবী থেকে আসলেই প্রমানিত কিনা যে তারা নবীজীর রক্ত পান করেছেন কিনা!

কোনো সাহাবী থেকে নবীজীর রক্ত পান করা প্রমানিত কিনা?

নবী ﷺ-এর রক্ত পান করার ঘটনা কয়েকজন সাহাবি رضي الله عنهم-এর ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তাদের কারও ব্যাপারেই এটি সহিহভাবে প্রমাণিত নয় তবে একজনেরটা ব্যতিক্রম সেটা দিয়েই মূলত দলিল দেয়া হয়েছে যে রক্ত মূলত নবীজীর খাস বৈশিষ্ট্যর মধ্যে একটা যেমন নবীজীর জন্য অন্য খাস সিফাত রয়েছে।

এই বিষয়ে তিনটি হাদিস রয়েছে।

প্রথম হাদিস

আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর رضي الله عنه-এর হাদিস। এটি তিনটির মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী islamqa তেও এই হাদীস নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে এর ভিত্তি স্বীকার করা হয়েছে অর্থাৎ এটা যে যইফ এটা অত সহজে বলা যায় না তবে শায়খ মুকবিল এটা যঈফ বলেছেন অন্যদিকে শায়খ আলবানি (রহ) সহিহ বলছেন অর্থাৎ বুঝা যাচ্ছে হাদিসটা সহিহ না জইফ এটা নিয়েও এটা ইখতিলাফ হচ্ছে কারণ জানতে হলে বুঝতে হবে এই হাদীসের সনদটা কিভাবে রয়েছে, এই জন্য আমি এক মুহাক্কিকের তাহক্বীক নিচ্ছি যার কিতাবের লিঙ্ক আমি শেষে দিয়েছি।

রক্ত পান করার প্রথম হাদীস 

আবু বকর ইবনু আবি আসিম আল-আহাদ ওয়াল-মাসানি (১/৪১৪/৫৭৮)-এ বলেন:

“মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আমাদের বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুসা ইবনু ইসমাইল আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, হুনাইদ ইবনুল কাসিম আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন। আমি আমির ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইরকে বলতে শুনেছি যে, তাঁর পিতা অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর তাঁকে বর্ণনা করেছেন:

তিনি নবী ﷺ-এর কাছে এলেন, তখন নবী ﷺ হিজামা করাচ্ছিলেন। যখন হিজামা শেষ হলো, তিনি বললেন:

‘হে আবদুল্লাহ! এই রক্তটি নিয়ে যাও এবং এমন জায়গায় ফেলে দাও, যেখানে কেউ তা দেখতে না পারে।’

এরপর যখন আমি নবী ﷺ-এর দৃষ্টির আড়ালে চলে গেলাম, তখন আমি সেই রক্তের কাছে গিয়ে তা পান করে ফেললাম।

তখন তিনি বললেন:

‘হে আবদুল্লাহ! তুমি কী করেছ?’

তিনি বললেন: ‘আমি সেটিকে এমন সবচেয়ে গোপন জায়গায় রেখেছি বলে মনে করেছি, যা মানুষের কাছ থেকে গোপন থাকবে।’

তিনি বললেন: ‘সম্ভবত তুমি তা পান করে ফেলেছ?’

তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ।’

তিনি বললেন: ‘তুমি রক্ত কেন পান করলে! মানুষের জন্য তোমার কারণে ধ্বংস, আর মানুষের পক্ষ থেকে তোমার জন্যও ধ্বংস।’”

আবু সালামাহ মুসা ইবনু ইসমাইল বলেন:

“তারা মনে করত যে, ইবনু যুবাইরের মধ্যে যে শক্তি ছিল, তা নবী ﷺ-এর রক্তের শক্তি থেকেই ছিল।”

এই হাদিসটি আরও বর্ণনা করেছেন:

  • আল-বাযযার, আল-মুসনাদ (৬/১৬৯/২২১০)
  • আবু নু‘আইম, আল-হিলইয়াহ (১/৩৩০)
  • আল-হাকিম, আল-মুস্তাদরাক (৩/৬৩৮)
  • আল-বাইহাকি, আস-সুনানুল কুবরা (৭/৬৭)
  • ইবনু আসাকির, তারিখু দিমাশক (২৮/১৬৩–১৬৪)আদ-দিয়া, আল-মুখতারাহ (৯/৩০৭–৩০৯/২৬৬–২৬৭)

তাঁরা সবাই মুসা ইবনু ইসমাইল থেকে হুনাইদ ইবনুল কাসিম ইবনু আবদুর রহমান ইবনু মা‘ইয থেকে আমির ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর থেকে তাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর এই সূত্রে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

“طوق الحمامة في التداوي بالحجامة

মুহাক্কিক বলেন,
এই সনদের সব রাবিই নির্ভরযোগ্য এবং মাশহুর; তাঁরা সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমের রাবিদের অন্তর্ভুক্ত। তবে হুনাইদ ইবনুল কাসিম ইবনু আবদুর রহমান ইবনু মা‘ইয ব্যতিক্রম। তিনি মাশহুর নন এবং তাঁর কাছ থেকে একমাত্র আবু সালামাহ আল-বসরী বর্ণনা করেছেন।”

