সম্প্রতি গাজীপুরের ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জয় কুমার দাস নামের এক ইসকন সদস্য ধর্ষণ করে। গাজীপুর ইস্যু নিয়ে কাজ করায় আবার মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রপুরীকে ইসকন গ্যাং এর এক সদস্য হত্যার হুমকি প্রদান করে এবং পুলিশও তাঁকে গুলি করে হত্যা করার ইচ্ছে প্রকাশ করে। তারপর একে একে ইসকনের বিরুদ্ধে পোস্টকারীদের ইনবক্সেও আসতে থাকে বলিদানের হুমকি। এসবের বিপরীতে চতুর মিডিয়া, নীতিহীন রাজনৈতিক দলসমূহ এবং সেক্যুলার রাষ্ট্র প্রায় ভূমিকাহীন। আজকে এসব নিয়েই আলাপ হবে।
অপকর্মের শেষ নেই
ইসকনের অপকর্ম কোথা থেকে শুরু করবো? এটি এমন এক সংগঠন, যার তৎপরতা সব দিক দিয়ে আমাদের ক্ষতি করছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তা থেকে এই ভূখন্ডের নিরাপত্তা সবকিছুকেই ঝুঁকির মুখে ফেলেছে ভারতের মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী ইসকন। আরএসএস এই সংগঠনের সাথে সরাসরি যুক্ত। যেকারণে চিন্ময়কৃষ্ণের মুক্তির দাবি জানিয়েছিল এই আরএসএস [1]চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভুর মুক্তির দাবি RSS-এর। এবার ইসকন সন্ন্য়াসীদের পাশে RSS। – Republic Bangla। আরএসএস কিন্তু আবার অখন্ড ভারত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।[2]Akhand Bharat – Wikipedia.
এগুলো থেকেই ইসকনের শিকড় ও লক্ষ্য ধরা যায়। আবার ভাগওয়াটা লাভ ট্রাপের যেই কন্সেপ্টকে সামনে রেখে আরএসএস ভারতে বাজে রকম উগ্র কর্মকাণ্ড করছে, একই কাজ বাংলাদেশে করতে দেখা যায় ইসকনকে। সুতরাং, দুটোই একই সাথে সম্পর্কিত এবং নিজেদের জায়গা থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পুলিশের একাংশ তাদেরকে শেল্টার দিচ্ছে।
এবার বলতে হয় মুসলিম নারীদের শ্লীলতাহানি করার কথা। ইসকনের একটি অন্যতম প্রকল্প হলো মুসলিম নারীদেরকে ফাঁদে পেলে ধর্ষণ করা কিংবা বিবাহবহির্ভূত শারীরিক সম্পর্ক করা অথবা বিয়ের পর নারীকে গর্ভবতী করে চলে যাওয়া।[3]ওরা পেটে বাচ্চা দিয়ে পালিয়ে যায়! হিন্দুদের নতুন মিশন. এমনকি তারা বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ এবং চ্যাট গ্রুপে মুসলিম নারীদের বিভিন্ন ছবি ব্যবহার করে অশ্লীল আলাপ করে থাকে এবং কুরুচিপূর্ণ ফ্যান্টাসিতে ডুবে থাকে। তাছাড়াও স্বয়ং চিন্ময় ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধেই আছে শিশুদের যৌন নিপীড়নের প্রমাণ[4]নিয়মিত শিশু নিপীড়ন করতেন চিন্ময় ব্রহ্মচারী!.

