প্রাক ইসলামি আরবে কি যুদ্ধবন্দিনীদের সাথে সহবাসের প্রথা ছিল না?

নাস্তিকরা দাবি করছে যে “জাহেলিয়াত বা প্রাক-ইসলামিক যুগে আরবদের কাছে কোনো যুদ্ধবন্দিনী ছিল না এবং তারা তাদের সাথে যুদ্ধের পর সহবাস করত না; বরং ইসলামই প্রথম তাদের এটি করার নির্দেশ দিয়েছে।
উত্তর: এটা আসলে ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতার ফল উক্ত ব্যক্তি আসলে শুধু মনগড়া একটা মতামত দিয়েছে এটাকে তেমন গুরুত্ব দিয়ে সময় নষ্ট করা উচিত নয় তবুও কিছু উদাহরণ দেখে নিই যেটা আসলে প্রমাণ করে যে প্রাক-ইসলামিক যুগে আরবদের যুদ্ধবন্দিনী ছিল এবং তারা তাদের সাথে সহবাস করত।
ইতিহাসবীদ শওকী দিয়াফ বলেন,
আরবে ইসলাম আগমনের আগে সেখানে মূলত দুই ধরনের নারী ছিল: দাসী (ইমা) এবং স্বাধীন নারী (হুররাত)। দাসীদের সংখ্যা ছিল প্রচুর;তাদের মধ্যে এমন কিছু দাসী ছিল যারা একাধিক পুরুষের সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখত এবং গোপনে বন্ধু বা প্রেমিক বানিয়ে তাদের সাথে মেলামেশা করত।আবার কেউ ছিল গায়িকা (কায়নাত) যারা মদ্যপায়ীদের আড্ডায় বীণা (মিযহার) ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র বাজাত। এছাড়াও কিছু পরিচারিকা ছিল যারা সম্ভ্রান্ত নারীদের সেবা করত অথবা উট ও ভেড়া চরাতো। সমাজে তাদের অবস্থান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের; আরবরা যখন তাদের গর্ভে সন্তান জন্ম দিত, তখন তারা সেই সন্তানদের নিজের বংশপরিচয় দিত না যতক্ষণ না সেই সন্তানরা এমন কোনো বীরত্ব প্রদর্শন করত যা তাদের জন্য সম্মান বয়ে আনে। যেমনটি আান্তারা ইবনে শাদ্দাদ-এর ক্ষেত্রে সুপরিচিত; তার পিতা তাকে নিজের বংশের অন্তর্ভুক্ত করেননি যতক্ষণ না তিনি অসাধারণ সাহস প্রদর্শন করে নিজের মর্যাদা পুনরুদ্ধার করেছিলেন।একজন স্বাধীন নারী খাবার রান্না করতেন, কাপড় বুনতেন এবং তাঁবু মেরামত করতেন; তবে তিনি যদি সেবাবেষ্টিত উচ্চবংশীয় নারী হতেন, তবে দাসীরাই তার হয়ে এই কাজগুলো করে দিত।
অনেক প্রমাণ পাওয়া যায় যে, সম্ভ্রান্ত ও নেতাদের কন্যাদের পদমর্যাদা ছিল অনেক উঁচুতে। তারা নিজেরাই নিজেদের স্বামী নির্বাচন করতে পারতেন এবং স্বামীরা ভালো আচরণ না করলে তাদের ত্যাগ করতে পারতেন। কিছু সম্ভ্রান্ত নারীর মর্যাদা এতোটাই বেশি ছিল যে, কেউ তাদের কাছে আশ্রয় চাইলে তারা তাকে সুরক্ষা দিতে পারতেন এবং তাদের সুপারিশে কোনো বন্দির মুক্তিও মিলত ঠিক যেভাবে ফাকিহাহ নামক এক নারী আল-সুলাইক ইবনে আল-সুলাকাহ-এর মুক্তি নিশ্চিত করেছিলেন।[1]তারীখুল আদাবিল আরাবী (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস), লেখক: শওকী দিয়াফ https://shamela.ws/book/11996/68 .
একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনা থেকে আসুন দেখে নেয়া যাক
আান্তারা ইবনে শাদ্দাদ ইবনে কুরাদ আল-আবসি: আনুমানিক ৫২৫ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণকারী এই ব্যক্তি ছিলেন জাহেলিয়াত যুগের অন্যতম বিখ্যাত কবি ও বীর যোদ্ধা, যিনি ইসলাম আগমনের অনেক আগে জীবিত ছিলেন যদিও তার সঠিক জন্ম তারিখ জানা নেই, তবে তিনি দাহিস ও আল-গাবরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, এই যুদ্ধ ইসলামের আগমনের কিছুকাল আগে অর্থাৎ আনুমানিক ৬০০ খ্রিস্টাব্দে শেষ হয়েছিল। যেহেতু এই যুদ্ধটি দীর্ঘ চল্লিশ বছর ধরে চলেছিল, তাই আমরা ধারণা করতে পারি যে আান্তারার জন্ম ৫৩০ থেকে ৫২৫ খ্রিস্টাব্দের মধ্যেই হয়েছিল; কারণ তিনি এই যুদ্ধের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছেন এবং এতে অংশ নিয়েছেন। এই ধারণাটি আমর ইবনে মাদি ইয়াকরিবের সাথে তার সাক্ষাৎ এবং উরওয়াহ ইবনে আল-ওয়ারদ ও সেই সময়ের অন্যান্য কবিদের সাথে তার সমসাময়িক হওয়ার বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মোটামুটিভাবে বলা যায় যে, তার জন্ম ষষ্ঠ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি সময়ে।[2]আবু আব্দুল্লাহ হুসাইন বিন আহমদ আয-যাওযানি, শারহুল মুআল্লাকাতিস সাবআ , প্রকাশক: দার ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি (আরবি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন প্রকাশনী), বৈরুত, লেবানন, ২০০২ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা: ২৩৯ ; https://muhammadencyclopedia.com/article/antarah-ibn-shaddad-al-absi .
তার মা ছিলেন একজন আবিসিনীয় যার নাম ছিল (তানাহ বিনতে মিইউ), পরবর্তীতে তাকে (জাবিবা) বলা হতো। তার ব্যাপারে বলা হয়, একবার তিনি তার নিজস্ব কাফেলা নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন যখন শাদ্দাদ এবং তার গোত্র সেই কাফেলায় যেখানে জাবিবা ছিলেন সেখানে আক্রমণ করে এবং আক্রমনের পর তাকে যুদ্ধবন্দিনীদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছিল। শাদ্দাদ, যিনি গোত্রের নেতা ছিলেন, তিনি জাবিবাকে দেখেন এবং নিজের জন্য গ্রহণ করেন ও তার সাথে সহবাস করেন; এরপর তিনি আান্তারা কে গর্ভে ধারণ করেন এইজন্যই তাকে বলা হয় আান্তারা ছিল দাসীর পুত্র এখানে উল্লেখ্য যে, জাবিবা বন্দি হওয়ার আগে একজন ব্যক্তির সাথে বিবাহিত ছিলেন এবং সেই ঘরে তার জারির ও শায়বুর নামে দুটি পুত্রসন্তান ছিল।[3]আহমাদ শাওকী ‘আব্দুস সালাম দাইফ
তারীখুল আদাবিল ‘আরাবী দারুল মা’আরিফ খণ্ড-১,পৃষ্ঠা: ৩৬৯ আল-ক্বাহিরা (কায়রো), মিসর
https://shamela.ws/book/151017/670
https://muhammadencyclopedia.com/article/antarah-ibn-shaddad-al-absi
https://shamela.ws/book/147597/671 .
জাবিবা তার পুত্র আান্তারাকে জন্ম দেওয়ার পর, শাদ্দাদ তার পুত্রকে স্বীকৃতি দেননি; বরং তিনি তাকে অস্বীকার করেন এবং নিজের দাস হিসেবে গণ্য করেন। কারণ তৎকালীন আরবরা তাদের দাসীদের সন্তানদের, বিশেষ করে যারা কৃষ্ণাঙ্গ ছিল, তাদের স্বীকৃতি দেয়া হতো না।[4]আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন কুতাইবা আদ-দীনাওয়ারী, আশ-শি’র ওয়াশ শু’আরা (কবিতা ও কবি), খণ্ড-১, প্রকাশক: দারুল হাদীস, কায়রো, মিসর, ১৪২৩ হিজরি, পৃষ্ঠা: ২৪৩ এবং আরো দেখুন আবদুল কাদির ইবন উমর আল-বাগদাদী, খাযানাতুল আদাব ওয়া লুব্বু লুবাবি লিসানিল আরব (সাহিত্যের ভাণ্ডার ও আরবি ভাষার সারমর্ম), খণ্ড-১, প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজী, কায়রো, মিসর, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা: ৮। ; https://muhammadencyclopedia.com/article/antarah-ibn-shaddad-al-absi .[5]. https://www.alwatanvoice.com/arabic/news/2014/12/04/628451.html .