ইবনু হিব্বান তাঁকে তাঁর আস-সিকাত (৫/৫১৫/৬০১০)-এ উল্লেখ করেছেন। আর ইমাম বুখারি তাঁর আত-তারিখুল কাবির (৮/২৪৯/২৮৯২)-এ বলেছেন:

“হুনাইদ ইবনুল কাসিম ইবনু আবদুর রহমান ইবনু মা‘ইয। তিনি আল-আদ্দা ইবনু খালিদ, আমির ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু যুবাইর, আল-কাসিম ইবনু আবদুর রহমান এবং আল-কাসিম ইবনু আবদুল্লাহকে দেখেছেন। তাঁর কাছ থেকে মুসা ইবনু ইসমাইল বর্ণনা করেছেন।”

ইমাম বুখারি তাঁর ব্যাপারে কোনো জারহ বা তা‘দিল উল্লেখ করেননি।

ইবনু আবি হাতিমও তাঁকে “আল-জারহ ওয়াত-তা‘দীল” (৯/১২১/৫০৯)-এ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তিনি তাঁর ব্যাপারে কোনো জারহ  বা তা‘দীল  উল্লেখ করেননি।

আর হাফিজ হাইসামী “মাজমা‘উয-যাওয়ায়িদ” (৮/২৭০)-এ বলেছেন:

“হুনাইদ ইবনুল কাসিম নির্ভরযোগ্য।” এছাড়া তাঁর বর্ণনাটির মুতাবি‘ পাওয়া গেছে; সুতরাং তিনি এককভাবে এটি বর্ণনা করেননি।

আবু আহমাদ আল-গুতরিফী “জুযউ ইবনিল গুতরিফ” (পৃ. ৬৫), আবু নু‘আইম “আল-হিলইয়া” (১/৩৩০) এবং ইবনু আসাকির “আত-তারীখ” (২০/২৩৩ এবং ২৮/১৬৮)-এ বিভিন্ন সূত্রে সা‘দ আবু আসিম, যিনি সুলাইমান ইবনু আলীর মুক্তদাস, তাঁর সূত্রে তিনি কাইসান, যিনি আবদুল্লাহ ইবনুয-যুবাইরের মুক্তদাস, তাঁর সূত্রে তিনি আমাকে সালমান আল-ফারসী-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন:

তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কাছে প্রবেশ করলেন। তখন দেখলেন, আবদুল্লাহ ইবনুয-যুবাইরের কাছে একটি পাত্র ছিল এবং সে তাতে যা কিছু ছিল তা পান করছিল।

তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: ‘হে আমার ভাতিজা! তোমার কী হয়েছে?’

সে বলল: ‘আমি চেয়েছি, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রক্ত যেন আমার পেটের মধ্যে থাকে।’

তখন তিনি বললেন: ‘মানুষের পক্ষ থেকে তোমার জন্য দুর্ভোগ, আর তোমার পক্ষ থেকেও মানুষের জন্য দুর্ভোগ। আগুন তোমাকে স্পর্শ করবে না শপথের কাফফারা ব্যতীত।

মুহাক্কিক বলেন, এটি মুতাবা‘আতের ক্ষেত্রে একটি গ্রহণযোগ্য সনদ।

সা‘দ ইবনু যিয়াদ, আবু আসিম, যিনি সুলাইমান ইবনু আলীর মুক্তদাস তাঁকে ইবনু হিব্বান “আস-সিকাত” (৬/৩৭৮)-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

আর ইবনু আবি হাতিম “আল-জারহ ওয়াত-তা‘দীল” (৪/৮৩)-এ বলেছেন:

“সা‘দ ইবনু যিয়াদ, আবু আসিম, সুলাইমান ইবনু আলীর মুক্তদাস। তিনি সালিম, ‘আমরার বোন নাফি‘, হামনার মুক্তদাস নাফি‘, ‘উমর ইবনু মুস‘আব এবং আবদুল্লাহ ইবনুয-যুবাইরের মুক্তদাস কাইসান থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে মূসা ইবনু ইসমাঈল, ‘আবদুর রহমান ইবনুল মুবারক, ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘উমর আল-কাওয়ারীরী, মুহাম্মাদ ইবনু আবি বকর আল-মুকাদ্দামী এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু হুমাইদ ইবনুল আসওয়াদ বর্ণনা করেছেন। আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: ‘তার হাদিস লিখে রাখা হয়, তবে সে খুব মজবুত নয়।’

অর্থাৎ, তিনি সালিহুল-হাদিস তাঁর হাদিস ই‘তিবারের জন্য লেখা যায়, অর্থাৎ অন্য সনদ দ্বারা সমর্থন পাওয়া যায় কি না তা যাচাই করার কাজে তাঁর বর্ণনা ব্যবহার করা যায়।

