ইতিহাসে ক্রুশবদ্ধ করে মারার রীতি কবে থেকে শুরু হয়?
আমার প্রশ্নটা একটু বড় হতে পারে এজন্য দুঃখিত। আমি প্রশ্নগুলা এক নাস্তিকের কাছ থেকে শুনি। আমার কাছে উত্তর নাই বলে এখানে জিজ্ঞাসা করছি। বিস্তারিত বুঝিয়ে বললে ভালো হয়।
.
ফেরাউন তার কউমকে যেভাবে শাস্তি দেয়ার কারণে কুরআনে তাকে খলনায়ক হিশেবে প্রেজেন্ট করা হইসে একইরকম শাস্তির কথা আল্লাহর নবীও বলে গেসেন কিন্তু সেটাকে ইনসাফ বলা হচ্ছে? যেমন ফেরাউন তার কউমকে খেজুর গাছের কাণ্ডে শূলে চড়িয়ে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করত (সুরা ত্বহা-৭১)। সেইম কথাগুলা তো সুরা মায়িদার ৩৩ নং আয়াতে নবীজিও বলেছেন। এটার ব্যাখ্যা কি? . ক্রুশবদ্ধ করে কাউকে মারাটা ইতিহাসের প্রথম শুরুই হইসে খ্রিস্টপূর্ব ৬শ বছর আগে অথচ ফেরাউনের যুগ তার চেয়েও হাজার বছর আগে ছিল। ইতিহাসে ফেরাউনের যুগে বা প্রাচীন মিশরের ক্রুশবদ্ধ করে মারার বিষয়টা পাওয়া যায় না কিন্তু কুরআনে সেটাকে ন্যারেশান করা হইসে। (হিস্টোরিক্যাল মিস্টেইক)
এভাবে মারাটা যদি কোন সিগনিফিক্যান্ট ঘটনা হইত তাহলে তো হায়ারোগ্লিফিক্সে/ প্যাপিরাস বা যে যে পান্ডুলিপি বা ম্যানিস্ক্রিপ্ট পাওয়া গেসে সেগুলায় এটার কথা থাকত। কুরআনে বার বার মেনশন করা হইসে মানে এটা একটা পপুলার ঘটনা কিন্তু আমরা কোন মিশরীয় স্ক্রিপ্টে এগুলা পাই না। নাস্তিকরা বলে যে- ৭ম শতাব্দীর আরবে এভাবে শাস্তি দেয়াটা পেইনফুল একটা প্রসেস ছিল তাই এভাবে তাদেরকে ভয় দেখানো হইসে। যেন কেউ উনার বিরুদ্ধে কিছু দাবি না করে (নাউজুবিল্লাহ)
.
তাদের আরেকটা দাবি হচ্ছে, ইতিহাসের এই ক্ষেত্রে কুরআনে ভুল থাকলেও জেনেসিসের ৪০/৭১ এ সঠিকটা বলা আছে। সেই সময় মিশরে ইম্পেল করে লোকদের মারা হত, সেই ইম্পেলমেন্ট শব্দটা আছে জেনেসিসে। এটার হিস্ট্রিক্যাল ডকুমেশান আছে। কিন্তু ক্রুসিফাই করার কথা আছে কুরআনে যা ঐতিহাসিকভাবে ভুল।
ইহুদিদের একটা স্ক্রিপচার আছে 'তারগুম অংকেলস' নামে। সেখানে তারা যখন জেনেসিসের এই কথাটা আরামাইক ভাষায় অনুবাদ করে তখন তারা এখানে ভুল অনুবাদ করে। তারা এটাকে ক্রুসিফিকেশান অনুবাদ করে। আর তাদের এই তারগুম অংকেলস নবীজি আসারও ৪/৫ শ বছর আগে অনেক প্রসিদ্ধ ছিল, প্রচলিত ছিল। তো, তারা বলছে যে- নবীজি ক্রুসিফিকেশনের কথাটা সেখান থেকেই নিসেন কিন্তু এটা যে ভুল অনুবাদ টা তো তিনি জানতেন না তাই কুরআনেও ভুলটাই তুলে দিসেন (সুরা ইউসুফে, ১২/৪১- "ক্রুশবদ্ধ করে যাকে মারা হবে তার মাংস পাখিরা খুবলে খাবে") যার কোন হিস্ট্রিক্যাল এভিডেন্স নাই। .
আরেকটা প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন- জীনের কথা নাকি ক্রিশ্চিয়ানিজম বা জুডাইজমের কোথাও নাই। তখনকার আরবে যে ফোক্লোর (লোককাহিনি) প্রচলিত ছিল সেখানে জীনের কথা ছিল তাই নাকি নবীজি কুরআনে জীনের কথা আনসেন।