কয়েক বছর পর, আান্তারা বড় হয়ে যুদ্ধে পারদর্শী হয়ে উঠেন এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা শুরু করেন এরপর এক যুদ্ধে তিনি মাহরিয়া নামে এক নারীকে বন্দি হিসেবে গ্রহণ করেন, কারণ তিনি তার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছিলেন এবং সেই রাতেই তিনি তার সাথে মিলন করেন এবং সে তার মাধ্যমে গর্ভধারণ করে কিন্তু আান্তারা তাকে ছেড়ে চলে যান। আন্তারা জানতেন না যে সেই নারী একটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন যার নাম রাখা হয়েছিল মায়সারা; যে পরবর্তীতে একজন বীর যোদ্ধা হিসেবে বড় হয় এবং নিজের পিতা আান্তারার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এমনকি মূর্তিপূজক আবু লাহাব, যাকে কিছু মূর্খ নাস্তিক বড়ই সম্মান করে, তারও দাসী ছিল, যাদের মধ্যে অন্যতম: সুওয়ায়বাহ, সারাহ এবং আরও অনেকে।
তদুপরি, ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসবিদ জাওয়াদ আলী প্রাক-ইসলামিক যুগের ঐতিহাসিক নিদর্শন এবং ইয়ামেনি শিলালিপি সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। এই শিলালিপি এবং ধ্বংসাবশেষগুলো আরবদের আক্রমণের দিকে ইঙ্গিত করে, যেমন ইয়েমেন ও হাজরামাউত অঞ্চলে হিময়ারি গোত্রের আক্রমণ এবং কীভাবে তারা একে অপরকে বন্দি হিসেবে গ্রহণ করত। তিনি তার বিখ্যাত গ্রন্থ যা ব্যাপক ভাবে পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের দ্বারা প্রশংসিত সেখানে বর্ণনা করেছেন।[6]. https://shamela.ws/author/1067 .
‘আল-মুফাসসাল ফি তারিখ আল-আরব’-এ নিম্নোক্ত কথাটি উল্লেখ করেছেন,
যখন কেউ শত্রুর হাতে পড়ে এবং বন্দি হয়, তখন তাকে বলা হয়: ‘আসির’ (বন্দি)। সাবায়ীয় (Sabaean) ভাষায় একে একবচনে ‘আখাযা’ (নেওয়া বা ধরা) এবং বহুবচনে ‘আখাযতুম’ বা ‘আখাযিত’ বলা হয়। এই শব্দটি সেইসব বন্দিদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যারা যুদ্ধ ছাড়াই বন্দি হয়েছে যেমন যখন কোনো সেনাবাহিনী বা আক্রমণকারী দল শত্রুর কোনো এলাকা বা জায়গা দখল করে নেয় এবং কোনো প্রকার প্রতিরোধ বা লড়াই ছাড়াই সেখানকার মানুষদের কবজা করে। তারা মূলত সেইসব যুদ্ধলব্ধ সম্পদের মতো যা কোনো যুদ্ধ ছাড়াই যোদ্ধাদের হাতে আসে।
পক্ষান্তরে, যাদেরকে প্রতিরোধ এবং যুদ্ধের পর বন্দি করা হতো, তাদের বলা হতো: ‘সাবায়িম’ অর্থাৎ ‘সাবি’ (যুদ্ধবন্দি)। এর বহুবচন হলো ‘আসবাহ’ যার অর্থ ‘সাবায়া’ (যুদ্ধবন্দিনী বা অনেক বন্দি)। আর বন্দি করার প্রক্রিয়াকে বলা হতো ‘ইয়াসবিয়ু’, যার অর্থ ‘সে বন্দি করছে’ বা ‘তারা বন্দি করছে’।
তারা বন্দিদের হাত ‘কাবল’ বা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখত: এটি যেকোনো উপাদানে তৈরি বেড়ি হতে পারে, যা তাদের আটকে রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো যাতে তারা পালিয়ে যেতে না পারে… তারা তাদের রশি বা হাতের কাছে থাকা যেকোনো কিছু দিয়ে কষে বাঁধত (কাত্তা-ফুনাহুম) যাতে বন্দি তার আটককারীর কাছ থেকে পালাতে না পারে। ‘আল-কিতাব’ বলতে রশিকে বোঝানো হয়। ‘আল-ওয়াথাক’ হলো বাঁধার কাজে ব্যবহৃত রশি বা অন্য যেকোনো কিছু। এছাড়া তারা বন্দিদের ‘আল-কাদ্দ’ দিয়েও বাঁধত। ‘কাদ্দ’ হলো চামড়া থেকে কাটা ফালি বা বেল্ট, যা দিয়ে বন্দির হাত-পা অত্যন্ত শক্তভাবে বেঁধে রাখা হতো যাতে তার পালানোর কোনো পথ না থাকে।[7]আল-মুফাসসাল ফি তারিখ আল-আরব, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৩৬ ; https://shamela.ws/book/7299/3303 .