আবু হাতিম আর-রাযী “আল-জারহ ওয়াত-তা‘দীল” (২/৪২৬)-এ বুরাইদ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবি বুরদাহ ইবনু আবি মূসা আল-আশ‘আরী সম্পর্কে একই ধরনের কথা বলেছেন।

অথচ তিনি এমন একজন সিকাহ, যাঁর থেকে বুখারী ও মুসলিম তাঁদের সহীহ গ্রন্থে হাদিস গ্রহণ করেছেন। বরং তাঁরা তাঁর থেকে অনেক হাদিস বর্ণনা করেছেন; এমনকি ইমাম বুখারী তাঁর থেকে ৪২টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

আর দারাকুতনী (১/২২৮/৩) বর্ণনা করেছেন:

“আমাদের কাছে ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুল ‘আজীয বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনু হুমাইদ আর-রাযী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে ‘আলী ইবনু মুজাহিদ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে রাবাহ আন-নাওবী, আবু মুহাম্মাদ, যিনি আলে-যুবাইরের মুক্তদাস, বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আসমা বিনতে আবি বকরকে হাজ্জাজকে বলতে শুনেছি:

‘নিশ্চয়ই নবী ﷺ শিঙ্গা লাগিয়েছিলেন (হিজামা করেছিলেন)। অতঃপর তিনি তাঁর রক্ত আমার ছেলের কাছে দিয়েছিলেন এবং সে তা পান করেছিল। এরপর জিবরীল (আ.) তাঁর কাছে এসে তাঁকে এ বিষয়ে অবহিত করলেন। তখন তিনি বললেন: “তুমি কী করেছ?”

সে বলল: “আপনার রক্ত ফেলে দিতে আমার অপছন্দ হয়েছে।”

তখন নবী ﷺ বললেন: “আগুন তোমাকে স্পর্শ করবে না।”

এবং তিনি তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

আর বললেন: “মানুষের পক্ষ থেকে তোমার জন্য দুর্ভোগ এবং তোমার পক্ষ থেকেও মানুষের জন্য দুর্ভোগ।””

আমি (মুহাক্কিক) বলছি: এই সনদ এমন নয় যার দ্বারা দলিল প্রতিষ্ঠা করা যায়, কারণ মুহাম্মাদ ইবনু হুমাইদ আর-রাযীর অবস্থা যইফ। তবে এর পূর্বের বর্ণনাগুলো ই‘তিবার ও ইস্তিশহাদের (সমর্থন ও সাক্ষ্য হিসেবে ব্যবহারের) জন্য যথেষ্ট।

দ্বিতীয় হাদিস 

সাফীনা, উম্মু সালামাহ (রা.)-এর মুক্তদাসের হাদিস, তাবারানী “আল-মু‘জামুল কাবীর” (৭/৮১/৬৪৩৪)-এ বলেছেন:

“আমাদের কাছে ‘আলী ইবনু ‘আবদুল ‘আযীয বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইবরাহীম ইবনু হামযাহ আয-যুবাইরী বর্ণনা করেছেন।(হা.)

এবং আমাদের কাছে ইসমাঈল ইবনুল হাসান আল-খাফ্ফাফ আল-মিসরী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের কাছে আহমাদ ইবনু সালিহ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের কাছে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল ইবনু আবি ফুদাইক বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: বুরাইহ ইবনু ‘উমর ইবনু সাফীনা, যিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মুক্তদাস, তাঁর সূত্রে; তিনি তাঁর পিতা থেকে; তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন:

‘রাসূলুল্লাহ ﷺ হিজামা করালেন। অতঃপর বললেন: “এই রক্তটি নিয়ে যাও এবং চতুষ্পদ প্রাণী, পাখি ও মানুষের কাছ থেকে এটি পুঁতে ফেলো।”

তখন আমি আড়ালে চলে গেলাম এবং তা পান করে ফেললাম। এরপর বিষয়টি তাঁকে জানালাম। তখন তিনি হেসে দিলেন।’

এই বর্ণনাটি ইমাম বুখারী “আত-তারীখুল কাবীর” (৪/২০৯/২৫২৪), আল-মুহামিলী “আল-আমালী” (৫২৬), ইবনু হিব্বান “আল-মাজরূহীন” (১/১১১), ইবনু ‘আদী “আল-কামিল” (২/৬৪ এবং ৫/৫৩), বাইহাকী “আস-সুনানুল কুবরা” (৭/৬৭) এবং “শু‘আবুল ঈমান” (৫/২৩৩/৬৪৮৯)-এও ইবনু আবি ফুদাইক → বুরাইহ ইবনু ‘উমর ইবনু সাফীনা → তাঁর পিতা → তাঁর দাদা—এই বিভিন্ন সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

মুহাক্কিক বলেন:

এই সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً)।

আর বুরাইহ হচ্ছে ইবরাহীম ইবনু ‘উমর ইবনু সাফীনা-এর উপাধি। তিনি মুনকারুল-হাদিস (منكر الحديث) অর্থাৎ তাঁর বর্ণনাগুলো হাদিস-বিশারদদের কাছে প্রত্যাখ্যাত/অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

