ঈসা (আঃ) আসবেন সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত হয়ে

তিনি মুহাম্মাদ (সাঃ) এর উম্মত ও আমাদের একজন নেতা হয়ে আসবেন হাদিসগুলোর পরোক্ষ বর্ণনামতে। খৃস্টানরা উপহাস করে আর বড়াই করে ঈসা মাসীহ (আ:) তাদের। কেবল তাদের শরীয়ত (বাইবেলে-নতুন নিয়ম/গসপেল/তথাকথিত ইঞ্জিল) বাস্তবায়ন করবেন। প্রকৃতপক্ষে বাইবেল তা উল্টোটা বলছেঃ
ঈসা মাসীহ বলেন-“যারা আমাকে ‘প্রভু, প্রভু’ বলে, তারা সবাই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না; কিন্তু যে আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা পালন করবে, সেই প্রবেশ করতে পারবে। সেদিন, অনেকে আমাকে বলবে, ‘প্রভু, প্রভু; আমরা কি আপনার নামে ভবিষ্যদ্বাণী করিনি? আপনার নামে কি ভূত তাড়াইনি ও বহু অলৌকিক কাজ করিনি?’ তখন আমি তাদের স্পষ্ট বলব, ‘আমি তোমাদের কোনোকালেও জানতাম না। দুষ্টের দল, আমার সামনে থেকে দূর হও!’।[1]মথি 7:21-23 BCV
https://bible.com/bible/2412/mat.7.21-23.BCV
সুতরাং বুঝা গেলো ঈসা মাসীহকে প্রভু বলাকে ঈসা (আঃ) কখনোই বরদাস্ত করবেন না, একইসাথে তিনি খৃস্টানদের চার পয়সা দাম দিবেন না, তাড়িয়ে দিবেন, দুস্টের দল বলা ছাড়া। সেখানে বাইবেলকে তিনি শরীয়ত হিসেবে প্রতিষ্ঠা হাস্যকর ও অস্পষ্ট দাবি।
ইসলাম পরিপূর্ণতাঃ
আজ কাফেররা তোমাদের দ্বীন থেকে নিরাশ হয়ে গেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করো না বরং আমাকে ভয় কর। আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পূর্নাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্যে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম। অতএব যে ব্যাক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে; কিন্তু কোন গোনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমাশীল।[2]সূরাঃ আল মায়িদাহ,৫/৩
ইসলাম পরিপূর্ণ নবী (সাঃ) ও কুরআন নাজিল দ্বারা। সুতরাং বর্তমান নতুন কোনো বিধান (মানবরচিত) ও পুরাতন বিধান (বাইবেল ও তালমুদ-মিসানাহ) মানার প্রয়োজন নেই।
ইসলামের শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাঃ)-
মুহাম্মদ তোমাদের কোন ব্যক্তির পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী। আল্লাহ সব বিষয়ে জ্ঞাত।[3]সূরাঃ আল আহযাব, আয়াতঃ ৪০
ঈসা মাসীহ (আঃ) এর আগমন ও ইসলাম প্রতিষ্ঠাঃ
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমার ও তাঁর অর্থাৎ ঈসা (আঃ) এর মাঝে কোন নবী নেই। আর তিনি তো অবতরণ করবেন। তোমরা তাঁকে দেখে এভাবে চিনতে পারবে যে, তিনি মাঝারি উচ্চতার, লাল-সাদা ও গেরুয়া রঙের মাঝামাঝি অর্থাৎ দুধে আল্তা তাঁর দেহের রং হবে এবং তাঁর মাথার চুল ভিজা না থাকলেও মনে হবে চুল হতে যেন বিন্দু বিন্দু পানি টপকাচ্ছে। তিনি ইসলামের জন্য মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শুকর নিধন করবেন ও জিযিয়া রহিত করবেন। তিনি তাঁর যুগে ইসলাম ছাড়া সকল ধর্ম বিলুপ্ত করবেন এবং মাসীহ দাজ্জাল কে হত্যা করবেন। তিনি পৃথিবীতে চল্লিশ বছর অবস্থান করবেন, অতঃপর মৃত্যুবরণ করবেন এবং মুসলিমরা তাঁর জানাযা পড়বে।[4]সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩২৪ https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=61692
তাহলে বোঝা যাচ্ছে তিনি নবী (সাঃ) এর ইসলাম পালন করবেন, তথা এক কথায় নবী (সাঃ) এর উম্মত। তিনি সকল ধর্ম বিলুপ্ত বলতে-ইহুদি-খৃস্টানসহ বাকি সব ধর্ম বিলুপ্ত করবেন।