আর ইসকনের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের কথা নতুন করে বলার কিছু নেই। চট্টগ্রামে আইনজীবী আলিফ হত্যার কাহিনী আমাদের হৃদয়ে আজও দাগ কেটে রেখেছে। এমনকি সেসময়ে পুলিশের উপরেও হামলা করেছিল ইসকনের উগ্র সদস্যরা। ২০১৬ সালে সিলেটের কাজল শাহ জামে মসজিদের মুসল্লিদেরকে জখম করা হয় এবং এই ঘটনায় মুসলিমরাই ইসকনপ্রেমী পুলিশ প্রশাসনের দ্বারা গ্রেপ্তারের শিকার হন। এরপর সিলেটের ওসমানীনগরের মসজিদের খতিব আব্দুর রহমান ইসকনের বিরুদ্ধে পোস্ট করায় খুন হন।
তাছাড়াও পুলিশের উপরেও ২০২৪ সালে ইসকন সদস্যরা হামলা করে। এমনকি আবরার ফাহাদের অন্যতম খুনি ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাও ছিলেন একজন ইসকন সদস্য। এরকম কয়েক ডজন প্রমাণ পেয়ে যাবেন RealityCheck BD এর ভিডিওতে। সাম্প্রতিক সময়েও ইসকন সদস্যরা আমাদের ভাই ও আলিমদেরকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। হমকিপ্রাপ্তদের মধ্যে অন্যতম হলেন মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী, তাহসিন আরাফাত এবং সাকিবুল হক লিপু। আবার আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গুলি করে হত্যা করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন মুহাম্মদ জাহিদুল হাসান নামের এক পুলিশ অফিসার।[5]Facebook Post – Friday Post.
মিডিয়া, রাজনৈতিক দল ও সরকার
এই যে কতগুলো ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে গেলো এবং ইসকন ধারাবাহিকভাবে নাশকতা চালিয়ে যাচ্ছে, কয়টি মিডিয়া ভেতরের তথ্য উপস্থাপন করে ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছে কিংবা ইসকন নিষিদ্ধের আলাপ নিয়ে টকশোর আয়োজন করেছে? তথাকথিত মব সন্ত্রাস কিংবা পাগলের চুল কাটা অথবা টিপ-শাড়ির ইস্যুতে মিডিয়া যে পরিমাণ সোচ্চার থাকে, তার কানাকড়িও এখন দেখা যাচ্ছে না, যা সিস্টেমিক ইসলামোফোবিয়ার লক্ষণ।
আবার অন্যদিকে ‘প্রায়’ সব রাজনৈতিক দলই ভোটের লোভে নিশ্চুপ। উপরন্তু একটি ইসলামি (!) দলের এক নেতা আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গরম সুরে কথা শোনাতে গিয়েছিলেন। আরেক ইসলামি (!) দলকে ভারতের সাথে মধুর সম্পর্কের বক্তব্য দিতে দেখা গিয়েছে।
বামপন্থী রাজনীতিবিদদের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। এদের একটা অংশ ট্রান্স জঙ্গি সাহারা চৌধুরি রেবিলের পক্ষে নির্লজ্জভাবে মাথা তুলেছিল। আজ তারা নিশ্চুপ। যখন উপজাতিদের কিছু একটা হয়, তখন তারা মোমবাতি জ্বেলে নেমে পরেন, কিন্তু হিন্দু কর্তৃক মুসলিম নারী ধর্ষণের ঘটনায় তারা গর্তবাসী হয়েছেন।
ওদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অবস্থা তো আরও নাজেহাল। প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস লালনমেলা নিয়ে পোস্ট করতে পারলেও দেশের এতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুটায় তিনিও নিশ্চুপ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং ধর্ম উপদেষ্টার কাছ থেকেও পাওয়া যায়নি তেমন কোনো বিবৃতি।
হোক গর্জন, হোক প্রতিরোধ
বুঝতেই পারছেন, পুরো সেক্যুলার সিস্টেম ও লিবারেল কালচার সামষ্টিকভাবে ইসকনকে একটা স্পেস দিচ্ছে আর ফলাফল রূপে মজলুমেরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। শুধু নিন্দা জানিয়ে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলা সম্ভব নয়। একটা সিরিজ নাশকতাকে এভাবে প্রতিহত করাও যায় না। এর উপর আবার আমাদেরকেই বলা হয় শান্ত থাকতে এবং বিচারহীনতার এই পরিবেশে আমরাই হই ভুক্তভোগী।