ইবনু হিব্বান বলেছেন:

“সে বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য রাবীদের বিরোধিতা করে এবং তার পিতা থেকে এমন সব বর্ণনা করে, যেগুলো প্রমাণিত/নির্ভরযোগ্য রাবীদের বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত নয়। অতএব কোনো অবস্থাতেই তার বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা বৈধ নয়।

তৃতীয় হাদিস

কোনো এক কুরাইশের হিজামাকারী গোলামের হাদিস, আবু হাতিম ইবনু হিব্বান “আল-মাজরূহীন” (৩/৫৯)-এ বলেছেন:

“আমাদের কাছে ‘ইমরান ইবনু মূসা আস-সাখতিয়ানী বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে শাইবান ইবনু ফাররূখ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে নাফি‘ আবু হারমায বর্ণনা করেছেন, ‘আতা থেকে, তিনি ইবনু ‘আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন:

‘কুরাইশের কোনো এক ব্যক্তির এক গোলাম রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে হিজামা করেছিল।

যখন সে তাঁর হিজামা শেষ করল, তখন রক্ত নিয়ে দেয়ালের ওপারে চলে গেল। এরপর ডানে-বামে তাকাল। যখন কাউকে দেখতে পেল না, তখন সে সেই রক্ত পান করতে লাগল, এমনকি সম্পূর্ণ শেষ করে ফেলল।

এরপর সে ফিরে এল। রাসূলুল্লাহ ﷺ তার মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন: “ধ্বংস তোমার! তুমি রক্ত নিয়ে কী করেছ?”

সে বলল: “আমি সেটিকে দেয়ালের ওপারে লুকিয়ে রেখেছি।”

তিনি বললেন: “কোথায় লুকিয়েছ?”

সে বলল: “হে আল্লাহর রাসূল! আপনার রক্ত মাটিতে ঢেলে দিতে আমার মন সায় দেয়নি। তাই এটি আমার পেটের মধ্যে রয়েছে।”

তিনি বললেন: যাও। তুমি নিজেকে আগুন থেকে সুরক্ষিত করে নিয়েছ।

মুহাক্কিক বলেন:

এই সনদে হাদিসটি মাওজু বা বানোয়াট এবং এর সনদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ এর দ্বারা কোনো দলিল প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

আবু হাতিম বলেছেন:

“নাফি‘ আবু হারমায আল-জাম্মাল, বনু সুলাইমানের মুক্তদাস। সে এমন সব বিষয় আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করত, যা তাঁর হাদিস নয় যেন সে আরেকজন আনাস! আমি তার কোনো শ্রবণ (سماع) সম্পর্কে অবগত নই। তার দ্বারা দলিল গ্রহণ করা বৈধ নয় এবং তার হাদিস লেখা যাবে না শুধু ই‘তিবারের (সমর্থন যাচাইয়ের) উদ্দেশ্যে ব্যতীত। সে ‘আতা থেকে, ইবনু ‘আব্বাস ও ‘আয়িশা (রা.) থেকে এমন একটি পাণ্ডুলিপি/বর্ণনাসমষ্টি বর্ণনা করেছে, যা জাল।”

আমি বলছি: তার জাল ও ভিত্তিহীন বর্ণনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি হলো—শাইবান ইবনু ফাররূখ → নাফি‘ আবু হারমায → ‘আতা → ইবনু ‘আব্বাস → নবী ﷺ সূত্রে বর্ণিত: “নিশ্চয়ই ইবলিসের কিছু বিদ্রোহী শয়তান রয়েছে। সে তাদের বলে: ‘তোমরা হাজ্জকারীদের ও মুজাহিদদের নিয়ে ব্যস্ত হও এবং তাদের সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করো।’” তাবারানী “আল-মু‘জামুল কাবীর” (১১/১৬৩/১১৩৬৮)-এ ঠিক এইভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।

রক্ত পানের হাদিস

তিনি বলেছেন:

“আমাদের কাছে ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ আল-হানায়ী বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আমাদের কাছে শাইবান ইবনু ফাররূখ বর্ণনা করেছেন উপরোক্ত সনদে।”

সুতরাং রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হিজামার রক্ত পান করার ব্যাপারে যে হাদিসগুলো বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য/তুলনামূলক ভাবে উত্তম হলো ইবনুয-যুবাইরের হাদিস। আর এই হাদিস থেকেই প্রমানিত হয় উক্ত কাজটা সাহাবীর নিজস্ব বুঝ, তিনি রাসুলকে জিজ্ঞেস না করেই এই কাজ করে ফেলেছিলেন যার প্রতি রাসুতের অসন্তোষও দেখা যায়।

কেউ হয়তো বলতে পারে: “এ বিষয়ে চতুর্থ একটি হাদিসও তো আছে আবু সা‘ঈদ আল-খুদরী (রা.)-এর হাদিস?” আমি (মুহাক্কিক) বলব:

কিন্তু সেটি নবী ﷺ-এর হিজামার রক্ত পান করার ঘটনা নয়। বরং উহুদের দিন তাঁর মুখমণ্ডলে যে আঘাত লেগেছিল, সেখানকার রক্ত চুষে পান করার ঘটনা। এটি হিজামার রক্ত নয়। তবে এটি উল্লেখ করতে কোনো অসুবিধা নেই।

সেই সঙ্গে আমি দৃঢ়ভাবে বলছি যে, চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই দুই ধরনের রক্তের মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে, যেমন পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণেও তা প্রমাণিত হয়েছে।

তাবারানী “আল-মু‘জামুল আওসাত” (৯০৯৮)-এ এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন:

“আমাদের কাছে মুসা‘দাহ ইবনু সা‘দ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে ইবরাহীম ইবনুল মুনযির বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে ‘আব্বাস ইবনু আবি শামলাহ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমাদের কাছে মূসা ইবনু ইয়াকূব বর্ণনা করেছেন, তিনি ইবনুল আসকা‘ থেকে, তিনি রাবীহ ইবনু ‘আবদুর রহমান ইবনু আবি সা‘ঈদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন:

‘উহুদের দিন যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর মুখমণ্ডলে আঘাত করা হয়েছিল, তখন তাঁর পিতা মালিক ইবনু সিনান রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রক্ত চুষে পান করে ফেললেন।

তাঁকে বলা হলো: “আপনি কি রক্ত পান করছেন?”

তিনি বললেন: “হ্যাঁ, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর রক্ত পান করেছি।”

তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ বললেন: “আমার রক্ত তাঁর রক্তের সঙ্গে মিশে গেছে; আগুন তাঁকে স্পর্শ করবে না।” [আল-আহাদ ওয়াল-মাসানী  ইবন আবি আসিম, হাদিস ২০৯৭, আল-মুʿজাম আল-কাবীর  তাবারানী, ৬/৩৪, আল-মুস্তাদরাক হাকিম, ৩/৬৫২৭]

বর্ণনাটি দুর্বল।

১. মূসা ইবন মুহাম্মদ ইবন আলী আল-হাজবী  তিনি মাজহুল।
২. উম্মু সাঈদ বিনত মাসউদ ইবন হামযা ইবন আবি সাঈদ তাঁর তাওসীক প্রমাণিত নয়।
৩. উম্মু আবদুর রহমান বিনত আবি সাঈদ তাঁর তাওসীক এবং অবস্থা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

হাফিজ যাহাবী رحمه الله বলেছেন:

إسناده مظلم
 “এর সনদ সমস্যাযুক্ত(মুযলীম)। - ”তালখীস আল-মুস্তাদরাক, ৩/৫৬৪

হাফিজ ইবনুল মুলাক্কিন رحمه الله বলেছেন:

فيه مجاهيل لا أعرفهم بعد الكشف عنهم
এতে এমন কিছু মাজহুল রাবি রয়েছে, যাদের ব্যাপারে অনুসন্ধান করার পরও আমি তাদের অবস্থা জানতে পারিনি। [আল-বদরুল মুনীর, ১/৪৮১]

অর্থাৎ প্রথম হাদীস এ আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর রাদি: হাদীস ছাড়া অন্য কোনো হাদীস এই বিষয়ে প্রমানিত নয় আর আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের এর হাদীস সর্বোচ্চ হাসান লি গাইরিহি পর্যায়ে যেতে পারে এর উপর নয় বা নিচেও নয়।

যদি আমরা প্রথম মত মেনে নেই যে রক্ত অপবিত্র এবং নবীজীর ক্ষেত্রেও সেটার হুকুম এক হয় তাহলে এই হাদিসের শারহ কি?

শায়খ সালেহ আল মুনাজ্জিদ (হাফি) এই বিষয়ে IslamQa তে বলেন,

রক্তের অপবিত্রতার যে মূলনীতি সুপ্রতিষ্ঠিত, তার সাথে আব্দুল্লাহ ইবনে যোবাইর (রাযি.) কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সম্মানিত রক্ত পান করার ঘটনার সমন্বয় আলেমগণ কীভাবে করেছেন?

আলেমগণ বলেছেন: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'খাসায়েস' বা বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা উম্মতের সাধারণ বিধান থেকে কেবল তাঁর জন্যই নির্ধারিত ছিল। এই জাতীয় অসংখ্য বৈশিষ্ট্য আলেমগণ বহু গ্রন্থে সংকলন করেছেন; যেমন ইমাম সুয়ূতী (রহি.) তাঁর "আল-খাসায়েসুল কুবরা" গ্রন্থে করেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে যোবাইর (রাযি.)-এর ঘটনার ওপর ভিত্তি করে কিছু আলেম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পবিত্র রক্তের পবিত্রময়তার (তাহারাত) কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন।

দেখুন: আল-শিফা (১/৫৫), মুগনী আল-মুহতাজ (১/২৩৩), তাজবীনুল হাকাইক (৪/৫১)। যদিও আল-মাজমূ' (১/২৮৮) গ্রন্থে শাফেঈ মাযহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের মত উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর রক্তও অন্যান্য রক্তের মতোই ।