অতএব, ধর্মনিরপেক্ষ ইতিহাসবিদ জাওয়াদ আলী নিজেই স্বীকার করেছেন যে ইসলামের আগে জাহেলিয়াত যুগে যুদ্ধবন্দিনী বা ‘সাবায়া’ রাখার প্রথা বিদ্যমান ছিল।
আমি বিশেষভাবে জাওয়াদ আলীর উদ্ধৃতি দিয়েছি কারণ বিদেশি শিক্ষিত নাস্তিকরা তার লেখা পছন্দ করে, নাহলে এই সম্পর্কে উদ্ধৃতি দেয়ার জন্য প্রমাণের অভাব ছিল না। জাওয়াদ আলী একজন ধর্মনিরপেক্ষ পণ্ডিত যিনি জার্মানিতে বিদেশি প্রাচ্যবিদদের (Orientalists) কাছে শিক্ষালাভ করেছেন এবং তার বইগুলোতে তাদের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এই কারণেই আপনি লক্ষ্য করবেন যে, আমি যে পৃষ্ঠা থেকে আগের কথাগুলো উদ্ধৃত করেছি তার ফুটনোটে দক্ষিণ আরব উপদ্বীপের শিলালিপি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সম্পর্কিত বিদেশি রেফারেন্স রয়েছে, যা তৎকালীন সময়ে যুদ্ধবন্দিনী প্রথা সম্পর্কে আলোচনা করে।
যেমন;
Jamme 576, 578, 635, Mahram, P. 427, South Arabian Inscriptions, 649, 665, 549. Mahram, P. 443.
জাওয়াদ আলী ২৪৩ পৃষ্ঠায় নিম্নোক্ত কথাগুলো বলেছেন:
“যেহেতু দাস ছিল একটি সম্পদ এবং মালিকের তার সম্পদের ওপর পূর্ণ অধিকার ছিল যে তিনি তা যেভাবে ইচ্ছা ব্যবহার করবেন, তাই মালিকের অধিকার ছিল তার দাসকে বিক্রি করা বা উপহার হিসেবে দেওয়া অর্থাৎ, দাসের সম্মতি ছাড়াই যাকে ইচ্ছা তাকে দান করা ঠিক যেমন তার অধিকার ছিল তাদের মুক্তি দেওয়ার। তদুপরি, দাসীদের সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনেরএবং তাদের জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার অধিকারও মালিকের ছিল, যাতে তারা অর্থ উপার্জন করতে পারে অথবা সন্তান জন্ম দিতে পারে। দাসের কোনো কিছু মালিকানা পাওয়ার অধিকার ছিল না; কারণ দাস এবং তার অধিকারে থাকা সবকিছুই ছিল মালিকের সম্পদ। দাসের উত্তরাধিকার সূত্রে কিছু পাওয়ার অধিকার ছিল না কারণ তার কোনো নিজস্ব ধন-সম্পদ ছিল না; যেহেতু সে নিজে এবং তার মালসামানা সবই মালিকের সম্পত্তি ছিল, তাই দাসের একমাত্র উত্তরাধিকারী ছিল তার মালিক।”[8]. https://shamela.ws/book/7299/3401#p1 .