মুসলিমদের নেতা হবেনঃ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গোলাম ছাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আমার উম্মতের দুটি দল , আল্লাহ্ তা‘আলা তাদেরকে জাহান্নাম হতে পরিত্রাণ দান করবেন। এক দল যারা হিন্দুস্থানের জিহাদ করবে, আর এক দল যারা ঈসা ইব্ন মারিয়াম (আঃ)-এর সঙ্গে থাকবে।[5]সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩১৭৫
নবী (সাঃ) আাসার পর ঈসা (আঃ)-সহ পূর্ববর্তী সকল নবীর শরিয়ত রহিতঃ
আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি সত্যগ্রন্থ, যা পূর্ববতী গ্রন্থ সমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর বিষয়বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণকারী। অতএব, আপনি তাদের (ইহুদি-খৃস্টান) পারস্পারিক ব্যাপারাদিতে আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফয়সালা করুন এবং আপনার কাছে যে সৎপথ এসেছে, তা ছেড়ে তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবেন না। আমি তোমাদের প্রত্যেককে একটি আইন ও পথ দিয়েছি। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তোমাদের সবাইকে এক উম্মত করে দিতেন, কিন্তু এরূপ করেননি-যাতে তোমাদেরকে যে ধর্ম দিয়েছেন, তাতে তোমাদের পরীক্ষা নেন। অতএব, দৌড়ে কল্যাণকর বিষয়াদি অর্জন কর। তোমাদের সবাইকে আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। অতঃপর তিনি অবহিত করবেন সে বিষয়, যাতে তোমরামতবিরোধ করতে।[6]সূরাঃ আল মায়িদাহ, আয়াতঃ ৪৮, বিস্তারিতঃ https://www.hadithbd.net/quran/link/?id=717
আরেকটি উদাহরণ দেই,
স্মরণ কর, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা (আঃ) বললঃ হে বনী ইসরাইল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রসূল, আমার পূর্ববর্তী তওরাতের আমি সত্যায়নকারী এবং আমি এমন একজন রসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমন করবেন। তাঁর নাম আহমদ (নবী মুহাম্মাদ (স) এর ডাক নাম)। অতঃপর যখন সে (মুহান্মাদ) স্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আগমন করল, তখন তারা বললঃ এ তো এক প্রকাশ্য যাদু।[7]সূরা আস সফ, ৬১ঃ৬ https://www.hadithbd.com/quran/link/?id=5169
সুতরাং নবী(স) শেষ নবী হওয়ায় ও তার আগমনে পূর্ববতী নবীদের শরীয়ত বাতিল।
সিদ্ধান্তঃ
(১) আমরা বাইবেল থেকে দেখলাম, কিয়ামতে আগে ঈসা মাসীহ(স) আসবেন, তাকে প্রভুর দাবিদার খৃস্টানদের চার পয়সা মূল্য দিবেন না, তাড়িয়ে দিবেন ও দুস্টের দল বলবেন।
(২) মুহাম্মাদ (স) হলেন শেষ নবী। আর কোনো নবী আসবে না। তার আগমনে পর পূর্ববর্তী নবী ও রাসূলদের শরিয়ত বাতিল। নবী(স) হলেন নাজাতের শেষ পথ।
(৩) হাদিস বর্ণনামতে ঈসা (আ:) নবী (স) এর ইসলাম পালন করবেন, তথা এক কথায় নবী (স) এর উম্মত। তিনি সকল ধর্ম বিলুপ্ত বলতে-ইহুদি-খৃস্টানসহ বাকি সবধর্ম বিলুপ্ত করবেন।
(৪) ঈসা (আঃ) মুসলিমদের নেতা হবেন।
Footnotes
| ⇧1 | মথি 7:21-23 BCV https://bible.com/bible/2412/mat.7.21-23.BCV |
|---|---|
| ⇧2 | সূরাঃ আল মায়িদাহ,৫/৩ |
| ⇧3 | সূরাঃ আল আহযাব, আয়াতঃ ৪০ |
| ⇧4 | সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৪৩২৪ https://www.hadithbd.com/hadith/link/?id=61692 |
| ⇧5 | সুনানে আন-নাসায়ী, হাদিস নং ৩১৭৫ |
| ⇧6 | সূরাঃ আল মায়িদাহ, আয়াতঃ ৪৮, বিস্তারিতঃ https://www.hadithbd.net/quran/link/?id=717 |
| ⇧7 | সূরা আস সফ, ৬১ঃ৬ https://www.hadithbd.com/quran/link/?id=5169 |