বিন বাজ (রহ) বলেন,

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, সাহাবিগণ رضي الله عنهم তাঁর ওযুর পানি, তাঁর চুল ﷺ, তাঁর থুথু ﷺ এবং তাঁর নাসিকাগত স্রাব দ্বারা তাবাররুক অর্থাৎ বরকত গ্রহণ করতেন। এগুলো সবই তাঁর ﷺ এবং সাহাবিগণের পক্ষ থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত।

আবু জুহাইফা رضي الله عنه-এর হাদীস সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম উভয় গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। বিদায় হজের সময় বিলাল رضي الله عنه যখন নবী ﷺ-এর ওযুর পানি নিয়ে বের হলেন, তখন সাহাবিগণ সেই পানি থেকে যা পারতেন গ্রহণ করতেন কেউ অল্প নিতেন, কেউ বেশি নিতেন অর্থাৎ তাঁর ﷺ ওযুর পানি থেকে।

এটিও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত যে, হুদাইবিয়ার সন্ধির সময় নবী ﷺ যখন নাসিকাগত স্রাব ফেলতেন অথবা থুথু ফেলতেন, তখন সাহাবিগণ তা গ্রহণ করতেন এবং নিজেদের শরীরে তা মাখতেন। কারণ আল্লাহ তাঁর ﷺ মধ্যে বরকত রেখেছিলেন।

আর বিদায় হজের সময় যখন তাঁর ﷺ মাথার চুল মুণ্ডন করা হলো, তখন তিনি সেই চুলের অর্ধেক সাহাবিদের মধ্যে বণ্টন করে দেন এবং বাকি অর্ধেক আবু তালহা رضي الله عنه-কে দিয়ে দেন।

এসবই নবী ﷺ থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত। তাঁর ﷺ শরীর, তাঁর চুল, তাঁর শরীরকে স্পর্শ করা বস্তু, তাঁর ওযুর পানি এবং তাঁর ঘামের মধ্যে যে বরকত রয়েছে এ ব্যাপারে আলেমদের কাছে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু তাঁকে অন্য কারও সঙ্গে তুলনা করা যাবে না

তবে এই বিষয়টিতে অন্য কাউকে নবী ﷺ-এর সঙ্গে কিয়াস করা যাবে না।

কারণ সাহাবিগণ رضي الله عنهم এ কাজ আবু বকর সিদ্দীক رضي الله عنه-এর সঙ্গে করেননি, উমর رضي الله عنه-এর সঙ্গে করেননি, উসমান رضي الله عنه-এর সঙ্গে করেননি এবং আলী رضي الله عنه-এর সঙ্গেও করেন নি।

অথচ তাঁরা ছিলেন সাহাবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং নবীগণের পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।

অতএব, যদি নবী ﷺ ছাড়া অন্য কারও ক্ষেত্রে এ ধরনের তাবাররুক শরিয়তসম্মত বা বৈধ হতো, তাহলে মুসলিমরা অবশ্যই এই মহান ও নেককার ব্যক্তিদের সঙ্গে তা করতেন।

এছাড়া এ ধরনের কাজ শিরক এবং অতিরিক্ত ভক্তি/সীমালঙ্ঘন–এর দিকে নিয়ে যাওয়ার মাধ্যম হতে পারে।এ কারণেই আলেমগণ নবী ﷺ ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে তা নিষিদ্ধ করেছেন।

সুতরাং আলেমদের বিভিন্ন মতের মধ্যে সঠিক মত হলো এই বিষয়ে রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে অন্য কাউকে তুলনা করা যাবে না। বরং এটি তাঁর ﷺ বিশেষ বৈশিষ্ট্য ।

কারণ তাঁর ﷺ শরীর, ঘাম, চুল এবং শরীরের অন্যান্য অংশে যে বিশেষ বরকত ছিল, তা তাঁর ﷺ জন্য বিশেষভাবে প্রমাণিত ও পরিচিত।

আর এর আরেকটি কারণ হলো, নবী ﷺ সাহাবিগণকে এ কাজ করতে দেখেও অনুমোদন করেছেন । যদি এটি বৈধ না হতো, তাহলে তিনি তাঁদের এ কাজের অনুমোদন দিতেন না।

অতএব বহু কারণেই অন্য কাউকে তাঁর ﷺ সঙ্গে কিয়াস করা যাবে না।

 

আলেম বা আবেদ ব্যক্তিদের দ্বারা তাবাররুক গ্রহণের ব্যাপারে

আর আলেম, বুযুর্গ বা অধিক ইবাদতকারী ব্যক্তিদের দ্বারা তাবাররুক গ্রহণ—যেমন কিছু মানুষ করে থাকে তা ভুল এবং বৈধ নয়।

কারণ এটি রাসূল ﷺ এবং তাঁর সাহাবিগণের পথনির্দেশের বিপরীত।

মুসলিমরা তাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সম্মানিত ব্যক্তিদের সঙ্গেও এমনটি করেননি যেমন খুলাফায়ে রাশেদীন-এর সঙ্গে করেননি। 