তিনি (জাওয়াদ আলী) ২৩২ পৃষ্ঠায় আরও বলেন:
“জাহেলিয়াত যুগের মানুষ যে জেনার জন্য শাস্তি দিত, তা ছিল কোনো বিবাহিত স্বাধীন নারীর তার স্বামীর অগোচরে কোনো অপরিচিত পুরুষের সাথে লিপ্ত হওয়া, যাকে তারা বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা হিসেবে গণ্য করত। আর দাসীদের ব্যভিচারের ক্ষেত্রে, একে কোনো দোষ মনে করা হতো না যদি তা তাদের মালিকের জ্ঞাতসারে এবং তার নির্দেশে হতো।”
এবং তিনি ২৩১ পৃষ্ঠায় লিখেন:
“জাহেলিয়াত যুগে দাসীদের মালিকরা কোনো নিকাহচুক্তি ছাড়াই তাদের দাসীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করত, এই ভিত্তিতে যে দাসী তার মালিক ও মুনীবের মালিকানাধীন সম্পত্তি; ফলে মালিকের এই অধিকার ছিল যে তিনি চাইলে (দাসীর গর্ভে জন্ম নেওয়া) সন্তানদের নিজের বংশের (নসব) সাথে যুক্ত করতে পারতেন।”[9]. https://shamela.ws/book/7299/3380 .
তদুপরি, জাওয়াদ আলী ৯ম খণ্ড, ১৩৮ পৃষ্ঠায় বলেন:
“দাসীদের সাথে ব্যভিচারের (শারীরিক সম্পর্ক) ক্ষেত্রে, জাহেলিয়াত যুগের মানুষ কাউকে তিরস্কার করত না, যেমনটি আমি আগেই বর্ণনা করেছি।”[10]. https://shamela.ws/book/7299/2921#p1 .
Footnotes
| ⇧1 | তারীখুল আদাবিল আরাবী (আরবি সাহিত্যের ইতিহাস), লেখক: শওকী দিয়াফ https://shamela.ws/book/11996/68 . |
|---|---|
| ⇧2 | আবু আব্দুল্লাহ হুসাইন বিন আহমদ আয-যাওযানি, শারহুল মুআল্লাকাতিস সাবআ , প্রকাশক: দার ইহইয়াউত তুরাসিল আরাবি (আরবি ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন প্রকাশনী), বৈরুত, লেবানন, ২০০২ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা: ২৩৯ ; https://muhammadencyclopedia.com/article/antarah-ibn-shaddad-al-absi . |
| ⇧3 | আহমাদ শাওকী ‘আব্দুস সালাম দাইফ তারীখুল আদাবিল ‘আরাবী দারুল মা’আরিফ খণ্ড-১,পৃষ্ঠা: ৩৬৯ আল-ক্বাহিরা (কায়রো), মিসর https://shamela.ws/book/151017/670 https://muhammadencyclopedia.com/article/antarah-ibn-shaddad-al-absi |
| ⇧4 | আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবন মুসলিম ইবন কুতাইবা আদ-দীনাওয়ারী, আশ-শি’র ওয়াশ শু’আরা (কবিতা ও কবি), খণ্ড-১, প্রকাশক: দারুল হাদীস, কায়রো, মিসর, ১৪২৩ হিজরি, পৃষ্ঠা: ২৪৩ এবং আরো দেখুন আবদুল কাদির ইবন উমর আল-বাগদাদী, খাযানাতুল আদাব ওয়া লুব্বু লুবাবি লিসানিল আরব (সাহিত্যের ভাণ্ডার ও আরবি ভাষার সারমর্ম), খণ্ড-১, প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজী, কায়রো, মিসর, ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ, পৃষ্ঠা: ৮। ; https://muhammadencyclopedia.com/article/antarah-ibn-shaddad-al-absi . |
| ⇧5 | . https://www.alwatanvoice.com/arabic/news/2014/12/04/628451.html . |
| ⇧6 | . https://shamela.ws/author/1067 . |
| ⇧7 | আল-মুফাসসাল ফি তারিখ আল-আরব, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১৩৬ ; https://shamela.ws/book/7299/3303 . |
| ⇧8 | . https://shamela.ws/book/7299/3401#p1 . |
| ⇧9 | . https://shamela.ws/book/7299/3380 . |
| ⇧10 | . https://shamela.ws/book/7299/2921#p1 . |