সর্বপ্রথম কথা হলো, যেকোনো নাশকতার ঘটনায় রাজপথে অহিংস প্রতিবাদমূলক উপস্থিতির মাধ্যমে সমগ্র হিন্দুত্বব্দের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। একদিকে সরকারের উপর চাপ তৈরি করতে হবে, যেন ইসকনকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং প্রশাসনের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে যেন তারা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। চীন, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, সৌদি আরব, আফগানিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে ইসকন তাদের অপতৎপরতার কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে। একই ধারায় বাংলাদেশেও যেন এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, সে ব্যাপারে জোরালো আলোড়ন তৈরি করতে হবে।

- রাজপথে প্রতিবাদমূলক উপস্থিতি। ছবিঃ ইন্তিফাদা বাংলাদেশ
এভাবে প্রতিবাদ চলমান রাখার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাতে হবে। যেখানেই ইসকন সদস্যদেরকে উগ্র হিন্দুত্ববাদী কার্যক্রম চালাতে দেখা যাবে, সেখানেই তাদেরকে প্রতিহত করতে হবে। কোনো মুসলিম বোনের ইজ্জতে আঘাত করতে চাইলে, যথাযথ জবাব দিতে হবে।
তবে একইভাবে মুসলিম বোনদেরকেও সচেতন করা প্রয়োজন। কারণ তারা অল্পতেই উগ্র হিন্দুদের ফাঁদে পড়ে যান এবং অনেক সময়ে হিন্দুত্ববাদীদেরকে মুসলিমদের তুলনায়ও পবিত্র ও সুন্দর মনের মনে করেন। এক্ষেত্রে সেক্যুলার রাষ্ট্রের আইন অনুসারে নারী প্রাপ্তবয়স্ক হলে ব্যাপারটা আরও ঘোলাটে হয়ে যায়। একারণেই আগে দরকার আমাদের বোনদের সচেতনতা।
সচেতনতার জন্য দু’ধরণের লিফলেট ক্যাম্পেইন চালাতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষত কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ভাগওয়া লাভ ট্রাপ’ এর ব্যাপারে লিফলেট ক্যাম্পেইন করতে হবে এবং মসজিদের মুসল্লীদের মাঝে ইসকনের অপতৎপরতা বিষয়ক লিফলেট প্রদান করতে হবে। অনেক সময় দেখা যায়, মাদ্রাসার ছাত্রীরা খুবই বাজেভাবে হিন্দুত্ববাদের আক্রমণের শিকার হন। এক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামকে মাদ্রাসায় এ ব্যাপারে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে, জুমার আলোচনাতেও এই বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

এর পাশাপাশি অনলাইন এক্টিভিজম চালাতে হবে। এর মানে এই নয় যে উত্তেজনাদায়ক পোস্ট করতে হবে। আসল কাজটা এখানেও দু’ভাগে বিভক্ত। এক. সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে বিভিন্ন বিষয় সহজ ভাষায় তুলে ধরা এবং দুই. হিন্দুত্ববাদ মোকাবিলা করার একমাত্র হাতিয়ার যে তাওহিদ সেটার পক্ষে ন্যারেটিভ তৈরি করা।
দেখুন, এগুলোই আমাদের করণীয়। গালাগালি করা কিংবা উত্তেজনার বশে কোনো কাউন্টার-প্রোডাক্টিভ কাজ করা বিবেকসম্পন্ন কোনো মানুষের কাজ হতে পারে না। কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে, যেগুলো হবে ‘টু দ্য পয়েন্ট’ এবং আপসহীন। এ জন্য প্রতি জেলায়, মহল্লায় গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আর অবশ্যই এই লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার আগে মাথায় রাখতে হবে যে অনেক বাধা আসবে, ঝুঁকি থাকবে। এটা জেনেই শারীরিক, মানসিক ও কৌশলগত প্রস্তুতি নিয়ে কাজে নামতে হবে।
শেষ কথা
পরিস্থিতি বড়ই জটিল। এই সেক্যুলার সিস্টেম পারবে না আমাদের বোনদের ইজ্জত কিংবা খতিবদের নিরাপত্তা রক্ষা করতে, পারবে না কওমকে ছায়া দিতে। হিন্দুত্ববাদের চূড়ান্ত ফায়সালা হবে ময়দানে, তবে তার আগে এখন আমাদের লড়াইয়ের পরিধি যতটুকু, তাতেই সংগঠিত হয়ে কাজ করে যেতে হবে। এ লড়াই, ইমান বনাম কুফরের লড়াই, এ লড়াই তাওহিদ বনাম তাগুতের লড়াই। বিজয় হবেই হবে, ইনশাআল্লাহ।