এমনকি অন্যান্য সাহাবিদের সঙ্গেও করেননি।

যদি এটি কল্যাণকর কোনো আমল হতো, তাহলে তাঁরা আমাদের আগে তা করে যেতেন।

আর ইবাদত হলো তাওকীফি শরিয়তের দলিল দ্বারা যেভাবে প্রমাণিত হয়েছে, সেভাবেই তা গ্রহণ করতে হবে; নিজের পক্ষ থেকে নতুন কোনো পদ্ধতি নির্ধারণ করা যাবে না।

এছাড়া এ ধরনের কাজ শিরক এর দিকে নিয়ে যেতে পারে।

এই কারণে যাচাই-বাছাইকারী ও গবেষক আলেমদের মধ্যে যারা এ বিষয়ে মত দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো নবী ﷺ ছাড়া অন্য কারও ক্ষেত্রে এ ধরনের তাবাররুক নিষিদ্ধ।

ইবনু যুবাইরের রক্ত পান এবং উম্মু আইমানের প্রস্রাব পান করার ঘটনা

আর ইবনু যুবাইর কর্তৃক নবী ﷺ-এর রক্ত পান করা এবং উম্মু আইমান কর্তৃক তাঁর প্রস্রাব পান করার ঘটনা এটি পর্যালোচনার বিষয়।
এগুলো সম্পর্কে বর্ণনা রয়েছে, কিন্তু এগুলোর সহীহ হওয়া নিয়ে কিছু প্রশ্ন আছে।তাই এসব ঘটনা যাচাই করার জন্য এগুলোর সনদ ও বর্ণনাসমূহকে ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।

মূলনীতি হলো রক্ত ও প্রস্রাব নিষিদ্ধ।
এটাই আসল/মূল বিধান।

আল্লাহ প্রস্রাবকে নিষিদ্ধ করেছেন, কারণ তা নাজিস বা অপবিত্র। আর রক্তকে নিষিদ্ধ করেছেন, কারণ তা খাবায়িস এবং নাজিস।

সুতরাং যদি এসব বর্ণনা সহীহ বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে এগুলো হবে একটি ব্যতিক্রম।

কারণ রাসূল ﷺ-এর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

অতএব, যদি উম্মু আইমানের ঘটনা এবং ইবনু যুবাইরের ঘটনা সহীহ প্রমাণিত হয়, তাহলে এগুলোকে নবী ﷺ-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করা হবে।

যেমন আমরা তাঁর ﷺ ঘাম, চুল ও থুথুর ব্যাপারে বলেছি এসব তাঁর ﷺ জন্য বিশেষ।

অতএব, যদি উম্মু আইমানের হাদীস এবং ইবনু যুবাইরের হাদীস সহীহ হয়, তাহলে এগুলোও নবী ﷺ-এর বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ইনশাআল্লাহ আমরা এ বিষয়টি অনুসন্ধান করব, গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করব এবং অন্য একটি পর্বে ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে আলোচনা করব।

বিন বাজের বক্তব্য শেষ হলো।

সবগুলির তথ্য সূত্র দেখুন,

উট এর মূত্র পান করার বিষয়ে যেই হাদীস এসেছে এটা কোনো আম বিধান না বরং খাস বিস্তারিত দেখুন,

পেশাব পান করার যেই বর্ণনাগুলো রয়েছে এর একটাও সহিহ সনদে বর্ণিত নয় বরং সমস্যাযুক্ত অগ্রহণযোগ্য

বিস্তারিত দেখুন নিচের ওয়েবসাইট বিখ্যাত ওয়েবসাইট গুলিতে

  1. تحقيق قصة شرب أم أيمن بول النبي صلى الله عليه وآله وسلم — Fnoor - https://www.fnoor.com/main/articles.aspx?article_no=33865
  1. تحقيق قصة شرب أم أيمن بول النبي صلى الله عليه وسلم — Fnoor - https://www.fnoor.com/main/articles.aspx?article_no=22928
  1. هل بول النبي صلى الله عليه وسلم طاهر؟ وهل صح عن أحد أنه شرب منه؟ — الإسلام سؤال وجواب - https://islamqa.info/ar/answers/181776
  1. شرب أم أيمن بول النبي ﷺ — الشيخ قاسم اكحيلات - https://kacem-khailat.com/question/1273
  1. تخريج قصة شرب بول النبي صلى الله عليه وسلم في ميزان العلماء — المكتبة الشاملة الحديثة - https://al-maktaba.org/book/31615/26421
  1. تخريج قصة شرب بول النبي صلى الله عليه وسلم في ميزان العلماء — الجزء التالي - https://al-maktaba.org/book/31615/26422
  1. تخريج قصة شرب بول النبي صلى الله عليه وسلم في ميزان العلماء — مناقشة التصحيح - https://al-maktaba.org/book/31615/26423
  1. تخريج قصة شرب بول النبي صلى الله عليه وسلم — اعتراضات ومناقشات - https://al-maktaba.org/book/31615/2642
  2. أحاديث شرب بول النبي ﷺ — ملتقى أهل الحديث - https://al-maktaba.org/book/31615/26285
  1. ما درجة قصة شرب أم أيمن بول النبي ﷺ وقصة شرب ابن الزبير دمه؟ - https://al-maktaba.org/book/31615/24301
  1. هل شرب أحد بول الرسول ﷺ؟ — إسلام ويب -  https://www.islamweb.org/ar/fatwa/print.php?id=116742

বিন বাজের (রহ) উত্তরের মূল আরবী ইবারত এবং লিংক
https://binbaz.org.sa/fatwas/17980/%D8%AA%D8%A8%D8%B1%D9%83-%D8%A7%D9%84%D8%B5%D8%AD%D8%A7%D8%A8%D8%A9-%D8%A8%D8%A7%D9%84%D9%86%D8%A8%D9%8A-%EF%B7%BA-%D9%88%D8%AD%D9%83%D9%85-%D9%82%D9%8A%D8%A7%D8%B3-%D8%BA%D9%8A%D8%B1%D9%87-%D8%B9%D9%84%D9%8A%D9%87

الجواب:

بسم الله الرحمن الرحيم، الحمد لله، وصلى الله وسلم على رسول الله، وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهداه، أما بعد:

فلا ريب أنه قد ثبت عن رسول الله -عليه الصلاة والسلام- أن الصحابة  كانوا يتبركون بماء وضوئه، وبشعره -عليه الصلاة والسلام-، وببصاقه -عليه الصلاة والسلام-، ونخامته، كل هذا ثابت عنه -عليه الصلاة والسلام-، وعن الصحابة.

فقد ثبت في حديث أبي جحيفة في الصحيحين في حجة الوداع: "أنه لما خرج بلال بوضوئه ﷺ كان الصحابة يتناولون منه ما تيسر -هذا يأخذ قليلًا، وهذا يأخذ كثيرًا- من وضوئه -عليه الصلاة والسلام-".

وثبت في صلح الحديبية: أنه كان إذا تنخع نخاعة، أو بصق أخذها، تلقاها الصحابة، وجعلوا يدلكون بها أجسامهم؛ لما جعل الله فيه من البركة، ولما حلق في حجة الوداع قسم نصف الشعر بين الصحابة، والنصف الثاني أعطاه أبا طلحة .

كل هذا ثابت عن النبي -عليه الصلاة والسلام-، وليس هناك شك عند أهل العلم في بركة جسمه ﷺ وشعره، وما مس جسمه، ووضوئه وعرقه -عليه الصلاة والسلام-.

لكن لا يقاس عليه غيره؛ لأن الصحابة  ما فعلوا هذا مع الصديق، ولا مع عمر، ولا مع عثمان، ولا مع علي، وهم أفضل الصحابة، وخير الصحابة، وهم أفضل الناس بعد الأنبياء، فلو كان هذا مشروعًا أو جائزًا مع غير النبي ﷺ لفعله المسلمون مع هؤلاء الأخيار، ولأن ذلك قد يكون وسيلة إلى الشرك والغلو، فلهذا منعه أهل العلم.

فالصحيح من أقوال أهل العلم: أنه لا يقاس على الرسول ﷺ أحد، بل هذا خاص به ﷺ؛ لما قد ثبت وعلم من بركته ﷺ في جسمه وعرقه وشعره وسائر أجزائه -عليه الصلاة والسلام-؛ ولأنه أقر الصحابة على ذلك، فلولا أنه جائز لما أقرهم، فلا يقاس عليه غيره؛ لأمور كثيرة.

أما التبرك بالعلماء أو بالعباد الذي يفعله بعض الناس هذا غلط ولا يجوز؛ لأنه خلاف هدي الرسول ﷺ وأصحابه، فلم يفعله المسلمون مع فضلائهم وكبارهم: كالخلفاء الراشدين، ولم يفعلوه مع بقية الصحابة، ولو كان خيرًا لسبقونا إليه؛ ولأن العبادات توقيفية؛ ولأن هذا قد يفضي إلى الشرك والغلو، فلهذا رجح المحققون من أهل العلم منعه مع غير النبي -عليه الصلاة والسلام-.

أما شرب ابن الزبير دمه وأم أيمن بوله: فهذا محل نظر، قد ورد هذا، ولكن في صحته نظر، فهو يحتاج إلى تمحيص ونظر، والنظر في أسانيد القصة، والأصل: تحريم الدم وتحريم البول، هذا هو الأصل، أن الله حرم علينا البول؛ لأنه نجس، وحرم الدم؛ لأنه من الخبائث وهو نجس، فإن صح فهذا يستثنى؛ لأن الرسول ﷺ له خصائص، فإذا صح فيكون من خصائصه ﷺ، كما قلنا في مسألة العرق، ومسألة الشعر، ومسألة البصاق، هذا خاص به، فهكذا إذا صح حديث أم أيمن وصح حديث ابن الزبير ؛ صار من الخصائص، وسوف نبحثه -إن شاء الله- ونعتني به، ويكون في حلقة أخرى -إن شاء الله-.

المقدم: جزاكم الله خيرًا.

Back to top button